পিএমইন্ডিয়া
ভারতমাতার জয়
ভারতমাতার জয়
ভারতমাতার জয়
বিপুল সংখ্যায় আগত সমাজের বরিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ,
আমার সৌভাগ্য যে এই পবিত্র অনুষ্ঠানে আপনাদের সবার মাঝে আসার আমন্ত্রণ পেয়েছি আর আপনাদের সবার আশীর্বাদ পেয়ে পুণ্যলাভ করেছি।
আমাদের দেশের ধর্ম, ঐতিহ্য ও আমাদের সংস্কৃতিকে বুঝতে পারা এত সহজ নয়, কারণ আমাদের কোনও নির্দিষ্ট ধর্মগ্রন্থ নেই, নির্দিষ্ট ভগবান কিম্বা পুজো পদ্ধতি নেই, এত বৈচিত্র্যের কারণে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে আমরা কারা! আর এটাই আমাদের বৈশিষ্ট্য। আমাদের ঈশ্বরও ভক্তদের মতোই। ভক্ত পালোয়ান হলে তাঁদের ভগবান হলেন হনুমান, ভক্ত শিক্ষানুরাগী হলে তাঁদের ভগবান সরস্বতী, ভক্ত ব্যবসায়ীকিংবা সওদাগর হলে তাঁদের ভগবানলক্ষ্মী, আর যারাসমাজের অন্নসংস্থানের জন্য হালচাষ করে ফসল ফলান, তাঁদের ভগবান হলেন অন্নপূর্ণা।
যেমন ভক্ততেমন ঈশ্বর– আমাদের এই বৈশিষ্ট্য অনুসারেই আজ এখানে দেবী অন্নপূর্ণা মায়ের একটি তীর্থক্ষেত্র, প্রেরণাক্ষেত্রের উদ্বোধন হয়েছে। আমাদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল অতিথিপরায়ণতা। আপনারা যদি শুধু গুজরাটের কথাই ধরেন, সেই রাজ্যের যে কোনও দিকে গেলে আপনারা প্রত্যেক ২০-২৫-৩০ কিলোমিটার পর পর বসে বিশ্রাম নেওয়া ও খাওয়ার জায়গা পাবেন। কোনও মঠ বা মন্দির কিংবা কোনও সাধু-সন্ন্যাসী-বাবা কিংবাযোগীকে বসে থাকতে দেখবেন। বাড়িতে আসা অতিথি যেন অভুক্ত না থাকেন,রাতে থাকলে আহার নিদ্রার ব্যবস্থা করা, যাঁরা নর্মদা পরিক্রমা করেছেন, তাঁরা জানেন যে, ‘নর্মদা হর বোলে’ বলতে বলতে গ্রামে গ্রামে পরিক্রমার সময় প্রত্যেক গ্রামের মানুষ কিরকম আদর আপ্যায়ণ করেন, কাউকে খালিপেটে থাকতে হয় না! –এটাই আমাদের দেশেরবৈশিষ্ট্য! এটাই আমাদের সাংস্কৃতিক পরম্পরা! আমাদের সমাজ পরোপকারী সমাজ এবং এর ফলে একটি সাংস্কৃতিক চেতনার শেকড়ে সেবাভাব অন্তর্নিহিত রয়েছে।
আমাদের এখানে বলা হয় যে, ‘নর করণী করে তো নারায়ণ হো যায়!’ এই মূল ভাব আমাদের সেই ভাবধারার প্রতিবিম্ব আজ মা অন্নপূর্ণা ধামে নির্মাণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার জন্যে ছাত্রাবাসের ব্যবস্থা, যাতে সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর পরিবারগুলির ছেলেমেয়েরা এখানে থেকে পড়াশুনা করে জীবনে উন্নতি করার সুযোগ পাবে। সেজন্যে আপনারা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে শিক্ষণের পরম্পরা যুক্ত করার কাজ করেছেন। নরহরি ভাইকে, তাঁর গোটা টিমকে, এবং সমস্ত দাতাদের অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই।
আমাদের দেশে একটি রেওয়াজ গড়ে উঠেছে যে – সবকিছু সরকার করবে, আর না হলে সরকারের কাছ থেকে জবাব চাওয়া হবে। ভারতে এই পরম্পরা ছিল না, এরকম কোনও রেওয়াজই ছিল না! ধর্মশালা তৈরি করা হতো, গোশালা তৈরি করা হতো, জলসত্র তৈরি করা হতো, লাখা বানজারা অডালজের পরিখা খনন করিয়েছিলেন, এসব কাজ সরকার করতো না। ধর্মশালা, গোশালা, জলসত্র, পরিখাকিংবা পুস্তকালয় – এসব সমাজ তৈরি করতো।
ধীরে ধীরে সকলের অজান্তেই সমাজের এই শক্তিগুলিকে চেপে দেওয়া হয়েছে আর রাজ্যের সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজের ভার সরকারের কাঁধে চাপানো হয়েছে। আমাদের প্রচেষ্টা ছিল এমন আবহ সৃষ্টি করার যেখানে সরকার সরকারের কাজ করবে আর সমাজের শক্তিও বৃদ্ধি পাবে, সমাজ বিকশিত হবে। সমাজ বিকশিত হলে দেশ বিকশিত হবে। সরকারকে শক্তি সংগ্রহ করতে হবে না! সেই মূল পরম্পরার মধ্য থেকে এ ধরণের সমস্ত প্রবৃত্তিকে আমরা উৎসাহ জোগাই। নিয়ম মেনে উৎসাহ দিই। আর তারই অংশস্বরূপ আগামী দিনে এ ধরণের সমস্ত ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মকানুনের উর্দ্ধে উঠে সমাজের অভ্যন্তরীণ শক্তির পুনর্জাগরণে জোর দেওয়ার চেষ্টা করছি।
আজ যখন এখানে মা অন্নপূর্ণা ধামের প্রাণপ্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে তখন আমরা সমাজের জন্য কোনও নতুন কিছু ভাবতে পারি। সমস্ত মন্দিরেই প্রসাদ পাওয়া যায়, কিন্তু অন্নপূর্ণা ধামে আমরা এই ঐতিহ্যে সামান্য পরিবর্তন আনতে পারি! এখানকার সঞ্চালকদের অনুরোধ জানাই, আপনারা কি মন্দিরে আসা প্রত্যেক ভক্তের হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দিতে পারেন? তাঁরা বাড়ি ফিরে সেই আশীর্বাদী গাছের চারা নিজেদের উঠোনে পুঁতবেন। বছরের পর বছর, সারাজীবন ধরে তাঁরা অন্নপূর্ণার আশীর্বাদ পেতে থাকবেন, সেই গাছ তাঁরা কাটবেন না!
এভাবে আমরা প্রসাদ ও পূণ্যার্জনের পাশাপাশি, মানবতার সেবার মাধ্যমে জীবনের উচ্চতায় পৌঁছতে পারি। আরেকটি কাজও আমরা করতে পারি। আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে ভাই লেওয়া প্যাটেল সমাজে যাদের বাড়িতে মেয়ে জন্ম হবে, তাঁরা অবশ্যই যেন মেয়ে অন্নপূর্ণা মাকে দেখাতে নিয়ে আসেন। মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে সেই কন্যাদের পাঁচটি করে গৃহ নির্মাণের উপযোগী কাঠ হবে এমন গাছের চারা দেবেন। আর সম্ভব হলেই সরকারের সঙ্গে কথা বলে আমাদের এই ট্রাস্ট কোথাও ১০০ – ২০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে সেখানেই এই পরিবারগুলিকে ঐ গাছের চারাগুলি রোপণ করার ব্যবস্থা করে দিন, যাতে ২০ বছর লালন-পালনের পর সেই গাছগুলি যখন বড় হবে তখন সেগুলির কাঠ বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা দিয়ে ঐ কন্যার বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে। যাতে মা-বাবা’কে বিয়ে বাবদ কোনও ঋণ না নিতে হয়, এভাবে সরকার জমি দিয়ে পরিবেশ সবুজায়ন করতে পারবে। আর দরিদ্র পরিবারগুলি পাশেও দাঁড়াতে পারবে।
আজ হাজার হাজার কোটি টাকার গৃহ নির্মাণের উপযোগী কাঠ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এই নতুন ব্যবস্থা বিদেশ থেকে গৃহ নির্মাণের উপযোগী কাঠ আমদানির অর্থ সাশ্রয় করবে; এভাবে ধার্মিক ঐতিহ্যের সঙ্গে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে আধুনিক পদ্ধতিতে যুক্ত করার আরও নানা উপায় আপনারা ভাবতে পারেন। যে কোনও কাজকে জাতিবাদের রঙে রাঙানো পাপ বলে আমি মনে করি। কিন্তু সমাজের পক্ষে ইতিবাচক হলে এই পদক্ষেপকে সকলেই সম্মান করবে। সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলকে যেমন কোনও জাতির রঙে রাঙানো যায় না, তিনি এদেশের সকলের মনেই একজন মহান নেতা। তাঁর স্মৃতিতে নির্মিত বিশ্বের সর্বোচ্চ মূর্তি ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ আজ বিশ্বের বুকে ভারতবাসীর মাথা উঁচু করেছে। মারা মনে হয় না যে, অদূর ভবিষ্যতে কেউ এই রেকর্ড ম্লান করতে পারবে।
আরেকটি কথা আমি বলব। আজ যে আমূল ডেয়ারি নিয়ে আমরা সবাই গর্ব করি, তার সূত্রপাত কে করেছেন? আমি আগেই বলেছি, ভালো কাজকে জাতিপাতের রঙে রাঙানো পাপ। কিন্তু বিষয়টি বোঝার জন্য বলতে হয় যে, আমূল ডেয়ারির সূত্রপাতও করেছিলেন লেওয়া প্যাটেল সম্প্রদায়ের মানুষেরা। এই ডেয়ারি চালু সময়ে পর প্রাথমিক সদস্যরা যাঁরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাঁরা প্রত্যেকেই লেওয়া প্যাটেল সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। কিন্তু তাঁরা কখনই এর কৃতিত্ব দাবি করেনি, সেজন্য লেওয়া প্যাটেল সম্প্রদায়ের সেই মানুষেরা শ্রদ্ধার্হ। কিন্তু আমি এই প্রসঙ্গটি কেন তুললাম? আমি বলতে চেয়েছি যে, মুষ্টিমেয় জনা ১৫ দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষের ভাবনা থেকে যে আমূল সমবায় গড়ে উঠেছিল, তার দ্বারা জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে পশুপালক থেকে শুরু করে প্রত্যেক সমাজের ও প্রত্যেক গ্রামের মানুষ গোটা গুজরাটে আবালবৃদ্ধবনিতা উপকৃত হচ্ছেন।
আমরা যেহেতু মা অন্নপূর্ণার আশীর্বাদধন্য, আমরা কৃষকদের স্বার্থে আরেকটি দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারি। আমি চাই যে, এই ট্রাস্ট যেভাবে সর্দার সাহেবের প্রেরণায় আমূলের মতো বিশাল সমবায়কে সর্বজনপ্রিয় করে তুলেছেন, তেমনই অন্নপূর্ণা ধামের প্রেরণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে আমাদের কৃষকদের দ্বারা উৎপাদিত ফলনের মূল্য সংযোজন করতে পারি। শেরথা অঞ্চলে লঙ্কা বিখ্যাত। সেই লঙ্কাকে আমরা যদি লাল হতে দিই, তা হলে কৃষকের রোজগার বাড়তে পারে। আর সেই লাল লঙ্কা শুকিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে গুঁড়ো অত্যাধুনিক প্যাকিং – এর মাধ্যমে বাজারজাত করলে কয়েক গুণ মূল্য পাওয়া যেতে পারে। এভাবে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে বাজারজাত করার সম্পূর্ণ ব্যবস্থার সঙ্গে যদি গবেষণা যুক্ত হয়, তা হলে মা অন্নপূর্ণার সন্তানদের জন্য মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা করতে পারি।
আমি চাই যে, এখানে শিল্প জগতের যে বন্ধুরা বসে আছেন, তাঁরা আমার প্রস্তাব নিয়ে ভাবুন। আস্থা এবং অধ্যাত্মকে সামাজিক জীবনে অধিক উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করুন। আমাকে বলা হয়েছে যে, পঞ্চতত্ত্বকে কেন্দ্রে রেখে এই মা অন্নপূর্ণা ধাম গড়ে তোলা হচ্ছে। আমাদের রামচরিত মানসে একটি দোহায় বলা হয়েছে –
ছিতি জল পাবন গগণ সমীরা।
পঞ্চ রহিত অতি অধম শরীরা।।
অর্থাৎ আমাদের এই শরীর পঞ্চতত্ত্ব দিয়ে গড়া। এই পঞ্চতত্ত্বের মূল ভাবকে সমাবিষ্ট করে যখন এখানে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে, আমি দৃঢ় নিশ্চিত যে এটি আগামী দিনে সমাজের উপকারে লাগবেই।
আমাদের নরহরি ভাইয়ের আত্মবিশ্বাস রয়েছে যে, ২০২০ সালের মধ্যেই এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হবে। আর তখন আমাকে দিয়েই এরকম দ্বিতীয় প্রকল্পটিরও শিলান্যাস করা হবে। আমি আপনার এই আত্মবিশ্বাসকে সোয়া গুণ বিশ্বাস করি। আমি তো এখানে নিছকই অতিথি হিসাবে আসিনি, এখানে এলে আমার ঘরে ফেরার আনন্দ হয়। এদেশের ‘কন মে সে মণ’ অর্থাৎ প্রত্যেক মৃত্তিকা কণা থেকে এক মন ফসল উৎপন্ন করার ক্ষমতাসম্পন্ন তেজস্বী, তপস্বী কৃষকদের মধ্যে আমি এসেছি। যেখানে ‘জয় জওয়ান – জয় কিষাণ’ শব্দবন্ধকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। কৃষকের সামর্থ্য ও জওয়ানদের সামর্থ্য দেশকে খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি, সীমান্ত সুরক্ষাও সুনিশ্চিত করে। আমি আরেকবার আপনাদের সকলের মাঝে আসার সৌভাগ্য করে দেওয়ার জন্য আপনাদের সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। মা অন্নপূর্ণার চরণে আমাদের সবার জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ প্রার্থনা করে আমার বক্তব্য সম্পূর্ণ করছি।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
SSS/SB/SB
India has a rich history of societies rising to the occasion and taking the lead when it comes to solving the challenges every era has faced.
— PMO India (@PMOIndia) March 5, 2019
Communities have come together to improve irrigation and education. Several people have benefitted through these community efforts: PM
Today we pay homage to Maa Annapurna.
— PMO India (@PMOIndia) March 5, 2019
Annapurna Dham should give our society the strength to ensure there is gender equality and prosperity for everyone: PM @narendramodi
Today at Annapurna Dham, we remember the great Sardar Patel. His efforts towards the cooperative sector will never be forgotten: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 5, 2019
I would urge the people of Gujarat to work on food processing. Such value addition will help both farmers and industries: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 5, 2019