Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

শিলং-এর জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

শিলং-এর জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

শিলং-এর জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


আজ এখানে মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার আগে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের মহিলাদের নিয়ে গঠিত বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী আয়োজিত প্রদর্শনীর স্টলগুলি আমি ঘুরে দেখলাম। এখানে প্রদর্শিত বিভিন্ন শিল্পজাত সামগ্রী ও উৎপাদনগুলি খুবই সুন্দর ও চমৎকার। তাই, সূচনায় আজ এখানে উপস্থিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির মহিলারা যেভাবে তাঁদের বিশেষ প্রতিভা ও ক্ষমতা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ করে দিলেন, সেজন্য ধন্যবাদ জানাই তাঁদের।

দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনাতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির বিকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে আর্থিক সহায়তাদান সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলির দেওয়া ঋণের সুযোগ গ্রহণ করে তাঁরা উপকৃত হচ্ছেন। এজন্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ঋণের সুদের ওপর ভর্তুকি সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

স্বনির্ভর গোষ্ঠী, বিশেষত মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির বিকাশ ও উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই কথাটি মনে রেখে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির জন্য এক বিশেষ প্যাকেজ তহবিল গঠনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এর উদ্দেশ্য হল, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির দুই-তৃতীয়াংশ গ্রামীণ পরিবারকে ‘জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন’-এর আওতায় নিয়ে আসা।

বন্ধুগণ,

আজ আমি এখানে একটি ফুটবল স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করেছি। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের, বিশেষত মেঘালয়ের জনসাধারণের ফুটবলপ্রীতির কথা সুবিদিত। ফুটবল হল এখানকার মানুষের এক বিশেষ আবেগ ও উত্তেজনা।তাই, এখানে প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই চলে ফুটবল খেলা। ইউজেনেসন লিংডো, আইবর খোঙ্গজি এবং মার্লাঙ্কি সুটিং-এর মতো প্রখ্যাত ফুটবল খেলোয়াড়দের নাম আমাদের কাছে সুপরিচিত। আন্তর্জাতিক ট্যুর্নামেন্টগুলিতে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে এবং ভারতীয় সুপার লিগে তাদের ক্লাব সংগঠনের মধ্য দিয়ে এই রাজ্য তথা ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছেন তাঁরা।

আমরা জানি যে রাজ্য সরকারের ‘মেঘালয় মিশন ফুটবল’-এর লক্ষ্য হল তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভার অন্বেষণ। এই লক্ষ্যে সম্ভাবনাময় ও প্রতিশ্রুতিময় তরুণ ছেলে-মেয়েদের পেশাদার ফুটবলার হিসেবে গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার নানাভাবে সুযোগ ও সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিকাশ সম্পর্কিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের ৩৮ কোটি টাকা অর্থ সহায়তায় এখানে যে ফুটবল স্টেডিয়ামটি নির্মিত হচ্ছে, তা এই উদ্দেশ্য পূরণে বিশেষভাবে সহায়ক হবে বলে আমি নিশ্চিত।

আগামী বছর, অর্থাৎ ২০১৭ সালে অনুর্ধ্ব ১৭ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের জন্য ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজন করতে চলেছে ভারত। এর মাধ্যমে শুধুমাত্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলেই নয়, ভারতের অন্যান্য অঞ্চলেও এই খেলাটির প্রসার ও উন্নয়ন নিশ্চিত হয়ে উঠবে।

বহু ফুটবল ক্লাব ও সংস্থা রয়েছে মেঘালয়ে। তবে, স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক ট্যুর্নামেন্টের আয়োজন করে আপনারাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে অনুর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের আগেই বেশ কিছু বড় বড় ক্রীড়া অনুষ্ঠানের উদ্যোগ-আয়োজনে নেতৃত্ব দিতে পারেন।

বন্ধুগণ,

আমরা সকলেই জানি যে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় চেরাপুঞ্জিতে। আজ এই শহরটির নামে আরেকটি পালক যুক্ত হয়েছে। চেরাপুঞ্জিতে ডপলার জলহাওয়া রেডারটি উৎসর্গ করা হয়েছে জাতির উদ্দেশে। এই রেডারটি চেরাপুঞ্জিতে স্থাপন করার জন্য আমি অভিনন্দন জানাই ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, ভারত ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেড এবং ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরকে।

উত্তর-পূর্ব ভারত হল সৌন্দর্য ও রোমাঞ্চের এক ভিত্তিভূমি। সাম্প্রতিক অতীতে প্রবল বর্ষণ এবং ভূমিধ্বসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত হয়েছে এই অঞ্চলটি।

জলহাওয়া সম্পর্কিত রেডার ব্যবস্থা এখানে গড়ে তোলা হয়েছে, তার সাহায্যে বিশেষত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির জন্য আরও ভালোভাবে জলহাওয়ার পূর্বাভাসপাওয়া যাবে যা প্রতিকূল ও চরম আবহাওয়া পরিস্থিতিতেও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাবহুলাংশে কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

আজ এর আগে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পরিষদের এক বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ আমার হয়েছিল। সেখানে এই অঞ্চলের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন প্রচেষ্টার একটি ছবি আমার সামনে পরিষ্কার হয়ে গেছে। আমি জানতে পেরেছি যে এখানে অনেক কিছু করা হলেও আরও বহু কাজ সম্পাদন করা এখনও বাকি রয়ে গেছে।

আমার সরকার ইতিবাচকভাবে অনুসরণ করছে ‘পূর্বের জন্য কাজ করো’ নীতিটি। উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশ তোরণ বলেই আমি মনে করি। তাই, নীতির একটি অঙ্গ হিসেবে আমাদের লক্ষ্য হল এই অঞ্চলের রেল, সড়ক, দূরসঞ্চার, বিদ্যুৎ এবং জলপথের মতো পরিকাঠামোগুলির প্রসার ও উন্নয়ন। আজ এখানে আমাদের এই মিশনের অন্যতম কর্মসূচি হিসেবেতিনটি নতুন ট্রেনের যাত্রা-সঙ্কেত দিয়েছি আমি। দেশের রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। কেন্দ্রে এনডিএ সরকার গঠনের পর থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতে রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ করেছি আমরা। এই লক্ষ্যে বর্তমান বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে রেল মন্ত্রক।

২০১৪-র নভেম্বরে ভারতের রেল মানচিত্রে নিয়ে আসা হয়েছে মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশকে। ত্রিপুরার আগরতলাকে যুক্ত করা হয়েছে ব্রডগেজ রেললাইনের মাধ্যমে। উত্তর-পূর্ব ভারতের ইতিহাসে আজ একটি বিশেষ স্মরণীয় দিন। ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ট্রেনগুলি এখন যুক্ত করবে মণিপুর ও মিজোরাম রাজ্যকে। গুয়াহাটির কামাক্ষ্যা আজ সরাসরি যুক্ত হয়েছে জম্মুর অদূরে কাটরার বৈষ্ণোদেবীর সঙ্গে।

প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির সঙ্গেও আমরা রেল ও সড়ক সংযোগ উন্মুক্ত করে দিচ্ছি। এর ফলে, এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মহাসড়কগুলির উন্নয়নে ২০১৪-র জুলাইতে জাতীয় মহাসড়ক ও পরিকাঠামো বিকাশ নিগম নামে একটি বিশেষ নিগমকে নথিভুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ব্রহ্মপুত্রের ওপর তিনটি নতুন সেতু নির্মাণ করছে এই সংস্থাটি। এছাড়াও, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কপথ নির্মাণের লক্ষ্যে ৩৪টি সড়ক প্রকল্পের কাজও চলছে কর্পোরেশনের মাধ্যমে। এই অঞ্চলের প্রতিটি জেলাকে একটি জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে চালু হয়েছে উত্তর-পূর্ব সড়ক ক্ষেত্রের উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি কর্মসূচি।

গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অভ্যন্তরীণ জলপথ গড়ে তোলার ওপরও।উত্তর-পূর্ব ভারতের ১৯টি জলপথকে জাতীয় জলপথ বলে ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

সমস্ত মানুষের কাছে সপ্তাহের সাতদিন, ২৪ ঘন্টাই বিদ্যুতের সুযোগ পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই কথাটি মনে রেখে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে উন্নত করে তুলতে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের জন্য রূপায়িত হচ্ছে দুটি বিশেষ প্রকল্প।

আগ্রা ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের সঙ্গে বিশ্বনাথ-চারিয়ালি প্রকল্পটি যুক্ত করার ফলে বাইরে থেকে ৫০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুতের যোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে এই অঞ্চলটিতে। দেশের ১৮ হাজার বিদ্যুৎহীন গ্রামগুলির মধ্যে সাত হাজারেরও বেশি গ্রামকে আমরা ইতিমধ্যেই যুক্ত করেছি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে। আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি সহ দেশের কোন গ্রামই বিদ্যুতের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবে না বলে আমি আশা করি।

৫,৩০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য একটি সংহত দূরসঞ্চার পরিকল্পনার কাজ রূপায়িত করছে সরকার। আগরতলা হল ভারতের তৃতীয় শহর যাকে বাংলাদেশের কক্সবাজারের মধ্য দিয়ে যুক্ত করা হবে এক আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে। এর ফলে, উন্নত হয়ে উঠছে সমগ্র দূরসংযোগ ব্যবস্থা যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে আরও বেশি করে উৎসাহিত করবে।

কয়েক মাস আগে আমার গ্যাংটক সফরকালে সিকিমকে দেশের প্রথম জৈব কৃষি রাজ্য বলে ঘোষণা করা হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যগুলিও জৈব কৃষি রাজ্যে রূপান্তরিত হওয়ার লক্ষ্যে আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করতে পারে সিকিমকে। প্রকৃতপক্ষে ভারতের জৈব খাদ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের। এর পরিণামে আয় ও উপার্জন বৃদ্ধি পাবে কৃষিজীবী মানুষদের।

বন্ধুগণ,

ক্ষুদ্র ঋণের সুযোগ পাওয়ার জন্য ব্যাঙ্কের দুয়ারে দুয়ারে ঘোরার দিন এখন শেষ। ‘প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা’ চালু হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে। এর আওতায় হয়রানিমুক্ত ঋণ সহায়তার সুযোগ পৌঁছে যাচ্ছে ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগীদের কাছে। ২০১৫-১৬ আর্থিক বছরে ৩ কোটি ৪৮ লক্ষেরও বেশি শিল্পোদ্যোগীকে দেওয়া হয়েছে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ সহায়তা। এর মধ্যে ২,৮০০ কোটি টাকার ঋণ সহায়তা সম্প্রসারিত হয়েছে ৬ লক্ষ ঋণ মঞ্জুরির মাধ্যমে।

অনুরূপভাবে, ‘প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা’র আওতায় এই অঞ্চলে খোলা হয়েছে ৯৩ লক্ষ নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। ‘প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা’র আওতায় নথিভুক্ত হয়েছেন ২১ লক্ষ মানুষ। অন্যদিকে, ১৯ লক্ষের মতো নাগরিককে নিয়ে আসা হয়েছে ‘প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা’র আওতায়।

কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে কৃষির পরেই রয়েছে বস্ত্রশিল্পের স্থান। এই ক্ষেত্রটিতে জামা-কাপড় তৈরির কাজে সর্বোচ্চ মাত্রায় রুজি-রোজগারের সুযোগ সম্প্রসারিতহয়। এই কাজে যুক্ত রয়েছেন এক বিরাট সংখ্যক মহিলা।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বস্ত্রশিল্পের বিকাশ সম্পর্কিত কর্মসূচিটির আওতায় কর্মসংস্থান ও শিল্প প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করতে আটটি রাজ্যের প্রতিটিতে ১৪৫ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে একটি করে বস্ত্র ও পোষাক-পরিচ্ছদ তৈরির কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। এই আটটি কেন্দ্রের মধ্যে সাতটি কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। প্রত্যেকটি কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি করে ইউনিট।

বন্ধুগণ,

মেঘালয় হল ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক তথা সুপ্রাচীন ঐতিহ্যসম্পন্ন একটি রাজ্য। বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে আশীর্বাদধন্য এই রাজ্যটি। তাই, মেঘালয় সফরের আকর্ষণ পর্যটকদের কাছে অপ্রতিরোধ্য। পর্যটন তথা রোমাঞ্চ পর্যটনের এক বিরাট সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছেউত্তর-পূর্বাঞ্চলে, বিশেষত মেঘালয় রাজ্যটিতে।

পর্যটকদের কাছে উন্নততর সুযোগ-সুবিধা প্রসারের মাধ্যমে পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার প্রয়োজনীতা সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল। এই কারণে উন্নততর সড়ক যোগাযোগ, হোটেল স্থাপন এবং সর্বত্র পরিচ্ছন্নতা রক্ষার কাজে আমরা আগ্রহী। ‘স্বদেশ দর্শন’ নামে একটি নতুন কর্মসূচির সূচনা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর আওতায় দেশে গড়ে তোলা হচ্ছে বিভিন্ন পর্যটন সার্কিট। এই ধরনের একটি সার্কিট গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য।

এখনও দু’বছরও হয়নি, গত ২০১৪-র ২ অক্টোবর ‘স্বচ্ছ ভারত’ কর্মসূচির সূচনা করে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতের সর্বত্র পরিচ্ছন্নতা রক্ষার সঙ্কল্প নেওয়া হয় এই কর্মসূচির আওতায়। এই কর্মসূচিটি হল জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর উদ্দেশে এক বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য। ১৫ আগস্ট, ২০১৪ থেকে ১৫ আগস্ট, ২০১৫ – এই এক বছরের মধ্যেই ‘স্বচ্ছ ভারত – স্বচ্ছ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির আওতায় ২ লক্ষেরও বেশি বিদ্যালয়ে নির্মিত হয়েছে ৪ লক্ষ ১৭ হাজার শৌচাগার।

পরিচ্ছন্নতার লক্ষ্যে স্বচ্ছ ভারত মিশন হল একটি জনআন্দোলন। এই আন্দোলনের সুফল ভোগ করবেন দেশের দরিদ্রতম মানুষটিও। এই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে উন্মুক্ত স্থানে প্রাকৃতিক কাজকর্মের অভ্যাস থেকে মুক্ত এক সমাজ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য আমি আবেদন জানাই আপনাদের সকলের কাছে।

একথা জেনে আমি আনন্দিত যে এই অঞ্চলের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষার ঐতিহ্য বিশেষভাবে উৎসাহিত হয়েছে ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযানে’র মাধ্যমে। মেঘালয়ের পরিচ্ছন্নতম গ্রাম মাওলিনং এবং গ্যাংটক সহ সমগ্র সিকিম আজ পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

‘উত্তর-পূর্ব ভারত পথের দিশারী – স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ – এই বিষয়বস্তুর ওপর যে দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় তাতে বিজয়ী সকলকেই আমি অভিনন্দন জানাই। আমি অভিনন্দন জানাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পরিষদকেও এই ধরনের একটি দৌড় প্রতিযোগিতার উদ্যোগ-আয়োজনের জন্য। উত্তর-পূর্ব ভারতের পরিচ্ছন্নতম শহর হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় গ্যাংটকেরও বিশেষ প্রশংসা করি।

শিলং-এ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পরিষদের পূর্ণাঙ্গ বৈঠকের আয়োজন করার জন্য মেঘালয়বাসীকে আমার অভিনন্দন। এক সুন্দর মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সুযোগদানের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আপনাদের সকলকেই।

জয় হিন্দ।

PG/SKD/SB/DM/S