Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


জয় জওয়ান, জয় কিষাণ

জয় জওয়ান, জয় কিষাণ

জয় জওয়ান, জয় কিষাণ

 

মঞ্চে উপস্থিত সমস্ত সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যায় গোরক্ষপুরে আগত আমার প্রিয় কৃষক ভাই ও বোনেরা। প্রযুক্তির মাধ্যমে সারা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যাঁরা এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, সমস্ত কৃষক ভাই-বোনেদের হৃদয় থেকে অভিবাদন জানাই।

 

আপনারা শুনলে আনন্দিত হবেন যে, আজ গোরক্ষপুরের মাটি থেকে এই পবিত্র অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতের ২ লক্ষ গ্রামের কমন সার্ভিস সেন্টারে যে হাজার হাজার কৃষকরা এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তাঁদের সকলকে সাক্ষী রেখে একে ঐতিহাসিক উদ্বোধন করতে চলেছি। আজকের দিনটিও এভাবে অসাধারণ হয়ে উঠছে। লাল বাহাদুর শাস্ত্রী বলেছিলেন, “জয় জওয়ান, জয় কিষাণ।” এত বছর পর সেই মন্ত্রকে কৃষকের চাষের খেত, তাঁদের বাড়ি, তাঁদের পকেট পর্যন্ত বাস্তবায়িত করার কাজ এই পবিত্র দিবসে শুরু করা হচ্ছে।

 

স্বাধীনতার পর কৃষকদের জন্য সবথেকে বড় প্রকল্প আজ উত্তরপ্রদেশের পবিত্র মাটি থেকে দেশের কোটি কোটি কৃষক ভাই-বোনদের আশীর্বাদে শুরু হতে চলেছে। গোরক্ষপুরের মানুষ ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি’ সূচনার সাক্ষী হতে চলেছেন বলে আমি তাঁদেরকে দ্বিগুণ শুভেচ্ছা জানাই।

 

ভাই ও বোনেরা, আজই গোরক্ষপুর তথা পূর্বাঞ্চলে উন্নয়নের জন্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত কিংবা নির্মীয়মান প্রকল্পের উদ্বোধন তথা শিলান্যাসও করা হয়েছে। স্বাস্থ্য, সড়ক, রেল, কর্মসংস্থান, রান্নার গ্যাস সংক্রান্ত এই সকল প্রকল্প এই অঞ্চলের জীবনকে সহজ করে তুলবে। সেজন্য আমি গোরক্ষপুর সহ পূর্বাঞ্চলের জনগণকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

 

ভাই ও বোনেরা, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির শুভ সূচনা উপলক্ষে আমি ভারতের সমস্ত কৃষক পরিবারকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। তাছাড়া, কোটি কোটি পশুপালক, দুগ্ধ ব্যবসায়ী এবং মৎস্যচাষীদেরও কিষাণ ক্রেডিট কার্ড প্রদান করা হবে বলে তাঁদেরকেও অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

 

বন্ধুগণ, কৃষকদের জন্য পূর্ববর্তী সরকারগুলি অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কাগজে-কলমে অনেক প্রকল্প রচিত হয়েছে। কিন্তু কৃষকদের ক্ষমতায়নের জন্য তাঁদের ছোট ছোট চাহিদা পূরণের জন্যও যুগ যুগ ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। কিন্তু সদিচ্ছা না থাকায় তাঁরা কৃষকদের জন্য কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।

 

ভাই ও বোনেরা, এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য আপনারা ২০১৪ সালে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বে এনডিএ সরকারকে কেন্দ্রে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমরা কৃষকদের ছোট ছোট সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে তাঁদের সমস্ত প্রতিকূলতা দূরীকরণের কাজ করেছি। কৃষকদের সম্পূর্ণ ক্ষমতায়নের জন্য দৃঢ় সঙ্কল্প নিয়ে আমরা কাজ করে গিয়েছি। আমাদের সরকারের সৎ প্রচেষ্টার মাধ্যমে ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছি।

 

বন্ধুগণ, বিগত সাড়ে চার বছরে আমরা দ্রুতগতিতে কাজ করে আজ উত্তরপ্রদেশের পবিত্র মাটি থেকে পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পকে দেশের কোটি কোটি কৃষকের চরণে অর্পণ করার মতো অবস্থায় এসেছি। এখন থেকে কয়েক মিনিট আগেই দেশের ১ কোটি ১ লক্ষ কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি এই প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা হস্তান্তর করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আপনারা যে ঘটনাকে বিপুল করতালি এবং গান-বাজনার মাধ্যমে স্বাগত জানিয়েছেন।

 

আমাকে বলা হয়েছে, দেশের ২১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কৃষকরা এর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। তাঁদের অ্যাকাউন্টে আজ মোটি ২,০২১ কোটি টাকা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশের বাকি কৃষকদের, অর্থাৎ, মোট ১২ কোটি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির প্রথম কিস্তির ২,০০০ টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে।

 

ভাই ও বোনেরা, এই শুরু হল। এখন থেকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি বছর ৫ একর কিংবা তার কম জমির মালিক ১২ কোটি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৭৫ হাজার কোটি টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। কৃষকরা এই টাকার মাধ্যমে বীজ, সার, ঔষধ কিনতে পারবেন, বিদ্যুতের বিল দিতে পারবেন এবং কৃষি সংক্রান্ত আরও অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।

 

কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি বছর আপনাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ কিস্তিতে মোট ৬,০০০ টাকা সরাসরি জমা করবে। এই প্রকল্পে রাজ্য সরকারগুলিকে কোন টাকা দিতে হবে না। শুধু সততার সঙ্গে নিজের নিজের রাজ্যের যথাযথ তালিকা আমাদের পৌঁছে দিতে হবে। যত দ্রুত এই তালিকা আমাদের হাতে আসবে, তত দ্রুত সেই রাজ্যের কৃষকরা টাকা পাবেন। আমি উত্তরপ্রদেশ, বিহার, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ডের মতো যে রাজ্য সরকারগুলি এই তালিকা তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তাদেরকে হৃদয় থেকে অভিনন্দন জানাই। কিন্তু কয়েকটি রাজ্য সরকারের এখনও ঘুম ভাঙেনি। তারা এই বিষয় নিয়ে রাজনীতি করতে চান। আমি তাদেরকে সতর্ক করতে চাই, আপনারা সঠিক সময়ে রাজ্যের কৃষকদের তালিকা আমাদের কাছে পৌঁছে দেননি বলে যে কৃষকরা বঞ্চিত থেকে যাবেন তাঁদের অভিশাপ আপনাদের রাজনীতিকে তছনছ করে দেবে। আপনারা বিরোধী দল হতে পারেন, কিন্তু দয়া করে কৃষকদের প্রাপ্য নিয়ে রাজনীতি করবেন না। তাঁদের সঙ্গে ছেলেখেলা করবেন না।

 

ভাই ও বোনেরা, আমি আপনাদের বলতে চাই যে এই প্রকল্প নিয়ে কোন বিভ্রান্তির শিকার হবেন না। এই প্রকল্পের কথা শুনে আমাদের বিরোধী জোটের বন্ধুদের যে মুখ চুন হয়ে গিয়েছিল সেটা আপনারা সংসদ অধিবেশনের সরাসরি সম্প্রচার থেকে দেখেছেন। সেজন্য তারা এখন মিথ্যা বলা, গুজব রটানোর মতো জন্মগত স্বভাব অনুযায়ী আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তারা বলছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার ২,০০০ করে তিন কিস্তিতে টাকা দিলেও এক বছর পর সেই টাকা ফেরৎ নিয়ে নেবে।

 

আমার কৃষক ভাই ও বোনেরা, আমি আপনাদের স্পষ্টভাবে বলছি, যে অর্থ আপনাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হচ্ছে, সেটা আপনাদের অধিকার। মোদী কিংবা কোন রাজ্য সরকার – কেউই ফেরৎ নিতে পারবে না। সেজন্য যারা এ ধরণের গুজব রটান, তাদেরকে উপযুক্ত জবাব দিয়ে দেবেন।

 

আমার কৃষক ভাই ও বোনেরা, কেন্দ্রে যখন এরকম কৃষক-বান্ধব সরকার এসেছে, তখনই এ ধরণের প্রকল্প রচিত হয়েছে এবং তা বাস্তবায়িতও হয়েছে। অসম্ভব সম্ভব হয়েছে। সেজন্য আমি চাই যে আপনারা সত্যিটা জানুন এবং গ্রামে গ্রামে প্রত্যেক কৃষককে বলুন – যারা এ ধরণের গুজব রটান, তাদেরকে উপযুক্ত জবাব দিয়ে দেবেন। তাঁরা ১০ বছরে একবার ভোটের আগে ঋণ মকুবের হাওয়া ওঠাতেন কিন্তু তারপর ভুলে যেতেন। কৃষকদের চোখে ধূলো দিয়ে তারা নির্বাচনী বৈতরণী পার হতেন। সত্যিকারের কৃষক সেবা কাকে বলে, সেটা মোদী করে দেখাবে। আমরা শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিইনি, সংসদেও বলেছি, বাজেটেও অর্থ বরাদ্দ করেছি, এটাই আমাদের সততা।

 

আপনারা মনে করুন, ২০০৮ সালে দেশের ১২-১৩ লক্ষ কৃষকদের মোট ঋণ ছিল ৬ লক্ষ কোটি টাকা। নির্বাচনের আগে ঋণ মকুবের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তথাকথিত কৃষক-দরদী সরকার ২০০৯-এ ক্ষমতায় আসে। আর তারপর, ৬ লক্ষ কোটি টাকার জায়গায় মাত্র ৫২ হাজার কোটি টাকা মকুব করে। মাত্র ২-৩ কোটি উচ্চবিত্ত কৃষককে ঐ ৫২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৩৫ লক্ষ এমন কৃষক ছিলেন যাঁদের কোন অস্তিত্বই ছিল না। কতবড় দুর্নীতি ভাবুন! তাদেরকে কি আপনারা ক্ষমা করবেন?

 

ভাই ও বোনেরা, বাস্তবে তারা ১০ বছরে ৫২ হাজার কোটি টাকা ঋণ মকুব করেছিলেন। আর আমরা বর্তমান প্রকল্পে প্রতি বছর তিন কিস্তিতে মোট ৭৫ হাজার কোটি টাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পাঠাব। এভাবে আমরা ১০ বছরে মোট ৭ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা কৃষকদের দেব। মাঝে কোন দালালকে ঢুকতে দেব না। কোন স্বজনপোষণ, জাতপাত ও ধর্মকে প্রশ্রয় দেব না। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ৫ একর কিংবা তার থেকে কম জমিসম্পন্ন কৃষকরা সকলেই সরাসরি এই প্রকল্পের দ্বারা উপকৃত হবেন।

 

বন্ধুগণ, আমাদের জন্য পূর্ববর্তীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ঋণ মকুবের সিদ্ধান্ত খুবই সহজ ব্যাপার ছিল। কৃষকদের সামনে গাজর ঝুলিয়ে আমরাও নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারতাম। কিন্তু মোদী এ ধরণের পাপ করে না, আর এ ধরণের পাপ করার কথা ভাবতেও পারে না।

 

আপনারা ভাবুন, আমাদের সরকার প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিচাঁই যোজনা বাবদ প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করছে যাতে দেশে ৩০-৪০ বছর ধরে অসম্পূর্ণ সমস্ত সেচ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। আমরা সারা দেশের জন্য ৯৯টি এমন অসম্পূর্ণ প্রকল্প খুঁজে বের করে কাজ করেছি। এর মধ্যে ৭০টির বেশি প্রায় সম্পূর্ণ হওয়ার পথে। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে দেশে লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসছে যার ফলে, আগামী কয়েক প্রজন্ম ধরে কৃষকরা লাভবান হবেন।

 

বন্ধুগণ, এই সেচ প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের জন্য কেউ আমাদের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলন করেনি। কোন চাপ ছিল না। এগুলি সম্পূর্ণ করার কাজে হাত না দিয়ে, এই টাকা দিয়ে ঋণ মকুবের মতো জনমোহিনী পথ বেছে নেওয়া খুবই সহজ ছিল। কিন্তু বাস্তব এটাই যে ঋণ মকুব করলে কংগ্রেসের অনুগত কিছু ধনী কৃষক লাভবান হতেন। কিন্তু আমার কোটি কোটি গরিব কৃষক বন্ধুদের কোন লাভ হত না যাঁরা মহাজনের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুদে টাকা ধার নিয়ে চাষের কাজ করেছিলেন।

 

আমার কৃষক ভাই ও বোনেরা, আপনাদের নতুন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যত টাকা গরিব কৃষকদের জন্য পাঠায়, তা সরাসরি তাঁর অ্যাকাউন্টে পৌঁছয়। আগে, কেন্দ্র থেকে ১ টাকা পাঠালে গরিবদের কাছে মাত্র ১৫ পয়সা পৌঁছত, মাঝে ৮৫ পয়সা নানা পর্যায়ের দালালরা মেরে দিত।

 

পিএম-কিষাণ সম্মান নিধির ক্ষেত্রেও আমরা দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি যাতে কৃষক ভাই-বোনদের কেউ বঞ্চিত না করতে পারে। আপনাদের আধার কার্ড না থাকলে আবেদন করে দ্রুত বানিয়ে নিন। ওই আধার নথিভুক্তিকরণের নম্বরই যথেষ্ট। এমনিতে সকল কৃষক ভাইয়েরই তো ব্যাঙ্কে জন ধন অ্যাকাউন্ট রয়েছে। যদি না থাকে তাহলে তাড়াতাড়ি খুলে নিন। কারণ, এই টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই পাঠানো হবে। কোন দালালের হাতে পড়তে দেব না।

 

বন্ধুগণ, সততার পথ এটাই। প্রত্যেক কৃষকের নাম তালিকায় থাকতে হবে। তাঁদের জন্যই এই প্রকল্প রচিত হয়েছে এবং তা বাস্তবায়িতও হয়েছে। অসম্ভব সম্ভব হয়েছে। সেজন্য আমি চাই যে আপনারা সত্যিটা জানুন এবং গ্রামে গ্রামে প্রত্যেক কৃষককে বলুন – প্রত্যেক কৃষকের নাম তালিকায় থাকতে হবে। সেজন্য এই তালিকা যেন প্রত্যেক পঞ্চায়েতে প্রদর্শিত হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। আপনাদের নাম সেই তালিকায় না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্লক অফিস কিংবা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

 

ভাই ও বোনেরা, আমাদের সরকার একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ‘বীজ থেকে বাজার’ পর্যন্ত সমস্ত পর্যায়ে কৃষক-বান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। অসম্ভবকে সম্ভব করছে। বিগত সাড়ে চার বছরে দুই ধাপে ১৭ কোটিরও বেশি মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ইউরিয়ার ১০০ শতাংশ নিম কোটিং-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা সার চুরি বন্ধ করতে পেরেছি। কৃষি উন্নয়নের জন্য আমরা গবেষণাকে উৎসাহিত করেছি।

 

বন্ধুগণ, চাষের খরচ কমাতে এবং কৃষকদের ফলন বৃদ্ধি ও তার সঠিক মূল্য যাতে কৃষকরা পান, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের সরকার কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণের বহু পুরনো দাবি অনুসারে কাজ করেছি। রবি ও খরিফ শস্যের ২২টি ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দেড়গুণেরও বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

 

ভাই ও বোনেরা, আজ যাঁরা কৃষকের নামে কুম্ভিরাশ্রু বর্ষণ করছেন, ২০০৭ সাল থেকে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের ফাইল তাঁরাই চেপে রেখেছিলেন। তখন যদি তাঁরা সিদ্ধান্ত নিতেন তাহলে আমার দেশের কৃষকদের মাথায় এত ঋণের বোঝা থাকত না। তাঁদের এই পাপ, এই বেইমানি দেশের কৃষকদের সর্বনাশ করেছে।

 

ভাই ও বোনেরা, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা চালু করেছি। চাষের খরচ কমাতে এবং কৃষকদের ফলন বৃদ্ধি ও তার সঠিক মূল্য যাতে কৃষকরা পান, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের সরকার কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণের বহু পুরনো দাবি পূরণের পাশাপাশি ই-ন্যাম মঞ্চের মাধ্যমে দেশের হাজার হাজার বাজারকে একসূত্রে বাঁধার কাজ করেছি। ফলে কৃষকরা সরাসরি দেশের যে কোন বাজারে অনলাইনের মাধ্যমে তাঁদের উৎপাদিত শস্য বিক্রির বিকল্প পেয়েছেন। এক্ষেত্রেও দালালরা দামের ক্ষেত্রে কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না। আগামী দু’এক বছরের মধ্যে এই ব্যবস্থা আরও অনেক বিস্তৃত হবে।

 

বন্ধুগণ, কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে সরকার কৃষির পারম্পরিক পদ্ধতি ছাড়াও অন্যান্য বিকল্পকে উৎসাহ দিচ্ছে। মৌ-পালন, জৈব চাষ, রেশম উৎপাদন ও পশুপালন এবং মৎস্যচাষের ক্ষেত্রেও ব্যাঙ্ক থেকে ঋণদানের প্রক্রিয়াকে সহজ করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, গত বছর ১১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি কৃষিঋণ প্রদান করা হয়েছে।

 

বন্ধুগণ, ব্যাঙ্ক থেকে ঋণদানের প্রক্রিয়াকে সহজ করতে আমরা একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগে কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা কোনরকম গ্যারান্টি ছাড়া মাত্র ১ লক্ষ টাকা ঋণ পেতে পারতেন। আমরা সেই সীমা বাড়িয়ে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা করে দিয়েছি।

 

আজ থেকে আমাদের দুগ্ধ উৎপাদক ও মৎস্যচাষীরাও এই কিষাণ ক্রেডিট কার্ড পরিষেবা দ্বারা লাভবান হবেন। যাঁদের কিষাণ ক্রেডিট কার্ড নেই, তাঁদেরকে আলাদা করে পশুপালন এবং মৎস্যচাষের জন্য ২ লক্ষ টাকা সীমার কিষাণ ক্রেডিট কার্ড ব্যাঙ্ক থেকে দেওয়া হবে। ফলে, উভয় ক্ষেত্রে অর্থের যোগান বৃদ্ধি পাবে, আর আমাদের পশুপালক ও মৎস্যচাষী ভাই-বোনেদের মহাজনের কাছ থেকে বেশি সুদে ঋণ নিতে হবে না। মৎস্যচাষ সংক্রান্ত সকল বিষয়কে গুরুত্ব দিতে আমরা এবারের বাজেটে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ খোলার কথা ঘোষণা করেছি।

 

আপনারা হয়তো জানেন যে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে জনজাতিদের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও স্বতন্ত্র মন্ত্রক ছিল না। মাননীয় অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন সরকারই প্রথম জনজাতিদের উন্নয়নে স্বতন্ত্র মন্ত্রক গড়ে তুলেছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নের জন্যও কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও স্বতন্ত্র মন্ত্রক ছিল না। এক্ষেত্রেও মাননীয় অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথম উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে স্বতন্ত্র মন্ত্রক গড়ে তুলেছিল। আর এবার ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার কেন্দ্রের দায়িত্ব পেয়ে সমুদ্র ও নদীতটে বসবাসকারী আমাদের মৎস্যচাষী ভাই-বোনেদের স্বার্থ রক্ষায় মৎস্যচাষ সংক্রান্ত সকল বিষয়কে গুরুত্ব দিতে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ খোলার কথা ঘোষণা করেছি।

 

বন্ধুগণ, পাশাপাশি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে কৃষকদের রক্ষার জন্য কৃষিঋণের ছাড়ের সময়সীমা ১ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩ বছর, আর এখন ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করে দিয়েছি। সেজন্য এখন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর কৃষকদের কারোর কাছে হাত পাততে হবে না। আর, ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সুদের হারেও ৩ শতাংশ অতিরিক্ত ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে।

 

ভাই ও বোনেরা, গোরক্ষপুর তথা পূর্বাঞ্চলের পশুপালক, দুগ্ধ উৎপাদকদের দ্বিগুণ শুভেচ্ছা জানাই। কারণ, আজই এখানে দিনে ১ লক্ষ লিটার উৎপাদনক্ষম নতুন ডেয়ারির উদ্বোধন করা হয়েছে। এর ফলে, ৫০ হাজার দুগ্ধ উৎপাদনকারী সরাসরি লাভবান হবেন। আর অপ্রত্যক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

 

ভাই ও বোনেরা, পশুপালকদের জন্য আমাদের সরকার গত বছর রাষ্ট্রীয় গোকুল মিশন চালু করেছে। এর মাধ্যমে দেশি গরু ও মোষ পালনকে উৎসাহ যোগানো হয়েছে। এ বছর সেই প্রকল্প সম্প্রসারিত করে রাষ্ট্রীয় কামধেনু আয়োগ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আয়োগ পশুধন সংক্রান্ত আইনগুলির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখবে, আর দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির অনুকূল করে তুলতে সরল আইন প্রণয়নের পরামর্শ দেবে। এই আয়োগের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল গো-মাতার কল্যাণ এবং সারা দেশে যত গোশালা এবং গো-সদন রয়েছে, সেগুলির তথ্য সংগ্রহ করে তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা।

 

বন্ধুগণ, এ ধরণের আরেকটি বড় প্রকল্প আমরা এই সপ্তাহেই মঞ্জুর করেছি। সেটি হল – কিষাণ উর্জা সুরক্ষা এবং উত্থান অভিযান। এর মাধ্যমে ১৭ লক্ষেরও বেশি কৃষক সূর্যালোক দ্বারা পরিচালিত পাম্পের মাধ্যমে সেচের কাজ করতে পারবেন। তাঁদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ হবে, ডিজেলের খরচও বাঁচবে।

 

তাছাড়া আমরা ১০ লক্ষ সৌর পাম্পকে বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করে কৃষকদের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করছি। তাঁরা বিনামূল্যে সেচের কাজের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরকারকে বিক্রি করে আয় বৃদ্ধি করতে পারবেন। ঊষর জমির ক্ষেত্রে ৫০০ কিলোওয়াট থেকে শুরু করে ২ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর প্রকল্প স্থাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। এভাবে দেশের অন্নদাতাদের শক্তিদাতায় রূপান্তরিত করার ব্যাপক অভিযান গড়ে তোলা হবে। এখন আমাদের কৃষকরা দেশকে শুধু খাদ্য যোগান, এবার তাঁরা বিদ্যুতও যোগাবেন।

 

বন্ধুগণ, আমাদের সরকার জনজাতি ভাই-বোনেদের আয় বৃদ্ধির জন্য দায়বদ্ধ। সেজন্য ‘বন ধন যোজনা’ চালু করেছি। অরণ্য সম্পদ বিক্রি করে যাতে তাঁরা বেশি মূল্য পেতে পারেন, তা সুনিশ্চিত করতে বন ধন কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। বনসম্পদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বিগত সাড়ে চার বছরে তিনবার বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বছর ডিসেম্বর মাসেও ২৩টি বনসম্পদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাড়ে চার বছর আগে যেখানে মাত্র ১০টি বনসম্পদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পাওয়া যেত, সেখানে আমরা জনজাতি কৃষকদের স্বার্থে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ৫০টি করে দিয়েছি।

 

আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা, স্বাধীনতার পর এত বছর ধরে দেশের আইনে বাঁশকে গাছ হিসেবে গণ্য করা হত বলে আপনাদের বাঁশচাষ ও বিক্রির ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হত। আমরা জনজাতি বন্ধুদের স্বার্থে আমরা আইন সংস্কার করে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাঁশকে ঘাস হিসেবে গণ্য করার ব্যবস্থা করায়, এখন আপনাদের বাঁশ ও বাঁশজাত আসবাবপত্র বিপণনের ক্ষেত্রে আর কোনও সমস্যা হবে না।

 

বন্ধুগণ, চাষের পাশাপাশি সরকার গ্রাম ও কৃষকদের সকল প্রয়োজন মেটানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে গোরক্ষপুরে সার কারখানার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। অদূর ভবিষ্যতেই এই সার কারখানা আরেকবার এই শহরের গর্ব হয়ে উঠবে। কৃষকরা পর্যাপ্ত পরিমাণে ইউরিয়া পাবেন। তাঁদের সাশ্রয়ও হবে।

 

ভাই ও বোনেরা, যেখানে আজ এই সভা হচ্ছে, এই পূর্বাঞ্চল একটি অভূতপূর্ব পরিবর্তনের স্রোতে এগিয়ে চলেছে। শিল্পোদ্যোগ বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবায় পরিবর্তন স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। সবচাইতে বেশি উন্নতি হয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবায়। সম্প্রতি প্রাপ্ত একটি রিপোর্ট অনুসারে, গত বছরের তুলনায় এ বছর এনসেফেলাইটিসের প্রকোপ থেকে অনেক বেশি জীবন রক্ষা করা গেছে।

 

বন্ধুগণ, পূর্বাঞ্চলের স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও মজবুত করার জন্য আজও অনেক ক’টি প্রকল্প উদ্বোধন কিংবা শিলান্যাস করা হয়েছে। বাবা রাঘব দাস মেডিকেল কলেজে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়েছে। গোরক্ষপুর এইম্‌স-এর ওপিডি ভবনটিও আজ জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছে। আজ থেকেই এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা পরিষেবা শুরু হবে।

 

পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিক করার অভিযানের অন্তর্গত আজ গোরক্ষপুর ছাউনি, কাপ্তানগঞ্জ এবং বাল্মিকীনগর সেকশনে বৈদ্যুতিকীকরণ করা হয়েছে। এখন থেকে এই রেলপথ দিয়ে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন যাতায়াত করবে। ফলে, পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে। বারাণসীর পাশাপাশি, এখন এখানকার ইলেক্ট্রিক লোকো শেড থেকেও ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিন নির্মাণ করা যাবে। ফলে, অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অনেক সহায়ক শিল্পও গড়ে উঠবে।

 

বন্ধুগণ, আমাদের সরকার গোরক্ষপুর সহ গোটা পূর্বাঞ্চলে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং গ্যাস-ভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী উর্জা গঙ্গা যোজনার মাধ্যমে এখানকার সার কারখানায় এবং বাড়িতে বাড়িতে নলের মাধ্যমে গ্যাস পৌঁছনোর প্রকল্প অত্যন্ত লাভজনক হয়েছে। আজ ৯ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে আরেকটি গ্যাস প্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছে।

 

ভাই ও বোনেরা, এই সকল প্রকল্প ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর জলজ্যান্ত উদাহরণ। এই মন্ত্র নিয়ে বিগত সাড়ে চার বছরে কেন্দ্রীয় সরকার সারা দেশে জনকল্যাণ ও উন্নয়নের একটি নতুন ধারা গড়ে তুলেছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনা, সৌভাগ্য যোজনা ও আয়ুষ্মান যোজনার মতো অসংখ্য জনপ্রিয় প্রকল্প আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের স্বার্থে কাজ করে চলেছে। কারোর পরামর্শে কোন সুবিধাভোগীর নাম যুক্ত করা কিংবা কেটে দেওয়ার পরম্পরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জন ধন, আধার এবং মোবাইলের মতো অত্যাধুনিক ব্যবস্থাগুলির মাধ্যমে দালাল ও দুর্নীতিবাজদের ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেজন্য আজ বিশ্বের সমস্ত সমীক্ষা এজেন্সিগুলির মতে ভারত দ্রুতগতিতে দারিদ্রসীমার নিচ থেকে মানুষকে ওপরে তুলে আনতে পারছে।

 

বন্ধুগণ, এসব কিছু আমরা কিভাবে পারছি? এর কৃতিত্ব মোদীর নয়। এর কৃতিত্ব উত্তরপ্রদেশের জনগণ, আপনাদের মতো ভাই-বোনেদের যাঁরা ২০১৪ সালে সংখ্যাধিক্যের ভোটে কেন্দ্রে একটি মজবুত সরকার গড়ে তোলার চেষ্টা করে সফল হয়েছে। আপনাদের জোরেই আমাদের সরকার বড় বড় দুর্নীতিগ্রস্তদের মাত করে দিতে পারছে, কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে। এবারেও আপনাদের আশীর্বাদ জারি রাখুন, আর আমাদের এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে শক্তি যোগান। এই আশা রেখে দেশের সকল কৃষক ভাই-বোনদের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধনের জন্য মাথানত করে প্রণাম জানিয়ে আমার বক্তব্য সম্পূর্ণ করছি। দেশের ১২ কোটি কৃষকের মধ্যে প্রত্যেকেই যেন এই কিষাণ সম্মান নিধি দ্বারা উপকৃত হন, সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি। এই পরিষেবা যেন আপনারা প্রত্যেক বছর পেতে পারেন এই আশা নিয়ে আরেকবার আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।

 

আমার সঙ্গে মুষ্টিবদ্ধ হাত ওপরে তুলে দৃপ্ত কন্ঠে বলুন –

ভারত মাতার জয় !

ভারত মাতার জয়!

ভারত মাতার জয়!

 

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

 

CG/SB/DM/