পিএমইন্ডিয়া
কিছুদিন আগে ভাই মহোদয় আমার সঙ্গে দেখা করে বলেছিলেন, আপনাদের সঙ্গে নানা বিষয়ে আলাপ-আলোচনার একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চান। সেরকম সুযোগ হয়নি, কিন্তু আপনাদের সামনে বক্তব্য রাখার একটি সুযোগ পেলাম। কেউ যতদিন আচার্য বা অধ্যাপক থাকেন, ছাত্রদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক থাকে। কিন্তু প্রাচার্য বা অধ্যক্ষ হয়ে পড়লে অধিকাংশ সময় কাটে করণিক, হিসাবরক্ষক আর অসংখ্য ফাইল নিয়ে ব্যস্ততায়। সত্যি সত্যি এই দুই ধরনের কাজ খুবই আলাদা। কিন্তু অনেক শতাব্দীকাল ধরেই আমাদের এখানে এই প্রথা প্রচলিত যে, বায়োঃজ্যেষ্ঠ অধ্যাপকই অধ্যক্ষের পদে বসেন। তাঁর ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা আছে কিনা, ব্যবস্থাপনার কাজে তাঁর রুচি আছে কিনা – এসব বিষয়কে তেমন অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না। স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই দায়িত্ব বর্তায়। আর আপনাদেরকেও ছাত্র স্বার্থ নিয়ে না ভেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ নিয়ে বেশি ভাবতে হয়। আপনাদের সামনে সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ হল, আজ শিক্ষা তথা জ্ঞানের এত শাখা উপ-শাখা গড়ে উঠেছে, সেগুলি নিয়ে পড়াশোনার এত পথ খুলে গেছে, এত সহজভাবে সেই জ্ঞান অর্জন করা যায়, এহেন পরিস্থিতিতে আপনারা কিভাবে ছাত্র ও অভিভাবকদের বিদ্যাভারতীর দিকে আকর্ষিত করবেন।
বিদ্যাভারতী বিদ্যালয়ের সংখ্যাবৃদ্ধি কিংবা ছাত্র সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেই চলবে না, একটি মহানগরে এক কোটি স্কুল থাকলে সেগুলির মধ্যে আমাদের স্কুলের স্থান কত নম্বরে তা নির্ধারিত স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফলের নিরিখে। আর শুধু ভাল ফলের জন্য শুধু পাঠক্রমের শিক্ষাই যথেষ্ট নয়, শিক্ষার সঙ্গে সংস্কারের মিশ্রণ ও সুষম সমন্বয়ের মাধ্যমেই সেটা সম্ভব হয় বলে ছাত্র সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা ও সংস্কারে উত্তম মানব গড়ে তোলার দায়িত্ব অনেক বৃদ্ধি পায়।
আজ ভারতের ধনী-গরিব নির্বিশেষে যে কোন ব্যক্তির কাছে যদি জানতে চান যে তাঁর মনের ইচ্ছা কী ? তিনি বলবেন, সন্তানদের ভালোভাবে শিক্ষিত করা। আপনার গাড়ির চালককেও জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলবেন, আমি তো সারা জীবন গাড়ি চালিয়ে কাটালাম, ছেলে-মেয়েদের ভালোভাবে শিক্ষিত করতে চাই ! ভালো শিক্ষার মানে বেশি টাকা ফি দিয়ে নামকরা স্কুলে পড়ানো নয়, যেখানে সত্যিকারের ভালো শিক্ষকরা রয়েছেন সেখানে পাঠানো, যারা আমাদের সন্তানদের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারবেন। আমরা পারিবারিক পরিবেশে তাকে যে জ্ঞান দিতে পারি না সেই জ্ঞান ও সহবত যেন সে সেখানে পায়। অভিভাবকরা মনে মনে সেরকম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই খোঁজেন। সেটা সম্ভব না হলে কোন স্কুলে ভর্তি করেও কোনও নামকরা গৃহশিক্ষকের শরণাপন্ন হন।
এহেন পরিস্থিতিতে সারা দেশে একটি সংস্থা পারিচালিত ১২ হাজার স্কুল থাকা কম কথা নয়। কিন্তু গোটা দেশের প্রয়োজন মেটাতে ১২ হাজার স্কুল যথেষ্ট নয়। এত প্রয়োজন রয়েছে যে ১ লক্ষ স্কুলের প্রতিষ্ঠা হলেও যথেষ্ট নয়। বর্তমানে আপনাদের স্কুলগুলিতে ৩২ লক্ষেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করছে। আমি অনেক বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানকে জানি। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আমি অবহিত। অনেক কথা জানি। আমরা অধিক সংখ্যক ছাত্র ভর্তির পাশাপাশি সবচাইতে ভালো ফল করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত নই। কিছু ছাত্র-ছাত্রী তো এমনিতেই ভালো ফল করে। কিন্তু আমি সার্বিক উৎকর্ষের কথা বলছি। দেশভক্তি উৎকর্ষের একটি মাপকাঠি। আলিম্পিকের পদক জেতাকেও তো আমরা দেশভক্তি বলে ভাবি। আপনারা বলছিলেন যে জাতীয় স্তরে বিদ্যাভারতীর ছাত্র-ছাত্রীরা খবু ভালো ফল করছে। তাহলে ১২ হাজার বিদ্যাভারতী স্কুলের মধ্যে অন্তত দু’হাজার স্কুল যদি ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্রীড়াভ্যাসে জোর দেয় তাহলে আগামী ২০২০ সালের অলিম্পিকে বিদ্যাভারতীর এত ছেলে-মেয়েদের মধ্যে থেকে অনেকেই হয়তো অলিম্পিকে স্বর্ণ পদক জিতে দেশের গৌরব বৃদ্ধি করবে।
আমার মনে হয়, আমাদের লক্ষ্য পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। আমরা সকল ক্ষেত্রে দেশকে এমন নেতৃত্ব দিতে পারলে নবীন প্রজন্ম আমাদের ঐতিহ্য ও পরম্পরা নিয়ে গর্ব করবে, সেই ঐতিহ্য ও পরম্পরা তাঁরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মে সঞ্চারিত করবে।
সংগঠনরূপে বিদ্যাভারতীর প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৭৭ সালে অর্থাৎ , সুবর্ণ জয়ন্তী এগিয়ে আসছে। আমাদের এরকম লক্ষ্য স্থির করা উচিত যাতে স্কুলের সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমাদের ছাত্ররা কিছু করে দেখাতে পারে। স্কুলের মান বৃদ্ধি, স্কুলের ব্র্যান্ডিং-এর সুযোগ থাকে অধ্যক্ষদের হাতেই। আমাদের ভারতীয় দর্শন বলে, চারপাশ থেকে জ্ঞানকে আসতে দাও ! আমরা কখনও জ্ঞানের দুয়ার বন্ধ করিনি। কারোর জ্ঞানপ্রবাহ আমাদের ভীত করেনি। আজও আমাদের ভাবা উচিত বিশ্বের যেকোন প্রান্তের জ্ঞানকে গ্রহণ করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি কিনা। তাদের সঙ্গে আদান-প্রদানের মাধ্যমে আমরা নিজেদের জ্ঞানকে আরও শান দিতে পারবো কি ? বৈদিককাল থেকে ভারত বিশ্বের সকল জ্ঞানকে আবাহন করে আসছে। তখন থেকেই আমাদের মন্ত্র হল ‘বসুধৈব কুটিম্বকম’ – গোটা বিশ্ব আমার পরিবার ! আর যাদেরকে আমরা পরিবারের সদস্য ভাবি তারা বিশ্বের যেখানেই থাকুন না কেন তাদের জীবনযাত্রার উৎকর্ষসাধনে আমরা যথাসাধ্য করব। আমাদের ভাবি প্রজন্মকেও তেমনই পরিবেশে লালন করতে হবে।
এখন দেশ তথা বিশ্বের সর্বত্র আবহাওয়া পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। আমরা বছরে একবার ছাত্রদের দিয়ে বৃক্ষরোপন ইত্যাদি উৎসব করে থাকি। কিন্তু ১২ হাজার স্কুল যদি এই নিয়মিত রোপনকে ‘মিশন’ হিসেবে নেয়, প্রত্যেক স্কুল স্থানীয় প্রশাসনকে ন্যূনতম ১০০টি করে বৃক্ষ দত্তক নেওয়ার প্রস্তাব পেশ করে জায়গা চায় তাহলে স্থানীয় প্রশাসন অবশ্যই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। আর আপনারাও বিদ্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় প্রতি বছর ১০০টি করে বৃক্ষরোপন ও ছাত্রদের নিয়ে সেগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে পারবেন। এতে গোটা দেশে কতগুলি গাছ বাড়বে ? দেশের সমাজজীবনে কতটা পরিবর্তন আসবে ? এখন সরকারের পক্ষ থেকে একটি আন্দোলন শুরু হয়েছে, ‘বিদ্যুৎ বাঁচাও’ আন্দোলন। বিদ্যাভবনের ৩২ লক্ষ ছাত্র কি এই ‘বিদ্যুৎ বাঁচাও’ আন্দোলনের দূত হয়ে উঠতে পারে ? প্রত্যেকে নিদেনপক্ষে ১০টি প্রতিবেশি পরিবারে গিয়ে ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়’ সম্পর্কে বুঝিয়ে বললেই কাজ হবে। পাশাপাশি, ঐ দশটি পরিবার তার এই আগ্রহকে সম্মান জানাবে, তার ওপর ভরসা করবে, অল্প বয়সেই তার মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা জন্মাবে। এভাবে শৈশব-কৈশোরের দিনগুলিতেই আপনাদের ছাত্ররা দশটি পরিবারের প্রতিনিধি বা নেতা হয়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে। আমি তো একটা উদাহরণ মাত্র দিয়েছি, দেশের ভালো করতে চাইলে অনেকভাবেই করা যায়। কোথা থেকে তা শুরু করতে হবে ! এল ই ডি বাল্ব, দেশের এক কোটি শহরের রাস্তার আলো পালটে এল ই ডি আলো জ্বালাতে চলেছে। এর মাধ্যমে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে। এই ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে লক্ষ কোটি টাকা খরচ হয় আর পাঁচ-ছয় বছর সময় লাগে।আমাদের বিদ্যাভারতীর ১২ হাজার বিদ্যালয়ে এল ই ডি বাল্ব আছে কি ? এটাকে আপনারা সরকারের প্রকল্প হিসেবে নেবেন না। একবার পয়সা খরচ করে এল ই ডি বাল্ব লাগিয়ে দেখুন এখন প্রতি মাসে ৩০০ টাকা বিদ্যুতের বিল দিতে হলে এরপর থেকে প্রতি মাসে ২০০ টাকার বেশি বিল দিতে হবে না। এভাবে প্রতি মাসে ১০০ টাকা বাঁচলে ১২ হাজার বিদ্যাভারতী স্কুলে মোট ১২ লক্ষ টাকা সাশ্রয় হবে। আমি তো কখনও বিদ্যাভারতীকে কোন অনুদান দিইনি। কিন্তু এই মাসে ১২ লক্ষ টাকা সাশ্রয়ের পথ বলে দিতে পারি।
আমার এসব কথা বলার তাৎপর্য হল এখানে এসে আপনাদের প্রদর্শিত ফিল্মে দেখেছি, বিদ্যাভারতীর ছাত্র-ছাত্রীরা আবর্জনা পরিষ্কার করছে, পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে। তাদের মনে এই সংস্কার রোপন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ। উন্নয়নশীল দেশগুলির হেল্থ রিপোর্ট অনুসারে ৪০ শতাংশ শিশুদের মৃত্যুর কারণ অপরিচ্ছন্নতা, সাবান দিয়ে ভালো করে হাত না ধুয়ে খাওয়ার ফলে নানা রোগ-জীবাণুর সংক্রমণেই তাদের মৃত্যু হয়। বিদ্যাভারতীর ১২ লক্ষ ছাত্রকে কি আপনারা পরিচ্ছন্নতার দূত করে গড়ে তুলতে পারবেন ? তারা কি নিজের এলাকায় ও প্রবিবেশী এলাকার বাচ্চাদের নিয়ে পরিচ্ছন্নতার অভিযানে নেতৃত্ব দিতে পারে ? তাহলে তারা নিজের অজান্তেই পরিবেশ সুরক্ষা ও আবহাওয়া পরিবর্তন রোধের আন্দোলনেও নেতৃত্ব দেবে।
বিদ্যাভারতী ইতিমধ্যেই সংস্কারকে পুঁজি করে এত বড় আন্দোলন গড়ে তুলতে পেরেছে। এদের মনে দেশভক্তি টইটম্বুর। এদের কথাবার্তা, বাসনকোসন, উপদেশ ও সিদ্ধান্তে সারল্য ও অনাড়ম্বরতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এই সাফল্য আপনাদের বিগত চার দশকের সাধনার ফল। এই পুঁজি শুধু আপনাদের নয়, এই পুঁজি গোটা দেশের মূলধন হয়ে উঠেছে। নিজের সীমানার বাইরে গিয়ে কাজ করলে তবেই এভাবে দেশের জন্য মূলধন গড়ে তোলা যায়।
আজ যুগের দাবি হল, এই ১২ হাজার বিদ্যালয়কে প্রত্যেক রাজ্যের শীর্ষ স্কুলগুলির মধ্যে নাম লেখানোর মতো ফল করতে হবে। ১২ হাজার স্কুল ভবিষ্যতে ১৫ হাজার স্কুলের শৃঙ্খলায় পরিণত না হতে পারলেও চলবে, কিন্তু এই ১২ হাজারের মধ্যে অন্তত একটি করে প্রত্যেক রাজ্যের ‘উচ্চ-স্কুল’ হয়ে উঠতে হবে। আপনাদের সংস্কারের শক্ত ভিত রয়েছে। প্রয়োজন শুধু উৎকর্ষসাধনের লক্ষ্য স্থির করা।
আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, যত নতুন আই এ এস, আই পি এস দেখেছি, তাদের মধ্যে আচার-ব্যবহারে যাদেরকে বেশি ভালো লাগত তাদের অধিকাংশই বিদ্যাভারতীর ছাত্র-ছাত্রী। এটা কম কথা নয়। তাঁরা যত বড় অফিসারই হোক না কেন তাঁদের সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানকে আগ্রাধিকার দিতে দেখেছি। এটা কম কথা নয় ! দরিদ্র মানুষের প্রতি এত সংবেদনশীল থাকার যে শিক্ষা আপনারা দিয়েছেন, তার এই ইতিবাচক প্রয়োগ দেখে আপনারা সকলে গর্ব অনুভব করতে পারেন।
আমরা যখন বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করব, তখন কি বিদ্যাভারতীর প্রাক্তনীদের একত্র করতে পারবো ? তাঁরা বিশ্বের নানা প্রান্তে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন, অনেকে হয়তো অবসরপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁদের সকলের একটি ডিজিটাল রেকর্ড, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা উচিত। সময়ের সঙ্গে তাল রেখে চলতে হবে। ভাইজি, আজকে একটি ম্যাসেজ পাঠালে সকালে দেড় লক্ষ শিক্ষকের মোবাইল ফোনে সেই ম্যাসেজ পৌঁছবে না কেন ? এমন শিক্ষক তো কেউ নেই যার কাছে মোবাইল ফোন নেই।
আমার বলার তাৎপর্য হল, আধুনিক প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিতে হবে। আমি জানি এ বিষয়ে বিদ্যাভারতীতে দীর্ঘকাল ধরে বিতর্ক চলেছে। এখন সবাই প্রযুক্তির মাহাত্ম্য মেনে নিয়েছেন। এ থেকে রক্ষে নেই। যেটা আছে, তাকে কিভাবে সুযোগে রূপান্তরিত করা যায় ! প্রযুক্তি নিজেই একটি বড় শক্তি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে দূরত্ব আমাদের উন্নয়ন যাত্রাকে থামিয়ে দেয়। পরিবর্তনকে আমাদের মেনে নিতে হবে। মাত্র তিন মিনিটের ফিল্মের মাধ্যমে আপনারা বিদ্যাভারতী সম্পর্কে যত কিছু আমাকে জানাতে পেরেছেন তা মুখে বর্ণনা করে জানাতে গেলে আধ-ঘন্টা লাগত।
প্রযুক্তির কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে সাহেব। বিদ্যাভারতীর মতো সংস্থায় প্রত্যেকদিন ইতিবাচক কিছু হওয়া চাই। তবেই বিদ্যাভারতীর ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকদের নিয়ে সমাজ গর্ব অনুভব করবে। এই বার্তা আমরা এক ঘন্টার মধ্যে ১২ হাজার বিদ্যাভারতী স্কুলে পৌঁছে দিতে পারবো কি ? অবশ্যই পারবো !
ইতিবাচক পরিবেশকে প্রসারিত করতে আজ এই প্রযুক্তি থেকে ভালো কোন মাধ্যম হতে পারে না। নেতির জন্য গোটা দুনিয়া রয়েছে, কিন্তু কাউকে না কাউকে ইতিবাচকতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, আপনাদের পক্ষে এটা করা সম্ভব।
শিক্ষা আর সহবতকে আমি কেবল অভিভাবকদের বিষয় বলে মানি না। আমার কাছে সহবতের বড় সহজ সংজ্ঞা হল, সযত্নে গড়ে তোলা সদাচার। আপনারা অল্পবয়সী ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যেসব সদাচার শিক্ষা দেন তা-ই পরবর্তী সময়ে তাদের সহবতে পরিণত হয়। আপনারা একতা ও একান্নবর্তীতার শিক্ষা দেন যা আজকের যুগে অত্যন্ত মহার্ঘ। এই সময়ে প্রতিটি মানুষ এক একটি দ্বীপে পরিণত হচ্ছে। একান্নবর্তী পরিবারগুলি ভেঙে খানখান হয়ে পড়ছে। যারা বাসে-ট্রেনে-মেট্রোতে সবার সঙ্গে মিলেমিশে যাতায়াত করতেন তারা গাড়ি কিনে একা চলা পচ্ছন্দ করছেন। বিদ্যাভারতীর শিক্ষা এর বিপরীতে একতা ও একান্নবর্তীতার পক্ষে ভিড়ের সঙ্গে পা মেলানোর যে আনন্দ, সেই আনন্দ উপভোগের সহবতকে আমরা কিভাবে শক্তিতে পরিণত করতে পারি ?
এই সহবতের ইতিবাচক প্রয়োগে আমরা বিশ্বের যে কোন প্রান্তের মানুষ ও সেখানকার সমাজকে প্রভাবিত করতে পারবো। তবেই আমাদের কথ্যভাষার অভিধান বিস্তৃত হবে। আমাদের কথ্যভাষার অভিধানে ১,২০০ শব্দের বেশি নেই। আমরা কত দ্রুত সেই অভিধানকে লক্ষ শব্দের অভিধানে রূপান্তরিত করতে পারি, তাহলেই আমাদের ভাব প্রকাশের সামর্থ্য বৃদ্ধি পাবে। তত বেশি আমরা অন্যদের কথা, বিশ্ববাসীর কথা বুঝতে পারবো।
কল্পনা করুন, একা একটি বিদ্যালয়ের সমষ্টির অভিযান কত সুদূরপ্রসারী হতে পারে। এমনই দেশে ৫০-৫২ হাজার বিদ্যালয়সমষ্টি রয়েছে। যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকারি স্কুলের মাস্টারমশাইরা যেতে চান না, সেসব অঞ্চলে এই স্কুলগুলি পৌঁছে গিয়ে জাতির ভবিষ্যৎ মেরুদণ্ড গড়ে তোলার কাজ করছে। সমাজজীবনে পরিবর্তন আসছে। অনেকেই জীবনে শুধু একটা সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন, বিদ্যাভারতী শহরের গরিব বস্তি থেকে শুরু করে দূরদূরান্তের গ্রামগুলিতে নিজের উদ্যোগে সাধারণ মানুষকে সেবা যুগিয়ে সেই সুযোগের আকাঙ্ক্ষায় বসে থাকা মানুষদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। আপনাদের কাছে দেশের প্রত্যাশা অপরিসীম। আপনাদের পদ্ধতি মেনেই অধ্যক্ষ মহোদয়রা এই সেবাব্রতকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন নিঃসন্দেহে। পাশাপাশি দেখবেন এই স্কুলগুলি যেন ফলাফলের নিরিখেও শীর্ষে পৌঁছয়। আপনাদের প্রতি আমার এই প্রত্যাশা।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG/SB/DM
More than the Vidyarthee, your concerns are what happens to the entire Vidyalaya: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) February 12, 2016
Ask any person, from the richest to the poorest, what is your dream and the answer will be- I want to educate my children: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 12, 2016
Everybody wants to give their children a better life than what they have lead & want their children to study: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 12, 2016
When one says good education, they refer to having teachers who can make a difference in the life of a student: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 12, 2016
The lives of so many people are linked with you: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) February 12, 2016
Knowledge must come from all sides, we must keep our mind open to best practices from across the world: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 12, 2016
Can children from our schools become brand ambassadors of the movement to conserve energy: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) February 12, 2016
Cleanliness must become a Swabhav: PM @narendramodi #MyCleanIndia
— PMO India (@PMOIndia) February 12, 2016
Lets make one Vidya Bharti in every state the top school of that state: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 12, 2016
Distance from science and technology hampers our growth. Important to use as much technology as possible: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 12, 2016