পিএমইন্ডিয়া

উন্নয়নেরচাহিদা রয়েছে দেশের এ ধরনের জেলাগুলির কালেক্টর এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদেরসঙ্গে আজ নিতি আয়োগ আয়োজিত এক সম্মেলনে আলোচনা ও মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী শ্রীনরেন্দ্র মোদী। সম্মেলনের আয়োজন করা হয় রাজধানীর ডঃ আম্বেদকর আন্তর্জাতিককেন্দ্রে। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে ভারতের রূপান্তর সম্পর্কিত প্রধানমন্ত্রীরচিন্তাভাবনার সূত্র ধরেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।উল্লেখ্য, সুনির্দিষ্টউন্নয়নের মাপকাঠির নিরিখে এখনও পিছিয়ে রয়েছে, এ ধরনের ১১৫-টি জেলার দ্রুত রূপান্তরসম্ভাবনাকে বাস্তাবায়িত করতে একটি বড় ধরনের নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয়সরকার।
আজকেরসম্মেলনে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ছ’টি দল পুষ্টি, শিক্ষা, প্রাথমিক পরিকাঠামো,কৃষি, জলসম্পদ, উগ্রপন্থা দমন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং দক্ষতা বিকাশের মতোবিষয়গুলির ওপর তাঁদের উপস্থাপনা পেশ করে।
সম্মেলনেরসমাবেশে ভাষণদানকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডঃ আম্বেদকর আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে এইধরনের সরকারি অনুষ্ঠান এই প্রথম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সুতরাং, এর একটি বিশেষ গুরুত্ব ওতাৎপর্যও রয়েছে।
শ্রী মোদীবলেন, দেশের কয়েকটি অঞ্চলের আপেক্ষিক অনগ্রসরতা ঐ অঞ্চলগুলির অধিবাসীদের প্রতি একধরনের অবিচার। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে ডঃ আম্বেদকরের চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গিঅনুসরণ করে ১১৫-টি অনগ্রসর জেলার বিকাশ সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করার পদক্ষেপ গ্রহণকরা হয়েছে। বঞ্চিত এবং অবহেলিতদের জন্যই সারা জীবন কাজ করে গেছেন ডঃ আম্বেদকর।
প্রধানমন্ত্রীতাঁর ভাষণে জন ধন যোজনা, শৌচাগার নির্মাণ, গ্রামীণ বৈদ্যুতিকরণইত্যাদি প্রসঙ্গেরউল্লেখ করে বলেন যে আমরা যদি দৃঢ় সঙ্কল্পবদ্ধ হই, তাহলে আমাদের দেশে কোন কিছুইঅসম্ভব নয়। মাটি পরীক্ষার মতো সম্পূর্ণ একটি নতুন উদ্যোগের ক্ষেত্রে যে সাফল্যঅর্জিত হয়েছে, দৃষ্টান্তস্বরূপ তারও উল্লেখ করেন তিনি।
শ্রী মোদীবিশেষ জোর দিয়ে বলেন যে ভারতে বর্তমানে সুযোগ ও সম্ভাবনার কোন অভাব নেই। এইপ্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন বাণিজ্যিক কাজকর্মকে সহজতর করে তোলার কর্মসূচিটিরও। এইসাফল্যকে সরকারি আধিকারিক এবং ‘টিম ইন্ডিয়া’র বিশেষ কৃতিত্ব বলে বর্ণনা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীবলেন, সমস্ত কিছুর সমাধান শুধুমাত্র ওপর মহল থেকেই আশা করা ঠিক নয়। এই কারণে দেশেরসাধারণ মানুষদের অবদানও কোন অংশে কম নয়। তাঁর এই বক্তব্যের সমর্থনে আজকেরউপস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সকলের চিন্তাভাবনার স্বচ্ছতা এবং সঙ্কল্প ও অঙ্গীকারে অবিচলথাকার বিষয়টিরও সপ্রশংস উল্লেখ করেন তিনি।
শ্রী মোদীবলেন, আঞ্চলিক ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতাকে অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে দেওয়া যায় না। সুতরাং,অনগ্রসর জেলাগুলির উন্নয়ন একান্ত জরুরি। এই অঞ্চলগুলি সম্পর্কে নেতিবাচকচিন্তাভাবনা দূর করার জন্য যে যে সরকারি কর্মসূচিতে সাফল্য অর্জিত হয়েছে, তাঅনুধাবন ও উপলব্ধি করা বিশেষভাবে প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মতে, নেতিবাচকমানসিকতাকে আশাবাদে রূপান্তরিত করাই হবে কর্মপ্রচেষ্টার প্রথম ধাপ।
প্রধানমন্ত্রীবলেন, উন্নয়নের লক্ষ্যেজন-আন্দোলনের মূলে রয়েছে মানসিক মিলন বা সমন্বয়। এই কারণেজনসাধারণকে কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিৎ বলে মনেকরেন তিনি। প্রসঙ্গত, ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’-এর দৃষ্টান্ত তুলে ধরে এইভাবেই অনগ্রসরজেলাগুলি সম্পর্কে মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি। উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাপূরণে ইতিবাচক মানসিকতা এবং আশাবাদের গুরুত্ব অনস্বীকার্য বলে মনে করেনপ্রধানমন্ত্রী।
অনগ্রসরজেলাগুলির অধিবাসীদের আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলির স্বীকৃতিদানের মাধ্যমে সঠিক পথে এবংসঠিকভাবে উন্নয়ন কর্মসূচি ছকে ফেলা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন শ্রী নরেন্দ্র মোদী।তিনি বলেন, সরকারি কর্মসূচির সঙ্গে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার মেলবন্ধন ঘটানোরমাধ্যমেই উন্নয়ন কর্মসূচিতে জন-অংশীদারিত্বের প্রসার ঘটানো সম্ভব। ১১৫-টি জেলার উন্নয়নপরিকল্পনার লক্ষ্যে উদ্যোগী হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের।
প্রধানমন্ত্রীবলেন, জীবনে সাফল্য অর্জনের উপায় হল চ্যালেঞ্জগুলিকে গ্রহণ করা। কালেক্টরদের সুযোগরয়েছে এইভাবে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার। তিন মাসের মধ্যেইযাতে উন্নয়ন প্রচেষ্টার সুফলগুলি লক্ষ্য করা যায় সেজন্য সমষ্টিগত প্রচেষ্টা ওউদ্যোগের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। বাবাসাহেব আম্বেদকরের জন্মবার্ষিকী ১৪এপ্রিলের আগেই উন্নয়নের যাতে নজরে আসে, তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তিনি। এপ্রিলমাসের মধ্যে ভালো কাজ হয়েছে, এই ধরনের একটি জেলা তিনি ব্যক্তিগতভাবে ঘুরে দেখারওইচ্ছা প্রকাশ করেন।
পরিশেষেপ্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই ১১৫-টি অনগ্রসর জেলার বিকাশইআমাদের পথ দেখাতে পারে।
PG/SKD/DM/
When the people decide something and work towards achieving it, nothing is impossible. It is the 125 crore Indians who are taking our nation to new heights of growth. https://t.co/iZhhyemMUn
— Narendra Modi (@narendramodi) January 5, 2018