Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী – তাঁর কর্মব্যস্ততার এক ঝলক

কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী –  তাঁর কর্মব্যস্ততার এক ঝলক

কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী –  তাঁর কর্মব্যস্ততার এক ঝলক

কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী –  তাঁর কর্মব্যস্ততার এক ঝলক

কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী –  তাঁর কর্মব্যস্ততার এক ঝলক

কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী –  তাঁর কর্মব্যস্ততার এক ঝলক

কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী –  তাঁর কর্মব্যস্ততার এক ঝলক

কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী –  তাঁর কর্মব্যস্ততার এক ঝলক


পূর্ব এশিয়া শীর্ষ বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার কুয়ালালামপুরে পূর্ব এশিয়া শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেন। তিনি তাঁর ভাষণে বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের চ্যালেঞ্জের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্যারিস, আঙ্কারা, বেইরুট, মালি এবং রাশিয়ার বিমানে বর্বরোচিত যে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা ঘটেছে তা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে তার ছায়া ক্রমশ আমাদের সমাজ তথা বিশ্বকেও গ্রাস করতে চলেছে। সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম এবং তার লক্ষ্য দু’দিক থেকেই চলছে এই আক্রমণ। সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় তাই সারা বিশ্বকেই গ্রহণ করতে হবে এক নতুন সঙ্কল্প এবং উদ্ভাবন করতে হবে এক নতুন কৌশল। কোনরকম রাজনৈতিক চাপ বা বাধ্যবাধকতার কাছে নতিস্বীকার করলে চলবে না। সন্ত্রাসবাদের ব্যবহার বা তার সমর্থন থেকে দূরে থাকা উচিত সবক’টি দেশেরই। সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে কোন পার্থক্য করলে চলবে না বা তাদের কোনরকম আশ্রয় দেওয়াও চলবে না। দেখতে হবে, তাদের কাছে যাতে অর্থ ও অস্ত্রশস্ত্রের যোগান পুরোপুরি বন্ধ করা যায়। তবে, সামাজিক কাঠামোর মধ্যে থেকে এবং যুবশক্তিকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের এই কাজে এগিয়ে যেতে হবে। সন্ত্রাস থেকে ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করার অঙ্গীকারকে আমি স্বাগত জানাই। আমি স্বাগত জানাই, সেই প্রচেষ্টাকে যা প্রতিটি বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়ে মানুষের মূল্যবোধকে তুলে ধরে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশ ‘UNCLOS’ –এর সাহায্যে তাদের নৌ-সীমানার বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছে। দক্ষিণ চিন সাগর সম্পর্কিত যাবতীয় বিবাদ-বিসংবাদ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দক্ষিণ চিন সাগর ব্যবহার সম্পর্কিত ঘোষণাকে মেনে নিয়ে সব পক্ষকেই সমাধানের পথ খুঁজে নিতে হবে। একইভাবে তাদের মেনে চলতে হবে এই ঘোষণার বাস্তব রূপায়ণের খুঁটিনাটি বিষয়গুলি। সহমতের ভিত্তিতে সব পক্ষই এক আচরণবিধি মেনে চলতে আরও দ্বিগুণ উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তির আবরণ উন্মোচন

প্রধানমন্ত্রী রামকৃষ্ণ মিশনে স্বামী বিবেকানন্দের একটি মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন। এই উপলক্ষে প্রদত্ত এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি মানুষই ছিলেন না, তিনি ছিলেন শতাব্দী প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতির এক আত্মাপুরুষ। উপনিষদ থেকে শুরু করে উপগ্রহ পর্যন্ত ভারতীয় সংস্কৃতির সুপ্রশস্ত বিস্তৃতির বিষয়টি যদি আমরা উপলব্ধি করতে পারি, তাহলে স্বামী বিবেকানন্দকে আমরা উপলব্ধি করব আমাদের অন্তঃস্থলেই। বিশ্ব যে সময়ে বস্তুবাদ ও আধ্যাত্মিকতার টানাপোড়েনে দিশাহারা হয়ে পড়েছিল স্বামী বিবেকানন্দ তখন ভারতীয় আধাত্মিকতার বার্তা বহন করে নিয়ে গিয়েছিলেন পাশ্চাত্যে। গত দু’দিন ধরে আমি যে আসিয়ান শীর্ষ বৈঠকে অংশগ্রহণ করলাম, তাতে একটি বিষয়েরই বারংবার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, তা হল ‘অভিন্ন ও ঐক্যবদ্ধ এশিয়া’। এই ধারণাটির প্রথম জন্ম দিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ স্বয়ং।

অনাবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের উদ্দেশে প্রদত্ত এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত শুধুমাত্র তার ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে আবদ্ধ একটি দেশ নয়। বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে প্রত্যেক ভারতবাসীর মধ্যেই নিহিত রয়েছে ভারতবর্ষ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের কাছে স্বাধীন ভারত অনেক দিক দিয়েই ঋণী। বিভিন্ন সময়ে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম রচিত হয়েছে মালয়েশিয়ার অনাবাসী ভারতীয়দের সংগ্রাম ও উৎসর্গের মধ্য দিয়ে। আপনাদের পূর্ব পুরুষরা দলে দলে যোগ দিয়েছিলেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস এবং আজাদ হিন্দ ফৌজ-এর সঙ্গে। মহিলারা বিপুল সংখ্যায় স্বচ্ছন্দ গৃহকোণ থেকে বেরিয়ে এসে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে গেছেন নেতাজি সুভাষ বোসের সঙ্গে।

ভারতের স্বাধীনতার লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার যে সমস্ত ভারতীয় তাঁদের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন তাঁদের উদ্দেশে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ৭০ বছর আগে এক ভয়ঙ্কর ও করুণ পরিণতির মধ্য দিয়ে বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটেছে। মালয়েশিয়ার রণক্ষেত্রে যে অসংখ্য ভারতীয় সেনা তাঁদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশেও জানাই আমার অন্তরের শ্রদ্ধা। জীবন উৎসর্গকারী অনেকেই ছিলেন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের রক্তে রয়েছে মালয়েশিয়ার মাটির টান। তাই এই যুদ্ধ ছিল এমনই একটি বিষয় যার প্রভাব পড়েছে আমাদের দুটি দেশের ওপরই। মালয়েশিয়ার মাটি সিক্ত হয়েছে তাঁদের রক্তে। তাই, আমাদের দু’দেশের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক অটুট বন্ধন যা কোন সময়ই ছিন্ন হওয়ার নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে সবচেয়ে বৃহত্তম হুমকি হল সন্ত্রাসবাদ। কারণ সন্ত্রাস কোন সীমানা মানে না। ধর্মের নামে সন্ত্রাস মানুষকে কাছে টেনে নিতে চায়। কিন্তু তা অলীক ও মিথ্যা। সন্ত্রাস সমস্ত ধর্ম-বিশ্বাসের মানুষেরই ঘাতক। তাই ধর্ম ও সন্ত্রাসকে আমাদের পৃথক করে দেখতে হবে। যারা মানবতায় বিশ্বাস করে না, তারাই শুধু সন্ত্রাসের পথে পা বাড়ায়। একথা আমি আগেও বলেছি, আজ এখানেও তার পুনরাবৃত্তি করছি। বর্তমান যুগের এই বৃহত্তম চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় সমগ্র বিশ্বকেই একজোট হয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী যে সমস্ত ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য ছিল না, তাদের আর্থিক সহায়তাদানের লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার জন্য ১৯৫৪ সালে গঠন করা হয় ভারতীয় ছাত্র ট্রাস্ট তহবিল। মালয়েশিয়ায় ভারতীয় সম্প্রদায়ের অনেকের কাছেই এই তহবিলের প্রয়োজনীয়তা এখনও রয়েছে। এই ট্রাস্ট তহবিলকে আরও সমৃদ্ধ করতে আমরা আরও এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছি। এখানকার হাজার হাজার ছেলেমেয়ে ভারতে পাড়ি দেয় ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। চিকিৎসকের প্রয়োজন আমাদের সমাজে অনস্বীকার্য। কিন্তু সেইসঙ্গে, অন্যান্য ক্ষেত্রেও শিক্ষার সুযোগ গ্রহণ করার জন্য আমি তাদের আহ্বান জানাব। দু’দেশের শিক্ষাগত ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত ভারত ও মালয়েশিয়া দুটি দেশেরই। এই বিষয়টি নিয়ে আমি প্রধানমন্ত্রী নাজিবের সঙ্গে কথাবার্তা বলব।

PG/SKD/DM/……23rd November, 2015