Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ইসলামিক ঐতিহ্য  :  বোঝাপড়া এবং নবীকরণ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধানমন্ত্রীরভাষণ  

ইসলামিক ঐতিহ্য  :  বোঝাপড়া এবং নবীকরণ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধানমন্ত্রীরভাষণ  

ইসলামিক ঐতিহ্য  :  বোঝাপড়া এবং নবীকরণ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধানমন্ত্রীরভাষণ  

ইসলামিক ঐতিহ্য  :  বোঝাপড়া এবং নবীকরণ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধানমন্ত্রীরভাষণ  


মহামান্য জর্ডনের রাজা জনাবআবদুল্লা ইবন আল হুসেইন,  

এখানে উপস্হিত ধার্মিকবিদ্বান এবং শীর্ষ নেতৃবৃন্দ,  

সম্মানিত অতিথিবৃন্দ,  

আমি অত্যন্ত আনন্দিত ওগর্বিত এজন্য যে আজ এই সমারোহে ভারতের কিছু বিদ্বান মানুষের মাঝে জর্ডনের মহামান্যনৃপতি এসে পৌঁছেছেন। আপনার সম্পর্কে যতই বলি না কেন, শব্দ কম পড়বে। ইসলামের যথার্থপরিচয় তুলে ধরার জন্য আপনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়,একে শুধু অনুভব করা যায়।  

মহামান্য রাজকুমার গাজিরলেখা যে বইটির কথা একটু আগেই বলা হয়েছে, সেটাও জর্ডনে আপনাদের তত্ত্বাবধানে নানাপ্রচেষ্টার ফল। আশা করি সারা পৃথিবীর যুব সম্প্রদায় এই বইটি পড়বেন। যেমন সহজ, সরলও অনাড়ম্বরভাবে আমার অনুরোধ গ্রহণ করে আপনি এই সম্মেলনে এসেছেন এতে ভারতের প্রতি,এদেশের জনগণের প্রতি আপনার মনোভাব স্পষ্ট প্রতিভাত হয়।  

  

মহামান্যবর,  

আপনার দেশ, আমাদের বন্ধুদেশজর্ডনের নাম আমাদের ইতিহাসগ্রন্হ এবং ধর্মগ্রন্হ সমূহে একটি অক্ষয় নাম। জর্ডন এমনএক পবিত্র ভূমিতে অবস্হিত যেখান থেকে খুদার পয়গাম শ্রদ্ধেয় পয়গম্বরবৃন্দ এবংসন্ন্যাসীদের বানীরূপ নিয়ে সারা পৃথিবীতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।   

মাননীয়েষু,  

আপনি স্বয়ং বিদ্বান এবং ভারতসম্পর্কে ভালভাবে অবহিত। আপনি খুব ভালভাবে জানেন যে বিশ্বের সকল বড় বড় ধর্মভারতের আঙিনায় লালিত পালিত হয়েছে। বিশ্বের সকল ধর্ম ও মত ভারতের মাটিতে অঙ্কুরিতহয়েছে, এখানকার আবহাওয়ায় সেগুলি প্রাণ পেয়েছে, শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়েছে। আড়াই হাজারবছর আগেই ভগবান বুদ্ধ থেকে শুরু করে বিগত শতাব্দীর মহাত্মা গান্ধী পর্যন্ত। শান্তিও ভালবাসার বার্তার সৌরভ ভারতের উদ্যান থেকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। এখানকারবাণীর আলোকবর্তিকা আমাদের অনেক শতাব্দীকাল ধরে সঠিক পথ দেখিয়েছে।   

এই বাণীর শীতলতা মানবতারক্ষতে মলম লাগিয়েছে। দর্শন আর ধর্ম তো বটেই, এদেশের জনমানসে এই অনুভব রয়েছে যে সকলধর্মে একই আলোকবর্তিকা রয়েছে। এদেশের সর্বত্র সেই এক ও অখন্ড সর্বশক্তিমানের আলোরপ্রতিফলন দেখতে পাবেন।  

মাননীয়েষু,  

ভারতের এই রাজধানী দিল্লী,পুরানো ইতিহাসের ইন্দ্রপ্রস্হ, এক সময় সুফিয়ানা কলামগুলির সৃষ্টিভূমি ছিল। মহান সুফিসন্ন্যাসী হজরত নিজামুদ্দীনি আউলিয়া, যাঁর সম্পর্কে কিছুক্ষন আগেই বলা হয়েছে, তাঁরদরগাহ্ এখান থেকে সামান্য দূরেই অবস্হিত। দিল্লী নামটিও  ‘ দেহলীজ ’  শব্দ থেকে উদ্ভূত।   

গঙ্গা ও যমুনার মধ্যবর্তী এই ‘ দেহলীজ ’  ভারতের মিশ্র সংস্কৃতিরগঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতির একটি প্রবেশদ্বার। এখান থেকে ভারতের প্রাচীন দর্শন, সুফিদেরভালবাসা আর মানবতাবাদের মিশ্র পরম্পরা নিখিল বিশ্বে মানবের মৌলিক ঐক্যের বার্তাপ্রদান করেছে।  

মানুষেমানুষে একাত্মতার এই ভাবনা ভারতকে দিয়েছে  ‘ বসুধৈবকুটুম্বকম ’ – এর দর্শন। অর্থা ৎ ,ভারত এবং ভারতীয়গণ গোটা বিশ্বকে একটি পরিবার ভেবে তার সঙ্গে নিজেদের আত্মীয়তাস্হাপন করেছে।  

সাংস্কৃতিকএবং সামাজিক বিবিধতা ও বৈচিত্র্য এবং আমাদের মুক্ত চিন্তা-চেতনা এটাই ভারতের পরিচয়ও বৈশিষ্ট্যও বটে। নিজেদের এই বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রত্যেক ভাতীয় গর্বিত। আমাদেরঐতিহ্যের বৈচিত্র্য আর বিবিধতার ঐতিহ্য নিয়ে জাতি-ধর্ম-ভাষা নির্বিশেষে প্রত্যেকদেশবাসী গর্বিত। তিনি যে ভাষাতেই ঈশ্বরকে ডাকুন না কেন, মন্দিরে, প্রদীপ জ্বালান,কিম্বা মসজিদে সজদা করেন, চার্চে প্রার্থনা করেন কিম্বা গুরুদ্বারে শবদ গান না কেন ! 

মান্যবর,  

এখনভারতে মহাউ ৎ সাহে রঙের উ ৎ সব হোলী পালিত হচ্ছে। কিছুদিন আগেইবৌদ্ধ নববর্ষ শুরু হয়েছে। এ মাসের শেষে গুড ফ্রাইডে আর কয়েক সপ্তাহ পর সারা দেশেবুদ্ধ জয়ন্তী পালিত হবে। তার কিছুদিন পরই আসবে রমজানের পবিত্র মাস, যা শেষ হবেইদ-উল-ফিতরে, যা আমাদের ত্যাগ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আর সামঞ্জস্যকে মনে করিয়েদেবে।   

বন্ধুগণ,  

বিশ্বেরবৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে গণতন্ত্র নিছকই একটি রাজনৈতিক ব্যবস্হা নয়, একেসাম্য, বিবিধতা এবং সামঞ্জস্যের মূল আধার বলা যায়। ভারতীয় গণতন্ত্র হল আমাদের কয়েকসহস্রাব্দি প্রাচীন বিবিধতার উদযাপন। এটি এমন শক্তি যার ভিত্তিতে প্রত্যেকভারতবাসীর মনে নিজেদের গৌরবশালী অতীত নিয়ে গর্ব, বর্তমানের প্রতি বিশ্বাস আরভবিষ্য ৎ  নিয়ে ভরসা রয়েছে।   

বন্ধুগণ,  

আমাদেরপরম্পরায় সমৃদ্ধ বৈচিত্র্য আমাদের সেই সম্বল প্রদান করে যা আজকের অনিশ্চয়তা ওআশঙ্কা ভরা বিশ্বে হিংসা আর দ্বেষের প্রদূষণে ক্লিষ্ট সংসারে, সন্ত্রাসবাদ ওউগ্রবাদের মতো প্রতিস্পর্ধার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি।  

আমাদেরএই ঐতিহ্য এবং মূল্যবোধ, আমাদের সমৃদ্ধ ধর্মশাস্ত্রগুলির বার্তা ও তাদের আদর্শে সেইশক্তি রয়েছে যার ভিত্তিতে আমরা হিংসা ও আতঙ্কবাদের মতো প্রতিস্পর্ধাকে জয় করতেপারি।  

বন্ধুগন, 

মানবতারবিরুদ্ধে নিষ্ঠুর আক্রমণকারীরা বুঝতে পারে না যে হিংসার মাধ্যমে তারা সবচাইতে বেশিক্ষতি করে সেই ধর্মেরই, যে ধর্মের রক্ষক বলে তাঁরা নিজেদের দাবি করে।  

সন্ত্রাসবাদ,উগ্রবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াই তাই কোনও ধর্ম কিম্বা পন্হার বিরুদ্ধে লড়াইনয়। এই লড়াই সেই মানসিকতার বিরুদ্ধে যা আমাদের যুব সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করেঅপরাধ ও হিংসার দিকে ঠেলে দেয়।  

মান্যবর,  

ভারতেআমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সকলের উন্নয়নের প্রচেষ্টায় কাজ করে যাচ্ছি। কারণ দেশেরভাগ্য প্রত্যেক নাগরিকের উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত। দেশ সমৃদ্ধ হলে প্রত্যেকেরসমৃদ্ধির ব্যবস্হা রয়েছে।  

এখানেএত বিপুল সংখ্যায় মানুষের সমগম এই সংকেত দেয় যে সকলের মনে ভবিষ্য ৎ প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখানোর বাসনা কত তীব্র, কত উদ্দীপনময়  !  শুধুযুবসম্প্রদায়ের কর্মসংস্হান নয়, তাদের মানবতাবাদী শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার প্রবলইচ্ছা। যখন প্রত্যেক মুসলমান যুবক-যুবতীর এক হাতে কোরান আর এক হাতে কম্পিউটারথাকবে তখনই উন্নয়ন সম্ভব, তখনই সমৃদ্ধি আসবে।  

কোনওধর্মরই মর্মকথা অমানবিক হতে পারে না। প্রত্যেক ধর্মীয় পন্হা ও সম্প্রদায়, প্রত্যেকপরম্পরা মানবিক মূল্যবোধে প্রচার ও প্রসারের জন্যই গড়ে উঠেছে। সেজন্য, আজসর্বাধিক প্রয়োজন হল আমাদের যুব সম্প্রদায় একদিকে মানবিক ইসলামের সঙ্গে যুক্ত হবেনআর অন্যদিকে আধুনিক বিজ্ঞান আর উন্নয়নের প্রযুক্তি ব্যবহারের জ্ঞানসম্পন্ন হবেন।  

মান্যবর,  

আপনার প্রদর্শিত পথে এইউদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে প্রতিটি নৃশংস অগ্নিকান্ডকে নির্বাপিত করা যায়। আনন্দেরবিষয় হল যে, আম্মান ঘোষনায় যাঁরা এই সই করেছেন তাঁদের মধ্যে দুজন আজ আমাদের মধ্যেরয়েছেন।   

আমরা চেষ্টা করছি যাতেআপনাদের মতো প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে মিলে, জর্ডনের মতো বন্ধুদের সঙ্গে এবং সকলসম্প্রদায়ের, ধর্মের নেতাদের সহযোগিতায় একটি এমন দায়িত্ববোধ, এমন সচেতনতা জেগেউঠবে যা সমগ্র মানবতাকে পথ দেখাবে।  

এ সম্পর্কে আমাদের সমস্তপ্রচেষ্টায় আপনাদের উপস্হিতি আরও শক্তি পাবে। ডি-রাডিক্যালিজেশন নিয়ে আপনারা যেকাজ করেছেন, এ ধরণের প্রচেষ্টায় ভারত আপনাদের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটতে চাইবে।এ বিষয়ে আমাদের আশ্বস্ত করতে ভারতের সহস্রাধিক উলেমা, ধার্মিক বিদ্বান এবং নেতারাআজ এখানে উপস্হিত হয়েছেন। তাঁরা আপনাদের ভাবনাচিন্তা সম্পর্কে শুনতে এখানে এসেছেন।আপনাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা যেমন উৎসাহিত হবো, তেমনি নিজেদের পথের দিশা পাবো। আপনিআমার আমন্ত্রণ স্বীকার করে এখানে আসায় অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।   

হজরত, ইস জলসে মেঁ শিরত কেলিয়ে ম্যাঁয় আপকো ভি বহুত শুক্রিয়া অদা করতা হুঁ।  

অনেক অনেক ধন্যবাদ। 

     

PG/SB /NS/