পিএমইন্ডিয়া
উপস্থিত সকল সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ,
ঠাকুর সাহেব বলছিলেন, এই প্রথমবার কোনও প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে এসেছেন। আমি ভাগ্যবান যে আমার পূর্বসূরীরা অনেক ভালো ভালো কাজ আমার জন্য ছেড়ে গেছেন। আর আমি সেই ভালো কাজগুলি করার সুযোগ পাচ্ছি।
সাধারণত বিচারক, আদালত ইত্যাদির নাম শুনলে সাধারণ মানুষের মনে হয় – এঁরা ফাঁসির আদেশ দিতে পারেন, কারাগারে নিক্ষেপ করতে পারেন – না জানি কী হবে! কিন্তু, যাঁরা আজ টেলিভিশনে এই অনুষ্ঠান দেখছেন বা রেডিও’তে শুনছেন, তাঁরা বুঝতে পারবেন বিচারকরা কত সংবেদনশীল! গরিবদের আইনি সহায়তা নিয়ে এঁরা কত ভাবেন! দরিদ্র মানুষ যাতে ন্যায়-বিচার পান তা নিয়ে এঁরা কত না পরামর্শ দেন। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ তাঁদের এই পরিচয় জানেন না। এমনকি আমিও এখানে না এলে এই বিষয়ে এত বিস্তারিত জানতে পারতাম না।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে এই প্রয়াসকে আমি একটি সামাজিক সংবেদনার মুখর রূপ হিসেবে দেখি। একজন চিকিৎসক যদি একদিন বিনে পয়সায় রোগী দেখেন, তা হলে বাকি ২৯ দিন তাঁর প্রশংসা চলতে থাকে। কিন্তু, এখানে দিনরাত দরিদ্র মানুষদের নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা হয়, কিন্তু তাঁদের সেবা নিয়ে এই ধরণের কোনও ‘ট্যাগ’ লাগে না। আমাদের এই ধরণের দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন হওয়া উচিত। আর সেজন্য আইনি সচেতনতার পাশাপাশি আরেকটা জিনিসও আমার জরুরি বলে মনে হয়, সেটা হল – এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। সাধারণ মানুষ জানুক যে, এমন ব্যবস্থা রয়েছে। আর সেজন্য সরকার কতটা কী করতে পারে তা নিয়ে আমি ভাববো। আমার একটা মন্ত্র রয়েছে, ‘সকলের সাথে, সকলের উন্নয়ন’ কিন্তু, তার সঙ্গে অনায়াসে ন্যায়কে যুক্ত করে বলা যায় ‘সকলের জন্য ন্যায়’! একসঙ্গে বলা যায়, ‘সকলের পাশে, সকলের উন্নয়ন, সকলের জন্য ন্যায়’!
আমাদের আইন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উচিত ছাত্রদের জন্য একটি ‘বিশেষ অ্যাসাইমেন্ট’ দেওয়া যাতে তাঁরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোক-আদালত নিয়ে গবেষণা করেন, সেই গবেষণার প্রোজেক্ট সাবমিট করার সময় তাঁরা নিজেদের পরামর্শও দিন। কারণ আমার মনে হয়, আমাদের দেশের আইনের ছাত্ররা পড়ার সময়ই বাস্তব ‘লোক-আদালত’ সম্পর্কে ফলিত জ্ঞান আহরণ করুক, বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করুক। ফলিত গবেষণা ক্ষেত্রে গিয়ে তাঁরা অনেক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ব্যবস্থার ইতিবাচক দিকগুলি এবং সীমাবদ্ধতাগুলিও হৃদয়ঙ্গম করতে পারবেন। আর তাঁরা একটি নিরপেক্ষ আধুনিক মননে এসব কিছু বিশ্লেষণ করতে পারবেন। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার বিষয় হিসেবে প্রত্যেক বছর একটি রাজ্যকে বেছে নেবে, পরের বার অন্য আরেকটি রাজ্য বেছে নেবে। প্রত্যেকবার ছাত্রছাত্রীদের সামনে অনেক কিছু ঘটবে, তাদের চোখে ধরা পড়বে নতুন নতুন সমস্যা এবং সেগুলি সমাধানের উপায়, কত বড় কাজ হবে!
লোক-আদালত এবং বিচারালয়ের মধ্যে ফারাক কোথায় এবং কতটা? সাধারণ মানুষও এটা ভাবেন যে, ভাই আদালতের চক্করে পড়তে হবে না! আদালতের চক্কর বলতে অনেকেই উকিলের খপ্পড় বলে বোঝেন, ভাবেন, না জানি কিভাবে সেই খপ্পড় থেকে মুক্তি পাবো! সেজন্য তাঁরা মুখ বুজে অন্যায় সহ্য করে নেওয়াকেই ভবিতব্য বলে মেনে নেন, কিন্তু তাঁদের উপর জুলুম হচ্ছে জেনেও আদালতের চৌকাঠ মারাতে চান না। এই খামতি মেটাতে লোক আদালত অনেকটাই সফল হয়েছে। সাধারণ মানুষ লোক আদালতে যেতে শুরু করেছেন।
সেজন্যই হয়তো লোক আদালত এত কম সময়ে এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই বিচার প্রক্রিয়া এবং পরিণামের উপর সাধারণ মানুষের ভরসা বাড়ছে। সমাজ প্রক্রিয়ায় ১০০ শতাংশ সন্তুষ্ট। আদালতে এক পক্ষ ন্যায় পেলে অন্যপক্ষ মনে কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু লোক আদালতে উভয়পক্ষই সন্তুষ্ট হন, চলুন ভাই, অনেকদিন ধরে চলছিল, মীমাংসা হয়ে গেল!
ঠাকুর সাহেবের সঙ্গে আমার তেমন পরিচয় ছিল না। এই রকমই একটি অনুষ্ঠানে প্রথম তাঁর সঙ্গে ভালোভাবে আলাপ-পরিচয়ের সুযোগ হয়। এই বিষয়ে তাঁর উৎসাহ, মগ্নতা, অন্তরঙ্গতা ও নিবিষ্টভাব দেখে আমি অবাক হয়ে যাই। তাঁর প্রতিটি শব্দ আমাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দিয়েছিল। আজও তেমনই মগ্নতা নিয়ে বলেছিলেন, একই মেজাজে। এই ধরণের নেতৃত্ব কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিতে থাকলে যে কোনও সমস্যার সমাধান নিজে থেকে হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হয়। কখনও কোনও কাঠামো (ফ্রেমওয়ার্ক) থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শাসন (ইনস্টিটিউশন্স রুল) পরিচালিত হয় আবার কখনও দু-একটি পার্কিং পয়েন্ট হয় যাতে প্রতিষ্ঠানের গর্ভাশয় থাকে। এই লোক আদালত সেই পার্কিং পয়েন্ট থেকে জন্ম নিয়েছে। গোটা চারেক মানুষ বসে কাগজে লিখে লোক আদালতের খসড়া বানাননি, সেজন্য এই সাফল্য।
অনিলজী গুজরাট নিয়ে বলছিলেন, সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সুযোগ পেয়েছি। আমি যখন সেখানে ছিলাম, মাত্র ৩৫ পয়সা খরচ করে সেখানে লোক আদালতের রায় পাওয়া যেত, মাত্র ৩৫ পয়সা। অর্থাৎ যে কোনও দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর মানুষের মনে বিশ্বাস জন্মেছিল যে এক টাকাও খরচ না করে ন্যায়বিচার পাওয়া যায়। এখন কত হয়েছে জানি না, জৈন ভাই বলতে পারবেন ৩৫ পয়সা কমেছে কি বেড়েছে, এখনও হয়তো ১ টাকা হয়নি। কিন্তু এই সাফল্য ছোট নয়, এর জন্য সকলকেই কিছু না কিছু ত্যাগ করতে হয়েছে। সময় দিয়েছেন, নিজেদের প্রাপ্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধাগুলির কথা ভাববেন, যে কোনও পাড়া কিংবা গলিতে গিয়ে বিচার করতে বসে পড়েছেন, অনেক জায়গায় প্রখর গ্রীষ্মেও পাখার ব্যবস্থা থাকে না, তবু তাঁরা লোক আদালত চালিয়ে গেছেন, নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। আর সেজন্যই এত অল্প সময়ে ১৫ লক্ষর বেশি লোক আদালত কাজ করছে। সাড়ে আট কোটি মানুষ ন্যায় পেয়েছেন। অর্থাৎ ১৭ কোটি মানুষের বক্তব্য শোনা হয়েছে, কারণ দু’পক্ষই তো আদালতে এসেছেন! এই বিপুল কর্মযজ্ঞই এই ব্যবস্থার নিজস্ব শক্তির পরিচায়ক।
আজ কিছু নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন যদি ন্যায়ের প্রতি সমর্পিত থাকে, ন্যায় সচেতন থাকে তা হলে অনেক নতুন রাস্তা খুলে যায়। আমি একটা উদাহরণ দিই, ভয়ানক ভূমিকম্পের অব্যবহিত পরেই আমাকে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নিতে হয়েছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষের সর্বনাশ হয়েছে, সরকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। কিন্তু, এখানেই মনে প্রশ্ন জাগে। আমরা ঘোষণা তো করে দিলাম ঘর ভেঙে গেলে এত দেওয়া হবে, কেউ মারা গেলে বাড়ির লোক এত পাবেন, কারও হাত বা পা ভাঙ্গলে এত টাকা পাওয়া যাবে – কাগজে-কলমেও আদেশ চলে গেছে, কিন্তু মানুষ যদি অভিযোগ জানায় তা হলে কী করবো? আমি তখন হাইকোর্ট’কে অনুরোধ জানাই আপনারা সাহায্য করলে আমাদের প্যাকেজের বাস্তবায়ন অনেকটাই নমনীয় হতে পারে!
তাঁরা জিজ্ঞেস করেন, কিভাবে? আমি বলি, আমাদের ভূমিকম্প পীড়িত মানুষদের জন্য যদি একটি ‘ওমবাডস্ম্যান’-এর ব্যবস্থা করা হয়, সরকারের প্যাকেজ সম্পর্কে অবহিত থেকে ত্রাণ সংক্রান্ত সকল অভিযোগত খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা আপনাদের নিশ্চিত করতে পারি সরকারি বন্টন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যে কোনও অভিযোগের বিরোধিতা করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কেউ যাবেন না। আপনারা মানুষের অভিযোগ শুনে যে রায় দেবেন আমরা তা মেনে নেব। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, প্রায় ৩০ হাজার মানুষের অভিযোগ যাচাই করে ‘ওমবাডস্ম্যান’ যে ব্যবস্থা নিল আমরা তা-ই মেনে নিলাম। ভূমিকম্প পীড়িতদের পক্ষ থেকে একটিও মামলা দায়ের হয়নি। এই ব্যবস্থাটাই যদি ন্যায়-অন্যায়ের চ্যানেলে চলে যেত তা হলে না জানি কতজনের অভিযোগের বিচার আজও অমীমাংসিত থাকতো। কখনও কখনও বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলে দ্রুত ভালো ফল পাওয়া যায়, এমন অনেক উদাহরণ আছে।
ঠাকুর সাহেব তাঁর বক্তব্যে কর্ণাটকের উদাহরণ দিচ্ছিলেন আর বারবার বলছিলেন যে, অসংগঠিত শ্রমিকদের ৩ হাজার কোটি টাকা রাজকোষে রয়েছে। এটা খুবই বেদনাদায়ক বিষয়। আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দেখি কেন্দ্রীয় সরকারের রাজকোষে গরিব শ্রমিকদের ২৭ হাজার কোটি টাকা রয়েছে। কেন? ওঁরা ৬-৮ মাস কোনও কোম্পানিতে কাজ করে তারপর অন্যত্র চলে যান, দু’বছর পর আবার অন্য কোথাও! তাঁদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ইত্যাদি বাবদ কাটা এত কম টাকা জমা থাকে যে সেটা নেওয়ার জন্য তাঁরা পুরোনো কোম্পানি কিংবা পুরোনো শহরে ফিরে আসার সময় সুযোগ বের করতে পারেন না। কেউ ভাবে, ২০০ টাকার জন্য কতবার যাব? এভাবে জমতে জমতে ২৭ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। এই টাকা নির্মাণ সংস্থা কিংবা ঠিকাদারদের নয়, তাদের নিজেদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের টাকা। সরকার এ বিষয়ে নির্বিকার ছিল। এই মন্তব্য করার জন্য আমি দুঃখিত! কিন্তু এটাই বাস্তব। আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বলি, যাঁদের টাকা তাঁদেরকে ফেরৎ দিতে হবে। শুধু আদালতের হুকুম হলেই কি সরকারি ব্যবস্থা শুধরাবে? বিচারকদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে তবেই সরকারকে নড়েচড়ে বসতে হবে? আমরা একটা ব্যবস্থা চালু করেছি যা আমার মতে দীর্ঘদিন ধরে দেশের সাধারণ মানুষের উপকারে লাগবে। আমরা সকল শ্রমিকদের জন্য একটি ইউনিক আইডেন্টিটি কার্ড নম্ব্র দিয়েছি। তারা যেখানেই যাবেন তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সেই নম্বরও সঙ্গে যাবে। পাশাপাশি, আমরা সেই জমে থাকা ২৭ হাজার কোটি টাকাও ফেরানো শুরু করেছি। তবে অনেকের হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা এখন কে কোথায় আছেন কে জানে! আমরা তাদেরকে খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে, ভবিষ্যতে কোনও শ্রমিকের সঙ্গে আর এই অন্যায় হবে না, তারা চাকরি বদলালে কিংবা শহর বদলালেও এই টাকা তাদের সঙ্গে সঙ্গে চলতে থাকবে। তাদের প্রয়োজনে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা দ্রুত জমা পড়লে, তারা তা তুলে কাজে লাগাতে পারবেন।
আর সেজন্যই আমার অনুরোধ, আমাদের আইন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি এই লোক আদালত এবং ‘লিগ্যাল এইড’-এর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কিছু বিষয়কেন্দ্রিক অবজেক্টিভ পরামর্শ দিক, বাস্তবানুগ পরিবর্তনের পরামর্শ দিক, আমরা তাদের কথা শুনে নিয়মগুলি সংশোধন করতে পারলে কত মানুষ দ্রুত ন্যায়-বিচার পেতে পারেন। এভাবে আমরা আমাদের বিচার ব্যবস্থা বিপুল পরিমাণ অমীমাংসিত মামলার বোঝা লাঘব করতে পারবো, উৎকৃষ্ট বিচার সুনিশ্চিত করতে পারবো। সেজন্য সরকার এবং বিচার ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় চাই। উভয়ের মন্থনে যে অমৃত বেরিয়ে আসবে তার যথাযথ প্রয়োগ চাই।
একটু আগে আমি অনেক কুন্ঠা নিয়ে ঠাকুর সাহেব’কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, নবনিযুক্ত বিচারকদের নিয়োগের সময় তাদের মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে গরিবদের বিনামূল্যে আইনি পরিষেবা দেওয়ার বিষয়টিকে অন্যতম বিচার্য বিষয় করে তোলা যায় কি না! তাঁরা দরিদ্রদের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে কতটা কাজ করেছেন, কত গরিবের উপকার করেছেন, একবার মানদন্ড নির্ণয় করা গেলে, মনে করুন, সাক্ষাৎকারে ১০০-র মধ্যে ১০ নম্বর যদি এর জন্য নির্ধারিত করা যায়! এমনটি হলে নবীন প্রজন্মের আইনজীবীদের কাছে একটি বার্তা যাবে। তাঁরাও সামাজিক সংবেদনাকে অগ্রাধিকার দিতে শুরু করবেন। যাঁরা বিচারক হতে চান, তাঁরা অন্তত ৫-১০ বছর আগে থেকে গরিবদের বিনামূল্যে আইনি পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোগী হবেন। এতে সমাজে অনেক পরিবর্তন আসতে পারে, অনেক অমীমাংসিত মামলা দ্রুত সম্পাদিত হতে পারে। এখানে বসে বসে আমার মনে যেসব চিন্তার উদ্রেগ হচ্ছে তা-ই বলছি। এর খুঁটিনাটি আমি জানি না। আপনারা ভেবে দেখবেন।
কোনও প্রতিষ্ঠানই বরাবর অপরিবর্তিত থাকতে পারে না। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। আমাদের চিন্তাধারায় একটা পরিবর্তন দরকার। যেভাবে আমরা ভাবি যে, পুরোনো সব জিনিসই ভালো এবং সেজন্য তাতে হাত দেব না, তা ঠিক নয়। লোক আদালত একটি সফল প্রয়োগ, লিগাল এইড একটি সফল প্রয়োগ, কিন্তু আমরা যদি এতেই সন্তুষ্ট হয়ে যাই, তা হলে তো স্থবির হয়ে পড়বো।
আমি ঠাকুর সাহেব’কে অভিনন্দন জানাই, সিকরী সাহেবের মতো অন্য যাঁরা আপনাকে সাহায্য করেছেন, তাঁদেরকেও অভিনন্দন জানাই এজন্য যে আপনারা রাঁচি গিয়ে আদিবাসীদের সঙ্গে বসে তাঁদের কথা শুনেছেন। আপনারা চিন্তা করছেন, সমাজে আমরা কাদেরকে অগ্রাধিকার দেব। আপনারা যে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন তা অনেক কঠিন কাজ। আপনারা বিচার ব্যবস্থাকে প্রাণবন্ত করে তুলছেন, নতুন নতুন শক্তি জোটানোর চেষ্টা করছেন। এমনই করেই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিধি বাড়ানোর কথা ভাবা উচিত, তার রঙরূপ বদলানো উচিত। আপনারা একটি নিশ্চিত রোড-ম্যাপ নির্ণয় করে নিয়ে এই কাজে হাত দিয়েছেন, আদিবাসীদের কল্যাণে, সংশোধনাগারে আটক বন্দীদের কল্যাণে, পাহাড়বাসীদের কল্যাণে, অজস্র অমীমাংসিত মামলার রায়দানের ক্ষেত্রেও আপনারা এমনভাবে এগিয়ে আসুন। তা হলেই দেখবেন ধীরে ধীরে কর্মসংস্কৃতি পরিবর্তিত হবে।
স্বাধীনতার সাত দশক পরও আমাদের দেশের ৪০ শতাংশ নাগরিকের কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল না। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা এমন কোনও বড় কাজ নয়। দরিদ্র মানুষদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথা বলেই তো চার দশক আগে দেশে ব্যাঙ্ক রাষ্ট্রায়ত্তকরণ হয়েছিল। কিন্তু, এতদিন ৪০ শতাংশ মানুষ মূলধারার অর্থনীতির আওতাভুক্ত হননি। তাঁরা জানতেন না যে, ছেঁড়া জামাকাপড় কিংবা মলিন পোশাকেও ব্যাঙ্কে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা যায় – এর থেকে বড় দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে!
আমরা ‘প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা’ অভিযান চালিয়ে দ্রুত সাফল্য পেয়েছি। আজ গর্ব করে বলতে পারি, আমি নিজেও ভাবিনি এত দ্রুত সাফল্য পাবো। এখন দেশের প্রায় ১০০ শতাংশ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আমি এভাবে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকরণের মাধ্যমে ওই ৪০ শতাংশ মানুষকেও দেশের অর্থনৈতিক মূল ধারার অংশীদার করে তুলতে পেরেছি। আমরা বলেছিলাম, এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে তাদের এক টাকাও জমা দেওয়ার আবশ্যিক নয়। বড়লোকদের দারিদ্র্যের কথা আমরা বারবার শুনেছি, কিন্তু গরিব মানুষদের মন কত বড় দেখুন, এই দরিদ্র্য মানুষরা তাদের অ্যাকাউন্টে মোট ২৪ হাজার কোটি টাকা জমা করেছেন। যাঁরা এতদিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ব্যাঙ্কের দরজায় যাওয়ার সাহস পাচ্ছিলেন না, তাঁরাই ব্যাঙ্কগুলিতে ২৪ হাজার কোটি টাকা জমা দিলেন।
লিঙ্গ রূপান্তরকামীদের প্রতি আমাদের সমাজ কথা উদাসীন। ঈশ্বর তাঁদেরকে যেভাবে সৃষ্টি করেছেন তা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু, আমরা কেন তাঁদের প্রতি অন্যায় করবো? তাঁদের কল্যাণে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আইন পরিবর্তন করতে হবে। সরকারের দৃষ্টিভঙ্গীতেও পরিবর্তন আনতে হবে। এরকম সমাজের অনেক ধরণের বঞ্চিত মানুষদের জন্য আমাদের সমবেতভাবে কিছু করতে হবে। আমি আজ ঠাকুর সাহেব ও তাঁর গোটা টিম’কে বিশেষ করে আজ যাঁরা পুরস্কৃত হলেন, তাঁদের সকলকে অন্তর থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই। আপনারা নিঃস্বার্থভাবে এই কাজ করেছেন, কাজ করার সময় আপনারা জানতেন না যে এই কাজের জন্য একদিন আপনারা মঞ্চে পুরস্কৃত হবেন, প্রতিষ্ঠিত প্রবীন বিচারকদের সঙ্গে করমর্দনের সুযোগ পাবেন। আপনাদের মাথায় ছিল গরিব মানুষ, তাঁদের দুঃখ-কষ্ট আপনাদের মনকে উতলা করে তুলেছিল বলেই আপনারা আদালতে না গিয়ে সেই গরিবদের বাড়িতে গিয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সেজন্যই আপনাদের অন্তর থেকে অভিনন্দন জানাই, অনেক ধন্যবাদ জানাই।
আমার গুজরাটের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি আমাদের বিচার ব্যবস্থায় অধিকাংশ বিচারক এমনই দায়িত্ববান, সংবেদনশীল নিমগ্নতা নিয়ে কাজ করেন। বিচার ব্যবস্থাকে তাঁরা নিজের পরিবারের মতোই ভালোবাসেন। লোক আদালত, লিগ্যাল এইড’কে বাদ দিলেও বিচার ব্যবস্থার এই দায়িত্বশীল ভূমিকা আমাদের দেশের বিরাট শক্তি। গোটা দেশে যাঁরা এই দায়িত্ব এতদিন ধরে পালন করে আসছেন, এখন যাঁরা পালন করছেন আর ভবিষ্যতে যাঁরা পালন করবেন, তাঁদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই, অনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG/SB/SB
Happy that discussions are being held on how poor will get justice. I have been able to learn a lot being here: PM https://t.co/xuw5yhM8Ii
— PMO India (@PMOIndia) November 9, 2015
I believe in 'Sabka Saath, Sabka Vikas' and with that there must be 'Sabka Nyay': PM @narendramodi https://t.co/xuw5yhM8Ii
— PMO India (@PMOIndia) November 9, 2015
I think more and more people must know what Lok Adalats are about: PM @narendramodi https://t.co/xuw5yhM8Ii
— PMO India (@PMOIndia) November 9, 2015
We have given the labourers a unique ID card number. This will help the labourers immensely in several ways: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 9, 2015