পিএমইন্ডিয়া
কর্ণাটকের খরা ও জলসঙ্কট পরিস্থিতি এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে খতিয়ে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর নেতৃত্বে শনিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী সিদ্ধারামাইয়া সহ রাজ্য ও কেন্দ্রস্তরের পদস্থ আধিকারিকবৃন্দ।
আলোচনার সূত্রপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১১টি খরা কবলিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে তিনি পৃথক পৃথক বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। খরা পরিস্থিতির মোকাবিলায় সম্ভাব্য পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয় সম্পর্কে তিনি এই বৈঠকগুলিতে মতবিনিময় করছেন। মধ্য থেকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
খরিফ মরশুমে ১,৫৪০ কোটি ২০ লক্ষ টাকার কেন্দ্রীয় সহায়তার জন্য বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী। কৃষকদের সহায়তাদানের লক্ষ্যে প্রাপ্ত অর্থের পূর্ণ সদ্ব্যবহার হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শ্রী সিদ্ধারামাইয়া বলেন, আরটিজিএস পদ্ধতিতে এই আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের কাছে। রবি মরশুমে ৭২৩ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা সম্প্রতি অনুমোদিত হয়েছে বলেও তিনি প্রসঙ্গত উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান যে এই অর্থ অনতিবিলম্বেই কৃষক কল্যাণে ব্যয়িত হবে।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে বিশেষ খরা ত্রাণ সহায়তা তহবিল থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঐ রাজ্যকে দেওয়া হয় ২০৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ বছরে ঐ তহবিল থেকে প্রথম কিস্তিবাবদ ১০৮ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে পেয়েছে কর্ণাটক রাজ্য।
২০১৬-১৭ অর্থ বছরে কর্ণাটককে দেওয়া হবে আরও ৬০৩ কোটি টাকা। জল সংরক্ষণ এবং খরা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মসূচি রূপায়নে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এছাড়াও, ৮৩০ কোটি টাকা দেওয়া হবে বিভিন্ন কৃষি প্রকল্পের আওতায়।
ভয়াবহ খরা পরিস্থিতিতে রাজ্যবাসীর বিভিন্ন সমস্যার কথা বৈঠকে তুলে ধরেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন নদ-নদী ও জলাধার ক্রমশ শুকিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তার প্রামাণ্য একটি চিত্র তিনি তুলে ধরেন তাঁর বক্তব্যে।
জল কাদামুক্ত করা, জল সংরক্ষণ এবং ভূগর্ভস্থ জলের পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সম্ভাব্য পন্থা-পদ্ধতির বিষয়গুলি নিয়ে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিশদভাবে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদী। বর্ষার মরশুম শুরু হওয়ার আগেই আগামী ৩০-৪০ দিনের মধ্যে কৃষির উপযোগী জলাধার তৈরি, বাঁধগুলিকে সারিয়ে তোলা এবং জল কাদামুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।
বর্জ্য ও নিকাশি জলের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে রাজ্য সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন শ্রী সিদ্ধারামাইয়া। রাজ্য সরকারের এই প্রচেষ্টার বিশেষ প্রশংসা করে রাজ্যের শহর ও মফঃস্বলে এই ধরনের ব্যবস্থার বিশেষ প্রসারের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’ রূপায়ণের প্রাথমিক তথা প্রস্তুতি পর্বে কর্ণাটকে যে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে সে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে শ্রী সিদ্ধারামাইয়া শস্য বিমা সম্পর্কে রাজ্যের তরফে কয়েকটি প্রস্তাবও পেশ করেন এদিনের বৈঠকে।
পর্যালোচনাকালে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী। শ্রী মোদী কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সকলরকমের সহায়তাদানের প্রতিশ্রুতি দেন তাঁকে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খরা পরিস্থিতির মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্যের উচিত একযোগে কাজ করে যাওয়া। কারণ এই সমস্যা পৃথকভাবে কোন একটি রাজ্যের সমস্যা নয়, এটি ‘সমষ্টি’র সমস্যা। তাই, এর সমাধান খুঁজতে হবে পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জল সংরক্ষণ এবং জলের ব্যবস্থাপনার মতো কাজগুলিতে রাজ্যগুলির মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার সময় এখন উপস্থিত। জল সংরক্ষণ এবং জলের ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একটি সূচক স্থির করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী এবং এই উদ্দেশ্যে তিনি পরামর্শও দেন নিতি আয়োগকে।
PG/SKD/DM/S
The third extensive meeting on drought mitigation took place with the CM of Karnataka & officials from the state. https://t.co/YeKzLZoZ2u
— Narendra Modi (@narendramodi) May 7, 2016
Urged the Karnataka Govt to give importance to desilting, farm tanks & check dams before the onset of the monsoon. This will be beneficial.
— Narendra Modi (@narendramodi) May 7, 2016
CM Siddaramaiah briefed me about the steps taken for water management & their efforts to implement Pradhan Mantri Fasal Bima Yojana.
— Narendra Modi (@narendramodi) May 7, 2016