Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ইন্দোনেশিয়ায় প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ইন্দোনেশিয়ায় প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ইন্দোনেশিয়ায় প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


ইন্দোনেশিয়ায় ভারতের স্মৃতি নিয়ে বসবাসকারী সমস্ত বন্ধুদের আমার নমস্কার।

সলামত সোরে, তমান-তমান। গুড ইভনিং ফ্রেন্ডস আপা কাবার? (আপনারা কেমন আছেন?)

সায়া সনাংগ সকালী বর-অদা দী সিনী (আমি এখানে এসে খুব খুশি)

আমি ইন্দোনেশিয়ার জনগণ, আপনাদের সবাইকে, বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি ভিডোডোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, যিনি রমজানের পবিত্র মাসে আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন। আজ সকালে ইন্দোনেশিয়ার বৈচিত্র্যের ঝলক দেখারও সৌভাগ্য হয়েছে। এটা নেহাতই কাকতালীয় নয় যে ১৯৫০ সালে ভারতের প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

বন্ধুগণ,

বিগত চার বছরে ১২৫ কোটি ভারতবাসীর প্রতিনিধি রূপে আমি বিশ্বের যেখানেই গিয়েছি, সেখানকার প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছি। তাঁদের সঙ্গে আমার যত কথা হয়েছে, সর্বত্রই আমি অনুভব করেছি, তাঁদের মনে ভারতমাতার প্রতি অটুট শ্রদ্ধা এবং সম্মান। ইন্দোনেশিয়াতেও আমি আমার সামনে একই ভাবনার মূর্ত রূপ দেখতে পাচ্ছি। ইন্দোনেশিয়ার প্রতি আপনাদের মনে যতটা দেশভক্তি রয়েছে, ততটাই প্রবল আকর্ষণ রয়েছে শেকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার। আপনাদের মধ্যে অধিকাংশই এখন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক কিন্তু হৃদয়ের এক কোণে এখনও ভারত স্থায়ীভাবে রয়েছে।

বন্ধুগণ,

আমাদের সম্পর্ক হ’ল, সংস্কৃত আর সংস্কৃতির। আপনাদের মধ্যে অনেকেই ৪-৫ প্রজন্ম ধরে এখানে আছেন। আর এখানে উপস্থিত অধিকাংশ ভারতীয় বিগত দুই-তিন দশক ধরে এদেশে বসবাস করছেন। আপনাদের মধ্যে অনেকে বস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, আবার অনেকে নানাবিধ ক্রীড়া সামগ্রীর ব্যবসা করেন। কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউবা আবার কনসালটেন্ট, কেউ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট, কেউবা ব্যাঙ্কার আবার কেউ আধ্যাত্মিক গুরু। ভারতীয় বংশোদ্ভূত শ্রী গুরনাম সিং ১৯৬২ সালে জাকার্তা এশিয়ান গেমস্‌-এ ইন্দোনেশিয়ার জন্য মেডেল জিতে এনেছিলেন। আমি অত্যন্ত খুশি, কারণ, আপনারা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে শুধু এখানকার পরিবেশকে নিজেদের অনুকূল করে তোলেননি, ইন্দোনেশিয়ার উন্নয়নে আপনারা অনেক বড় অবদানও রাখছেন।

বন্ধুগণ,

তখন এমন একটা সময় ছিল যে, আপনাদের পূর্ব পুরুষদের ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে ভারত ছেড়ে আসতে হয়েছিল। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। বিশ্বের সর্বত্র ভারতের নতুন পরিচয় গড়ে উঠেছে। বিগত চার বছরে ভারত বিশ্বের অর্থ ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করেছে।

· আজ ভারত বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুক্ত অর্থনীতির দেশগুলির অন্যতম।

· ভারতে বিদেশি মুদ্রা সংরক্ষণের পরিমাণ ৩০০ বিলিয়ন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৪০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গেছে।

· গ্রিন ফিল্ড প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ টানা বিশ্বের প্রথম দেশ হয়ে উঠেছে ভারত।

· প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আস্থা সূচকে ভারত ‘টপ টু ইমার্জিং মার্কেট’-এর অন্যতম হয়ে উঠেছে।

· ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের বিশ্ব প্রতিযোগিতামূলক সূচক অনুসারে ভারতের র‍্যাঙ্কিং ৭১তম স্থান থেকে উঠে ৪০তম স্থানে পৌঁছে গেছে।

· ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’-এর র‍্যাঙ্কিং-এ ভারত ১৪২তম স্থান থেকে ১০০তম স্থানে পৌঁছে গেছে।

· লজিস্টিক পারফরমেন্স ইনডেক্সে ভারত ১৯ স্থান এগিয়েছে।

· গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সে ভারত ২১ স্থান এগিয়েছে।

· আঙ্কটাড রিপোর্টে ভারতের ভবিষ্যতকে শক্তিশালী অর্থ ব্যবস্থাগুলির মধ্যে শীর্ষ স্থানীয় তিনটি দেশের মধ্যে রাখা হয়েছে।

· বিগত ১৪ বছরে প্রথমবার মুডিস-এর ক্রেডিট র‍্যাঙ্কিং-এ ভারত উন্নতি করেছে।

ভাই ও বোনেরা,

ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ, ইন্দোনেশিয়ার গণতন্ত্রের শেকড়ও অনেক শক্তিশালী। সেজন্য ১২৫ কোটি ভারতবাসী যেভাবে আমার মতো একজন সাধারণ নাগরিককে দেশের প্রধান সেবক হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়ার জনগণও তেমনই মাননীয় ভিডোডো মহোদয়কে নিজেদের রাষ্ট্রপতি রূপে নির্বাচিত করেছেন।

বন্ধুগণ, ভারত এবং ইন্দোনেশিয়া সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যে সদ্ভাবের প্রতীক। এদেশে অনেক প্রধান ভাষা এবং বহু কথ্য ভাষা রয়েছে, কয়েকশো সম্প্রদায়ের মানুষ থাকেন, তেমনই ভারতে ‘ক্রোশে ক্রোশে জল বদলায়, চার ক্রোশে বদলায় বাণী’ লোকোক্তি সকলের মুখে মুখে। আমি কোথাও পড়েছি যে, ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে ১৭ শতাব্দী প্রাচীন একটি ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যা নাকি ভারতের সঙ্গে তৎকালীন সম্পর্কের প্রমাণস্বরূপ। এই গত তিন-চার দিন আগে আমি ওড়িশার কটকে গিয়েছিলাম। সেখানে যে ময়দানে বিশাল জনসভা আয়োজন করা হয়েছিল, সেই ময়দানের নাম ‘বালীযাত্রা’। এর মানে কী? ইন্দোনেশিয়ার বালী যাত্রা। শত শত বছর আগে ওড়িশার মহান নাবিকরা কটক থেকে বেরিয়ে জাভা-সুমাত্রা এবং বোর্ণিও পর্যন্ত আসতেন। এখনও প্রত্যেক বছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ওড়িশায় ‘বালীযাত্রা’ উৎসব অত্যন্ত ধুমধাম করে পালিত হয়। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে গুজরাটেরও পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখন একবার কেউ আমাকে বলেছিলেন যে, দ্বাদশ শতাব্দীর কাছাকাছি সময়ে কচ্ছের মুসলমান নাবিকরা ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের সঙ্গে গুজরাটি ভাষা, খাদ্যাভাসও ইন্দোনেশিয়া পৌঁছেছিল। আমাকে বলা হয়েছে যে, গুজরাটের বিশেষ প্রকার খুচুড়ি ‘বুবুর গুজরাট’ আজও ইন্দোনেশিয়ার মুসলমান পরিবারগুলিতে রান্না করা হয়। আজও এদেশে এমন অনেক শব্দ বযবহৃত হয়, যেগুলি ভারত-ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্কের প্রাচীনত্ব ও ঘনিষ্ঠতার উদাহরণ। যেমন ভাইকে বলা হয় ‘সহোদর’, হত্যাকে ‘মাটি’ রং’কে ‘বর্ণ’ গ্রুপকে ‘সমূহ’ বা ‘সমূও’, উপবাস এবং ‘পুবাস’ ‘বহাসা’ এবং ‘ভাষা’, ‘রুপিয়াহ’ আর ‘রুপয়া’। এরকম শব্দাবলী একত্রিত করতে থাকলে অভিধান তৈরি করা সম্ভব। এই সাম্য স্বাভাবিক। কারণ, এক জায়গায় ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার দূরত্ব মাত্র ৯০ নটিক্যাল মাইল। অর্থাৎ আমরা ৯০ নটিক্যাল মাইল দূরে নই, ৯০ নটিক্যাল মাইল কাছের বাসিন্দা। আমরা প্রতিবেশী।

বন্ধুগণ,

আমাকে বলা হয়েছে যে, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এদেশে নানাভাবে উদযাপিত হয়। এখানে ইন্দোনেশিয়া – তামিল সঙ্গম’-এর সাংস্কৃতিক আয়োজনসমূহ ভিন্ন পরিচিতি অর্জন করেছে। গত বছর জাকার্তা এবং অন্যান্য স্থানে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সফল কর্মসূচিগুলি সম্পর্কেও আমাকে বলা হয়েছে। আমি এও জানতে পেরেছি যে, বিখ্যাত ভারতীয় পারম্পরিক ওষুধ কেন্দ্র, পঞ্চকর্ম-আয়ুর্বেদ সেন্টারগুলির জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিগত কয়েক বছর ধরে সারা পৃথিবীতে প্রতিরোধী ও সংহত স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আপনাদের জন্যও এটি ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতিসমূহের দূত হয়ে ওঠার ভালো সুযোগ।

বন্ধুগণ,

সংযোগবশত, কিছুদিন আগে নেপালের জনকপুরে গিয়ে মা জানকির আশীর্বাদলাভের সুযোগ আমার হয়েছে। আর আজ এখানে ইন্দোনেশিয়ায় রামকথার একটি নতুন ভূমি আর পরিবেশ পেয়েছি। এই ইন্দোনেশিয়ার বৈশিষ্ট্য হ’ল – এদেশের মঞ্চে রামায়ণের অভিনেতারা মুসলমান। আজ কিছুক্ষণ আগেই আমি ও রাষ্ট্রপতি ভিডোডো একটি ঘুড়ি প্রদর্শনী দেখেছি। ইন্দোনেশিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনে রামায়ণ ও মহাভারতের কথা এবং ঐতিহ্যের বিশেষ প্রভাব দেখে আমি খুব খুশি। আস্থা ও সংস্কৃতি কিভাবে একসঙ্গে পল্লবিত ও লালিত-পালিত হতে পারে, এটি তার বড় উদাহরণ।

বন্ধুগণ,

বিগত শতাব্দীতে আমাদের দুটি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই আমরা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক স্তরে পরস্পরের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে রেখেছি। আজ ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। রাজনৈতিক, কৌশলগত কিংবা আর্থিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া একসঙ্গে সমস্যাগুলির মোকাবিলা করছে, সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে। আজ ভারত ও ইন্দোনেশিয়া নিজেদের কৌশলগত সহযোগিতাকে একটি ভিন্ন স্তরে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রাষ্ট্রপতি ভিডোডো এবং আমি আজ একে এক কদম আরও এগিয়ে ‘কম্প্রিহেনশিপ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর মর্যাদা প্রদান করেছি। আমাদের সেনাবাহিনীগুলির মধ্যে সম্মিলিত মহড়া হচ্ছে। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নিয়েও আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়ছে। আজ ইন্দোনেশিয়া ‘আসিয়ান’ দেশগুলির মধ্যে ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক বন্ধু। আজ আমাদের পারস্পরিক বাণিজ্য ১৮ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

বন্ধুগণ,

ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কে আরেকটি বড় ভিত্তি হ’ল আমাদের জনগণ। অর্থাৎ আপনারা। আমাদের দেশে জনসংখ্যার একটি বড় অংশের বয়স ৩৫ বছরের কম। বিগত চার বছরে আমাদের সরকার এই বিপুল সংখ্যক নবীন প্রজন্মের মানুষের প্রাণশক্তিকে সঠিক দিশা এবং উৎসাহ যোগানোর কাজ করেছে। সেজন্য আমার সরকারের কাজের গতি তীব্র এবং কাজের পরিমাণ অনেক ব্যাপক। দেশবাসীর আশা-আকাঙ্খার অনুরূপ সুশাসনে জোর দিয়েছি, ন্যূনতম সরকার, অধিকতম শাসন-এ জোর দিয়েছি। আমরা ‘জনগণ সর্বাগ্রে’ মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে চলেছি। সরকার অনেক তৃণমূল স্তরে গিয়ে অনেক বড় প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমাদের সরকারের জন্য দুর্নীতি মুক্ত, জন-কেন্দ্রিক এবং উন্নয়ন-বান্ধব বাস্তু ব্যবস্ত্যহা গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। ভারতে এখন আর পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য মাসের পর মাস কিংবা সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয় না, দু-তিন দিনের মধ্যে আবেদনকারীর বাড়ির ঠিকানায় পাসপোর্ট পৌঁছে যায়। ইন্দোনেশিয়া সহ ১৬৩টি দেশের মানুষকে ভারতে যাওয়ার জন্য ই-ভিসার পরিষেবা প্রদান করা হয়। এই ই-ভিসা চালু করায় ভারতে পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত কয়েক বছরে ভারত ১,৪০০-র বেশি পুরনো ও পরস্পর বিরোধী আইন বাতিল করা হয়েছে। পণ্য ও পরিষেবা কর জিএসটি ভারতকে একটি উন্নত কর প্রদান ব্যবস্থা, উন্নত শুল্ক ব্যবস্থা উপহার দিয়েছে।

বন্ধুগণ,

আমরা দেশের জনগণের সহজ জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এবং দেশকে আধুনিক পরিকাঠামো প্রদানের জন্য অভিনব পদ্ধতিতে কাজ করছি। আমরা ভারতে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলছি, যা শুধুই স্বচ্ছ নয়, সংবেদনশীলও।

· রেলপথকে ব্রডগেজে রূপন্তরণের গতি দ্বিগুণ হয়েছে।

· রেলপথে বৈদ্যুতিকীকরণের গতি তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

· গ্রামে গ্রামে পাকা সড়ক এবং জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণে আমার সরকার দ্বিগুণ গতিতে কাজ করছে।

· দ্বিগুণ গতিতে পাওয়ার ট্রান্সমিশন লাইন বিছানো হচ্ছে।

· শুধু ৫৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ ছিল। আমরা ইতিমধ্যেই দেশের ১ লক্ষ ১০ হাজারেরও বেশি গ্রামকে অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে যুক্ত করতে পেরেছি।

· আগে শুধু ২৮টি সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পেতেন। এখন ৪০০-রও বেশি প্রকল্পের ক্ষেত্রে সুবিধাভোগীরা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাচ্ছেন।

· চার বছর আগে বাজারে এলইডি বাল্বের দাম ছিল ৩৫০ টাকা, এখন তা ৪০-৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

· চার বছর আগে ভারতে কেবলমাত্র ২টি মোবাইল ফোন নির্মাণ কারখানা ছিল, এখন এর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২০। ফলে, মোবাইল আমদানি বাবদ খরচ কমে অর্ধেক হয়েছে।

ভারতে আজ অনেক নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, মেডিকেল কলেজ, ম্যানেজমেন্ট কলেজ খুলেছে। বিগত আড়াই বছরে ভারতে ৯ হাজারেরও বেশি স্টার্ট আপ নিবন্ধীকৃত হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ স্টার্ট আপ বাস্তু ব্যবস্থা ভারতে গড়ে উঠেছে। আজ সারা পৃথিবীতে ভারতীয় পাসপোর্টের মর্যাদা বেড়েছে। ভারত বিশ্বের শক্তিশালী ব্যবস্থাসমূহের অংশীদার হয়ে উঠেছে। মানবকল্যাণে সৌরশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক সৌরসংঘ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রগণ দেশগুলির মধ্যে ভারত অন্যতম। আমাদের সরকার ভারতকে একবিংশ শতাব্দীর অনুরূপ গড়ে তোলার কাজ করছে। ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০২২ সালের মধ্যে নতুন ভারত গড়ে তুলতে হবে।

বন্ধুগণ,

ইন্দোনেশিয়ার সুখ-দুঃখের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার পরম্পরা আর ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্‌’ মন্ত্রে আপনারা অবিচল। আমাকে বলা হয়েছে যে, সম্প্রতি বালীতে যে আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা উদগিরণের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে আটকে পড়া কয়েক হাজার ভারতীয় পর্যটককে বালী ও সুরাবায়ার মানুষেরা নিরাপদে দেশে ফেরৎ পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। এই মানবিক সাহায্যের জন্য আমি আপনাদের অন্তর থেকে প্রশংসা করছি। ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই মানবিক মূল্যবোধের সংরক্ষণ ভারতীয় ঐতিহ্যের অভিন্ন অঙ্গ। আমরাও নেপালের ভূমিকম্প, শ্রীলঙ্কার বন্যা, যে কোনও প্রতিবেশীর বিপর্যায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে ভারত সবার আগে পা বাড়ায়। পাশাপাশি, বিগত চার বছরে আমরা এরকম নানা বিপর্যয় থেকে ৯০ হাজার ভারতীয়কে উদ্ধার করেছি।

বন্ধুগণ,

ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মিল শুধু নামে নয়, অন্তঃমিলে নয়, ছন্দেও নয়। এই মিল আমাদের সংস্কৃতি ও পরম্পরার, আস্থা ও ব্যবস্থার, গণসম্পর্ক এবং গণতন্ত্রের।

ভাই ও বোনেরা,

ভারত ও ইন্দোনেশিয়া সাংস্কৃতিক বন্ধনে আবদ্ধ। আমাদের সম্পর্ক অনেক প্রাচীন। কিন্তু আমাদের দেখতে হবে, যাতে এই সম্পর্ক শুধুই ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের বিষয় হয়ে থেকে না যায়। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক কিভাবে বৃদ্ধি করা যায়, নিবিড় করা যায় – তা সুনিশ্চিত করতে হবে। আপনাদের মধ্যে অনেকেই কোনও দিন ভারতে যাননি, আবার অনেক প্রবাসী মানুষ অনেক বছর ধরে দেশে যাননি। তাঁদের সবাইকে আমি সপরিবারে সবান্ধবে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানাই। ভারতে এলে বুঝতে পারবেন যে, ভারত কত বদলে গেছে। আমি আপনাদের জানাতে চাই যে, ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকদের ৩০ দিনের ভারত সফরের জন্য বিনামূল্যে ভিসা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কয়েক মাস পর থেকেই আপনারা এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারবেন। আগামী বছর জানুয়ারি মাসে উত্তর প্রদেশের প্রয়াগে মহাকুম্ভমেলা আয়োজিত হবে। এই আস্থার মেলা আপনাদের নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেবে। সেখানে ভারতের সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক পরম্পরার দর্শন ছাড়াও নতুন ভারতের নমুনা দেখতে পাবেন। আপনাদের আমি নতুন ভারতে গড়ে ওঠা নতুন সুযোগগুলির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই। আসুন, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগ নিন, একে আরও পরিবর্তিত করার ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করুন।

আপনারা আমাকে এত সম্মান জানিয়েছেন, সেজন্য আরেকবার আপনাদেরকে ও ইন্দোনেশিয়ার সরকারকে, এখানকার প্রশাসনকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।

তেরীমা কাসিহ কালিয়ান তলহ বর-অদা দী সিনী (এখানে আসার জন্য আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ)

সলামত রমাদান।

CG/SB/SB