পিএমইন্ডিয়া
মঞ্চে উপস্থিত সকল শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গ, আর সামনে বসে থাকা নবীন প্রজন্মের বন্ধুরা এবং সেইসঙ্গে এখন অনলাইনে উত্তর-পূর্ব ভারতের যে সকল ছাত্রছাত্রীরা এই অনুষ্ঠান দেখছেন, তাঁদের সকলকে আমি স্বাগত জানাই।
সবার আগে আমি আপনাদের সকলের কাছে আমি বিলম্বের জন্য ক্ষমা চাইছি। আজ সকালেই সিকিম থেকে রওনা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আবহাওয়াজনিত কারণে এত দেরী হয়ে গেল। অবশেষে পৌঁছালাম। আজ এখানে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান রয়েছে। প্রথমটি আই আই আই টি গুয়াহাটির নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। আর দ্বিতীয়টি হল, আই সি টি অ্যাকাডেমির শুভ উদ্বোধন। আমরা সবাই শুনেছি, একবিংশ শতাব্দী ভারতের শতাব্দী, কিন্তু কিভাবে? সারা বিশ্ব মানে যে একবিংশ শতাব্দী হল জ্ঞানের শতাব্দী। এই শতাব্দীতে যাঁরা তথ্য ও জ্ঞানকে অগ্রাধিকার দেবেন, তাঁরাই বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবেন। ভারত বিশ্বের সর্বাধিক নবীন দেশ, এর ৬৫ শতাংশ জনসংখ্যার বয়স ৩৫ বছরের নীচে। মানবসভ্যতা যখনই কোনও সংবেদনশীল মূহুর্তের সম্মুখীন হয়েছে, তখনই ভারত বিশ্বমানবকে পথ দেখিয়েছে। এই পরম্পরা আমাদের ঐতিহ্য। একবিংশ শতাব্দীতে আমাদের মূল শক্তি হল জনসংখ্যার শক্তি। এই নবীন প্রজন্মের মনে কাজ করার যে ইচ্ছা সেটাই আমাদের মূল শক্তি। ভারত কিভাবে এই পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করবে, কিভাবে সকল সমস্যাকে সুযোগে পরিবর্তিত করবে তার ওপর নির্ভর করছে কত দ্রুত আমরা এই শতাব্দীকে ভারতের শতাব্দী করে তুলতে পারবো। আজ সারা পৃথিবীর সকল রেটিং এজেন্সিগুলির রিপোর্ট যদি দেখেন – আই এম এফ, বিশ্ব ব্যাঙ্ক; সকলেই এখন স্বীকার করে নিয়েছে যে আজ বিশ্বের বড় দেশগুলির মধ্যে সর্বাধিক দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলা অর্থনীতির দেশ হল ভারত।
আজ সারা বিশ্ব আর্থিক মন্দার শিকার। এই সংকট সময়ে একা ভারত নিজের পায়ে অবিচল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর সুযোগ পেলেই এগিয়ে যাচ্ছে। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে। সরকার আমাদের যুবশক্তিকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে, যার সুফল দেশ দেখতে পাচ্ছে। এই প্রথমবার দেশে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য আলাদা বিভাগ গড়ে তোলা হয়েছে। আগে প্রত্যেক বিভাগ নিজের নিজের মতো করে দক্ষতা উন্নয়নের কাজ করতো। কিন্তু, এখন আমরা একবিংশ শতাব্দীর প্রয়োজন ও চাহিদা অনুসারে আমাদের মানবসম্পদ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে এবং বিশ্বমানের মানবসম্পদ গড়ে তুলতে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য আলাদা বিভাগ গড়ে তুলেছি। আমাদের নবীন প্রজন্মের দক্ষতা অদূর ভবিষ্যতেই গোটা বিশ্বে সকল শিল্পক্ষেত্রে কার্যকরি ভূমিকা গ্রহণ করবে। ২০৩০ সালের পর সারা পৃথিবীর কারখানাগুলিতে দক্ষ কর্মচারীর যে ঘাটতি হবে, ভারতই তা মেটাতে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারবে।
এর মানে কি ভারত কেবলই সেবাদানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে? আমরা তা চাই না। সেজন্য আমরা দেশে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ অভিযান শুরু করেছি। আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ করে যে জিনিস আমদানি করতে হয়, তা হল পেট্রোলিয়াম। তারপরই হল বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি, ল্যাপটপ, মোবাইল, বৈদ্যুতিন চিকিৎসা সরঞ্জাম ইত্যাদি। এখন বলুন, যেদেশে আই আই টি গুয়াহাটির মতো এতো ভালো প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেদেশেই বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি আমদানি করতে হয়, এটা কি ভালো কথা! সামান্য থার্মোমিটার বা তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রও আমাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
বন্ধুগণ, এই পরিস্থিতি বদলাতে হবে। আমি আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারাই দেশের স্বার্থে সকল প্রকার বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি উৎপাদনের কথা ভাবুন। আমাদের দেশে মেধার কোনও ঘাটতি নেই, ইচ্ছাশক্তিরও অভাব নেই। আপনারা যদি সিলিকন ভ্যালি’তে যান দেখবেন, স্থানটি আমেরিকায় হলেও সেখানকার প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ কর্মীই ভারতীয়। এক তৃতীয়াংশ কোম্পানির সি ই ও-ই ভারতীয়। ভারত ইতিমধ্যেই মঙ্গলযানের সফল উৎক্ষেপণ করেছে। সেটি যথারীতি মঙ্গলগ্রহের সফল পরিক্রমা করে তথ্যাদি ও ছবি পাঠানো শুরু করেছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলি ২০-২৫ বার চেষ্টা করে এই ধরণের সাফল্য পেয়েছে। ভারতের বৈজ্ঞানিকরা কিন্তু প্রথমবারেই সফল হয়েছেন। এতে দেশের কতো টাকা বাঁচলো বলুন। আপনারা গুয়াহাটি’তে অটোরিক্সায় ১ কিলোমিটার যেতে ১০ টাকা ভাড়া দেন। কিন্তু, ভারতীয় বিজ্ঞানীরা এই মঙ্গলযান অভিযানে কিলোমিটার পিছু খরচ করেছেন মাত্র ৭ টাকা। আমাদের নবীন প্রজন্মের মেধা এবং বৈজ্ঞানিকদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রবল ইচ্ছাশক্তি, তবেই এটা সম্ভব হয়েছে। যে দেশে এতো সামর্থ্য রয়েছে, সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র স্বপ্ন কেন দেখবে না। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ১৯৭০ সালের পর থেকে ভারত পরনির্ভরশীল, এমনকি, কাঁদানি গ্যাসের মতো সামান্য উপকরণও আমাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এই পরিস্থিতি বদলানোর সময় এসেছে বন্ধুরা। নিজেদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নিজেদেরকেই উৎপাদন করতে হবে। তারপর, বিশ্বের অন্য দেশকেও রপ্তানি করতে হবে।
আজ আমরা মোবাইল ফোন ছাড়া বাঁচতেই পারবো না। আপনাদের মধ্যে অনেকেই আমার সঙ্গে ফেসবুক ও ট্যুইটারে যুক্ত রয়েছেন। গুয়াহাটির অনেকেই নরেন্দ্র মোদী অ্যাপ-এ নিয়মিত কিছু না কিছু লেখেন। কিন্তু, দুঃখের বিষয় এই মোবাইল ফোন আমাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আমি আপনাদের আই আই টি ও দেশের সকল প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও মেক ইন ইন্ডিয়া’র পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যাতে এখন থেকেই ছাত্রছাত্রীরা তাদের আবিষ্কারের মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার কথা ভাবেন।
এখন আমি আই সি টি নিয়ে বলবো। আই সি টি আমাদের বাণিজ্য ক্ষেত্রে নতুন নতুন সফটওয়্যার নির্মাণের সামর্থ্য গড়ে তুলছে। এখন গোটা বিশ্বের সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল সাইবার নিরাপত্তা। সবকটি সমৃদ্ধ দেশের নেতারাও এই নিয়ে আতঙ্কিত। তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলি হাইজ্যাক না হয়ে যায়। বৈজ্ঞানিকরা ভয় পাচ্ছেন, তাঁদের গবেষণালব্ধ নথিপত্র কেউ না চুরি করে নেয়। এমনকি, সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে কোনও বিমানকে আকাশ থেকে নীচে নামিয়ে নেওয়া যায়। এই সঙ্কটে সারা বিশ্ব থরহরি কম্পমান। প্রযুক্তি আমাদের যেমন অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে, পাশাপাশি নতুন নতুন সমস্যাও তৈরি হয়েছে। আমি নবীন প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা নিজেদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বকে সাইবার নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিন। পারবেন না?
সেজন্য বন্ধুরা, ‘দক্ষতা উন্নয়ন’ থেকে শুরু করে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ – দু’দিন আগেই আপনাদের মধ্যে অনেকেই ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন। হ্যাঁ, আমি ‘স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া’র শুভ সূচনার কথা বলি। গত ১৫ আগস্টে আমি যখন লালকেল্লার প্রাকার থেকে জাতির উদ্দেশে ‘স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া’র আহ্বান রেখেছিলাম, তখন বুঝতে পারিনি কোথাও সেটা নথিবদ্ধ হয়েছে কি না। কিন্তু, দু’দিন আগে ‘স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া’ অনুষ্ঠানে দেখলাম লক্ষাধিক নবীন প্রজন্মের মানুষ নিজেদের নথিভুক্ত করেছেন। এর মানে দেশে একটি নতুন আন্দোলন গড়ে উঠেছে। আজ নবীন প্রজন্মের মানুষ চাকরির জন্য হন্যে হয়ে না ঘুরে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান। সেজন্য আমরা বেশ কয়েকটি নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছি, নতুন উদ্যোগ নিয়েছি, যাতে ভারত গোটা বিশ্বে স্বউদ্যোগীদের রাজধানী হয়ে উঠতে পারে। আপনারা ইন্টারনেটে সমস্ত তথ্য পাবেন। ২২ থেকে ৩০ বছর বয়সী যুবকরা কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করতে শুরু করেছেন। আর বছর দু’য়ের মধ্যেই তারা কেবল নিজের মেধা ও প্রযুক্তিকে পূঁজি করে ৫ থেকে ১০ হাজার এমনকি কেউ কেউ ২৫ হাজার মানুষকে কর্মসংস্থান দিতে পারবেন।
এখন অ্যাপের যুগ। অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বের সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। আমিও অ্যাপের মাধ্যমে দেশ ও বিশ্বে নবীন প্রজন্মের অসংখ্য মানুষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। দক্ষতা উন্নয়ন থেকে শুরু করে ‘স্টার্ট আপ’ অবধি আর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ থেকে ‘মেক ফর গ্লোবাল রিকোয়্যারমেন্ট’ বিশ্বের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে আমরা প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব দেবার প্রয়োজন রয়েছে। সবাই সোনার চামচ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন না। পাথর খোদাই করে শিল্পকৃতি গড়ে তুলতে শক্তির পাশাপাশি, দক্ষতাও চাই। সেজন্য দক্ষতা উন্নয়নই দেশের অধিকাংশ মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারবে।
ভারতে যত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, প্রযুক্তি কেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে সেগুলিকে আমরা একসূত্রে গেঁথে নিতে চাই, যাতে তারা সকলে মিলে দেশের সকল প্রয়োজন পূরণের সামর্থ্য গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। সবাই মিলে কাজ করলে দেখবেন, সকল সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করা সম্ভব। এমন কোনও সমস্যা নেই যে তার সমাধান নেই। শুধু সমাধানের পথ খুঁজে নেবার মতো মেধা ও উদ্যোগ চাই। দেশের নবীন প্রজন্ম এগিয়ে এলে সাফল্য অবশ্যম্ভাবী।
সম্প্রতি, রাষ্ট্রপতি ভবনে কিছু স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এসেছিলো। আমাদের রাষ্ট্রপতি মহোদয় তাদের উৎসাহ দেবার জন্য এ ধরনের অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। এবার তিনি আমাকে ডেকে পাঠান। বলেন, মোদীজী একবার এসে দেখুন, অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা ‘স্বচ্ছ ভারত’ আন্দোলনের স্বপক্ষে কী ধরণের নতুন আবিষ্কার করে ফেলেছে। আমি গিয়ে দেখে অবাক হয়ে হয়ে গেলাম। তারমানে, আমাদের দেশে প্রত্যেক সমস্যার সমাধানের সামর্থ্য রয়েছে।
ভারতে লক্ষ লক্ষ সমস্যা যেমন আছে, তেমনই সেগুলি সমাধানের জন্য কোটি কোটি নবীন বন্ধুদের মস্তিষ্ক রয়েছে। ভারতের পূর্ব প্রান্ত থেকে জ্ঞানসূর্যের প্রখর কিরণ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক। আপনাদের সকলের প্রতি আমার এই শুভেচ্ছা রইলো। অনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG/SB/SB
We keep hearing 21st century is India's century. What is the reason? Because this is a century of knowledge & information: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) January 19, 2016
The nation that leads in knowledge and information, the century will belong to that nation. India is also a very youthful nation: PM
— PMO India (@PMOIndia) January 19, 2016
Whenever it has been about knowledge, India has always shown the way to the entire world: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) January 19, 2016
Our efforts are not scattered, only following the routine procedures. Our efforts are inter-linked, with an aim to see desired results: PM
— PMO India (@PMOIndia) January 19, 2016
The requirement for human resource is going to increase and if a nation can cater to this demand it is India: PM @narendramodi in Assam
— PMO India (@PMOIndia) January 19, 2016
Why should India only remain a market? This is not acceptable. This is also the reason we launched #makeinindia: PM @narendramodi in Assam
— PMO India (@PMOIndia) January 19, 2016
I have come to you with a challenge- why not manufacture electronic goods in India. We have the talent, ideas & determination: PM in Assam
— PMO India (@PMOIndia) January 19, 2016
People here are connected with me through FB, Twitter. You also connect with me on the App: PM in Assam https://t.co/du0R7YZb24
— PMO India (@PMOIndia) January 19, 2016
The current generation of youngsters don't want to be job seekers. The youth wants to be job creators: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) January 19, 2016
A group of school students were called by the President, who keeps taking such wonderful initiatives: PM @narendramodi @RashtrapatiBhvn
— PMO India (@PMOIndia) January 19, 2016
Students had innovative ideas on Swachh Bharat and I was amazed. A million problems exist in India but so do a billion brains: PM in Assam
— PMO India (@PMOIndia) January 19, 2016
My speech on harnessing the demographic dividend & making India a hub of innovation & manufacturing. https://t.co/67JW4mnbO9
— Narendra Modi (@narendramodi) January 19, 2016