পিএমইন্ডিয়া
বিপুল সংখ্যায় আগত আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আমার সৌভাগ্য যে আজ বাবাসাহেব আম্বেদকরের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীতে এই মহাপুরুষের চরণকমল যে ভূমিকে প্রথম স্পর্শ করেছে, সেই ভূমিকে প্রণাম জানানোর সুযোগ পেয়েছি।
এখানে আমি আগেও এসেছি। কিন্তু, তখনকার অবস্থা আর আজকের অবস্থার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শ্রদ্ধেয় সুন্দরলাল পটওয়া যে কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শ্রদ্ধেয় শিবরাজ-এর নেতৃত্বে রাজ্য সরকার সেই কাজকে এগিয়ে নিয়ে গেছে, সম্পূর্ণ করেছে। সেজন্য আমি মধ্যপ্রদেশ সরকারকে অন্তর থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই।
বাবাসাহেব আম্বেদকর নিছকই একজন ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন মূর্তিমান সংকল্প। তাঁর জীবন ছিল সংগ্রামের। ব্যক্তিগত মানসম্মান, মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম নয়, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই, সমাজের প্রান্তে বসবাসকারি দলিত, পীড়িত, শোষিত, বঞ্চিত মানুষের অধিকার অর্জনের লড়াই। সেজন্য বারবার অপমানিত হয়েও তিনি কখনও পথভ্রষ্ট হননি। যে মহাপুরুষ এতো জ্ঞানী ছিলেন, বিশ্বের নাম করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে অর্থ ও যশ উপার্জনের সমস্ত পথ খোলা ছিল। কিন্তু, দেশের দলিত, নিপীড়িত, শোষিত, বঞ্চিত মানুষদের জন্য তাঁর হৃদয়ে আগুন ছিল, আর ছিল তাঁদের জন্য কিছু করার প্রবল ইচ্ছা ও সংকল্প। সেজন্য তিনি ব্যক্তিগত সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যের সকল সম্ভাবনা, ব্যক্তিগত উন্নতির সমস্ত সুযোগ ত্যাগ করে আবার ভারতের মাটিতে ফিরে সংকল্প-সাধনে জীবন উৎসর্গ করে দেন।
আজ ১৪ এপ্রিল বাবাসাহেব আম্বেদকরের জন্মদিবসে আমাদের অখিল ভারতীয় ভিক্ষু সংঘের সংঘ নায়ক ডঃ ধম্মবীর্য মহোদয়’কে সম্মানিত করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে, এই মাটিতেই। খুব কম মানুষই জানেন, কত বড় মহাপুরুষ আজ আমাদের মধ্যে রয়েছেন। আমি শুনেছি, তিনি ১০০টি ভাষা জানেন। এই মহাপুরুষের জন্ম ব্রহ্মদেশে। বাবাসাহেব আম্বেদকর ব্রহ্মদেশ গেলে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়। বাবাসাহেবের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি তখন থেকেই ভারতভূমিকে নিজের কর্মভূমি করে তোলেন, বৌদ্ধ দর্শনের সঙ্গে বিশ্বকে যুক্ত করার অবিরাম প্রয়াস চালিয়ে যান।
তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় দীর্ঘদিনের। আমি তাঁর আশীর্বাদধন্য। তিনি আমার ক্ষেত্রে একটি প্রেরণার উৎস। আজ তাঁকে সম্মানিত করার সৌভাগ্য হওয়ায় আমি অত্যন্ত খুশি। তিনি এতই প্রজ্ঞাবান যে, তাঁর জ্ঞানের কোনও তুলনা হয় না। আজ এই শুভ উদ্বোধন মঞ্চে উপস্থিত হয়ে তিনি মঞ্চের শোভা বৃদ্ধি করেছেন। সেজন্য আমি সংঘ নায়ক ডঃ ধম্মবীর্য’কে অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁকে আরেকবার প্রণাম জানাই।
আজ থেকে আগামী ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সমস্ত রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় ভারত সরকার, গোটা দেশে ‘গ্রাম উদয় থেকে ভারত উদয়’ অভিযান শুরু করবে। বাবাসাহেব আম্বেদকর যে স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার উদ্দেশ্যে আমাদের সংবিধান উপহার দিয়েছেন, মহাত্মা গান্ধী আমাদের যে গ্রাম স্বরাজ-এর ভাবনা দিয়ে গেছেন, সেসব স্বপ্ন ও ভাবনা আজও পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়নি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এতো বছরে গ্রাম জীবনে যে ধরনের পরিবর্তন আসা উচিৎ ছিল, তা আসেনি। ৫ থেকে ৫০টি বড় শহরের আর্থিক উন্নয়ন হলেই ভারতের উন্নয়ন সম্পূর্ণ হবে না। ৫ থেকে ৫০ জন শিল্পপতির মাধ্যমে ভারতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। ভারতের যথার্থ উন্নয়ন সম্ভব দীর্ঘ সময় ধরে একটি দীর্ঘস্থায়ী গ্রামোন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে। ভিত শক্ত না হলে উন্নয়নের ইমারত আকাশচুম্বী হবে না।
সেজন্য আপনারা দেখেছেন, এ বছর আমাদের বাজেট গ্রামোন্নয়নে সমর্পিত, কৃষকদের উন্নয়নে উৎসর্গীকৃত। দীর্ঘ সময় পর ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন শক্তি ও গতি প্রদানের চেষ্টা করা হয়েছে। আমি পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি, মহাত্মা গান্ধীর ভাবনা অনুসরণ করে যে স্বপ্ন বাবাসাহেব আম্বেদকর ভারতের সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, তাকে চরিতার্থ করার কাজ শুরু হয়ে গেছে। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে চলবে না। ভারতের উন্নয়নের সকল স্রোত গ্রামের দিকে ঘুরিয়ে দিতে হবে।
আমি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নিয়মিত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সরকারের সকল দপ্তরের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করছি। কয়েক মাস আগে ভারতে শক্তি উৎপাদনের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছিলাম, তখন জানতে পারলাম যে স্বাধীনতার প্রায় ৭০ বছর পরেও দেশের প্রায় ১৮ হাজার গ্রামে একটিও বিদ্যুতের খুঁটি পৌঁছয়নি। এতগুলি গ্রামের মানুষ আজও অষ্টাদশ শতাব্দীর অন্ধকারে ডুবে আছে।
তারপর উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দী পেরিয়ে একবিংশ শতাব্দীরও ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি আমি মেনে নিতে পারলাম না। আধিকারিকদের কাছে জানতে চাইলাম যে তাঁরা এই কাজ কতদিনে সম্পূর্ণ করতে পারবেন? তাঁরা বললেন, সাত বছরের আগে হবে না। আমি গ্রামের মানুষের দুর্দশার কথা বুঝিয়ে বলাতে তাঁরা কমপক্ষে ছ’বছর সময় চাইলেন। কিন্তু, আমি তাঁদের পেছনে পড়ে থাকলাম এবং গত বছর ১৫ আগস্ট লালকেল্লার প্রাকার থেকে ঘোষণা করলাম যে আগামী ১ হাজার দিনের মধ্যে ঐ ১৮ হাজার গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবো। ত্রিবর্ণ রঞ্জিত জাতীয় পতাকা’কে সাক্ষী রেখে আমার এই প্রতিশ্রুতি শুনে প্রশাসন ছুটতে শুরু করে। ৭০ বছরে যা হয়নি, তার জন্য সাত বছর সময় আমি দিতে পারবো না। রাজ্য সরকারগুলির সাহায্য নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলা এই বৈদ্যুতিকরণ পদ্ধতি অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে পরিচালনার জন্য আমি নিজের মোবাইলে GARV নামক অ্যাপ-এর উদ্বোধন করি। তার মাধ্যমে প্রতিদিন দেশের কোন্ গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটি পৌঁছলো, কোন্ গ্রামে তার সংযোগ করা হল, আর কোথায় বিদ্যুৎ পৌঁছলো তার রিপোর্ট আজ যে কেউ দেখতে পারে। আমাদের সরকার প্রতি মূহুর্তে জনসাধারণকে জবাবদিহি করতে প্রস্তুত। জনগণের প্রতিটি পয়সার হিসাব দিতে প্রস্তুত। সাধারণ মানুষের স্বপ্ন সাকার করার কাজকে ত্বরান্বিত করতে আমরা দ্রুততার সঙ্গে সব কাজ করতে চাই। ফলস্বরূপ, আজ স্বাধীনতার এত বছর পর বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে অসংখ্য গ্রামের মানুষ উৎসব পালন করছেন, সপ্তাহব্যাপী নাচ-গান চলছে।
বিদ্যুৎ সংযোগ একটি সেকেলে চাহিদা, অষ্টাদশ-উনবিংশ শতাব্দীর চাহিদা। আজকের বিশ্ব অপ্টিক্যাল ফাইবার এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়। গোটা বিশ্বের সকল তথ্য যাতে তাঁরা হাতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পেতে পারেন, সেজন্য আমরা দেশের আড়াই লক্ষ গ্রামে অপ্টিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে গ্রামগুলিতে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি দিতে চাই। আমাদের আগেও এই স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, কিন্তু কাউকে কাজ করতে দেখা যায়নি। আমি জানি, আড়াই লক্ষ গ্রামে অপ্টিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক বিছানো কতটা কঠিন কাজ। কিন্তু, কঠিন বলেই হাত গুটিয়ে বসে থাকবো? শুরু তো করতে হবে, একবার শুরু হলে ধীরে ধীরে গতি আসবে এবং এক সময়ে স্বপ্ন সফল হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বাবাসাহেব আম্বেদকরের মতো মনীষির প্রেরণা নিয়ে আমরা অবশ্যই গ্রামোন্নয়নে সাফল্য পাবো।
আমাদের দেশের কৃষকদের কোনও চাহিদা নেই। শুধু সময় মতো জল পেলেই তাঁরা সোনা ফলাতে পারেন। তাঁদের দক্ষতা আছে, সামর্থ্য আছে, পরিশ্রম করতেও তাঁরা পিছ পা নন। নিজের পকেট না ভরলেও অন্যকে পেট ভরে খাইয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট। সেজন্য আমি দেশের কৃষকদের সামনে একটি সংকল্প রেখেছি। ২০২২ সালের মধ্যে দেশের প্রত্যেক কৃষকের রোজগার দ্বিগুণ করতে হবে। দেশের বড় বড় বুদ্ধিমান, অভিজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, মোদীজী এটা খুব কঠিন কাজ। কঠিন তো আমিও জানি। সহজ হলে দেশের মানুষ আমার ওপর এই দায়িত্ব দিতেন না। আমার সৌভাগ্য যে, তাঁরা আমাকে এই দায়িত্ব সম্পাদনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উপযুক্ত ভেবেছেন।
আমি শ্রদ্ধেয় শিবরাজ সিং চৌহান মহোদয়’কে অভিনন্দন জানাই। তিনি মধ্যপ্রদেশের কৃষকদের আয় ২০২২ সালের মধ্যে দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করেছেন। কিভাবে কাজ শুরু করা হবে, কোন্ পদ্ধতিতে এগিয়ে যেতে হবে, সে সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত পরিকল্পনা করেছেন। আমি দেশের সকল রাজ্য সরকারকে আহ্বান জানাই যে, আপনারাও নিজেদের পদ্ধতি ভাবুন, আপনাদের কাছে যা আছে তার ভিত্তিতেই ভাবুন।
এই গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পারলে দেশও আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। গ্রামের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়লে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। মৌ এলাকার গ্রামগুলিতে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়লে তবেই ইন্দোর শহরের বাজার চাঙ্গা হবে। ভারতের আর্থিক চক্রের গতি বাড়াতে সবচেয়ে বড় শক্তিশালী ইঞ্জিন হল গ্রামীন অর্থনীতি। সেজন্য আমরা একেই উন্নয়নের চাবিকাঠি হিসেবে ধরে নিয়ে কাজ করা শুরু করেছি।
বাবাসাহেব আম্বেদকর বলতেন, শিক্ষিত হও, সংগঠিত হও, সংগ্রাম করো। পাশাপাশি, তাঁর স্বপ্ন ছিল, ভারত আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। সামাজিক ক্ষমতায়ন এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন পাশাপাশি চলতে থাকবে। তিনি সামাজিক সমতা, ন্যায়, আর্থিক সমৃদ্ধি, আধুনিক বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির প্রবক্তা ছিলেন। সেজন্য আমরা আজ থেকে ২৪ এপ্রিলের পঞ্চায়েত রাজ দিবস পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী দেশের প্রতিটি গ্রামে বাবাসাহেব আম্বেদকরের সামাজিক-আর্থিক উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার অভিযান শুরু করেছি।
আজ ভারত সরকারের রাজকোষ থেকে প্রতিটি গ্রামের উন্নয়নের জন্য ৭৫ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। কাজেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি কাজ করলে আমরা গ্রামোন্নয়নের ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবো।
আমাদের দেশ সংবিধান মেনে পরিচালিত হয়, আইন মেনে পরিচালিত হয়। গ্রাম পঞ্চায়েত পরিচালনার ক্ষেত্রেও সংবিধান ও আইন মেনে কত দ্রুত কাজ করা যায়, সে বিষয়ে প্রতিটি গ্রামের মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। আগামী ১০ দিন ভারত সরকার এই অভিযানের মাধ্যমে গ্রামের মানুষকে সচেতন করে তুলবে।
ইন্দোর জেলায় ইতিমধ্যেই যে উন্নয়নযজ্ঞ শুরু হয়েছে, সেজন্য আমি এখানকার জেলা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে অভিনন্দন জানাই। ইতিমধ্যেই গোটা জেলার মানুষ খোলামাঠে মলমূত্র ত্যাগ করা বন্ধ করেছে, এটা অনেক বড় সাফল্য। একবিংশ শতাব্দীতেও আমার মা-বোনেরা কেন খোলা মাঠে যেতে বাধ্য হবেন। ইন্দোর জেলার আধিকারিকগণ এবং নাগরিকদের এই সাফল্য বাবাসাহেব আম্বেদকরের প্রতি সর্বশ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধাঞ্জলি। গোটা দেশে আজ এই পরিবেশ তৈরি হয়েছে, প্রতিটি জেলা এখন খোলা মাঠে মলমূত্র ত্যাগ করা বন্ধ করতে চাইছে। সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে, পরস্পরকে দোষারোপ করে কোনও লাভ নেই। ‘গ্রাম উদয় থেকে ভারত উদয়’ অভিযানের এটাই মূলমন্ত্র।
আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা, অনেকে গত ছয় দশক ধরে নিজেদের গরিবের মসিহা হয়ে ওঠার ভান করেছেন, তাঁদের মুখে সর্বদা গরিবের কথা। কিন্তু তাঁরা বাস্তবে কি করেছেন, তার হিসাব দিলে আপনারা চমকে উঠবেন। আমি সেই হিসাব দিয়ে আমার সময় নষ্ট করতে চাই না। আমরা গরিব মানুষের জন্য বাস্তবেই কিছু করতে চাই। আপনারা দেখেছেন, মধ্যপ্রদেশে দরিদ্র, দলিত এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য আমরা তাদেরকে সামর্থ্য বৃদ্ধি করতে তাঁদের হাতে কিছু উপকরণ তুলে দিয়েছি। আমার দিব্যাঙ্গ অর্থাৎ প্রতিবন্ধী ভাই ও বোনদের জন্য Jaipur Foot মডেলের অভিযান শুরু হয়েছে। বাবাসাহেব আম্বেদকরের জন্মভূমিতে এই প্রকল্পের উদ্বোধন একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করবে।
ভাই ও বোনেরা, দেশের কোটি কোটি মানুষ ছোট ছোট মাটির বাড়িতে কিংবা বস্তি বাড়িতে কাঠের উনুন জ্বালিয়ে রান্না করেন। বিজ্ঞান বলে, কাঠের উনুনের ধোঁয়া একদিনে প্রায় ৪০০ সিগারেটের ধোঁয়ার সমান ক্ষতি করে। আপনারা কল্পনা করতে পারেন, প্রত্যেক মা ও তাঁর শিশুরা অজান্তেই কতটা পরিবেশ দূষণের শিকার। বছর খানেক আগে আমি এই সমস্যার সমাধানকল্পে দেশের সম্পন্ন মানুষদের কাছে তাঁদের গ্যাস সিলিন্ডারে ভর্তুকি প্রত্যাহারের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলাম। গত এক বছরে আমরা দেখেছি, প্রায় ৯০ লক্ষ পরিবার যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই মধ্যবিত্ত মানুষ, তাঁরা ভর্তুকি প্রত্যাহার করেছেন। ফলস্বরূপ, গত এক বছরে আমরা যত দরিদ্র মানুষকে গ্যাস সিলিন্ডার সংযোগ দিতে পেরেছি, স্বাধীনতার পর থেকে কোনও বছর সরকার ততো সংযোগ দিতে পারেনি। গত এক বছরে ১ কোটিরও বেশি গরিব পরিবারকে রান্নার গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে আমরা তাঁদের ধোঁয়া থেকে মুক্তি দিতে পেরেছি।আমরা কোনও ঢাক না বাজিয়ে চুপচাপ কাজ করে যাচ্ছিলাম। এই পাইলট প্রোজেক্টের সাফল্য আমার সাহস বাড়িয়েছে। আমাদের দেশে ২৫ কোটি পরিবার রয়েছে। এই ২৫ কোটি পরিবারে ১২৫ কোটি মানুষ থাকেন। আমরা এই সাফল্য থেকে এবারের বাজেটে ঘোষণা করেছি যে, আগামী তিন বছরে এই ২৫ কোটি পরিবারের মধ্যে যে ৫ কোটি পরিবার দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাস করেন, তাঁদের সকলের রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার পৌঁছে দেবো। আমরা দেশের গরিব মা-বোনদের স্বার্থে সেই অভিযানে নেমে পড়েছি।
দরিদ্র মানুষের কল্যাণ কিভাবে করা যায়? আমরা দেশের কোথাও সারদা চিট ফান্ডের কথা শুনেছি, অন্যত্র অন্য কোনও চিট ফান্ডের কথাও শুনেছি। দেশের মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে বড় বড় কোম্পানি বানিয়ে মানুষের কষ্টের পয়সা হরণ করে ওরা অদৃশ্য হয়ে যায়। গরিব মানুষ মেয়ের বিয়ের জন্য যে টাকা জমিয়েছিলেন বা অন্য কেউ অন্য কোনও কথা ভেবে সঞ্চয় করেছিলেন, তাঁদের সর্বস্বান্ত করে ওরা পালিয়ে যায়। এই ধরনের চিট ফান্ড এবং সুদখোর মহাজন এবং দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে আমরা ‘প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা’ শুরু করেছি। আমার সঙ্গে এরকম অনেকের পরিচয় হয়েছে, যাঁরা জন ধন অ্যাকাউন্ট খোলার ১৫ দিনের মধ্যেই কোনও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন আর সেই দুঃসময়ে জন ধন অ্যাকাউন্ট থেকে বিমার ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।
আমরা এভাবেই দরিদ্র্য মানুষের কল্যাণে বিশ্বাসী। ‘প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা’ কেবল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে দেশের অর্থ ব্যবস্থার মূল ধারার সঙ্গে যুক্ত-ই করেনি তা ভারত’কে আর্থিকভাবে সমৃদ্ধও করেছে। সেজন্য গোটা বিশ্বে আজ ভারতের আর্থিক উন্নয়নের জয়জয়কার হচ্ছে। বিশ্বের সকল আর্থিক মূল্যায়ন সংস্থা একবাক্যে বলছে যে, বিশ্বের বড় দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে আর্থিক উন্নয়ন হচ্ছে ভারতে। এর মূল কারণ হল –আমরা দেশের দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে চলার সংকল্প নিয়েছি। আমাদের সকল পরিকল্পনা ও প্রকল্পের কেন্দ্রে রয়েছে দরিদ্র মানুষের কল্যাণ।
আমি এখানে মুম্বাই থেকে এসেছি। আজ সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ছিল। বাবাসাহেব আম্বেদকর’কে খুব কম লোকই ভালোভাবে জানি। অধিকাংশই তাঁকে দলিতের মসিহা হিসেবে ভাবেন। কিন্তু, তিনি ছিলেন একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষ। ভারতের সমুদ্রসম্পদ এবং সমুদ্র পরিবহণ নিয়েও তাঁর অনেক ভাবনা ছিল। আজ আমি মুম্বাই-এ সামুদ্রিক শক্তি বিষয়ক একটি বড় আন্তর্জাতিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেছি। বাবাসাহেব আম্বেদকরের দূরদৃষ্টিতে সমুদ্রসম্পদ এবং সমুদ্র পরিবহণ সম্পর্কিত ভাবনা-চিন্তাকে সম্মান জানাতে আজকের দিনেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বাবাসাহেব আম্বেদকর যখন মন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনিই প্রথম দেশে সমুদ্রসম্পদ এবং সমুদ্র পরিবহণ সংক্রান্ত সংস্থার জন্ম দিয়েছিলেন। তাঁর সেই অবদানের কথা পরবর্তী সময়ে কেউ মনে রাখেননি। সমুদ্র উপকূলে বসবাসকারী লক্ষ-কোটি মৎস্যজীবীদের কর্মসংস্থান নিয়ে বাবাসাহেবের ভাবনাকেও আমরা বাস্তবায়িত করতে চাই। আজ আমি তার সূচনা করে এসেছি।
একটু আগেই আমার দুই পূর্ববর্তী বক্তা ‘পঞ্চতীর্থ’ নিয়ে বলছিলেন। অনেকে ভাবছেন মোদী এইসব কেন করছেন? এটা আমার বিশ্বাস এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরের সামাজিক একতা, সামাজিক ন্যায়ের মন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেক সরকারই ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু, বাবাসাহেব আম্বেদকরের মৃত্যুর ৬০ বছর পর ২৬, আলিপুর ঠিকানায় তাঁর স্মৃতিসৌধ গড়ে তোলার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। এতদিন কি আপনাদের কেউ বাধা দিয়েছিল যে আজ আমি এটা করায় আপনারা এতো বিব্রত? আপনারা চিন্তা করবেন না, এই সামাজিক আন্দোলন আগামী প্রজন্মকে প্রেরণা যোগাবে। আর সেজন্যই আমার ভাই ও বোনেরা, আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলছি, যে মানুষটির মা তাঁর ছোটবেলায় প্রতিবেশীদের বাড়িতে বাসন মাজতেন, ঠিকা কাজ করতেন, তাঁর ছেলে আজ প্রধানমন্ত্রী হয়েছে, এর কৃতিত্ব যদি কাউকে দিতে হয়, তা হলে বাবাসাহেব আম্বেদকর’কে দিতে হবে, ভারতের সংবিধানকেও দিতে হবে। সেজন্যই এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। কোনও রকম ভোট ব্যাঙ্কের দিকে না তাকিয়ে, রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে আমাদের সকলকেই এরকম মহাপুরুষদের শ্রদ্ধা জানাতে হবে।
বাবাসাহেব আম্বেদকর শৈশব ও কৈশোরে, তাঁর শিক্ষালাভের সময়ে পদে পদে যত অপমান সহ্য করেছেন, নীলকন্ঠ হয়ে সেই অপমানের বিষকে ধারণ করেছেন কিন্তু সংবিধান রচনার সময়ে তিনি কোনও প্রতিশোধস্পৃহার বশবর্তী হননি। সেজন্যই তিনি মহাপুরুষ। কিন্তু, দেশের দুর্ভাগ্য যে, এহেন মহাপুরুষের মহত্বকে তথাকথিত ইতিহাসবিদরা আলোকিত করেননি। আমি গর্বিত যে, আজ থেকে গোটা দেশে ‘গ্রাম উদয় থেকে ভারত উদয়’ অভিযানের সূত্রপাত এই ভূমি থেকে হচ্ছে। এই অভিযান সামাজিক ন্যায় ও সমতাকে সুনিশ্চিত করবে।
আমি প্রতিটি গ্রামকে বলবো যে, আপনারাও পবিত্র মনে নিজের গ্রামের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের সংকল্প গ্রহণ করুন। আপনারা যদি সেই সংকল্প বাস্তবায়িত করতে পারেন, তা হলেই বাবাসাহেব আম্বেদকর’কে তাঁর ১২৫তম জন্মজয়ন্তীতে সবচেয়ে ভালো শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। সরকার প্রতিটি গ্রামকে যত টাকা দিচ্ছে, তার প্রত্যেক পয়সার সদ্ব্যবহার করুন, স্বচ্ছতা বজায় রাখুন।
আমি আরেকবার মধ্যপ্রদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানাই। আর এখানে যাঁরা বিপুল সংখ্যায় এসে আমাদের আশীর্বাদ দিয়েছেন, তাঁদেরকেও অভিনন্দন জানাই।
জয় ভীম, জয় ভীম। দু’হাত উপরে তুলে আমার সঙ্গে সমস্বরে বলুন – জয় ভীম, জয় ভীম, জয় ভীম, জয় ভীম।
PG /SB/SB/S
It is my privilege that I am here, on the birth anniversary of Dr. Ambedkar. I bow to this land: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) April 14, 2016
I want to compliment the MP govt. Work here began during Patwa ji's time & carried forward by @ChouhanShivraj: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 14, 2016
Dr. Ambedkar fought against injustice in society. His was a fight for equality and dignity: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) April 14, 2016
From 14 to 24 April 'Gram Uday Se Bharat Uday' movement is being held: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) April 14, 2016
As far as developing our villages is concerned, a lot has to be done. Economic growth can't only happen in few cities: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 14, 2016
This year's budget is fully dedicated to the villages and the farmers: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) April 14, 2016
All our development initiatives have to be centred around rural development: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) April 14, 2016
Our efforts towards rural electrification is being done very transparently. Garv App gives you real time progress: PM #GarvSe @PiyushGoyal
— PMO India (@PMOIndia) April 14, 2016
Digital connectivity is essential in our villages. This is difficult to do, yes, but we need to make a start somewhere: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 14, 2016
Give our farmers adequate water and see the wonders our farmer can do: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) April 14, 2016
We want farmer incomes to double. Purchasing power of people in rural India has to increase & this will power India's economy: PM
— PMO India (@PMOIndia) April 14, 2016
Panchayati Raj institutions have to be made stronger and more vibrant: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) April 14, 2016
So many people voluntarily decided to give up their gas subsidy. Due to this the poor of India benefitted: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 14, 2016
Jan Dhan Yojana did not only mean opening bank accounts. It got so many people in the economic mainstream: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 14, 2016
I salute Mhow, the land where Dr. Ambedkar was born. Extremely honoured to visit his birth place. pic.twitter.com/eJbMbcXF7z
— Narendra Modi (@narendramodi) April 14, 2016
'Gram Uday Se Bharat Uday' began with a collective determination to take this initiative to every village & make it a grand mass movement.
— Narendra Modi (@narendramodi) April 14, 2016
Govt's every policy, from rural electrification, financial inclusion, social security to housing, is centred around development of villages.
— Narendra Modi (@narendramodi) April 14, 2016
Be it digital connectivity or doubling farmers income, scale of our initiatives is huge & we are confident to achieve the desired results.
— Narendra Modi (@narendramodi) April 14, 2016
Best tribute we can give to Dr. Ambedkar is to transform our villages, which is the sole means to #TransformingIndia https://t.co/Mf4MXBIIde
— Narendra Modi (@narendramodi) April 14, 2016