পিএমইন্ডিয়া
নতুন দিল্লি, ২ অক্টোবর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী – নমস্কার স্মিত।
ক্যাপ্টেন স্মিত – জয় হিন্দ স্যার। নমস্কার স্যার।
প্রধানমন্ত্রী – এখন কেমন আছেন, কেমন লাগছে?
ক্যাপ্টেন স্মিত – স্যার, সবকিছু ঠিক আছে, স্যার।
প্রধানমন্ত্রী – দেখুন, সারা দেশ আপনার জন্য প্রার্থনা করছে, সর্বত্র মহামৃত্যুঞ্জয় ধ্বনি উঠছে।
ক্যাপ্টেন স্মিত – হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী – আপনার সাহস, ধৈর্য এবং প্রজ্ঞা, অর্থাৎ, আপনি এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশে কত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন…
ক্যাপ্টেন স্মিত – হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী – এবং আপনি কতজনের জীবন বাঁচিয়েছেন। আর আজ সারা দেশ গর্ব করে বলতে পারে যে আমরা ভারতীয়েরা জীবন কেড়ে নেওয়ার জাতি নই, আমরা জীবন বাঁচানোর জাতি।
ক্যাপ্টেন স্মিত – একদম ঠিক স্যার।
প্রধানমন্ত্রী – আর আপনার শরীরে এত বড় একটি ক্ষত হয়েছিল, আপনি জীবন-মৃত্যুর লড়াই লড়ছিলেন। তখনও আপনি নিজের জীবনের কথা ভাবেননি, আপনি সমস্ত যাত্রীদের জীবনের কথা ভেবেছিলেন, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আপনি ১৪০ কোটি দেশবাসীর জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন।
ক্যাপ্টেন স্মিত – ধন্যবাদ, স্যার।
প্রধানমন্ত্রী – আর সেই কারণেই আমি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আরও বেশি গর্বিত বোধ করছি।
ক্যাপ্টেন স্মিত – স্যার, আমি… দুঃখিত।
প্রধানমন্ত্রী – গতকাল আমার ভূপেন্দ্র ভাই, গীতা ভাবি, সোনল ভাবির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল, কিন্তু জাভা আর ববির সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। কিন্তু আমি গীতা ভাবিকে বলেছি যে আপনার নাম গীতা, কিন্তু আপনি কৃষ্ণের গীতা পুরোপুরি আত্মস্থ করেছেন। আর সেই গীতার মূল্যবোধ দিয়েই আপনি স্মিতের জীবনকে গড়ে তুলেছেন।
ক্যাপ্টেন স্মিত – একদম ঠিক, স্যার।
প্রধানমন্ত্রী – স্মিত, এবার আমি তোমার কথা শুনতে চাই।
ক্যাপ্টেন স্মিত – স্যার, আমি স্যারের সঙ্গেও আপনার কথাই বলছিলাম, আপনি আমার সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে বড় আদর্শ, স্যার। আর আপনি এভাবে ডেকে আমাকে উৎসাহিত করছেন। আমি খুব, খুব, খুব গর্বিত বোধ করছি। স্যার, সেই মুহূর্তে আমি, হ্যাঁ, আমি আমার জীবনের জন্য লড়ছিলাম। কিন্তু সেই মুহূর্তে আমি বুঝতে পারলাম যে, আমি যদি কিছু না করতাম, কারণ আমি পড়ে গিয়েছিলাম, আমি এতটাই আহত ছিলাম যে আমি আটকা পড়ে গিয়েছিলাম। আর সেই মুহূর্তে আমি বললাম, “স্যার, আমি যদি আর না উঠি, আমি ১৭ বছর ধরে ফ্লাইট জোনে বিমান চালাচ্ছি। গত ১১ বছর ধরে আমি ক্যাপ্টেন। আর চোখ বন্ধ করেও আমি বুঝতে পারি বিমানের ভেতরে কী হচ্ছে। যখন আমি নিচে পড়ছিলাম, আমি অনুভব করতে পারছিলাম বিমানটা নিচে নেমে যাচ্ছে। আর আমি নিশ্চিত ছিলাম যে স্মিত যদি শেষবারের মতো একটা ধাক্কা দিত, দরজাটা ঠিক সেখানেই ছিল। আর তখনও আমি মার খাচ্ছিলাম। ও শুধু দরজাটা খুলেছিল, স্যার। বাকি সবাই এসেছিল, এবং এতে প্রত্যেকেরই সমান ভূমিকা ছিল। কিন্তু জেনেশুনেই আমি স্যারকে বলেছিলাম যে আমি এটা আমার নিজের জীবনের জন্য করছি। কিন্তু একই সাথে আমি এটাও জানতাম যে আমি তাদের সবাইকে মরতে দিতে পারি না। এরপর, এখানকার মানুষ, সৌদি আরবের মানুষ, এমনকি এখানেও, আমি এর চেয়ে ভালো যত্ন এবং উন্নত চিকিৎসা পেতাম না। আর আমি, স্যার, এখন শুধু ইতিবাচকতায় ভরপুর। যখনই আমার ব্যথা লাগে, আমি শুধু হনুমান চালিসা পাঠ করি। এমনকি সেই সময়েও আমি হনুমান চালিসা পাঠ করছিলাম, এবং আমি জানি যে ঈশ্বরই আমাকে বাঁচিয়েছেন।” শুধু আপনার ফোন পেয়েই আমার খুব, খুব গর্ব হচ্ছিল। আমি এখনও নিজের উপর গর্ব অনুভব করি। আগে আমি গর্বিত ছিলাম না। এখন আছি। দুঃখিত, আমি আপনার সামনে কেঁদে ফেলছি, স্যার।
প্রধানমন্ত্রী – স্মিত, আমার সামনে যদি তুমি আবেগপ্রবণ না হও, তাহলে আর কোথায় করবে?
ক্যাপ্টেন স্মিত – স্যার, আমি কখনও ভাবিনি যে আপনার সঙ্গে কথা বলব, কখনও ভাবিনি।
প্রধানমন্ত্রী – ভাই, তুমি এত ভালো কাজ করেছ যে আজ দেশের প্রতিটি নাগরিক, এমনকি সারা বিশ্বের মানুষও তোমাকে দেখার এবং তোমার সঙ্গে কথা বলার জন্য খুব আগ্রহী। আর হনুমান চালিসার কথা যে তুমি বললে, তার জন্য আমি গীতা ভাবিকে এবং ভূপেন্দ্র ভাইকেও স্যালুট জানাই তোমাকে এমন মূল্যবোধ দেওয়ার জন্য। আর শোনো, স্মিত, গতকাল যখন আমি সোনল ভাবির সঙ্গে কথা বললাম, তিনি কত শান্তভাবে কথা বললেন তা দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।
ক্যাপ্টেন স্মিত – হ্যাঁ, স্যার।
প্রধানমন্ত্রী – তিনি কী সাহসের সঙ্গে কথা বললেন। সত্যি, আমি কখনও কল্পনাও করিনি যে সোনল ভাবি এমন পরিস্থিতিতে এত শান্তভাবে কথা বলতে পারেন । তাই, আমি বিশ্বাস করি যে একটি পরিবার হিসেবে আপনারা সত্যিই সমগ্র দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।
ক্যাপ্টেন স্মিত – স্যার, আমি যখন প্রতিদিন সকালে প্রার্থনা করি, আমার দুই বছরের ছেলে আমার কোলে বসে আমার সাথে হনুমান চালিসা পাঠ করে। আমাকে যা বলা হয়েছে, আমি তাকে তাই পাঠ করে শোনাই, কারণ আজ আমরা দেশ থেকে দূরে আছি, কিন্তু আমাদের সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকা উচিত নয়।
প্রধানমন্ত্রী – ঠিক তাই।
ক্যাপ্টেন স্মিত – আর এখন, এখানে, মনেই হচ্ছে না যে আমরা দেশ থেকে দূরে আছি। এখানকার মানুষ এত ভালোবাসা আর যত্ন দিয়ে আমাদের দেখাশোনা করছেন।
প্রধানমন্ত্রী – আপনি হয়তো জানেন না, সাভারকুন্ডলা, ভাধওয়ানের মানুষ এমন এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছেন এবং এটা সমগ্র ভারতেই সত্যি। গতকাল, সমস্ত মন্দিরে প্রার্থনা, আরতি হয়েছে, এবং সবাই আপনার দীর্ঘ জীবন ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করছেন। সুতরাং, আপনি শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠবেন। ভারত আপনাকে স্বাগত জানাতে খুব আগ্রহী। এখন, আমি বলতে পারি… আপনার যে কোনো শারীরিক অসুস্থতা সম্পর্কে আমি অবগত। আপনি একজন সাহসী মানুষ, তাই আপনার ক্ষতগুলো সহ্য করা নিশ্চয়ই আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে গেছে।
ক্যাপ্টেন স্মিত – না, স্যার, আমি এই ক্ষতটিকে একটি ক্ষত হিসেবে ভাবছি না, কারণ তা থেকে সেরে ওঠা আমার জন্য আরও বেশি কঠিন হবে। আমি এটিকে একটি যাত্রা হিসেবে ভাবছি, যা ধীরে ধীরে ঘটবে এবং এতে সময় লাগবে, কিন্তু আমি খুব আত্মবিশ্বাসী যে এই আরোগ্য লাভ ঘটবে এবং আমি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠব।
প্রধানমন্ত্রী – আমি সৌদি আরবের অধিবাসী, সরকার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সরকারের যত্নের জন্য আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমিও তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। স্মিত, যখনই তোমার আমাকে প্রয়োজন হবে, আমি শুধু একটি ফোন কলের দূরত্বে আছি।
ক্যাপ্টেন স্মিত – ধন্যবাদ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী – কিন্তু আপনি, আপনি সত্যিই এটা করেছেন। তা না হলে, গতকাল আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় লোকেদের তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে দেখছিলাম, তারা বলছিল, “যদি এটা না ঘটত, কে জানে ভারতের কী হতো, সমস্ত ভারতীয় পাইলটদের কী হতো। সমস্ত ভারতীয় পাইলটদের সাথে কেমন আচরণ করা হতো। আপনি তাদের সবাইকে বাঁচিয়েছেন। তার মানে আপনি একটি দুর্দান্ত কাজ করেছেন।”
ক্যাপ্টেন স্মিত – হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী – ভেতরের কথা আমি পরে শুনব, যখন আমাদের দেখা হবে, কারণ আমি ফোনে আপনার সঙ্গে এই ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই না।
ক্যাপ্টেন স্মিত – ঠিক আছে স্যার।
প্রধানমন্ত্রী – আর আপনিও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠুন, এবং এখন পুরো দেশ আপনার পাশে আছে।
ক্যাপ্টেন স্মিত – ধন্যবাদ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী – আমি আপনাকে খুব বেশি বিরক্ত করতে চাই না। আমার শুভকামনা রইল। আজ গান্ধী জয়ন্তী। আপনি হৃদয় দিয়ে দেখিয়েছেন অহিংসা কী।
ক্যাপ্টেন স্মিত – ধন্যবাদ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী – আচ্ছা, জয় শ্রী কৃষ্ণ। জয় শ্রী কৃষ্ণ, বৎস। চলো গুজরাটিতেও একটু কথা বলা যাক।
ক্যাপ্টেন স্মিত – জয় শ্রী কৃষ্ণ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী – ববি আর জিভা কি গুজরাটি বলে?
ক্যাপ্টেন স্মিত – ওরা দুজনেই বলে, স্যার, দুজনেই।
প্রধানমন্ত্রী – ওরা অনর্গল গুজরাটি বলে…
ক্যাপ্টেন স্মিত – ওরা দুজনেই প্রথমে গুজরাটি শিখেছে, তারপর ইংরেজি।
প্রধানমন্ত্রী – তাহলে, আপনি কি বাচ্চাদের সাথে দেখা করতে পেরেছিলেন? ডাক্তার কি আপনাকে তাদের সাথে দেখা করতে দিয়েছিলেন?
ক্যাপ্টেন স্মিত – আমার বড় মেয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল, কিন্তু এই সব দেখে ভয় পেয়ে গেল…
প্রধানমন্ত্রী – আচ্ছা… আচ্ছা…
ক্যাপ্টেন স্মিত – ওর একটু শরীর খারাপ ছিল আর ও আমার খুব কাছের, আর আমার ছোট ছেলের বয়স দুই বছর, কিন্তু ওরা ওকে অনুমতি দেয়নি।
প্রধানমন্ত্রী – এই মুহূর্তে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কিন্তু সোনল ভাবি খুব সাহসী।
ক্যাপ্টেন স্মিত – হ্যাঁ স্যার
প্রধানমন্ত্রী – আপনি গতকাল এত ভালো স্বাস্থ্য নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। নাহলে, আমি দেখেছি যে এমন পরিস্থিতিতে কোনো আলোচনা করা যায় না। কোনো অভিযোগের চিহ্ন ছিল না। আমি গতকাল মুম্বাই বিমানবন্দরে ভূপেন্দ্রভাই এবং গীতাভাবীর সঙ্গে কথা বলেছি। তখনও কোনো অভিযোগের চিহ্ন ছিল না। আমি শুধু তাদের নিজস্ব ভঙ্গিতে বলেছি, “ঈশ্বর মঙ্গল করবেন।”
ক্যাপ্টেন স্মিত – হ্যাঁ স্যার
প্রধানমন্ত্রী – ঠিক আছে, জয় শ্রী কৃষ্ণ। আর তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন, তারপর আমাদের আবার দেখা হবে।
ক্যাপ্টেন স্মিত – হ্যাঁ স্যার
প্রধানমন্ত্রী – ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুন!
ক্যাপ্টেন স্মিত – জয় হিন্দ।
প্রধানমন্ত্রী – জয় হিন্দ।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের কিছু অংশ গুজরাটি ভাষাতেও রয়েছে, যা এখানে অনুবাদ করা হয়েছে
SC/SB/DM
An unforgettable conversation with Captain Smit, filled with pride and emotions. pic.twitter.com/CCf46PKOWR
— Narendra Modi (@narendramodi) October 2, 2026