Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

আইআরএনএসএস-১জি সফল উৎক্ষেপণের পর প্রধান মন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

আইআরএনএসএস-১জি সফল উৎক্ষেপণের পর প্রধান মন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


সবার আগে আমি ইসরোর সকল বৈজ্ঞানিক এবং গোটা ইসরো টিমকে অন্তর থেকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। এই নতুন উপহারের জন্যে আমি ১২৫ কোটি ভারতবাসীকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। মহাকাশ বিজ্ঞানে নিরলস সাধনার মাধ্যমে ভারতের বৈজ্ঞানিকরা কতটা সমৃদ্ধি লাভ করেছেন তা এখন দেশবাসী অনুভব করতে পারছেন। মহাকাশ বিজ্ঞানের সাফল্য সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে! প্রযুক্তি মানুষের কত উপকার করতে পারে! আধুনিকীকরণের মাধ্যমে সকলরকমপরিষেবায় গতি আনতে এর জুড়ি নেই।

আজ ভারত নেভিগেশনের ক্ষেত্রে মহাকাশে সপ্তম উপগ্রহ উৎক্ষেপন করল। একের পর এক এই সাতটি উপগ্রহই ভারত সাফল্যের সঙ্গে উৎক্ষেপণ করেছে। এই সাফল্যের ফলে আজ থেকে ভারত নিজস্ব জিপিএস সিস্টেম সম্পন্ন বিশ্বেরপঞ্চমদেশহিসেবে গর্ব করতে পারবে। নেভিগেশনের জন্যে ভারতকে আর অন্য কোন দেশের উপগ্রহ পরিষেবার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। এখন থেকে আমরা নিজেরাই নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে আমাদের যাত্রাপথ নির্ণয় করতে পারব।

সেজন্যেই বলছিলাম যে ভারতের বৈজ্ঞানিকরা আজ ১২৫ কোটি ভারতবাসীকে একটি অমূল্য উপহার দিয়েছেন। আমরা জানি যে আজকের যুগে জিপিএস সিস্টেম কত গুরুত্বপূর্ণ! আমাদের জেলেরাও এখন এই সিস্টেম ব্যবহার করে কখন কোথায় মাছেদের আনাগোনা বেশি, কোনপথে গেলে সেখানে তাড়াতাড়ি পৌঁছনো যাবে সেসব সম্পর্কে বিস্তারীতজেনে তবেই সমুদ্রে নৌকো ভাসান। এখন আমাদের বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রেও আমরা আরও স্বনির্ভরতা অর্জন করলাম। যে কোনও বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আমাদের দক্ষ বিপর্যয় মোকাবিলা দল নিজস্ব জিপিএস সিস্টেম ব্যবহার করে আগের থেকে অনেক দ্রুত সঠিক স্থানে পৌঁছুতে পারবে। এই উপগ্রহের ক্ষমতা এতটাই যে, কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, কচ্ছ থেকে কামরূপ, ভারতের প্রত্যেক প্রান্তে পরিষেবা দেওয়ার পরও আমাদের সীমান্তের বাইরে আরও ১৫০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় কোন দেশ চাইলে আমরা তাঁদের পরিষেবা দিতে পারব। অর্থাৎ, আমাদের সার্ক দেশগুলি এখনও আমাদের মতোই কোন না কোন দেশ থেকে এই পরিষেবা ক্রয় করে নিজেদের কাজ চালায়। এখন ভারত তাদেরকে সুলভে এই পরিষেবা দিতে পারবে।

আগে আমাদের নাবিকরা চাঁদ তারার সাহায্য নিয়ে সমুদ্রযাত্রা করতেন। চন্দ্র-সূর্যের গতি অনুসারে নিজেদের যাত্রাপথ ঠিক করে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছনোর চেষ্টা করতেন। এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এই সমুদ্রযাত্রাকে কত সহজ করে দিয়েছে। ভারতের সাহসী জেলেরা, ভারতের সাহসী নাবিকরা, তাঁদের সমুদ্রযাত্রার সহস্রাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য মানব-সভ্যতার ইতিহাসে উজ্জ্বল। সেজন্যে এই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে যে নেভিগেশন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে তার নামকরণ করা হয়েছে ‘নাবিক’।

ভারতের কোটি কোটি জেলে ও নাবিকদের সমুদ্রযাত্রার ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে এই ব্যবস্থা আজকের কোটি কোটি দরিদ্র জেলেদের উদ্দেশে সমর্পন করা হল। গোটা বিশ্ব এই ব্যবস্থাকে ‘নাবিক’ নামেই জানবে। এই ‘নাবিক’ পরিষেবা আমরা নিজেদের মোবাইল ফোনেই পেতে পারি। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারবো এখন কোথায় আছি, আমাদের গন্তব্য কত দূরে এবং সেখানে পৌঁছনোরসহজ পথ কোনটা! প্রযুক্তির ভাষায় এর নাম ‘নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম’, আমি একে ‘নেভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কন্সটেলেশন’ বা সংক্ষেপে ‘নাবিক’ নামে আপনাদের সমর্পন করলাম।

১২৫কোটিভারতবাসীএকটিনতুননাবিকউপহারপেল।এইব্যবস্থাআমাদেরজল, স্থলওআকাশ, সকলক্ষেত্রেইপথনির্দেশকরবে।আমাদেরসমুদ্রযাত্রা, বিমানপরিষেবাওসড়কপরিবহনেরক্ষেত্রেদক্ষতারএকটিনতুনমাত্রাসংযোজিতহল।

আমাদেররে

্লপরিবহনেরক্ষেত্রেওজিপিএসএরব্যবহারএখনঅত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ।নতুনপ্রযুক্তিব্যবহারকরেএক্ষেত্রেএখনআমরাআরওপুঙ্খানুপুঙ্খতথ্যপ্রদানেরমাধ্যমেএইমুহূর্তেকোনট্রেনকোথায়আছে, কোনলেভেলক্রশিংপারকরেছে, কোনসিগন্যালথেকেকতদূরেতারঅবস্থানসবজানতেপারব।আমরাবাসেকরেরেলস্টেশনেযাচ্ছি, কিম্বাস্কুটারেকরেট্রেনধরতেযাচ্ছি, নিজেরমোবাইলফোনেইট্রেন্টিরবর্তমানঅবস্থানসম্পর্কেজানতেপারব।এভাবেইসাধারণমানুষেরস্বার্থেপরিষেবাচালুকরেআমাদেরবিজ্ঞানীরা‘মেকইনইন্ডিয়া, মেডইনইন্ডিয়া, মেডফরইন্ডিয়ান’স্বপ্নকেসাকারকরলেন।আমিআজএইশুভঅবসরেদেশবাসীকেএই‘নাবিক’উ

ৎসর্গকরেঅত্যন্তগর্বঅনুভবকরছি।আমিআরএকবারইসরোরসকলবৈজ্ঞানিকএবংগোটাইসরোটিমকেঅন্তরথেকেঅনেকঅনেকধন্যবাদজানাই। অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের মহাকাশ বিজ্ঞানীরা এমনই আরও অনেক নতুন নতুন আবিষ্কার ও সাফল্যের মাধ্যমেবিশ্বেরসামনে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করবেন। তাঁদের চেষ্টায় আমাদের দেশের ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা দিকচক্রবাল পেরিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে পতপত করে উড়বে। এই আশা নিয়েইআপনাদের সকলকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SB/S