পিএমইন্ডিয়া
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দাতো শ্রী মহম্মদ নাজিব,
মাননীয় অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ,
মাননীয় প্রতিনিধিবৃন্দ,
এই সুন্দর কুয়ালালামপুর শহরে শীর্ষ বৈঠকের অপূর্ব ব্যবস্থাপনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নাজিব এবং মালয়েশিয়ার জনসাধারণকে আমি বিশেষভাবে প্রশংসা জানাই।
পূর্ব এশিয়া শীর্ষ বৈঠক পর্যালোচনার এই চমৎকার আয়োজনের জন্য আমি আপনাদের জানাই অভিনন্দন।
এই শীর্ষ বৈঠকটি প্রকৃত অর্থেই ঐতিহাসিক। আসিয়ান গোষ্ঠী গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত দৃষ্টিভঙ্গী এবং ২০২৫ সাল পর্যন্ত লক্ষ্য ও পন্থাপদ্ধতি উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধির জন্য আসিয়ানের সদস্যদের আমি সাধুবাদ জানাই।
আঞ্চলিক স্তরে সংহতি ও সমঝোতার বাতাবরণকে আরও প্রসারিত করার লক্ষ্যে আসিয়ান এক অগ্রণী ও কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।
মাননীয় প্রতিনিধিবৃন্দ,
এই মঞ্চে সন্ত্রাসবাদকে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের একটি মূল সমস্যা বলে আমরা চিহ্নিত করে থাকি। প্যারিস, আঙ্কারা, বেইরুট, মালি এবং রাশিয়ার বিমানে বর্বরোচিত সন্ত্রাসবাদী হামলার যে ঘটনা ঘটেছে তা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে তার ছায়া ক্রমশ আমাদের সমাজ তথা বিশ্বকেও গ্রাস করতে চলেছে। সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম এবং তার লক্ষ্য দু’দিক থেকেই চলছে এই আক্রমণ। সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় তাই সারা বিশ্বকেই গ্রহণ করতে হবে এক নতুন সঙ্কল্প এবং উদ্ভাবন করতে হবে এক নতুন কৌশল। কোনরকম রাজনৈতিক চাপ বা বাধ্যবাধকতার কাছে নতিস্বীকার করলে চলবে না। সন্ত্রাসবাদের ব্যবহার বা তার সমর্থন থেকে দূরে থাকা উচিত সবক’টি দেশেরই। সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে কোন পার্থক্য করলে চলবে না বা তাদের কোনরকম আশ্রয় দেওয়াও চলবে না। দেখতে হবে, তাদের কাছে যাতে অর্থ ও অস্ত্রশস্ত্রের যোগান পুরোপুরি বন্ধ করা যায়। তবে, সামাজিক কাঠামোর মধ্যে থেকে এবং যুবশক্তিকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের এই কাজে এগিয়ে যেতে হবে। সন্ত্রাস থেকে ধর্মকে বিচ্চিন্ন করার অঙ্গীকারকে আমি স্বাগত জানাই। আমি স্বাগত জানাই সেই প্রচেষ্টাকে যা প্রতিটি বিশ্বাসকে মর্যাদা দিয়ে মানুষের মূল্যবোধকে তুলে ধরে।
প্যারিসে জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর আর মাত্র কিছুদিনের মধ্যেই এক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সেই মঞ্চে শুধুমাত্র জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় একটি সুনির্দিষ্ট ভারসাম্য রক্ষার পথ খুঁজে নেওয়ার মধ্যেই আমরা সীমাবদ্ধ থাকব না। একইসঙ্গে, সন্ত্রাসের ভয়ে কোন অবস্থাতেই পিছিয়ে যাব না এই সুস্পষ্ট বার্তাও আমরা পৌঁছে দেব সকলে ঐক্যবদ্ধ থেকে।
মাননীয় প্রতিনিধিবৃন্দ,
১৮ মাস আগে আমার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগর অঞ্চলে যে ধরনের কর্মব্যস্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে, পৃথিবীর অন্য কোন অঞ্চলে তার নজির মেলা ভার। এই ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় যে এই অঞ্চলের গুরুত্ব ভারত তথা বিশ্বের পক্ষে যে সমানভাবে প্রযোজ্য সে সম্পর্কে আমাদের দেশে গড়ে উঠেছে এক অভিন্ন সহমত।
বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও অনিশ্চয়তার মোকাবিলায় সমগ্র বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে এই অঞ্চলটির দিকে। এর মধ্যেই এক স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক পরিবর্তন তথা রূপান্তরের পথে এগিয়ে চলেছে আমাদের এই অঞ্চলটি।
সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পূর্ব এশিয়ার শীর্ষ বৈঠক হল একটি মূল মঞ্চ।
প্রথমত, নিরাপত্তা ও সহযোগিতার লক্ষ্যে ভারসাম্যের ভিত্তিতে এবং অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে এক স্বচ্ছ ও উদার আঞ্চলিক পরিস্থিতি গড়ে তোলার উপায় উদ্ভাবনের জন্য পূর্ব এশিয়া শীর্ষ বৈঠককে কাজ করে যেতে হবে। আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও নিয়মকানুনকে সম্মান জানিয়ে এবং তা আরও শক্তিশালী করে তুলতে আমাদের সমবেত অঙ্গীকারকে সুদৃঢ় করে তুলতে হবে।
দ্বিতীয়ত, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা গড়ে তোলার জন্য মহাসাগরগুলির গুরুত্ব অপরিসীম। নৌ ও আকাশপথে পরিবহণের স্বাধীনতা এবং অপ্রতিহত বাণিজ্যিক প্রসার সম্ভব করে তুলতে আসিয়ানভুক্ত সবক’টি দেশের সঙ্গেই ভারত সমানভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। আন্তর্জাতিক আইনের নীতিগুলিকে সম্মান জানিয়েই আমাদের এই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। সমুদ্রের আইন সম্পর্কিত ১৯৮২ সালের রাষ্ট্রসঙ্ঘের ঘোষণাও আমাদের মেনে চলতে হবে। ভূখণ্ড বা সীমানা সম্পর্কিত যেকোন ধরনের বিবাদের নিষ্পত্তি প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ পথ ও উপায়েই।
সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশ ‘UNCLOS’ –এর সাহায্যে তাদের নৌ-সীমানার বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছে। দক্ষিণ চিন সাগর সম্পর্কিত যাবতীয় বিবাদ-বিসংবাদ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দক্ষিণ চিন সাগর ব্যবহার সম্পর্কিত ঘোষণাকে মেনে নিয়ে সব পক্ষকেই সমাধানের পথ খুঁজে নিতে হবে। একইভাবে তাদের মেনে চলতে হবে এই ঘোষণার বাস্তব রূপায়ণের খুঁটিনাটি বিষয়গুলিও। সহমতের ভিত্তিতে সব পক্ষই এক আচরণবিধি মেনে চলতে আরও দ্বিগুণ উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আমার বিশ্বাস।
তৃতীয়ত, সাইবার নিরাপত্তা প্রশ্নেও ঘনিষ্ঠতর সহযোগিতার লক্ষ্যে আমাদের প্রয়োজন দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণের। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কতকগুলি নিয়মনীতি গড়ে তোলার জন্য আমাদের সচেষ্ট হতে হবে। মনে রাখতে হবে, মহাকাশ সম্পর্কেও আমাদের উদ্বেগ-আশঙ্কা কম নয়। কোনরকম ফাঁকফোকর বা ত্রুটি-বিচ্যুতি যাতে না থাকে তা নিশ্চিত করতে জোরদার করে তুলতে হবে আমাদের সহযোগিতা।
আসিয়ান দেশগুলির সঙ্গে ভূখণ্ড ও নৌ-সীমানার সম্পর্ক রয়েছে ভারতের। আসিয়ান এবং পূর্ব ও দক্ষিণের অংশীদারদের মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করে তুলতে ভারত তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। আসিয়ান দেশগুলির নেতৃত্বে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারত অংশগ্রহণ করবে সক্রিয়ভাবেই।
চতুর্থত, আঞ্চলিক স্তরে দ্রুত এক সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বরাবর সহযোগিতা গড়ে তোলাও আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। আমি আশা করি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এক সংহত অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক আমরা সম্ভব করে তুলতে পারব এই অঞ্চলে।
পরিশেষে, পূর্ব এশিয়া শীর্ষ বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উন্নয়ন সংক্রান্ত সহযোগিতা। সহযোগী দেশগুলির কর্মপ্রচেষ্টাকে ভারত নিরন্তর সমর্থন যুগিয়ে যাবে। দক্ষিণ ও পূর্বের মধ্যে জ্ঞানের আদান-প্রদান সম্পর্কিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বিপর্যয় মোকাবিলা, নার্সিং ও ট্রমার চিকিৎসা ও যত্ন গ্রহণের ক্ষেত্রে। বিশ্বমানের শিক্ষা ও জ্ঞানের এক পীঠস্থান হিসেবে গড়ে উঠছে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়।
রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কৌশলগত আলোচনার জন্য পূর্ব এশিয়া শীর্ষ বৈঠক যে দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণ করেছে, আমরা তাকে সমর্থন জানাই। ধন্যবাদ।
PG/SKD/DM
World leaders are present at the East Asia Summit in Kuala Lumpur. Watch. https://t.co/GsY0hYOmHN
— PMO India (@PMOIndia) November 22, 2015
Glimpse from the East Asia Summit. pic.twitter.com/QRE5rHPsro
— PMO India (@PMOIndia) November 22, 2015