পিএমইন্ডিয়া
আমি জানি আজ কোথায় এসেছি । আপনারা এমনই মানুষ, যাঁরা অনেকবার সরকারকে নমনীয় হতে বাধ্য করেছেন । আপনারা এমনই মানুষ, যাঁরা অনেক সংখ্যাগুরু সরকারের নানা সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করেছেন । কিন্তু, আমি মনে করি, কেবলমাত্র যুদ্ধ হলেই কোনও এক পক্ষের মাথানত করার প্রশ্ন ওঠে । আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা আপনাদের হৃদয় জয় করতে চাই । আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে অনুভব করছি যে আমরা আপনাদের হৃদয় জয় করতে সক্ষম হয়েছি এবং আপনারাও আমার মন জয় করছেন ।
দেখুন, উৎপাদন শুল্ক নিয়ে আগেও অনেক বিতর্ক উঠেছে, আপনারা ঝড় তুলেছেন, সরকার ভয় পেয়ে গেছে । প্রত্যেক সাংসদ আপনাদের খদ্দের । সেজন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আপনাদের কোনও প্রতিনিধিদল পাঠানোর প্রয়োজন পড়ে না । পরিচিত সাংসদদের কাছ গিয়ে আর্জি রাখলেই কাজ হয়ে যায় । কিন্তু, সরকার ভয় পেয়ে নানা সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নিলেও অনেক সমস্যার সমাধান অমীমাংসিত রয়ে গেছে । এবারের বাজেটে প্রথমবারের মতো সরকার উৎপাদন শুল্ক প্রয়োগ করেও আপনাদের বোঝাতে ও সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছে । কারণ , আপনারা আগে সরকারকে না দেখে আবগারি আধিকারিকদের দেখতেন । আপনারা ভাবতেন , একজন আবগারি আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করলেই কাজ হয়ে যাবে । কিন্তু , এখন যে একটি অন্যধাঁচের সরকারকে জনগণ ক্ষমতায় বসিয়েছেন !
এই প্রথমবার আপনারা টের পেয়েছেন যে , সরকার কাকে বলে , আর সরকারও টের পেয়েছে , এই ব্যবসায় কত সূক্ষাতিসূক্ষ বিষয় রয়েছে , কত সমস্যা রয়েছে । আমি যখন আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলছিলাম , তাঁদের জিজ্ঞেস করেছি , শিল্প মহল থেকে ওঠা এই প্রসঙ্গ নিয়ে কি আপনারা কিছু জানতেন না ? তাঁরা বললেন , না সাহেব , আগে এভাবে ভেবে দেখিনি । অর্থাৎ , একটি পরস্পরের সংবাদহীনতার দূরত্ব রয়ে গিয়েছিল । সরকারি ব্যবস্থায়ও এনিয়ে অনেক সংবাদহীনতা তৈরি হয়েছিল । সেজন্য এবার উৎপাদন শুল্ক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে । এটা ঠিক যে , এই বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে সরকারের যথেষ্ট টাকা খরচ হয়েছে । আপনারাও আন্দোলন করেছেন , কুশপুত্তলিকা দাহ করার জন্য পেট্রোল কিনতে হয়েছে , অনেক কিছুই করতে হয়েছে । কিন্তু , এতসব কিছুর পরেও এই সংঘাতের মাধ্যমে আপনাদের সঙ্গে সরকারের একটি নিবিড় আলোচনা সম্ভব হয়েছে । গণতন্ত্রের শক্তি এটাই । আপনাদেরও নিজেদের বক্তব্য নিজেদের মতো করে বলার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে , আর সরকারেরও দায়িত্ব হল – আপনাদের বক্তব্যকে ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করা । আমরা যদি আগেই আপনাদের আস্ফালনে ভয় পেয়ে যেতাম , সাংসদদের চাপে মাথানত করতাম , তা হলে আরও ২৫ – ৩০ – ৪০ বছর পর আপনাদের কথা মনে পড়তো । তখন সরকার আবার ১ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ কর চাপাতো কিন্তু সমস্যার সমাধান হতো না ।
আপনাদের মনে হতে পারে যে , মোদী মাথা নত করে না , মোদী নিজের সিদ্ধান্তে অটল । এটা ভুল ধারণা । এখানে মোদী মুখ্য নয় , সমস্যার সমাধানটাই মুখ্য । সেজন্য আমরা কমিটি গঠন করেছি , সেই কমিটিতে সরকারের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আপনাদের প্রতিনিধিরাও ছিলেন । আপনাদের প্রতিটি বক্তব্য শোনা হয়েছে । এর ফলে , ভবিষ্যতেও যখন সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নেবে , তার আগে এই আলোচনাকে দেশের অর্থনীতি এবং সার্বিক উন্নয়নের প্রেক্ষিতে বিচার – বিশ্লেষণ করে নেবে বলে আমার বিশ্বাস ।
একটু আগেই জিতুভাই বলছিলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি বাজেট, আর ০৩ মার্চ-এ মোদীজীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তিনি রাজি হয়ে যান । আগে তো কারোরই সাক্ষাৎ পাওয়া যেত না । আমি বলি, দেখুন, সরকার আপনাদের । এই দরজা আপনাদের জন্য সর্বদাই খোলা । আপনাদের যে কোনও বিষয়ে অসম্মতি জানাবারও অধিকার রয়েছে । সরকার যদি আপনাদের সঙ্গে কথা না বলে, পরস্পরের মধ্যে আলোচনা না হয়, তা হলে কোনও সমস্যারই সমাধান হয় না । এবার সফল আলোচনা হওয়ায় সরকার উৎপাদন শুল্কও ঘোষণা করেছে, পাশাপাশি সমস্যাগুলিরও সমাধান হয়ে গেছে ।
আপনাদের মনে হয়েছিল, আবগারি শুল্কটাই প্রধান সমস্যা, আপনাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে মনে এই ভয় জেগে ওঠা স্বাভাবিক । কিন্তু, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আপনারাও মজা পাবেন, সরকারি নিয়ম মেনে চলার আনন্দ পাবেন । রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারবেন । দীর্ঘকালীন ভয়ের পরিবেশকে এমনভাবেই অপসারণ করা হয়েছে ।
আমি আধিকারিকদের সঙ্গে একটি বৈঠকে বলেছিলাম, প্রত্যেক নাগরিককে রাষ্ট্র গঠনে সহযোদ্ধা ভাববেন, করদাতাদের যেন আমরা কখনও চোর না ভাবি । এটা আমার স্পষ্ট অভিমত । আগে কোন্কোন্পদ্ধতি চালু ছিল, তা আপনারাও জানেন । আমার মনে আছে, অনেক নামীদামী ব্যবসায়ীকেও কারান্তরালে যেতে হয়েছিল । আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গী আলাদা । কিন্তু, আমাদের মধ্যেও কেউ কেউ রয়েছেন, যাঁদের জন্য ব্যবস্থার বদনাম হয় । একটু আগেই প্রবীনজী সুরাটের একটি উদাহরণ দিচ্ছিলেন । একটা সময়ে সুরাটে এমনই চলত । কিন্তু, বর্তমানে সবাই যথাযথভাবে নিয়মনীতি পালন করে নিজেদের আধুনিক করে তুলেছেন । আর গোটা বিশ্বের প্রতিস্পর্ধী হয়ে উঠেছেন । আপনারা সকলেই এরকম প্রতিস্পর্ধী হয়ে উঠতে পারেন, আমি আপনাদের সঙ্গে রয়েছি ।
গোটা বিশ্বে অলঙ্কার বাজার অনেক বড় এবং ক্রমবর্ধমান । এর বৃদ্ধির হার এত বেশি যে, সে তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি । গোটা বিশ্বে একটা জিনিসের অত্যন্ত চাহিদা রয়েছে, সেটা আমাদের কাছে থাকা সত্ত্বেও আমরা তাদের সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারছি না । গোটা বিশ্বে তৈরি অলঙ্কারের চাহিদা সর্বাধিক । আমি ঠিক বলছি কি না? দুশ্চিন্তা করবেন না, আমি আপনাদের ব্যবসায় নাম লেখাতে যাচ্ছি না ।
আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, অলঙ্কার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত দেখাসাক্ষাৎ হতো । আমি অলঙ্কার শিল্পে দক্ষতা উন্নয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি, কারণ আমি জানি এর কত ক্ষমতা রয়েছে । আমাদের দেশে হস্ত নির্মিত অলঙ্কারে গুরু-শিষ্য পরম্পরা রয়েছে । এখন খুব কম ক্ষেত্রেই গুরু-শিষ্য পরম্পরা রয়েছে । তার মধ্যে অলঙ্কার শিল্প অন্যতম । স্বর্ণকারের দোকানে যাঁরা সোনা গলানোর কাজ করেন, তাঁরাই অনেকেই ধীরে ধীরে স্বর্ণকার হয়ে ওঠেন । এই গুরু-শিষ্য পরম্পরার অনেক ভালো দিক রয়েছে, তেমনই কিছু সমস্যাও রয়েছে । গুরু যা জানতেন, শিষ্য সেগুলিই শিখেছেন । এগুলি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে স্বর্ণ শিল্প এগিয়ে গেছে । এর সীমাবদ্ধতা হল – এই শিল্পে নতুন কিছু খুঁজে বের করা, নতুন প্রয়োগের উপাদান খুব কম থাকায় বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়েছি । অথচ, আমাদের হাজার হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য রয়েছে । এমনকি, বেদের সমকালীন গ্রন্থেও স্বর্ণ নিষ্কাশন এবং ব্যবহারের প্রক্রিয়া উল্লেখ রয়েছে ।
এত পুরনো ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব বাজারে কেন পিছিয়ে পড়ব? উপস্থিত সকলের প্রতি আমার আহ্বান আপনারা সকলে এই প্রতিস্পর্ধা স্বীকার করুন । আমরা কিভাবে নতুন নতুন নক্শা গড়ে উৎকৃষ্ট অলঙ্কার নির্মাণ করব, তাতে কোনও খুঁত থাকবে না, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উৎকর্ষের পাশাপাশি নিখুঁত এবং দীর্ঘস্থায়ী হওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে । না হলে সুন্দর সুন্দর জিনিস বাজারে আসে আর কিছু দিনের মধ্যেই অদৃশ্য হয়ে যায় । আমরা এমন অলঙ্কার উৎপাদন করব, যাতে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের ক্রেতা চোখ বন্ধ করে কিনতে পারেন, মনে মনে ভাবেন যে, এই অলঙ্কার ভারত থেকে এসেছে – একে ভরসা করা যায় । ‘ মেক ইন ইন্ডিয়া ’ যেন নিছকই কর্মসংস্থানের উপায় না হয়ে ওঠে । এ যেন একদিন বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে চোখ বন্ধ করে ভরসা করার মতো ব্র্যান্ড হয়ে ওঠে ।
এই আস্থা গড়ে তোলার জন্য নতুন নতুন উদ্ভাবনের প্রয়োজন রয়েছে । নতুন আবিষ্কারের জন্য পরিবেশ গড়ে তুলতে হয় । আমাদের সরকার দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও আপনাদের সকলকে অংশীদার হিসাবে পেতে চায় । আপনাদের প্রজ্ঞা ও বীক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সরকার এর পাঠ্যক্রম গড়ে তুলতে চায় । আপনারা যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলছিলেন, বরোদায় ইতিমধ্যেই এ ধরনের দক্ষতা নির্মাণ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে । জেমস্অ্যান্ড জুয়েলারি ’ র প্রতিনিধিরা এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের প্রয়োজন অনুসারে পাঠ্যক্রম গড়ে তুলুন । এভাবে আপনারা দেশে মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও অবদান রাখতে পারবেন । দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ; দেখুন সুরাটের হীরা এখন সারা পৃথিবীতে সমাদৃত । কারণ, তাঁরা প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণে এগিয়ে গেছেন । আগে হীরা কাটতে যত সমস্যা হতো, এখন লেজার প্রযুক্তির ব্যবহারে সেই সমস্যা দূরীভূত হয়েছে । পাশাপাশি, আমাদের দেশজ প্রযুক্তিরও উন্নয়ন ঘটেছে । সারা পৃথিবী এই আধুনিকীকরণকে স্বীকার করে নিয়েছে । অর্থাৎ, আমি বলতে চাই আমরা চাইলে সবকিছুই করতে পারি ।
এটা ঠিক কথা যে, ভারতে স্বর্ণালঙ্কারের সঙ্গে সামাজিক সম্মান যুক্ত রয়েছে । কারও বাড়িতে সোনার গহনা থাকলেও বছরে দু-একবার, সর্বাধিক পাঁচবার পরার সুযোগ আসে । এই অলঙ্কার মৃত সম্পদের মতো পড়ে থাকে । এগুলিকে দেশের উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে আমরা নতুন প্রকল্প গড়ে তুলেছি । আপনারাও খদ্দেরদের এক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন । সরকারের ঘরে অলঙ্কার জমা রাখার প্রেরণা যোগাতে পারেন, তাদের যখন প্রয়োজন তখনই তাঁরা সেই অলঙ্কার তুলে এনে ব্যবহার করতে পারবেন । এতে দেশের অর্থনীতিও মজবুত হবে । এই পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার স্পষ্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, এ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাবনা যতটা রয়েছে, তা থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি । আমাদের দেশের বাজার এত বড় যে আমরা নতুন কিছু করার কথা ভাবিই না । কারণ, ১২৫ কোটি জনগণের মধ্যে বছরে যদি ২ কোটি বিবাহ হয়, তাহলেই আপনাদের পাঁচ আঙুল ঘৃতময় হয়ে উঠবে । সেজন্য আপনারা বিশ্ব বাজার নিয়ে চিন্তাও করেন না । কিন্তু আমি মনে করি, আপনারা যতদিন দেশীয় বাজারের সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে না আসবেন, ততদিন বিরাট কোনও পরিবর্তন আসা সম্ভব নয় । আপনারা এগিয়ে আসুন, এক্ষেত্রে আপনাদের যা যা প্রয়োজন হবে সবকিছু নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে আমরা প্রস্তুত ।
আজ আপনারা আমার এত প্রশংসা করেছেন যে, আগামীকালের খবরের কাগজে কিছুই ছাপা হবে না । একটু অন্যরকম বললে সংবাদমাধ্যম ভেবে দেখতো । আমাদের এই সুযোগকেও ব্যবহার করা উচিৎ । প্রবীনজী বলছিলেন, এখন সময় এসেছে কালোটাকার কবল থেকে দেশকে মুক্ত করা । অল্প কয়েকজন মাত্র তাঁর কথায় হাততালি দিয়েছেন । আমি আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে বার্তা দিতে চাই যে, এই বোঝা আর বহন করা উচিৎ নয় । এখন সময় এসেছে শান্তিতে থাকার, রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর । এর থেকে বড় আনন্দ জীবনে আর কি আছে । আপনারা আয়কর বিভাগের আধিকারিকদের ভয় পাবেন কেন? সরকারকে ভয় পাবেন কেন? পরিস্থিতি পরিবর্তনের এটাই সবচেয়ে বড় উপায় । আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে যাঁর কাছে যা আছে সব ঘোষণা করে দিন । আমি ৩০ সেপ্টেম্বরের পর কারও রাতের ঘুম কেড়ে নিতে চাই না । আমি চাই, আমার দেশের ১২৫ কোটি মানুষই রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমান । আপনারা আমাকে ঘুম কেড়ে নেওয়ার পাপ করতে দেবেন না । আমি আপনাদের আহ্বান জানাই । আপনাদের সঙ্গে যুক্ত সকলকে আমার এই বার্তা পৌঁছে দেবেন ।
আপনাদের সান্নিধ্যে এসে অনেক কথা শুনলাম । আপনারা মন খুলে কথা বলেছেন । এর আগে কোনও সরকারকে আপনারা এরকম মন খুলে বলেননি । যখন লাহিড়ী কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তখন আপনাদের প্রতিনিধিরা বলেছিলেন, সাহেব, আমাদের কাছ থেকে তো ঠেলাগাড়িতে করে টাকা নিয়ে যাওয়া হতো । এই সত্য ভাষণ আমাকে চমকে দিয়েছে । অর্থাৎ, আপনারা জেনেশুনে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিচ্ছিলেন । ঐ মহান ব্যক্তিরা আপনাদের থেকেই সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতেন, জমিজায়গা ও আবাসন নির্মাণ ক্ষেত্রের দুর্নীতি তারপরে আসে । আপনারা আমাদের সাহায্য করলে দেশ থেকে দুর্নীতি দূরীকরণে সবচেয়ে বেশি সুফল পাওয়া যাবে ।
আপনারা দেখেছেন যে, সফল আলোচনায় কত লাভ হয় । আমরা অনায়াসেই নিজেদের সমস্যার কথা পরস্পরকে খুলে বলতে পারি । প্রবীণজীর দাবিটিকে আমি খুবই সামান্য দাবি বলে মনে করি । তিনি একজন মন্ত্রীর দাবি রেখেছেন, আমি মনে করি, একটি মন্ত্রক, একটি বিভাগ যথেষ্ট নয় । দেশের প্রধানমন্ত্রী আপনাদের পাশে রয়েছে । দেশের উন্নয়নে ‘ মেক ইন ইন্ডিয়ার ’ সফল প্রয়োগে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আপনাদের সামর্থ্য বৃদ্ধি করতে কেন্দ্রীয় সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আপনাদের পাশে রয়েছে । কিন্তু, আপনাদের আমন্ত্রণ জানাই, প্রথাগত শিল্পের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে আপনারা নিজেদের ব্যবসায় নতুন মাত্রা যোগ করুন । আপনাদের ভালোর জন্য এবং দেশের উন্নয়নের জন্য এখন নতুন নিয়ম ও নতুন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে । আমরা সবাই মিলেমিশে কাজ করলে দেশকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারব ।
আপনারা আজ আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন, সম্মান জানিয়েছেন, সেজন্য আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ । আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, যে কোনও সমস্যার ক্ষেত্রে আপনারা সরকারি ব্যবস্থাকে ব্যবহার করুন, স্বীকার করুন, ভরসা করুন । স্বীকৃতির প্রেক্ষিত রচনা করে বিশ্বাস । বর্তমান সরকারের ওপর আপনাদের ভরসা না থাকলে আজ এখানে আমাকে সম্মানিত না করে আপনারা কুশপুত্তলিকা দাহ করতেন । সরকারের ওপর আপনাদের ভরসাই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় পুঁজি । জনগণ শাসন ব্যবস্থাকে এবং শাসন ব্যবস্থা জনগণকে ভরসা করলেই আমরা পরস্পরের সঙ্গে সর্বদা যুক্ত থাকি, আর যুক্ত থাকলেই আমরা মিলেমিশে কিছু করে উঠতে পারি । আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমরা সকলেই এখান থেকে দেশের জন্য অনেক কিছু করার সংকল্প নিয়ে ফিরে যাব । অনেক অনেক ধন্যবাদ ।
PG/SB/SB
We wanted to win you over & we have won over each other. Things like bending happens during battles but we are not battling each other: PM
— PMO India (@PMOIndia) July 23, 2016
What did happen due to the events in the last few months is that we got talking: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) July 23, 2016
What we did is we formed a committee where your representatives were there and all issues were discussed: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) July 23, 2016
This government is yours and our doors are always open: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) July 23, 2016
Jewellery market all over the world is growing. Handmade, manual jewellery is something that is becoming very popular: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) July 23, 2016
For initiatives like @makeinindia to succeed, innovation is very important and this happens when we give importance to skill development: PM
— PMO India (@PMOIndia) July 23, 2016
When it comes to technology upgradation, there is no way out but to embrace it: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) July 23, 2016
Look beyond the domestic market. Yes, it is big and lucrative but look at the global market too: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) July 23, 2016