পিএমইন্ডিয়া
দেশের সমস্ত প্রান্ত থেকে আগত এন সি সি’র সকল ক্যাডেট এবং বিপুল সংখ্যায় আগত অতিথিবৃন্দ,
আমরা ২৬ জানুয়ারি’তে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করেছি এবং গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠাকে ভারতের সংবিধানের প্রতি আমাদের আস্থাকে আমরা আরেকবার সংকল্পবদ্ধ করেছি।
এই বছর বাবাসাহেব আম্বেদকর ১২৫তম জন্মজয়ন্তীরও বছর। ঐ মহান ব্যক্তিত্ব দেশকে এত উৎকৃষ্ট সংবিধান দিয়েছেন, জীবনভর নানা সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন, অত্যাচার সহ্য করেছেন, উপেক্ষার শিকার হয়েছেন, কিন্তু নিজেকে কখনও পথভ্রষ্ট হতে দেননি। অনেক সময় সামাজিক উপেক্ষা এত গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে যে সাধারণ মানুষ সারা জীবন তা ভুলতে পারে না। কিন্তু, বাবাসাহেব আম্বেদকর অসাধারণ ছিলেন। সারা জীবন ধরে উপেক্ষা সহ্য করেও তিনি যখন দেশের জন্য সংবিধান রচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ আসে, তিনি সংবিধানের কোথাও তার প্রভাব পড়তে দেননি, কোনও রকম প্রতিশোধস্পৃহা তাঁর মনে কাজ করেনি। সারা জীবন যে কষ্ট পেয়েছেন, সেই কষ্টের সাগরে মন্থন করে যে সংবিধানরূপী অমৃত তুলে এনেছেন তা স্বাধীনতার এত বছর পরেও গোটা জাতিকে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যসূত্রে বেঁধে রেখেছে। সকল ধর্ম, জাতি ও ভাষার মানুষকে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য অক্ষুন্ন রেখে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে পথ চলতে, নিজের নিজের কর্তব্য পালনে প্রেরণা জোগায়। এই সংবিধান আমাদের চলার পথে আলোকবর্তিকা।
আপনারা ভারতের সকল প্রান্ত থেকে এসেছেন, কিসের আকর্ষণে? আলাদা-আলাদা ভাষা, আলাদা পোশাক-পরিচ্ছদ, আলাদা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও কোন্ সূত্রে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি, সেই সূত্র হল আমাদের ভারতমাতা, আমাদের তেরঙ্গা জাতীয় পতাকা, আমাদের সংবিধান। এগুলিই ১২৫ কোটি ভারতবাসীর স্বপ্ন, তাঁদের আশা-আকাঙ্খা, ইচ্ছাপূরণে আমাদের প্রেরণা জোগায়।
এন সি সি ক্যাডেট হিসেবে আপনারা প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন, বুক ফুলিয়ে পরস্পরের পায়ে পা মিলিয়ে সদর্পে হাঁটার সুযোগ পেয়েছেন, ক্যাম্পে থাকার সুযোগ পেয়েছেন, অস্ত্রশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন, এই বয়সে এ ধরণের শিবিরে মজা থাকে, অভিযানের আনন্দ থাকে। এই থ্রিল ও অ্যাডভেঞ্চারের পাশাপাশি ধমনীতে থাকে দেশভক্তির জ্বালানি, যা আমাদের নতুন স্বপ্নগুলি বাস্তবায়িত করার জন্য সংকল্পবদ্ধ করে।
প্রজাতন্ত্র দিবসের এই কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করার জন্য আপনারা গত একমাস ধরে একসঙ্গে শিবিরে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। আমি জানি, এই শীতে রোজ ভোরে তিনটে সাড়ে তিনটেয় উঠে তৈরি হওয়া কত কঠিন। এই শীতে বিছানা থেকে উঠতেই ইচ্ছে করে না, মনে হয় অনেকক্ষণ ঘুমাই, কিন্তু বিউগল বাজে, বাঁশি বাজে, উঠে পড়তে হয়। শুরুর পাঁচ-দশমিনিট খুবই খারাপ লাগে, মনে হয় কবে এসব শেষ হবে? কিন্তু, তারপরই ছন্দে চলে এলে এই পথ ছেড়ে যেতে আর মন চায় না। লক্ষ্য পূরণের জন্য আমরা পায়ে পা মিলিয়ে চলার পথে নিজেকে সমর্পণ করে দিই, এতে বেঁচে থাকার আলাদা আনন্দ পাওয়া যায়।
এই এক মাসে আপনারা সকলে গোষ্ঠীবদ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। ময়দানে যা যা শিখেছেন সব-ই আপনার জীবনের অর্জন। এই যে আদেশ অনুযায়ী সকলের হাত-পা একসঙ্গে চলা, নিয়মানুবর্তিতার অভিজ্ঞতা ছাড়াও সারা দেশ থেকে আসা নতুন নতুন বন্ধুদের সঙ্গে এক মাস সময় কাটিয়েছেন। তাঁদের থেকে তাঁদের জীবনের ছোট ছোট অনেক কিছু জেনেছেন। তাঁদের আলাদা খাওয়া-দাওয়া আচার ব্যবহারের বৈচিত্র্য থেকে আপনাদের মনে ধীরে ধীরে ভারতমাতার শক্তি অনুভব করেছেন। কাশ্মীরের ছেলের সঙ্গে কেরলের ছেলের কথা হলে, বন্ধুত্ব হলে কাশ্মীরের সঙ্গে কেরল যুক্ত হতে থাকে। তাঁরা পরস্পরকে আপন ভাবে। নিজের পরিধি বাড়ে। সামূহিক জীবন অহমকে বয়মের পথে নিয়ে যায়, স্ব-কে সমষ্টির সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করে। গোষ্ঠীবদ্ধ জীবন প্রত্যেকের মনে একটি নতুন শক্তি উৎপন্ন করে। এ ধরণের সমষ্টিগত অংশগ্রহণে মিলেমিশে থাকার শক্তি অনুভব করা যায়। ময়দানে আমরা যা শিখি, তার থেকেও বেশি সমষ্টিবদ্ধ জীবন থেকে শিখি, আর আমি জানি, আজ এখান থেকে বিদায়ের সময় আপনাদের অবস্থা কী হবে! অধিকাংশের চোখ ছলছল, অনেকেই পরস্পরের বিয়োগে কাঁদবেন! অনেকে ভাববেন, না জানি আবার কবে দেখা হবে, আদৌ আর দেখা হবে কি না! এই ভালোবাসা কেমন করে হলো? এক মাস আগে নিজের গ্রাম ছেড়ে যখন আসছিলেন, তখন হয়তো কেউ স্টেশনে ছাড়তেও আসেননি, কেউ চোখের জলও ফেলেননি, গ্রাম থেকে এক মাসের জন্য দিল্লি আসছেন বলে আপনাদেরও কান্না পায়নি। কিন্তু, আজ দিল্লি থেকে গ্রামে ফেরার সময় কান্না পাচ্ছে কেন? নিজের গ্রামে, নিজের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরছেন, কিন্তু কী যেন ছেড়ে যাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। এই ভালোবাসাই দেশের বড় শক্তি। এই শক্তিকে একটি সংস্কারের মতো বাঁচিয়ে রাখবেন। দেশের জন্য মরার সৌভাগ্য সকলের হয় না, কিন্তু প্রত্যেকের জীবনেই দেশের জন্য বাঁচার সুযোগ আসে।
আমরা যদি সচেতনভাবে চেষ্টা করি তা হলে আমরা দেশের জন্য বাঁচতেও পারি! দেশবাসীর কল্যাণে কিছু করতে পারি, জীবনকে পরিশ্রমের মাধ্যমে সংকল্পের মাধ্যমে এমন পথে পরিচালিত করতে পারি, যাতে দেশের কাজে লাগি। এই কিছু করতে পারার আনন্দ অতুলনীয়। সেজন্যই, আজ ক্যাডেটরা এখান থেকে দেশের সকল প্রান্তে ফিরে যাওয়ার আগে তাঁদের শুভেচ্ছা জানাই, এখানে যে পরিবেশ দেখেছেন, তেমনই পরিবেশের অঙ্কুরোদ্গম নিজের গ্রামেও করা যায় কি না ভাবুন! এখানে যে পরিচ্ছন্নতা দেখেছেন, সেই পরিচ্ছন্নতা গ্রামেও বজায় রাখ যায় কি না, সেটা দেখুন! এখানে যে দেশভক্তি দেখেছেন, তা আপনার গ্রামের বন্ধুদের মনে সঞ্চারিত করবেন! এখানে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, কিভাবে তাকে আরও প্রসারিত করবেন, সেই সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যান। আমি আরেকবার সকল ক্যাডেটদের অভিনন্দন জানাই। এন সি সি ও তার ঐতিহ্যকে অভিনন্দন জানাই, উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানাই।
ভারতমাতা কী জয়, ভারতমাতা কী জয়। ভারতমাতা কী জয়।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG/SB/SB
This is a special year. It is the year when we mark 125th birth anniversary of Dr. Ambedkar, who gave us our Constitution: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) January 28, 2016
In Dr. Ambedkar's life there were hurdles and challenges. But the feeling of revenge or ill-will was absent in him: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) January 28, 2016
All of you are here from every part of India. What is it that binds us? It is the Tricolour, Constitution & dreams of 125 crore Indians: PM
— PMO India (@PMOIndia) January 28, 2016
The NCC provides you several experiences, which at your age are invaluable. There is also a spirit of adventure: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) January 28, 2016
You have been preparing for the parade for the last month & that even means waking up early in this cold weather: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) January 28, 2016
Such forums connect people from across India & create a feeling of oneness: PM @narendramodi addresses NCC cadets https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) January 28, 2016
NCC Rally was a great opportunity to interact with cadets. Highlighted how NCC truly enhances India's unity. https://t.co/y0MMG7DFD0
— Narendra Modi (@narendramodi) January 28, 2016
Some pictures from the NCC rally. pic.twitter.com/a3dhIjpNYD
— Narendra Modi (@narendramodi) January 28, 2016