Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

মহারাষ্ট্রের খরা ও জলসঙ্কট পরিস্থিতির মোকাবিলায় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হলেন প্রধানমন্ত্রী

মহারাষ্ট্রের খরা ও জলসঙ্কট পরিস্থিতির মোকাবিলায় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হলেন প্রধানমন্ত্রী


মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা ও জলসঙ্কট পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার, এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে তিনি ঐ রাজ্যের খরা পরিস্থিতির বিভিন্ন দিকগুলি নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কেন্দ্র ও রাজ্যস্তরের পদস্থ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

পর্যালোচনার সূত্রপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র, রাজ্য, স্থানীয় সরকারি সংস্থা, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং নাগরিক–সকল পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে খরাপরিস্থিতির মোকাবিলায় আমাদের কাজ করে যেতে হবে। খরা রোধে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব সে সম্পর্কে প্রস্তাব পেশ করারও আহ্বান জানান তিনি।

জলের সুদক্ষ ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আখ চাষে আধুনিক সেচব্যবস্থা রূপায়িত হলে আখ এবং তা থেকে উৎপাদিত চিনির গুণমান আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। আগামী তিন বছরের মধ্যে মহারাষ্ট্রের ১০০ শতাংশ আখ চাষের ক্ষেত্রে দক্ষ সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বলে বৈঠকে জানান শ্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ।

জল সংরক্ষণে প্রাচীন ও আধুনিক পদ্ধতির সমন্বয়ে এক নতুন ব্যবস্থা উদ্ভাবনের ওপর বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর ফলে জল সংরক্ষণ ও মজুত করার ব্যবস্থা আরও উন্নত হয়ে উঠতে পারে। জল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ছত্রপতি শিবাজী যে সমস্ত পদ্ধতির আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন তা থেকে আমাদের অনেক কিছুই শিক্ষণীয় রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যের বিভিন্ন জলাশয়ের পুনরুদ্ধারে তাঁর রাজ্য বিশেষভাবে উদ্যোগ নিয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’ রূপায়ণের লক্ষ্যে তাঁর রাজ্যে প্রাথমিক পর্বে কাজকর্মের অগ্রগতি বেশ সন্তোষজনক বলে জানান তিনি।

শহরাঞ্চলে তরল ও কঠিন বর্জ্যের ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে সন্নিহিত গ্রামগুলিতে জল ও জৈব সারের যোগান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

রাজ্যের কৃষি ব্যবস্থাকে জলবায়ু-অনুকূল করে তোলার ওপর তাঁর রাজ্য বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন শ্রী ফড়নবিশ। বিশ্বব্যাঙ্কের ঋণ সহায়তায় কৃষির আধুনিকীকরণের একটি প্রস্তাবওপেশ করা হয়েছে রাজ্যের পক্ষ থেকে। কৃষিকাজে জলের যোগান যাতে কোনভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যে কৃষির আধুনিকীকরণে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন এদিনের বৈঠকে। এই প্রস্তাবটি বিশ্বব্যাঙ্কের কাছে সুপারিশ সহ পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানান মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী।

জল সংরক্ষণ ও মজুতের লক্ষ্যে ‘জল যুক্ত শিবার অভিযান’-এর অগ্রগতি সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন শ্রী ফড়নবিশ। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৫১,৫০০টি পুকুর ও জলাশয়কে কৃষিকাজে ব্যবহার করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কৃষকদের কাছ থেকে আশাব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া গেলে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

মারাঠওয়াড়া এবং বিদর্ভ অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্পগুলির কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে তাঁর রাজ্য যে সমস্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তার একটি প্রামাণ্য চিত্র বৈঠকে তুলে ধরেন শ্রী ফড়নবিশ। প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সহায়তার আওতায় আরও বহু সংখ্যক কৃষককে নিয়ে আসা হচ্ছে বলেও প্রসঙ্গত উল্লেখ করেন তিনি।

কৃষকদের আয় ও উপার্জন দ্বিগুণ করে তোলা এবং মহারাষ্ট্রকে খরামুক্ত একটি রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ও পদক্ষেপের কথাও বৈঠকে বিবৃত করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কর্মপ্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শস্যের বৈচিত্র্যকরণ, মূল্য সংযোজন এবং কৃষকদের আয় ও উপার্জন বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন যে এই লক্ষ্যে দুগ্ধ উৎপাদন, মৎস্যচাষ, মৌ ও হাঁস-মুরগি পালন সহ বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির রূপায়ণ প্রয়োজন।

PG/SKD/DM/S