Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

৩০ মার্চ, ২০১৬ তারিখে বেলজিয়ামে বসবাসকারী ভারতীয়দের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

৩০ মার্চ, ২০১৬ তারিখে বেলজিয়ামে বসবাসকারী ভারতীয়দের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


নমস্কার,

আমার সৌভাগ্য যে আজ ‘লোকদূত’দের আশীর্বাদ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আমরা বিদেশে গেলে রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে অবশ্যই দেখা করি, কিন্তু ‘লোকদূত’দেরসাক্ষাৎ পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার। আপনারা সকলে ভারতের ‘লোকদূত’, যাঁরা নিজেদের আচার-ব্যবহার, কথাবার্তা, ভাবনা-চিন্তার মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন, অন্যদের প্রভাবিত করেন। এখানে উপস্থিত এমনই হাজার হাজার ‘লোকদূত’দের আমার নমস্কার।

গত সপ্তাহে ব্রাসেল্‌স-এ একটি ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদী হানায় অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। যাঁদের প্রিয়জন হারিয়েছে, সেসব শোকসন্তপ্ত পরিবারকে আমি গভীর সমবেদনা জানাই। এখানকার শান্ত জীবনে দীর্ঘকাল বাদে এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনা এ দেশের মানুষকে দেখতে হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ কত ভয়ানক, কত নিষ্ঠুর এতদিনে গোটা দুনিয়া তা ভালোভাবে টের পেয়েছে। গত বছর বিশ্বের ৯০টি দেশ কোন না কোন সন্ত্রাসবাদী হানার শিকার। কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। অসংখ্য বাবা-মা তাঁদের সন্তান হারিয়েছেন। অন্যদিকে, অসংখ্য বাবা-মা চোখের জল ফেলছেন, কারণ তাঁদের সন্তান সন্ত্রাসবাদের পথে পা বাড়িয়েছে। সন্ত্রাসবাদ নির্দিষ্ট কোন দেশের সমস্যা নয়, কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমস্যা নয়। সন্ত্রাসবাদ গোটা বিশ্বের সমস্যা। মানবতার সমস্যা। সেজন্য সময়ের দাবি হল, যাঁরা মানবতায় বিশ্বাস করেন প্রত্যেকেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।

সন্ত্রাসবাদের থেকেও বড় দুঃশ্চিন্তার বিষয় হল এত হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর পরও বিশ্ববাসী এর ভয়ঙ্কর রূপকে ঠিকভাবে চিনে উঠতে পারছে না। সেজন্য মানবতাবাদী শক্তি এখনও সংহত হয়ে উঠতে পারছে না। কখনও নিজেদের অজান্তেই কেউ কেউ ভালো সন্ত্রাসবাদ এবং খারাপ সন্ত্রাসবাদকে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করছে। এজন্য সময়ের দাবি হল, বিশ্বকে এই সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহতা বুঝতে হবে। ভারত বিগত চার দশক ধরে সন্ত্রাসবাদের নৃশংসতায় বিদীর্ণ। স্বাধীন ভারতে যুদ্ধে যত না সৈনিকের মৃত্যু হয়েছে তার চাইতে অনেক বেশি সৈনিকশহীদ হয়েছেন সন্ত্রাসবাদীদের গুলিতে। ভারত যখন চিৎকার করে বিশ্বকে বলত যে, সন্ত্রাসবাদ নির্দোষ জনজীবনের শত্রু হয়ে উঠেছে, তখন বিশ্বের বড় বড় শক্তি আমাদের বোঝাত যে, এটা আপনাদের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলার গাফিলতি। কিন্তু এখন গোটা পৃথিবী সন্ত্রাসবাদের পদভারে থরহরিকম্পমান। এখন বিশ্ব বুঝতে পারছে সন্ত্রাসবাদ কাকে বলে।

৯/১১ বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তার আগে বিশ্ব সমুদায় বিশ্বাস করত না যে ভারত কত বড় সঙ্কটের সম্মুখীন। কিন্তু ভারত সন্ত্রাসবাদের সামনে মাথানত করেনি। মাথানত করার প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমি বিশ্বের কয়েকজন বড় রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে কথা বলেছি। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি তাঁদেরকে বুঝিয়েছি যে, সন্ত্রাসবাদকে ধর্ম থেকে আলাদা করে দেখুন। কোন ধর্ম সন্ত্রাসবাদ শেখায় না। সম্প্রতি ভারতে উদারবাদী ইসলামিক স্কলারদের একটি বড় সম্মেলন হয়ে গেল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইসলামিক স্কলাররা এসেছিলেন। তাঁরা সুফি ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা এক স্বরে বলেছেন যে, সন্ত্রাসবাদী ইসলামের কথা বলে সে মুসলমান হতে পারে না। ইসলাম ধর্ম সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে যত বেশি এ ধরনের আওয়াজ আমরা শুনতে পাব, তত দ্রুত নবীন প্রজন্ম মৌলবাদ থেকে দূরে থাকবে। কেবল বোমা, বন্দুক আর পিস্তল দিয়ে সন্ত্রাসবাদেরবিনাশ করা যাবে না।

আমাদের সমাজে একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। মানবতার দুর্ভাগ্য হল, যুদ্ধ কী, কেন, যুদ্ধ থেকে কী কী সমস্যা তৈরি হয় এবং যুদ্ধকে থামানোর পদ্ধতি কী – এই সকল বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘে অনেক কিছু লেখা পাওয়া যাবে। কিন্তু সন্ত্রাসবাদ নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘ এখনও কোন সংজ্ঞা তৈরি করতে পারেনি। সেজন্য সন্ত্রাসবাদ থেকে মুক্তির উপায়ও রাষ্ট্রসঙ্ঘ জানে না। যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে যে সংস্থার জন্ম সেই সংস্থা যুদ্ধের পরিসীমার বাইরে আর কিছু ভাবতেই পারছে না। সন্ত্রাসবাদ নতুন যুগের চ্যালেঞ্জ, মানবতার চ্যালেঞ্জ, তাকে সংজ্ঞায়িত করার দায়িত্ব এতবড় সংগঠন পালন করতে পারছে না।

দীর্ঘকাল ধরেই ভারত রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছে, দ্রুত একটি প্রস্তাব নিয়ে সন্ত্রাসবাদকে সংজ্ঞায়িত করা হোক। তাহলেইকারা সন্ত্রাসবাদী, কোন দেশ সন্ত্রাসবাদকে সাহায্য কিংবা সমর্থন করছে তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। তখন মানুষ আর তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে ভয় পাবে।আমি জানি না রাষ্ট্রসঙ্ঘ কবে আমাদের আবেদনে সাড়া দেবে,কিভাবে এই সমস্যার মোকাবিলা করবে ! যদি না পারে তাহলে সেদিন দূর নয়, রাষ্ট্রসঙ্ঘই বিশ্ববাসীর কাছে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে। সময়ের সাথে এগিয়ে গেলে, প্রতিস্পর্ধাকে অনুভব করলে, একবিংশ শতাব্দীর মানুষকে সুখে শান্তিতে রাখার স্বার্থে বিশ্ব নেতৃত্বকে এই দায়িত্ব পালন করতেই হবে। যত দেরি করবেন, তত ক্ষতি হয়ে যাবে।

আজ এখানে সারাদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথাবার্তা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গেও কথাবার্তা হয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সন্ত্রাসবাদ। এখন সকলেই আমাদের কথা শুনতে চান। তারা বলেন, আপনারা ৪০ বছর ধরে এ সমস্যার মোকাবিলা করছেন। আপনাদের অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাই।

গোটা বিশ্ব আজ আর্থিক সঙ্কটে নিমজ্জমান। অনেক বড় বড় দেশে অর্থনৈতিক সঙ্কট চলছে। এরকম সময়ে বিশ্বব্যাঙ্ক, আই এম এফ, বিভিন্ন ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলি সমস্বরে বলছে একমাত্র ভারত এখন বিশ্ববাসীর সামনে আশার আলো দেখাচ্ছে। বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে ভারত আজ সর্বাধিক দ্রুত বিকাশশীল অর্থনীতি। এরজন্য আমাদের ভাগ্য দায়ি নয়, এতে মোদীরও কোন কৃতিত্ব নেই, ১২৫ কোটি ভারতবাসীর পরিশ্রমের ফল এটা। গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয়দের পরিশ্রমের ফসল। নাহলে যে দেশে দু’বছর ধরে প্রকৃতি প্রতিকূল, আশানুরূপ বৃষ্টি হয়নি, খরা এবং শিলাবৃষ্টির শিকার হয়েছে দেশের অনেক অঞ্চল, এই সকল কিছুকে অতিক্রম করে ভারতে তীব্র গতিতে আর্থিক উন্নয়ন হচ্ছে। সঠিক দিশা, স্পষ্ট নীতি এবং তীব্র ইচ্ছাশক্তির নিদর্শন ১২৫ কোটি ভারতবাসীর এই অগ্রগতি।

অনেক জিনিস আপনারা টিভিতে দেখতে পান না, খবরের কাগজেও পড়তে পারেন না। কখনও-সখনও নরেন্দ্র মোদী অ্যাপ-এ কিংবা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখা যায়। এখন আমি আপনাদের বলতে চাই, কিভাবে পরিবর্তন এসেছে। এতগুলি বিষয় রয়েছে যে আমাকে কাগজ দেখে বলতে হবে। তবে আমি বেশি বলব না, কেবল ২০১৫-র হিসাব দেব। কারণ, গণতন্ত্রেজনসাধারণকে হিসেব দেওয়া আমার দায়িত্ব। আমি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী বলে ভাবি না, আপনাদের প্রধান সেবক বলে ভাবি। সেবককে তো হিসাব দিতেই হবে। আমাদের দেশে আখের চাষ হয়। প্রতি বছরই আখচাষীদের ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা বাকি পড়ে। মিলের লোকেরা বলে,চিনি বিক্রি হয়নি ! ওরা প্রাপ্য টাকা ফেরত পায় না। এ বছর গোটা বিশ্বেই চিনির উৎপাদন বেশি হওয়ায় সর্বত্র চিনির দাম পড়ে গেছে। ভারত থেকে চিনি বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হয়নি। সেজন্য ভারতে চিনির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এখন আখচাষীরা কী করবেন ? আমরা স্থির করলাম ইথানল উৎপাদন করব। আমরা দেশের সকল পেট্রোল পাম্পগুলিকে নির্দেশ দিলাম যে সকল প্রকার পেট্রোজাত পণ্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ ইথানল মেশাতেই হবে। ২০১৫-য় ভারতে সর্বাধিক ইথানল উৎপাদন হয়েছে।

আমাদের দেশে, আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম কয়েকমাস মুখ্যমন্ত্রীরা চিঠি লিখে নিয়মিত ইউরিয়া সারের জন্য তাগাদা দিতেন। খবরের কাগজে পড়তাম, অনেক জায়গায় ইউরিয়া কেনার জন্য কৃষকরা সারা রাত দোকানের বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কখনও খবর পেতাম কৃষকদের ওপর লাঠি চার্জ হয়েছে। কিন্তু গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সারা দেশে ইউরিয়ার জন্য কোন কৃষকের ওপর লাঠি চার্জ হয়নি। ২০১৫-য় একজন মুখ্যমন্ত্রীও আমাকে চিঠি লিখে ইউরিয়া চাননি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২০১৫-য় সর্বাধিক ইউরিয়া উৎপাদন হয়েছে। আর আমরা সঙ্কটমুক্ত হয়েছি।

আমাদের দেশে যখন বড়লোকের সরকার ক্ষমতায় থাকে, তখন বড়লোকরা অপর্যাপ্ত গ্যাস সিলিন্ডার পান। এমনকি, গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য লোকসভা কিংবা রাজ্যসভার সাংসদকেও সুপারিশ করতে দেখা গেছে। কিন্তু ২০১৫-য় দেশের সরকার গরিব মানুষদের সর্বাধিক গ্যাস সংযোগ দিয়েছে। দীর্ঘকাল আগে দেশে যখন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তিনি জনগণের কাছে আবেদন রেখেছিলেন যে,“দেশে শস্য কম উৎপাদিত হয়েছে, আমরা সকলে এখন থেকে একবেলা খাব !” এখানে যাঁরা বয়স্ক মানুষেরা বসে আছেন, তাঁরা জানেন, তখন গোটা ভারতে মানুষ শস্য বাঁচানোর জন্য সপ্তাহে একদিন উপবাস করতেন। লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর আহ্বানে এত শক্তি ছিল। আমি একজন ছোট মানুষ। কোথায় লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, আর কোথায় একজন চা বিক্রেতা। কিন্তু আমি প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশবাসীকে অনুরোধ করি, যাঁরা সম্পন্ন মানুষ তাঁরা গ্যাস সিলিন্ডারে ভর্তুকি ত্যাগ করুন। সিলিন্ডার প্রতি দু’-আড়াইশ’ টাকা ভর্তুকির সুযোগ আপনারা নেবেন কেন ? আপনারা শুনে খুশি হবেন, আমি আহ্বান জানানোর পর এ বিষয়ে কোন প্রচার করিনি। কিন্তু আমার আবেদনে সাড়া দিয়ে ভারতের ৯০ লক্ষ মানুষ গ্যাস সিলিন্ডারে ভর্তুকি ত্যাগ করেন। এর মধ্যে সবাই যে খুব বড়লোক তা নয়। সাধারণ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও আমার আবেদনে সাড়া দিয়ে ভর্তুকি ত্যাগ করেছেন। আমি বলেছিলাম, আপনারা ভর্তুকি ত্যাগ করলে আমি সেই ভর্তুকিপ্রাপ্ত সিলিন্ডার গরিব মায়েদের হাতে তুলে দেব যাঁরা কাঠের উনুনে রান্না করেন, ধোঁয়ায় গোটা পরিবার অসুস্থ হয়।

বৈজ্ঞানিকদের মতে, একজন মা উনুন জ্বালিয়ে রান্না করে একদিনে ৪০০ সিগারেটের সমান ধোঁয়া শরীরে গ্রহণ করেন। প্রায় একই অবস্থা হয় তাঁর শিশুসন্তানটির। একথা জেনে আমি কষ্ট পাচ্ছিলাম। আর তা থেকেই আমি দেশবাসীর কাছে সেই আবেদন রেখেছি। ফলস্বরূপ, গত এক বছরে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে সর্বাধিক দরিদ্র মানুষ গ্যাস সিলিন্ডার পেয়েছেন। এবার বাজেটে আমরা একটি সঙ্কল্প ঘোষণা করেছি যে আগামী তিন বছরে দেশের যে ৫ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে রয়েছেন, তাঁদের সকলের ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার পৌঁছে দেব।

২০১৫-য় দেশে স্বাধীনতার পর থেকে সর্বাধিক কয়লা উৎপাদন হয়েছে। আগে আপনারা প্রায়ই শুনতেন যে কয়লায় কতজনের হাত কালো হয়েছে। এখন দুর্নীতির কথাকে ছাপিয়ে গেছে উৎপাদনের সংবাদ। এ বছর কয়লার পাশাপাশি দেশে সর্বাধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এ বছর ভারতীয় বন্দরগুলিতে সর্বাধিক পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে। অর্থাৎ, সর্বাধিক ব্যবসা হয়েছে। আগে আমাদের বন্দরগুলিতে কোন স্টিমার এলে তিন-চারদিন অপেক্ষা করতে হত। অনেককে খুশি করে তবেই পণ্য ওঠানো কিংবা নামানোর কাজ নিষ্পত্তি হত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় কখনও স্টিমারগুলিকে সপ্তাহখানেকও অপেক্ষা করতে হত। গত বছর আমরা এই পণ্য নামানো-ওঠানোর সময় সর্বাধিক কমাতে পেরেছি। দালালদের দূরে হটিয়েছি। ২০১৫-য় দেশে সর্বাধিক দুধ উৎপাদিত হয়েছে। অর্থাৎ, মানুষের পাশাপাশি দেশের গরু-মোষ-ছাগলরাও এখন আগের থেকে বেশি আনন্দে আছে। আমরা ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করি না। যারা ভোট দেয় না তাদেরও সেবা করি।

স্বাধীনতার পর গত বছরই রেলের পরিকাঠামো নির্মাণে সর্বাধিক বিনিয়োগ হয়েছে। কারণ আমাদের মতে ভারতীয় রেলওয়ে নিছকই একটি পরিবহণ ব্যবস্থা নয়, এটি ভারতের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। সেজন্য তার যত প্রসার হবে, যত আধুনিকীকরণ হবে, দেশ তত দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।

২০১৫-য় স্বাধীনতার পর থেকে এক বছরে সর্বাধিক মহাসড়ক নির্মাণ হয়েছে। এ বছর দেশে সর্বাধিক গাড়ি উৎপাদন হয়েছে। এ বছর ভারত থেকে সর্বাধিক সফটওয়্যার রপ্তানি হয়েছে। এতদিন ভারতে ব্যবসা স্থাপনের ক্ষেত্রে অনেক প্রতিকূলতা ছিল।কিছু নিয়ম, কিছু স্বভাব আর কিছু পদ্ধতিগত কারণে আমরা গোটা বিশ্বের দেশগুলির মধ্যে ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ এর র‍্যাঙ্কিং-এ অনেক পিছিয়ে ছিলাম। গত এক বছরে আমরা এ ক্ষেত্রেও ১২ অংক এগিয়েছি। এই প্রথমবার ভারত এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি করেছে। আগামীদিনে আমরা অনেক দ্রুত এগিয়ে যাব।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২০১৫-য় দেশে সর্বাধিক বিদেশি মুদ্রা সঞ্চয় হয়েছে। ১৯৮০ নাগাদ দেশে ব্যাঙ্ক জাতীয়করণ হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী ব্যাঙ্কে গরিব মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত করতে এই ব্যাঙ্ক জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার ৬০ বছর পরও দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ ব্যাঙ্কের দরজায় পা রাখেননি। আমরা ক্ষমতায় আসার পর দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম ব্যক্তিকেও দেশের মূল অর্থ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার তাগিদে ‘প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা’ শুরু করি। আমার আবেদনে সাড়া দিয়ে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে দেশে ২১ কোটি নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। আপনারা কল্পনা করতে পারেন কত বড় কাজ হয়েছে ! আমরা নিয়ম করে দিয়েছিলাম যে গরিব মানুষ শূণ্য ব্যালেন্সেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। কারণ আগে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ৫০-১০০ টাকা স্টেশনারি খরচ বাবদ নিত। এবার আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে এই ২১ কোটি মানুষ যে নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলল তাতে আমরা না চাইলেও তাঁরা ৩৪ হাজার কোটি টাকা জমা করল। আমাদের দেশের গরিব মানুষের হৃদয় কত বড় দেখুন !

আমাদের দেশে দুর্নীতি একটা বড় সমস্যা। ব্যবসায়ীরা বলেন, বাস্তবকে মেনে চলুন। তাঁদের কাছে বাস্তব আর দুর্নীতি সমার্থক। আমি ভাবতাম, তাহলে দুর্নীতির বিনাশ কি সম্ভব নয় ? আজ আমি জোর দিয়ে বলছি, দুর্নীতির বিনাশ সম্ভব ! সামান্য পরিবর্তন আনতে হয়। এই গ্যাস সিলিন্ডারের কথাই ধরুন না। আগে বছরে ১৮-১৯ কোটি টাকা গ্যাস সিলিন্ডারে ভর্তুকি দিতে হত। আমরা ‘JAM’ প্রকল্প গড়ে তুলি। অর্থাৎ, জন-ধন আধার মোবাইল। ব্যাঙ্কে জন-ধন অ্যাকাউন্ট, আধারে ইউনিক আইডেন্টিটি কার্ড আর মোবাইলে সমস্ত খবর। গ্যাসের ভর্তুকির সঙ্গে আধার কার্ড এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে জুড়ে দেওয়ায় এক বছরে প্রায় ১৪-১৫ হাজার কোটি টাকার সাশ্রয় হয়। তার মানে এত বছর ধরে কত হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে ? যাঁরা এত খেয়েছেন, তাঁদের চিৎকার করার শক্তিও বেশি। সেজন্যই তাঁরা বলেন, মোদী খারাপ, কিচ্ছু করে না, কেবল ভাষণ দেয় ! আসলে এত বছর ধরে যাঁরা দুধের সর খেয়ে এসেছেন, তাঁদের এখন বড়ই করুণ দশা !

ইউরিয়ার ক্ষেত্রেও একই দশা। বছরে দেশের কৃষকদের ইউরিয়া কেনার জন্য ৮০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হত। কিন্তু সেই ইউরিয়ার সিংহভাগই কৃষকের হাতে পৌঁছত না। মাঝপথে কালোবাজারে সেগুলি চলে যেত বিভিন্ন রাসায়নিক কারখানায়। কারখানার মালিকরা সস্তায় পণ্য উৎপাদন করে অধিক লাভ করতেন। আমরা এই দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য ইউরিয়ায় নিম কোটিং করি। নিম গাছের ফল থেকে যে তেল নিষ্কাশিত হয়, সেই তেল ইউরিয়ায় মেশালে অধিক ফলনহয়। যে মাটিতে আগে ১০ কেজি ইউরিয়া লাগত, নিম কোটিং ইউরিয়ার ক্ষেত্রে লাগে ৭ কেজি মাত্র। পাশাপাশি, এই নিম কোটিং দেওয়া ইউরিয়া রাসায়নিক কারখানায় কোন কাজে লাগে না। সেজন্যই গত এক বছরে কোন কৃষককে আর লাঠি খেতে হয়নি, কোন মুখ্যমন্ত্রীকে আর ইউরিয়া চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখতে হয়নি।

আমাদের দেশের স্বভাব হল প্রকল্প ঘোষণা করা হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলঘরে প্রদীপপ্রজ্জলন করে, টিভি ও খবরের কাগজে জয়জয়কার হয়। তারপর কী হয় তার হিসাব কেউ রাখে না। আমি বলছিলাম, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৬০ বছর পেরিয়ে গেছে। আগামী বছর আমরা ৭০ বছরে পড়ব। কিন্তু আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দেখি দেশের ১৮ হাজার গ্রামে একটি খুঁটিও লাগেনি। এই একবিংশ শতাব্দীতেও তাঁরা অষ্টাদশ শতাব্দীর মতো অন্ধকারে রাত কাটাতেন। আমি আধিকারিকদের ডেকে কথা বললাম, তাদেরজিজ্ঞেস করলাম, এই কাজ সম্পূর্ণ করতে কত দিন নেবেন? তাঁরা বললেন, কমপক্ষে সাত বছর লাগবে। আমি জানি কঠিন কাজ। তবুও তাঁদের সঙ্গে আরও কিছুক্ষণ কথা বলার পর তাঁরা ছ’বছরের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করার প্রতিশ্রুতি দিলেন। তাঁদের কথা শোনার পর আমি গত বছর ১৫ আগস্টে লাল কেল্লার প্রাকার থেকে ঘোষণা করি যে আগামী এক হাজার দিনে ১৮ হাজার গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেব। আধিকারিকরা কাজ শুরু করে দেন। তারপর প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু, এক হাজার দিনের মধ্যে আড়াইশ’ দিনও পেরোয়নি। আজ আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলতে পারি যে ইতিমধ্যেই সাত হাজারেরও বেশি গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটি পৌঁছে গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ করা হয়ে গেছে। আপনারা কেউ চাইলে ‘GARV’ অ্যাপ-এ এর বিস্তারিত বিবরণ দেখে নিতে পারেন। সেখানে এখনও কতগুলি গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছয়নি, সেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব কার, আর প্রতিদিন কোন কোন গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটি পোতা হয়েছে কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা সম্ভব হয়েছে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য আপনার মোবাইলেই দেখতে পাবেন। এতটাই স্বচ্ছতা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমার বিশ্বাস আমরা এক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ এবং স্বচ্ছতা আনতে সক্ষম হয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর একটি সমীক্ষা চালিয়ে জানার চেষ্টা করলাম কেন আমাদের দেশের বালিকারা স্কুলছুট হয়। সমীক্ষায় দেখা যায়, তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণী থেকেই অধিকাংশ ছাত্রী স্কুলছুট হয়। এর কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেল, অধিকাংশ বিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য আলাদা শৌচাগার নেই। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীতে ওঠার পর মেয়েরা লজ্জায় বিদ্যালয়ে যাওয়া ছেড়ে দেয়। আমরা শৌচাগার নির্মাণের অভিযান শুরু করি। ইতিমধ্যেই ৪ লক্ষ ২৫ হাজার শৌচাগার নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করতে পেরেছি। আজ দেশে এমন কোন সরকারি বিদ্যালয় নেই যেখানে মেয়েদের জন্য আলাদা শৌচাগার নেই।

আমার বলার তাৎপর্য হল, আগে দিনে ২ কিলোমিটার সড়কপথ নির্মাণ হয়ে থাকলে এখন তা বেড়ে হয়েছে দিনে ২০-২২ কিলোমিটার। রেলপথ, মিটার গেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তর, রেলের বৈদ্যুতিকীকরণ, ডিজেল ইঞ্জিন থেকে বৈদ্যুতিক রেল চালানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

আজ বিশ্ব উষ্ণায়নের সমস্যায় জেরবার বিশ্বের সকল দেশ। এই সমস্যার সমাধানে ভারত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে সৌরশক্তিকে প্রাধান্য দিতে চায়। আমরা ১৭৫ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। এতদিন ভারতে সবাই মেগাওয়াট নিয়ে কথা বলত। এই প্রথমবার ভারত ১৭৫ গিগাওয়াট লক্ষ্য স্থির করায় গোটা বিশ্ব অবাক। আমি আজ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলছি আমরা যথাযথ সময়সারণী মেনে কাজ করছি। আর ভারত এই লক্ষ্য পূরণে সফল হবেই। গত ৪০ বছর ধরে আমাদের দেশের সেনারা ‘এক পদ এক পেনশন’-এর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের এই আবেদন শোনার কেউ ছিল না। প্রত্যেক সরকারই আশ্বাস দিত কিন্তু আর্থিক সঙ্কটের অজুহাতে সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত করত না। আমরা ক্ষমতায় এসে হিসেব করে দেখলাম, এই ‘এক পদ এক পেনশন’ চালু করলে প্রতি বছর সরকারকে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে। দেশের জন্য আত্মোৎসর্গ করা সৈনিকদের পরিবারের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের জীবনকে নিশ্চিন্ত করতে আমরা ‘এক পদ এক পেনশন’ চালু করে দিয়েছি। গত দু’মাসে যখনই ঐ অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হল, তাঁদের খুশির সীমা রইল না। তাঁদের এই আনন্দ দেখে এখন যাঁরা সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন তাঁরাও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনেক নিশ্চিন্ত হলেন। “আমরা এত কষ্ট সহ্য করে সীমান্তে বসে আছি, কিন্তু দেশ আমাদের জন্য ভাবছে,আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা ভাবছে !” তাঁদের মনে আমরা এই ভাবনা জাগিয়ে তুলতে পেরেছি।

প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে অনেক দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সমাধানের চেষ্টা আমরা করেছি। দেশ বিভাগের পর পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সীমান্ত বিরোধ চলছে। ১৯৭১-এ পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে তাঁদের দেশকে স্বাধীন করেন। জন্ম হয় বাংলাদেশের। ভারতের সাহায্যে স্বাধীনতা এলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ কিন্তু এতদিন মেটেনি। পাশাপাশি জলবন্টন, সমুদ্রসম্পদ এবং ছিটমহল – এই সমস্যাগুলি থেকে মুক্তির কথা কেউ ভাবেনি। আমরা ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের সঙ্গে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত সমস্যা সমাধান করে নিয়েছি। আজ আর দু’দেশেই কোন ছিটমহল নেই। এখন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া লাগানোর কাজ চলছে। সিংহভাগ সীমান্তেই কাঁটাতারের বেড়া লাগানোর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতেই অনুপ্রবেশের সমস্যা মিটে যাবে। দু’দেশই নিশ্চিন্তে বন্ধুত্বের সম্পর্ক পালন করতে পারবে। জলবন্টন সমস্যাও আমরা সমাধান করে ফেলেছি। বিশ্বের সামনে আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই প্রতিবেশী দেশগুলি পরস্পরের সম্পর্ককে কিভাবে শুধরাতে পারে।

আপনারা আমার ‘নরেন্দ্র মোদী অ্যাপ’ নিজের মোবাইল ফোনে ডাউনলোড করে নিতে পারেন। আমি সর্বদা আপনাদের সেবায় হাজির। অনেকেই আমাকে তাঁদের মূল্যবান পরামর্শ লিখে পাঠান। এখানে আসার আগেও আপনাদের ব্রাসেল্‌স থেকে, অ্যান্ট্রেপ থেকে কয়েকজন আমাকে পরামর্শ লিখে পাঠিয়েছিলেন। তাঁদের কারোর নাম রোহিত অরোরা, কারোর নাম চন্দা কোরগাঁওকর, কান্তা ওডিডো, প্রকাশ আদবানী কিংবা সুশান্ত গুপ্তা। তাঁরা আমাকে ভারতের সঙ্গে বেলজিয়াম এবং ইউরোপের সম্পর্ককে মজবুত করার বিষয়ে অনেক পরামর্শ লিখে পাঠিয়েছেন। কিছু ছোট ছোট ছেলে-মেয়েও আমাকে পরামর্শ লিখে জানিয়েছে। এগুলি পড়ে আমি খুব শক্তি পাই। আমি তাঁদের সকলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। একজন ডঃ সচিন এবং ডঃ রুতা এখানে বসবাসকারী ভারতীয় ছেলে-মেয়েদের কিভাবে ভারতীয় সংস্কৃতি মেনে বড় করা যায় তা নিয়ে নিজেদের চেষ্টা সম্পর্কে লিখেছেন। এখন ভাবুন, পরিবার তাঁদের, ছেলে-মেয়ে তাঁদের, আর তাঁদের মনে ভারতীয় সংস্কৃতির বিস্তার ঘটানোর দায়িত্ব আমাকে দিতে চান। আমি খুব খুশি। আমি তাঁদের এই ইচ্ছাশক্তিকে কুর্ণিশ করি। আরেকজন সুভাষ নাম্বিয়ার, তাঁর মেয়ে মীনাক্ষির বয়স সাত বছর, তিনি লিখেছেন, তাঁর মেয়ে হাত খরচের টাকা থেকে জমানো অর্থ ভারতের কোন একটি দরিদ্র শিশুর শিক্ষার খরচ হিসেবে দিতে চান। আমি মীনাক্ষিকে অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা জানাই। এভাবেই নরেন্দ্র মোদী অ্যাপ-এর মাধ্যমে আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে অনেক ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি। পাশাপাশি, আপনারাও সরকারের বিভিন্ন কাজ সম্পর্কে সাম্প্রতিকতম খবর জানতে পারছেন।

যে অনাবাসী ভারতীয়দের কাছে প্যান কার্ড নম্বর নেই, তাঁদের কাছ থেকে উচ্চ হারে টি ডি এস কাটা হয়। আমরা বর্তমান বাজেটে ঘোষণা করেছি, অনাবাসী ভারতীয়দের কাছে যে কোন বিকল্প নথি থাকলেই তিনি উচ্চ হারে টি ডি এস কাটা থেকে মুক্তি পাবেন। এখন দেশের সকল সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরে সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম শুরু হয়ে যাবে। ফ্রি ব্যাগেজের ওজন-সীমাও আমরা সামান্য বাড়াব, যাতে দেশে আরও বেশি জিনিস নিয়ে আসতে পারেন।

আমরা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও কিছু সংস্কার করেছি। যদি কোন অনাবাসী ভারতীয় কোম্পানি বা ট্রাস্ট ভারতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ করে, তারা যে কোন ভারতীয় বিনিয়োগকারীর মতোই সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এক্ষেত্রে আগে যে ব্যবধান ছিল সেগুলি আমরা দূর করতে পেরেছি।

খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রেও ভারত সরকার ১০০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশিবিনিয়োগ উন্মুক্ত করে দিয়েছে। ই-কমার্স, চা-কফির চাষ এমনকি নির্মাণ ক্ষেত্রেও আমরা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন এনেছি। আরও অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলি আপনারা ভারত সরকারের ‘মদদ’ নামক পোর্টালে গিয়ে দেখতে পারেন, অনাবাসী ভারতীয়দের সুবিধার্থে সরকার আর কী কী পরিবর্তন এনেছে।

আজ প্রথমবার বিশ্বের সর্বত্র ভারতীয় দূতাবাসগুলির সঙ্গে অনাবাসী ভারতীয়দের সম্পর্কে পরিবর্তন এসেছে। পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ফলস্বরূপ, আমরা অনেক ছোটখাট পরিবর্তন আনার চেষ্টায়সফল হয়েছি। আপনারা এত বিপুল সংখ্যায় এখানে এসে উপস্থিত হয়েছেন। আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন তার জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আমরা যে যেখানে থাকি না কেন, আমাদের এটাই ভাবা উচিত যে আমরা প্রত্যেকে ভারতের ‘লোকদূত’।

বিশ্বের যে কোন ভাষার যে কোন ব্যক্তির সঙ্গে মিশে ভারতের গৌরবগাথা, ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, পর্যটন – সকল ক্ষেত্রে আমরা তাঁদেরকে যত প্রভাবিত করতে পারব, দেশ তত লাভবান হবে।

ভারতে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের স্বভাব দিয়ে বিশ্ববাসীকে ভারতের প্রতি আকর্ষিত করার চেষ্টা ভারতে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করবে। ভারত বিশ্বের সর্বাধিক নবীন দেশ। ৬৫ শতাংশ মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। যে দেশে এত নবীন মানুষ রয়েছে, সেই দেশ প্রত্যেক স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার সামর্থ্য রাখে। এই বিশ্বাস নিয়ে আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, ভারত অচিরেই উন্নতির নতুন উচ্চতা পেরিয়ে যাবে। সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে অগ্রগতির পথে দ্রুত এগিয়ে যাবে।

আমি আরও একবার আপনাদের সকলকে অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা জানাই।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SB/DM/S