পিএমইন্ডিয়া
উপস্থিত মাননীয় ব্যক্তিবর্গ,
আমি আই.ডি.এফ.সি. ব্যাঙ্ককে অভিনন্দন জানাই। ১৮ বছরের সফর খুব দীর্ঘ সফর নয়, কিন্তু আপনারা এই সামান্য সময়ের মধ্যেই ভারতের মানচিত্রে নিজস্ব এক স্থান করে নিয়েছেন। এতদিন পর্যন্ত আপনারা বড় বড় বাড়ি তৈরি করেছেন, বন্দর নির্মাণ করেছেন। এখন আপনারা মানুষের জীবন নির্মাণের লক্ষ্যে পা রাখছেন। গত ১৮ বছরে আপনাদের যে সমস্ত সমস্যার সমাধান করতে হয়েছে, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি সমস্যার সমাধান করতে হবে। কারণ, এতদিন আপনাদের গ্রাহক ছিল সীমিত। নিজেদের প্রকল্প সম্পর্কে, বিনিয়োগ সম্পর্কে ঋণ ও শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রটিও ছিল সীমিত। কিন্তু, এখন সেই সীমা অনেক বৃদ্ধি পাবে। একজন প্রযুক্তিবিদের কাজ অপেক্ষাকৃত সরল হয়। কিন্তু, একজন শিক্ষকের কাজে অনেক বেশি কঠিন। কারণ, তাঁকে জীবন নির্মাণ করতে হয়। আই.ডি.এফ.সি. এতদিন সেই প্রযুক্তিবিদের কাজ করছিল, যিনি ভবন নির্মাণ করেন। কিন্তু, এখন তাঁকে শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। সকল প্রতিস্পর্ধা সত্ত্বেও এটা আপনাদের সঠিক লক্ষ্যে যথাযথ সিদ্ধান্ত।
ব্যাঙ্কের মূল উদ্দেশ্য হল, গ্রামে যাওয়া। কিন্তু, আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য হল – সরকারকে বাধ্য হয়ে নিয়ম প্রবর্তন করতে হয়েছে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত না কোনও ব্যাঙ্ক তাদের ২৫ শতাংশ শাখা গ্রামে খুলবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হবে না। এই নিয়ম প্রবর্তনের কোনও প্রয়োজনই ছিল না, কিন্তু বাধ্য হয়ে করতে হয়েছে। কারণ, আমাদের ব্যাঙ্কগুলি গ্রামীণ জীবনের সম্ভাবনাকে বুঝে উঠতে পারেনি। সেজন্য এতদিন তারা শহুরে জীবন সরকার এবং প্রশাসনকে ঘিরেই তাদের কর্মপরিধি সীমিত রেখেছে। কিন্তু, বিগত কয়েক বছরে কারও কারও দূরদর্শিতার ফলে গ্রামীণ জীবনও একটি বড় প্রগতি কেন্দ্র প্রতিপন্ন হয়েছে। আপনারা জানেন, টেলিকম ইন্ডাস্ট্রির জন্য আগে যখন স্পেকট্রাম দেওয়া হতো, তখন গ্রামে টেলিযোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলি দ্বিধান্বিত থাকতো। যারা বরাত পেতো, তারাও সাব-কন্ট্রাক্ট দিয়ে কাজ চালাতো। কিন্তু, যখনই তারা গ্রামে কাজ করতে শুরু করলেন, তখন দেখলেন যে, শহরের তুলনায় গ্রামে প্রগতির হার অনেক বেশি। গ্রামে প্রসার এবং গতিও অনেক বেশি। এতদিনে সবাই বুঝতে পারছেন যে, গ্রামের সঙ্গে কেবল রাজধানী শহর নয়, রাজ্যের অন্যান্য শহরের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে। সেজন্য রোজগারের সুযোগও বেশি। ব্যাঙ্কগুলিও এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিচ্ছে এবং গ্রামগুলিতে তাদের শাখা স্থাপন করছে। অদূর ভবিষ্যতেই ভারতের অর্থনৈতিক জীবনে গ্রামীণ অর্থ ব্যবস্থা একটি বড় শক্তি হয়ে দেখা দেবে, বড় পরিবর্তন আসছে।
আরেকটি কথা, অরুণজী যেরকম বিস্তারিতভাবে বলেছেন, এখন ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রেও আমূল পরিবর্তন এসেছে। আগামীদিনে মোবাইল ব্যাঙ্কিং জনপ্রিয় হবে। ব্যাঙ্কের কোনও বাড়ি লাগবে না, কাগজের খরচ কমবে। ফলে, আগামীদিনে আমাদের দেশে মুদ্রা ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আসবে। এখন টাকা ছাপাতে যত খরচ হয়, আগামীদিনে সেই খরচও কমে যাবে। কারণ, সমস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য অনলাইন-এ হলে টাকার ব্যবহারিক লেনদেন কমবে। কাজেই প্রযুক্তির সাহায্যে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে। টাকার ব্যবহারিক লেনদেন কমলে ধীরে ধীরে কালোটাকার লেনদেনও কমবে। আমরা দেশকে সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আই.ডি.এফ.সি. মধ্যপ্রদেশে তার ব্যাঙ্কিং বাণিজ্যের সূত্রপাত করছে। তারা মধ্যপ্রদেশের নর্মদা তীরবর্তী আদিবাসীপ্রধান অঞ্চলকে বেছে নেওয়ায় আমি খুব খুশি হয়েছি।
আজ গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ভারতের দিকে আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে যে উত্থান-পতন চলছে, এই ডামাডোলের বিশ্ব বাজারে একমাত্র ভারতীয় অর্থনীতি স্থির। ভারত সরকারের স্থিতপ্রজ্ঞ নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্ব অর্থনীতির এই সঙ্কট সময়ে ভারত ধীরে হলেও নির্দিষ্ট গতিতে এগিয়ে চলেছে।
গোটা বিশ্ব ভারতের অফুরন্ত সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। একথা কেউ জিজ্ঞেস করেন না যে, আপনারা কিভাবে এগিয়ে যাবেন, কিভাবে বাঁচবেন, বাঁচতে পারবেন কি পারবেন না? আমাদের দৃঢ় স্থিতি দেখে অনেকে জিজ্ঞেস করছেন, আপনারা এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন না কেন?আপনারা এত নিস্পৃহ কেন? বিশ্ব ব্যাঙ্ক হোক কিংবা আই.এম.এফ. এবং সকল রেটিং এজেন্সির মতে, আজ বিশ্বে সর্বাধিক দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়া বড় দেশ হল ভারত। এই শক্তি আমাদের রয়েছে, সেজন্য আমাদের উচিত – নিজেদের ভিতকে আরও মজবুত করা, দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতায় এগিয়ে যাওয়া। প্রস্থ এবং পরিধি বাড়াতে হলে আমাদের গ্রামীণ জীবনকেই ভিত্তি করে এগিয়ে যেতে হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া। ঋণদানের ক্ষেত্রে কৃষি ক্ষেত্র এবং কৃষি পরিকাঠামো নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। যেমন – কমপক্ষে ১০টি গ্রামের জন্য একটি হিমঘর এবং একটি গুদামের ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা কিভাবে নিজেদেরকে গ্রামীণ অর্থনীতির উপযোগী করে তুলতে পারবে সেটা তাদেরকেই ভাবতে হবে। কৃষি ক্ষেত্রে ভারতের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের কৃষক আজ বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছেন। আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন, কিছুক্ষণ আগেই একজন ভদ্রমহিলা নিজের মোবাইল নম্বর ইংরাজিতে বলছিলেন। এভাবে ইংরাজিতে নম্বর বলা যে তিনি স্কুলেই শিখেছেন, তার কোনও মানে নেই। ধীরে ধীরে আমাদের সমাজে প্রতিটি মানুষ বিশ্ব নাগরিক হওয়ার লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছেন। এই শক্তিকে চিনতে হবে। এই শক্তিকে চিনলেই আপনারা পরিবর্তনের অনুকূলে চলতে পারবেন।
আমি আগেও একবার কোথাও নিজের বক্তৃতায় বলেছিলাম, আমি যখন গুজরাটে মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখন ভালসার জেলায় ধর্মপুরের কাছে একটি পিছিয়ে পড়া তহশিল ছিল, আদিবাসী এলাকা। আমি সেখানে কোনও অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করি। যদি কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন সম্ভব না হয়, তা হলে এমনি যেতে চাই। তখন একটি ছোট হিমঘরের উদ্বোধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে যাই। মাত্র ৫০ লক্ষ টাকা বাজেটের হিমঘর দুগ্ধ সংরক্ষণের কাজে লাগবে। আধিকারিকরা আমাকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধান্বিত ছিলেন। কিন্তু আমি বললাম, আমি যাবো। গিয়ে দেখি, সেখানে জঙ্গলের মধ্যে একটি স্কুলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানের জন্য তাঁরা প্রায় ৫০ জন আদিবাসী মহিলাকে ডেকেছিলেন। এঁরা প্রত্যেকেই দুগ্ধ ব্যবসায়ী। ঐ হিমঘর তাঁদের কাজে লাগবে। কিন্তু, আমি অবাক হলাম, ঐ মহিলারা প্রত্যেকেই মোবাইল ফোন দিয়ে অনুষ্ঠানের ছবি তুলছিলেন। আমি তাঁদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, এই ছবি দিয়ে আপনারা কী করবেন? তাঁদের উত্তর শুনে আমি আরও অবাক হলাম! তাঁরা বললেন, এই ছবিগুলি ডাউনলোড করে ছাপিয়ে নেবো। তাঁরা যে ডাউনলোড শব্দটিও জানেন, তা দেখে আমি আশ্চর্য হলাম। তার মানে আমরা কোথায় পৌঁছে গিয়েছি! আমরা কিভাবে এই অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো, তা নিয়ে ভাবতে হবে।
তেমনই আমাদের নবীন প্রজন্ম! তাদের পড়াশুনার জন্য সরল ব্যাঙ্ক ঋণ ব্যবস্থা কেনো থাকবে না? এই যে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি রয়েছে, তাঁদের যদি বুধবার ১০০ টাকা কিস্তি জমা দিতে হয়, দেখা গেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁরা মঙ্গলবার দিন এসে জমা দিয়ে যান। কারণ তাঁরা ভাবেন, হাতে যেহেতু টাকা এসে গেছে, খরচ হবার আগে কিস্তি জমা দিয়ে দেওয়া উচিত। আমাদের গ্রামীণ জীবনের এই সারল্য, এই সংবেদনশীলতাকে বুঝতে হবে। আমাদের ব্যাঙ্কগুলি এতদিন এসব না বোঝার ফলে সুদখোর মহাজনরা গ্রামাঞ্চলে শোষণ করে গেছে। এর ফলে, আমাদের অর্থনীতিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের উচিত, সাধারণ মানুষের মনে আস্থা এনে, তাঁদেরকে সুদখোর মহাজনদের কবল থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির বুনিয়াদকে সম্প্রসারিত করা।
এসব কথা মাথায় রেখে আমাদের দেশের সরকার চার দশক আগেই ব্যাঙ্ক রাষ্ট্রায়ত্তকরণ করেছিল। কিন্তু, দুঃখের বিষয় এই পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। খুব কম গরিব মানুষই ব্যাঙ্ক পরিষেবার আওতায় এসেছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারে যেমন পারিবারিক চিকিৎসক থাকেন, উচ্চবিত্ত পরিবারে তেমনই থাকে পারিবারিক ব্যাঙ্ক। উচ্চবিত্তরা অসুস্থ হলেও ব্যাঙ্ক মালিকের আমন্ত্রণ রক্ষা করতে লাঞ্চ-ডিনার করতে যান। এটাই বাস্তব। এখন আমাদের সমাজে গজিয়ে ওঠা নব্য মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের হাতেও অনেক শক্তি থাকে। ব্যাঙ্কগুলি এখন তাঁদেরকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। মনে করুন, আপনার সামনে এখন দুটি আবেদনপত্র আছে, প্রথমটি হল – একটি ভবন নির্মাণের। সেখানে সরকারি অফিস হবে। আর দ্বিতীয়টি হল – একটি কলেজ বা একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। আমি যদি ব্যাঙ্ক আধিকারিক হই, তা হলে আমি ঐ বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের আবেদনপত্রটিকে অগ্রাধিকার দেবো। কারণ, একটি বিদ্যালয় সফল হলে, তা এমনই ৫০টি অফিস ভবন নির্মাণের শক্তি যোগাবে। সেজন্য আমাদের বিনিয়োগের অগ্রাধিকার কাকে দেবো, তা নিয়ে ভাবতে হবে। আমাদের উচিত, এমন-ই একটি শৃঙ্খলায় বিনিয়োগ করা, যা গুণীতক হারে লাভজনক হবে।
আমরা গণ অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকরণের আন্দোলন শুরু করেছি। একটি আগেই অরুণজী যেমন বলছিলেন, আমরা ‘প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা’র মাধ্যমে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত, গরিব মানুষদের, ধোপা, নাপিত, দুগ্ধ বিক্রেতা, খবরের কাগজ বিক্রেতাদের ঋণদান করে তাঁদের ব্যবসাকে আরও বড় করে তুলতে সাহায্য করছি। আমাদের দেশে প্রায় ৬ কোটি মানুষের গড়ে ১৭ হাজার টাকা করে ঋণ রয়েছে। আমরা ‘প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা’র মাধ্যমে তাঁদের ব্যবসা বৃদ্ধির কথা ভেবেছি। এমনকি, কেউ কেউ ৫০ হাজার, ৫ লক্ষ, ১০ লক্ষ এমনকি ৫০ লক্ষ টাকাও ঋণ পেয়েছেন। এই টাকা তাঁরা যদি মহাজনের কাছ থেকে নিতেন, তা হলে তাঁদেরকে অনেক বেশি সুদ দিতে হতো। এখন তাঁরা সেই টাকা তাঁদের ব্যবসা বৃদ্ধিতে কাজে লাগাতে পারবেন। ইতিমধ্যেই ৬১ লক্ষ মানুষ প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন। এই ৩৫ হাজার কোটি টাকা সাধারণ মানুষের হাতে যাওয়ার মানে, তা অর্থনীতিকে শক্তি জুগিয়েছে, অর্থনীতির বুনিয়াদ মজবুত হয়েছে।
আমাদের দেশে ব্যাঙ্কিং সেক্টর নিয়ে নানারকম প্রশ্ন উঠেছে। নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রশাসন এবং ঋণদান নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। আমরা সরকারে আসার পর, সকল ব্যাঙ্কের উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকদের নিয়ে গোল-টেবিল বৈঠক করেছি, ‘চিন্তন শিবির’ করেছি। তাদের সমস্যা কী, সরকার থেকে তাঁরা কী চান, আইনি সমস্যা কী রয়েছে – এইসব বিষয় নিয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উপস্থিতিতে আমি ও অরুণজী তাঁদের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করেছি। ঐ আলোচনা থেকে ব্যাঙ্ক ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের উপযোগী ও সরলীকরণের লক্ষ্যে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – ‘সপ্তসূত্রী’ কর্মসূচি। এই সাতটি সূত্র হল – ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’, ‘ই’, ‘এফ’ এবং ‘জি’। এই ‘সপ্তসূত্রী’ কর্মসূচি ব্যাঙ্কের কর্মপদ্ধতিকে অনেক বেশি গণমুখী করে তুলবে।
‘এ’ বা ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ (নিয়োগ) – ১৯৬৯ সালের পর প্রথমবার আমরা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে প্রাইভেট সেক্টর থেকে দক্ষ আধিকারিকদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ব্যাঙ্কের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আমরা এই উল্টো পথ বেছে নিয়েছি। এতদিন শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্র থেকে প্রাইভেট সেক্টরে দক্ষ আধিকারিকরা চলে যেতেন।
‘বি’ বা ‘ব্যাঙ্ক, বোর্ড, ব্যুরো’ – এই বি-থ্রি’কে আমরা প্রথমবারের মতো ব্যাঙ্কে নিযুক্তির ক্ষেত্রে কাজে লাগাবো। ব্যাঙ্কের উচ্চ পদগুলিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বোর্ডের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। আমাদের উদ্দেশ্য হল – এই নিয়োগকে রাজনীতিমুক্ত করা। না হলে, আমার পছন্দের কেউ অধিকর্তা হলে দেখা গেল, আমার নাম করে আমারই কোনও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। এই বাধ্যবাধকতাই অনেক ক্ষেত্রে আজকের ব্যাঙ্কগুলির ভরাডুবির মূল কারণ। সেজন্য আমরা দক্ষ আধিকারিক নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাদার অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বোর্ডকেই চূড়ান্ত ক্ষমতা দিয়েছি।
‘সি’ বা ‘ক্যাপিটালাইজেশন’ (মূলধন বাড়ানো ) – বিগত বছরগুলিতে ব্যাঙ্কগুলি যত ঋণ দিয়েছে, তার অধিকাংশই ব্যাঙ্কের ভাষায় ‘ব্যাড লোনস্’ বা ‘অকেজো ঋণ’। এই ঋণের বোঝা ব্যাঙ্কগুলিকে সঙ্কটগ্রস্ত করে তুলেছে। এখন কান্নাকাটি করে কোনও লাভ হবে না। আমরা আগামী কয়েক বছরে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা ব্যাঙ্কগুলিকে দেবো, যাতে ঐ ‘ব্যাড লোনস্’ উদ্ভূত সংকট থেকে উদ্ধার পায়।
‘ডি’ বা ‘ডি-স্ট্রেস অফ অ্যাসেটস্’ (সম্পদের ওপর চাপ কমানো) – যেসব ক্ষেত্রে এই সমস্যা অত্যধিক, তাঁদেরকে আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকারীদের সাহায্য করা হবে। ইতিমধ্যেই ইস্পাত ক্ষেত্রে এটা আমরা করেছি, যাতে ইস্পাত ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের বিনিয়োগ শক্তিশালী হয়। এভাবেই অন্যান্য ক্ষেত্রেও চাপ কমাতে আমরা বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিতে চলেছি।
‘ডি’ বা ‘ডেট রিকভারি ট্রাইব্যুনাল’ (ঋণ পুনরুদ্ধার ট্রাইব্যুনাল) – এর মাধ্যমে ‘ব্যাড লোন রিকভারি’র কাজ আমরা ত্বরান্বিত করতে চাই। বিশেষ করে, শক্তি ক্ষেত্রে এই ‘ডেবট রিকভারি ট্রাইব্যুনাল’ কার্যকরি ভূমিকা গ্রহণের মাধ্যমে এই সমস্যাকে সুচারুভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে।
‘ই’ বা ‘এম্পাওয়ার’ (ক্ষমতায়ন) – এই এম্পাওয়ার বা ক্ষমতায়ন বলতে আমি বুঝি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিলোপসাধন। সম্প্রতি পুণের একটি অনুষ্ঠানেও আমি এই হস্তক্ষেপ বিলোপের কথা বলেছি। আপনারা কাকে ঋণ দেবেন, আর কাকে দেবেন না, সেটা সম্পূর্ণ আপনাদের ব্যাপার। এক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক চাপ আপনারা বরদাস্ত করবেন না। চাপমুক্ত ও বিশুদ্ধ পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করে যান। এভাবেই আমরা ব্যাঙ্কের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চাইছি।
‘এফ’ বা ‘ফ্রেমওয়ার্ক ফর অ্যাকাউন্টিবিলিটি’ (দায়বদ্ধতা কাঠামো) – ব্যাঙ্কের দক্ষতা তদারকির ক্ষেত্রে আমরা ‘কি পারফরমেন্স ইন্ডিকেটর’ নির্ধারণ করেছি, যাতে আমরা কোন্ লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি, আদৌ এগোচ্ছি কি না, সে সম্পর্কে নিয়মিত জানতে পারি। অগ্রগতি আমাদের মনে আনন্দ সঞ্চার করে ঠিকই কিন্তু, কিভাবে আমরা এগিয়ে যাবো এবং কত দ্রুত এগিয়ে যাবো, তা বোঝার জন্য আমরা এই সূচকগুলিকে ব্যবহার করবো।
সর্বশেষ, ‘জি’ বা ‘গভর্ন্যান্স’ (প্রশাসন) – আমাদের ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে প্রশাসনকে আরও বেশি প্রযুক্তি নির্ভর এবং দুর্নীতিমুক্ত করে তুলতে হবে। ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রেই সাইবার অপরাধের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আর্থিক বিশ্বে তথ্য চুরির সম্ভাবনা বেশি। যথাযথ প্রযুক্তি এবং স্বচ্ছতা আমাদের ব্যাঙ্কিং প্রশাসনকে নিরাপদ করে তুলবে।
ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রের ক্ষমতায়নে এই ‘সপ্তসূত্রী’ কর্মসূচি সাতটি স্তম্ভ হিসেবে প্রতিপন্ন হবে। একথা ভেবেই সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার বিশ্বাস, আগামীদিনে ভারত যে গতিতে এগিয়ে চলেছে, দেশের ব্যাঙ্কগুলিও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাবে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলিকে দু-কদম এগিয়ে থাকতে হবে এবং আমি মনে করি, এই শক্তি অবশেষে ভারত’কে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে। আমরা সবাই মিলে এই লক্ষ্যসাধন করতে পারবো।
আগামীদিনে আই.ডি.এফ.সি. ব্যাঙ্কের জন্য আমার অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল। আপনারা অনেক উন্নতি করুন। অনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG/SB/SB/20_OCTOBER_2015
The main aim of this bank is to venture out to the villages: PM @narendramodi https://t.co/6ZHKdWtWuJ
— PMO India (@PMOIndia) October 19, 2015
We have never fully understood the potential of our villages. Our villages can be great growth centres: PM https://t.co/6ZHKdWtWuJ
— PMO India (@PMOIndia) October 19, 2015
Banking sector is seeing changes. Mobile banking is coming up: PM @narendramodi https://t.co/6ZHKdWtWuJ
— PMO India (@PMOIndia) October 19, 2015
We are starting this from Madhya Pradesh & that too an area with many tribal communities: PM at launch of IDFC bank https://t.co/6ZHKdWtWuJ
— PMO India (@PMOIndia) October 19, 2015
We have decided to bring improvements in the appointments at the top levels of the banks. This improves efficiency: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 19, 2015
Bad loans in the past few years is a problem but we can't only cry about it. We are trying to solve this problem: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 19, 2015
At launch of IDFC Bank, spoke on giving a boost to banking sector in rural areas. Villages are great growth centres. http://t.co/8W9bbtnPBR
— Narendra Modi (@narendramodi) October 19, 2015
The ‘ABCDEFG’ that will transform our banking sector.
https://t.co/BVvG7eIInm
— NarendraModi(@narendramodi) October 19, 2015