Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

অল ইন্ডিয়া জেমস্‌ অ্যান্ড জুয়েলারি ট্রেড ফেডারেশন আয়োজিত সম্মাননা সমারোহে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

অল ইন্ডিয়া জেমস্‌ অ্যান্ড জুয়েলারি ট্রেড ফেডারেশন আয়োজিত সম্মাননা সমারোহে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


আমি জানি আজ কোথায় এসেছি । আপনারা এমনই মানুষ, যাঁরা অনেকবার সরকারকে নমনীয় হতে বাধ্য করেছেন । আপনারা এমনই মানুষ, যাঁরা অনেক সংখ্যাগুরু সরকারের নানা সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করেছেন । কিন্তু, আমি মনে করি, কেবলমাত্র যুদ্ধ হলেই কোনও এক পক্ষের মাথানত করার প্রশ্ন ওঠে । আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা আপনাদের হৃদয় জয় করতে চাই । আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে অনুভব করছি যে আমরা আপনাদের হৃদয় জয় করতে সক্ষম হয়েছি এবং আপনারাও আমার মন জয় করছেন ।

দেখুন, উৎপাদন শুল্ক নিয়ে আগেও অনেক বিতর্ক উঠেছে, আপনারা ঝড় তুলেছেন, সরকার ভয় পেয়ে গেছে । প্রত্যেক সাংসদ আপনাদের খদ্দের । সেজন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আপনাদের কোনও প্রতিনিধিদল পাঠানোর প্রয়োজন পড়ে না । পরিচিত সাংসদদের কাছ গিয়ে আর্জি রাখলেই কাজ হয়ে যায় । কিন্তু, সরকার ভয় পেয়ে নানা সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নিলেও অনেক সমস্যার সমাধান অমীমাংসিত রয়ে গেছে । এবারের বাজেটে প্রথমবারের মতো সরকার উৎপাদন শুল্ক প্রয়োগ করেও আপনাদের বোঝাতে ও সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছে । কারণ , আপনারা আগে সরকারকে না দেখে আবগারি আধিকারিকদের দেখতেন । আপনারা ভাবতেন , একজন আবগারি আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করলেই কাজ হয়ে যাবে । কিন্তু , এখন যে একটি অন্যধাঁচের সরকারকে জনগণ ক্ষমতায় বসিয়েছেন !

এই প্রথমবার আপনারা টের পেয়েছেন যে , সরকার কাকে বলে , আর সরকারও টের পেয়েছে , এই ব্যবসায় কত সূক্ষাতিসূক্ষ বিষয় রয়েছে , কত সমস্যা রয়েছে । আমি যখন আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলছিলাম , তাঁদের জিজ্ঞেস করেছি , শিল্প মহল থেকে ওঠা এই প্রসঙ্গ নিয়ে কি আপনারা কিছু জানতেন না ? তাঁরা বললেন , না সাহেব , আগে এভাবে ভেবে দেখিনি । অর্থাৎ , একটি পরস্পরের সংবাদহীনতার দূরত্ব রয়ে গিয়েছিল । সরকারি ব্যবস্থায়ও এনিয়ে অনেক সংবাদহীনতা তৈরি হয়েছিল । সেজন্য এবার উৎপাদন শুল্ক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে । এটা ঠিক যে , এই বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে সরকারের যথেষ্ট টাকা খরচ হয়েছে । আপনারাও আন্দোলন করেছেন , কুশপুত্তলিকা দাহ করার জন্য পেট্রোল কিনতে হয়েছে , অনেক কিছুই করতে হয়েছে । কিন্তু , এতসব কিছুর পরেও এই সংঘাতের মাধ্যমে আপনাদের সঙ্গে সরকারের একটি নিবিড় আলোচনা সম্ভব হয়েছে । গণতন্ত্রের শক্তি এটাই । আপনাদেরও নিজেদের বক্তব্য নিজেদের মতো করে বলার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে , আর সরকারেরও দায়িত্ব হল – আপনাদের বক্তব্যকে ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করা । আমরা যদি আগেই আপনাদের আস্ফালনে ভয় পেয়ে যেতাম , সাংসদদের চাপে মাথানত করতাম , তা হলে আরও ২৫ – ৩০ – ৪০ বছর পর আপনাদের কথা মনে পড়তো । তখন সরকার আবার ১ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ কর চাপাতো কিন্তু সমস্যার সমাধান হতো না ।

আপনাদের মনে হতে পারে যে , মোদী মাথা নত করে না , মোদী নিজের সিদ্ধান্তে অটল । এটা ভুল ধারণা । এখানে মোদী মুখ্য নয় , সমস্যার সমাধানটাই মুখ্য । সেজন্য আমরা কমিটি গঠন করেছি , সেই কমিটিতে সরকারের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আপনাদের প্রতিনিধিরাও ছিলেন । আপনাদের প্রতিটি বক্তব্য শোনা হয়েছে । এর ফলে , ভবিষ্যতেও যখন সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নেবে , তার আগে এই আলোচনাকে দেশের অর্থনীতি এবং সার্বিক উন্নয়নের প্রেক্ষিতে বিচার – বিশ্লেষণ করে নেবে বলে আমার বিশ্বাস ।

একটু আগেই জিতুভাই বলছিলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি বাজেট, আর ০৩ মার্চ-এ মোদীজীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তিনি রাজি হয়ে যান । আগে তো কারোরই সাক্ষাৎ পাওয়া যেত না । আমি বলি, দেখুন, সরকার আপনাদের । এই দরজা আপনাদের জন্য সর্বদাই খোলা । আপনাদের যে কোনও বিষয়ে অসম্মতি জানাবারও অধিকার রয়েছে । সরকার যদি আপনাদের সঙ্গে কথা না বলে, পরস্পরের মধ্যে আলোচনা না হয়, তা হলে কোনও সমস্যারই সমাধান হয় না । এবার সফল আলোচনা হওয়ায় সরকার উৎপাদন শুল্কও ঘোষণা করেছে, পাশাপাশি সমস্যাগুলিরও সমাধান হয়ে গেছে ।

আপনাদের মনে হয়েছিল, আবগারি শুল্কটাই প্রধান সমস্যা, আপনাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে মনে এই ভয় জেগে ওঠা স্বাভাবিক । কিন্তু, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আপনারাও মজা পাবেন, সরকারি নিয়ম মেনে চলার আনন্দ পাবেন । রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারবেন । দীর্ঘকালীন ভয়ের পরিবেশকে এমনভাবেই অপসারণ করা হয়েছে ।

আমি আধিকারিকদের সঙ্গে একটি বৈঠকে বলেছিলাম, প্রত্যেক নাগরিককে রাষ্ট্র গঠনে সহযোদ্ধা ভাববেন, করদাতাদের যেন আমরা কখনও চোর না ভাবি । এটা আমার স্পষ্ট অভিমত । আগে কোন্‌কোন্‌পদ্ধতি চালু ছিল, তা আপনারাও জানেন । আমার মনে আছে, অনেক নামীদামী ব্যবসায়ীকেও কারান্তরালে যেতে হয়েছিল । আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গী আলাদা । কিন্তু, আমাদের মধ্যেও কেউ কেউ রয়েছেন, যাঁদের জন্য ব্যবস্থার বদনাম হয় । একটু আগেই প্রবীনজী সুরাটের একটি উদাহরণ দিচ্ছিলেন । একটা সময়ে সুরাটে এমনই চলত । কিন্তু, বর্তমানে সবাই যথাযথভাবে নিয়মনীতি পালন করে নিজেদের আধুনিক করে তুলেছেন । আর গোটা বিশ্বের প্রতিস্পর্ধী হয়ে উঠেছেন । আপনারা সকলেই এরকম প্রতিস্পর্ধী হয়ে উঠতে পারেন, আমি আপনাদের সঙ্গে রয়েছি ।

গোটা বিশ্বে অলঙ্কার বাজার অনেক বড় এবং ক্রমবর্ধমান । এর বৃদ্ধির হার এত বেশি যে, সে তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি । গোটা বিশ্বে একটা জিনিসের অত্যন্ত চাহিদা রয়েছে, সেটা আমাদের কাছে থাকা সত্ত্বেও আমরা তাদের সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারছি না । গোটা বিশ্বে তৈরি অলঙ্কারের চাহিদা সর্বাধিক । আমি ঠিক বলছি কি না? দুশ্চিন্তা করবেন না, আমি আপনাদের ব্যবসায় নাম লেখাতে যাচ্ছি না ।

আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, অলঙ্কার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত দেখাসাক্ষাৎ হতো । আমি অলঙ্কার শিল্পে দক্ষতা উন্নয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি, কারণ আমি জানি এর কত ক্ষমতা রয়েছে । আমাদের দেশে হস্ত নির্মিত অলঙ্কারে গুরু-শিষ্য পরম্পরা রয়েছে । এখন খুব কম ক্ষেত্রেই গুরু-শিষ্য পরম্পরা রয়েছে । তার মধ্যে অলঙ্কার শিল্প অন্যতম । স্বর্ণকারের দোকানে যাঁরা সোনা গলানোর কাজ করেন, তাঁরাই অনেকেই ধীরে ধীরে স্বর্ণকার হয়ে ওঠেন । এই গুরু-শিষ্য পরম্পরার অনেক ভালো দিক রয়েছে, তেমনই কিছু সমস্যাও রয়েছে । গুরু যা জানতেন, শিষ্য সেগুলিই শিখেছেন । এগুলি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে স্বর্ণ শিল্প এগিয়ে গেছে । এর সীমাবদ্ধতা হল – এই শিল্পে নতুন কিছু খুঁজে বের করা, নতুন প্রয়োগের উপাদান খুব কম থাকায় বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়েছি । অথচ, আমাদের হাজার হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য রয়েছে । এমনকি, বেদের সমকালীন গ্রন্থেও স্বর্ণ নিষ্কাশন এবং ব্যবহারের প্রক্রিয়া উল্লেখ রয়েছে ।

এত পুরনো ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব বাজারে কেন পিছিয়ে পড়ব? উপস্থিত সকলের প্রতি আমার আহ্বান আপনারা সকলে এই প্রতিস্পর্ধা স্বীকার করুন । আমরা কিভাবে নতুন নতুন নক্‌শা গড়ে উৎকৃষ্ট অলঙ্কার নির্মাণ করব, তাতে কোনও খুঁত থাকবে না, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উৎকর্ষের পাশাপাশি নিখুঁত এবং দীর্ঘস্থায়ী হওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে । না হলে সুন্দর সুন্দর জিনিস বাজারে আসে আর কিছু দিনের মধ্যেই অদৃশ্য হয়ে যায় । আমরা এমন অলঙ্কার উৎপাদন করব, যাতে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের ক্রেতা চোখ বন্ধ করে কিনতে পারেন, মনে মনে ভাবেন যে, এই অলঙ্কার ভারত থেকে এসেছে – একে ভরসা করা যায় । ‘ মেক ইন ইন্ডিয়া ’ যেন নিছকই কর্মসংস্থানের উপায় না হয়ে ওঠে । এ যেন একদিন বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে চোখ বন্ধ করে ভরসা করার মতো ব্র্যান্ড হয়ে ওঠে ।

এই আস্থা গড়ে তোলার জন্য নতুন নতুন উদ্ভাবনের প্রয়োজন রয়েছে । নতুন আবিষ্কারের জন্য পরিবেশ গড়ে তুলতে হয় । আমাদের সরকার দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও আপনাদের সকলকে অংশীদার হিসাবে পেতে চায় । আপনাদের প্রজ্ঞা ও বীক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সরকার এর পাঠ্যক্রম গড়ে তুলতে চায় । আপনারা যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলছিলেন, বরোদায় ইতিমধ্যেই এ ধরনের দক্ষতা নির্মাণ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে । জেমস্‌অ্যান্ড জুয়েলারি ’ র প্রতিনিধিরা এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের প্রয়োজন অনুসারে পাঠ্যক্রম গড়ে তুলুন । এভাবে আপনারা দেশে মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও অবদান রাখতে পারবেন । দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ; দেখুন সুরাটের হীরা এখন সারা পৃথিবীতে সমাদৃত । কারণ, তাঁরা প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণে এগিয়ে গেছেন । আগে হীরা কাটতে যত সমস্যা হতো, এখন লেজার প্রযুক্তির ব্যবহারে সেই সমস্যা দূরীভূত হয়েছে । পাশাপাশি, আমাদের দেশজ প্রযুক্তিরও উন্নয়ন ঘটেছে । সারা পৃথিবী এই আধুনিকীকরণকে স্বীকার করে নিয়েছে । অর্থাৎ, আমি বলতে চাই আমরা চাইলে সবকিছুই করতে পারি ।

এটা ঠিক কথা যে, ভারতে স্বর্ণালঙ্কারের সঙ্গে সামাজিক সম্মান যুক্ত রয়েছে । কারও বাড়িতে সোনার গহনা থাকলেও বছরে দু-একবার, সর্বাধিক পাঁচবার পরার সুযোগ আসে । এই অলঙ্কার মৃত সম্পদের মতো পড়ে থাকে । এগুলিকে দেশের উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে আমরা নতুন প্রকল্প গড়ে তুলেছি । আপনারাও খদ্দেরদের এক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন । সরকারের ঘরে অলঙ্কার জমা রাখার প্রেরণা যোগাতে পারেন, তাদের যখন প্রয়োজন তখনই তাঁরা সেই অলঙ্কার তুলে এনে ব্যবহার করতে পারবেন । এতে দেশের অর্থনীতিও মজবুত হবে । এই পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার স্পষ্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, এ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাবনা যতটা রয়েছে, তা থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি । আমাদের দেশের বাজার এত বড় যে আমরা নতুন কিছু করার কথা ভাবিই না । কারণ, ১২৫ কোটি জনগণের মধ্যে বছরে যদি ২ কোটি বিবাহ হয়, তাহলেই আপনাদের পাঁচ আঙুল ঘৃতময় হয়ে উঠবে । সেজন্য আপনারা বিশ্ব বাজার নিয়ে চিন্তাও করেন না । কিন্তু আমি মনে করি, আপনারা যতদিন দেশীয় বাজারের সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে না আসবেন, ততদিন বিরাট কোনও পরিবর্তন আসা সম্ভব নয় । আপনারা এগিয়ে আসুন, এক্ষেত্রে আপনাদের যা যা প্রয়োজন হবে সবকিছু নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে আমরা প্রস্তুত ।

আজ আপনারা আমার এত প্রশংসা করেছেন যে, আগামীকালের খবরের কাগজে কিছুই ছাপা হবে না । একটু অন্যরকম বললে সংবাদমাধ্যম ভেবে দেখতো । আমাদের এই সুযোগকেও ব্যবহার করা উচিৎ । প্রবীনজী বলছিলেন, এখন সময় এসেছে কালোটাকার কবল থেকে দেশকে মুক্ত করা । অল্প কয়েকজন মাত্র তাঁর কথায় হাততালি দিয়েছেন । আমি আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে বার্তা দিতে চাই যে, এই বোঝা আর বহন করা উচিৎ নয় । এখন সময় এসেছে শান্তিতে থাকার, রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর । এর থেকে বড় আনন্দ জীবনে আর কি আছে । আপনারা আয়কর বিভাগের আধিকারিকদের ভয় পাবেন কেন? সরকারকে ভয় পাবেন কেন? পরিস্থিতি পরিবর্তনের এটাই সবচেয়ে বড় উপায় । আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে যাঁর কাছে যা আছে সব ঘোষণা করে দিন । আমি ৩০ সেপ্টেম্বরের পর কারও রাতের ঘুম কেড়ে নিতে চাই না । আমি চাই, আমার দেশের ১২৫ কোটি মানুষই রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমান । আপনারা আমাকে ঘুম কেড়ে নেওয়ার পাপ করতে দেবেন না । আমি আপনাদের আহ্বান জানাই । আপনাদের সঙ্গে যুক্ত সকলকে আমার এই বার্তা পৌঁছে দেবেন ।

আপনাদের সান্নিধ্যে এসে অনেক কথা শুনলাম । আপনারা মন খুলে কথা বলেছেন । এর আগে কোনও সরকারকে আপনারা এরকম মন খুলে বলেননি । যখন লাহিড়ী কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তখন আপনাদের প্রতিনিধিরা বলেছিলেন, সাহেব, আমাদের কাছ থেকে তো ঠেলাগাড়িতে করে টাকা নিয়ে যাওয়া হতো । এই সত্য ভাষণ আমাকে চমকে দিয়েছে । অর্থাৎ, আপনারা জেনেশুনে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিচ্ছিলেন । ঐ মহান ব্যক্তিরা আপনাদের থেকেই সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতেন, জমিজায়গা ও আবাসন নির্মাণ ক্ষেত্রের দুর্নীতি তারপরে আসে । আপনারা আমাদের সাহায্য করলে দেশ থেকে দুর্নীতি দূরীকরণে সবচেয়ে বেশি সুফল পাওয়া যাবে ।

আপনারা দেখেছেন যে, সফল আলোচনায় কত লাভ হয় । আমরা অনায়াসেই নিজেদের সমস্যার কথা পরস্পরকে খুলে বলতে পারি । প্রবীণজীর দাবিটিকে আমি খুবই সামান্য দাবি বলে মনে করি । তিনি একজন মন্ত্রীর দাবি রেখেছেন, আমি মনে করি, একটি মন্ত্রক, একটি বিভাগ যথেষ্ট নয় । দেশের প্রধানমন্ত্রী আপনাদের পাশে রয়েছে । দেশের উন্নয়নে ‘ মেক ইন ইন্ডিয়ার ’ সফল প্রয়োগে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আপনাদের সামর্থ্য বৃদ্ধি করতে কেন্দ্রীয় সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আপনাদের পাশে রয়েছে । কিন্তু, আপনাদের আমন্ত্রণ জানাই, প্রথাগত শিল্পের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে আপনারা নিজেদের ব্যবসায় নতুন মাত্রা যোগ করুন । আপনাদের ভালোর জন্য এবং দেশের উন্নয়নের জন্য এখন নতুন নিয়ম ও নতুন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে । আমরা সবাই মিলেমিশে কাজ করলে দেশকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারব ।

আপনারা আজ আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন, সম্মান জানিয়েছেন, সেজন্য আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ । আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, যে কোনও সমস্যার ক্ষেত্রে আপনারা সরকারি ব্যবস্থাকে ব্যবহার করুন, স্বীকার করুন, ভরসা করুন । স্বীকৃতির প্রেক্ষিত রচনা করে বিশ্বাস । বর্তমান সরকারের ওপর আপনাদের ভরসা না থাকলে আজ এখানে আমাকে সম্মানিত না করে আপনারা কুশপুত্তলিকা দাহ করতেন । সরকারের ওপর আপনাদের ভরসাই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় পুঁজি । জনগণ শাসন ব্যবস্থাকে এবং শাসন ব্যবস্থা জনগণকে ভরসা করলেই আমরা পরস্পরের সঙ্গে সর্বদা যুক্ত থাকি, আর যুক্ত থাকলেই আমরা মিলেমিশে কিছু করে উঠতে পারি । আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমরা সকলেই এখান থেকে দেশের জন্য অনেক কিছু করার সংকল্প নিয়ে ফিরে যাব । অনেক অনেক ধন্যবাদ ।

PG/SB/SB