পিএমইন্ডিয়া

আমার মন্ত্রিসভার সহযোগী শ্রী রাজনাথ সিং মহোদয়, শ্রী গজেন্দ্র শেখাওয়াত, অন্যান্য মাননীয় ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ।
সারা দেশে অনেক কমন সার্ভিস সেন্টারে এসে জড়ো হওয়া হাজার হাজার মানুষ, বিশেষ করে অসংখ্য গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্যবৃন্দ যাঁরা আমাদের এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।
তাছাড়া মানালী থেকে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছেন হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী জয়রাম ঠাকুর, বনমন্ত্রী শ্রী গোবিন্দ সিংহ ঠাকুর, সাংসদ শ্রী রামস্বরূপ শর্মাও প্রযুক্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচিতে সামিল হয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে অটলজির প্রিয় গ্রাম থেকেও অনেকে এসে উপস্থিত হয়েছেন। আমি আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাই, অভিনন্দন জানাই।
আজ এই মঞ্চ থেকে সবার আগে দেশের মানুষে ও বিশ্ববাসীকে বড়দিন উৎসবের অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই – মেরি ক্রিসমাস!!!
আজ ভারতের দু’জন রত্ন আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় অটলজি এবং মহামতী মদনমোহন মালব্যজিরও জন্মদিবস আমি তাঁদের প্রণাম জানাই, দেশবাসীর পক্ষ থেকে তাঁদের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করছি।
আমাকে বলা হয়েছে যে, প্রীনি-তে আজ অটলজির স্মৃতিতে যজ্ঞানুষ্ঠান হয়েছে, অন্যান্য অনেক কর্মসূচিও পালিত হয়েছে।
বন্ধুগণ,
আজ দেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বড় প্রকল্পের নাম অটলজির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে।
হিমাচল প্রদেশকে লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে যুক্ত করেছে যে সুড়ঙ্গ, মানালীকে লেহ-র সঙ্গে যুক্ত করেছে যে রোটাং সুড়ঙ্গ, সেটি এখন ‘অটল টানেল’ নামে পরিচিত হবে।
হিমাচলের জনগণ, প্রীনির জনগণের প্রতি অটলজির জন্মদিনে সরকারের পক্ষ থেকে এটি একটি ছোট্ট উপহার।
এই অটলজি এই সুড়ঙ্গের গুরুত্ব অনুভব করে এটি নির্মাণের পথ প্রশস্ত করেছিলেন।
অটলজির নামে এই সুড়ঙ্গের নামকরণ, হিমাচলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং অটলজির প্রতি আপনাদের সকলের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক।
বন্ধুগণ,
জল সমস্যা নিয়ে ভাবনাচিন্তা অটলজির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এনিয়ে তাঁর প্রাণের টান ছিল। তাঁর জল বিষয়ক দূরদৃষ্টি আমাদের আজও প্রেরণা যোগায়।
অটল জল যোজনা কিংবা জল জীবন মিশন সংক্রান্ত নীতি-নির্দেশিকা, আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে দেশের প্রত্যেক বাড়িতে জল পৌঁছে দেওয়ার সঙ্কল্প সিদ্ধ করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বন্ধুগণ,
এই জলই তো বাড়ি-ঘর, খেত-খামার এবং শিল্পোদ্যোগ – সবকিছুকে প্রভাবিত করে। আর আমাদের দেশে জলের উৎসগুলির কী অবস্থা – তা কারোর কাছে লুকনো নেই।
এই জল সঙ্কট একটি পরিবাররূপে, একজন নাগরিক রূপে আমাদের জন্য চিন্তাজনক তো বটেই, একটি দেশ রূপেও আমাদের উন্নয়নকে প্রভাবিত করে।
নতুন ভারতকে আমাদের জলসঙ্কটের প্রত্যেক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তৈরি করতে হবে।
সেজন্য একসঙ্গে পাঁচটি স্তরে কাজ করছি।
প্রথম – জল সংক্রান্ত সমস্ত বিভাগের লালফিতের ফাঁস আমরা দূর করেছি।
দ্বিতীয় – ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে আমাদের প্রত্যেক ক্ষেত্রে বাস্তবিক পরিস্থিতি দেখে প্রকল্পগুলির স্বরূপ নির্ধারণে জোর দিয়েছি।
তৃতীয় – যতটা জল পাওয়া যায়, তার যথাযথ সংরক্ষণ এবং বিতরণে অগ্রাধিকার।
চতুর্থ – জলের প্রত্যেকটি বিন্দুর যথাযথ ব্যবহার, জলের পুনর্ব্যবহার সংক্রান্ত প্রকল্পগুলিকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চম – সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল সচেতনতা এবং গণ-অংশীদারিত্ব।
বন্ধুগণ,
নির্বাচনের আগে আমরা যখন জল সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়কে একত্রিত করে জলশক্তি মন্ত্রক গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তখন অনেকের মনে হয়েছিল যে এটা আবার কিরকম প্রতিশ্রুতি। কিন্তু অনেক কম মানুষই এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে গুরুত্ব দিয়ে ভেবেছেন।
বন্ধুগণ,
অনেক বছর ধরে আমাদের দেশে জল সংক্রান্ত বিষয় উৎস, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে কাজ করার জন্যই আলাদা আলাদা বিভাগ এবং মন্ত্রক ছিল। অর্থাৎ, আমি যাকে ‘সিলোস’ বলি, সেই লালফিতের ফাঁস বা দীর্ঘসূত্রিতার এটা ছিল উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
সেজন্য কোথাও রাজ্য সরকার, কোথাও কেন্দ্রীয় সরকার, কখনও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক, বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে লড়াই চলত। কোনো না কোনো সমস্যায় কাজ বিলম্বিত হত।
এর ফলে লোকসান হয়েছে এটাই যে জলের মতো প্রয়োজনীয় বিষয়কে যে সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেখা উচিৎ ছিল, তা পূর্ববর্তী সরকারগুলির শাসনকালে দেখা সম্ভব হয়নি।
আমরা জলশক্তি মন্ত্রক গঠন করে জল সংক্রান্ত বিষয়গুলিকে এই বিভাজিত দৃষ্টিকোণ থেকে সার্বিক দৃষ্টিকোণে পরিবর্তিত করার ক্ষেত্রে জোর দিয়েছি।
এবারের বর্ষায় আমারা দেখেছি যে সমাজের পক্ষ থেকে, জলশক্তি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কত ব্যাপক প্রচেষ্টা হয়েছে।
বন্ধুগণ,
যে আঞ্চলিক বৈচিত্র্যের কথা আমি বলেছি, তা জল সংক্রান্ত প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে তো বলা হয় যে প্রত্যেক ক্রোশে জল বদলে যায়।
আর যে দেশে এত বৈচিত্র্য, এত বিস্তৃতি, সেখানে জল সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের প্রত্যেক অঞ্চলের প্রয়োজনীয়তাকে লক্ষ্য রেখে এগিয়ে যেতে হবে।
এই ভাবনাই অটল জল যোজনার ভিত্তি প্রস্তুত করেছে।
অর্থাৎ, একদিকে জল জীবন মিশন, যা প্রত্যেক বাড়িতে পাইপের মাধ্যমে জল পৌঁছনোর কাজ করবে, আর অন্যদিকে অটল জল যোজনা, যা সেই অঞ্চলগুলিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখবে যেখানে ভূগর্ভস্থ জলস্তর অনেক নিচে।
এই প্রকল্প মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, কর্ণাটক, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ এবং গুজরাট – এই সাতটি রাজ্যের ভূগর্ভস্থ জলস্তর ওপরে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক হবে।
এই সাতটি রাজ্যের ৭৮টি জেলায় ৮,৩০০-রও বেশি গ্রাম পঞ্চায়েতে ভূগর্ভস্থ জলস্তর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। ঐ অঞ্চলগুলির সাধারণ মানুষকে এর খেসারত দিতে হচ্ছে, এই সময় এই অনুষ্ঠানে আমাদের সঙ্গে যাঁরা সরাসরি যুক্ত রয়েছেন তাঁরা এ ব্যাপারে ভালোই জানেন। এই অঞ্চলগুলির কৃষক, পশুপালক, ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগী এবং মহিলাদের সমস্যার কথা কারোর কাছে লুকোনো নেই।
বন্ধুগণ,
জনগণকে এই সমস্যাগুলি থেকে মুক্তি দিতে, জলস্তর উন্নত করতে আমাদের সচেতনতা অভিযান চালাতে হবে। সেজন্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অফ থিঙস এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করতে হবে।
আর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল আমাদের জল সংরক্ষণ ও সংবর্ধনে জোর দিতে হবে যাতে জলের প্রত্যেক বিন্দু সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়।
এটা কী করে হবে?
এই টিমের নেতৃত্ব কে দেবেন?
আধিকারিক, কর্মচারী, আমলা?
না।
এজন্য আমাদের তাঁদেরকেই যুক্ত করতে হবে যাঁরা জল ব্যবহার করেন, যাঁরা জল সঙ্কটে ভুগছেন।
সেজন্য আমাদের সেই মা ও বোনেদের যুক্ত করতে হবে যাঁরা প্রত্যেক বাড়ির আসল কর্ত্রী। প্রয়োজনের নিরিখে বাড়িতে বাড়িতে জল ব্যবহার করতে হবে, যতদূর সম্ভব জল পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে জলকে কাজে লাগাতে হবে। এই অনুশাসন প্রত্যেক বাড়ির প্রত্যেক সদস্যকে মানতে হবে।
সেজন্য আমাদের কৃষকদের কাছে যেতে হবে।
আমাদের চাষবাস ভূগর্ভস্থ জল দিয়ে সেচের ওপর অধিক নির্ভরশীল।
কিন্তু এটাও সত্য যে আমাদের সেচের পুরনো পদ্ধতিগুলিতে অনেক জল নষ্ট হয়।
তাছাড়া, আখ, ধান এবং এরকম অনেক ফসল রয়েছে যেগুলিতে বেশি জলের প্রয়োজন হয়।
এরকম ফসল যেখানে বেশি উৎপন্ন হয় সেসব অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ জলস্তর দ্রুতগতিতে নিচে নামতে দেখা গেছে।
এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য আমাদের কৃষকদের বর্ষার জল সঞ্চয়ের জন্য বিকল্প ফসল সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। যত বেশি সম্ভব ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের প্রতি বিন্দুতে অধিক ফসল উৎপাদনকে উৎসাহ যোগাতে হবে।
বন্ধুগণ,
যখন আমরা বাড়ির জন্য কিছু খরচ করি, তখন নিজেদের আয় ও ব্যাঙ্ক ব্যালান্সও দেখি। সেরকমভাবে বাজেট তৈরি করি। তেমনই, যেখানে জল অপ্রতুল, সেইসব গ্রামের জনগণকে জলের বাজেট তৈরি করার জন্য জলের যোগানের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে ফসল উৎপাদনের জন্য উৎসাহিত করতে হবে।
এখানে এখন অনেক গ্রাম থেকে যে মানুষেরা এসেছেন, আর যাঁরা আমাদের সঙ্গে প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত হয়েছেন, তাঁদের সবাইকে বলতে চাই যে অটল জল যোজনায় সবথেকে বড় দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।
আপনারা যত ভালো কাজ করবেন, তাতে গ্রামের তো ভালো হবেই, গ্রাম পঞ্চায়েতেরও ভালো হবে।
যে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি জলের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করবে তাদেরকে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হবে যাতে তারা আরও ভালো কাজ করতে পারে সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে অটল জল যোজনায়।
আমার প্রিয় সরপঞ্চ ভাই ও বোনেরা,
আপনাদের পরিশ্রম, আপনাদের অংশীদারিত্ব, দেশের প্রত্যেক বাড়িতে জল পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি অটল জল যোজনার সঙ্গে যুক্ত ৮,৩০০ জন সরপঞ্চকে বলতে চাই যে আপনাদের সাফল্য শুধু অটল জল যোজনাকে সফল করবে না, জল জীবন মিশনকেও শক্তিশালী করবে।
কিভাবে?
এটা আপনাদের জানা অত্যন্ত জরুরি। এ দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জানা উচিৎ।
বন্ধুগণ,
স্বাধীনতার এত বছর পর আজও দেশের ৩ কোটি বাড়িতেই নলের মাধ্যমে জল পৌঁছয়।
ভাবুন,
গ্রামের ১৮ কোটি বাড়ির মধ্যে গত ৭০ বছরে মাত্র ৩ কোটি বাড়িতে জল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এখন আমাদের আগামী পাঁচ বছরে ১৫ কোটি বাড়িতে নলের মাধ্যমে স্বচ্ছ পানীয় জল পৌঁছে দিতে হবে।
সেজন্য আগামী পাঁচ বছরে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারগুলি মিলিতভাবে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ করতে চলেছে।
নিশ্চিতভাবেই এটি একটি বড় সঙ্কল্প কিন্তু আমাদের সামনে এটিকে সফল করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আমাদের সাফল্য পেতেই হবে।
এক্ষেত্রে দেশের প্রতিটি গ্রামে জল পৌঁছে দেওয়ার দায়বদ্ধতা আমাদের সকলের।
আজ যে জল জীবন মিশনের নীতি-নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, তা এক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করবে।
বন্ধুগণ,
জল জীবন মিশনের এই অভিযান শুধুই প্রত্যেক বাড়িতে স্বচ্ছ পানীয় জল পৌঁছে দিলেই শেষ হবে না, আমাদের মা-বোনেদের বাড়ি থেকে অনেক দূরে গিয়ে যাতে জল না আনতে হয়, তাঁদের মর্যাদা রক্ষা, তাঁদের জীবনকে সহজ করে তোলাও এই মিশনের অন্যতম লক্ষ্য।
আজও আমি যখন কোন বয়স্ক মা-কে জলের জন্য কোথাও যেতে দেখি, যখন কোন বোনকে মাথায় কলসি নিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে যেতে দেখি, তখন ছোটবেলার অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যায়।
সারা দেশে জলের খোঁজে এমন কোটি কোটি মা-বোনেদের কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়ার সময় এসে গেছে।
আমরা যেমন প্রত্যেক বাড়িতে শৌচালয় তৈরি করে দেওয়ার কাজ করেছি, তেমনই প্রত্যেক বাড়িতে জলও পৌঁছে দেব। এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। যখন শপথ নিয়েছি, তখন তা বাস্তবায়িত করেই ছাড়ব।
বন্ধুগণ,
গ্রামের অংশীদারিত্ব এবং মিলেমিশে কাজ করার এই প্রকল্পে গান্ধীজির গ্রাম স্বরাজের ঝলক রয়েছে।
জলের সঙ্গে যুক্ত সকল প্রকল্প প্রত্যেক গ্রামের স্তর অনুযায়ী, সেখানকার পরিস্থিতি অনুযায়ী যাতে কাজ হয় তা জল জীবন মিশনের নীতি-নির্দেশিকা প্রস্তুত করার সময় মাথায় রাখা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, গ্রাম পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত নির্মিত জল সমিতিগুলিই নিজস্ব স্তরে জলের সঙ্গে জড়িত সমস্ত প্রকল্প রচনা করবে, বাস্তবায়িত করবে এবং সেগুলির তদারকি করবে।
আর সেজন্য, আমাদের জলের পাইপলাইন বসানোর খসড়া রচনা থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনায় সমস্ত গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে যে, গ্রামের ভাই-বোন এবং বয়স্ক মানুষদের কাছে জলের উৎস থেকে শুরু করে জল সঞ্চয় পর্যন্ত সমস্ত বিষয়ে জ্ঞান রয়েছে। গ্রামবাসীদের থেকে বড় বিশেষজ্ঞ আর কারা হতে পারে? সেজন্য এক্ষেত্রে আমাদের গ্রামবাসীদেরই ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে।
বন্ধুগণ,
আমাদের সরকারের প্রচেষ্টা জল জীবন মিশনের মাধ্যমে যথাসম্ভব বেশি গ্রামবাসীদের অধিকার প্রদান এবং তাঁদের আত্মনির্ভর করে তোলা।
এই মিশনের জন্য প্রত্যেক গ্রামে একটি বিশেষ কমিটি বানানো হবে, গ্রামস্তরে অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি হবে। আমার অনুরোধ এই কমিটিতে কমপক্ষে গ্রামের ৫০ শতাংশ মা ও বোনেরা যেন থাকেন।
শুধু তাই নয়, স্বচ্ছ জল আসছে কি আসছে না তার পরীক্ষাও যাতে গ্রামের মানুষ করতে পারেন, সেজন্য গ্রামের ছেলে-মেয়েদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এভাবে কৌশল বিকাশ যোজনার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে গ্রামের যুবক-যুবতীদের ফিটার, প্লাম্বার, ইলেক্ট্রিশিয়ান, মিস্ত্রী – এ ধরনের কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
হ্যাঁ, এসব প্রচেষ্টার মাঝে কিছু দুর্গম এলাকায়, কিছু প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে ঋতু ও ভৌগোলিক প্রতিকূলতার জন্য পাইপলাইন পৌঁছে দিতে কিছু সমস্যা অবশ্যই আসবে।
সেজন্য কি ঐ অঞ্চলগুলিকে ছেড়ে দেব?
না।
এই অঞ্চলগুলির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে।
সেখানেও এটা সুনিশ্চিত করা হবে যাতে সে গ্রামের মানুষেরা শুদ্ধ পানীয় জল পান।
বন্ধুগণ,
জল জীবন মিশনের আরেকটি নতুন দিক রয়েছে। এই প্রকল্পের তদারকির জন্য মহাকাশ প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ করা হবে। প্রত্যেক গ্রামে কতটা জল সঞ্চয় হচ্ছে, কতটা খরচ হচ্ছে, জলের অবস্থা সম্পর্কে সমস্ত বিষয়ের ওপর নিয়মিত লক্ষ্য রাখা হবে।
বন্ধুগণ,
জল জীবন মিশনে এই ব্যবস্থাও রয়েছে যে আপনার গ্রামে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হলে সরকার জল সমিতির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠাবে যাতে জল সংক্রান্ত সমস্ত ব্যবস্থা দেখাশোনা ও সঞ্চালনার কাজ গ্রামের লোকেরাই করতে পারেন।
আমার আরেকটি অনুরোধ হল, প্রত্যেক গ্রামের মানুষ জলের অ্যাকশন প্ল্যান রচনা করুন, জলের জন্য তহবিল গড়ে তুলুন। আপনাদের গ্রামে জল সংক্রান্ত প্রকল্পে অন্যান্য অনেক প্রকল্প থেকে টাকা আসে। বিধায়ক এবং সাংসদ তহবিল থেকেও টাকা আসে, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প থেকেও টাকা আসে।
আমাদের এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে এই সমস্ত টাকা একটি তহবিলে থাকে এবং একই পদ্ধতিতে খরচ হয়। এর ফলে, বিচ্ছিন্নভাবে অল্প অল্প টাকা খরচ করার বদলে একসঙ্গে অনেক টাকা খরচ করা যাবে।
বন্ধুগণ,
আমি আজ এই উপলক্ষে বিশ্বের সর্বত্র বসবাসকারী ভারতীয়দের অনুরোধ জানাব যে তারাও যেন এই পবিত্র অভিযানে নিজেদের অবদান রাখেন।
আমি আজ এই মঞ্চ থেকে গ্রামে বসবাসকারী আমার ভাই ও বোনেদের অনুরোধ জানাই যে তাঁরা জল সংরক্ষণের জন্য জল বিতরণের ব্যবস্থা সঞ্চালনার জন্য জলের পুনর্ব্যবহারকে যেন অগ্রাধিকার দেন।
আপনারা নিজের সময় দিন, শ্রম দিন। আপনারা এক পা এগোলে, সরকার নয় পা এগোবে।
আসুন, একজোট হয়ে, পায়ে পা মিলিয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে স্বচ্ছ পানীয় জলের অধিকারের সঙ্গে যুক্ত করার নিজস্ব দায়িত্ব পালন করি।
আপনাদের প্রচেষ্টা, আপনাদের সাফল্য দেশের জল সুরক্ষা এবং খাদ্য সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরেকবার অটল জল যোজনার জন্য, জল জীবন মিশনের জন্য সমস্ত দেশকে শুভেচ্ছা জানাই।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
CG/SB/DM
आज देश के लिए बहुत महत्वपूर्ण एक बड़ी परियोजना का नाम अटल जी को समर्पित किया गया है।
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2019
हिमाचल प्रदेश को लद्दाख और जम्मू कश्मीर से जोड़ने वाली, मनाली को लेह से जोड़ने वाली, रोहतांग टनल, अब अटल टनल के नाम से जानी जाएगी: PM @narendramodi
पानी का विषय अटल जी के लिए बहुत महत्वपूर्ण था, उनके हृदय के बहुत करीब था।
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2019
अटल जल योजना हो या फिर जल जीवन मिशन से जुड़ी गाइडलाइंस, ये 2024 तक देश के हर घर तक जल पहुंचाने के संकल्प को सिद्ध करने में एक बड़ा कदम हैं:PM @narendramodi pic.twitter.com/NPnCU2htYT
पानी का ये संकट एक परिवार के रूप में, एक नागरिक के रूप में हमारे लिए चिंताजनक तो है ही, एक देश के रूप में भी ये विकास को प्रभावित करता है।
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2019
न्यू इंडिया को हमें जल संकट की हर स्थिति से निपटने के लिए तैयार करना है।
इसके लिए हम पाँच स्तर पर एक साथ काम कर रहे हैं: PM @narendramodi pic.twitter.com/2BdnrFmq4p
जल शक्ति मंत्रालय ने इस Compartmentalized Approach से पानी को बाहर निकाला और Comprehensive Approach को बल दिया।
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2019
इसी मानसून में हमने देखा है कि समाज की तरफ से, जलशक्ति मंत्रालय की तरफ से Water Conservation के लिए कैसे व्यापक प्रयास हुए हैं: PM @narendramodi
अटल जल योजना में इसलिए ये भी प्रावधान किया गया है कि जो ग्राम पंचायतें पानी के लिए बेहतरीन काम करेंगी, उन्हें और ज्यादा राशि दी जाएगी, ताकि वो और अच्छा काम कर सकें: PM @narendramodi pic.twitter.com/TYECAkNJDg
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2019
सोचिए,
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2019
18 करोड़ ग्रामीण घरों में से सिर्फ 3 करोड़ घरों में।
70 साल में इतना ही हो पाया था।
अब हमें अगले पाँच साल में 15 करोड़ घरों तक पीने का साफ पानी, पाइप से पहुंचाना है: PM @narendramodi pic.twitter.com/ksxdC9Ko7X
गांव की भागीदारी और साझेदारी की इस योजना में गांधी जी के ग्राम स्वराज की भी एक झलक है।
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2019
पानी से जुड़ी योजनाएं हर गांव के स्तर पर वहां की स्थिति-परिस्थिति के अनुसार बनें, ये जल जीवन मिशन की गाइडलाइंस बनाते समय ध्यान रखा गया है: PM @narendramodi pic.twitter.com/KVWGRAHLNx
मेरा एक और आग्रह है कि हर गांव के लोग पानी एक्शन प्लान बनाएं, पानी फंड बनाएं। आपके गांव में पानी से जुड़ी योजनाओं में अनेक योजनाओं के तहत पैसा आता है। विधायक और सांसद की निधि से आता है, केंद्र और राज्य की योजनाओं से आता है: PM @narendramodi pic.twitter.com/hdMBFME6NY
— PMO India (@PMOIndia) December 25, 2019