পিএমইন্ডিয়া
ভারত মাতার জয়!
ওড়িশার রাজ্যপাল মাননীয় অধ্যাপক গণেশলাল, আমার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য শ্রী জুয়েল ওরাঁও, শ্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, শ্রীমতী স্নেহাঙ্গিনী ছুরিয়া, সংসদ সদস্য শ্রী কিলীকেশ নারায়ণ সিংহদেব এবং এখানে উপস্থিত প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
নববর্ষে আরেকবার আমার ওড়িশা আসার সৌভাগ্য হল। মকর সংক্রান্তির দিনে এখানে আসা এবং উন্নয়নের নতুন আলোকে সমৃদ্ধ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পবিত্র উৎসব উপলক্ষে ওড়িশাবাসী তথা সমগ্র দেশবাসীকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
বন্ধুগণ, পূর্ব ভারতের উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকার নিরন্তর ওড়িশার উন্নয়নের অভিযান জারি রেখেছে। বিগত এক মাসে এই নিয়ে তৃতীয়বার আমি আপনাদের মাঝে এসেছি। একটু আগেই এখানে সাড়ে ১৫ কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত বেশ কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাসের সৌভাগ্য হয়েছে। ওড়িশায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়গুলির জনপ্রিয়তা ক্রমবর্ধমান। এই চাহিদা দেখে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে ২০১৪-র পর এই রাজ্যে বেশ কয়েকটি নতুন কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে, আরও বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
বন্ধুগণ, শিক্ষা মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটায়। এই সম্পদকে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমেই সুযোগে পরিণত করা সম্ভব। একথা মাথায় রেখে ওড়িশার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে। আজ রেলের ছয়টি প্রকল্পের উদ্বোধন হয়েছে। এতে ওড়িশার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য রাজ্যে যাতায়াতও সহজ হবে। কৃষক ভাই-বোনেদের নিজেদের ফসল বড় হাট, বড় শহরের বড় বাজারে নিয়ে যেতে সুবিধা হবে। যাতায়াত ও পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত হলে এখানে শিল্পের উপযোগী পরিবেশ গড়ে উঠবে। আর এখানে শিল্পোদ্যোগ আসতে শুরু করলে যুবক-যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থানের অনেক সুযোগ তৈরি হবে।
বন্ধুগণ কিছুক্ষণ আগেই বলাঙ্গীর থেকে বিচ্ছুপল্লী পর্যন্ত নতুন রেলপথের উদ্বোধন হল। এ পথে নতুন চালু হওয়া রেলগাড়িকে সবুজ পতাকা দেখানো হল। সেজন্য আমি আপনাদের সকলকে শুভেচ্ছা জানাই। তাছাড়া ঝারসুগুড়ার ‘মাল্টি-মডেল লজিস্টিক পার্ট’ ঝারসুগুড়া-ভিজিনগরম এবং সম্বলপুর-আঙ্গুল রেলপথের বৈদ্যুতিকীকরণ, বারপল্লী-ডুগরীপল্লী এবং বলাঙ্গীর-দেবগাঁও রেলপথ সম্প্রসারণ, আর নাগাবলী নদীর ওপর নির্মিত সেতুর জন্যও আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই।
বন্ধুগণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলে প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রেই এর ইতিবাচক প্রভাব পরে। বিশেষ করে পর্যটনের সম্ভাবনা সর্বাধিক বৃদ্ধি পায়। ওড়িশায় তো এমনিতেই সব ধরণের পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র রয়েছে। এখানে অরণ্য আছে, সমুদ্র সৈকতও আছে। প্রকৃতির ঐশ্বর্য এ রাজ্যে অঢেল। তেমনই ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্রও রয়েছে। সেজন্য কেন্দ্রীয় সরকার ওড়িশার অনেক মন্দির, পুরনো দুর্গ ইত্যাদির সংস্কারের এবং সৌন্দর্যায়নের প্রকল্প শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ায় নীল মাধব এবং সিদ্ধেশ্বর মন্দিরের সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ আজ শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পশ্চিম সোমনাথ মন্দির, ভুবনেশ্বর মন্দির এবং কপিলেশ্বর মন্দিরের সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ায় আজ সেগুলির উদ্বোধন করা হয়েছে। যে পারম্পরিক বাণিজ্যপথ ওড়িশাকে মধ্য ভারতের সঙ্গে যুক্ত করে, সেই পথে অনেক ঐতিহাসিক স্মারক রয়েছে। এই স্মারকগুলির সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজেও সরকার এগিয়ে এসেছে। সেই প্রক্রিয়ায় বলাঙ্গীর অঞ্চলে রানিপুর ও ঝরয়ালের স্মারকগুলিরও সংস্কার করা হচ্ছে। পাশাপাশি, চৌষট্টি যোগিনী মন্দির, লহরাগুণী সোমেশ্বর, রানিগুণী কিংবা ইন্দ্রালী মন্দিরের মতো আমাদের আস্থাস্থল ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যবাদী সমস্ত স্থাপত্যকর্ম ও ভাস্কর্য্যের সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বন্ধুগণ, আজ আরেকটি স্মারকের নবীকরণের কাজ শুরু হয়েছে। কালাহান্ডির অসুরাগঢ় দুর্গ আমাদের শৌর্যের প্রতীক। পাশাপাশি এটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রও ছিল। এটি ছিল কলিঙ্গের সঙ্গে মহাকান্তারার সংযোগস্থল। দেশের ইতিহাসের এই সোনালি অধ্যায়গুলিকে আবার জুড়তে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এখানকার মূল পরিষেবাগুলি উন্নয়নের ফলে পর্যটনে গতি বাড়বে, আর কর্মসংস্থানের সুযোগ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
বন্ধুগণ, আজ এখানে ছয়টি নতুন ডাকঘর পাসপোর্ট পরিষেবা কেন্দ্রের সূচনা হল। বলাঙ্গীর ছাড়াও জগৎসিংহপুর, কেন্দ্রপাড়া, পুরী, ফুলবনী, বারগঢ়ে এই নতুন কেন্দ্রগুলি খোলার পর এখানকার নাগরিকদের আর পাসপোর্টের জন্য অনেক দূরে যেতে হবে না।
বন্ধুগণ, আজ আপনাদের সবাইকে, ওড়িশাবাসীদের সবার জীবনকে সহজ করার জন্য নির্মিত ও নির্মীয়মান এই সকল প্রকল্পের জন্য আপনাদের অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই। আপনাদের আরেকবার নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
***
CG/SB/DM/