Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

অবিশ্বাস্য ভারতীয় পুরস্কার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

অবিশ্বাস্য ভারতীয় পুরস্কার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


উপস্থিত সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ,

অবিশ্বাস্য ভারত এবং বিস্ময়কর ভারতীয় …… আমি টাইমস্‌ নাও’কে অভিনন্দন জানাই যে তারা সমাজের সেই বীরদের তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, যাঁরা কখনও নিজেদের জন্য উজ্জ্বল হয়ে ওঠেননি। তাঁরা খনিনিসৃত হীরের মতো অমার্জিত, তাঁদের যাত্রাপথ যন্ত্রণাক্লিষ্ট, বেঁচে থাকার জন্যই তাঁরা নিজের জীবন বিপন্ন করে নান ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ঝাপিয়ে পড়েন। সমাজ এবং বিশ্বকে উজ্জ্বল করার জন্য তাঁরা সংঘর্ষ করেন এবং বিশেষ কিছু করে নিজের পেট ও সংসার প্রতিপালন করেই খুশি থাকেন।

আমাদের দেশের দুর্ভাগ্য, আমাদের দেশে শুধু রাজ-রাজাদের কীর্তির কথা রাজপরিবার ও প্রশাসকদের কীর্তিকাহিনীই লেখা হয়েছে। এই দেশকে পরাধীন করে রাখার জন্য চিন্তাপ্রসূত রণনীতির অংশও ছিল দেশের অধিকাংশ মানুষের কথা না লিখে শুধু বিত্তশালী মানুষদের কথা লিখে রাখা।

বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক প্রেমচন্দ্রের সাহিত্য পড়লে আমরা দেখতে পাই, পরাধীন ভারতে মানুষ কিভাবে জীবনধারণ করতেন। সেজন্যই আমাদের নিজেদের আন্তরিক শক্তিকে অনুভব করতে হলে নিজেদেরকে ভালোভাবে চিনতে হলে যাঁরা অন্ধকার কুয়াশার করালগ্রাসে জীবনধারণ করছেন, তাঁদের পরিস্থিতি বুঝতে হবে। অনেকে ভাবেন যে, সকল প্রকার সুবিধা, প্রতিকূল ব্যবস্থা ও পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁদের জন্য কিছু করা সম্ভব। অধিকাংশ লোকই এরকম ভাবেন। আমি তাঁদের বলি, আপনাদের ঘুম না এলে পাঁচ তারা হোটেলে আপনাদের জন্য ভালো ঘর বুক করে দিলে, আপনার প্রয়োজন মতো তাপমাত্রা, পছন্দসই গদি দেওয়া হলেও, এমনকি আপনার পছন্দের গান শোনানো হলেও আপনার ঘুম আসার নিশ্চয়তা থাকে না।

সবসময় প্রতিকূল ব্যবস্থা এবং সুযোগ-সুবিধাই সকল সমস্যার সমাধান নয়। আপনার অন্তরে আগুন থাকলে, আপনার অন্তরে বিদ্যুৎ থাকলে যে কোনও পরিস্থিতিকে পরাভূত করার শক্তি জন্মায়। বিশ্বে যাঁরাই কিছু করে দেখিয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগই জীবনের অধিকাংশ সময় সংঘর্ষ করে কাটিয়েছেন। বিশ্বের যে কোনও দেশের যে কোনও অঞ্চলেরই ইতিহাস যদি দেখেন তা হলে দেখবেন, সমাজ যাঁদের নীচু ভাবে দেশ গঠনে তাঁদের ভূমিকাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। রামায়ণে রাম, লক্ষণ, সীতা যাঁদের কথাই পড়ুন না কেন, আমরা সেই কাঠবিড়ালীটিকে কখনই ভুলতে পারি না, সেতু নির্মাণে যার অবদানকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন স্বয়ং রামচন্দ্র। সম্পূর্ণ রামায়ণ ভুলে গেলেও দণ্ডক শর্বরীকে ভোলা সম্ভব নয়। শ্রীকৃষ্ণের অনেক রূপ হয়তো মনে পড়ে কিন্তু সুদামা’কে কেউ ভুলতে পারেন না, সেই গোয়ালাদেরও ভোলা সম্ভব না। ছত্রপতি শিবাজী এত বড় সাম্রাজ্য গড়েছিলেন কিন্তু সেসব স্বল্প পরিচিত গ্রামীণ যোদ্ধারা একদিন সিংহগড় জেতার জন্য আত্মবলি দিয়েছিলেন তাঁদের কথা ভোলা সম্ভব না। শিখদের গুরু পরম্পরার কথা ভাবুন, পঞ্জপ্যায়ারে’কে ভোলা যায় না। পঞ্জপ্যায়ারের সকলেই কিন্তু সাধারণ মানুষ ছিলেন। কিন্তু তারা একটি মহান পরম্পরার জন্ম দিয়েছিলেন। এমনই যুগে যুগে সাধারণ মানুষরাই ইতিহাসকে বদলে দেন, সমাজের চিন্তাভাবনা বদলে দেন।

আমাদের দেশের দুর্ভাগ্য যে স্বাধীনতার পরও আমরা রাজানুকূল্য পছন্দ করি, নেতাদের বেশি প্রাধান্য দিই। তাঁদেরকে যতটা সম্মান দেওয়া উচিত, তারচেয়ে বেশি সম্মান কেন দেবেন। একজন শিক্ষক তাঁর জীবনকালে যদি ২০০ সুনাগরিক তৈরি করে থাকেন, তারমধ্যে যত বেশি চিকিৎসক, প্রযুক্তিবিদ, সাহিত্যিক তৈরি করে যেতে পারেন তাঁর তত বেশি নাম হয়। কিন্তু, তিনি যদি একজন বড় শিল্পপতি তৈরি করে যেতে পারেন, তা হলে তাঁর নামে একটি রাস্তার নাম হয়, একটি চৌমাথাকে তাঁর নামে চেনা যায়। কখনও কখনও কোনও চৌমাথায় তাঁর প্রস্তরমূর্তিও স্থাপিত হয়।

রাজনীতিবিদদের মধ্যে যাঁরা সমাজের জন্য উৎসর্গীকৃত সেরকম মহাত্মার সংখ্যা কোটিতে একজনেরও কম। আমাদের কৃষিজগতের দিকে যদি তাকান, যত আবিষ্কার আমরা গবেষণাগার থেকে পেয়েছি, বৈজ্ঞানিকদের থেকে পেয়েছি, তার থেকে অনেক বেশি আমরা পেয়েছি সাধারণ কৃষকদের নিত্যনৈমিত্তিক প্রয়োগ এবং ফলিত কৃষি গবেষণা থেকে। কিন্তু সেদিকে আমরা তাকাই না। সমাজের শক্তিকে চিনতে হবে। সমাজের শক্তিকে রাষ্ট্রশক্তির সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে তবেই রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি বোঝা যায়। সেজন্য যাঁরাই কিছু করেছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে করে দেখিয়েছেন। নিজেদের জীবন বিপন্ন করে অন্যদের বাঁচতে শিখিয়েছেন। এই দৃষ্টান্তস্বরূপ মানুষরা একেকজন এমন প্রদীপ যাঁরা সহস্র প্রদীপ জ্বালিয়েছেন। আজকের ভারতের এমনই উজ্জ্বল প্রদীপ, একেকজন উজ্জ্বল রত্নকে দর্শন করার সৌভাগ্য আজ আমরা পেয়েছি। ভারতের প্রতিটি প্রান্তে এঁদের মতো এমনই অসংখ্য রত্ন রয়েছেন, তাঁদের শক্তিকে আমরা কিভাবে চিনতে পারবো?

ভারতের মূল দর্শন হল ‘তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জীথা!’ ত্যাগ ভারতের মূল দর্শনের অঙ্গ। অর্থাৎ, ত্যাগের মাধ্যমেই এই ধরণের জীবন গড়ে তোলা সম্ভব। এই জীবন অন্যদের প্রেরণা জোগায়। এঁদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব বীরগাথা রয়েছে, নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আজকের অনুষ্ঠানের পর অনেকেই তাঁদের প্রতি আকৃষ্ট হবেন, তাঁরা আরও অনেক কিছু করার সুযোগ পাবেন। তবে এই ধরণের মানুষরা অল্পেতেই সন্তুষ্ট থাকেন। কারণ, এঁরা ‘স্বান্তঃ সুখায়’। কেউ তুলসীদাসজী’কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনি এগুলি কেন করেন? মহাত্মা তুলসীদাস তার উত্তরে বলেন, ‘ভাই এসব করে আমি আনন্দ পাই, হয়তো অন্যরা এগুলি মেনে নেবেন, আমি স্বান্তঃ সুখায় করি, নিজের আনন্দের জন্য করি”। এই মানুষরাও নিজের আনন্দের জন্য বিশেষ পারদর্শিতা দেখিয়ে অন্যদেরও আনন্দ দেন। পেটে খিদে থাকলেও তাঁরা অপরকে আনন্দ দিয়ে শৈল্পিক প্রদর্শনে নিমজ্জিত থাকেন। সেজন্যই তাঁদের মহান শিল্পকে আমরা কতটা তুলে ধরতে পারবো, কিভাবে তুলে ধরতে পারবো, তা সন্দেহ রয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ কিভাবে তাঁদের থেকে প্রেরণা পাবেন। আমি আরেকবার এই সকল রত্নদের শ্রদ্ধা জানাই, অভিনন্দন জানাই, তাঁরা এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা শুনে ও পড়ে মানুষ প্রেরণা পাবেন। আমি টাইমস্‌ নাও-এর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে তারা আমাকে এই ধরণের মহান শিল্পীদের কাজ, স্বপ্ন, তাঁদের জীবনকে জানার ও সম্মানিত করার সুযোগ দিয়েছেন। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SB/SB