Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে সংবাদ মাধ্যমেরকাছে যৌথ বিবৃতিদানকালে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য

আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে সংবাদ মাধ্যমেরকাছে যৌথ বিবৃতিদানকালে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য

আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে সংবাদ মাধ্যমেরকাছে যৌথ বিবৃতিদানকালে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য


মহামান্য শেখমহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান,

আবুধাবিরযুবরাজ এবং

সংবাদ মাধ্যমেরসঙ্গে যুক্ত বন্ধুগণ,

ভারতে আমাদের এক প্রিয় বন্ধু মহামান্যশেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান’কে স্বাগত জানানোর সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। আমরাআরও আনন্দিত এই কারণে যে, মহামান্য অতিথির ভারতে এটি দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফর।আগামীকাল সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপনের এক সম্মানিত প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁরঅংশগ্রহণ এক বিশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনা। মহামান্য অতিথি, ২০১৫-র আগস্টে এবং গত বছরফেব্রুয়ারি মাসে আমাদের আগের সাক্ষাৎগুলির কথা ভালোরকমই স্মরণে রয়েছে আমার। ঐ সময়েআমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবকটি ক্ষেত্রেই আলোচনা ও মতবিনিময় করেছিলাম আমরা।ব্যক্তিগতভাবে আমি প্রভূত লাভবান হয়েছিলাম আমাদের অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা, আমাদেরএই অঞ্চল সম্পর্কে আপনার প্রশংসা এবং বিশ্ব সম্পর্কে আপনার মতামত জানার সুযোগপেয়ে। মহামান্য অতিথি, আপনার নেতৃত্বে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন নতুন ক্ষেত্রঅন্বেষণের কাজে আমরা সাফল্য অর্জন করেছি। আমাদের সুসংবদ্ধ কৌশলগত অংশীদারিত্বকেউদ্দেশ্যপূর্ণ এবং কর্মমুখী করে তোলার ক্ষেত্রে আমরা গড়ে তুলেছি কর্মপ্রচেষ্টার একউচ্চাকাঙ্খামূলক রূপরেখা। কিছুক্ষণ আগে যে চুক্তিপত্রটি স্বাক্ষরিত হয়েছে তাআমাদের এই সমঝোতার সম্পর্ককে এক প্রাতিষ্ঠানিক আকার দান করেছে।

বন্ধুগণ,

বিশ্বের এক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলেসংযুক্ত আরব আমীরশাহী হ’ল আমাদের মূল্যবান অংশীদারদের অন্যতম এবং সেই সঙ্গে আমাদেরএক ঘনিষ্ঠ মিত্রও। মহামান্য অতিথির সঙ্গে আমি কিছুক্ষণ আগেই সম্পূর্ণ করলাম আমাদেরএক বিশেষ ফলপ্রসূ ও সফল আলোচনা বৈঠক। অতীতের দুটি বৈঠককালে গৃহীত বিভিন্নসিদ্ধান্তের রূপায়ণের ওপর বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি আমরা। জ্বালানি ও বিনিয়োগ সহ আমাদেরসম্পর্কের প্রধান প্রধান ক্ষেত্রগুলির কাজকর্ম নিরন্তর করে তোলার প্রশ্নেও আমরাসহমত হয়েছি।

বন্ধুগণ,

ভারতের অগ্রগতির ইতিহাসে সংযুক্ত আরবআমীরশাহীকে আমরা এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলেই মনে করি। ভারতের পরিকাঠামো ক্ষেত্রেসংযুক্ত আরব আমীরশাহীর আগ্রহকে আমি বিশেষভাবে স্বাগত জানাই। সংযুক্ত আরব আমীরশাহীরপ্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আমাদের জাতীয় বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো তহবিলের সঙ্গে যুক্তকরার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছি আমরা। দুবাই’তে বিশ্ব এক্সপো ২০২০-র জন্য পরিকাঠামোপ্রকল্প রূপায়ণের কাজে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে আগ্রহী অংশীদার করে তোলার লক্ষ্যে আমিমতবিনিময় করেছি মহামান্য অতিথির সঙ্গে। উৎপাদন তথা পরিষেবা ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতিরসঙ্গে যুক্ত হলে লাভবান হতে পারে সংযুক্ত আরব আমীরশাহী। ভারতে ডিজিটাল অর্থনীতি,মানব মূলধন এবং স্মার্টনগরী গড়ে তোলার কাজে আমরা দুটি দেশই প্রচুর সুযোগ-সুবিধাআহরণ করতে পারি। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের মান ও মাত্রা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিল্প ওবাণিজ্য ক্ষেত্রকে দুটি দেশই বিশেষভাবে উৎসাহদান করেছে। বাণিজ্যিক সংস্কারসম্পর্কিত যে চুক্তিটি আজ স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরওনিবিড় করে তুলবে। আমাদের দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধনগড়ে তুলেছে জ্বালানি ক্ষেত্রে আমাদের পারস্পরিক অংশীদারিত্বের সম্পর্ক। তার মধ্যদিয়ে নিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও। সুনির্দিষ্ট প্রকল্প ওপ্রস্তাবের মাধ্যমে আমাদের জ্বালানি সম্পর্ককে এক কৌশলগত দিকে চালিত করারপন্থাপদ্ধতি সম্পর্কে মহামান্য অতিথির সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময় করেছি আমি। এইবিশেষ ক্ষেত্রটিতে দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ চুক্তি এবং যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠা বিশেষলাভজনক হয়ে উঠতে পারে।

বন্ধুগণ,

আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেএক নতুন মাত্রা যোগ করেছে দু’দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা। প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে আমাদের সফল সহযোগিতার ক্ষেত্রকে নৌ-প্রতিরক্ষার মতো নতুন নতুন ক্ষেত্রে সম্প্রসারণেরসম্ভাবনাও আমরা খতিয়ে দেখেছি। আমি উপলব্ধি করেছি যে, সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থা রোধেআমাদের প্রসারমান সহযোগিতোর সম্পর্ক দু’দেশের সমাজ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখার কাজেবিশেষ উপযোগী হয়ে উঠতে পারে।

বন্ধুগণ,

মহামান্য অতিথি এবং আমি উভয়েই বিশ্বাসকরি যে, আমাদের এই নিবিড় সম্পর্ক শুধুমাত্র এই দুটি দেশের পক্ষেই গুরুত্বপূর্ণ নয়,প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির ক্ষেত্রেও তার গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের অর্থনৈতিকঅংশীদারিত্বের সম্পর্ক আঞ্চলিক তথা বিশ্ব সমৃদ্ধির এক উৎস হয়ে উঠতে পারে। পশ্চিমএশিয়া এবং পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি সম্পর্কে পরস্পরের সঙ্গে মতবিনিময়করেছি আমরা। শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রশ্নে সহমত হয়েছি আমরা উভয়েই।আফগানিস্তান সহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ঘটনাগুলি সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করেছি। সন্ত্রাসও উগ্রপন্থার ক্রমবর্ধমান হুমকি আমাদের উভয় দেশের জনগণের সুরক্ষা ও নিরাপত্তারক্ষেত্রে এক বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কারণে আমাদের সহযোগিতারসম্পর্ককে নতুন রূপ দিতে আমরা আগ্রহী।

বন্ধুগণ,

প্রায় ২৬ লক্ষ ভারতীয়র বসবাস সংযুক্তআরব আমীরশাহীতে। তাঁদের অবদানকে বিশেষ মূল্যবান বলে মনে করে ভারত ও সংযুক্ত আরবআমীরশাহী। ঐ দেশে ভারতীয় নাগরিকদের কল্যাণের প্রতি বিশেষভাবে নজর দেওয়ার জন্য আমারকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি মহামান্য অতিথির কাছে। আবুধাবি’তে ভারতীয় সম্প্রদায়ের একটিমন্দির নির্মাণের জন্য একটি জমি নির্দিষ্ট করার জন্যও আমি ধন্যবাদ জানিয়েছিমহামান্য অতিথিকে।

বন্ধুগণ,

আমাদের অংশীদারিত্বের সম্পর্ককে সফলকরে তোলার লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমীরশাহীর প্রেসিডেন্ট মহামান্য শেখ খলিফা বিনজায়েদ আল নাহিয়ান এবং মাননীয় শেখ মহম্মদের ব্যক্তিগত আগ্রহের জন্য আমরা বিশেষভাবেকৃতজ্ঞ। এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে পারস্পরিক সহযোগিতার এক নতুন ক্ষেত্রআবিষ্কৃত হতে চলেছে। মহামান্য অতিথি, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আপনার এই সফরআমাদের পূর্ববর্তী আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে যে সমঝোতা ও সুফল আমরা লাভ করেছিতার ওপর নির্ভর করেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের সহযোগিতা সম্পর্ক। আমাদের অংশীদারিত্বেরবৈচিত্র্য, গভীরতা ও চালিকাশক্তি গড়ে তুলবে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কাঠামোটিকে।পরিশেষে, ভারত সফরের জন্য আমার আমন্ত্রণ গ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ জানাই মহামান্যঅতিথিকে। তাঁর এবং তাঁর প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভারতে অবস্থান আনন্দময় হয়ে উঠুক এইপ্রার্থনা জানাই।

ধন্যবাদ।আপনাদের সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।