পিএমইন্ডিয়া

মঞ্চে উপস্থিত আমার মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, সকল অগ্রজ ও বিপুল সংখ্যায় আগত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গ,
আপনাদের সবাইকে প্রণাম। আয়োজকদের প্রণাম জানাই এহেন পবিত্র অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে আপনাদের মাঝে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন বলে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। পাঁচ শতাব্দী পেরিয়ে যাওয়ার পরও আমরা এই মহাপুরুষকে স্মরণ করছি। কল্পনা করুন, তখন কোন ক্যামেরা ছিল না, খবরের কাগজ ছিল না, টিভি ছিল না, টেলিফোনও ছিল না। তৎসত্ত্বেও ৫০০ বছরেরও বেশি সময় পর আমরা তাঁকে স্মরণ করছি। তাঁর প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করার চেষ্টা করছি। কত বড় প্রতিভা হলে পাঁচ শতাব্দীকাল ধরে সমাজে একজন মানুষের এত প্রভাব থাকে ! এহেন শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের চরণে আমি প্রণাম জানাই। তাঁর বৈশিষ্ট্য দেখুন, এখানে যাঁরা বসে আছেন সকলেই তাঁর সম্পর্কে সবকিছু জানেন, তাঁর প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করেন। তাই আমি তাঁর সম্পর্কে যাই বলি না কেন সবই আপনারা জানেন।
ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষও তাঁর সম্পর্কে এত জানেন যে অবাক হতে হয়। তিনি আধ্যাত্মিকতাকে জীবনের রঙে রাঙিয়েছেন। আমাদের আধ্যাত্মিক গুরুরা অনেকেই সহজ জীবনকে নস্যাৎ করেছেন। কিন্তু শ্রীমন্ত শঙ্করদেব সহজ-সরল জীবনযাপনের সঙ্গে অধ্যাত্মের মেলবন্ধনের ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক। এমনকি, অধ্যাত্মের সঙ্গে তিনি সঙ্গীত, নৃত্য, সাহিত্য ও নাট্য চর্চাকে এমনভাবে জুড়েছেন যে ভাবা যায় না ! জীবনের এই সহজ বৃত্তি-প্রবৃত্তিগুলিকে অধ্যাত্মের সঙ্গে এভাবে জুড়েছিলেন বলেই তিনি তাঁর জীবৎকালে যত জনপ্রিয় ছিলেন আজও ততটাই প্রাসঙ্গিক।
সুদূর আসামের আদিবাসী এই মহামানব পাঁচ শতাব্দী আগে অসমীয়াদের উন্নত মানুষ এবং উত্তম ভারতীয় হওয়ার শিক্ষা দিয়েছিলেন। এই জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্র নির্মাণের স্বার্থে প্রত্যেক ব্যক্তির উন্নয়নের এই শিক্ষা আমাদের পথ দেখায়। দেশের আবালবৃদ্ধবনিতা প্রতিটি মানুষের মধ্যেই আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত করার মাধ্যমে প্রত্যেককে যুক্ত করে সমাজের উন্নয়ন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে বিভিন্ন সঙ্কটের মোকাবিলা করার মন্ত্র তিনি শিখিয়েছেন। তিনি ভক্তদের শাস্ত্রের মাধ্যমে শিক্ষাদান এবং অস্ত্রশিক্ষার মাধ্যমে আত্মরক্ষা, মাতৃভূমির রক্ষা ও দেশের মহান উজ্জ্বল ঐতিহ্যগুলি রক্ষা করতে গিয়ে আত্মবলিদানের শিক্ষাও দিয়েছিলেন।
আজও আমাদের সমাজে অনেক কুসংস্কার রয়েছে। যদিও অনেক কমেছে, তবুও কোথাও কোথাও কুসংস্কারের কু-প্রভাব দেখতে পেলে খুব খারাপ লাগে। হাজার হাজার বছর পুরনো হিন্দু সমাজে নানা সময়ে কিছু বিকৃতি যেমন দেখা দিয়েছে, তেমনই এ দেশের বিশেষত্ব হল, এই সমাজ থেকেই উঠে এসেছেন এমন কিছু মহাপুরুষ যাঁরা এই বিকৃতি ও কুসংস্কারগুলির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন, এটা কম কথা নয়। আজ কোথাও অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে কথা বললে কারোর মনে হতে পারে, এখন এর কী প্রয়োজন। ৫০০ বছর আগে শ্রীমন্ত শঙ্করদেব অস্পৃশ্যতা এবং বর্ণাশ্রমের কু-প্রভাবের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে, সামাজিক একতা গড়ে তুলতে গোটা ভারত ভ্রমণ করেছেন। সেই সময়ে পায়ে হেঁটে এত বড় দেশ ভ্রমণ করতে গিয়ে তাঁর কত কষ্ট হয়েছে, কিন্তু তিনি সামাজিক বিকৃতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজের পথের কষ্ট নিয়ে ভাবেননি। কুসংস্কার দূর করতে চেয়েছেন।
কিন্তু যুগ পরিবর্তনের ফলে নতুন নতুন কুসংস্কার ও বিকৃতি জন্ম নেয়। আজকের সময়ে শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের অনুগামীদের এতবড় দল এখানে রয়েছে। এতবড় অনুষ্ঠান করতে সরকারকে ৫০ বার ভাবতে হয়, আর আমি হেলিকপ্টার থেকে দেখছিলাম, যতদূর চোখ যায় মানুষের মাথা দেখা যাচ্ছে – লক্ষ লক্ষ মানুষ ! এই আধ্যাত্মিক, এই সাত্বিক শক্তি এতই মূল্যবান যে আমাদের ‘সকলের সঙ্গে সকলের উন্নয়ন’ মন্ত্র এই আধ্যাত্মিক ও সাত্বিক শক্তিকে যুক্ত করেই দেশকে দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
আজও শ্রীমন্ত শঙ্করদেব সঙ্ঘ সাহিত্য, শিক্ষা, লোকসংস্কৃতি এবং গবেষণা বিস্তারের মাধ্যমে সমাজকল্যাণের পথে অগ্রগামী।
এত পুরনো একটি সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করতে করতে নানা বিষয়ে অনেকের সঙ্গে মতান্তর হতে পারে, কিন্তু কখনও মনান্তর না হলেই ভালো। সবাই মিলেমিশে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে ঐক্যের শক্তি অনুভূত হয়। এই ঐক্যের শক্তি সমাজকে নতুন পথ দেখায়। এটা আমার বিশ্বাস। এই সংস্থার কর্মকর্তারা আমাকে গবেষণা, শিক্ষা, সাহিত্য ও লোকসংস্কৃতির নানা ক্ষেত্রে তাঁদের কাজ সম্পর্কে অবহিত করেছেন। আমি এই সবকিছু গভীরভাবে অধ্যয়ন করব। এসব বিষয়ে সরকার যদি কিছু করতে পারে তাহলে আমরা পিছিয়ে থাকব না, কারণ আপনারা যথারীতি এই কাজগুলি করে চলেছেন। এখন মনে করুন আমি আসামে ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযান শুরু করতে চাই। আপনারা যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন, তাহলে এক্ষেত্রে সরকারের নাক গলানোর প্রয়োজন পড়বে কি ? আসাম কখনও নোংরা থাকবে কি ? আপনারা যদি ‘জয় গুরু শঙ্করদেব’-এর নাম নিয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন তাহলে সমগ্র আসামে কোন মলিনতা থাকতে পারবে না। এ রাজ্য হয়ে উঠবে পরিচ্ছন্ন আসাম। আমাদের দেশে একটি বড় সরকারি কার্যক্রম হল বাচ্চাদের পোলিও প্রতিষেধক খাওয়ানো এবং অন্যান্য অনেক জটিল সংক্রমক রোগের প্রতিষেধক টিকাকরণ। সরকার চায় কোন শিশু যেন টিকাকরণ বা পোলিও প্রতিষেধক খাওয়ানো থেকে বাদ না পড়ে। এই বিশাল কার্যক্রমে আপনাদের মতো সংস্থার অংশগ্রহণ বেশ কার্যকরী হয়ে উঠতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারের কাজে ঘাটতি থাকলেও আপনাদের কাজে ত্রুটি থাকবে না বলে আমার বিশ্বাস।
সরকার এবং সমাজের শক্তি সম্মিলিত করা উচিত। এই সম্মিলিত শক্তিকে নির্ধারিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তবেই আমরা শ্রীমন্ত শঙ্করদেব যেমন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তেমন ভারত নির্মাণ করতে পারব। এই আধ্যাত্মিক পরিবেশে আমি আরেকবার গুরুদেবকে প্রণাম জানাই, আরেকবার আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, আপনারা এত ভালো কাজ করছেন, সাত্বিক কাজ করছেন, দিল্লির সরকার সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
জয় গুরু শঙ্করদেব।
PG/SB/DM/S
Today we are remembering a great personality who lived centuries ago: PM pays tributes to Srimanta Sankaradeva https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) February 5, 2016
Srimanta Sankaradeva & his thoughts are very relevant even today: PM @narendramodi in Assam
— PMO India (@PMOIndia) February 5, 2016
Our society has a strength- people from within our society have fought evils like untouchability in our society: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 5, 2016
The strength of Sarkar and Samaj have to combine. That is when we can create the India Srimanta Sankaradeva envisioned: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 5, 2016
Thoughts & ideals of Srimanta Sankaradeva are eternal and inspiring. Paid tributes to him & recalled his patriotic zeal.
— Narendra Modi (@narendramodi) February 5, 2016
Also talked about how 'Sarkar' & 'Samaj' can together create the India Srimanta Sankaradeva envisioned. https://t.co/VbmE1rC3qw
— Narendra Modi (@narendramodi) February 5, 2016