Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

আরবিট্রেসন এন্ড কনসিলিয়েশন বিল,২০১৫-এ সংশোধনী


প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা আইন কমিশনের সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্টদের থেকে পাওয়া পরামর্শ বিবেচনা করে আরবিট্রেসন এন্ড কনসিলিয়েশন বিল,২০১৫-এ সংশোধনীতে অনুমোদন দিয়েছে। ভারত সরকার সংসদে আরবিট্রেসন এন্ড কনসিলিয়েশন (সংশোধনী) বিল,২০১৫ এনে আরবিট্রেসন এন্ড কনসিলিয়েশন এ্যাক্ট,১৯৯৬ সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংশোধনীর মূল বৈশিষ্ঠ্য:

১।সালিশির (আরবিট্রেসন)নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে, ১২ ধারাটি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য সালিশকারের (আরবিট্রেটর)পদে নিযুক্তির ক্ষেত্রে ঐ সম্ভাব্য সালিশকারকে লিখিত ভাবে জানাতে হবে যে, তার এমন কোনো ধরণের সম্পর্ক বা স্বার্থ আছে কিনা, যা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ উদ্রেক করতে পারে। তিনি যদি নির্দিষ্ট কোনো সম্পর্কের সূত্রে আবদ্ধ থাকেন, তবে তিনি আরবিট্রেটর হিসাবে নিয়োগের জন্য অনুপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন।

২।নতুন একটি ধারা স্ংযোজিত করা হচ্ছে, আরবিট্র্যাল ট্রাইবুনাল ১২ মাসের মধ্যে তার মঞ্জুরি দেবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষভুক্ত কেউ সেই সময় ছয় মাস পর্যন্ত মেয়াদ বাড়াতে পারেন। তারপর শুধু আদালতই উপযুক্ত কারন বিবেচনা করে তা বাড়াতে পারবে। সময় বাড়াতে গিয়ে যদি আদালত প্রমান পায় যে, আরবিট্রেটরের কারণে প্রক্রিয়া দেরি হয়েছে, তবে আরবিট্রেটর বা আরবিট্রেটরদের ভাতা কমিয়ে দিতে পারে, কিন্তু তা বিলম্বকালের মাসিক ভাতার পাঁচ শতাংশের বেশি নয়। আবার যদি আরবিট্রেটর ছয় মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন, তবে পক্ষভুক্ত রাজি থাকলে আরবিট্রেটর অতিরিক্ত ভাতাও পেতে পারেন।

৩।আরবিট্রেসন দ্রুত সম্পন্ন(ফাস্ট ট্র্যাক) করার জন্য নতুন একটি ধারা স্ংযোজিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিবাদে পক্ষভুক্তরা ফাস্ট ট্র্যাকে শুনানির মাধ্যমে নিস্পত্তি করার পক্ষে মত দিলে, সেসব ক্ষেত্রে ছয় মাসে তা সম্পন্ন করা হবে।

৪। আরবিট্রাল মঞ্জুরির ক্ষেত্রে সমস্যা বিষয়ক ৩৪ নম্বর ধারায় সংশোধন আনা যাতে ‘ভারতের জননীতি’ শীর্ষক শব্দ বন্ধটি সীমিত করা যায় (যা মঞ্জুরি চ্যালেঞ্জ করার ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়), তবে এটাও ব্যাখ্যায় থাকছে যে যেখানে মঞ্জুরি দিতে গিয়ে প্রতারনা কিংবা দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে,অথবা যা ভারতের আইন ব্যবস্থার ভিত্তিগত নীতির পরিপন্থী, অথবা নৈতিকতার বা ন্যায়বিচারের মূলজ ভিত্তির সাথে সংঘাতমূলক হয়, সেরকম মঞ্জুরিই শুধু ‘ভারতের জননীতি’র পরিপন্থী বলে গ্রাহ্য হবে।

৫।নতুন একটি ধারা রাখা হচ্ছে যাতে, মঞ্জুরিকে বিরোধিতা করে আদালতে আবেদন করলে, একবছরের মধ্যে সেই মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে।

৬।মঞ্জুরিকে বিরোধিতা করে আবেদন জমা করলেই তা স্বাভাবিকভাবে মঞ্জুরি রূপায়ন স্থগিত না করতে ৩৬ নম্বর ধারায় সংশোধন আনা হচ্ছে। পক্ষভুক্তের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের সুনির্দিষ্ট আদেশেই একমাত্র মঞ্জুরি দেয়া স্থগিত করা যাবে।

৭। নতুন উপধারা রাখা হচ্ছে ১১ ধারায়, উচ্চ আদালত কিংবা সর্বোচ্চ আদালত যত দ্রুত সম্ভব আরবিট্রেটর নিয়োগ সংক্রান্ত আবেদন যতোটা সম্ভব দ্রুত নিষ্পত্তি করবেন এবং ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির চেষ্টা করবেন।

৮। ব্যয় সংক্রান্ত বিষয়ে সুসংহত নিয়মাবলীর জন্য নতুন ৩১এ ধারা যোগ করা হয়েছে। এটি আরবিট্রেটর ও আদালতের আইনি প্রক্রিয়া, উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তুচ্ছ ও গুরুত্বহীন আইনি প্রক্রিয়া ও আরবিট্রেশনগুলিকে এটি বাদ দেবে।

৯।ধারা ১৭ সংশোধন করা হচ্ছে যাতে, ৯ ধারা অনুযায়ী আদালত যে সব অন্তর্বতীকালীন ব্যবস্থা নিত পারে, সেগুলি আরবিট্রাল ট্রাইবুনাল নিতে সক্ষম হয়। এবং সেই নির্দেশ আদালতের নির্দেশ হিসাবে ধরে নিয়েই কার্যকর করতে হবে।

তাছাড়া ২(১)(ই),২(১)(এফ)( iii),৭(৪)(বি),৮(১) এবং (২), ৯, ১১, ১৪(১), ২৩, ২৪, ২৫, ২৮(৩), ৩১(৭)(বি), ৩৪(২এ), ৩৭, ৪৮, ৫৬ ধারাসমূহ এবং ৫৭ ধারা আরবিট্রেসন প্রক্রিয়া আরো কার্যকর করতে সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

SC/DSG/JC/DSC/AGT/