Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় ভারত সফরকালে সংবাদমাধ্যমের কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় ভারত সফরকালে সংবাদমাধ্যমের কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় ভারত সফরকালে সংবাদমাধ্যমের কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি


মাননীয়প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল এবং

সংবাদমাধ্যমেরপ্রতিনিধিবৃন্দ ,

মাননীয়প্রধানমন্ত্রী ,

আপনার এই প্রথম ভারত সফরে আমি সানন্দ সম্ভাষণ জানাই আপনাকে। মাত্র গত মাসেই বর্ডার-গাভাসকারট্রফির উত্তেজক ও চাঞ্চল্যকর সমাপ্তি আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। ২০১৪ সালেঅস্ট্রেলিয়ার সংসদে ভাষণদানকালে আমি প্রবাদপ্রতিম ব্র্যাডম্যান ও তেন্ডুলকরের কথাউল্লেখ করেছিলাম। বর্তমানে, ভারতের বিরাট কোহলি এবং অস্ট্রেলিয়ার স্টিভেন স্মিথতৈরি করছেন এক একটি তরুণ ক্রিকেট ব্রিগেড। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথেরব্যাটিং-এর মতোই আপনার এই ভারত সফর সফল হবে বলে আমি মনে করি।

মাননীয়প্রধানমন্ত্রী ,

জি-২০শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি, আমাদের পারস্পরিক বৈঠকগুলির কথা আমি পুরোপুরিভাবে স্মরণকরতে পারি। দু’দেশের মিলিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রতিফলন ঘটেছে ঐ বৈঠকগুলিতে। আমাদেরকর্মপ্রচেষ্টার ক্ষেত্রগুলিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে যে বিশেষ আগ্রহ আপনিপ্রকাশ করেছেন, আমি তারও বিশেষ প্রশংসা করি। আমরা দৃঢ়ভাবেই এগিয়ে চলেছি আমাদেরসহযোগিতার এই যাত্রাপথে। আপনার নেতৃত্বে দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক নতুন মাইলফলকরচনা করতে পেরেছে। কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন নতুন অগ্রাধিকারকে বাস্তব রূপ দিতেআপনার এই সফর এক বিশেষ সুযোগ এনে দিয়েছে আমাদের সামনে।

মাননীয়প্রধানমন্ত্রী ,

আমাদেরঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাকে স্মরণ করিয়ে দেয় ভারত মহাসাগরের বহমান জলরাশি। আমাদেরদুটি দেশের ভাগ্যকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এক বিশেষ ভূমিকা পালনকরেছে এই মহাসাগর। আমাদের দুটি জাতিরই রয়েছে গণতন্ত্রের নীতি ও মূল্যবোধ এবং আইনেরশাসনের প্রতি এক মিলিত আনুগত্য। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারতের ১২৫ কোটিজনসাধারণের বলিষ্ঠ আকাঙ্ক্ষা এবং অস্ট্রেলিয়ার দক্ষতা ও ক্ষমতার মিলন ও সমন্বয়আমাদের দু’দেশের সম্পর্কে এক নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে।

বন্ধুগণ,

আজকেরবৈঠকে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবক’টি ক্ষেত্র নিয়েই আলোচনা ও মতবিনিময় করেছিআমি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। অংশীদারিত্বের এই সম্পর্ককে সুদৃঢ় করে তুলতেভবিষ্যতের লক্ষ্যে আমরা বেশ কিছু সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেছি। আমাদের সুসংবদ্ধঅর্থনৈতিক সহযোগিতা ক্ষেত্রে পরবর্তী পর্যায়ের চুক্তি ও আলোচনাও এর মধ্যেঅন্তর্ভুক্ত। তবে আমাদের এই আলোচনা যে ডিআরএস পর্যালোচনার বিষয়ীভূত নয়, তাতে আমিবিশেষভাবে আনন্দিত।

বন্ধুগণ,

দু’দেশেরসমাজ ব্যবস্থার সমৃদ্ধিতে শিক্ষা ও উদ্ভাবনের মূল্যকে স্বীকৃতি দিয়েছে ভারত ওঅস্ট্রেলিয়া দুটি দেশই। আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই যে খুব স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষা ও গবেষণারক্ষেত্রে সহযোগিতা আমাদের পারস্পরিক কর্মপ্রচেষ্টার এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকারকরে রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমি আজ যুক্তভাবে উদ্বোধন করেছিটেরি-ডেকিন গবেষণা কেন্দ্রটি যেখানে ন্যানো এবং জৈবপ্রযুক্তি সম্পর্কে গবেষণাপ্রচেষ্টার কাজ চালানো হবে। আমাদের এই দুটি দেশের মধ্যে অত্যাধুনিক বিজ্ঞান ওপ্রযুক্তি সম্পর্কে যে সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, এটি হল তার এক উজ্জ্বলদৃষ্টান্ত। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার যৌথ উদ্যোগে গড়ে তোলা প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিনডলারের গবেষণা তহবিলটিতে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হয়েছে সহযোগিতামূলক গবেষণাপ্রকল্পের ওপর। ন্যানো-প্রযুক্তি, স্মার্ট নগরী, পরিকাঠামো, কৃষি এবং ব্যাধিনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত ক্ষেত্রগুলিতে নিয়োজিত হবে আমাদের এই সহযোগিতামূলক গবেষণাপ্রচেষ্টা। ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ কলা উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা বর্তমানেরয়েছে এক পরীক্ষামূলক পর্যায়ে। আরও বেশি পুষ্টিকর এবং ভালো জাতের ডাল উৎপাদনেরলক্ষ্যে দু’দেশের বিজ্ঞানীরা পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করে চলেছেন। আমাদের দু’দেশেরবিশেষ বিশেষ বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা প্রচেষ্টার এগুলি হল দুটি উদাহরণ মাত্র। এর সাফল্যদু’দেশের কৃষিজীবী সহ কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন সম্ভব করেতুলবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভাইস চ্যান্সেলর এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলির প্রধানদের এক প্রতিনিধিদল আজ এখানে উপস্থিত হয়েছেন । আমি তাঁদের সকলকেইজানাই উষ্ণ অভ্যর্থনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকালে দু’দেশের বিভিন্নপ্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। আমাদেরদ্বিপাক্ষিক শিক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের সফর বিনিময় কর্মসূচি হয়েউঠেছে এক উল্লেখযোগ্য বিষয়। ৬০ হাজারেরও বেশি ভারতীয় ছাত্রছাত্রী বর্তমানেঅস্ট্রেলিয়ায় থেকে পঠনপাঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন । অস্ট্রেলিয়া থেকেওউত্তরোত্তর আরও বেশি সংখ্যক ছাত্রছাত্রী শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে আসছেন ভারতে।ভারতীয় যুব সমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে ভারতে বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগড়ে তুলতে আমার সরকার আগ্রহী। আমাদের এই লক্ষ্যের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ারবিশ্ববিদ্যালয়গুলি কিভাবে যুক্ত হতে পারে সে বিষয়ে উপায় অনুসন্ধানের জন্য আমি কথাবলেছি প্রধানমন্ত্রী টার্নবুলের সঙ্গে।

বন্ধুগণ,

আমাদেরঅর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি প্রচেষ্টাকে যে পরিবেশ-অনুকূল করে তোলা প্রয়োজন সেবিষয়ে সহমত জ্ঞাপন করেছি আমি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমরা দু’জনে বিশেষভাবেআনন্দিত এই কারণে যে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি সহ অন্যান্য শক্তি ক্ষেত্রেও আমাদেরআলোচনা ও সহযোগিতার পরিধি আজ ক্রমপ্রসারমান। আন্তর্জাতিক সৌর সমঝোতায় যোগদানের যেসিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেছেন, সেজন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদজানাই। অস্ট্রেলিয়ার সংসদে সমর্থন ও অনুমোদনের পর ভারতে ইউরেনিয়াম সরবরাহেঅস্ট্রেলিয়া এখন প্রস্তুত।

বন্ধুগণ,

মাননীয়প্রধানমন্ত্রী এবং আমি দু’জনেই স্বীকার করি যে আমাদের দুটি দেশেরই ভবিষ্যৎ ভারত-প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে সুগভীরভাবে সম্পৃক্ত। এই কারণে একসুরক্ষিত ও নিয়ম-নীতি পরিচালিত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তুলতে আমরাদু’জনেই সহমত ব্যক্ত করেছি। বর্তমান বিশ্বে প্রতিটি জাতিই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত।এই পরিস্থিতিতে সন্ত্রাস ও সাইবার নিরাপত্তার মতো চ্যালেঞ্জগুলি কোন দেশ বাঅঞ্চলের গণ্ডির মধ্যে আর সীমাবদ্ধ নেই। সুতরাং, এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রয়োজনএক বিশ্ব প্রচেষ্টা ও প্রকৌশল গড়ে তুলে সমাধানের পথ অন্বেষণ করা। আঞ্চলিক তথাআন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জ্ঞান ও দূরদৃষ্টি আমাদের সাধারণউদ্বেগের বিষয়গুলিতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে। প্রতিরক্ষা ওনিরাপত্তা ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতার সম্পর্ক উন্নীত হয়েছে এক নতুন উচ্চতায়।নৌ-তৎপরতা ও বিনিময় কর্মসূচির ক্ষেত্রেও আমাদের এই সহযোগিতা প্রচেষ্টা সাফল্যদেখিয়েছে। সন্ত্রাস বিরোধী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কবর্তমানে রয়েছে বেশ অনুকূল পরিস্থিতিতে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকালেনিরাপত্তা সহযোগিতা সম্পর্কিত একটি মউ-ও আমরা সম্পাদন করতে পেরেছি। শান্তি,সমৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলারপ্রয়োজনীয়তাও আমরা স্বীকার করে নিয়েছি। এই কারণে, পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন এবংভারত মহসাগর অঞ্চলের দেশগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপনে সক্রিয়ভাবেইকাজ করে যাব আমরা যাতে আমাদের সাধারণ স্বার্থগুলির সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

বন্ধুগণ,

আমাদেরঅংশীদারিত্বের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল দু’দেশের সমাজ ব্যবস্থারনিবিড় বন্ধন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের বসবাস অস্ট্রেলিয়ায়। তাঁদেরসমৃদ্ধি এবং উজ্জ্বল সংস্কৃতি আমাদের এই সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও নিবিড় করেতুলেছে। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বহু শহরে সাফল্যের সঙ্গেই অনুষ্ঠিত হয়েছে‘কনফ্লুয়েন্স’ নামের ভারতোৎসব। এর উদ্যোগ-আয়োজনে অস্ট্রেলীয় সরকার সর্বতোভাবেসাহায্য ও সমর্থন করার জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে।

মাননীয়প্রধানমন্ত্রী,

সাম্প্রতিকবছরগুলিতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া দুটি দেশই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বহু গুরুত্বপূর্ণক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে গেছে। আগামী মাস এবং বছরগুলিতেও এই দুটি জাতির সামনে রয়েছেপ্রতিশ্রুতি, সঙ্কল্প ও সম্ভাবনা। দু’দেশের সমাজ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও কল্যাণের স্বার্থে আমাদের এই বলিষ্ঠ ওনিবিড় কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। একইসঙ্গে, তা এই অঞ্চলের শান্তি,স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার পক্ষেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমিআরও একবার আপনাকে স্বাগত জানাই ভারতে। এ দেশে আপনার অবস্থান সফল তথা ফলপ্রসূ হোকএই প্রার্থনা জানাই।

ধন্যবাদ।

আপনাদেরসকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SKD/DM/.