Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

আন্তঃরাজ্য পরিষদের একাদশ বৈঠক উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

আন্তঃরাজ্য পরিষদের একাদশ বৈঠক উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


নয়াদিল্লি, ১৮ জুলাই , ২০১৬

ভারতের সকলরাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসমূহের মুখ্যমন্ত্রীগণ, রাজ্যপাল ও উপ-রাজ্যপালগণ এবং আমার মন্ত্রিসভার সম্মানিত সহযোগীবৃন্দ,

আন্তঃরাজ্য পরিষদের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সম্মিলিত আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাই। সমস্ত রাজ্যএবং কেন্দ্রীয় সরকারের নেতৃত্ব একত্রিত হওয়ার এরকম সুযোগ খুব কমই আসে । সাধারণ মানুষের হিতে কথা বলতে, তাঁদের সমস্যাগুলি সমাধানের কথা মাথায় রেখে একসঙ্গে বসেআলাপ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার খাতিরে কো-অপারেটিভ ফেডারেলিজমের এই মঞ্চঅত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মঞ্চ আমাদের সংবিধান রচয়িতাদের দূরদৃষ্টির পরিচায়ক।

প্রায় ১৬ বছরআগে এই মঞ্চে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধেয় শ্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী বলেছিলেন,“ভারতের মতো বড় এবং বৈচিত্র্যময় গণতন্ত্রে তর্ক-বিতর্ক, বিবেচনা এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই বাস্তবোচিত নীতি প্রণয়ন সম্ভব। এই তিনটি বিষয় নীতিসমূহের সঠিক বাস্তবায়নেও সাহায্য করে। আন্তঃরাজ্য পরিষদ এমনই একটি মঞ্চ যা নীতি প্রণয়ন এবং নীতিসমূহের সঠিক বাস্তবায়নে কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে। সেজন্যে গণতন্ত্র,সমাজ এবং আমাদের রাজ্য-ব্যবস্থাকে পোক্ত করতে, এই মঞ্চকে ভালভাবে কাজে লাগানো উচিৎ” ।

এই আন্তঃরাজ্যপরিষদ নিশ্চিত ভাবেই কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং রাজ্যগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত করার সবচাইতে বড় মঞ্চ। কিন্তু২০০৬ সালের পর থেকে দীর্ঘকাল এই বৈঠক হয়নি, আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শ্রদ্ধেয় শ্রী রাজনাথ সিং আবার এই প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছেন। গত একবছরে তিনি দেশের পাঁচটি আঞ্চলিক পরিষদের বৈঠক ডেকেছেন। এইপ্রক্রিয়ায় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নানা পর্যায়ে ধারাবাহিক সম্পর্ক উন্নয়নের ফলস্বরূপ আজ আমরা সবাই এখানে মিলিত হতে পেরেছি।

কেন্দ্রীয় সরকার আর রাজ্য সরকারগুলি কাঁধে কাঁধমিলিয়ে কাজ করলে তবেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব। একা একা যে কারও পক্ষেই কোনও প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত করা কঠিন। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থের যোগানও যথেষ্টগুরুত্বপূর্ণ। চতুর্দশ অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কর-এ রাজ্যেরপ্রাপ্য ৩২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪২ শতাংশ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এখন রাজ্যগুলি আগের তুলনায় বেশি টাকা পাবে যা তারা নিজেদের প্রয়োজন অনুসারে খরচ করতে পারবে। আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাচ্ছি যে ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষের তুলনায় ২০১৫-১৬অর্থবর্ষে রাজ্যগুলি ২১ শতাংশ বেশি টাকা পেয়েছে। একইভাবে চতুর্দশ অর্থ কমিশনের কার্যকালের মধ্যে ২ লক্ষ ৮৭ হাজার কোটি টাকা পাবে যা গতবারের তুলনায় অনেক বেশি।

প্রাকৃতিক উৎসগুলি থেকে হওয়া আয়ে রাজ্যগুলির অধিকারের কথাও মাথায় রাখা হচ্ছে। কয়লাখনিগুলির নিলাম থেকে পাওয়া অর্থরাশি থেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি আগামী কয়েক বছরে ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার কোটি টাকা পাবে। কয়লা ছাড়া অন্যান্য খনিগুলির নিলাম থেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি ১৮ হাজার কোটি টাকা পাবে। এভাবেই CAMPA আইন সংশোধনের মাধ্যমে ব্যাঙ্কে জমা প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকাও রাজ্যগুলির হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ফলে যে সাশ্রয় হচ্ছে তা-ও কেন্দ্রীয় সরকার আপনাদের সঙ্গে ভাগ করেনিতে চায়। যেমন কেরোসিন; গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়ছে, আগামী তিন বছরে সরকার ৫ কোটি নতুন পরিবারের হাতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার তুলে দেবে। রান্নার গ্যাস সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পাবে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে কেরোসিনের চাহিদা কমছে। সম্প্রতি চণ্ডীগড় প্রশাসন নিজেদের শহরকে ‘কেরোসিন মুক্ত এলাকা’ ঘোষণা করেছে। এখনকেন্দ্রীয় সরকার একটি প্রকল্প শুরু করেছে, যার মাধ্যমে যে রাজ্য কেরোসিনের চাহিদা হ্রাস করতে পারবে কেন্দ্র সেই বাবদ সাশ্রয় হওয়া ভর্তুকির ৭৫ শতাংশ টাকা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের হাতে তুলে দেবে। এক্ষেত্রে কর্ণাটক সরকার অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে নিজেদের প্রস্তাব পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের কাছে পাঠিয়ে ইতিমধ্যেই সেই অনুদানের টাকা পেয়েছে।সকল রাজ্য ২৫ শতাংশ কেরোসিন সাশ্রয় করতে পারলে এ বছর রাজ্যগুলি প্রায় ১৬০০ কোটিটাকা অনুদান পেতে পারে।

আন্তঃরাজ্য পরিষদ কেন্দ্র -রাজ্য সম্পর্কছাড়াও দেশের অধিকাংশ জনগণের স্বার্থে এ ধরণের পরস্পর – সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ের সমাধান কল্পে নীতি নির্ধারণ করতে পারে ।

সেজন্যে এবার আন্তঃরাজ্য পরিষদ- এ পুঞ্ছি কমিশনের রিপোর্টের সঙ্গে তিনটি আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আলোচ্য তালিকায় আনা হয়েছে ।

প্রথমটি ‘আধার ’ । সংসদে “-‘আধার ’ আইন ২০১৬ ”পাস হয়ে গেছে । এই আইন প্রণয়নের ফলে আমরা দরিদ্রদের নানা ভর্তুকি কিম্বা অন্যান্য অনেক সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে সরাসরি নগদহস্তান্তর-এর জন্যে ‘আধার’ ব্যবহার করতে পারবো। ১২৮ কোটি জনসংখ্যার দেশে ইতি মধ্যেই ১০২ কোটি মানুষ ‘আধার’ কার্ড পেয়েছেন। অর্থাৎ, এখন দেশের ৭৯ শতাংশ মানুষের ‘আধার’ কার্ড রয়েছে। আর শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ধরলে ৯৬ শতাংশের ‘ আধার কার্ড ’ রয়েছে । আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনাদের সকলের সাহায্যে এ বছরের শেষে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে আমরা ‘আধার কার্ড’ পৌঁছে দিতেপারবো।

আজএই সাধারণ ‘ আধার কার্ড ’ নাগরিকদের ক্ষমতায়নের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এই ‘ আধার কার্ড ’ সংযোগের মাধ্যমে সরকারি সাহায্য বাভর্তুকি সঠিক ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে। ফলে ব্যবস্থায় অনেকটা স্বচ্ছতা এসেছে, হাজার হাজার কোটি টাকার সাশ্রয় হচ্ছে, যাউন্নয়নের কাজে ব্যয় করা যাচ্ছে।

বন্ধুগণ,বাবাসাহেব আম্বেডকর লিখেছিলেন, -“ভারতের মতো দেশে সমাজ সংস্কারের পথ , অনেকটা স্বর্গের পথের মতো অত্যন্ত বন্ধুর ও দুর্গম। আপনি সমাজ সংস্কারের কথাভাবলে আপনার বন্ধু কম আর সমালোচক বেশি পাবেন”।

আজও তাঁর লেখা মন্তব্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সেজন্যে সমালোচনা উপেক্ষা করে,পরস্পরের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আমাদের সমাজ সংস্কারের প্রকল্পগুলি এগিয়ে নিয়েযাওয়ার ক্ষেত্রে জোর দিতে হবে। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীদের উপসমিতি নিতি আয়োগে এধরণের বেশ কিছু প্রকল্পের রূপরেখা রচনা করেছে ।

এবার আন্তঃরাজ্য পরিষদ- এ দ্বিতীয় যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিনিয়ে আলোচনা হবে , তা হল শিক্ষা । ভারতের সবচাইতে বড় শক্তি আমাদের নবীন প্রজন্ম । ৩০ কোটিরও বেশি শিশুর এখন স্কুলে যাওয়ার বয়স হয়েছে । কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির সমবেত প্রয়াসে আমরা যদি তাদের শিক্ষিত করে তোলার পরিবেশগড়ে তুলতে পারি , তাদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারি , তাহলে আগামী অনেক বছর আমাদের দেশ সারা পৃথিবীকেদক্ষ মানবসম্পদ সরবরাহের ক্ষমতা রাখে ।

পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ভাষায় বলতে পারি ,-“শিক্ষা একটি বিনিয়োগ । আমরা গাছের চারা লাগানোর সময় কোনও ফিনিই না , আমরা জানি , এই গাছগুলিবড় হয়ে আমাদের অক্সিজেন দেবে , পরিবেশকে নির্মল রাখবে । তেমনই শিক্ষা একটি বিনিয়োগ, যার দ্বারা সমাজের কল্যাণ হয়।

১৯৬৫ সালে এ কথাগুলি বলেছিলেন পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় । তারপর থেকে আজ পর্যন্ত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মানুষের সচেতনতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে , শিক্ষিতের হারও অনেক বেড়েছে । কিন্তু এখনও শিক্ষার উৎকর্ষ নিয়ে অনেক কিছু করা বাকি । আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় আমাদের সন্তান – সন্ততিরা বাস্তবে কতটা শিক্ষিত হচ্ছে , তা নিয়ে আমাদেরচিন্তা ভাবনা করতে হবে ।

আমাদের সন্তান – সন্ততিদের শিক্ষারমান উন্নত করতে হলে তাদেরকে শিক্ষার উদ্দেশ্যও বোঝাতে হবে । স্কুলে যাওয়া আর শিক্ষালাভ করা এক কথা নয় । সঠিক শিক্ষাপদ্ধতি আমাদের সন্তান – সন্ততিদের প্রশ্ন করতে শেখাবে, জ্ঞানার্জন আর জ্ঞানবৃদ্ধির পদ্ধতি শেখাবে,যা তাঁদের জীবনের প্রত্যেক বাঁকে কিছু না কিছু শেখার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

স্বামী বিবেকানন্দও বলতেন, শিক্ষার অর্থ কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়। শিক্ষারউদ্দেশ্য চরিত্রনির্মাণ, শিক্ষার উদ্দেশ্যমস্তিষ্কের সুস্থ বিকাশ, বৌদ্ধিক শক্তি বৃদ্ধি, যাতে তাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়াতেপারে, আত্মনির্ভর হতে পারে।

একবিংশ শতাব্দীর অর্থব্যবস্থায় যে ধরণের দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রয়োজন, আমাদেরপ্রত্যেকের দায়িত্ব আমাদের নবীন প্রজন্মকে সেরকম দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তোলা। যাতেতারা যুক্তিসম্মত চিন্তাভাবনা করে, ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনা করে, নিজের কাজেসৃষ্টিশীল হয়, সময়োপযোগী নতুন নতুন উদ্ভাবনের কথা ভাবে।

আজ তৃতীয় যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করবো তা হল আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা। দেশের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সমস্যাগুলি, নানা প্রতিস্পর্ধার মোকাবিলা আমরা কেমন করে করবো, কেমন করে পরস্পরকে সাহায্য করতে পারবো, তা নিয়ে আলোচনা হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা পরস্পরের গোয়েন্দা তথ্য জেনে এজেন্সিগুলির মধ্যে যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে মোকাবিলা করার সামর্থ অর্জন না করবো, আমাদের পুলিশ আধুনিকপ্রযুক্তি ও চিন্তায় প্রশিক্ষিত না হবে, ততক্ষণ আমরা আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পারবোনা।এক্ষেত্রে আমরা ইতিমধ্যেই দীর্ঘপথ অতিক্রম করেছি, কিন্তু নিরন্তর নিজেদের মধ্যেসমন্বয় ও কর্ম-কুশলতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। যথাসময়ে বিপদসংকেত লেনদেন করা ও সদাসতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।

আন্তঃরাজ্য পরিষদ-এর এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আমরা খোলামনে সকলের বক্তব্য ও পরামর্শ মনোযোগ সহকারে শোনা ও বোঝার সুযোগ পাই । আশা করি আপনারা আলোচ্য সকল বিষয়ে খোলা মনে নিজেদের মতামত জানাবেন , পরামর্শ দেবেন । আপনাদের পরামর্শ অত্যন্ত মূল্যবান ।

আমরা যত বেশি নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহমত হতে পারবো , নানা সমস্যা দূরীকরণ তত সহজ হবে । এই প্রক্রিয়ায় আমরা শুধুই কো -অপারেটিভ ফেডারেলিজমের আওতায় মূলনীতি এবং কেন্দ্র -রাজ্য সম্পর্ককে মজবুত করবোনা, দেশের নাগরিকদের সুন্দর ভবিষ্যতও সুনিশ্চিত করব ।

PG /SB/S