Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

অষ্টম ব্রিক্‌সশীর্ষ সম্মেলন শেষে সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি


মাননীয়রাষ্ট্রপ্রধানগণ, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ এবং সংবাদমাধ্যমের বন্ধুরা,

(অষ্টম)ব্রিক্‌স শীর্ষ সম্মেলন শেষ হল কিছুক্ষণ আগেই ।

গোয়ারমতো একটি সুন্দর রাজ্যে প্রেসিডেন্ট জি, প্রেসিডেন্ট জুমা, প্রেসিডেন্ট টেমার এবং প্রেসিডেন্টপুতিনকে স্বাগত জানানোর সুযোগ পেয়ে আমরা নিজেদের সম্মানিত বোধ করছি।

সম্মেলনেরতিনটি পর্বের আলোচনা ছিল বিশদ, বিষয়সমৃদ্ধ ও ফলপ্রসূ।

সকালেসন্ত্রাসবাদ, বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক শাসন ও পরিচালন ব্যবস্থারকাঠামো সংস্কার প্রসঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আমরা মতবিনিময় করেছি।

বর্তমানপর্যায়ের ব্রিক্‌স সহযোগিতা সম্পর্কে পর্যালোচনার সুযোগেরও আমরা সদ্ব্যবহার করেছি।

পূর্ণাঙ্গঅধিবেশনে আগামী বছরগুলিতে ব্রিক্‌স-এর ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের চিন্তাভাবনা ওসম্ভাবনার ওপরও আলোকপাত করেছি আমরা।

আমাদেরআলোচনা ছিল সফল এবং ভবিষ্যৎমুখী । শুধু তাই নয়, ব্রিক্‌স-এর এক দশক উদ্‌যাপনেরমুহূর্তে এই আলোচনা ছিল যথেষ্ট সময়োচিত। ব্রিক্‌স বাণিজ্য পরিষদের আলোচনাপর্বটিআমরা সদ্য সমাপ্ত করে এসেছি।

জাতীয়উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (এনডিবি) প্রথম বছরেই যে সমস্ত অর্থবহ কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তারএকটি বিবরণ আমরা পেয়েছি ঐ ব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে।

আমিএকথা ঘোষণা করতে পেরে আনন্দিত যে গোয়া ঘোষণার যে খসড়া আমরা গ্রহণ করেছি ব্রিক্‌সসম্পর্কে এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা ও সমন্বয়ের একটি সুসংবদ্ধচিন্তাভাবনার হদিশ রয়েছে তাতে ।

ভদ্রমহিলাও ভদ্রমহোদয়গণ,

শীর্ষসম্মেলনকালে যে সমস্ত বিষয় ব্রিক্‌স নেতৃবৃন্দের সর্বোচ্চ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে সেসম্পর্কে কিছু কথা আমি এখানে তুলে ধরতে চাই।

সন্ত্রাস,উগ্রবাদ এবং চরম মতবাদের অস্তিত্ব ও উপস্থিতির বিষয়টি আমরা সকলেই একবাক্যে স্বীকারকরেছি। শুধুমাত্র আঞ্চলিক ও বিশ্বশান্তির ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ওস্থিতিশীলতার পক্ষেও এই সন্ত্রাস যে ভয়ঙ্কর তা আমরা মেনে নিয়েছি।

আমাদেরসমাজ এমনকি সামগ্রিকভাবে মানবজীবনের ক্ষেত্রেও সন্ত্রাসের এই ঘটনা উদ্বেগজনক।

সন্ত্রাসেরহুমকির মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে এবং যথেষ্ট চিন্তাভাবনার সঙ্গে ব্রিক্‌স-এর যে কাজকরে যাওয়া প্রয়োজন সে সম্পর্কেও আমাদের সকলের মত ছিল এক ও অভিন্ন।

সন্ত্রাসমূলকতৎপরতায় অর্থ যোগানের উৎস খুঁজে বের করার কাজে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোরদিয়েছি আমরা। একইসঙ্গে, অস্ত্র, গোলাবারুদ, সাজসরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণ সহসন্ত্রাসের মূল মদতগুলির মতো বিষয়ও আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়নি।

হিংসাও সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয়, সমর্থন ও মদত দিয়ে যারা সাহায্য করছেতারা যে সন্ত্রাসবাদীদের মতোই আমাদের পক্ষে ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক সে কথাও আমরা মতৈক্যেরসঙ্গে স্বীকার করে নিয়েছি।

আন্তর্জাতিকক্ষেত্রে এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় মত ও পথের ক্ষেত্রে যে ঐক্যে আমরা পৌঁছতেপেরেছি, তার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত আজ প্রকৃতই খুশি।

বিশ্বঅর্থনীতিকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও ছিল আমাদের আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত।

২০০৮সালের আর্থিক সঙ্কটের পরবর্তী পর্যায়ে বিশ্ব অর্থনীতির বিকাশে ব্রিক্‌স সদস্যদেশগুলির ইতিবাচক অবদানের কথাও স্বীকৃতি লাভ করেছে আমাদের আলোচনাকালে।

দীর্ঘমেয়াদিপরিকাঠামো প্রকল্প, বড় ধরনের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে সমন্বয়সাধন, বিকাশেরহার বৃদ্ধি এবং বিশ্ব বাণিজ্য ও উৎপাদন শিল্পকে আবার নতুন উদ্যম ও উৎসাহের সঙ্গেচাঙ্গা করে তুলতে সরকারি বিনিয়োগ যে একান্ত জরুরি সে কথাও উপলব্ধি করেছি আমরা ।

বহুপাক্ষিকবাণিজ্যিক কাঠামোর মূল স্তম্ভ হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মূল ভূমিকার বিষয়টিতেওজোর দিয়েছি আমরা।

আমরাস্বীকার করেছি যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাএকান্ত জরুরি।

প্যারিসজলবায়ু চুক্তি দ্রুত সম্পাদনের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছি আমরা।

এবছর ২ অক্টোবর এই চুক্তি অনুমোদন করে ভারত গর্ব অনুভব করেছে। ঐ দিনটি ছিল ইতিহাসেরপরিবেশ পথিকৃৎ মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী।

ব্রিক্‌স-এরনেতা হিসেবে এই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিকতা গড়ে তোলার বিষয়টিতে সম্মতি জানিয়েছিআমরা। কারণ, আমাদের উন্নয়নমূলক কার্যসূচি অনুসরণ করার ক্ষেত্রে তা হয়ে উঠবে একটি মজবুতস্তম্ভ ।

জাতীয়উন্নয়ন ব্যাঙ্কের প্রথম বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সংস্থার ভূমিকার প্রশংসাও করেছিআমরা।

আমরাএই মর্মে একমত হয়েছি যে পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানিক্ষেত্রে এনডিবি-র ভূমিকা নিরন্তর রাখা প্রয়োজন।

ব্রিক্‌সকৃষি গবেষণা মঞ্চ, ব্রিক্‌স রেল গবেষণা নেটওয়ার্ক, ব্রিক্‌স ক্রীড়া পরিষদ এবংযুবকেন্দ্রিক বিভিন্ন মঞ্চ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নেও আমাদের মত ছিল এক ও অভিন্ন।

আমরাসকলেই সোচ্চার হয়েছি বিশ্বের আর্থিক তথা অর্থনৈতিক কাঠামোর সংস্কারের সমর্থনে।আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারে নতুন ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলির ভূমিকা যে আরওসম্প্রসারিত হওয়া প্রয়োজন, সে কথাও মতৈক্যের সঙ্গে ঘোষণা করেছি আমরা।

বিশ্বেরআর্থিক কাঠামোকে মজবুত করে তুলতে একটি ব্রিক্‌স রেটিং এজেন্সি দ্রুত গড়ে তোলারবিষয়টিতে সম্মতি জানিয়েছি আমরা।

জি-২০গোষ্ঠীর মধ্যে আমরা যাতে আরও সমন্বয়বদ্ধ হয়ে উঠতে পারি সে বিষয়েও মতৈক্য প্রকাশকরেছি আমরা।

আমাদেরগুরুত্বের আরেকটি বিষয় ছিল ব্রিক্‌স সদস্য দেশগুলির জনসাধারণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংযোগগড়ে তোলা।

এইলক্ষ্যে সারা বছর ধরে আমরা ১০০টির মতো কর্মসূচির আয়োজন করেছি। ভৌগোলিক এবংজনগোষ্ঠীগত দিক থেকে বিচিত্র এবং বিভিন্ন জি-২০ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিতে এইকার্যসূচি ছড়িয়ে দিচ্ছি আমরা।

জনসাধারণেরসঙ্গে সংযোগকে আমাদের প্রচেষ্টার একটি স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই আমরা।

শান্তিও নিরাপত্তার বিষয়গুলিতেও শলাপরামর্শ এবং সহযোগিতার বাতাবরণকে শক্তিশালী করে তুলতেপ্রতিশ্রুতিবদ্ধ ব্রিক্‌স সদস্য দেশগুলি ।

ভদ্রমহিলাও ভদ্রমহোদয়গণ,

গোয়াশীর্ষ সম্মেলনের এই সমস্ত উল্লেখযোগ্য বিষয় হয়ে উঠবে বিমস্‌টেক দেশগুলির কাছে তুলেধরার মতো অন্যতম বিষয়।

বাংলাদেশ,ভুটান, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার ওনেতৃবৃন্দ ভারতের মতোই সমষ্টিগতভাবে গড়ে তুলেছে বিমস্‌টেক। তাঁরা সকলেই বিশেষঅতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন অষ্টম ব্রিক্‌স সম্মেলনে।

প্রথমব্রিক্‌স-বিমস্‌টেক প্রচার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আর কিছুক্ষণ পরেই।

এরফলে ব্রিক্‌স ও বিমস্‌টেক নেতৃবৃন্দের কাছে এক বিশেষ সুযোগ আজ উপস্থিত ঘনিষ্ঠসহযোগিতা ও সমন্বয়ের বিষয়গুলিতে আলোচনা ও মতবিনিময়ের।

বিশ্বজনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের বাসভূমি হল ব্রিক্‌স ও বিমস্‌টেক গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি।সুতরাং, এই সমস্ত দেশের জনসাধারণের কল্যাণে অফুরন্ত সুযোগ ও সম্ভাবনার দ্বার আজউন্মুক্ত এই গোষ্ঠী দুটির কাছে।

পরিশেষে,ব্রিক্‌স সদস্য দেশগুলি থেকে আগত নেতৃবৃন্দকে আমি ধন্যবাদ জানাই অষ্টম ব্রিক্‌সশীর্ষ সম্মেলনকে সফল করে তোলার লক্ষ্যে তাঁদের নিঃশর্ত সমর্থনের জন্য।

ধন্যবাদ।

আপনাদেরসকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SKD/DM/