Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

উত্তরপ্রদেশের বুন্দেলখান্ড সহ বিভিন্ন অঞ্চলের খরা পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর পর্যালোচনা বৈঠক

উত্তরপ্রদেশের বুন্দেলখান্ড সহ বিভিন্ন অঞ্চলের খরা পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর পর্যালোচনা বৈঠক


উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা ও জলসঙ্কট পরিস্থিতির মোকাবিলায় সম্ভাব্য ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে শনিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী অখিলেশ যাদবের সঙ্গে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হলেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্র ও রাজ্যস্তরের পদস্থ আধিকারিকবৃন্দ।

বৈঠকের সূচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, খরা পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবং জলসঙ্কট নিরসনেকেন্দ্র ও রাজ্যকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে। খরা রোধে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি।

জল সংরক্ষণে এবং শুকিয়ে যাওয়া জলাধারগুলির জন্য জলের উৎস সন্ধানে দূরসংবেদী উপগ্রহ ব্যবস্থা ও পরিকল্পনার মতো প্রযুক্তিগত পন্থা-পদ্ধতির আশ্রয় গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শস্য উৎপাদন, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, জলের সুদক্ষ ব্যবহার, সমষ্টির অংশগ্রহণ ইত্যাদির ওপর আমাদের এখন আরও বেশি করে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন উন্নততর জল সংরক্ষণের লক্ষ্যে। গ্রামের মহিলাদেরও এই কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহরাঞ্চলের নিকাশি ও বর্জ্য জলকে পরিশোধনের মাধ্যমে সন্নিহিত গ্রামগুলির কৃষিকাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ট্যাঙ্কারের সাহায্যে খরা কবলিত এলাকায় জলের যোগানের ওপর বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

প্রাক্‌-বর্ষার মরশুমে জল সংরক্ষণের কাজে কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব সে সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা হয় এদিনের বৈঠকে। জলকে কাদামুক্ত করা, শুকিয়ে যাওয়া নদীগুলির জন্য জলের উৎস সন্ধান, বাঁধ সহ অন্যান্য জল মজুত ব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়া – এ সমস্ত বিষয়ও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয় এদিনের বৈঠকে।

খরাজনিত পরিস্থিতির মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের দুর্দশা লাঘবে রাজ্য সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন শ্রী অখিলেশ যাদব। পানীয় জলের ব্যবস্থা, বুন্দেলখান্ডে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের জন্য খাদ্যের যোগান, রুজি-রোজগারের ব্যবস্থা, গবাদি পশুর জন্য খাদ্য ও জলের যোগান এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থা সম্পর্কে বৈঠকে বক্তব্য রাখেন তিনি। ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’র রূপায়ণ সফল করে তুলতে তাঁর রাজ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে যে সমস্ত কাজ করা হচ্ছে, তারও একটি প্রামাণ্য চিত্র তিনি তুলে ধরেন এদিনের বৈঠকে।

উত্তরপ্রদেশে পুকুর, জলাশয় এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত নালা সহ ৭৮ হাজার জলাশয়ের পুনরুদ্ধার ও পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার যে সমস্ত উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা এদিন তুলে ধরা হয় পর্যালোচনা বৈঠকে। ১ লক্ষ নতুন জলাশয়ে জলের উৎস সন্ধানে রাজ্যের প্রচেষ্টা সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয় পর্যালোচনাকালে। ‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ আইন’ এবং ‘প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিচাঁই যোজনা’র আওতায় প্রাপ্ত অর্থের সদ্ব্যবহারের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচিগুলি রূপায়িত হচ্ছে বলে জানানো হয়।

এই পর্যালোচনা বৈঠকের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শ্রী অখিলেশ যাদব বলেন, বুন্দেলখান্ড সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় খরা ও জলসঙ্কট পরিস্থিতির মোকাবিলায় এ ধরনের উদ্যোগকে তাঁর রাজ্য আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়।

সঙ্কটের মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য একযোগে কাজ করার সঙ্কল্প নেয় এদিনের পর্যালোচনা বৈঠকে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলের আওতায় উত্তরপ্রদেশকে দেওয়া হয়েছে ৯৩৪ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে রাজ্য বিপর্যয় ত্রাণ তহবিলের আওতায় কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত ৫০৬ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে রাজ্য বিপর্যয় ত্রাণ তহবিলের আওতায় কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে আরও ২৬৫ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা।

২০১৫-১৬-র রবি মরশুমে আর্থিক সহায়তাদান সম্পর্কিতএকটি স্মারকলিপি গত ৫ মে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পেশ করা হয় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। এর প্রক্রিয়াকরণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে অবিলম্বে আর্থিক সহায়তা মঞ্জুরির নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বুন্দেলখান্ডের সমস্যা ও সঙ্কটেরমোকাবিলায় আর্থিক সহায়তাদান সম্পর্কিত একটি রূপরেখা ইতিমধ্যেই স্থির করা হয়েছে নিতি আয়োগের পক্ষ থেকে।

PG/SKD/DM/S