Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ওয়াশিংটন ডিসি’তে যৌথসাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য 

ওয়াশিংটন ডিসি’তে যৌথসাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য 

ওয়াশিংটন ডিসি’তে যৌথসাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য 

ওয়াশিংটন ডিসি’তে যৌথসাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য 


রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প,

বন্ধুগণ,

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে আগত ভদ্র মহিলা ওভদ্র মহোদয়গণ,

সর্বপ্রথম ওপেনিং ট্যুইট থেকে শুরু করে আজকের আলোচনা শেষ হওয়া অবধি,রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের বন্ধুত্বপূর্ণ স্বাগত অনুষ্ঠান, হোয়াইট হাউসে তাঁর এবংফার্স্ট লেডি দ্বারা আড়ম্বরপূর্ণ অতিথি সৎকারের জন্য আমি হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন করছি। রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প, আমার সঙ্গে এতটা সময় কাটানোর জন্য আপনাকে বিশেষঅভিনন্দন। আমার এই সফরে আপনার সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে, তা উভয় দেশের পারস্পরিকসহযোগিতার ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসাবে সংযোজিত হবে।

বন্ধুগণ, রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের সঙ্গে আমার আজকের কথাবার্তা সব দিক থেকেই   অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ  –

·    এই আলোচনারভিত্তি ছিল পারস্পরিক আস্থা।

·    এরপ্রেক্ষিতে ছিল – আমাদের মূল্যবোধ, অগ্রাধিকার, চিন্তাভাবনা এবং রুচির মিল।

·    ভারত ওযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্ব ইতিমধ্যেই শীর্ষে পৌঁছেযাওয়ার উপলব্ধি রয়েছে।

·    আমরা উভয়েই ‘বিশ্বজোড়া বিকাশের চালিকাশক্তি’।

·    উভয় দেশেরসমাজের চতুর্মুখী আর্থিক উন্নয়ন এবং সম্মিলিত প্রগতিই আমার ও রাষ্ট্রপতিজিরআলোচনার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল।

·    সন্ত্রাসবাদেরমতো আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে, সামাজিক সুরক্ষা নিয়েআলোচনাকেই আমরা উভয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছি।

·    ভারত ওযুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের দুই বিশাল গণতন্ত্রের পারস্পরিক ক্ষমতায়নই আমাদের উদ্দেশ্য।

বন্ধুগণ, আমাদের এহেন মজবুত কৌশলগত অংশীদারিত্ব মানবিক প্রচেষ্টার প্রায়সকল ক্ষেত্রকে স্পর্শ করেছে। আজ রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প ও আমি দু’দেশের পারস্পরিকসম্পর্কের প্রত্যেক মাত্রা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। দু’দেশের পারস্পরিকসম্পর্ককে আমরা উভয়েই কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।এই প্রেক্ষিতে উভয় দেশে ক্রমবর্ধমান উৎপাদনশীলতা, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান আরব্রেকথ্রু প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দৃঢ় বন্ধন আমাদের সহযোগিতাকে সম্পর্কের দৃঢ়পরিচালিকা শক্তি রূপে পরিগণিত করে তুলবে।

ভারতের সামাজিক-আর্থিক পরিবর্তনের জন্য আমাদের দিশারী কর্মসূচিতে আমরাআমেরিকাকে প্রধান অংশীদার বলে মনে করি। আমার বিশ্বাস যে, আমার নতুন ভারতের স্বপ্নআর রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্বপ্নে নিহিত আকাঙ্খা আমাদেরপারস্পরিক সহযোগিতায় নতুন মাত্রা এনে দেবে। ব্যবসা-বাণিজ্য আর বিনিয়োগ সংযোগেরক্ষেত্রে যথাসম্ভব উন্নয়ন আমাদের প্রচেষ্টার সম্মিলিত অগ্রাধিকার হবে। এক্ষেত্রেপ্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং জ্ঞান-ভিত্তিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিস্তার এবংনিবিড়তা আমাদের প্রধান উদ্দেশ্যের অন্যতম। সেজন্য আমরা আমাদের সফল ডিজিটালপার্টনারশিপ’কে আরও সুদৃঢ় করতে পদক্ষেপ নেব।

বন্ধুগণ,

আমরা শুধুই সম্ভাবনার ক্ষেত্রে সহযোগী হয়ে উঠব না, বর্তমানে আমরা যেসবসমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি, সেগুলির সমাধানেও পরস্পরকে সাহায্য করব। আজকের আলোচনায়আমরা সন্ত্রাসবাদ, আতঙ্কবাদ এবং উগ্রবাদ সারা পৃথিবীতে যে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টিকরেছে, সেগুলির মোকাবিলা করতে পরস্পরের দিকে সহযোগিতার হাত কিভাবে বাড়ানো যায় – তানিয়ে কথা বলেছি। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই আর সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদআশ্রয়দানের প্রক্রিয়ায় ইতি টানা আমাদের পারস্পরিক সহ অংশীদারিত্বের একটিগুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। আমরা সন্ত্রাসবাদী সংগঠন সংক্রান্ত গোপন ও গোয়েন্দা তথ্যেরআদান-প্রদানের ক্ষেত্রে নীতিগত সহযোগিতা আর নিবিড় করবো। আমাদের মধ্যে নানা আঞ্চলিকবিষয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আফগানিস্তানে ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদী  কার্যকলাপ ও অস্থিরতা নিয়ে আমরা উভয়েই চিন্তিত।আফগানিস্তানের পুননির্মাণ এবং নিরাপত্তা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভারত ও আমেরিকা উভয়েইগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমরা আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিরতা বৃদ্ধির জন্যরাষ্ট্রসংঘের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহমত।

ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিরতা আমাদের কৌশলগতসহযোগিতার মুখ্য উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে সম্ভাবনা এবং সমস্যাগুলি থেকে উদ্ভূতনিরাপত্তা ক্ষেত্রে আমাদের কৌশলগত সহযোগিতার মাত্রা নিয়মিতভাবে নির্ধারিত করতেথাকব। বিভিন্ন নিরাপত্তা সমস্যা নিয়ে আমাদের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষাসহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয় নিয়েও আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি।ভারত’কে প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্যআমরা আমেরিকার কাছে কৃতজ্ঞ। পারস্পরিক সামুদ্রিক সুরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়েওআমরা আলোচনা করেছি। পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং প্রতিরক্ষাসামগ্রী উৎপাদনে অংশীদারিত্ব উভয় দেশের পক্ষেই লাভজনক প্রতিপন্ন হবে। আমরা বিভিন্নআন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও নিজেদের সামরিক লাভের কথা ভেবে আলোচনা করেছি। এইপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভারতের সদস্যতার আর্জিকে ক্রমাগত সমর্থনজানানোর জন্য আমরা আমেরিকার কাছে কৃতজ্ঞ। এটাও উভয় দেশের পক্ষেই লাভজনক প্রতিপন্নহবে।

রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প,

ভারত ও ব্যক্তিগতভাবে আমার প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আপনাকেধন্যবাদ জানাই। আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার বলিষ্ঠ অঙ্গীকারঅভিনন্দনযোগ্য। আমি আস্থাবান যে, আপনার নেতৃত্বে আমাদের দ্বিপাক্ষিক লাভজনক কৌশলগতঅংশীদারিত্ব এক নতুন ইতিবাচক উচ্চতা স্পর্শ করবে।

বাণিজ্যিক দুনিয়ায় আপনার ব্যক্তিগত সাফল্যের অসীম অভিজ্ঞতা আমাদেরদ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার ভবিষ্যৎ কর্মসূচি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে বলেআমার বিশ্বাস। ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই পর্যায়ে সফল নেতৃত্ব দেওয়ারজন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, উভয় দেশের মিলিত উন্নয়নের এইসফরে আমি আপনার বিশ্বস্ত দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ অংশীদার হিসাবে কাজ করে যাব।

মহামান্য বন্ধু,

আমার আজকের সফর আর আপনার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা অত্যন্ত সফল। মঞ্চ ছাড়ারআগে আপনাকে আমি সপরিবারে ভারতে আসার জন্য নিমন্ত্রণ জানাই। আশা রাখি, আপনারা আমাকেভারতে আপনাদের অতিথি আপ্যায়নের সুযোগ দেবেন।  অবশেষে, আরেকবার আপনাকে আর ফার্স্ট লেডি’কে আমাকে স্বাগত জানানোর জন্যকৃতজ্ঞতা জানাই।

ধন্যবাদ।

PG/SB/ SB