Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

কেন্দ্রীয়তথ্য কমিশনের নতুন ভবনের দ্বারোদঘাটনকালে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীরবক্তব্য


কেন্দ্রীয়তথ্য কমিশনের এই নতুন ভবনটির উদ্বোধন করতে পেরে আমি আনন্দিত। বিভিন্ন দপ্তরেরসম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্দিষ্ট সময়ের আগেই এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এই ভবন তৈরিকরার কাজে যে সমস্ত দপ্তরের কর্মীরা যুক্ত ছিলেন তাঁদের সকলকেই আমার অভিনন্দন। এইভবনটি পরিবেশ-বান্ধব গৃহ-৪ রেটিংযুক্ত বলে আমি জানি। শুধুমাত্র পরিবেশ সংরক্ষণেরকাজেই নয়, জ্বালানি শক্তির সাশ্রয়েও এই বাড়িটি বিশেষ সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি।সেইসঙ্গে, উন্নততর যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এই ভবনটিতে কমিশনের কাজকর্ম আরওদক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হবে বলেও আমি আশা করি। কমিশনের কাছে নিষ্পত্তির জন্য যেসমস্ত আবেদন জমা পড়েছে, তা শুনানির কাজও দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যাবে বলে আমারবিশ্বাস। কাজে গতি সঞ্চারের অর্থই হল সাধারণ মানুষের সমস্যার দ্রুত নিরসন।  

  
বন্ধুগণ,  

  
আজ একইসঙ্গেকেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনের একটি মোবাইল অ্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার একটি সুযোগওআমি পেয়েছি। এর সাহায্যে নাগরিকরা আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি, তাঁদের অভিযোগও পেশকরতে পারবেন। এছাড়াও, তথ্য কমিশনের কাছ থেকে যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের কাছে তথ্যপৌঁছে দেওয়ার কাজও অনেক সহজতর হয়ে উঠবে।   

  
নাগরিকদেরপরিষেবাদানের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেআমি জেনেছি। জনসাধারণের কাছে সুযোগ-সুবিধার প্রসারে এবং বিভিন্ন অভিযোগের দ্রুতনিষ্পত্তির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃৎকৌশল প্রয়োগ করছে।  

  
খুবইসন্তুষ্টির বিষয় যে কমিশনের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যাক আবেদনেরনিষ্পত্তি হয়েছে গত বছর। আমি আশা করি, এই সমস্ত অভিযোগের কথা মনে রেখে এবংনাগরিকদের কাছে এ সম্পর্কিত সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে কমিশন পন্থাপদ্ধতিকেপর্যায়ক্রমে উন্নততর করে তোলা চেষ্টা চালিয়ে যাবে।  

  
বন্ধুগণ,  
  

গণতান্ত্রিকএবং প্রতিনিধিত্বমূলক পরিচালন ব্যবস্থার পূর্বশর্তই হল স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা। এইধরনের প্রতিষ্ঠানগুলি আস্থা-নির্ভর প্রশাসন ও পরিচালনের ক্ষেত্রে একটি অনুঘটকেরভূমিকা পালন করে। সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার মনোভাবকে আরও বাড়িতে তুলতেএবং দেশের মানবসম্পদের পূর্ণ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার কাজে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানেরভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথাবিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়।   

  
বন্ধুগণ,  

  
আমি বিশ্বাসকরি যে দেশের সর্বাপেক্ষা বলিষ্ঠ স্তম্ভ হল নাগরিকদের ক্ষমতায়ন। আপনারা নিশ্চয়ইলক্ষ্য করেছেন যে গত চার বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকার নানাভাবে চেষ্টা করেছে ভারতীয়জনসাধারণের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে। সেইসঙ্গে, তথ্যের সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বওসরকার পালন করে চলেছে। ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা আপনারা লক্ষ্য করে থাকবেনযেখানে তথ্যআদানপ্রদানের বিষয়টি ছিল নিতান্তই একমুখী। কিন্তু এর ফল হয়েছিল মারাত্মক। তাই,আমাদের সরকার আধুনিক তথ্য ব্যবস্থার নীতিতে নির্ভর করে কাজ করে চলেছে, শুধুমাত্রএকমুখী পন্থাপদ্ধতি অনুসরণ করে নয়।  
  

এ হল এমনইএক ব্যবস্থা যেখানে তথ্যের দ্রুত আদানপ্রদান ঘটে চলেছেউভয় দিক থেকেই।   

 

বন্ধুগণ,  

  
আধুনিক তথ্যব্যবস্থার রয়েছে পাঁচটি বিশেষ স্তম্ভ। এগুলিকে অবলম্বন করেই আমরা সম্মিলিতভাবে কাজকরে চলেছি। এই পাঁচটি স্তম্ভ হল – জিজ্ঞাসা, অভিযোগ ও সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়েশোনা, যোগাযোগ স্থাপন করা, সেই অনুসারে কাজ করে যাওয়া এবং তথ্যের যোগান দেওয়া।  

  
আমারভাই-বোনেরা,  

  
দেশেবর্তমানে এমন এক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তাঁদের শুনতেআগ্রহী। সিপিজিআরএএম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মঞ্চে বিভিন্ন প্রস্তাব ও পরামর্শ সরকারগভীর মনোযোগের সঙ্গেই জানতে ও শুনতে আগ্রহী। সরকার অনেক সময়েই কিছু কিছুনীতি রচনাকরে থাকে এবং পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করে জনসাধারণের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাব ওপরামর্শ অনুসারে।  
  

বন্ধুগণ,  

  
প্রশ্ন এবংপ্রস্তাব ও পরামর্শের মতোই তথ্য ব্যবস্থাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভবিশেষ।আমিবিশ্বাস করি যে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হলে, সরকারি ওনাগরিকের মধ্যে আবেগের এক বন্ধন সৃষ্টি হয়।   

  
সাধারণমানুষের সঙ্গে এইভাবে যোগাযোগকে আরও বাড়িয়ে তুলতে সময়ে সময়ে সমীক্ষার উদ্যোগওগ্রহণ করা হয়। প্রতি বছর মে মাসে “আমার সরকারের উদ্যোগের রেটিং আপনারা ঠিক করুন” –এই অভিযান চালানো হয়। তথ্য ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভটি হলকর্মপ্রচেষ্টা।   

  
প্রশ্ন,পরামর্শ এবং যোগাযোগ ও বিনিময়ের পরে কাজ যদি অধরা থাকে, তাহলে সমস্ত কিছুই ব্যর্থহয়ে যায়।  

  
সুতরাং, এইবিষয়টিকে মনে রেখে, সাধারণ মানুষের মন থেকে উঠে আসা বিভিন্ন প্রশ্ন ওপ্রস্তাব-পরামর্শকে ভিত্তি করেই আমরা কাজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এমনকি, জিএসটিচালু করার সময়েও সংশ্লিষ্ট নিয়মনীতিতে কিছু কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল জনসাধারণেরকাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতেই। আর এইভাবেই পারস্পরিক যোগাযোগ ও বিনিময়ের পথধরেই ক্রেতা সাধারণের স্বার্থেই গড়ে তোলা হয়েছে মুনাফা মনোবৃত্তিরোধী জাতীয়সংস্থাটিকে। এছাড়াও, শুধুমাত্র ট্যুইট বার্তা লক্ষ্য করেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবংবিভিন্ন মন্ত্রক কিভাবে বিভিন্ন অভিযোগ নিরসনে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তাও আপনারালক্ষ্য করেছেন। বর্তমানে শুধুমাত্র ট্যুইট করেই জনসাধারণের অনেক সমস্যারই সমাধানকরা সম্ভব।   
  

বন্ধুগণ,  

  
তথ্যব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল তথ্যের যোগান।   

  
সরকারেরকর্তব্যই হল তাদের কাজকর্ম সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেশের নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এইকারণে সঠিক সময়ে অনলাইন ব্যবস্থায় তথ্যের যোগান দেওয়ার উপযোগী একটি নতুন পদ্ধতিউদ্ভাবন করেছে আমাদের সরকার। এই প্রথম ওয়েবসাইটে ড্যাশ বোর্ডের মাধ্যমে বিভিন্নকর্মসূচি সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে জনসাধারণের কাছে। যেমন, স্বচ্ছভারত মিশন কর্মসূচির আওতায় নির্মিত শৌচাগারের সংখ্যা, ‘সৌভাগ্য’ কর্মসূচি রূপায়ণেরঅগ্রগতি, ‘উজালা’ প্রকল্পের আওতায় বন্টন করা এলইডি বাল্বের মোট সংখ্যা, ‘মুদ্রা’যোজনার আওতায় মঞ্জুরিকৃত ঋণ সহায়তা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিশদভাবে পৌঁছেদেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের জ্ঞাতার্থে।  

  
আমারভাই-বোনেরা,  
  

অনেক সময়েইলক্ষ্য করা গেছে যে প্রায় একই ধরনের প্রশ্ন উঠে এসেছে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে।এই পরিস্থিতিতে পৃথক পৃথকভাবে প্রতিটি মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ যথেষ্টসময় ও ব্যয়সাপেক্ষ। সুতরাং, বিভিন্ন মন্ত্রকের ওয়েব পোর্টালগুলিতে সাধারণপ্রশ্নগুলি সম্পর্কে তথ্য আপলোড করার ব্যবস্থা চালু করেছে আমাদের সরকার।   

  
এই উদ্যোগগ্রহণের সবচেয়ে বড় সুবিধাটি হল এই যে, বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচির প্রক্রিয়াকরণএবং পরিসংখ্যানগত খুঁটিনাটি নাগরিকরা এখন থেকে অনলাইন ব্যবস্থাতেই জানতে পারছেন।এছাড়াও, প্রত্যেক মন্ত্রক থেকে সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছেএসএমএস-এর মাধ্যমে।   
  

বন্ধুগণ,  

  
সমাজেরডিজিটাল ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বর্তমানে এগিয়ে চলেছে আমাদের দেশ। তথ্যপ্রযুক্তিশুধুমাত্র প্রক্রিয়াকরণের কাজকেই সরল করে তোলেনি, সেইসঙ্গে পরিষেবাদানের ক্ষেত্রেস্বচ্ছতা ও গুণগত মানও নিশ্চিত করেছে। নাগরিক পরিষেবাকে আরও সুবিধাজনক অবস্থায়পৌঁছে দিতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে।  

  
জন ধনঅ্যাকাউন্ট, আধার এবং মোবাইল, অর্থাৎ ‘জ্যাম’ ত্রয়ীর সাহায্যে সরকারি কর্মসূচিরসুফল যাতে সঠিক ব্যক্তির হাতেই পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করেছে আমাদের সরকার। জনসাধারণেরব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিতে সরাসরি টাকা পৌঁছে দিতে ৫৭ হাজার কোটি টাকার মতো সাশ্রয়ঘটিয়েছে বর্তমান সরকার। কারণ, ঐ টাকা এতদিন পৌঁছে যেত ভুল ব্যক্তির ঠিকানায়।   

  
মহাত্মাগান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ আইন এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনারআওতায় যে সমস্ত কর্মসূচি রূপায়িত হচ্ছে, তার দেখভাল করা হচ্ছে উপগ্রহের ছবিরমাধ্যমে। যে সমস্ত সেচ প্রকল্পের কাজ বহু বছর ধরেই অচলাবস্থায় ছিল, তার রূপায়ণ ওঅগ্রগতির ওপর লক্ষ্য রাখা হচ্ছে ড্রোনের সাহায্যে। এই প্রসঙ্গে ‘প্রগতি’র মঞ্চে গতসপ্তাহে যে আলোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, আমি তার কথা এখানে উল্লেখ করতে চাই। গতসপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে কেদারের পুনর্নিমাণ প্রক্রিয়ার কাজটি ড্রোনেরসাহায্যে আমরা পর্যবেক্ষণ করছিলাম। সম্ভবত এই প্রথম, এই ধরনের একটি প্রযুক্তিব্যবহার করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে কেদার ঘাটিএবং বাবা ভোলানাথের মন্দিরের সংস্কারের কাজ আমরা সরাসরি লক্ষ্য করতে পেরেছি।   

  
বন্ধুগণ,  

  
‘প্রগতি’রমঞ্চে যে বৈঠকের আমরা আয়োজন করে থাকি, তা জনসাধারণের অধিকারকেই প্রতিষ্ঠা করে। এই সমস্তঅধিকারের কথা হয়তো আইনে উল্লেখ করা নেই, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে এর পূর্ণঅধিকার রয়েছে সাধারণ মানুষেরই।  
  

সমস্তপ্রকল্প ও কর্মসূচি রূপায়ণের অগ্রগতি সঠিক সময়ে সম্পূর্ণ হচ্ছে কিনা তা লক্ষ্যকরার অধিকার রয়েছে দেশের জনসাধারণের।  

  

বহুপ্রকল্পের কাজই অচলাবস্থায় ছিল বেশ কয়েক দশক। সেই সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ করার দায়িত্বগ্রহণ করেছে আমাদের সরকার। ‘প্রগতি’র বৈঠকগুলিতে ৯.৫ লক্ষ কোটি টাকার বিভিন্নপ্রকল্পের অগ্রগতির বিষয় আমরা পর্যালোচনা করেছি। আর এই ধরনের প্রচেষ্টার মাধ্যমেকর্মসংস্কৃতির পাশাপাশি, স্বচ্ছতার প্রসারের ওপরও আমরা বিশেষ জোর দিয়েছি। এই বিশেষভবনটির কথাই ধরুন না কেন। আজ থেকে ১২ বছর আগে প্রতিষ্ঠা হয় কেন্দ্রীয় তথ্যকমিশনের। অথচ এতদিন পর্যন্ত কমিশনের কাজ চলছিল ভাড়া নেওয়া বাড়িগুলিতে।   
  

২০১৪ সালেএনডিএ সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সমস্ত কাজেই গতিসঞ্চার ঘটেছে। এই ভবনটি গড়ে তুলতেমঞ্জুর করা হয় ৬০ কোটি টাকা এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় এর নির্মাণ কাজ।   

  
আরওগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল এই যে, ভবনটির নির্মাণ কাজ এ মাসের শেষের দিকে সম্পূর্ণহওয়ার কথা। কিন্তু তার অনেক আগেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির তৎপরতায় এই কাজ সম্পূর্ণ হয়গত বছর নভেম্বর মাসের মধ্যেই।   

  
আমার মনেআছে যে গত বছর দিল্লিতে ডঃ আম্বেদকর আন্তর্জাতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করার সুযোগ আমিপেয়েছিলাম। এই কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল ১৯৯২ সালে। অথচ,দীর্ঘ ২৩ বছরে তার বাস্তবায়ন ঘটেনি। পরে, কেন্দ্রের বর্তমান সরকার এই কেন্দ্রেরশিলান্যাস করে এবং অবশেষে তার দ্বারোদঘাটনও হয়। সংসদ থেকে সড়ক এবং প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর থেকে পঞ্চায়েত ভবন – সর্বত্রই আপনারা লক্ষ্য করবেন এই প্রশাসনিক পরিবর্তন।   

  
আপনারানিশ্চয়ই ইতিমধ্যে অবগত হয়েছেন যে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের একটি দপ্তর সম্প্রতিবন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখানে কর্মরত ছিলেন ১,১০০ কর্মী যাঁদের অন্যান্যদপ্তরগুলিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই দপ্তরটি কেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেইতথ্যও নিশ্চয়ই আপনাদের অজানা নয়।  
  

বন্ধুগণ,  
  

নতুনব্যবস্থা চালু হলে পুরনো ব্যবস্থার অপসারণ ও অবলুপ্তি ঘটে। এর একটি উল্লেখযোগ্যদৃষ্টান্ত হল সরকারি সংগ্রহ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিন বিপণন ব্যবস্থার প্রসার।‘জিইএম’ পোর্টালটি সরকারি সংগ্রহ ব্যবস্থায় দুর্নীতি বন্ধ করা এবং পন্থা-পদ্ধতিকেস্বচ্ছ করে তোলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দেশেরদূর-দূরান্তের আদিবাসী মানুষ এখন সরাসরি সরকারের কাছে তাঁদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়করতে পারেন এই ‘জিইএম’ পোর্টালটির সাহায্যে।  

  
গ্রুপ ‘সি’এবং গ্রুপ ‘ডি’ পর্যায়ের চাকরির ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকার প্রথা তুলে দেওয়া হয়েছে। শ্রমআইন সম্পর্কিত রেজিস্টারের সংখ্যা ৫৬ থেকে নামিয়ে আনা হয়েছে মাত্র ৫-এ। সমস্তআবেদনই এখন অনলাইনে পূরণ করার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে ‘শ্রম সুবিধা পোর্টাল’টিরসাহায্যে।  

  
বন্ধুগণ,  
  

১,৪০০-রওবেশি অপ্রয়োজনীয় আইনের অবলুপ্তি ঘটিয়েছে আমাদের সরকার। বেশ কয়েক দশক ধরেই এগুলিরকোন প্রয়োজন ছিল না। আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে গত ২-৩ বছরে ‘পদ্ম’পুরস্কারদানের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ পন্থা-পদ্ধতি চালু হয়েছে সরকারিভাবে। দূর-দূরান্তেরমানুষও এখন সমাজকল্যাণে এগিয়ে আসার সুযোগ লাভ করেছেন। পদ্ধতিগত স্বচ্ছতার মাধ্যমেইতা সম্ভব হয়েছে।   
  

বন্ধুগণ,  

  
সরকার ওসাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব বা ব্যবধান যখন অনেকটাই কমে আসে, ঠিক তখনই যোগাযোগেরনতুন ও কার্যকর ব্যবস্থার প্রসার ঘটে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণপ্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে নিজেদের মনে করেন জনসাধারণ। তাই, জাতি গঠনেরকাজেও তাঁরা এগিয়ে আসেন।   

  
আপনারাব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্য করেছেন যে একটিমাত্র সাধারণ আবেদনে সাড়া দিয়ে কত মানুষস্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছেন এলপিজি-র ওপর ভর্তুকি ছেড়ে দিতে। সরকার ও জনসাধারণের মধ্যেযোগাযোগের ক্ষেত্রে আবেগও যে কাজ করে থাকে তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হল ‘গিভ ইটআপ’ উদ্যোগটি।   

  
একইভাবে,স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় শৌচাগার নির্মাণের লক্ষ্যে প্রসার ঘটেছে এক বিশেষজনসচেতনতার। কারণ, সাধারণ মানুষ এখন ভাবতে শুরু করেছেন যে তাঁরা নিজেরাও এই স্বচ্ছভারত কর্মসূচির এক বিশেষ অংশ। বর্ণ, শ্রেণী এবং বয়স নির্বিশেষে অন্তরাত্মারআহ্বানেই তাঁরা এগিয়ে এসেছেন স্বচ্ছ ভারত কর্মসূচিকে সফল করে তোলার কাজে।   
  

আর দু’দিনপরেই ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ কর্মসূচিটির তৃতীয় বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এই উপলক্ষেদেশের কন্যাসন্তানদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ও যোগাযোগ গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেআমাদের সরকার।   

  
বন্ধুগণ,  

  
পদ্ধতিগতব্যবস্থায় স্বচ্ছতার যখন প্রসার ঘটে, তখন তথ্যের প্রবাহ ঘটে অনেক সুষ্ঠুভাবে। আরএইভাবেই সরকারের ওপর জনসাধারণের আস্থা ও বিশ্বাস আরও গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। গত৩-৩.৫ বছর ধরে আমার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে পরিবর্তনের পথ ধরে সাধারণমানুষের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে।  

  
তথ্যেরযোগান দেওয়ার কাজে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন নিশ্চিতভাবেই এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকরে চলেছে।  

 

বন্ধুগণ,  
  

আজকের এইমঞ্চে আমি আরেকটি বিষয় আপনাদের সামনে তুলে ধরতে আগ্রহী। আমাদের দেশে তথ্যেরঅধিকারের মতো সঠিক ও ন্যায়সঙ্গতভাবে কাজ করে যাওয়ার নীতিটিকেও যথেষ্ট গুরুত্বেরসঙ্গেই গ্রহণ করা প্রয়োজন। এর অর্থ হল, অধিকার ভোগ করার পাশাপাশি, আমরা যেন আমাদেরকর্তব্যকেও বিস্মৃত না হই। সুতরাং, জনসাধারণের উচিৎ তাঁদের অধিকারের পাশাপাশিকর্তব্যগুলি সম্পর্কেও সচেতন থাকা। আমি বিশ্বাস করি যে সঠিক ও ন্যায়সঙ্গতভাবে কাজকরার খুঁটিনাটি তথ্য কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে পৌঁছেদেওয়া যায় সাধারণ মানুষের কাছে।   

  
সাধারণমানুষের স্বার্থে যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধার প্রসার ঘটানো হয়েছে, তার অপব্যবহারেরঘটনাও অনেক সময় লক্ষ্য করা গেছে। তাই, পদ্ধতিগত ব্যবস্থাকে এর বিরুদ্ধে আরও সক্রিয়করে তুলতে হবে।  
  

বন্ধুগণ,  
  

অধিকার ভোগকরার সঙ্গে সঙ্গে কর্তব্য পালন বিস্মৃত হওয়া কিন্তু সংবিধানের মূল নীতির বিরোধী।তাই আমি মনে করি যে প্রযুক্তি এবং নতুন সুযোগ-সুবিধার প্রসার ঘটানো প্রয়োজনমানবকল্যাণের স্বার্থে। কখনই তা যেন ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যেব্যবহৃত না হয় সেদিকে আমাদের দৃষ্টি রাখতে হবে।  

  
কেন্দ্রীয়তথ্য কমিশন, তথ্যের যোগানের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ করেযাবে এই আশা ব্যক্ত করে এখানেই আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি।  

  
আমি আরওএকবার শুভেচ্ছা জানাই আপনাদের সকলকে।  

  
ধন্যবাদ!  

  

PG/SKD/DM/