Search

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

এশিয়ান প্যারা গেমসে ভারতীয় চ্যাম্পিয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ

এশিয়ান প্যারা গেমসে ভারতীয় চ্যাম্পিয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ


নতুনদিল্লি, ৫ নভেম্বর, ২০২৬  

 

মন্ত্রিসভার আমার সহকর্মী শ্রী মনসুখ মান্ডভিয়াজি এবং শ্রীমতী রক্ষা খাড়সেজি, প্যারালিম্পিক কমিটি অফ ইন্ডিয়া ও জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা, অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ, পদকজয়ী ক্রীড়াবিদরা, ভদ্রমহোদয়া ও ভদ্রমহোদয়গণ।  

আপনাদের সবার সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই আমি এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে দেখা করেছি, আর এখন প্যারা এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী আপনাদের মতো প্রাণবন্ত সঙ্গীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেলাম। আপনাদের  অসাধারণ ক্রীড়ানৈপূণ্য প্রমাণ করে, ক্রীড়াজগতে ভারত দ্রুত একটি শক্তিশালী শক্তি হিসেবে উঠে আসছে। এত বড় একটি প্রতিযোগিতায় আপনারা শুধু পদকই পান নি, বরং কোটি কোটি ভারতবাসীর হৃদয়ও জয় করে নিয়েছেন। আপনারা আবারও প্রমাণ করলেন, দৃঢ় সংকল্প ও সাহসের মাধ্যমেই সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। ১৪০ কোটি দেশবাসীর পক্ষ থেকে আমি আপনাদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। 

আপনাদের পরিবারের সদস্য, ট্রেনার এবং কোচদেরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আপনাদের এই অর্জিত সাফল্যের জন্য। আমি তাঁদেরও অভিনন্দন জানাই। আমি আগেও বলেছি, একজন ক্রীড়াবিদের জন্য একজন কোচকে যে পরিমাণ পরিশ্রম করতে হয় তা অপরিসীম; আর একজন প্যারালিম্পিক ক্রীড়াবিদের ক্ষেত্রে এই পরিশ্রম আরও অনেক বেশি হয়। তবেই এমন অসাধারণ ফলাফল অর্জন করা সম্ভব। তাই, আমি তাঁদেরও বিশেষ অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

বন্ধুগণ, 

একটা সময় ছিল যখন অধিকাংশ ক্রীড়া ইভেন্টে ভারতের অংশগ্রহণকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হতো। প্যারা-স্পোর্টসেও আমাদের দেশ অনেক পিছিয়ে ছিল। ২০১০ সালের এশিয়ান প্যারা গেমসে ভারত মাত্র একটি স্বর্ণপদক জিতেছিল। সেই টুর্নামেন্টে আমরা সব মিলিয়ে মাত্র চৌদ্দটি পদক অর্জন করতে পেরেছিলাম—মাত্র চৌদ্দটি! অথচ এবার আমাদের ক্রীড়াবিদরা ১১৪টি পদক নিয়ে ফিরে এসেছেন। একবার ভেবে দেখুন, চৌদ্দ থেকে ১১৪-তে পৌঁছানোর এই পথ চলার কথা! এটি আপনাদের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। খেলার প্রতি আপনাদের নিষ্ঠা এবং এর চারপাশে গড়ে ওঠা ক্রীড়া পরিকাঠামোরই জন্য এটি সম্ভব হয়েছে। এবার ৩০টি স্বর্ণ, ৩৫টি রৌপ্য, ৪৯টি ব্রোঞ্জ পদক, ৫টি নতুন বিশ্ব রেকর্ড এবং ৯টি এশিয়ান রেকর্ড গড়ার মাধ্যমে আপনারা পুরো দেশকে গর্বিত করেছেন। ছাপ্পান্ন জন মহিলা ক্রীড়াবিদের মধ্যে চৌত্রিশ জনই পদক লাভ করেছেন। চারটি ইভেন্টে তো পোডিয়ামের তিনটি স্থানই ভারতের দখলে ছিল—অর্থাৎ একই ইভেন্টে ভারত সোনা, রুপা ও ব্রোঞ্জ—তিনটি পদকই পেয়েছে। এমনকি প্রতিযোগিতার শেষ দিনেও আপনারা নয়টি সোনা জিতে এক অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। মনে হচ্ছিল, আপনারা যেন ঠিকই করে ফেলেছিলেন যে, প্রতিযোগিতা চলাকালীন পদক জয়ের এই ধারা কোনোভাবেই থামবে না।  
বন্ধুগণ, 

এবার আমাদের ক্রীড়াবিদরা এমন সব বিভাগে স্বর্ণপদক জিতেছেন, যেখানে ভারত আগে কখনও সাফল্য পায়নি। মোনা আগরওয়াল প্যারা শুটিংয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। হানি তো নিজের গড়া আগের বিশ্ব রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন। হিমাংশু, রবি এবং জেহান তাঁদের নৈপুণ্যের মাধ্যমে পৃথিবীকে দেখিয়ে দিয়েছেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে কীভাবে জয় করা যায়। 

বন্ধুগণ,    
 
একজন ক্রীড়াবিদের ব্যক্তিগত অর্জন হোক বা রাষ্ট্রের যৌথ সাফল্য—বিশ্ব কেবল জয়লাভের উজ্জ্বল দিকটাই দেখে। কিন্তু সেই মুহূর্তটির পেছনে থাকে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম, দিন-রাত ধরে ঝরানো ঘাম, আর অবিচল নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়। এগুলোর ওপর ভিত্তি করেই সাফল্য অর্জিত হয়। যেমন,   এশিয়ান প্যারা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাত্র দুই মাস আগে রিঙ্কুজি তাঁর মাকে হারান। এত বড় শোকের মধ্যেও তিনি নিজের সাহস অটুট রেখেছিলেন। আর যখন তিনি স্বর্ণপদক জিতলেন, তখন তিনি তাঁর মায়ের ছবি উঁচিয়ে ধরলেন এবং সেই পদকটি তাঁর মাকে উৎসর্গ করলেন। সেই মুহূর্তটি প্রতিটি ভারতবাসীর হৃদয়কে ছুঁয়ে গেছে। 

বন্ধুগণ,   

আপনাদের লড়াই এবং সাফল্য অর্জনে প্রত্যেক ভারতবাসী অনুপ্রাণিত হবেন। এই চলার পথে আপনাদের পথ এবং আমাদের দেশের পথ অনেকটাই অভিন্ন। আর ঠিক এই কারণেই, আজ আপনাদের উদ্যোগ এবং সমগ্র জাতির প্রচেষ্টা একত্রিত হয়ে বৃহত্তর এক শক্তি সৃষ্টি করছে। 

বন্ধুগণ,

২০১৪ সালের পর, দেশ যখন বৃহত্তর  এক লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেই  দিকে যাত্রা শুরু করে, তখন পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। অধিকাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানদের খেলাধুলায় পাঠাতে ভয় পেতেন, আর বাচ্চারাও দ্বিধাগ্রস্ত থাকত। সেই  সময় বিশৃঙ্খলা ছিল, সম্পদ, সহায়তা এবং স্বচ্ছতার অভাব ছিল। সবাই বলতেন, এই অবস্থায় কোনো কিছুই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তারা একেই বাস্তবতা হিসেবে মেনে  নিয়েছিলেন। কিন্তু আপনারা যেমন কোনো চ্যালেঞ্জের কাছে  কখনো  হার মানেননি, তেমনই দেশও শুধু নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেছে। আমরা সংকল্প নিয়েছিলাম, আমাদের তরুণদের প্রতিভা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেব না। তাই, আমরা সেই ব্যবস্থাকেই বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলাম, যা আপনাদের মতো তরুণদের এগিয়ে যেতে বাধার কারণ ছিল। এর ফলে খেলাধুলার ক্ষেত্রে একটি নতুন ভাবনা তৈরি হয়েছে।  আজ, কোনো তরুণ ক্রীড়াবিদের যদি নিজের প্রতিভার ওপর আস্থা থাকে, তবে তিনি এটাও বিশ্বাস করবেন, গোটা দেশ তার পাশে আছে। আমাদের প্যারা-স্পোর্টসের ব্যবস্থাপনাই এর অন্যতম বড় উদাহরণ। যেসব খেলায় একসময় ভারতের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত সীমিত, সেখানে এখন আমাদের উপস্থিতি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে।  তিরন্দাজি, অ্যাথলেটিক্স, শুটিং, সাঁতার, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, জুডো, ভারোত্তোলন এবং আরও অনেক খেলায় নতুন নতুন তরুণ ক্রীড়াবিদ উঠে আসছেন। আমরাও খুঁজে পাচ্ছি নতুন নতুন চ্যাম্পিয়নদের।  এবার এশিয়ান প্যারা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আমাদের ৬১ জন ক্রীড়াবিদ  প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করেছেন। নতুন ৬১ জন ক্রীড়াবিদ। আর এই নতুন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৬ জনই পদক লাভ করে দেশে ফিরেছেন। সন্দীপ তো তার  প্রথম প্রতিযোগিতাতেই বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন! তরুণ ক্রীড়াবিদদের এই অংশগ্রহণ বর্তমান ভারতের মানসিকতার প্রতিফলন এবং ভবিষ্যতের ভারতের বার্তা দেয়। 

বন্ধুগণ,   

আমরা খেলাধুলাকে শুধুমাত্র জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একগুচ্ছ প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচনা করি না। আমাদের কাছে খেলাধুলা হলো চরিত্র গঠন ও জাতি গঠনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। খেলাধুলাই তরুণদের শেখায় কীভাবে হারার পর জিততে হয়। খেলাধুলায় শৃঙ্খলা এবং দলীয় সংহতি শেখায়। 

বন্ধুগণ,    

এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা দেশের জন্য আধুনিক একটি ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলছি। স্কুল পর্যায়ে এবং তৃণমূল স্তরে বিভিন্ন কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। প্রচুর ‘খেলো ইন্ডিয়া কেন্দ্র’ গড়ে তোলা হয়েছে। আমরা ‘টপস’ প্রকল্পও শুরু করেছি, যাতে ক্রীড়াবিদরা অলিম্পিক-স্তরের প্রশিক্ষণ পেতে পারেন।  অলিম্পিকের কথা বিবেচনা করে, এবার আমি লাল কেল্লার প্রাকার থেকে তরুণদের প্রতিভা অন্বেষণ অভিযানের মাধ্যমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছি। 

বন্ধুগণ, 

এই সমস্ত উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের খেলাধুলাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে, আপনাদের মতো ক্রীড়াবিদরা অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করছেন এবং বড় বড় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় দেশকে গৌরবান্বিত করছেন। সদ্য সমাপ্ত প্যারা গেমসে আমরা  আবারও সেটি দেখেছি। এই প্রতিযোগিতায় ‘টপস’ এর  সহায়তা প্রাপ্ত ক্রীড়াবিদরা ৪১টি পদক পেয়েছেন, আর ‘খেলো ইন্ডিয়া’র ক্রীড়াবিদরা জিতেছেন ১৯টি পদক। এর মাধ্যমে প্রমাণিত, আমরা ঠিক পথেই এগিয়ে চলেছি। 

বন্ধুগণ,   

বর্তমানে ভারতের আধুনিক ক্রীড়া নীতি যুব সম্প্রদায়ের জন্য খেলার মাঠের বাইরেও অনেক নতুন সুযোগ তৈরি করছে। ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন, খেলা ধুলার সরঞ্জাম উৎপাদন এবং ক্রীড়া সম্প্রচার সংক্রান্ত অর্থনীতি—সবই তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ছে। 

বন্ধুগণ,   

কিছুদিন আগেই সরকার ১,৮০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ‘খেলো ইন্ডিয়া স্পোর্টস গুডস ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিম’-এর অনুমোদন দিয়েছে। আমাদের ক্রীড়া সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করার সময় এসেছে। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কোনো ভারতীয় বা বিদেশি ক্রীড়াবিদ যখন খেলার মাঠে নামেন, তখন তাঁদের ব্যবহৃত ক্রীড়া সরঞ্জামগুলো যেন ভারতে তৈরি হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের পোশাক এবং জুতোও যেন ভারতে তৈরি হয়। আমরা চাই ভারত কেবল বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদই নয়, বরং বিশ্বমানের ক্রীড়া সরঞ্জামও তৈরি করুক। আমরা চাই ক্রীড়া সংক্রান্ত ভারতীয় সরঞ্জাম বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে যাক। এটি ভারতের অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগকে শক্তিশালী করবে এবং ছোট ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলে নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

বন্ধুগণ, 

আজকের এই অনুষ্ঠানের পর, আপনারা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও প্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত হবেন। সেখানে যুব সম্প্রদায় আপনাদের কথা শুনবেন এবং আপনাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে চাইবেন। তাদের সঙ্গে কথা বলার সময়, খেলার মাঠে জেতার  কৌশল শেখানোর পাশাপাশি, মাঠের বাইরে খেলাধুলার সঙ্গে  যুক্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথাও তাদের জানান। পাশাপাশি, আমাদের ভিন্নভাবে সক্ষম ভাই-বোনদের জীবনযাত্রা সহজ  করার জন্য দেশজুড়ে যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, সে   সম্পর্কেও তাদের জানান। কিছুদিন আগেই মন্ত্রিসভা  ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের পেনশন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা পেনশনের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছি। আগে  প্রতিবন্ধকতার যে মানদণ্ড ৮০ শতাংশ ছিল, তা কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে। আগে পেনশন পাওয়ার জন্য বয়স আঠারো বছর হতে হতো, কিন্তু এখন জন্মগতভাবে ভিন্ন ভাবে সক্ষম শিশুদের জন্যও পেনশনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।  একইভাবে, ভারতীয় সাইন ল্যাঙ্গুয়েজকে উৎসাহিত করার জন্য উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দশ হাজারেরও বেশি শব্দ সংবলিত একটি সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের অভিধান তৈরি করা হয়েছে। স্কুলের পাঠ্যপুস্তকগুলিও এখন সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে পাওয়া যাচ্ছে। ‘অ্যাক্সেসিবল ইন্ডিয়া ক্যাম্পেইন’-এর মাধ্যমে সর্বসাধারণের ব্যবহার্য স্থানগুলিকে ভিন্ন সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য আরও সহজগম্য করে তোলা হচ্ছে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, দেশের প্রতিটি ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তি যেন মর্যাদা ও সমান সুযোগ লাভ করেন এবং নিজের দক্ষতার জোরে জীবনে এগিয়ে যেতে পারেন। 

বন্ধুগণ,  

মনে রাখবেন আইচি-নাগোয়া-র পোডিয়াম আপনাদের চলার পথের অন্তিম গন্তব্য নয়। এই সাফল্যকে আপনারা আরও বড় লক্ষ্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করুন। ভারতের জন্য, এবং আপনাদের অধিকাংশ ক্রীড়াবিদের জন্য পরবর্তী লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস ক্রীড়া  প্রতিযোগিতা। অবনী এবং মণীশ ইতিমধ্যেই লস অ্যাঞ্জেলেসের জন্য নিজেদের স্থান নিশ্চিত করে ফেলেছেন। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস গেমসে যত বেশি সম্ভব, তত জন ভারতীয় ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করেন এবং  দেশের জন্য আরও বেশি পদক নিয়ে আসতে পারেন। এই মুহূর্তটিকে আপনারা প্রাণভরে উপভোগ করুন, তবে একই সঙ্গে পরবর্তী প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতিও শুরু করে দিন।  পুরো দেশ আপনাদের পাশে আছে, আমিও আপনাদের সঙ্গে  আছি। সমগ্র দেশ আপনাদের পরবর্তী জয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। আবারও আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানাই।  

দীপাবলির মহোৎসব শুরু হয়ে গেছে। এবার অত্যন্ত গর্ব, উৎসাহ ও জাঁকজমকের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করুন। তবে দীপাবলি উদযাপনের পাশাপাশি মনে মনে পরবর্তী লক্ষ্য স্থির করুন এবং নতুন সংকল্প নিয়ে এগিয়ে চলুন। আপনাদের সবার জন্য রইল আমার আন্তরিক শুভকামনা ।

সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

( প্রধানমন্ত্রী মূল ভাষণটি হিন্দিতে দিয়েছিলেন) 

 

 

MKH/CB/DM..