Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

উত্তর প্রদেশের বাগপত-এ জাতির উদ্দেশে ইস্টার্ন পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়ে উৎসর্গ করার পর প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


ভারতমাতা কি জয়

এত বিপুল সংখ্যায় আগত আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা।

চার বছর আগে আপনাদের বিপুল সমর্থনে আমি সমগ্র দেশের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। মে মাসের এই প্রচণ্ড গরমে সূর্যের প্রবল তেজ উপেক্ষা করে এত ভারি সংখ্যায় আমাকে আশীর্বাদ প্রদানের জন্য আপনাদের আগমন প্রমাণ করে যে গত চার বছর ধরে আমাদের সরকার সঠিক পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সফল। ভাই ও বোনেরা, এত ভালোবাসা, এত উচ্ছ্বাস তখনই দেখা যায়, যখন বিধাতা তাঁর সেবকের প্রতি খুশি হন। আজ ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বে এনডিএ সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে আপনাদের এই প্রধান সেবক আরেকবার আপনাদের সামনে নত মস্তকে ১২৫ কোটি দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাচ্ছে।

বন্ধুগণ, আজ বাগপত, পশ্চিম উত্তর প্রদেশ ও দিল্লি এনসিআর-বাসীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। দুটি বৃহৎ সড়ক প্রকল্প আজ উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রথমটি দিল্লি-মীরাট এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম পর্যায় আর দ্বিতীয়টি ইস্টার্ন পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়ে।

ইস্টার্ন পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ১১ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। দিল্লি-মীরাট এক্সপ্রেসওয়ে এখনও পর্যন্ত যতটা তৈরি হয়েছে, তার পেছনে ৮০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই গোটা প্রকল্পে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হবে। আজ যখন এই নতুন পথে চলার সুযোগ পেলাম, তখন অনুভব করলাম যে, ১৪ লেনের এই সড়কপথ দিল্লি এনসিআর-এর বাসিন্দাদের জীবন কতটা সুগম করে তুলবে। আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর কংক্রিটের পাশে সবুজের অদ্ভুত মেলবন্ধন।

ভাই ও বোনেরা, মাত্র ১৮ মাসে এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়েছে। আজ ১৪ লেনবিশিষ্ট ৯ কিলোমিটার সড়ক উদ্বোধন হ’ল। এই ৯ কিলোমিটারের গুরুত্ব কতটা, তা দিল্লির পটপড়গঞ্জ, ময়ূর বিহার, গাজিয়াবাদ, ইন্দ্রাপুরম, বৈশালী এবং নয়ডার মানুষেরা ভালোভাবে বুঝতে পারছেন। একই গতিতে এই এক্সপ্রেসওয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে মিরাট পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। এটি সম্পূর্ণ হলে দিল্লির সঙ্গে মিরাটের দূরত্ব মাত্র ৪০-৪৫ মিনিটে অতিক্রম করা যাবে।

বন্ধুগণ, দিল্লি এনসিআর-এ যানজটের সমস্যা ছাড়াও বায়ু দূষণ একটি বড় সমস্যা। প্রতিদিনই তা ভয়ানক রূপ নিচ্ছে। নৈমিত্তিক যানজট ও বায়ুদূষণের সমস্যা থেকে রাজধানীকে বাঁচাতে আমাদের সরকার দিল্লির চারপাশে এক্সপ্রেসওয়ের একটি ঘেরাটোপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছি। এটি দুটি পর্যায়ে নির্মিত হবে। এর প্রথম পর্যায় ইস্টার্ন পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়ে রূপে নির্মাণ করে একটু আগে উদ্বোধনের সৌভাগ্য আমার হ’ল। ফলে, আজ দিল্লিতে যত গাড়ি পৌঁছয়, তার ৩০ শতাংশ কম গাড়ি পৌঁছবে। প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি বড় গাড়ি ও ট্রাকের আর দিল্লিতে আসার প্রয়োজন হবে না। শুধু তাই নয়, এই ইস্টার্ন পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়ে দেশের প্রথম অ্যাক্সিস কন্ট্রোল ‘র গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে’ রূপে গড়ে উঠেছে। মাত্র ৫০০ দিনে গড়ে ওঠা এই এক্সপ্রেসওয়ে সম্পূর্ণ আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন। সম্পূর্ণ সৌরশক্তির মাধ্যমে এ পথে বিদ্যুতের যোগান সুনিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে, দূষণ হ্রাস, শক্তির অপচয় হ্রাসের পাশাপাশি অত্যন্ত কম সময়ে এখন পশ্চিম উত্তর প্রদেশ থেকে দিল্লিতে দুধ, শাক-সবজি এবং শস্যের যোগান সম্ভব হবে।

ভাই ও বোনেরা, ১২৫ কোটি জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে আধুনিক পরিকাঠামোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই পরিকাঠামো, জাতিভেদ, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায়, ধনী-গরিব সমস্ত রকমের বৈষম্যের ঊর্ধ্বে সকলের সঙ্গে সকলের উন্নয়নকে সুনিশ্চিত করবে। এই সাম্যের পথেই আমাদের সরকার হাইওয়ে, রেলওয়ে, এয়ারওয়ে, ওয়াটারওয়ে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বন্ধুগণ, বিগত চার বছরে আমরা ৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বিনিয়োগে ২৮ হাজার কিলোমিটারেরও অধিক নতুন মহাসড়ক নির্মাণ করেছি। আপনারা মনোযোগ দিয়ে শুনুন, চার বছর আগে যেখানে প্রতিদিন ১২ কিলোমিটার মহাসড়ক নির্মিত হ’ত, এখন তা দিনে ২৭ কিলোমিটার নির্মিত হচ্ছে। এ বছরের বাজেটে ভারতমালা প্রকল্পের জন্য ৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর দ্বারা প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার মহাসড়ক নির্মিত হচ্ছে। পাশাপাশি, যেখানে যেখানে রেল সংযোগ ছিল না, সেই অঞ্চলগুলিতে রেল নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। সিঙ্গল লাইন রেল সংযোগকে ডবল লাইনে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। মিটার গেজ থেকে ব্রড গেজে উন্নীত করা হচ্ছে। এই সমস্ত কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে হচ্ছে। বিগত চার বছরে আমরা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার লেভেল ক্রসিংকে স্বয়ংক্রিয় করে তুলেছি। বিমান পরিষেবাকে উন্নত করার জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়ায় গত বছর প্রায় ১০ কোটি মানুষ বিমানে যাতায়াত করেছেন। আপনারা শুনলে খুশি হবেন যে, বিগত চার বছরে এদেশে যত মানুষ রেলের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় যাতায়াত করেছেন, তার থেকে বেশি মানুষ বিমানে যাতায়াত করেছেন। দেশের জলশক্তিকে সম্পূর্ণরূপে ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দেশে একশোটিরও বেশি নতুন জলপথ গড়ে তোলা হচ্ছে। এখন উত্তরপ্রদেশের গঙ্গাতেও জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। গঙ্গার মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতেই ইউপি থেকে সরাসরি সমুদ্রে পণ্য পরিবহণ সম্ভব হতে চলেছে। গঙ্গার মতো যমুনাকে নিয়েও একটি নতুন প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে।

বন্ধুগণ, পরিবহণ ব্যবস্থা যেখানে যত উন্নত হবে, নতুন নতুন ব্যবসার সুযোগও সেই অঞ্চলে তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। এই ভাবনা থেকেই এ বছরের বাজেটে উত্তর প্রদেশে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর নির্মাণের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এই করিডর আগ্রা, আলিগড়, লক্ষ্ণৌ, কানপুর, ঝাঁসি হয়ে চিত্রকূট পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এর মাধ্যমে প্রায় প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

বন্ধুগণ, নতুন ভারতের সমস্ত নতুন ব্যবস্থা দেশের যুবসম্প্রদায়, মধ্যবিত্তদের আশা-আকাঙ্খার ভিত্তিতে গড়ে তোলা হচ্ছে। দেশের প্রত্যেক গ্রামকে ইন্টারনেট যুক্ত করার জন্য ভারতনেট যোজনার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। একটু আগে আমি আপনাদের হাইওয়ে নির্মাণের পরিসংখ্যান দিয়েছিলাম, এখন আইওয়ে নির্মাণের পরিসংখ্যান দিচ্ছি। বিগত সরকার শেষ চার বছরে মাত্র ৫৯টি পঞ্চায়েতকে অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে যুক্ত করতে পেরেছিল। আমরা বিগত চার বছরে প্রায় ১ লক্ষ গ্রামকে অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে যুক্ত করেছি। কিভাবে কাজ হচ্ছে, সেটা দেশের মানুষ ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারবেন। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র মাধ্যমে দেশে নির্মাণ শিল্পকে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। পরিণামস্বরূপ, চার বছর আগে দেশে মাত্র ২টি মোবাইল ফোন নির্মাণের কারখানা ছিল। আর এখন দেশে ১২০টি কারখানা থেকে মোবাইল ফোন উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে অনেকগুলি রয়েছে দিল্লি এনসিআর-এ। অসংখ্য যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান হয়েছে, তাঁদের মধ্যে অনেকে হয়তো আজকের এই সভাতেই উপস্থিত রয়েছেন।

বন্ধুগণ, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমাদের দেশে কৃষির পরেই সবচেয়ে বেশি মানুষের কর্মসংস্থান এই ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে হয়। উত্তর প্রদেশে এরকম প্রায় ৫০ লক্ষ ক্ষুদ্র শিল্পের নেটওয়ার্ক রয়েছে। এই ক্ষুদ্র শিল্পকে আরও বিস্তৃত করতে কেন্দ্রীয় সরকার উত্তর প্রদেশ রাজ্য সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। ক্ষুদ্র শিল্প ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার ভারি মাত্রায় কর ছাড় দিয়েছে। যোগীজির নেতৃত্বে উত্তর প্রদেশ সরকার এক্ষেত্রে ‘এক জেলা, এক প্রকল্প’ নীতি নিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পকে কেন্দ্রীয় সরকারের দক্ষ ভারত প্রকল্প, স্ট্যান্ডআপ ইন্ডিয়া, স্টার্টআপ ইন্ডিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী রোজগার প্রোৎসাহন যোজনার সাহায্যে একটি স্বয়ংসম্পন্ন একটি রোডম্যাপ ছকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অপরাধ দমনে যোগী সরকারের কড়া পদক্ষেপ নেওয়ায় অপরাধীর নিজে থেকেই আত্মসমর্পণে বাধ্য করছে। তাঁরা আর অপরাধ না করার শপথ গ্রহণ করে মূলস্রোতে ফিরে আসছে। এজন্য আমি উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী যোগীজি ও মনোহরলালজিকে শুভেচ্ছা জানাতে চাইতাঁরা কঠোর হাতে নিজ নিজ রাজ্যে অপরাধ দমনে সাফল্য পেয়েছেন।

ভাই ও বোনেরা, আমরা মহিলাদের সম্মান ও ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। স্বচ্ছ ভারত অভিযানের মাধ্যমে দেশে সাড়ে সাত কোটি শৌচালয় নির্মাণ, উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে চার কোটি রান্নার গ্যাস সংযোগ, মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে প্রদত্ত প্রায় ১৩ কোটি ঋণের মধ্যে ৭৫ শতাংশ মহিলা ব্যবসায়ীদের প্রদান করা হয়েছে – এসব কি আগে কেউ কল্পনা করতে পারতেন? এমনিতেও মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে প্রদত্ত ঋণ ৫০ শতাংশেরও বেশি দলিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষকেই দেওয়া হয়েছে।

দলিত ও জনজাতি মানুষের ওপর উচ্চবর্গের অত্যাচার হ্রাস করতে আমরা আইনকে আরও কড়া করেছি। দলিতদের ওপর অত্যাচারের তালিকায় আগে ২২টি অপরাধের কথা লেখা ছিল, বর্তমান আইনে সেই অপরাধের তালিকায় ৪৭টি অপরাধকে শাস্তিযোগ্য বলে বর্ণনা করা হয়েছে। দলিতদের ওপর অত্যাচারের মামলাগুলি দ্রুত শুনানির জন্য বিশেষ আদালত গঠন করা হয়েছে।

ভাই ও বোনেরা, সরকার পিছিয়ে পড়া জাতিগুলির সাব-ক্যাটাগরাইজেশনের জন্য একটি কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার চায় যে, ওবিসি-দের মধ্যে যাঁরা অত্যন্ত অনগ্রসর, তাঁরা যেন সরকার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেশি সংরক্ষণের সুবিধা পান। আমাদের সরকার ওবিসি কমিশনকেও সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে চায়। ওবিসি সমাজের মানুষেরা এই দাবিগুলি গত ২০-২৫ বছর ধরে জানিয়ে আসছেন। কিন্তু কেউ তাঁদের কথায় কর্ণপাত করেননি। আমরা দায়িত্ব পেয়ে তাঁদের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করতে চেয়েছি, যাতে সংসদে ওবিসি কমিশন সাংবিধানিক মর্যাদা পায়। কিন্তু কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলি এখনও তা বাস্তবায়িত হতে দেয়নি। কিন্তু আমি অন্যান্য  পিছিয়ে পড়া সমাজের মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, আমরা একবার যে পদক্ষেপ নিই, সেটাকে সম্পূর্ণ করেই ছাড়ি। দলিত, পিছিয়ে পড়া জনজাতির মানুষজন ও গরিব মহিলাদের জন্য আমরা যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছি, সেগুলি নিয়ে কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলির প্রতিনিধিরা সংসদে নিয়মিত ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে। শৌচালয় নির্মাণ, দরিদ্র মহিলাদের জন্য বিণামূল্যে রান্নার গ্যাস সংযোগ – এই সবকিছুই তাঁদের কাছে মজার বিষয়। মন্ত্রিসভার প্রস্তাব তাঁরা সংসদে সর্বসমক্ষে ছিঁড়ে ফেলতে পারেন।

আজ দেশের মানুষ দেখছেন যে, রাজনৈতিক লাভের জন্য এরা সুপ্রিম কোর্টের আদেশকেও অমান্য করার হিম্মত রাখে। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তাঁরা কিভাবে দেশে অস্থিরতার পরিবেশ সৃষ্টি করছেন। দলিতদের ওপর অত্যাচারের আইন কিংবা সংরক্ষণের বিষয়ে মিথ্যা বলে, গুজব রটিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্র রচনা করেন। এখন তাঁরা একটি নতুন গুজব রটিয়েছেন যে, ভাগ চাষীদের ওপর সরকার নাকি ১৮ শতাংশ জিএসটি প্রয়োগ করবে। আমি কৃষক ভাইদের অনুরোধ করব, আপনারা এসব গুজবে কান দেবেন না।

বন্ধুগণ, আমাদের সরকার গ্রামোদয় থেকে ভারত উদয়-এর দর্শন নিয়ে কাজ করে চলেছে। গ্রামোদয়ের কেন্দ্রে রয়েছে আমার দেশের অন্নদাতা আমার কৃষক ভাইয়েরা, আমার ক্ষেত মজুর ভাইবোনেরা, আমার ক্ষুদ্র শিল্পের কারিগররা। এবছরের বাজেটে গ্রাম ও চাষের সঙ্গে যুক্ত পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে ১৪ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

তাছাড়া, ১০০ শতাংশ ইউরিয়া নিম কোটিং করা, প্রধানমন্ত্রী সিঞ্চাই পরিযোজনা, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার পরিধি বিস্তারের মাধ্যমে কৃষককে গ্যারান্টি প্রদান, কৃষকের বিনিয়োগের দেড় গুণ সমর্থনমূল্য সুনিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত আমাদের সরকার নিয়েছে। আমি উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীদের শুভেচ্ছা জানাই যে, তাঁরা এমএসই-র নতুন নিয়ম অনুসারে কৃষকদের থেকে যতটা পণ্য কেনা সম্ভব, ততটা ক্রয়ের প্রকল্প তৈরি করেছেন এবং পূর্বের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন।

ক্ষেত থেকে বাজার পর্যন্ত পৌঁছতে কৃষকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদন করা ফসল যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্পদা যোজনা চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পে পশ্চিম উত্তর প্রদেশের আলু উৎপাদনকারী কৃষকরা সর্বাধিক লাভবান হবেন। এই বাজেটে যে অপারেশন গ্রিন কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে, তাও নতুন সরবরাহ শৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত। ফল, ফুল এবং সবজি উৎপাদনকারী কৃষকরা এর মাধ্যমে লাভবান হবেন।

ভাই ও বোনেরা, জৈব চাষ, মৌ-পালন, সৌর কারখানা ইত্যাদি সমস্ত আধুনিক বিকল্পকে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। চাষের এই উপ-ক্ষেত্রগুলিতে কর্মরত কৃষকদের ঋণ পাওয়া আরও সহজ করে তুলতে বিস্তারিত পরিকল্পনা রচিত হয়েছে।

আখচাষীদের জন্য সরকার নিয়মিত কাজ করে চলেছে। গত বছর আখের সমর্থনমূল্য প্রায় ১১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ফলে, ৫ কোটি আখচাষী সরাসরি লাভবান হয়েছেন। ইথানল সংশ্লিষ্ট নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে এখন পেট্রোলে ১০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। আখচাষীরা যাতে চিনি কারখানা থেকে দ্রুত বকেয়া আদায় করতে পারেন, সেজন্য সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার ঠিক করেছে যে, চিনি কারখানাগুলিকে ক্যুইন্টাল প্রতি আখে ৫ টাকা ৫০ পয়সা দরে সহায়তা প্রদান করা হবে। কিন্তু অর্থ চিনি কারখানার মালিকদের হাতে দেওয়া হবে না। এই টাকা সরাসরি সংশ্লিষ্ট আখচাষীদের ব্যাঙ্কে জমা হবে। ফলে, চিনি কারখানার মালিকরা আর আখচাষীদের টাকা বকেয়া রাখতে পারবেন না।

ভাই ও বোনেরা, গ্রামোন্নয়নের পাশাপাশি আমরা শহরগুলিকেও একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে গড়ে তুলছি। স্মার্টসিটি মিশন ও অম্রুত যোজনার মাধ্যমে শহরের পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। শহরে বসবাসকারী গৃহহীণ দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষদের মাথার ওপর ছাদ সুনিশ্চিত করার জন্য পূর্ববর্তী সরকারের তুলনায় অনেক দ্রুত কাজ করা হচ্ছে। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ১০ বছরে সারা দেশে ১০ লক্ষ শহুরে গৃহহী্ণদের জন্য গৃহ নির্মাণের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছিল। বিগত ৪ বছরে আমরা ৪৬ লক্ষ মঞ্জুর আবেদন করেছি। অর্থাৎ পূর্ববর্তী সরকারের ১০ বছরের তুলনায় বিগত ৪ বছরের তুলনায় আমরা তিন গুণ বেশি কাজ করেছি। বিগত ১০ বছরে সরকার ৫ লক্ষ শহরবাসী গৃহহীণের হাতে ঘরের চাবি তুলে দিতে পেরেছে। আমরা বিগত ৪ বছরে ৮ লক্ষেরও বেশি শহুরে গৃহহীণদের হাতে তাঁদের ঘরের চাবি তুলে দিয়েছি।

ভাই ও বোনেরা, জনসংখ্যার বিস্ফোরণ মোকাবিলা করার জন্য শহরে যে পরিকাঠামো গড়ে তোলা উচিৎ ছিল, একটি মাত্র পরিবার ৩৮ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে শহরগুলি কেমন অপরিকল্পিতভাবে আয়তনে বেড়েছে, যেখানে যথাযথ পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা কিংবা পানীয় জলের সুবিধা নেই। আমাদের নদীগুলি শহরের জঞ্জাল বয়ে নিয়ে সমুদ্রে ফেলছে। এভাবে সারা দেশে পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে আমাদের মা গঙ্গা জনসংখ্যা বিস্ফোরণ ও ক্রমবর্ধমান শিল্প বর্জ্যের পয়ঃপ্রণালীতে পরিণত হয়েছে। আমরা সরকারের দায়িত্ব নিয়ে নমামি গঙ্গে কর্মসূচি চালু করেছি। আমাদের অগ্রাধিকার শুধুই গঙ্গা নদীকে পরিষ্কার করা নয়, শহরগুলি থেকে বেড়িয়ে আসা বর্জ্য যেমন গঙ্গাতে গিয়ে না পড়ে, সেটাও সুনিশ্চিত করা। ইতিমধ্যেই সরকার প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে ২০০টিরও বেশি প্রকল্পকে মঞ্জুর করেছে। এছাড়া, উন্মুক্ত স্থানে শৌচকর্ম থেকে গঙ্গাতট ও তটবর্তী অরণ্যকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। উত্তরাখন্ড, উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খন্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ যে ৫টি রাজ্য দিয়ে গঙ্গা প্রবাহিত হয়, সর্বত্র ততবর্তী অসংখ্যা গ্রামে এই অভিযান সফল হয়েছে।

বন্ধুগণ, গঙ্গা সাফাই নিয়ে আগেও দেশে অনেক বড় বড় কথা হয়েছে। কিন্তু আমরা কাজে বিশ্বাস করি। জনগণের প্রতিটি পয়সার ব্যবহার যেন ঠিকভাবে হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। পয়ঃপ্রণালী ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি হলে সেটি যাতে কমপক্ষে ১৫ বছর ঠিকঠাক কাজ করে সেটাও সুনিশ্চিত করা হচ্ছে।

ভাই ও বোনেরা, যারা ৭০ বছর ধরে দেশের গরিব, মধ্যবিত্ত কৃষক ও যুবকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, তাঁরা এখন এনডিএ সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন। তাঁরা কখনও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন না, সংবিধান অনুসারে সংস্থাগুলি পরিচালনাতেও আস্থা রাখতেন না। বিগত চার বছরেও বারবার তাঁদের এই মানসিকতা স্পষ্ট হয়েছে।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনকে, ইভিএম’কে তাঁরা কিভাবে বারবার সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রতি অবিশ্বাস সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে, তা দেশের মানুষ ভালোভাবেই জানেন। এখন তো তাঁরা দেশের সংবাদ মাধ্যমকেও পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে করছেন।

ভাই ও বোনেরা, একটি পরিবারের উপাসনাকারীরা কখনও গণতন্ত্রের উপাসক হতে পারেন না। তাঁরা সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে সাফল্য অর্জন করা সেনার সাহসকেও নস্যাৎ করতে পারেন। যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা ভারতের প্রশংসা করছে, তাদের পরিসংখ্যানকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখেন, এমনকি বিদেশ থেকে কোনও সম্মানিত অতিথি এসে সরকারের প্রশংসা করলে তাঁরা তাঁদের সমালোচনা করতেও ছাড়েন না।

বন্ধুগণ, যাদের ওপর থেকে দেশের জনগণের বিশ্বাস উঠে গেছে, তাঁদের ক্ষিপ্ত হওয়ার কারণ আপনারা বুঝতে পারবেন। মোদীর বিরোধিতা করতে গিয়ে তাঁরা যে এভাবে দেশের বিরোধিতা করতে শুরু করবেন, তা আমি কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি। কিন্তু যার ওপর আপনারা আস্থা রাখেন, আশীর্বাদ করেন, দেশের ১২৫ কোটি মানুষের বিশ্বাস যাঁদের ওপর রয়েছে তাঁরা এইসব আক্রমণকে পরোয়া করবে কেন?

বন্ধুগণ, আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখুন, ওদিকে কারা রয়েছেন আর এদিকে কারা! ওদিকে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের জন্য একটি পরিবারই দেশ। আর এদিকে যাঁরা রয়েছেন, আমার জন্য, আমার দেশই আমার পরিবার। দেশের ১২৫ কোটি মানুষই আমার পরিবারের সদস্য। আপনাদের আশীর্বাদ, ভালোবাসা আর বিশ্বাস ছাড়া আমার আর অর্জন করার কিছুই নেই। আমার একমাত্র কাজ ১২৫ কোটি দেশবাসীর সেবা। আপনাদের সকলের সহযোগিতায় ১২৫ কোটি দেশবাসীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমার ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’ সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে চাই। আপনারা বিপুল সংখ্যায় এখানে এসেছেন, এজন্য আপনাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। আজ যে মহাসড়কের উদ্বোধন হ’ল এর গুরুত্ব শুধু এই অঞ্চলে নয়, একবিংশ শতাব্দীর ভারত কেমন হতে পারে – এটি তার নমুনা, যা এখন আপনাদের বাড়ির পাশে গড়ে উঠেছে।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

SSS/SB/SB