Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

অরুণাচল প্রদেশের ইটানগরে বিবিধ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

অরুণাচল প্রদেশের ইটানগরে বিবিধ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

অরুণাচল প্রদেশের ইটানগরে বিবিধ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

অরুণাচল প্রদেশের ইটানগরে বিবিধ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা,

 

উদীয়মান সূর্য প্রাণশক্তি, আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। অরুণাচল প্রদেশের নাম তো সূর্যের নামেই। কারণ এটি উদীয়মান সূর্যের ভূমি। সেজন্য এই ভূমি গোটা দেশের জন্য বিশ্বাসের প্রতীক। অরুনাচল প্রদেশ আমাদের বিশ্বাসকে শক্তি যোগায়, আমাদের সঙ্কল্পকে আরও দৃঢ় করে তোলে। বিগত ৫৫ মাসে আমি অনেকবার আপনাদের মাঝে এসেছি। আপনাদের আশীর্বাদ আমাকে নিরন্তর নতুন প্রাণশক্তি নিয়ে দেশের জন্য কাজ করতে প্রেরণা যোগায়। এই রাজ্যে যে কোন নাগরিক পরস্পরের সঙ্গে দেখা হলে ‘জয় হিন্দ’ বলে সম্বোধন করে। শুনে এত ভালো লাগে, এত প্রাণশক্তি সঞ্চার হয় যে আমি মনে মনে ‘জয় হিন্দ’ উচ্চারণ করা নাগরিকদের ভূমি এই রাজ্যকে প্রণাম জানাই।

 

বন্ধুগণ, বিগত ৫৫ মাসে কেন্দ্রের এনডিএ সরকার এবং আমার বন্ধু খান্ডুজির নেতৃত্বে এ রাজ্যের বিজেপি সরকার অরুণাচল প্রদেশের উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য, আপনাদের জীবনকে সহজ করে তোলার জন্য সম্পূর্ণ নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করে চলেছে। আজও এখানে অরুনাচল প্রদেশের উন্নয়নে ৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে নির্মিত কিংবা নির্মীয়মান প্রকল্পের উদ্বোধন কিংবা শিলান্যাস করার সৌভাগ্য হয়েছে।

 

এই প্রকল্পগুলি ছাড়াও আপনাদের রাজ্যে প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এই প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ হলে এ রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত হবে এবং রাজ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে অনেক এগিয়ে যাবে। তাছাড়া, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত হবে, সংস্কৃতি ক্ষেত্রেও নতুন প্রাণশক্তি সঞ্চার হবে। সেজন্য আপনাদের সকলকে অনেক শুভেচ্ছা।

 

ভাই ও বোনেরা, স্বাধীনতার পর থেকে ৫৫ বছর ধরে একটিই দল শাসন করে এসেছে। আর বিগত ৫৫ মাস ধরে বিজেপি সরকার শাসন করছে। আপনারা পাশাপাশি রেখে তুলনা করলেই বুঝতে পারবেন অরুণাচল প্রদেশ তথা সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতে কারা বেশি কাজ করেছেন।

 

এরাজ্যে সমৃদ্ধ জলসম্পদ রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের অভূতপূর্ব সম্ভাবনা রয়েছে। যে গতিতে এ রাজ্যের উন্নয়ন হওয়া উচিৎ ছিল, তা হয়নি। দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এতদ্‌সত্ত্বেও এখানে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নির্মাণ হয়নি। এ রাজ্যের নবীন প্রজন্মের কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে সীমান্তে মোতায়েন সৈনিকদের সামর্থ্য বৃদ্ধির উপযোগী যোগাযোগ ব্যবস্থা – কোন কিছুর দিকেই নজর দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমাদের সরকার এই করুণ পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি বারবার বলেছি যে নতুন ভারত তখনই পূর্ণ শক্তি নিয়ে বিকশিত হতে পারবে যখন পূর্ব ভারত তথা উত্তর-পূর্ব ভারত দ্রুতগতিতে বিকশিত হবে। এই বিকাশ সম্পদ এবং সংস্কৃতির গৌরব – উভয়ের নিরিখেই হওয়া প্রয়োজন। এই বিকাশের ভিত্তি হওয়া উচিৎ ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলকে যুক্ত করার পাশাপাশি জাতি, ভাষা, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সঙ্গে মানুষকে একসূত্রে বাঁধা।

 

ভাই ও বোনেরা, আমরা বিগত ৫৫ মাস ধরে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ মন্ত্র নিয়ে অরুণাচল প্রদেশ তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নে দ্রুতগতিতে কাজ করে চলেছি। এজন্য কখনও অর্থ কিংবা ইচ্ছাশক্তির অভাব অনুভূত হতে দিইনি। এই সামান্য সময়ের মধ্যেই উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে ৪৪,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে উন্নয়নের কাজ করা হয়েছে, যা কিনা বিগত সরকারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ অরুণাচল প্রদেশে একটি বিমানবন্দরের উদ্বোধন এবং আরেকটির শিলান্যাস করা হয়েছে। অথচ স্বাধীনতার পর থেকে এতবছর ধরে এ রাজ্যে একটিও এমন বিমানবন্দর ছিল না যেখানে নিয়মিত বড় যাত্রীবাহী বিমান নামতে পারে! আকাশপথে এলে গুয়াহাটি থেকে হেলিকপ্টারে আসা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকত না! গুয়াহাটি থেকে সড়কপথে সারাদিন লেগে যায়।

 

বন্ধুগণ, আজ থেকে তেজু বিমানবন্দর সাধারণ যাত্রী পরিষেবার জন্যে উন্মুক্ত। অথচ তেজু বিমানবন্দর প্রায় ৫০ বছর আগেই বিমান পরিষেবার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল। আমাদের সরকার এই অব্যবহৃত বিমানবন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক পরিষেবা গড়ে তুলতে প্রায় ১২৫ কোটি টাকা খরচ করে এটিকে চালু করেছে। আজ থেকে তেজুর সঙ্গে গুয়াহাটি, জোরহাট এবং বালোং-এর নিয়মিত বিমান যোগাযোগ চালু হবে। অরুণাচল প্রদেশ প্রাকৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। দিল্লি এবং দেশের বড় বড় শহরে যদি এখান থেকে নিয়মিত তাজা ফুল যায়, তাহলে মানুষ তাকিয়েই থাকবে। বিমানবন্দর চালু হওয়ার ফলে এখন কয়েক ঘন্টার মধ্যেই এ রাজ্যের ফল-ফুল ভারতের বড় বড় বাজারগুলিতে পৌঁছে যাবে। আমাদের কৃষকদের রোজগার বৃদ্ধি পাবে।

 

বন্ধুগণ, কয়েক মাস আগেই অরুণাচল প্রদেশের জন্য বাণিজ্যিক বিমান পরিষেবা শুরু হয়েছে। এখন এই বিমানবন্দরের বিস্তারের ফলে আপনাদের দ্বিগুণ লাভ হবে। পাশাপাশি, আজই প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মীয়মান হোলোঙ্গি গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরের শিলান্যাস হয়েছে। কয়েক মাস আগেই দেশের ১০০তম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রথম গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর পাকিয়ং-এ উদ্বোধন করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি যে উত্তর-পূর্ব ভারতের এই দ্বিতীয় গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরটির উদ্বোধনও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই করার চেষ্টা করা হবে। আর আপনারা জানেন, আমি যে প্রকল্পের শিলান্যাস করি, তার উদ্বোধনও আমিই করি।

 

বন্ধুগণ, আকাশপথের পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথে অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে ভারতের অন্যান্য প্রান্তের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করে তোলা হচ্ছে। প্রায় ৭ কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মীয়মান সুড়ঙ্গপথটিও দ্রুত নির্মাণের প্রচেষ্টা করা হবে। এই সুড়ঙ্গপথ তৈরি হলে বালিপাড়া থেকে তাওয়াং পর্যন্ত পৌঁছনো খুব সহজ হবে। যে কোন ঋতুতে সারা বছর ধরে যাতায়াতের সমস্যার সমাধান হবে। সম্প্রতি, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর রাজ্যের সর্ববৃহৎ রেল-রোড ব্রিজ বোগিবিল সেতুর উদ্বোধনের সৌভাগ্য আমার হয়েছে। এর ফলে, অরুণাচল প্রদেশের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থা এখন অনেক বেশি সুগম হয়েছে।

 

ভাই ও বোনেরা, অরুণাচল প্রদেশের গ্রামে গ্রামে এবং শহরে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চালু করেছে। প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মীয়মান নতুন জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণের পাশাপাশি বিগত দু’বছরে প্রায় এক হাজার গ্রামকেও সড়কপথে যুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ৪,০০০ কোটি বিনিয়োগে নির্মীয়মান ট্রান্স-অরুণাচল হাইওয়ে নির্মাণের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

 

বন্ধুগণ, অরুণাচল প্রদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার কাজও আমরা করছি। উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রতিটি রাজ্যের রাজধানীকে রেলপথে যুক্ত করার প্রক্রিয়ায় ইটানগরকেও রেল মানচিত্রে যুক্ত করা হয়েছে। নাহরলাঙ্গুন থেকে দিল্লি পর্যন্ত অরুণাচল এসি এক্সপ্রেস এখন সপ্তাহে দু’বার আসা-যাওয়া করে। তাছাড়া, সমগ্র অরুণাচল প্রদেশে রেল নেটওয়ার্ক বিস্তারের জন্য সাত জায়গায় সার্ভের কাজ চলছে। এর মধ্যে তিন জায়গায় সার্ভের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। তাওয়াং-কেও রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার জন্য একটি বড় প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

 

ভাই ও বোনেরা, মহাসড়ক, রেল ও আকাশপথের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আজ আমি ‘সৌভাগ্য যোজনা’র মাধ্যমে অরুনাচল প্রদেশের প্রায় প্রত্যেক পরিবারে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পারার জন্য শ্রদ্ধেয় মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর গোটা টিমকে ধন্যবাদ জানাই। আজ অরুণাচল প্রদেশে যে কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে, অতি দ্রুত তা গোটা দেশে সম্পূর্ণ হবে। বিগত এক-দেড় বছরে ‘সৌভাগ্য যোজনা’র মাধ্যমে দেশের প্রায় আড়াই কোটি পরিবারে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

 

বন্ধুগণ, প্রত্যেক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি, তাঁরা যাতে যথাযথ বিদ্যুৎ পান তা সুনিশ্চিত করতে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দিয়েছে। আজই আমার ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধনের সৌভাগ্য হয়েছে। এর মাধ্যমে অরুণাচল প্রদেশ ছাড়াও উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্য কয়েকটি রাজ্যও উপকৃত হবে। তাছাড়া, এ রাজ্যে প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ সংবহন ব্যবস্থা সংস্কারের কাজ। এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হলে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তিক অঞ্চলে উন্নত পর্যায়ের বিদ্যুৎ সংবহন সম্ভব হবে। পাশাপাশি, আরেকটি বড় কাজ হবে এখানকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা। বন্ধুগণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি এবং বিদ্যুতের মতো প্রাথমিক পরিষেবা যখন কোন রাজ্যে গড়ে ওঠে, তখন সাধারণ মানুষের জীবন যেমন সুগম হয়, পর্যটনের প্রসারও ঘটে। পর্যটন এমন একটা ক্ষেত্র যেখানে প্রত্যেকে রোজগার করতে পারে। গাইড থেকে শুরু করে হোটেল মালিক, কর্মচারী, ট্যাক্সি চালক, দোকানদার, খেলনা বিক্রেতা, ফুল-ফল বিক্রেতা এমনকি, চাওয়ালারও রোজগার বাড়ে।

 

গতকাল আমি উত্তর-পূর্ব ভারতের সৌন্দর্য্য এবং পর্যটনের সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে একটি ট্যুইট করেছিলাম। আর সবাইকে অনুরোধ করেছিলাম যে তাঁরা যদি উত্তর-পূর্ব ভারতে বেড়াতে গিয়ে থাকেন, তাহলে নিজেদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা সহ একটি ফটো শেয়ার করুন। আমি অবাক হয়ে দেখি যে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ উত্তর-পূর্ব ভারতে তাঁদের অতুলনীয় অভিজ্ঞতার কথা ট্যুইট করে জানায় এবং ফটো ট্যুইট করে। শুধু দেশের মানুষ নয়, অনেক বিদেশি পর্যটকও ট্যুইট করেছেন। এভাবেই আমরা পর্যটনকে জনপ্রিয় করে তুলতে চেষ্টা করছি। আপনারাও যদি সেই ‘হ্যাশট্যাগ’-এ গিয়ে দেখেন, অবাক হয়ে যাবেন যে কিভাবে দেশ ও বিশ্বের মানুষ সেখানে তাঁদের উত্তর-পূর্ব ভারতের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে গর্ব অনুভব করছেন।

 

অরুণাচল প্রদেশের জন্য প্রকৃতি যেমন উদারহস্ত, আধ্যাত্ম এবং আস্থার সঙ্গে যুক্ত স্থানেরও এখানে কোন অভাব নেই। নতুন বিমানবন্দর চালু হওয়ার ফলে, নতুন রেল লাইন বিস্তারের ফলে এ রাজ্যে এখন দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হবে। অরুণাচল প্রদেশের অর্থ ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।

 

ভাই ও বোনেরা, কেন্দ্রীয় সরকার দেশের প্রত্যেক অঞ্চলের সংস্কৃতি, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস ও যাবতীয় বিশেষত্বকে সুরক্ষিত এবং সংরক্ষিত করার জন্য আরও সক্রিয় হতে দায়বদ্ধ। এই বৈচিত্র্যই ভারতের অমূল্য সম্পদ। আমাদের গর্ব। আর ভারতীয় জনতা পার্টির ভাবধারায় ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি নিবিড় টান রয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের সংস্কৃতিকে সুরক্ষিত এবং সংরক্ষিত রাখার জন্য আমাদের সরকার এখানকার নিজস্ব ২৪ ঘন্টা টিভি চ্যানেল ‘অরুণপ্রভা’ চালু করেছে। এই টিভি চ্যানেলের জন্য যাবতীয় আধুনিক পরিষেবা চালু করা হয়েছে। এই চ্যানেলের মাধ্যমে এখন রাজ্যের দূর-দুরান্তের খবর আপনারা দ্রুত পাবেন। আশা করি, এই চ্যানেল স্থানীয় সংস্কৃতি ও পরম্পরার একটি উন্নত বাহক হয়ে উঠবে। গোটা দেশের সঙ্গে অরুণাচল প্রদেশের সৌন্দর্য্যের পরিচয় ঘটাবে। এভাবেই জোটে-তে নির্মীয়মান ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে স্থানীয় যুবক-যুবতীরা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ফিল্ম ও টেলিভিশন সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। ফলে, স্থানীয় সংস্কৃতির উন্নত অভিব্যক্তি তুলে ধরা সম্ভব হবে।

 

ভাই ও বোনেরা, আমাদের সরকার উন্নয়নের পঞ্চধারা অর্থাৎ, ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা, যুবকদের কর্মসংস্থান, বয়স্কদের ঔষধ, কৃষকদের সেচ এবং প্রত্যেক মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। বিশেষ করে, ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি, দেশের প্রত্যেক ছেলে-মেয়েকে সুলভ এবং উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ঐতিহাসিক কাজ করছে। ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’র মাধ্যমে স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। আর গরিবদের কঠিন রোগের চিকিৎসার জন্য বিনামূল্যে বড় হাসপাতালে চিকিৎসা সুনিশ্চিত করা হচ্ছে।

 

বন্ধুগণ, আজ এখানে যে ৫০টি স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে, সেগুলির মাধ্যমে দূর-দুরান্তের এলাকায় উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছনোর পাশাপাশি, কঠিন রোগ চিহ্নিতকরণ সম্ভব হবে, বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা এবং আপৎকালীন পরিস্থিতিতে এই স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্রগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

বন্ধুগণ, অরুনাচল প্রদেশের গরিব পরিবারগুলিও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো ‘আয়ুষ্মান ভারত’ বা ‘মোদী কেয়ার’ দ্বারা উপকৃত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কঠিন রোগের ক্ষেত্রে গরিব পরিবারগুলি বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা পেতে পারে। এই প্রকল্প শুরু হওয়ার পর এখনও ১৫০ দিন পেরোয়নি, কিন্তু ইতিমধ্যেই প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসার সুবিধা পেয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে যে পেমা খান্ডুজির নেতৃত্বাধীন সরকার এই প্রকল্পকে অরুণাচলের সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

 

বন্ধুগণ, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি, দেশের কৃষকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য এ বছর বাজেটে কৃষকদের জন্য অনেক বড় প্রকল্প আনা হয়েছে – ‘পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি’। এর মাধ্যমে ৫ একর বা তার থেকে কম পরিমাণ জমির অধিকারী কৃষক পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি ৬ হাজার টাকা জমা করবে। প্রত্যেক বছর করবে। বছরে তিন কিস্তিতে ২ হাজার টাকা করে জমা করা হবে যাতে তাঁরা কৃষিক্ষেত্রে বিনিয়োগ নিশ্চিন্তভাবে করতে পারেন। অরুণাচল প্রদেশের কৃষকরাও এর মাধ্যমে অনেক উপকৃত হবেন।

 

ভাই ও বোনেরা, কৃষিকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার পাশাপাশি, আমরা জৈব চাষকেও উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাকে বলা হয়েছে যে এখানকার সরকার এই লক্ষ্যে অনেক দ্রুতগতিতে কাজ করে চলেছে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে এক্ষেত্রে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে যা সাহায্য দরকার সবই করা হবে।

 

ভাই ও বোনেরা, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অহঙ্কার। ভারতের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার সিংহদ্বারও বটে। বিজেপি সরকার এই সিংহদ্বারকে মজবুত করার কাজ চালিয়ে যাবে। আপনাদের সকলের আশীর্বাদে, আপনাদের এই প্রধান সেবক, অরুণাচল সহ সমগ্র পূর্ব ভারতকে উন্নয়ন ক্ষেত্র গড়ে তোলার কাজ করে চলেছে। আরেকবার আজ শুভারম্ভ হওয়া প্রকল্পগুলির জন্য আমার প্রিয় সমস্ত অরুণাচলবাসী ভাই-বোনেদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আপনাদের মুখে সব সময় জয় হিন্দ উচ্চারণ আমাকে প্রভাবিত করে। আমার সঙ্গে বলুন –

 

জয় হিন্দ জয় হিন্দ

জয় হিন্দ জয় হিন্দ

জয় হিন্দ জয় হিন্দ

 

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

CG/SB/DM/