Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

নতুন দিল্লিতে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপক্ষের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য


মহামান্য রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজপক্ষ,

শ্রীলঙ্কা ও ভারতের উচ্চ-পদস্থ আধিকারিকগণ,

বন্ধুগণ,

আয়ুবোওন।

ওনক্কম।

নমস্কার।

রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজপক্ষ এবং তাঁর সঙ্গে আসা প্রতিনিধি দলকে ভারতে স্বাগত জানিয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। নির্বাচনে সংখ্যাধিক্যের ভোটে জয়লাভের জন্য আমি রাষ্ট্রপতি মহোদয়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। নির্বাচন প্রক্রিয়া সুচারু রূপে সম্পন্ন হয়েছে, সেজন্য আমি শ্রীলঙ্কার জনগণকে অভিনন্দন জানাই। শ্রীলঙ্কায় গণতন্ত্র শক্তিশালী হওয়া ও  পরিপক্কতা অত্যন্ত গর্ব ও খুশির বিষয়। এটা আমাদের জন্য সম্মানের বিষয় যে, রাষ্ট্রপতি রাজাপক্ষ তাঁর প্রথম বিদেশ যাত্রার জন্য ভারতকে বেছে নিয়েছেন এবং পদাসীন হওয়ার দু’সপ্তাহের মধ্যেই ভারতে আমরা তাঁকে সম্মান জানানোর সুযোগ পেয়েছি। এটি ভারত এবং শ্রীলঙ্কার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নিবিড়তা এবং গতিশীলতার প্রতীক। এটি এই সংকেতও দেয় যে, উভয় দেশ পারস্পরিক সম্পর্ককে কতটা গুরুত্ব দেয়। উভয় দেশের উন্নয়ন এবং আমাদের এই গোটা অঞ্চলে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুরক্ষার জন্য আমরা রাষ্ট্রপতি রাজাপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে তৎপর।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি,

সংখ্যা গরিষ্ঠের ভোটে আপনার জয়লাভ এক সংগঠিত মজবুত এবং সমৃদ্ধ শ্রীলঙ্কার জন্য শ্রীলঙ্কাবাসীদের আকাঙ্খাকে পরিস্ফুট করে। এক্ষেত্রে ভারতের শুভেচ্ছা ও সহযোগিতা সর্বদাই শ্রীলঙ্কার সঙ্গে থাকবে। একটি স্থির, সুরক্ষিত ও সমৃদ্ধ শ্রীলঙ্কা শুধু ভারতের স্বার্থে নয়, সম্পূর্ণ ভারত মহাসাগর ক্ষেত্রের স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি।

বন্ধুগণ,

ভারত, শ্রীলঙ্কার নিকটতম প্রতিবেশী এবং নির্ভরযোগ্য বন্ধু। উভয় দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের শক্তিশালী ভিত্তি হ’ল – আমাদের ঐতিহাসিক, জাতিগত, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক এবং সভ্যতার সম্পর্ক।

আমার সরকারের ‘প্রতিবেশী সর্বাগ্রে’ নীতি এবং ‘সাগর ডকট্রিন’ অনুসরণ করে আমরা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিই। আমাদের উভয় দেশের মধ্যে সুরক্ষা ও উন্নয়ন পরস্পরের পরিপূরক। সেজন্য এটাই স্বাভাবিক যে আমরা পরস্পরের সুরক্ষা ও সংবেদনশীলতার প্রতি সচেতন থাকব।

আজ রাষ্ট্রপতিজীর সঙ্গে আমার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, উভয় দেশের মধ্যে বহুমুখী সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের সম্পর্ককে আরও নিবিড় করবো। আমি রাষ্ট্রপতিজীকে শ্রীলঙ্কার উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতায় ভারতের দায়বদ্ধতা সম্পর্কে আশ্বস্ত করেছি। আগের মতোই এই সহযোগিতা শ্রীলঙ্কার জনগণের অগ্রাধিকার অনুসারে হবে। ৪০০ মিলিয়ন ডলারের একটি নতুন লাইন অফ ক্রেডিটের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় পরিকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এর মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার অর্থ ব্যবস্থা লাভবান হবে। আর এই লাইন অফ ক্রেডিট উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক লাভের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে ত্বরান্বিত করবে। আমি আনন্দিত যে, ভারতীয় গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের অন্তর্গত শ্রীলঙ্কার উত্তর ও পূর্ব প্রান্তে অভ্যন্তরীণ বিস্থাপিত মানুষদের জন্য ৪৬ হাজার গৃহ নির্মিত হয়েছে। আপ-কান্ট্রি রিজিয়নে ভারতীয় বংশোদ্ভূত তামিলদের জন্য ১৪ হাজার গৃহ নির্মাণের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। আমি এজন্য অত্যন্ত আনন্দিত যে, আমরা শ্রীলঙ্কায় সৌর প্রকল্পের জন্য সর্বপ্রথম ঘোষিত ১০০ মিলিয়ন ডলার ক্রেডিট লাইনকে দ্রুত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সহমত হয়েছি। ভারতের উদ্যোগে শ্রীলঙ্কায় শিক্ষা এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে অনুদান-ভিত্তিক জারি হওয়া ২০টি সমষ্ঠি উন্নয়ন প্রকল্প ও অন্যান্য জনগণ-কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলি নিয়েও রাষ্ট্রপতিজীর খুব ভালো আলোচনা হয়েছে।

বন্ধুগণ,

ভারত সর্বদাই সমস্ত রকমভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করেছে। সীমান্ত পারের সন্ত্রাস সহ অন্যান্য সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমুদায়ের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে। এ বছর ইস্টারের সুযোগে শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসবাদীরা সমগ্র মানবজাতির বৈচিত্র্য এবং পাশাপাশি বসবাস করা মূল্যবান ঐতিহ্যে নৃশংস হামলা করেছে। সন্ত্রাসবাদী ও উগ্রপন্থী শক্তিগুলির বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার লড়াইয়ে ভারতের অটল সমর্থন ব্যক্ত করতে ভারতে নির্বাচনের পরই আমি শ্রীলঙ্কা গিয়েছিলাম। পারস্পরিক সুরক্ষার স্বার্থে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করতে আমি রাষ্ট্রপতি রাজাপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। প্রধান ভারতীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিতে শ্রীলঙ্কার পুলিশ আধিকারিকদের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আগে থেকেই চলছে। সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কাকে ৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ লাইন অফ ক্রেডিট ঘোষণা করে আমি অত্যন্ত আনন্দ অনুভব করছি।

বন্ধুগণ,

মৎস্যজীবীদের জীবিকাকে প্রভাবিত করবে এমন অনেক বিষয় নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি। এক্ষেত্রে আমরা সৃষ্টিশীল এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সহমত।

বন্ধুগণ,

আমরা শ্রীলঙ্কায় জাতিগত পুনর্মিলনের ভাবনা নিয়েও অনেক আলোচনা করেছি। রাষ্ট্রপতি রাজাপক্ষ জাতিগত সৌহার্দ্য নিয়ে তাঁর সম্প্রীতিমূলক রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ সম্পর্কেও আমাকে বলেছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, শ্রীলঙ্কা সরকার তামিলদের সাম্য, ন্যায়, শান্তি ও সম্মানের আকাঙ্খা বাস্তবায়নে জাতিগত পুনর্মিলনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে ১৩তম সংশোধনী জারি করাও সামিল রয়েছে। উত্তর ও পূর্ব সমেত সমগ্র শ্রীলঙ্কার উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারত এক বিশ্বস্ত অংশীদার হিসাবে কাজ করে যাবে।

বন্ধুগণ,

আমি আরেকবার রাষ্ট্রপতি রাজাপক্ষকে ভারতে স্বাগত জানাই। তাঁর এই সফরের মাধ্যমে আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও নিবিড় হবে আমাদের সহযোগিতা উভয় দেশের উন্নয়ন এবং এই অঞ্চলে সমৃদ্ধিকে উৎসাহিত করবে।

বোহোমা – স্থুতি।

নন্দ্রি।

ধন্যবাদ।

CG/SB/SB…