Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

নয়াদিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী এবং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের যৌথ সম্মেলন উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

নয়াদিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী এবং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের যৌথ সম্মেলন উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


উপস্থিত সকল মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী এবং মাননীয় বিচারপতিগণ প্রতি বছরই আমাদের এই ধরনের একটি যৌথ সম্মেলন হয়। এবার অনেক বিস্তৃত বিষয়সূচি রয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে যে, গত দু’দিন ধরে বিচারপতিরা অনেক আলাপ-আলোচনা করেছেন, অনেক ভালো পরামর্শ এসেছে, আর আমাকে এও বলা হয়েছে যে, এ সমস্ত বিষয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাও চলছে। সেজন্য আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতি তিরথ সিং ঠাকুর এবং তাঁর দলকে অন্তর থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই। দেশকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এই সময়োপযোগী সার্থক প্রয়াসকে সাধুবাদ জানাই।

বিগত দিনে ভোপালে একটি (Retreat) (নিভৃতে বিশ্রাম)-এর অনুষ্ঠান হয়েছে। গতকাল এ বিষয়ে ঠাকুর সাহেবের কাছে শুনে আমি খুব খুশি হয়েছি। এই আইনি দৃষ্টিভঙ্গীর বাইরেও একটি বিশাল দেশ রয়েছে, তাকেও জানাতে হবে, বুঝতে হবে, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী সম্পর্কেও অবহিত হতে হবে, কী কী সমস্যা এবং সম্ভাবনা রয়েছে! সেখানে দেশের গণ্যমান্য বিশেষজ্ঞরা এসেছিলেন। বিচারকরা তাঁদের কথা শুনছিলেন। প্রশ্নোত্তরপর্বও ছিল। আমি এই ঐতিহ্যকে খুব ভালো মনে করি। ভবিষ্যতে বিভিন্ন রাজ্যগুলিতে এ ধরনের অনুষ্ঠান হতে পারে। কোথাও কোথাও হয়তো আগে হতো, তারপর অনেক অনেক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এ ধরনের অনুষ্ঠান বিচারপতিদের প্রেরণা জোগাতে পারে।

এই সম্মেলনে অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সেজন্য আমি কোনও বিষয়ের গভীরে যাচ্ছি না। কিন্তু এটা সত্যি কথা যে, ভারতের সাধারণ মানুষ আজও দেশের বিচার ব্যবস্থাকে ভরসা করেন। আস্থা রাখেন, শ্রদ্ধা করেন। এটা আমাদের দেশের একটি অনেক বড় সম্পদ। এই আস্থাকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবারই। যাতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে না পড়েন। তাঁদের অন্তত একটা যাওয়ার জায়গা থাকে। এক্ষেত্রে সরকারেরও একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে। আর আমার বিশ্বাস, বর্তমান সরকার তার দায়িত্ব নির্বাহে কোনও ক্ষেত্রেই পিছিয়ে থাকবে না।

আজ ঠাকুর সাহেব ঠিকই বলেছেন, আমি আইনের দুনিয়ার মানুষ নই, সুপ্রিম কোর্টের জন্ম কবে, তার ইতিহাস কী – এসব সম্পর্কে অনেক অনেক কথা আজ শুনে জানলাম। আমি তাঁদের যন্ত্রণার কথা বুঝি। ১৯৮৭’র পরে অনেকটা সময় চলে গিয়েছে। এতদিনেও এই সমস্যার সমাধান কেন হয়নি সে সম্পর্কে আমি বিস্তারিত জানি না, নিশ্চয়ই কিছু কারণ ছিল, সীমাবদ্ধতা ছিল। তাই বলে থেমে থাকলে চলবে না। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আমাদের ভালো কাজ করতে হবে। ‘যব জাগো, তব সুবহ্‌’, অর্থাৎ একেবারে না হওয়ার চাইতে দেরীতে হওয়া ভালো। জমে থাকা বোঝা হালকা করতে করতে কিভাবে এগিয়ে যাব!

ঠাকুর সাহেব বিচারপতিদের সংখ্যাল্পতার কথা বলেছেন। এত মামলা অমীমাংসিত থেকে যাওয়ার এটাও একটা বড় কারণ। কিছু সামাজিক পরিবর্তনও এর জন্য দায়ী। আগে গ্রামে একজন কবিরাজ থাকলেই গোটা গ্রামের মানুষ সুস্থ থাকতেন। কিন্তু এখন আলাদা আলাদা চোখের ডাক্তার, কানের ডাক্তার, হৃদরোগের বিশেষজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও রোগীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। এসব বিষয়ে সবাইকে গভীরভাবে ভাবায়।

সরকার যখন কোনও আইন প্রণয়ন করে, তখন সংশ্লিষ্ট সকলেরই সতর্ক থাকা উচিৎ। আইন রচনা থেকে শুরু করে পেশ করা পর্যন্ত, পেশ করার পর ওই বয়ান ভালোভাবে পড়ে সরকার ও বিরোধিদের বিতর্ক নিয়ে প্রয়োজনে সংশোধনী আনা ও অবশেষে আইন প্রণয়ন। আদালতে সেই আইনকে কিভাবে প্রয়োগ করা হবে, সেক্ষেত্রেও দক্ষতার প্রয়োজন। আমরা একটি কমিটি গঠন করে পর্যালোচনা করে দেখেছি যে, এমনকি ১৫০০ সাল, ১৭০০ সালের আইনও রয়েছে, ১৮০০ সালে, ১৮৫০, ১৮৮০, ১৮৯০-এর আইন তো বেশ কিছু রয়েছে, যেগুলি প্রত্যেকটাই এখন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। এবার কেউ যদি কোনও শুভ উদ্যোগকে থামিয়ে দিতে চায়, সে ঐ ২০০ বছর পুরোনো আইন দেখিয়ে স্থগিতাদেশ হাসিল করে নেয়। বিচারপতিদের তখন ঐ উদ্যোগটি কতটা যুগোপযোগী এবং সমাজের কতটা কল্যাণসাধন করবে, তা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু, মাঝখানে অনেক সময় পেরিয়ে যায়। কখনও তো বছরের পর বছর পেরিয়ে যায়। নতুন উদ্যোগটিও থেমে থাকে। সেজন্য ঐ উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গভীরভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে সেসব অপ্রাসঙ্গিক আইন বাতিল করে আইন ব্যবস্থাকে সংস্কারের কাজ করছে। আমি যতটা সময় পেয়েছি, সেই সময়ের মধ্যে যতটা সম্ভব এই প্রক্রিয়া জারি থাকবে। আমরা এই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত সম্পাদনের চেষ্টা চালাচ্ছি।

বিচারকদের কাজের বোঝা কমানো আর জমে থাকা অসংখ্য মামলা কেমন করে আরও দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়, সে সম্পর্কে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের মিলিত গোষ্ঠী কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে। আপনি যে সমস্যার কথা বললেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতেই হবে। আমি এমন মানুষ নই যে শুধু শুনে চলে যাব। আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে আপনাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব। সফল হবো কি হবো না সেটা পরের কথা। আমি চেষ্টা করতে চাই। আমি এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ না হলেও আপনাদের মতো অভিজ্ঞ মানুষের পাশে দাঁড়াব। এতে আমারই লাভ হবে। লোকসানও হতে পারে। কিন্তু আপনাদের সাহায্য পেলে, আমরা অবশ্যই সমাধানের পথ খুঁজে বের করে ফেলতে পারবো।

আমি গত ১৫ বছর ধরে এই সম্মেলনে আসছি। গোড়া থেকেই সামনের সারিতে বসে মনোযোগ দিয়ে সকলের কথা শুনেছি। তারপর, মঞ্চে বসার সুযোগ হলে মন খুলে কথাও বলেছি। নিজের মতামত দিয়েছি। তখন এতো ক্যামেরা ইত্যাদির সম্মুখীন হতে হতো না। আমি একবার আদালতের কাজের সময় বাড়ানোর প্রস্তাব রেখেছিলাম, ছুটি কমানোর আর্জি রেখেছিলাম। বক্তৃতার পর দুপুরে খাওয়ার সময় বেশ কয়েকজন বিচারক আমাকে ঘিরে ধরে বলেন, আপনি নিজেকে কী ভাবেন? সেদিন থেকে আমি এখানে মন খুলে কথা বলতে ভয় পাই। কিন্তু আমি মনে করি, যাঁদের ওপর যে দায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছে, তাঁরা সকলেই নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের দরিদ্র জনসাধারণের কল্যাণে নিয়োজিত, এই আস্থা মানুষের মনে যতটা সঞ্চারিত করা যায় – সে চেষ্টা করে যেতে হবে! আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের বিচার ব্যবস্থা সেই লক্ষ্যে সক্রিয় ও সজাগ। আমরা একসঙ্গে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই আপনাদের সমস্যাগুলির সমাধান করতে পারবো।

উপস্থিত সকল মুখ্যমন্ত্রীরাও সব কথা শুনেছেন। তাঁরাও একই রকম দায়িত্ব নিয়ে সরকার পরিচালনা করেন। তাঁদেরও জনতার দরবারে জবাবদিহি করতে হয়। প্রতি বছরই কোনও না কোনও নির্বাচন থাকে, আর তারপর পাঁচ বছরের মাথায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে তো জবাবদিহি করতেই হয়। আবার নির্বাচনের সময় ৪০-৫০ দিন আদর্শ আচরণবিধিমানতে হয় বলে উন্নয়নের কাজকর্ম থমকে থাকে। সেজন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দাবি উঠছে লোকসভা নির্বাচন ও সকল রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন কিভাবে একসঙ্গে করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে। দেখা যাক, আমরা সকলে একসঙ্গে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কোনও পথ বের করতে পারি কি না।

আমি যখন সকলের কাছে ক্ষমা চাইবো, এখুনি আমাকে ঝাড়খন্ড রওনা হতে হবে। আমি আপনাদের সবাইকে আরেকবার স্বাগত জানাই, কৃতজ্ঞতা জানাই, আশা করি, আজ সারা দিন শ্রদ্ধেয় মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নতুন কিছু পথ আবিষ্কৃত হবে।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PB/SB/SB/S