পিএমইন্ডিয়া
নয়াদিল্লি, ৭ জুলাই, ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ার মাননীয় রাষ্ট্রপতি,
মাননীয় উপ-রাষ্ট্রপতি,
মাননীয় অধ্যক্ষবৃন্দ,
সম্মানিত সাংসদরা,
বিশিষ্ট অতিথিবর্গ,
ইন্দোনেশিয়ায় আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনাদের সবাইকে নমস্কার।
সেলামাত সিয়াং !
আমার ‘সাহাবাত সেজাতি’ বা প্রকৃত বন্ধুদের মাঝে উপস্থিত হতে পারা অত্যন্ত আনন্দের ও সৌভাগ্যের বিষয়।
আপনাদের মধ্যে আজ উপস্থিত হওয়া আমার জন্য এক পরম সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয়। ১৪০ কোটি ভারতবাসীর প্রতিনিধি এবং ‘গণতন্ত্রের জননী’র গর্বিত এক নাগরিক হিসেবে আমি আপনাদের সামনে এসেছি এবং ভারতের প্রতিটি নাগরিকের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
ইন্দোনেশিয়ার জনগণ—শিশু, তরুণ ও নারী—আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় দিন । আজ সকালে ইন্দোনেশিয়ার জনগণের কাছ থেকে যে উষ্ণতা, স্নেহ ও আন্তরিক অভ্যর্থনা আমি পেয়েছি, তা আমি চিরকাল মনে রাখব। আজ একটু আগেই রাষ্ট্রপতি প্রবোও কপিরাইট বা মেধাস্বত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। আমি আপনাকে শুধু এটুকু বলতে চাই — ভালোবাসা, স্নেহ, বন্ধুত্ব বা পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর কেউ কোনো কপিরাইট দাবি করতে পারে না। রাষ্ট্রপতি প্রবোও-র সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব কপিরাইটের সীমানা ছাড়িয়ে অনেক ঊর্ধ্বে।
বন্ধুরা,
আজ সকালে ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মাননা গ্রহণের সৌভাগ্যও আমার হয়েছে। অত্যন্ত বিনয় ও গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আমি এই সম্মাননা গ্রহণ করছি; এটি ভারতের কোটি কোটি মানুষের প্রতি ইন্দোনেশিয়ার জনগণের ভালোবাসারই প্রতিফলন। এই সম্মাননা আমাদের যৌথ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আমাদের অভিন্ন ঐতিহ্য এবং দুই দেশের মধ্যে ক্রমাগত শক্তিশালী হতে থাকা সম্পর্ককে উদযাপন করে। এই বিশেষ সম্মাননার জন্য আমি আপনাদের সবাইকে, রাষ্ট্রপতি প্রবোও-কে, ইন্দোনেশিয়ার সরকারকে এবং জনগণকে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
ভারত ও ইন্দোনেশিয়া আজ ইতিহাসের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। এই শতাব্দীর প্রথম পঁচিশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে এবং পরবর্তী পঁচিশ বছর আমাদের দুই জাতির জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। ইন্দোনেশিয়ার এই পবিত্র ভূমিতে দাঁড়িয়ে, উন্নয়নের পথে আমাদের যৌথ যাত্রার প্রতি পূর্ণ আস্থা নিয়ে আমি আপনাদের সামনে এসেছি। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে নতুন আশা, লক্ষ্য ও উদ্দীপনা দিয়ে মানবজাতিকে অনুপ্রাণিত করতে পারে — সেই বিষয়ে আমি আস্থাশীল। ভারতের ১৪০ কোটি এবং ইন্দোনেশিয়ার ২৯ কোটি মানুষ যখন অভিন্ন লক্ষ্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে চলবে, তখন পৃথিবীর ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হবে।
ভারত এমন একটি দেশ যে সম্প্রসারণবাদে নয়, বরং উন্নয়নে বিশ্বাসী। আর তাই আমরা ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’—অর্থাৎ ‘সকলের সাথে, সকলের উন্নয়ন’—এই নীতিতে পরিচালিত হই।
ঠিক এই মন্ত্র ও চেতনা নিয়েই আজ আমি ইন্দোনেশিয়ার মাননীয় সাংসদদের সামনে দাঁড়িয়েছি।
মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
যদিও আমাদের দু দেশের রাজধানী মধ্যে হাজার হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব রয়েছে, তবুও সমুদ্রপথে আমাদের দুই দেশের দূরত্ব মাত্র ১৫০ কিলোমিটারের মতো। অনেক দেশের ক্ষেত্রে সমুদ্র প্রায়শই সীমানা বা দূরত্বের প্রতীক হিসেবে কাজ করলেও, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সমুদ্র কখনোই কোনো বিভাজনরেখা হয়ে দাঁড়ায়নি। আমাদের কাছে সমুদ্র কোনো বাধা নয়—বরং এটি সেতুবন্ধের ভূমিকা পালন করে। আমাদের যৌথ ভবিষ্যতের কেন্দ্রবিন্দু এটি।
ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং ভারত মহাসাগর—এই নামগুলোই আমাদের দুই দেশের মধ্যে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের সাক্ষ্য বহন করে। হাজার হাজার বছর ধরে আমাদের বন্দরগুলি পৃথিবীকে যুক্ত করেছে এবং আমাদের জাহাজগুলি প্রত্যন্ত অঞ্চলের উপকূলে ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও ভাবনাচিন্তাকে পৌঁছে দিয়েছে। আমাদের যৌথ ভবিষ্যতের জন্য সমুদ্র আজও অপার সম্ভাবনার ক্ষেত্র হয়ে রয়েছে। মহাসাগরের এই বিশালত্বকে অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচনা করেই আমি আজ আপনাদের ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সমুদ্র পথে যেমন যোগাযোগ আছে— পাশাপাশি আমাদের রয়েছে অভিন্ন এক ইতিহাস। আমাদের সম্পর্কের মূলে রয়েছে রামায়ণ ও মহাভারতের কালজয়ী ঐতিহ্য; রয়েছে বহু শতাব্দী আগে নালন্দা থেকে এ দেশে ছড়িয়ে পড়া জ্ঞান ও প্রজ্ঞা; আর রয়েছে ‘ওয়ায়ং’, নৃত্য ও সঙ্গীতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য।
বরবুদুর ও প্রাম্বানানের মতো অনুপম সব স্থাপত্যকীর্তি আমাদের যুক্ত করে রেখেছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় প্রতীক ‘গরুড়’ আমাদের একসূত্রে গেঁথেছে। ‘বালি যাত্রা’ উৎসবের চেতনা ও উদযাপনের মধ্য দিয়েও আমরা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। আর খাবারের স্বাদের কথা বলতে গেলে, ‘ক্রুপুক’ (krupuk) নাকি ‘পাপড়’—কোনটি বেশি মুচমুচে, তা বলা কঠিন। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—মশলা এবং ‘বুম্বু’ (bumbu)—উভয়ই আমাদের জীবনে সমৃদ্ধি ও নতুন নতুন স্বাদ যুক্ত করে।
বন্ধুরা,
ভারতের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত গুজরাট আমার নিজ রাজ্য। কথিত যে, বহু শতাব্দী আগে গুজরাটের বণিক ও সুফি সাধকরা সমুদ্রপথে ইন্দোনেশিয়ায় গিয়েছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে ইসলামের বার্তা ও মূল্যবোধ নিয়ে গিয়েছিলেন। আজও গুজরাটের চমৎকার ‘পাটোলা’ বস্ত্র এখানে মর্যাদা ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। ইন্দোনেশিয়ার সমৃদ্ধ ‘বাটিক’ (Batik) শিল্পকলায়ও এর প্রভাব আজও স্পষ্ট।
ঠিক এই কারণেই রাষ্ট্রপতি সুকর্ণ একসময় বলেছিলেন, “ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের জনগণ রক্ত ও সংস্কৃতির বন্ধনে আবদ্ধ।”
বন্ধুরা,
আমাদের পূর্বপুরুষরা যৌথভাবে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। আমাদের উভয় দেশের জনগণই দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশি শাসকের অধীনে ছিল। আমাদের দুটি দেশ প্রায় একই সময়ে স্বাধীনতা অর্জন করে—১৯৪৫ সালে ইন্দোনেশিয়া এবং ১৯৪৭ সালে ভারত। আর একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন যখন সামনে এল, তখন ভারত সেই স্বাধীনতা সংগ্রামের সমর্থনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিল এবং জাতিসংঘে তাদের দাবির পক্ষে শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিল।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেই সময়ে শ্রদ্ধেয় বিজু পট্টনায়েকের ভূমিকা আমাদের যৌথ ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে আছে। যে সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী সুতান শারির এবং উপ-রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ হাত্তাকে নিরাপদে ভারতে নিয়ে এসেছিলেন, তা আমাদের দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর এক সম্পর্ক গড়ে তোলে।
মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
আমাদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার মতো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধন হলো গণতন্ত্র এবং ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’-এর প্রতি আমাদের যৌথ অঙ্গীকার। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং ‘গণতন্ত্রের জননী’। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া হলো বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গণতন্ত্র।
ভারত শত শত ভাষা ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের দেশ; একইসঙ্গে ইন্দোনেশিয়াও শত শত ভাষা ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। ভারত ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ ‘সমগ্র বিশ্ব একটি পরিবার’—এই চিরায়ত নীতির মাধ্যমে পরিচালিত; আর ইন্দোনেশিয়া অনুপ্রাণিত ‘ভিনেকা তুঙ্গাল ইকা’—অর্থাৎ ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’—এই দর্শনে। আমাদের উভয় দেশই এই বৈচিত্র্যকে আমাদের গণতন্ত্র ও ঐক্যের মূল ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলেছে।
মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
মাননীয় অধ্যক্ষ যেমনটি এইমাত্র উল্লেখ করলেন, ১৯৫০ সালে ভারত যখন তার প্রথম সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপন করে, তখন সেই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি সুকর্ণ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আর সেই একই সময়ে, বান্দুং সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি সুকর্ণ এবং প্রধানমন্ত্রী নেহরু বিশ্বকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন—সেটি হলো, স্বাধীন রাষ্ট্রগুলির নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে।
মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
ইন্দোনেশিয়া ‘রিফরমাসি’ বা সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্বের কাছে গণতন্ত্রের প্রকৃত ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। গত দুই দশকে এই অর্থনীতি দ্রুত প্রবৃদ্ধি লাভ করেছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে নিয়ে এসেছে।
ভারতের গণতান্ত্রিক যাত্রাও একই গল্পের সাক্ষ্য দেয়। আজ ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিতিলাভ করেছে এবং গত এক দশকে ২৫ কোটিরও বেশি ভারতীয় দারিদ্র্যর নাগপাশ থেকে বেরিয়ে এসেছে। আর তাই, বন্ধুরা, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া যখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায়, তখন তা বিশ্বের এই আস্থাকে আরও শক্তিশালী করে যা গণতন্ত্রর সুযোগ সৃষ্টি করে এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে।
গণতন্ত্রই ভবিষ্যৎকে গড়ে তোলে। আমাদের অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আকাঙ্ক্ষা ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে — সেই বিশ্বাস আমার রয়েছে।
মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আমরা যে যাত্রা শুরু করেছিলাম, সেই স্বাধীনতা শীঘ্রই শতবার্ষিকী পূর্ণ করতে চলেছে। এখানে, আপনারা ‘ইন্দোনেশিয়া এমাস ২০৪৫’-এর উচ্চাকাঙ্ক্ষী এক লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। ভারতে, আমরা ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার সংকল্প নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি। এই জাতীয় আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথে, আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে উভয় দেশ একে অপরের পরিপূরক ও শক্তিশালী সহযোগী হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বের নিরীখে আমাদের দুই দেশই যুবশক্তিতে সমৃদ্ধ। দ্রুত বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির তালিকায় আমাদের দেশগুলি অন্তর্ভুক্ত। আমরা উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক শক্তি। আমরা দক্ষিনী বিশ্বের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। আমাদের দুটি দেশের সভ্যতাই প্রাচীন এবং একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অংশীদার।
এই যাত্রাপথে আসুন আমরা একে অপরের অংশীদার হই, আবার একে অপরের শক্তির উৎস হয়ে উঠবো। এই উদ্দেশ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই আজ আমি প্রেসিডেন্ট প্রবোও-র সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমাদের উদ্দেশ্য অত্যন্ত স্পষ্ট। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সদিচ্ছা ও পারস্পরিক আস্থাকে আমাদের জনগণের জন্য নতুন সুযোগে পরিনত করতে হবে।
গত বছর আমাদের দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৫০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল। বর্তমানে একশরও বেশি ভারতীয় কোম্পানি ইন্দোনেশিয়ায় নানা কাজ্জে যুক্ত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আমরা দ্রুত গতিতে একযোগে এগিয়ে চলেছি। তবুও, আগামী দিনগুলোতে আমাদের জন্য আরও প্রচুর নানা ধরণের সুযোগ অপেক্ষা করছে।
মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
আগামী দিনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার যৌথভাবে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর একটি উদাহরণ হলো মহাকাশ প্রযুক্তি। আজ সমগ্র বিশ্ব মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারতের ক্ষমতাকে স্বীকৃতি দেয়। আর ভারত এই যাত্রায় ইন্দোনেশিয়াকে তার স্বাভাবিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে।
বহু বছর ধরে, বিয়াক-এর স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং ব্যবস্থাপনা ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে সহায়তা করে আসছে। ভারত ইন্দোনেশিয়ার বেশ কয়েকটি কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে এবং মহাকাশ ক্ষেত্রে ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। এখন সময় এসেছে এই সহযোগিতাকে পরবর্তী ধাপে উন্নীত করা। আমরা স্যাটেলাইট অ্যাপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করতে পারি এবং ইন্দোনেশিয়ায় কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে ভারত প্রস্তুত।
বন্ধুরা,
আমাদের সমৃদ্ধ সামুদ্রিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও উদযাপনের লক্ষ্যে আমরা লোথালে একটি ‘জাতীয় সামুদ্রিক ঐতিহ্য কমপ্লেক্স’ গড়ে তুলছি। লোথাল ৫,০০০ বছরের পুরনো এক বন্দর নগরী। আমি চাই ইন্দোনেশিয়া এই যুগান্তকারী প্রকল্পে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হোক।
মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
সন্ত্রাসবাদের মতো প্রশ্নে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি সব সময়ই অভিন্ন। গত বছর পাহালগাও-এ যখন ঘৃণ্য জঙ্গি হামলা হয়েছিল, তখন ইন্দোনেশিয়া দৃঢ়ভাবে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এই সমর্থনের জন্য আমি প্রেসিডেন্ট প্রবোও এবং আপনাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আমাদের উভয় দেশই একটি যৌথ কর্মীগোষ্ঠীর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ দমনে একযোগে কাজ করছে। গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, সাইবার হুমকি মোকাবিলা, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধ করা এবং মৌলবাদ-বিরোধী কর্মসূচির মতো ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে আমরা বিশ্বজুড়ে শান্তির পরিবেশকে নিশ্চিত করতে পারি।
মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
আজ বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং এই প্রেক্ষাপটে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলি আন্তর্জাতিক বিষয়গুলিতে সমান অংশগ্রহণ ও বৃহত্তর ভূমিকা পালনে উদ্যোগী হয়েছে। পরিবর্তনশীল এই বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভারত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে , জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের বিষয়টি আর দেরি করা যায় না।
২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ার এবং ২০২৩ সালে ভারতের জি-২০ সভাপতিত্বের সময় উভয় দেশই উন্নয়নশীল দেশগুলির অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোকে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার ‘বেবাস-আক্টিফ’ (স্বাধীন ও সক্রিয় বিদেশনীতি) ঐতিহ্য এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রতি ভারতের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বিষয়গুলির মোকাবিলায় আমাদের একত্রে দাঁড়ানোর একটি শক্তিশালী ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করে।
ভারত একটি অবাধ, উন্মুক্ত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ভারত- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমর্থক। ভারত এই অঞ্চলে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলে। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা আসিয়ান-কে আমাদের কর্মসূচীর কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছি। আমাদের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’-ও আসিয়ান-কেন্দ্রিক। ভারত ও আসিয়ানের মধ্যে ‘বিপুল কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে। তাই, এই পথে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার ধারাবাহিক ও যৌথ প্রয়াস অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
আমাদের সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। গত বছর ইন্দোনেশিয়া ব্রিকস-এর পূর্ণ সদস্য হয়েছে এবং এ বছর ভারত ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে। ব্রিকস প্ল্যাটফর্মকে আরও কার্যকর, ভারসাম্যযুক্ত এবং দক্ষিনী বিশ্বের চাহিদার প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তুলতে আমরা যৌথভাবে কাজ করতে পারি।
মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
আজ, ইন্দোনেশিয়ার সংসদে সকল সদস্যের সামনে দাঁড়িয়ে আমি ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার অংশীদারিত্বের এক নতুন যুগের সূচনা করার আহ্বান জানাচ্ছি। গঙ্গা ও মাহাকাম নদীর প্রবহমান ধারার মতোই, আমাদের সভ্যতাগুলি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চিন্তা-ভাবনা, বিশ্বাস, ব্যবসা বাণিজ্য ও সংস্কৃতির সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছে। আজ, ভবিষ্যতের জন্য এই ঐতিহাসিক বন্ধনে নতুন প্রাণশক্তি সঞ্চার করতে আমি আপনাদের সবার সামনে ‘গঙ্গা-মাহাকাম ভিশন’ তুলে ধরতে চাই।
এই ভিশন আমাদের অংশীদারিত্বকে কেবল বর্তমানের প্রয়োজনেই সীমাবদ্ধ রাখে না; বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও যৌথ অগ্রগতির পথ প্রশস্ত করে।
প্রথমত… সভ্যতার সেতুবন্ধন
আমরা আমাদের সভ্যতার বন্ধনগুলিকে তরুণ প্রজন্মের চেতনার সঙ্গে যুক্ত করব। রামায়ণ থেকে বোরবুদুর এবং সমুদ্রযাত্রা থেকে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান —এই যৌথ ইতিহাসকে আমরা ভবিষ্যতের শক্তির উৎসে রূপান্তর করব। এটি অর্জনের লক্ষ্যে আমাদের একটি ‘ভারত-ইন্দোনেশিয়া সভ্যতা-সংক্রান্ত আলোচনা’ শুরু করা উচিত।
দ্বিতীয়ত… যৌথ উন্নয়ন
উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে ওঠার যাত্রায় ভারত ও ইন্দোনেশিয়া একে অপরের অবিচল অংশীদার হয়ে থাকবে। ইন্দোনেশিয়ার ‘ইন্দোনেশিয়া এমাস ভিশন’ এবং ভারতের ‘বিকশিত ভারত ভিশন’ — একে অন্যের উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী ও ত্বরান্বিত করবে; এর ফলে আমরা একে অপরকে ক্ষমতায়িত করব এবং আমাদের জনগণের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করব।
তৃতীয়ত… নিরাপত্তা ও কৌশলগত আস্থা
আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতাকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাব। যৌথ উদ্যোগে আমরা আমাদের জাতীয় ক্ষমতা বৃদ্ধি করব এবং সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হুমকি, সমুদ্র পথের নানা সমস্যা ও নিরাপত্তাক্ষেত্রে নতুন নতুন সমস্যার মোকাবিলা করব। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে এই কৌশলগত আস্থা ভারত- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
চতুর্থত… সামুদ্রিক সমৃদ্ধি
সামুদ্রিক শক্তির দুটি বৃহৎ রাষ্ট্র হিসেবে, আমরা যৌথ ভাবে আমাদের সমুদ্র সংক্রান্ত ভৌগোলিক অবস্থানকে সমৃদ্ধিতে পরিবর্তন করব। সাবাং থেকে গ্রেট নিকোবর এবং মালাক্কা গেটওয়ে থেকে ভারত- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত—আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থা, লজিস্টিকস, ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ব্যবসা বাণিজ্যে নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করব।
পঞ্চমত… দক্ষিনী বিশ্বের কণ্ঠস্বর
আমরা ‘দক্ষিনী বিশ্ব’-এর আকাঙ্ক্ষাগুলিকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরব। আমরা এমন এক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করব যেখানে উন্নয়ন হবে সর্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রযুক্তি হবে সহজলভ্য এবং পৃথিবীর শাসনব্যবস্থা হবে আরও ন্যায়সঙ্গত, সমতাভিত্তিক ও প্রতিনিধিত্বমূলক।
বন্ধুরা,
ভারত ও ইন্দোনেশিয়া সমগ্র মানবজাতির এক-পঞ্চমাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। আমাদের এই অংশীদারিত্ব শুধু দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্কই নয়—এটি ভারত- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, ‘ দক্ষিনী বিশ্ব’-এর শক্তি এবং পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের যৌথ বিশ্বাসের প্রতি এক দৃঢ় অঙ্গীকার। আসুন, আমাদের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে আমরা এক নতুন যুগে নিয়ে যাই। আসুন, ‘গঙ্গা-মহাকাম ভিশন’ বাস্তবায়নে আমরা একযোগে কাজ করি।
মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
ভারতে মহান কবি ও সাধক তুলসীদাস লিখেছিলেন:
“জানেং বিনু ন হোই পরতীতী।
জানেং বিনু ন হোই পরতীতী।
বিনু পরতীতি হোই নহিঁ প্রীতী॥”
এর অর্থ হলো—মানুষ একে অপরকে সঠিকভাবে না চিনলে তাদের মধ্যে বিশ্বাস গড়ে ওঠে না; আর বিশ্বাস ছাড়া কোনো স্নেহ বা ভালোবাসা সৃষ্টি হতে পারে না।
আমি শুনেছি যে ইন্দোনেশিয়াতেও ঠিক একই ভাবার্থ বহনকারী একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে:
“তাক কেনাল মাকা তাক সায়ংগ”
—কাউকে ভালোভাবে না চিনলে তার প্রতি প্রকৃত যত্নশীল হওয়া যায় না।
ঠিক এই কারণেই,
আমরা আমাদের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ সন্ধ্যায়, প্রেসিডেন্ট প্রবোও এবং আমি এখানে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের সাথে সাক্ষাৎ করব। আগামীকাল, প্রেসিডেন্ট প্রবোও এবং আমি প্রাম্বানান দর্শন করব; সেখানে আমরা ইউনেস্কোর ঘোষিত বিশ্বর ঐতিহ্যবাহী স্থানটির সংরক্ষণ ও সংস্কার প্রকল্পের সূচনা করব। ইতিহাস আমাদের যে অমূল্য ঐতিহ্য দিয়েছে, তা রক্ষা ও সংরক্ষণে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মাননীয় সদস্যবৃন্দ,
আজ আমি এই সদনের প্রত্যেক মাননীয় সদস্যকে ভারত সফরের জন্য বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমি আপনাদের সপরিবারে ও সবান্ধবে ভারত ভ্রমণের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানাই। ভারতের জনগণ আপনাদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানোর সুযোগ পেলে অত্যন্ত আনন্দিত হবে।
আমি নিশ্চিত যে আমরা ‘মিত্র সেলামানিয়া’ — অর্থাৎ চিরস্থায়ী অংশীদার হিসেবেই থাকব। আমরা যৌথভাবে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার জনগণের জন্য এক সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব। এই বলেই আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি।
ইন্দোনেশিয়া দীর্ঘজীবী হোক!
ভারত মাতা কি জয়!
ধন্যবাদ।
প্রধানমন্ত্রী মূল ভাষণটি হিন্দিতে দিয়েছিলেন
SC/CB/DM.
Honoured to address the Indonesia Parliament. Do watch.
— Narendra Modi (@narendramodi) July 7, 2026
https://t.co/zapE5i8onx
India is a nation that follows the path of development, not expansionism. pic.twitter.com/M52IfCj4Fl
— PMO India (@PMOIndia) July 7, 2026
For India and Indonesia, the sea has never represented distance. It has always been a bridge between our nations and remains central to our shared future. pic.twitter.com/8hU3umJ855
— PMO India (@PMOIndia) July 7, 2026
India, Indonesia and the Indian Ocean... these names themselves reflect the deep ties that bind us. pic.twitter.com/Wvg4Ng1UjI
— PMO India (@PMOIndia) July 7, 2026
When India and Indonesia stand together, they strengthen the world's faith that democracy creates opportunities, democracy builds trust and democracy shapes the future. pic.twitter.com/boZB8tqO2R
— PMO India (@PMOIndia) July 7, 2026
The goodwill and trust that India and Indonesia share must create new opportunities for our citizens. pic.twitter.com/l2LCy9ihXC
— PMO India (@PMOIndia) July 7, 2026
India firmly believes that reform of the UN Security Council can no longer be delayed. pic.twitter.com/OcReGxfkG1
— PMO India (@PMOIndia) July 7, 2026
India is a strong advocate of a free, open and inclusive Indo-Pacific.
— PMO India (@PMOIndia) July 7, 2026
India believes in freedom of navigation in the Indo-Pacific. pic.twitter.com/IiopDi2UtC
Delhi and Jakarta may be thousands of kilometres apart, but by sea, the distance between our nations is only about 150 kms.
— Narendra Modi (@narendramodi) July 7, 2026
For India and Indonesia, the sea serves as a vital bridge, which is at the core of our shared future.
Equally noteworthy is the shared bonds of history… pic.twitter.com/o7MXJptrg5
Our democracies and diversity bring India and Indonesia closer. pic.twitter.com/tYmwbF8zBG
— Narendra Modi (@narendramodi) July 7, 2026
There are sectors such as space, maritime technology and more that are futuristic and offer immense scope for India and Indonesia to work closely. pic.twitter.com/20rg0sTzri
— Narendra Modi (@narendramodi) July 7, 2026
Be it Indonesia’s G20 Presidency in 2022 or India’s G20 Presidency in 2023, both sought to bring the priorities of the Global South to the centre of the global agenda.
— Narendra Modi (@narendramodi) July 7, 2026
In the coming times as well, India and Indonesia will continue working together in this direction. pic.twitter.com/FUeV5PJAO7
Now is a new era in the India-Indonesia partnership. And, it can be achieved through the Ganga-Mahakam vision, which emphasises:
— Narendra Modi (@narendramodi) July 7, 2026
Civilisational Connect.
Shared Development.
Security and Strategic Trust.
Maritime Prosperity.
Voice of the Global South. pic.twitter.com/u3AUyHKz9i
Merupakan suatu kehormatan dapat berpidato di hadapan Parlemen Indonesia. India dan Indonesia terhubung oleh sejarah, budaya, dan hubungan antar-masyarakat yang telah terjalin selama berabad-abad. Bersama-sama, kita akan terus bekerja sama demi mewujudkan masa depan yang… pic.twitter.com/TVNWUIm1Ng
— Narendra Modi (@narendramodi) July 7, 2026