পিএমইন্ডিয়া
সবার আগে আমরা সবাই নিজেদের মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশ অন করে দেশের বীর সেনাজওয়ানদের সম্মান জানাবো। আপনারা সবাই ফোন অন করুন, আমি তিনবার জয়ধ্বনি দেবো, আপনারাও আমার সঙ্গে জয়ধ্বনি করুন।
পরাক্রমী ভারতের জন্য ভারতমাতার জয়
বিজয়ী ভারতের জন্য ভারতমাতার জয়
দেশের বীর জওয়ানদের জন্য ভারতমাতার জয়
আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। এখানে উপস্থিত সমস্ত প্রিয় উৎসাহী ভাই ও বোনেরা, আজ আমার অনেক কথা বলার ইচ্ছে হচ্ছে। আজ আমেদাবাদের উন্নয়নের স্বার্থে এখানকার প্রত্যেক মানুষের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। একটু আগে আমেদাবাদ মেট্রোর প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন হয়েছে। পাশাপাশি, দ্বিতীয় পর্যায়ের শিলান্যাস হয়েছে। আর আজ এখান থেকে শুধু আমেদাবাদ নয়, গুজরাট তথা দেশের জন্য একটি অনেক বড় স্বাস্থ্য পরিষেবার উদ্বোধন করা হয়েছে। আমেদাবাদের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনকারী এই প্রকল্পগুলির জন্য আপনাদের সকলকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
বন্ধুগণ, আপনাদের মতো আজ আমারও একটি অনেক বছর পুরনো স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে আসার আগে আমি আমেদাবাদ শহরের বুকে মেট্রো রেলে চড়েছি। সেই সময়ে এই শহরের জনগণের উৎসাহ ও উদ্দীপনা যেভাবে অনুভব করেছি, তাতে আমার মন আনন্দে ভরে উঠেছে। উত্তরায়নের দিন মানুষ যেমন ছাদে উঠে ঘুড়ি ওড়ায়, তেমনই আজ আমেদাবাদের ছাদে দাঁড়িয়ে মেট্রো রেলকে স্বাগত জানাচ্ছিলেন। সমস্ত রাস্তার দু’পাশে এমন কোনও ছাদ ছিল না, যেখানে জনগণের ভিড় ছিল না। এই মেট্রো রেল আমেদাবাদবাসীদের একটি বড় স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করল।
বন্ধুগণ, এই যে আজ প্রথম পর্যায়ে মেট্রো রেল চালু হ’ল এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের শিলান্যাস হ’ল – এটাই আমাদের সরকারের কাজের ধরণ। যে কোনও কাজ সম্পূর্ণ হলে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি না, অন্য কাজের জন্য প্রস্তুতি নিই। আমরা কথায় আর কাজে এক। ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত এই মেট্রো আমেদাবাদের লক্ষ লক্ষ নাগরিকের জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় অনেক কম লাগবে। শহরের যানজট হ্রাস পাবে, পরিবেশ দূষণও কমবে। আর আপনারা আমার পুরনো মন্ত্র জানেন, যে প্রকল্পের আমি শিলান্যাস করি, তার উদ্বোধনও আমি করি। এর মানে হ’ল – আজ যে মেট্রোর দ্বিতীয় পর্যায়ের শিলান্যাস আমি করেছি নির্দিষ্ট ৩-৪-৫ বছর পর এর কাজ সম্পূর্ণ হলে আমিই এসে এর উদ্বোধন করব। আর আপনাদের আশীর্বাদেই এটা সম্ভব হবে।
বন্ধুগণ, দেশের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য আমরা কিভাবে কাজ করেছি, তা দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ৫৫ বছরের পরিসংখ্যানের সঙ্গে আমাদের শাসনকালের ৫৫ মাসের তুলনা করলেই বোঝা যায়। ২০১৪ সাল পর্যন্ত সারা দেশে মাত্র ২৫০ কিলোমিটার মেট্রো নেটওয়ার্ক ছিল। আর বিগত ৫৫ মাসে তা ৬৫০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও ৮০০ কিলোমিটার মেট্রো রেলপথ স্থাপনের কাজ চলছে। ভাবুন, আগামী দিনে নাগরিক পরিবহণ ব্যবস্থার কতটা পরিবর্তন হতে চলেছে!
বন্ধুগণ, কিছুক্ষণ আগে আমার একটি কমন মোবাইলিটি কার্ড উদ্বোধনের সৌভাগ্য হয়েছে। এটি শুধু আমেদাবাদ নয়, গুজরাট নয় – সারা দেশের জন্য আমার এটি নতুন উপহার। এই কমন মোবাইলিটি কার্ড রুপে কার্ডের সমতুল। এই কার্ড থাকলে আপনার যাতায়াতের ক্ষেত্রে টিকিট কাটার জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। আর একটি কার্ড দিয়েই ট্রেন, বাস, মেট্রো রেল, টোল ট্যাক্স ও পার্কিং – এর পয়সা দিতে পারবেন। ফলে, আপনাদের বারংবার পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে পয়সা দিতে হবে না।
এই কার্ড চালু করার জন্য অটোমেটিক ফেয়ার কালেকশন সিস্টেম নামক একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এই ব্যবস্থা চালু করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তা হ’ল – বিদেশ থেকে বিভিন্ন কোম্পানি দ্বারা নির্মিত এ ধরণের সিস্টেম কিনে আনতে হয়েছিল। ফলে, সংহত ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাচ্ছিল না। একটি শহরের কার্ড অন্য শহরে ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। এই সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা একটি নতুন টাস্কফোর্স গড়ে তুলে তাঁদেরকে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করতে বলেছি। দেশের বেশ কিছু মন্ত্রক ও বিভাগকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেগুলির সাথে ব্যাঙ্কগুলিকেও যুক্ত করা হয়েছে। সরকার তাঁদের একটি দায়িত্ব দিয়েছে, যাতে এ ধরণের ব্যবস্থায় উন্নয়নে বিভিন্ন ভিন্ন কার্ড ব্যবহারের সমস্যা দূর করে সমস্ত প্রকার লেনদেনের জন্য একটি সংহত ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।
বন্ধুগণ, এ সকল প্রচেষ্টার পর আপনারা শুনলে খুশি হবেন যে, দেশবাসীর – ‘এক জাতি, এক কার্ড’ – এর স্বপ্ন এখন বাস্তবায়িত হয়েছে। কমন মোবাইলিটি কার্ডের মাধ্যমে আপনারা নিজ নিজ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ইচ্ছে মতো টাকা তুলতে পারবেন এবং ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন। আবার ট্রেনে বাসে ট্রামে যাতায়াত করতে পারবেন।
বন্ধুগণ, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এখন ভারতের বিদেশি প্রযুক্তি নির্ভরতা সমাপ্ত হতে চলেছে। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিই ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’! এখন ভারত বিশ্বের সেই হাতেগোণা দেশগুলির তালিকায় নাম লিখিয়েছে, যাদের ‘এক দেশ এক কার্ড’ ব্যবস্থা রয়েছে। এজন্যে দেশের প্রত্যেক যুবক – যুবতী গর্ব করতে পারেন। সেজন্য আমি আপনাদের সকলকে শুভেচ্ছা জানাই। আজ গুজরাটের বরোদার শাওলির রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে কোচ নির্মিত হয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে – সেজন্য আপনারা গর্ব করতে পারেন।
বন্ধুগণ, পরিবহণ ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে আমরা যেভাবে কাজ করে চলেছি, তারই ফলস্বরূপ আজ এখান থেকে পাটন – ভীলরি নতুন রেলপথ উদ্বোধন এবং আনন্দ থেকে গোদরা পর্যন্ত ডবল রেল লাইন করার প্রকল্পের শিলান্যাস করা হয়েছে। আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন থেকে শুনে আসছি, প্রত্যেক নির্বাচিত সাংসদ পাটন থেকে ভীলারি রেল লাইন স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কিন্তু এতদিনে এই রেলপথ চালু হ’ল।
বন্ধুগণ, আজ থেকে দু’দশক আগে গুজরাটের পরিস্থিতি কেমন ছিল, তা হয়তো আজকের প্রজন্ম জানেন না। এই রাজ্যের অনেক অঞ্চলে জলকষ্ট ছিল। চিকিৎসার জন্য অনেক দূরের শহরে যেতে হ’ত। ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বপ্নের বিষয় ছিল। পানীয় জল ও এই সমস্ত সুবিধার অভাবে অনেক মানুষ, বিশেষ করে, আমার জনজাতি ভাই ও বোনেদের অনেকে প্রতি বছর অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হতেন। গুজরাটবাসী প্রত্যেক মানুষের পরিশ্রমের ফলেই আজ গুজরাট বর্তমানের এই অবস্থায় পৌঁছতে পেরেছে। ভাই ও বোনেরা, গুজরাটের ভারসাম্য যুক্ত উন্নয়নকে নতুন উচ্চতা দিতে বিগত ৫৫ মাসে আমাদের কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার চতুর্মুখী উন্নয়নকর্মের মাধ্যমে ঊমরগাওঁ থেকে অম্বাজী পর্যন্ত পূর্ব গুজরাটের জনজাতিবহুল ঊমরগাওঁ থেকে জাখোর, অর্থাৎ আমাদের রাজ্যের তটবর্তী অঞ্চল আর আবু থেকে দহানু পর্যন্ত, অর্থাৎ রাজস্থান থেকে মহারাষ্ট্র সীমান্ত পর্যন্ত গুজরাটের মধ্যাঞ্চলের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি বড় পরিকল্পনা রচনা করে কাজ করেছি।
পূর্ব ও পশ্চিমের জনজাতি এলাকা আর মধ্যবর্তী আমেদাবাদ – বরোদা – পালনপুর – ওয়াপ্তি – তাপ্তী – সর্বত্র দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের কাজ করা হয়েছে। ঊমরগাওঁ থেকে অম্বাজী পর্যন্ত এলাকার জনজাতি ভাই বোনদের জীবনকে সহজ করে তুলতে এই অঞ্চলের সমস্ত গ্রামকে সমস্ত ঋতুর উপযোগী যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমৃদ্ধ করে তোলা হয়েছে। এই অঞ্চলের পানীয় জলের সমস্যা দূর করতে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে জল সরবরাহ প্রকল্পের কাজ চালু হয়েছে। দাহোদ – ছোটা উদয়পুর জলসরবরাহ প্রকল্পে নর্মদার জল, নর্মদা ও তাপী জেলায় সেই নদীগুলি থেকে আর ময়সাগর জেলায় কড়ানা বাঁধ থেকে জলসরবরাহ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। সংখেড়া – পাওইজিৎপুর আঞ্চলিক জলসরবরাহ প্রকল্প দ্বারাও ঊমরগাওঁ থেকে অম্বাজী পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন। আমরা এই অঞ্চলে ডেয়ারি শিল্পকে উৎসাহ প্রদানের কাজ করেছি। সাবরকান্ঠায় ইজরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে আধুনিক কৃষি কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ চলছে।
বন্ধুগণ, সরকারের এই প্রচেষ্টার ফলেই আজ গুজরাটের সম্পূর্ণ জনজাতি এলাকায় সিকল সেল অ্যানিমিয়া চিহ্নিতকরণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্ক্রিনিং সম্পূর্ণ হয়েছে। ফলে, জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষদের সমস্ত সমস্যার মোকাবিলায় সুবিধা হচ্ছে। জনজাতি শিশুদের শিক্ষার ওপর বিশেষ লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। আপনারা শুনলে অবাক হবেন যে, গুজরাটের জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের একটি তহশিলেও আমি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে পর্যন্ত একটাও দ্বাদশ মানের বিজ্ঞান বিভাগ সম্বলিত বিদ্যালয় ছিল না! আর আজ সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠছে, মেডিকেল কলেজ গড়ে উঠছে। উন্নয়ন কিভাবে হয়, স্বপ্ন কত বড় হতে পারে! আর সংকল্প গ্রহণ করে তাঁকে কিভাবে বাস্তবায়িত করা যায়, এসব ক্ষেত্রে গুজরাট এখন কেস স্টাডির বিষয় হয়ে উঠেছে।
দীনবন্ধু কল্যাণ যোজনার মাধ্যমে কয়েক হাজার মডেল আবাসিক স্কুল, আশ্রম স্কুল এবং একলব্য স্কুল নির্মাণ করা হয়েছে। ১ হাজার ১০০-রও বেশি ছাত্রাবাস নির্মিত হয়েছে। এর দ্বারা অধিকাংশ জনজাতির ছেলেমেয়েরা উপকৃত হয়েছে। শুধু তাই নয়, নর্মদা জেলায় ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে বীরসা মুন্ডা ট্রাইবাল ইউনিভার্সিটি স্থাপন করা হয়েছে। জনজাতির ছাত্রছাত্রীদের জন্য সরকার থেকে বিশেষ কোচিন ক্লাস চালু করা হয়েছে। আগে জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত সংরক্ষিত মেডিকেল আসন খালি থাকতো। কিন্তু এখন আর কোনও আসনই খালি থাকছে না।
দাহোদ এবং পালনপুরে নির্মিত মেডিকেল কলেজে সমস্ত উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু করায় এই অঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিষেবা অনেক উন্নত হয়েছে। সরকার দাহোদের রেল ওয়ার্কশপের প্রশস্তিকরণের কাজ করছে। এখনই হয়তো আপনারা টিভিতে দেখেছেন, আমাদের যশবন্ত সিং ভামোর সেখানকার রেল ইয়ার্ডে ছিলেন এবং রিমোর্ট কন্ট্রোলের বোতাম টিপে সেটি চালু করেছেন। ৩০ – ৪০ বছর আগে আমি ঐ অরণ্য এলাকাগুলিতে গিয়ে কাজ করেছি। তখন এই পুরো অঞ্চলে রেলের জমি খালি পড়েছিল। আমরা সবাই একে আরেকবার প্রাণসঞ্চার করলাম।
আমরা আবার একে প্রাণপ্রাচুর্যে ভরে দিয়েছি। দাহোদ রেলওয়ে ওয়ার্কশপের ক্ষমতা চার গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে এখানকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়। এখন পর্যন্ত এখানে ৪৫০ পণ্যবাহী ট্রেনের ৪০০টি ওয়াগনের সংস্কার করা হয়েছে। আপনারা কল্পনা করতে পারেন, একদিনে ছটি ওয়াগনের কাজ হলে অর্থাৎ কতজন মানুষের কর্মসংস্থান হবে!
এছাড়া, পর্যটন সংক্রান্ত নানা পরিষেবার মানোন্নয়ন করা হচ্ছে কেউরিয়াতে সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের স্মারক স্ট্যাচু অফ ইউনিটির উচ্চতা আমেরিকার স্ট্যাচু অফ লিবার্টির দ্বিগুণ করা হয়েছে। এই মূর্তি দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে এত পর্যটক আসছেন যে, তা দেখে অনেকেই উৎসাহিত হচ্ছেন। অম্বাজিতেও অনেক উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু হয়েছে। তেমনি রাজপিপলায় দ্রুতগতিতে ‘ট্রাইব্যাল মিউজিয়াম’–এর কাজ চলছে।
ভাই ও বোনেরা, স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী জনজাতি আন্দোলনকারীরা যথাযোগ্য সম্মান পান নি। এত বছর পর আমরাই প্রথম তাঁদের অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘ট্রাইব্যাল মিউজিয়াম’–এর নির্মাণের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে যাচ্ছি।
বন্ধুগণ, গুজরাটে সমুদ্রশক্তির সম্ভাবনার কথা সারা পৃথিবী জানে। গুজরাটে ওমরগাঁও থেকে শুরু করে কচ্ছের জখোর পর্যন্ত ভারতের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে উন্নয়নে রূপান্তরিত করতে সরকার অনেক প্রকল্প রচনা করে কাজ করে তুলেছে। গোগা থেকে দহেজ রোরো ফেরি চালু করায় জনগণের আসাযাওয়ায় সময় ও অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে।
সোনী প্রকল্পকে ভিত্তি করে সেচ ও পানীয় জল প্রকল্পগুলি এই অঞ্চলের জলসংকট অনেকটাই কম করেছে। এখন সরকার সমুদ্রের জল থেকেও পানীয় জল উৎপাদনের প্রকল্প চালু করেছে। জোড়িয়া সহ ছয়টি স্থানে ডিস্টিল্যাশনের কাজ শুরু করেছে। সমগ্র সৈকত এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করতে সরকার সাগরমালা কর্মসূচির মাধ্যমে ৭৫ হাজার কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। শুধু গুজরাটের সৈকত অঞ্চল উন্নয়নে ৭৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। সরকার গুজরাটের দ্বারকায় সামুদ্রিক পুলিশ একাডেমি স্থাপন করেছে।
ভাই ও বোনেরা, আমরা দেশকে একবিংশ শতাব্দীর নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি, আমাদের পুরনো ঐতিহ্যকেও সংরক্ষণের কাজ করছি। কয়েক সপ্তাহ আগেই গান্ধীজীর লবণ সত্যাগ্রহের প্রতি সমর্পিত ডান্ডি স্মারক উদ্বোধনের সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আর আজ এখানে উদ্বোধন হচ্ছে বিশ্বের সর্বপ্রাচীন হাজার হাজার বছর পুরনো লোথাল বন্দরের পুনর্নিমাণের একটি উচ্চাকাঙ্খী প্রকল্প। এরকম একটি পাঁচ হাজার বছর পুরনো বন্দর বিশ্বের অন্য কোনও দেশের কাছ থাকলে তারা একে কবেই পুনরুদ্ধার করে বিশ্ববাসীকে চমকে দিত! কিন্তু আমাদের দেশে স্বাধীনতার এত বছর পরও তা হয়নি।
কিন্তু যখন কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব পেয়েছি, তখন আমরা এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি। আর আজ আমার হাতেই লোথালে ন্যাশনাল মেরিটাইম হেরিটেজ কমপ্লেক্সের শিলান্যাস হ’ল। বিশ্বের সামুদ্রিক জীবনের প্রেক্ষিতে ভারতের সমুদ্র শক্তি এবং আমাদের ৫ হাজার বছরের সমুদ্র বাণিজ্যিক ইতিহাসের নানা উপাদান নিয়ে এই ঐতিহাসিক মিউজিয়াম গড়ে উঠবে। আমরা কল্পনা করতে পারেন, সারা পৃথিবীর কত পর্যটক এই মিউজিয়াম দেখতে লোথালে আসবেন! ফলে, গুজরাটে অনেক কর্মসংস্থান হবে।
বন্ধুগণ, লোথাল আমাদের সমুদ্র শক্তির প্রতীক। বিশ্বের অনেক দেশ থেকে নিকটবর্তী বল্লভী বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য ভারতীয় শিক্ষা কেন্দ্রগুলিতে পড়াশুনার জন্য পণ্ডিত ও ছাত্রছাত্রীরা আসতেন। কথিত আছে যে, এখানকার সমুদ্রতটে অনেক দেশের জাতীয় পতাকা উড়তো। ন্যাশনাল মেরিটাইম হেরিটেজ কমপ্লেক্স আমাদের সেই গর্বের অনুভবকে ফিরিয়ে দেবে। আর আজ আমি এটাও ঘোষণা করছি যে, এই কেন্দ্রটির শিলান্যাস যখন আমি করেছি, উদ্বোধনও আমিই করতে আসব। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, দেশবাসীর আশীর্বাদ আমার সঙ্গে রয়েছে।
এই কমপ্লেক্সে মিউজিয়ামের পাশাপাশি, থিম পার্ক, গবেষণা কেন্দ্র এবং রিসর্ট গড়ে উঠবে। অর্থাৎ এটি বিশ্বকে ভারতের সমৃদ্ধ সমুদ্র অভিযানের ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করাবে। পাশাপাশি, পর্যটনকেও উৎসাহিত করবে। এই কমপ্লেক্সে শুধু ভারতই নয়, বিশ্ববাসী একটি নতুন ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হবে।
বন্ধুগণ, আমাদের সরকার মধ্য গুজরাটের সঙ্গে এর পূর্ব ও পশ্চিম ভাগ হয়ে যথাক্রমে রাজস্থান ও মহারাষ্ট্রকে উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্ত করতে বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। আমেদাবাদ – মুম্বাই বুলেট ট্রেনের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এই ট্রেন গুজরাটকে একটি নতুন পরিচয় দেবে, ভারতের গৌরব বৃদ্ধি করবে। এখানকার ব্যবসায়ীদের মুম্বাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগকে অনেক সহজ করে তুলবে।
আজ আমেদাবাদ, মেট্রো উপহার পেল। পাশাপাশি, বরোদা – মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ে মধ্য গুজরাটের সঙ্গে অবশিষ্ট ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করায় এই অঞ্চলের শিল্পও উন্নত হবে। কেন্দ্রীয় সরকার সানন্দকে অটো মোবাইল হাব হিসাবে বিকশিত করার কাজ করছে, তেমনই ধোলেরাকে বিশ্বমানের কমার্শিয়াল হাব হিসাবে বিকশিত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ধোলেরা বিমানবন্দর এবং রাজকোটে গ্রিন ফিল্ড বিমানবন্দর নির্মাণের কাজও রয়েছে।
ভাই ও বোনেরা, মধ্য গুজরাটের জলকষ্ট দূর করার জন্য সরকার সমস্ত রকম চেষ্টা করে নর্মদা বাঁধের কাজ সম্পূর্ণ করিয়েছে আর এর সঙ্গে যুক্ত সেচ প্রকল্পগুলিকে সম্পূর্ণ করার কাজে জোর দিয়েছে। ‘সুজলাং সুফলাং’ প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ফলে, নর্মদার জল উত্তর ও মধ্য গুজরাটের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বন্ধুগণ, আরেকটি কারণে আজকের দিনটি আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ এখানে আমার আমেদাবাদে মেডি-সিটি গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। অর্থাৎ, একই ছাদের তুলনায় আমেদাবাদবাসী এখন সমস্ত অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পাবেন। একসঙ্গে, চারটি বড় হাসপাতাল উদ্বোধন করা হ’ল; মহিলা ও শিশুদের জন্য সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, ক্যান্সার হাসপাতাল, চক্ষু হাসপাতাল এবং দন্ত হাসপাতাল এক জায়গাতেই গড়ে উঠেছে।
বন্ধুগণ, আমেদাবাদে কয়েক দশক পুরনো অসামারিক হাসপাতালকে মেডি –সিটি’তে রূপান্তরণের এই কাজ ২০০৮ সালে শুরু হয়েছিল। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, এক দশকের মধ্যেই দেশের বৃহত্তম স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্র মেডি – সিটি রূপে আজ এখানে উদ্বোধন করতে পেরেছি। এর বিস্তার দেখুন। যাঁরা টিভির পর্দায় দেখছেন কিংবা শুনছেন – তারাও হয়তো শুনছেন যে এক ছাদের তলায় ১০ হাজার চিকিৎসক, ডাক্তারির ছাত্রছাত্রী, প্যারা-মেডিকেল স্টাফ, ক্রীড়া চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা মিলে প্রতিদিন প্রায় দশ হাজার অসুস্থ মানুষকে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেবেন।
এই মেডি-সিটিকে আপনারা এখন একটি ২০হাজার জনসংখ্যা বিশিষ্ট বড় গ্রাম হিসেবে কল্পনা করতে পারেন। ইতিমধ্যেই এই মেডিসিটি ৫,৫০০ শয্যা নিয়ে গড়ে উঠেছে ভবিষ্যতে এই শয্যাসংখ্যাও অনেক বৃদ্ধি করা হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যে হাসপাতালগুলির কাজ এগিয়ে চলেছে, সেগুলির কাজও দ্রুতসম্পন্ন হবে।
বন্ধুগণ, আমাদের সরকার বরাবরই উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে। আজ সকালেও জামনগরে ৭০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল উদ্বোধনের সৌভাগ্য হয়েছে। ভারতের উত্তর-দক্ষিণ পূর্ব-পশ্চিম সর্বত্র স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং চিকিৎসাবিদ্যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি অভূতপূর্ব উন্নয়ন আজ দেশবাসী অনুভব করছে। সারা দেশে আজ ২২টি এইম্স হাসপাতাল কাজ শুরু করেছে অথবা নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এর মধ্যে ১৫টি এইম্স গত পাঁচ বছরে চালু হয়েছে। আমরা দেশের ছোট ছোট শহরগুলিতেও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। ওয়েলনেস সেন্টার থেকে শুরু করে মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত একটি শৃঙ্খলা গড়ে তোলা হচ্ছে।
বন্ধুগণ, একটা সময় ছিল যখন গরিব ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা অসুস্থ হলে তাঁদের ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া হ’ত। দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে পর্যাপ্ত হাসপাতাল ছিল না, চিকিৎসা পরিষেবার কোনও ভালো প্রকল্পও ছিল না। সেজন্য দেশের কোটি কোটি গরিব মানুষ হাসপাতালের চৌকাঠে পা রাখতে পারতেন না। আমরা এই সমস্যা সমাধানের জন্য আয়ুষ্মান ভারত বা পিএমজেওয়াই প্রকল্প চালু করেছি। এই প্রকল্পটিকে অনেকে ভালোবেসে মোদী কেয়ারও বলেন। এরকম অনেক উপকৃত মানুষের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। আজও এখানে আসার আগে দেখা হয়েছে, তাঁদের মতে, আয়ুষ্মান ভারত যোজনা তাঁদের জন্য একটি আশীর্বাদ।
বন্ধুগণ, আয়ুষ্মান যোজনা শুরু হওয়ার পর মাত্র পাঁচ মাস কয়েকদিন হয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই ১৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ এর দ্বারা উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন। আজ দেশের দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম ব্যক্তির মনেও সুচিকিৎসার আশা জেগেছে। এই পরিবর্তন কিভাবে সম্ভব হয়েছে। কার জন্য হয়েছে? বন্ধুগণ, মোদীর জন্য এটা হয়নি। আপনারা ২০১৪ সালে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক জায়গায় ভোট দিয়েছিলেন। আপনাদের সদিচ্ছার ফসল হিসাবে সংখ্যাধিক্যের জোরে গঠিত শক্তিশালী সরকার রাষ্ট্রহিতে একের পর এক এই ধরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে।
ভাই ও বোনেরা, আমাদের সরকার দেশের রাজনীতিতে একটি বুনিয়াদী পরিবর্তন এনেছে। যা করবেন, পরিচ্ছন্নভাবে সততার সঙ্গে দেশের স্বার্থে করবেন। সেজন্যে যত সমালোচনাই হোক না কেন, আমরা পিছিয়ে আসি না! আপনারা দেখেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সাহসী লড়াইয়ের মাধ্যমে আমাদের নীতি ও সদিচ্ছা সকলেই অনুভব করেছেন।
আপনারা মনে করুন, আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, এই অসামরিক হাসপাতালেই রাক্ষসেরা বোমা বিস্ফোরণ করে অসংখ্য নির্দোষ মানুষকে মৃত্যু মুখে ঠেলে দিয়েছিল। তখন যাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের শাসন ক্ষমতায় ছিলেন, সীমান্তের ওপার থেকে আসা সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া কি তাঁদের দায়িত্ব ছিল না?
ভাই ও বোনেরা, আমার এই ক্ষোভের কথা আমি তখনও বলেছিলাম আর এবার পুলওয়ামার পর জনসমক্ষে বলেছি যে, যে আগুন দেশবাসীর হৃদয়ে রয়েছে, সেই আগুন আমার হৃদয়েও রয়েছে। কিন্তু মুম্বাইয়ে ২৬/১১-তে অসংখ্য নির্দোষ মানুষের মৃত্যু হ’ল কিন্তু ভারত এর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নিল না। অথচ এই সন্ত্রাসবাদকে শিকড় থেকে উপড়ে ফেলা উচিৎ। আপনারা আমাকে বলুন, দেশের কোন্ রাজনৈতিক দল এই কাজটি সততার সঙ্গে করছে – আমরা। আমরাই একদিকে অন্যায়কারীদের শাস্তি দিচ্ছি আর অন্যদিকে, সৎভাবে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের সম্মানিত করছি। আজ আমেদাবাদ অসামরিক হাসপাতালে দাঁড়িয়ে আমার সেদিনের মর্মান্তিক দৃশ্য মনে পড়ছে, সেজন্য আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, যারা আমাদের আক্রমণ করবে, তাদের আমরা সপ্তনরকে গিয়ে হলেও মারব। অথচ, দেশের দুর্ভাগ্য যে কিছু নেতা কী বলছেন, তা তাঁরা নিজেরাই জানেন না। আজকের পাকিস্তানের খবরের কাগজের হেডলাইনগুলি দেখুন, ভারতের বিরোধী নেতা-নেত্রীরা আমাদের বিরুদ্ধে যা বলেছেন, তা তাদের সংবাদ শিরোনামে ছাপা হয়েছে। তাদেরকে পাকিস্তানের টেলিভিশনে দেখানো হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে পাকিস্তানের সংসদে আলোচনা হচ্ছে।
তাঁরা কি আদৌ দেশ হিতৈষী! এমন কথা বলবেন যে, পাকিস্তানে হাততালি বাজবে? আরে দেশের সেনাবাহিনী পরাক্রম দেখিয়েছেন, আমাদের যাতে প্রতি আক্রমণের জন্য বেশি দিন অপেক্ষা করতে না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে তাঁরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং শত্রুকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়েছেন। আমাদের দেশের এহেন পরাক্রমী সৈনিকদের আপনারা বিশ্বাস করবেন না! কিন্তু অনেকে এখানেও রাজনীতি করছেন।
আরে আপনাদের মোদীর কথা মানতে হবে না। কমপক্ষে সেনাবাহিনীকে তো বিশ্বাস করুন। যাঁরা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেন, তাঁদের পরাক্রমে কালিমালিপ্ত করবেন না। মনে করুন, তাঁরা যে পরিকল্পনা নিয়ে সীমান্তপারে আক্রমণ করেছিলেন, তা যদি সফল না হ’ত, তা হলে তাঁরা কী করতেন? তাঁরা কার পদত্যাগ চাইতেন? কেন ভাই, আপনারা কেন চান যে, দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর পরাক্রমী সৈনিকদের প্রশংসা করবেন না। আমার নাকি ‘জয় জওয়ান, জয় কিষাণ’ বলারও অধিকার নেই। আমি দেশের সৈনিকদের জন্য গর্ব করলে তাঁদের এত পেট ব্যথা কেন?
তাঁরা বলছেন যে, এটা নির্বাচনী খেলা। প্রথমবার যখন আমরা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছিলাম, তখন কিসের নির্বাচন ছিল! আমাদের নীতি হ’ল – কেউ আমাদের আক্রমণ করলে আমরা তাঁদের বাড়িতে ঢুকে প্রতি আক্রমণ করব। কোনও দেশ এরকম অসহায় অবস্থায় দশকের পর দশক ধরে থেকে যেতে পারে না। ৪০ বছর ধরে সন্ত্রাসবাদ ভারতের বুকে গুলিবর্ষণ করছে, বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে, অসহায় মানুষদের হত্যা করছে। কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে নিমজ্জিত নেতারা কোনও পদক্ষেপ নিতে ভয় পাচ্ছেন। আমি ক্ষমতা কিংবা প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারকেও পরোয়া করি না। দেশের মানুষ ও তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার। সেজন্য দয়া করে সমস্ত বিষয় নিয়ে রাজনীতি করবেন না। আরে মোদী যদি বলে যে, গৃহহীনদের জন্য এতগুলি বাড়ি বানিয়েছি, মেট্রো রেল এনেছি, মেডি-সিটি বানিয়েছি,এগুলি নিয়ে রাজনীতি করুন, বলুন মোদী মিথ্যা কথা বলছেন। কিন্তু সেনাকে নিয়ে কোনও বিবাদে যাবেন না। তাঁদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করবেন না!
বন্ধুগণ, যেভাবে আমরা দেশের নিরাপত্তা নিয়ে দায়বদ্ধ। দেশের স্বার্থে যা করা প্রয়োজন, আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করছি যে, আমরা সেই পদক্ষেপই নেব। আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে, এবারের বাজেট, যেটি অন্তর্বতীকালীন বাজেট …… আপনারা আমাকে আবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করলে পূর্ণ বাজেট পেশ করব। কিন্তু এবারের এই অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে আমরা দেশের মধ্যবিত্তদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়সম্পন্ন ব্যক্তিদের আয়কর মুক্ত করে দিয়েছি। এর মাধ্যমে সরাসরি দেশের ৩ কোটিরও বেশি মানুষ উপকৃত হবেন।
বন্ধুগণ, গত পাঁচ বছরে আমরা নতুন ভারতের ভিত্তি স্থাপন করেছি। নতুন ভারতের নতুন সংস্কার গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। রাষ্ট্রহিতে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রত্যেক ব্যক্তি যাতে কাজ পান, এরকম আবহ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আগামী পাঁচ বছরে আমরা নতুন ভারতের এই ভিত্তির ওপর বৈভবশালী ভারত গড়ে তোলার চেষ্টা করব। একটি শক্তিশালী ভারত নির্মাণের প্রতিজ্ঞা নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। আমরা সবাই মিলে সেই পথে এগিয়ে যাব। এই বিশ্বাস নিয়ে আজ যতগুলি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস হ’ল, সেগুলির জন্য আপনাদের সকলকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানিয়ে আমার সঙ্গে দু’হাত ওপরে তুলে সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে বলার অনুরোধ জানাচ্ছি –
ভারতমাতার জয়
ভারতমাতার জয়
ভারতমাতার জয়
বন্দে মাতরম
বন্দে মাতরম
বন্দে মাতরম
ধন্যবাদ।
CG/SB/SB
यहां आने से पहले मैंने अहमदाबाद मेट्रो में सफर किया।
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
उस दौरान लोगों का उत्साह और उनकी खुशी को अनुभव किया, सच में मन आनंद से भर गया।
उत्तरायन में जैसे लोग छत पर खड़े होकर पतंग उड़ाते हैं, वैसे ही आज छत पर खड़े होकर लोग अपनी मेट्रो का स्वागत कर रहे थे: PM
कुछ देर पहले मैंने कॉमन-मोबिलिटी कार्ड की सुविधा का भी शुभारंभ किया है।
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
ये कार्ड यात्रा करते समय आपकी तमाम दिक्कतों को दूर करने जा रहा है।
इस दिक्कत को दूर करने के लिए ही ऑटोमेटिक फेयर कलेक्शन सिस्टम की व्यवस्था विकसित की गई थी: PM
अलग-अलग कंपनियों द्वारा बनाए गए इस सिस्टम की वजह से देश में एक इंटीग्रेटेड व्यवस्था विकसित नहीं हो पा रही थी।
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
एक शहर का कार्ड दूसरे शहर में बेकार हो जाता था।
इस चुनौती को दूर करने के लिए एक व्यापक स्तर पर काम शुरू किया,
अनेक मंत्रालयों और विभागों को इस काम में लगाया गया: PM
तमाम प्रयासों के बाद अब देश में
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
One Nation-One Card का सपना सच होने जा रहा है।
कॉमन-मोबिलिटी कार्ड से आप पैसे भी निकाल पाएंगे, शॉपिंग कर पाएंगे और किसी भी मेट्रो या ट्रांसपोर्ट के अन्य साधन में भी वही कार्ड इस्तेमाल हो जाएगा: PM
बीते 55 महीनों में सरकार ने
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
उमर गांव से अंबाजी यानि राज्य के आदिवासी बाहुल्य इलाके,
उमरगांव से जखौ यानि राज्य के तटीय इलाके और
आबू से दहानू यानि केंद्रीय गुजरात की आवश्यकताओं को ध्यान में रखते हुए विकास के अनेक कार्य शुरू करवाए हैं और अनेक पर काम कर रही है: PM
आज लोथल में नेशनल मेरिटाइम हेरिटेज कॉम्प्लेक्स का शिलान्यास किया गया है।
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2019
अनेक देशों के लोग वहां अध्ययन करने के लिए पहुंचते थे कि, ये पोर्ट काम कर रहा है और इस क्षेत्र के व्यापार को बढ़ाने में मदद कर रहा है।
कहते हैं, एक समय था जब दर्जनों देशों के झंडे वहां फहराया करते थे: PM
It’s a memorable day in Ahmedabad’s history.
— Narendra Modi (@narendramodi) March 4, 2019
Our beloved Ahmedabad gets a Metro!
Inaugurated Phase-1, travelled on the metro and laid the foundation stone for Phase-2.
We want to provide convenient, and cost effective transportation in our cities. pic.twitter.com/ybJEtdsJCV
Here is how the dream of ‘One Nation, One Card’ was fulfilled today, furthering ‘Ease of Living’ for several citizens. pic.twitter.com/Aw5AV3pQvQ
— Narendra Modi (@narendramodi) March 4, 2019