পিএমইন্ডিয়া
কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট মাননীয় উহুরু কেনিয়াট্টা;
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সচিববৃন্দ;
শিল্প ও বাণিজ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের প্রধান;
ভারত ও কেনিয়ার বাণিজ্য গোষ্ঠীর সদস্য বন্ধুগণ;
ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ !
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম কেনিয়া সফরে আপনাদের সঙ্গে এখানে মিলিত হতে পেরে আমি আনন্দিত। ভারতীয়, বিশেষত গুজরাটিদের দ্বিতীয় স্বদেশ ভূমি হল কেনিয়া। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে এই দেশ সফরে আমার কিছুটা বিলম্ব হয়ে গেছে। প্রায় ৩৫ বছরের দীর্ঘ সময়কালে আর কোন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এ দেশ সফরে আসেননি। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কেনিয়ার সঙ্গে আমার যোগাযোগ বহুদিনের। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী রূপে আমি কেনিয়া সফরে এসেছিলাম ২০০৮-এ। এখানকার কয়েকটি প্রতিনিধিদলকেও আমি স্বাগত জানিয়েছিলাম গুজরাটে।
অনুষ্ঠানের সূচনাতেই আমি বিশেষভাবে প্রশংসা করি কেনিয়ার নেতৃত্ব ও জনসাধারণের। কারণ, স্বাধীনতা-উত্তরকালে কেনিয়াকে তাঁরা সার্বিকভাবে একটি উন্নত ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। কেনিয়ার অর্থনীতি ও পরিকাঠামো সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে এক বিশেষ প্রভাবেরছাপও রেখেছে। আপনারা হলেন একমাত্র বিকাশশীল একটি দেশের নাগরিক, যেখানে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সংস্থাগুলির সদর দপ্তর রয়েছে।
বন্ধুগণ!
ভারত ও কেনিয়ার মধ্যে রয়েছে এক বিশেষ ধরনের মৈত্রী সম্পর্ক।
· হাজার হাজার ভারতীয়কে এখানে নিয়ে আসা হয় ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে রেলপথ নির্মাণের কাজে।
· উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে এক সাধারণ প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিলেন মহাত্মা গান্ধী।
· ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলি ১৯৫৩ সাল থেকেই কাজ করে চলেছে কেনিয়াতে।
· কেরিচো-তে চা বাগান প্রকল্প রূপায়ণে প্রথম চা গাছের চারা নিয়ে আসা হয় আমাদের অসম রাজ্য থেকে।
· এখানকার বিশ্বস্ত নাগরিক হওয়া ছাড়াও ভারতীয়রা হলেন কেনিয়ায় আগত তৃতীয় বৃহত্তম পর্যটক গোষ্ঠী।
· ভারত বসবাস, শিক্ষা ও কাজের দিক থেকে খুবই স্বাচ্ছন্দ্যের একটি দেশ বলে মনে করেন এ দেশের গবেষক ও ছাত্ররা।
· স্বাহেলি ভাষার বহু শব্দের উৎপত্তি যে ভারতীয় ভাষাগুলি থেকে একথায় বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।
· ভারত মহাসাগর অঞ্চলে দু’দেশেরই রয়েছে সুপ্রাচীনকাল থেকে এক ঐতিহাসিক নৌ-সম্পর্ক।
· বহু ভারতীয় সংস্থাই কেনিয়াকে বেছে নিয়েছে সমগ্র পূর্ব আফ্রিকায় তাদের কর্মপ্রচেষ্টার মূল স্থান হিসেবে।
মাননীয় প্রেসিডেন্ট, আপনার সরকার প্রাত্যহিক জীবনে সৌরশক্তির প্রয়োগ ও ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে একথা আমার অজানা নয়। আমরাও পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে এক উচ্চাকাঙ্ক্ষামূলক কর্মসূচি রূপায়ণের কাজে যুক্ত রয়েছি। ভারত ও কেনিয়া দুটি দেশেই রয়েছে পর্যাপ্ত সূর্যালোক। বিশ্ব উষ্ণায়নের মতো সমস্যার প্রকৃত সমাধানই হল সৌরশক্তির প্রয়োগ ও ব্যবহার। শুধু তাই নয়, দূর-দূরান্তের প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কাজেও সৌরশক্তির এই প্রকৌশল ব্যবহার করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক সৌর সমঝোতার আওতায় এই বিশেষ ক্ষেত্রটিতে আমরা কাজ করতে পারি যুক্তভাবে।
স্বাস্থ্য হল আরেকটি বিশেষ ক্ষেত্র যেখানে আমাদের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। একথা জানতে পেরে আমি খুশি যে কেনিয়ার হাজার হাজার রোগী ভারতে সফল চিকিৎসার পর আবার দেশে ফিরে এসেছেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভারতীয় অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই অঞ্চলের একটি বিশেষ চিকিৎসাকেন্দ্র রূপে পরিচিতি পেতে কেনিয়া যে আগ্রহী, এই তথ্যও আমার কাছে এসেছে। এই প্রচেষ্টা ও প্রক্রিয়ায় আমরা আপনাদের সাহায্য ও সহযোগিতা করতে পারলে খুশিই হব।
আমাদের সম্পর্কের গভীরতা ও সহযোগিতার সম্ভাবনার এগুলি হল কয়েকটি মাত্র দিক।
বন্ধুগণ!
· অতীতে আমাদের দুঃখ-কষ্ট ও যন্ত্রণা ছিল প্রায় একই ধরনের।
· বর্তমানে দু’দেশের সমস্যার প্রকৃতিও মূলত এক ও অভিন্ন।
· আমাদের দু’দেশেরই রয়েছে এক সাধারণ শত্রু।
· অতীতে তা ছিল উপনিবেশবাদ।
· বর্তমানে তা হল দারিদ্র্য।
সুতরাং, অতীতে যেমন আমরা একসঙ্গে কাজ করে এসেছি, এখনও আমাদের সেইভাবেই কাজ করে যেতে হবে। কেনিয়ার মতো ভারতও একটি নবীন জাতি। আপনাদের শ্রমশক্তির চাহিদা যেমন রয়েছে সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশে, তেমনইভারতীয় শ্রমশক্তির চাহিদাও রয়েছে সমগ্র বিশ্বে। আমরা একত্রে এই মানব মূলধনকে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত করে তুলতে পারি যাতে তা সমগ্র বিশ্বের চাহিদা পূরণেযোগ্যতর হয়ে উঠতেপারে।
ভারত বর্তমানে দ্রুততম গতিতে বেড়ে ওঠা বিশ্বের এক বৃহৎ অর্থনীতি। আমাদের দেশে বিকাশের হার যে এখন উচ্চমাত্রায় রয়েছে তাই নয়, বিশ্বমান অনুযায়ী আমাদের উত্থান আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে।
· বাণিজ্যিক কাজকর্মকে সহজতর করে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক র্যাঙ্কিং-এ এক ধাপে আমরা ১২টি মান অতিক্রম করে উঠে এসেছিআরও শীর্ষে।
· বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ক্ষেত্রে ভারত অতিক্রম করেছে আরও ১৬টি স্থান।
বন্ধুগণ!
গত দু’বছরে ভারতে পরিবর্তন এসেছে অনেক দিক থেকেই। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতই হল এখন প্রথম পছন্দের জায়গা। ২০১৫ সালে আমাদের দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে সর্বোচ্চ মাত্রায়। এর বাইরেও আপনাদের জন্য যে সুখবরটি অপেক্ষা করছে তা হল এই যে ভারত হল কেনিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্য সহযোগী। শুধু তাই নয়, এ দেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশও হল ভারত। আমাদের দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে ভারসাম্যের অভাব রয়ে গেছে তা দূর করার সুযোগ পেলে আমরা আনন্দিত হব। কারণ, কেনিয়ায় বিনিয়োগের মাত্রা বাড়াতে আমরা বিশেষভাবে আগ্রহী।
আমি আজ এখানে কেনিয়ার সরকার ও জনসাধারণকে এই মর্মে আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছি যে ভারত সকল সময়ে রয়েছে আপনাদের পাশে। আমাদের এই মৈত্রী সম্পর্ক থেকে লাভবান হবে দুটি দেশই। ভারতে পঠন-পাঠনরত কেনিয়ার ছাত্রছাত্রী এবং কেনিয়ায় কর্মরত ভারতীয় পেশাদার – দু’পক্ষেরই ভবিষ্যৎ হয়ে উঠবে উজ্জ্বলতর। খনি, খনিজ কিংবা যন্ত্রপাতি– যাই হোক না কেন, আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এখানে সাফল্য নিয়ে আসবে। সুযোগ ও সম্ভাবনার অনুসন্ধানে যৌথভাবে উদ্যোগী হতে হবে আমাদের। আমার এই সফরকালে যে সমস্ত উদ্যোগ ও কর্মসূচিচূড়ান্ত করা হয়েছে, তাতেই প্রতিফলিত হয়েছে আমার এই বক্তব্যটি।
বন্ধুগণ! আমি এই মর্মে কেনিয়াকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছি যে আপনাদের প্রচেষ্টাকে জোরদার করে তুলতে এবং আপনাদের সহায়সম্পদকে আরও সমৃদ্ধ করতে ভারত কাজ করে যাবে আপনাদের সঙ্গে।
· আপনারা হয়তো অবগত রয়েছেন যে আমরা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির সূচনা করেছি
· যাতে ভারত হয়ে ওঠে বিশ্বের একটি উৎপাদন তথা নির্মাণ কেন্দ্র;
· একইভাবে, আপনারাও সূচনা করেছেন ‘মেক ইট কেনিয়া’ অভিযানের
· বাণিজ্য ও পর্যটনের সুযোগ-সুবিধার প্রসারে;
· দুটি দেশই প্রকৃতপক্ষে পরস্পরের পরিপূরক হয়ে উঠতে পারে
· কারণ আমাদের অঙ্গীকারই হল
· জনগণের ভবিষ্যৎ গঠন করে যাওয়া;
· দু’দেশের জনসাধারণের প্রকৃতি মূলত একই ধরনের
· ভারতীয়দের পরিশ্রম এ দেশের গঠনকে আরও সুদৃঢ় করে তুলেছে
· ভারতীয়দের রক্ত রঙিন করে তুলেছে এ দেশের স্বাধীনতাকে;
· সুতরাং, ‘মেক ইট কেনিয়া’ই হোক
· বা
· ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ই হোক
· তা আমাদের কাছে বড় কথা নয়।
পরিশেষেবন্ধুগণ!
‘মেক ইট কেনিয়া’র প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের নিদর্শনস্বরূপ
আমরা প্রকাশ করেছি কেনিয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজের সুবিধার জন্য একটি গাইড বুক।
যে সমস্ত ভারতীয় এ দেশে বিনিয়োগ করতে আসবেন, তাঁদের কাছে এটি প্রকৃত গাইড হিসেবেই কাজ করবে।
এই বইটি আমি কেনিয়ার মাননীয় প্রেসিডেন্টের হাতে সমর্পন করতে পেরে আনন্দ অনুভব করছি।
ধন্যবাদ!
PG/SKD/DM/S….12thJuly, 2016
An evening for business & innovation...PM @narendramodi & President @UKenyatta meet innovators, join business summit pic.twitter.com/F9IiiMYSHH
— PMO India (@PMOIndia) July 11, 2016
You can watch the proceedings at the Kenya-India Business Forum LIVE. https://t.co/XCUFm3VO5z pic.twitter.com/CFOslgaK4N
— PMO India (@PMOIndia) July 11, 2016
India and Kenya: a very special relationship. pic.twitter.com/4AejrdoycX
— PMO India (@PMOIndia) July 11, 2016
I must compliment the people and leadership of Kenya for overall development and stability since independence: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) July 11, 2016
Renewable energy for a better planet. pic.twitter.com/ymKOUk29mU
— PMO India (@PMOIndia) July 11, 2016
Cooperation in healthcare, highlighted by PM @narendramodi in his speech. pic.twitter.com/n1Ar3IJf6B
— PMO India (@PMOIndia) July 11, 2016
Bettering trade and investment ties. @narendramodi @UKenyatta @PresidentKE pic.twitter.com/5XFEcnw5Qx
— PMO India (@PMOIndia) July 11, 2016
A win-win friendship, says PM @narendramodi on India-Kenya ties. pic.twitter.com/Jnoj240F3Z
— PMO India (@PMOIndia) July 11, 2016
Happy to have met Indian & Kenyan business leaders with President @UKenyatta to chalk out ways to deepen India-Kenya economic & trade ties.
— Narendra Modi (@narendramodi) July 11, 2016
Also glad to have interacted with Indian & Kenyan innovators before the business summit. pic.twitter.com/THoRzqpXi2
— Narendra Modi (@narendramodi) July 11, 2016
Expressed support to ‘Make it Kenya' initiative & said that India stands firmly with Kenya as it works to strengthen the nation’s economy.
— Narendra Modi (@narendramodi) July 11, 2016
India-Kenya friendship is a win-win situation. Earlier we fought colonialism…now is the time to fight poverty. https://t.co/OS8YLcz9a3
— Narendra Modi (@narendramodi) July 11, 2016