Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতির ভারত সফর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস বিবৃতি

আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতির ভারত সফর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস বিবৃতি

আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতির ভারত সফর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস বিবৃতি

আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতির ভারত সফর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস বিবৃতি


 

আমার বন্ধু রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রি এবং আর্জেন্টিনা থেকে আগত বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ,

শুভেচ্ছা, (নমস্কার)

আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি, তাঁর পরিবার এবং প্রতিনিধিদলকে আমি উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাই। এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, বুয়েনস আয়ার্সে আমাদের বৈঠকের দু’মাস পর ভারতে আজ আরও একবার আপনাকে স্বাগত জানানোর সুযোগ আমি পেয়েছি। এই উপলক্ষে আমি আরও একবার রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রি ও তাঁর দলকে গত বছর সফলভাবে জি – ২০ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের জন্য অভিনন্দন জানাই। এই শীর্ষ সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। বুয়েনস আয়ার্সে আয়োজিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের সময়ে রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রি ঘোষণা করেছিলেন যে, ২০২২ সালে দেশের ৭৫তম স্বাধীনতা বার্ষিকীতে ভারত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করবে। রাষ্ট্রপতির এই ঘোষণার জন্য আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।

বন্ধুগণ,

রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রির সঙ্গে আজ আমার পঞ্চম বৈঠক দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দ্রুত ও ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের বিষয়টি প্রতিফলিত করছে। আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি যে, দু’দেশের মধ্যে ১৫ হাজার কিলোমিটারের ভৌগোলিক দূরত্ব কেবল সংখ্যা মাত্র। রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রির এই সফর এক বিশেষ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দু’দেশে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে এটি ৭০তম বর্ষ। তথাপি, আমাদের দু’দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক কূটনৈতিক সম্পর্কের চেয়েও বেশি পুরনো। গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯২৪ সালে আর্জেন্টিনা সফর করেছিলেন। গুরুদেবের সৃজনশীল সাহিত্যের মাধ্যমে তাঁর আর্জেন্টিনা সফর চিরস্মরণীয় হয়ে উঠেছে। আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধ সহ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আর্থিক অগ্রগতির প্রসারে এবং দু’দেশের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের পারস্পরিক আগ্রহ এই সম্পর্ককে এক কৌশলগত অংশীদারিত্বের রূপ দান করেছে। আমি ও রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রি উভয়েই সহমত হয়েছি যে, বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ অত্যন্ত বড় বিপদ। পুলওয়ামায় বির্বরোচিত জঙ্গি হামলা আরও একবার দেখিয়ে দিয়েছে যে, আলাপ-আলোচনার সময় শেষ। এখন সমগ্র বিশ্বের প্রয়োজন একজোট হয়ে সন্ত্রাসবাদ ও তার মদতদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। জঙ্গি ও তাদের মানবতা বিরোধী মদতদাতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে দ্বিধাবোধ করা প্রকারন্তরে সন্ত্রাস ছড়ানোরই সামিল। সন্ত্রাস দমন সংক্রান্ত হামবুর্গ বিবৃতির ১১ দফা এজেন্ডাগুলি কার্যকর করা জি-২০ দেশগুলির কাছেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষিতে আমরা দুটি দেশই আমাদের আজকের আলাপ-আলোচনার পর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এক বিশেষ ঘোষণাপত্র জারি করতে চলেছি। মহাকাশ এবং পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ক্ষেত্রে আজ আমাদের মধ্যে যে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতার এক নতুন দিকের সূচনা করবে।

বন্ধুগণ,

ভারত ও আর্জেন্টিনা বিভিন্ন ক্ষেত্রে একে অপরের পরিপূরক। আমাদের পারস্পরিক স্বার্থেই এই ক্ষেত্রগুলির পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। আর্জেন্টিনা কৃষি ক্ষেত্রে এক শক্তিধর দেশ। ভারত তার খাদ্য নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনাকে এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসাবে পেতে চায়। এই লক্ষ্যে আজ আমাদের মধ্যে কৃষি – শিল্প সহযোগিতা ক্ষেত্রে কর্মপরিকল্পনা রচনার ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বিশেষ করে, জনধন – আধার – মোবাইল এই ত্রিমুখী উদ্যোগে ভারতের সাফল্য এবং ডিজিটাল পেমেন্ট প্রদানের পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ভারত তার অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনার সঙ্গে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত। আমরা এক উচ্চাকাঙ্খী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এটি হ’ল ২০৩০ সাল নাগদ আমাদের ৩০ শতাংশ যানবাহনকে ইলেক্ট্রিক ব্যাটারি-চালিত যানে রূপান্তরিত করা। আর্জেন্টিনা লিথিয়ামের এক গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এই দেশটিতে বিশ্বের প্রায় ৫৪ শতাংশ লিথিয়ামের ভাণ্ডার রয়েছে। আমাদের ‘কাবিল’ শীর্ষক যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে খনি ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার সঙ্গে সহযোগিতার লক্ষ্যে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে।

বন্ধুগণ,

বিগত এক দশকে আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে এবং এখন তা ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। আমাদের দু’দেশের মধ্যে কৃষি, ধাতব ও খনিজ পদার্থ, তেল ও গ্যাস, ওষুধ শিল্প, মোটর গাড়ি ও পরিষেবা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বাড়ানোর ব্যাপারে আজ আমরা নির্দিষ্ট কয়েকটি পন্থা-পদ্ধতি চিহ্নিত করেছি। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, আর্জেন্টিনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রির সঙ্গে ভারতে এসেছেন। আমি আশাবাদী যে, দিল্লি ও মুম্বাইয়ে রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রির সঙ্গে শিল্পপতিদের আলাপ-আলোচনা ফলপ্রসূ হবে।

বন্ধুগণ,

আর্জেন্টিনায় ভারতীয় শিল্প, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতাবাদের লক্ষ লক্ষ অনুরাগী রয়েছেন। আর্জেন্টিনার ট্যাঙ্গো নৃত্য ও ফুটবল ভারতে অত্যন্ত জনপ্রিয়। দু’দেশের মানুষকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসতে পর্যটন ও জনসম্প্রচার ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এরফলে, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

বন্ধুগণ,

আন্তর্জাতিক মঞ্চগুলিতেও ভারত ও আর্জেন্টিনার মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা তথা সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য আমরা বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলিতে সংস্কারের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছি। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ নীতি ব্যবস্থায় ভারতের অংশীদারিত্বকে আর্জেন্টিনা জোরালো সমর্থন জানিয়েছে। এছাড়াও, পরমাণু সরবরাহকারী গোষ্ঠীতেও ভারতের অংশীদারিত্বকে আর্জেন্টিনা সমর্থন করেছে। আমাদের কাছে দক্ষিণ – দক্ষিণ সহযোগিতার অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে। আমি আপনাদের একথা জানাতে পেরে অত্যন্ত খুশি যে, বুয়েনাস আয়ার্সে আয়োজিত হতে চলা দক্ষিণ –দক্ষিণ সহযোগিতা সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মেলনে ভারত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে। জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রেও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী এক। আন্তর্জাতিক সৌরজোটের নতুন সদস্য হিসাবে আমি আর্জেন্টিনাকে স্বাগত জানাই।

মহামহিম,

ভারত সফরে আসার জন্য আমার আমন্ত্রণ গ্রহণ করায় আমি আরও একবার আপনাকে আমার কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি আশা করি, এই সফর আপনার ও আপনার পরিবারের কাছে আনন্দদায়ক হবে।

ধন্যবাদ।

মুচাস গ্রাসিয়াস

 

CG/BD/SB