পিএমইন্ডিয়া
আজ বিজয়া দশমীর পবিত্র উৎসব এবং নবরাত্রির শক্তি উপাসনার পর অন্ধ্রপ্রদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে। ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের সঙ্গে, পারম্পরিক সংস্কৃতির সঙ্গে, সংযুক্তির মাধ্যমে আধুনিক সাজে সজ্জিত অমরাবতী নগরী অন্ধ্রপ্রদেশের আশা- আকাঙ্খার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠার অপেক্ষায়। সদর্থকভাবে এবার এটি জনগণের নতুন রাজধানী হয়ে উঠবে। সেজন্যে আমি এখানকার সরকার ও জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই, অভিনন্দন জানাই ।
সরকার গঠনের পর এত কম সময়ে চন্দ্রবাবু যেভাবে এই কাজকে সম্পন্ন করতে উঠে পড়ে লেগেছেন, বিশ্বের যা কিছু উৎকৃষ্টতম – সবকিছুকে এই নগরীতে সমাহিত করার চেষ্টা চালিয়েছেন, সেজন্যে আমি চন্দ্রবাবুকে অন্তর থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই ।
আমাদের দেশ স্বাধীন হওয়ার পর খুব কমই নতুন সুপরিকল্পিত শহর নির্মিত হয়েছে। আজকের যুগে যে মাত্রায় যে মানের শহর গড়ে ওঠা উচিত, দুর্ভাগ্যবশতঃ বিগত কয়েক দশকে আমাদের দেশে তা হয়নি। কারণ এদেশে নগরায়নকে একটি সমস্যারূপে দেখা হত। সেই দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সম্ভাবনাময় উন্নয়ন কেন্দ্রগুলিকে অবহেলা করা হয়েছে। এই অবহেলার ফলে শহরগুলি অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। কিন্তু সময়ের দাবি মানলে আজ নগর উন্নয়ন ও নগরায়নকে সমস্যারূপে না দেখে সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। আজ সেজন্যেই ভারত সরকার বিশ্বের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, আধুনিক প্রযুক্তি সমূহের প্রয়োগের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১০০টি “স্মার্ট সিটি” নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।
ওই শহরগুলি যাতে অর্থনৈতিক গতিবিধির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে তার অনুকূল আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থা, কাজের জন্য হাঁটা, সবুজ পরিবেশ এবং বর্জ্যকলুষহীন নির্মল শহর নির্মাণের অনুকূল প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আমি আশা করি, নগরোন্নয়নের এই বিপুল কর্মযজ্ঞে অন্ধ্রপ্রদেশের নতুন সুপরিকল্পিত রাজধানী অমরাবতী পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করবে।
একটু আগেই জাপানের মন্ত্রী মশাই বলছিলেন, নতুন শহর নির্মাণ কতো কঠিন, তার অভিজ্ঞতা জাপানের রয়েছে। আমার জীবনেও তেমন সুযোগ এসেছে, ২০০১-এ গুজরাটে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের পর সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যেভাবে পুনর্নির্মাণ এবং পুনর্বাসনের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল।
আমাদের গোটা কচ্ছ জেলা এবং অন্যান্য জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলি এক প্রকার ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়েছিল। জনতা জনার্দনের অকুন্ঠ সমর্থনে ও সহযোগিতায় আমরা সে কাজ সুচারুভাবেই সম্পন্ন করতে পেরেছিলাম। ফলস্বরূপ কচ্ছ আজকের ভারতে দ্রুতগতিসম্পন্ন জেলাগুলির অন্যতম, অন্যান্য ধ্বস্ত শহরগুলিরও চেহারা পাল্টে গেছে।
অমরাবতীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আমন্ত্রণ পেয়ে আমি তখুনি চন্দ্রবাবুকে বলেছিলাম যে, আসবো। তারপর, যখন খবরের কাগজে পড়লাম যে চন্দ্রবাবু নিজে তেলাঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি গিয়ে তাঁকেও এই অনুষ্ঠানে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তখন আমি আরও খুশি হয়েছি। এই আন্তরিকতার জন্যও তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।
কিছু মানুষের নিহিত স্বার্থের পূর্তি নিশ্চিত করতে এতো তাড়াহুড়ো কড়ে অন্ধ্র আর তেলাঙ্গানার বিভাজন হয়েছে। কিন্তু এই গোটা প্রক্রিয়ায় যে নির্দোষ সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের সম্পত্তির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, সেই দুঃখ আজও হৃদয়ে রয়ে গেছে। ইংরেজরা এমন অনেক কিছু পেছনে রেখে গেছে যার জন্য আজ পর্যন্ত কোনও না কোনও বিবাদ টিমটিম করে জ্বলতে জ্বলতে এক সময় দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। বিগত সরকারও তেমনই অপরিণামদর্শী কিছু কাজ করে গেছে, যার ফলে প্রায়ই অন্ধ্র ও তেলাঙ্গানার মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কিন্তু, সময়ের দাবি হল সহিষ্ণুতা। অন্ধ্র হোক কিংবা তেলাঙ্গানা, আমাদের আত্মা হল তেলেগু/তেলেগু আত্মার দুই হাত হল তেলাঙ্গানা আর অন্ধ্র/আমরা চাই উভয় রাজ্যেই থাকুক/উন্নয়ন হোক/উভয় রাজ্য পরস্পরের পূরক হয়ে ভারতের সম্মান বৃদ্ধির উপাদান হয়ে উঠুক।
আমার বিশ্বাস, ভারত সরকার যে ‘স্টার্ট আপ’ অভিযান শুরু করেছে তার সর্বাধিক উপযোগের ক্ষমতা এই দুই রাজ্যের রয়েছে। এই দুই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ প্রতিভাবান সন্তান-সন্ততি তাদের উদ্ভাবন শক্তির পরিচয় গোটা বিশ্বে পেশাদারিত্বের পরাকাষ্ঠা হয়ে উঠেছেন।নবীন প্রজন্মের এহেন আবিষ্কারকরা আমাদের ‘স্টার্ট আপ’ কর্মসূচিকে কাজে লাগিয়ে এই দুই রাজ্যে তাদের নতুন সাম্রাজ্য স্থাপন করতে পারেন, অদূর ভবিষ্যতে দেশে আগামী অর্থনৈতিক বিপ্লবের নেতৃত্ব দিতে পারেন। যে দেশের ৮০ কোটি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নীচে সেই দেশ অদূর ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক বিপ্লবের জয়ধ্বজা উড়িয়ে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে।
অন্ধ্র এবং তেলাঙ্গানা এখন আলাদা রাজ্য হলেও উভয়ের অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি রয়েছে। উভয় রাজ্য যতই পরস্পরের পরিপূরক হয়ে উঠবে উভয় রাজ্যের জনগণের অগ্রগতির পথও তত প্রশস্ত হবে।
অটল বিহারী বাজপেয়ী যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন দেশে তিনটি নতুন রাজ্য জন্ম নিয়েছিল। কিন্তু, ওই তিনটি রাজ্যের বিভাজনে কোনও তিক্ততা সৃষ্টি হয়নি, কোনও সংঘর্ষ হয়নি, রক্তক্ষয় হয়নি, পরবর্তী সময়েও কোনও সংকট সৃষ্টি হয়নি। আমি অন্ধ্র ও তেলাঙ্গানার মধ্যেও তেমনই সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।
এমনি বিগত সরকারের অনেক দুষ্কর্মকে ঠিক করতে আমাদের অনেক সময় ও শক্তি ব্যয় করতে হচ্ছে। কিন্তু আমি এই দুই রাজ্যের নাগরিকদের আশ্বস্থ করতে চাই যে ভারত সরকার সর্বান্তকরণে আপনাদের পাশে থাকবে, আপনাদের যথাসম্ভব সাহায্য করবে।
ভারত সরকার আর চন্দ্রবাবুর নেতৃত্বে গঠিত অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের ফ্রিকোয়েন্সি এতো মেলে যে পরস্পরকে বুঝে কাজ করতে আনন্দ হয়। সেজন্যই সরকার গঠনের পর আমরা মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। অন্ধ্রপ্রদেশে মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি প্রধান কেন্দ্র গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। রিঅর্গানাইজেশন অ্যাক্ট – এর মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইতিমধ্যেই ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি (আই.আই.টি.), ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি, ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট, অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্স, এন.আই.টি., ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি, পেট্রোলিয়াম ইউনিভার্সিটি – এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে এতো অল্প সময়ের মধ্যে সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিক করে তোলার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আপনারা সকলে নিজের নিজের গ্রাম থেকে পবিত্র মাটি এবং জল বয়ে এনে নতুন রাজধানীর মাটিতে মিশিয়ে একে প্রজাদের এই রাজধানী নির্মাণের সদর্থক আয়োজন করেছেন। আপনাদের এই পরিকল্পনার কথা জেনে আমি ভারতীয় গণতন্ত্রের মন্দির – সংসদ ভবন পরিসর থেকে মাটি আর যমুনা নদীর জল নিয়ে এসেছি। আমাদের দেশের কোনও নদীই নিছক নদী নয়, এগুলি নদী আমাদের সংস্কৃতির প্রতীক। আমি এই মাটি ও জল চন্দ্রবাবুর হাতে তুলে দিলে তিনি আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, আপনি আবার আমার হৃদয় ছুঁয়ে দিলেন! আমি অন্ধ্রবাসীদের বলতে চাই, এর মাধ্যমে আমি দেশের রাজধানীকে অমরাবতী পৌঁছে দেওয়ার বার্তা দিতে চেয়েছি। অন্ধ্রের উন্নয়নে দিল্লি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ – এই আশ্বাস দিয়ে চেয়েছি।
অন্ধ্র আর তেলাঙ্গানা বিভাজনের মাধ্যমে একটি বিষবৃক্ষ রোপণের সুপ্ত ইচ্ছা যাদের ছিল, আজও যারা এই বিষবৃক্ষকে ফলবতী করতে সার জোগাচ্ছেন, নানা ধরণের গুজব রটনার মাধ্যমে জনমানসে ভ্রম সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, দুই রাজ্যের নবীন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছেন, তাদেরকে ধিক্কার জানাই। আমি আজ দুই রাজ্যের নাগরিক
দের আশ্বস্ত করছি রিঅর্গানাইজেশন অ্যাক্ট-এর প্রতিটি শর্তকে অক্ষরে অক্ষরে পালনের মাধ্যমে ভারত সরকার আপনাদের উন্নয়নের সহযোগী হবে।
আপনারা চন্দ্রবাবু এবং নরেন্দ্র মোদীর যৌথ প্রয়াসে বিশ্বাস রাখুন, আমরা যথাশীঘ্র সম্ভব সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবে রূপায়িত করবো। অন্ধ্রের স্বপ্ন সাকার হবেই। আমার সঙ্গে বলুন –
– ভারতমাতা কী জয়
– ভারতমাতা কী (জয়)
– ভারতমাতা কী (জয়)
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG/SB/SB
Congratulations to people & Govt. of AP for today's historic programme. May Amaravati emerge as a people's capital & world class city. @ncbn
— Narendra Modi (@narendramodi) October 22, 2015
From the national capital to the upcoming state capital…soil from our Parliament & water from the Yamuna.
https://t.co/EBHWGY6c1M
— Narendra Modi (@narendramodi) October 22, 2015
The way @ncbn took up work on this (new capital) & integrated whatever is best across the world, he must be congratulated: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 22, 2015
This is on the way to becoming a people's capital. I congratulate the people and Government of the state: PM @narendramodi @AndhraPradeshCM
— PMO India (@PMOIndia) October 22, 2015
Today Andhra Pradesh is taking a very important step: PM @narendramodi https://t.co/M528F8nmst
— PMO India (@PMOIndia) October 22, 2015
Be it AP or Telangana, the soul is Telugu. Both states must progress: PM @narendramodi @ncbn @AndhraPradeshCM @TelanganaCMO
— PMO India (@PMOIndia) October 22, 2015
I have got soil from the temple of democracy, the Parliament complex and water from the Yamuna river: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 22, 2015
Reciting a few lines in Telugu. We are all very optimistic about Amaravati & want to see this city shine.
https://t.co/bDjNDyCyYD
— Narendra Modi (@narendramodi) October 22, 2015