পিএমইন্ডিয়া
আয়ারল্যান্ডে বসবাসকারী সকল ভারতীয়কে নমস্কার জানাই।
সবার আগে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি, এজন্যে যে আমার উচিত ছিল আপনাদের জন্য আরও বেশি সময় বরাদ্দ করা। অনেকেই অভিযোগ জানিয়েছেন যে, তাঁরা এখানে আসার সুযোগ পাননি, সভাকক্ষে প্রবেশের অনুমতি পাননি। বেশি সময় নিয়ে এলে ভালো হতো। এখানকার অধিকাংশ প্রবাসী ভারতীয়র সঙ্গে মিলিত হতে পারতাম। তবে, এটাকে আমি শুভ সূত্রপাত বলবো। আপনাদের মধ্যে অনেকেরই মনে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এদেশে আসার স্মৃতি নেই। কারণ, আমি শুনেছি প্রায় ৬০ বছর আগে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এখানে এসেছিলেন। এমনিতে দিল্লি থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে প্রত্যেককেই আকাশপথে আপনাদের উপর দিয়ে যেতে হয়েছে। আমি গেছি। এবার আপনাদের ভালোবাসা আমাকে টেনে এনেছে।
আজ এদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা হয়েছে। সময় কম ছিল, কিন্তু অনেক বিষয়ে কথা হয়েছে, সফল আলোচনা হয়েছে। অনেক বিষয়ে আমরা একমত। আমার মতে, আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও নিবিড় হওয়া উচিত। অনেক ক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আগামী বছর ২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ড স্বাধীনতার শতবর্ষ পালন করবে। আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীরা শিক্ষা নিয়েছে, উদ্দীপনা পেয়েছে। অনেকের সঙ্গে ভারতীয়দের যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিল; তাঁদের পারস্পরিক সহযোগিতার ইতিহাস রয়েছে। সেজন্য ২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপনে আমরাও অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আয়ারল্যান্ড এবং ভারতের আদর্শ অনেক দিক থেকেই মেলে। যেমন – সত্যের খাতিরে বেঁচে থাকা এবং আত্মত্যাগ। শত শত বছর ধরে ভারতীয়রা আদর্শের জন্য আত্মবলিদানে প্রস্তুত থেকেছে। আয়ারল্যান্ডও তেমনি। ১৯২০ সালে আয়ারল্যান্ডে অনশন ধর্মঘটের সময় অনেকে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। আমাদের মূল্যবোধে কতটা মিল রয়েছে তা আন্দাজ করতে পারেন। মানবতার সঙ্গে যুক্ত থাকা এই মূল্যবোধের নিজস্ব শক্তি রয়েছে। আমরা পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সমাদর্শের শক্তিকেই জাগিয়ে তুলতে চাই।
এখন আইরিশ শিশুরা সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে স্বাগত জানায়। শুনে মনে হয়নি যে, ওরা মুখস্থবিদ্যার আশ্রয় নিয়েছে। যে শব্দের যে রকম অভিব্যক্তি হওয়া উচিত ওরা অবিকল সেরকম মুদ্রায় গান গাইছিল। এর মানে, ওরা শব্দগুলিকে অনুভব করেছে। যে শিক্ষক তাদেরকে এভাবে শিখিয়েছেন, তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানাই। এটা আনন্দের বিষয়, আয়ারল্যান্ডে আমরা এ ধরনের অনুষ্ঠান করতে পারি, ভারতে এরকম করলে কেউ কেউ হয়তো ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতেন।
এখন অবশ্য পরিবর্তন এসেছে। আপনারা দেখুন আমাদের যোগাভ্যাস এখন গোটা বিশ্বে যোগা নামে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গোটা বিশ্বের মানুষ নাকে হাত দিয়ে প্রাণায়াম করতে শুরু করেছে। বিশ্বের সমস্ত দেশ মহাসমারোহে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করছে। ভারতে হাজার হাজার বছরের পুরনো বিজ্ঞান আজ ‘হলিস্টিক হেল্থ কেয়ার’ বা সার্বিক স্বাস্থ্য এবং ‘প্রিভেনটিভ হেল্থ কেয়ার’ বা স্বাস্থ্য সতর্কতা – এর ক্ষেত্রে স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। পাশ্চাত্য চিন্তাধারা অনুসারে কেউ যদি অসুস্থ না হন তা হলে তিনি স্বাস্থ্যবান। কিন্তু, ভারতীয় চিন্তা-ভাবনায় দু’কদম এগিয়ে ‘ভালো থাকা’র কথা ভাবা হয়। ভালো থাকলে, সুঠাম স্বাস্থ্য এবং সতেজ মনের অধিকারী হলে কোনও রোগ কাছেই ঘেঁষতে পারবে না। যোগাভ্যাস মানুষকে ভালো থাকতে সাআয্য করে। ভারতের এই চিন্ত ন এখন গোটা বিশ্ব স্বীকার করে নিয়েছে।
আজ গোটা বিশ্বে ভারতের দ্রুত উন্নয়নের আলোচনা হচ্ছে। একবিংশ শতাব্দী ‘এশিয়ার শতাব্দী’, বিশ্ব একথাও স্বীকার করে নিয়েছে। এমনকি, এই শতাব্দী ‘ভারতের শতাব্দী’ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
১৯৮০ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, চিন এবং সাউথ আফ্রিকা মিলে ‘ব্রিকস্’ সংগঠন বানিয়েছিল। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই সংগঠনের সদস্য দেশগুলির সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই সংগঠন কাজ শুরু করে। কিন্তু, আজ থেকে কয়েক বছর আগে দেখা গেল ‘বি’, ‘আর’, ‘সি’ এবং ‘আর’ যে গতিতে এগিয়ে গেছে তুলনায় ‘আই’ অর্থাৎ ইন্ডিয়া পিছিয়ে পড়েছে। অনেকে বলাবলি করতে শুরু করেন, ইন্ডিয়ার স্থান এখন ইন্দোনেশিয়া নিয়ে নেবে। কিন্তু এখন বিশ্ব ব্যাঙ্ক, আই.এম.এফ. কিংবা যে কোনও ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির হিসেবে ‘ব্রিকস্’কে এখন সর্বাধিক শক্তি জোগাচ্ছে ‘আই’ অর্থাৎ ইন্ডিয়া। সমস্ত রেটিং এজেন্সি স্বীকার করে নিয়েছে যে বিশ্বের বড় দেশগুলির মধ্যে সবচাইতে দ্রুত বিকাশশীল অর্থনীতি হল ভারত।
এই পরম্পরা বজায় রাখতে পারলে আগামী ৩০ বছরে আমাদের দেশে দারিদ্র্যের নামগন্ধও থাকবে না। নবীন প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা যোগ্যতা অনুসারে কাজ পাবেন। কিন্তু, ৩০ বছর ধরে এই গতি বাজয় রাখা বেশ কঠিন। কিন্তু, আমরা এই কঠিন কাজ করতে পারবো, কারণ আমরা এমন এক শক্তি পর্বে রয়েছি কথা যার কথা আমরা আগে কখনও কল্পনাও করিনি। সেটা হল ভারতের মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নীচে থাকা। এই তারুণ্যের শক্তিই আমাদের বলীয়ান করেছে। এই সামর্থ্যই আগামী ৩০ বছরের মধ্যে আমাদের দারিদ্র্যমোচনের স্বপ্নকে সফল করবে। আমরা দ্রুতগতিতে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছি। দেশকে সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। বিশ্বময় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভারতবাসীও আজ বুক চিতিয়ে, সেসব দেশের নাগরিকদের চোখে-চোখ মিলিয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন। এর থেকে বড় গর্বের বিষয় আর কী হতে পারে। এখন কোনও ভারতীয়কে আর মাথা নীচু করে থাকতে হবে না, বুক চিতিয়ে পথ চলার সময় এসে গেছে। এটাই আমাদের শক্তির মূল আধার।
আপনাদের সকলের সঙ্গে মিলিত হওয়ার এই সুযোগ দিয়েছেন বলে ধন্যবাদ জানাই। এত কম সময়ে এই কর্মসূচি নির্ধারিত হয়েছে, এত দ্রুত আপনারা বিপুল সংখ্যায় আমার সঙ্গে দেখা করতে, আমার কথা শুনতে এসেছেন, এদেশে নিযুক্ত ভারতীয় দূত বলছিলেন, তাঁরা সবাইকে অনুমতি দিতেও পারেননি, অনেককেই আশাহত হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। আরও বেশি সময় পেলে ভালো হতো! যাই হোক, শুরুতেই বলেছি, এটা শুভ সূচনা, এই সম্পর্ক আরও গভীর হবে, নিবিড় হবে আর এরপর আবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এদেশে আসতে ৬০ বছর লাগবে না, আপনাদেরকে এই আশ্বাস দিচ্ছি।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG/SB/SB/S
I will begin by apologising...I wish I had spent more time with you. I thank you for the warm welcome: PM to Indian community in Ireland
— PMO India (@PMOIndia) September 23, 2015
I had detailed discussions with your PM. We spoke about so many issues: PM @narendramodi https://t.co/3JPTyeO3Ap
— PMO India (@PMOIndia) September 23, 2015
Our values are shared. This has been seen in history as well: PM @narendramodi https://t.co/3JPTyeO3Ap
— PMO India (@PMOIndia) September 23, 2015
Today the world is talking about the development in India. People are thinking- who knows, 21st century can be India's: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) September 23, 2015
India belongs to the youth and it is the youth that will take India to newer heights: PM @narendramodi https://t.co/3JPTyeO3Ap
— PMO India (@PMOIndia) September 23, 2015
Overwhelmed by the community programme in Dublin. Recital of Shlokas in Sanskrit by children was very touching. pic.twitter.com/H9xUTmTupu
— Narendra Modi (@narendramodi) September 23, 2015
Spoke about growing global optimism towards India & how India's youth will take India to newer heights of progress. http://t.co/IvCe9bWzni
— Narendra Modi (@narendramodi) September 23, 2015
Spoke about growing global optimism towards India & how India's youth will take India to newer heights of progress. http://t.co/IvCe9bWzni
— Narendra Modi (@narendramodi) September 23, 2015
Simply mesmerising! Great to see these children recite in Sanskrit.
https://t.co/pMwPnLNcOg
— Narendra Modi (@narendramodi) September 23, 2015