পিএমইন্ডিয়া



ক্রেডাইয়ের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত নবীন প্রজন্মের বন্ধুদের আর তাঁদের পথপ্রদর্শনকারী সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকে অনেক অনেক অভিনন্দন। এই যুবসমাবেশ এমন সময়ে হচ্ছে, যখন নতুন ভারতের দিকে আমাদের অগ্রসরমান পদক্ষেপ একটি নতুন পর্যায়ে পর্যবসিত হয়েছে। একটু আগেই সংসদের অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার পর আপনাদের কাছে এসেছি। আপনারা সকলেই নতুন ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। আপনারা সাধারণ মানুষ এবং নিজেদের পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে একত্রিত হয়েছেন।
বন্ধুগণ, ক্রেডাই বিগত দু’দশক ধরে প্রত্যেক দেশবাসীর নিজস্ব বাড়ির স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ করে যাচ্ছে। আমাকে বলা হয়েছে যে, ২৩টি রাজ্যের ২০৫টি শহরে আপনাদের সংগঠনের কর্মকান্ড চলছে। সারা দেশে আপনাদের ১২ হাজারেরও বেশি সদস্য রয়েছেন। যে হারে দেশে রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা সম্প্রসারিত হয়েছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আপনাদের সংগঠনও বড় হয়েছে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, আপনারা শ্রদ্ধেয় অটল বিহারী বাজপেয়ীর আশীর্বাদ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। আর সেই আশীর্বাদের পুণ্যফলেই আপনারা এই সাফল্য পেয়েছেন।
বন্ধুগণ, শ্রদ্ধেয় অটল বিহারী বাজপেয়ী সবার আগে শহরবাসী গরিব ও মধ্যবিত্ত গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০০১ সালে লক্ষ্মৌ থেকে দেশের বস্তিবাসীদের জন্য বাল্মীকী – আম্বেদকর আবাস যোজনার সূচনা করেছিলেন। তাঁর আমলেই দেশে অধিক সংখ্যক গৃহ নির্মাণ ও নগরোন্নয়ন ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগের পথ উন্মোচিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে শহরের গরিবদের জন্য প্রায় ১৫ লক্ষ গৃহ নির্মিত হয়েছিল।
বন্ধুগণ, যখন আমি এই ধরণের গৃহ নির্মাণের পরিসংখ্যান দিই, তখন আমার সম্মানিত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীবৃন্দ আর সংবাদ মাধ্যমের যাঁরা আমাকে খুব ভালোবাসেন, তাঁরা এত ভালোবাসা বর্ষণ করেন যে, তাঁরা বলেন, এ ধরণের প্রকল্প তো আগেও চলতো! তাঁরা ঠিকই বলেন, এ ধরণের প্রকল্প অবশ্যই আগেও চলতো! কিন্তু সত্য এটাই যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা আর আগের সরকারি আবাস যোজনাগুলির মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গীর পার্থক্য ছিল।
বন্ধুগণ, এই আবাস যোজনা চালু করে আমরা কারও নাম অমর করার চেষ্টা করিনি। যিনিই প্রধানমন্ত্রী হন না কেন, নিঃস্বার্থভাবে স্বজন-পোষণহীন দুর্নীতিমুক্ত পদ্ধতিতে এই প্রকল্প আমরা রচনা করেছি। আর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা এর দ্বারা যাঁরা উপকৃত হবেন, তাঁদের বেছে নিই। আগে যেমন বিশিষ্ট মানুষদের সুপারিশে উপকৃতদের তালিকায় নাম যুক্ত হ’ত বা নাম বাদ দেওয়া হ’ত, অনেক ক্ষেত্রে গৃহ নির্মাণকারী ঠিকাদারদের তুলনায় সুপারিশকারীরা বেশি রোজগার করতেন। আমরা সেসব বন্ধ করে দিয়েছি।
বন্ধুগণ, তৃতীয়ত, আমরা উৎকর্ষের দিকে নজর দিয়েছি। আগে গরিবদের যে গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হ’ত, আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, সেক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য ছিল – নামী নেতাদের নাম অমর করা। সেজন্য চারটি দেওয়াল তুলে দিয়েই দায়িত্ব সম্পন্ন করা হ’ত। সম্প্রতি আমি একটি টিভি রিপোর্ট দেখছিলাম, জানি না আপ[নারা দেখেছন কিনা। উত্তর প্রদেশের আমেথিতে নামী পরিবারের কোনও সদস্য সেখানকার জনগণকে খুব ভালোবাসতেন, চোখ বন্ধ করে ভালোবাসতেন। সেই টিভি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ১০ বছর আগে সেখানকার একটি দলিত বস্তিতে এরকম আবাসন গড়ে দেওয়া হয়েছিল আর সেখানে প্রতিটি বাড়িতে সেই মহামান্যবরের নামও সেঁটে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ এমন অবস্থা হয়েছে, যে দেওয়ালগুলিতে মহামান্যবরের নাম সাঁটা হয়েছিল, ১০ বছরের মধ্যে সেই দেওয়ালগুলিই ধ্বসে গেছে।
বন্ধুগণ, এখন সেই বস্তিগুলিতেই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে যে গৃহ নির্মিত হচ্ছে, তার আয়তন আগের তুলনায় বড় এবং সঙ্গে শৌচালয়ও নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। রান্নাঘরে এলপিজি গ্যাস সংযোগ ও প্রত্যেক ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এগুলির জন্য গরিবদের কোথাও ছুটে বেড়ানোর প্রয়োজন নেই।
বন্ধুগণ, চতুর্থ পরিবর্তন হ’ল – আগের তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় ও গতিতে গৃহ নির্মাণ করা হচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকারের ১০ বছরে শহরের গরিবদের জন্য ১৩ লক্ষ গৃহ মঞ্জুর হয়েছিল। আর বিগত সাড়ে চার বছরে এর প্রায় ছয় গুণ ৭৩ লক্ষ গৃহ মঞ্জুর করা হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য বিগত সরকারের আমলে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। সেই তুলনায় গত সাড়ে চার বছরে প্রায় চার লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের ১০ বছরে শহরের গরিবদের ৮ লক্ষ গৃহ প্রদান করা হয়েছিল। আর বিগত সাড়ে চার বছরে এর প্রায় ১৫ লক্ষ গৃহ প্রদান করা হয়েছে – প্রায় দ্বিগুণ! এই গতিতে এগিয়ে আমরা ২০২২ সালের মধ্যে দেশের প্রত্যেক গৃহহীনের মাথার ওপর ছাদ সুনিশ্চিত করতে চলেছি।
গরিবদের নিজস্ব বাড়ির স্বপ্ন বাস্তবায়নের পাশাপাশি, আমরা স্বাধীনতার পর প্রথমবার মধ্যবিত্ত গৃহহীনদের জন্যও গৃহ নির্মাণের কথা ভেবেছি। সেজন্য আমরা ক্রেডিট লিঙ্ক সিস্টেমকে বিস্তারিত করেছি।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে স্বাধীনতার পর প্রথমবার বছরে ১৮ লক্ষ টাকা আয়সম্পন্ন মধ্যবিত্তদের গৃহঋণের ক্ষেত্রে সুদে ছাড় দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যাঁরা বাড়ি কিনবেন, তাঁদের মোট সাড়ে পাঁচ থেকে সাড়ে ছয় লক্ষ টাকা সাশ্রয় হবে। গত বছর আমরা এলআইজি এবং এমআইজি গৃহগুলির ক্ষেত্রফলও বৃদ্ধি করেছি।
বন্ধুগণ, মধ্যবিত্ত ভাই ও বোনদের, বিশেষ করে নবীন প্রজন্মের বন্ধুদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এবারের বাজেটে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রোজগারে করে ছাড় দেওয়া হয়েছে। সেজন্য পেশাদার জীবনের গোড়ার দিকেই তাঁরা বাড়ি কিনতে উৎসাহিত হবেন। করে ছাড় দেওয়াতে সরকারের ক্ষতি হচ্ছে আর আপনারা উপকৃত হচ্ছেন। চিন্তা করবেন না, আমি আপনাদের ব্যবসায় নাক গলাতে যাচ্ছি না, আমি আপনাদের প্রতিযোগীও নই!
আগে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিলে কর দিতে হ’ত। কিন্তু এখন তা বাড়িয়ে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এবারের বাজেটের ফলে গৃহ নির্মাণ ব্যবসা অনেক চাঙ্গা হবে। সংসদে আমাদের এই বিষয়টি বোঝাতে বেশ কষ্ট হয়েছিল। যে পরিবারগুলি নিজেদের প্রয়োজন অনুসারে বাড়ি কিনতেন, তাঁদের আনুমানিক ভাড়ার ওপর আয়কর দিতে হ’ত। এখন আর তাঁদের আয়কর দিতে হবে না।
আর যাঁরা পুরনো বাড়ি রয়েছে, তাঁরা বেশি দামে সেটি বিক্রি করে একটু শহরের বাইরে গিয়ে সস্তায় বাড়ি কিনছেন। তাঁদের ক্ষেত্রেও অনেক কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। এখন ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বাঁচানোর জন্য মানুষ এই গৃহ বিক্রির থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে একই স্থানে দুটি বাড়ি নির্মাণের কাজে লাগাতে পারেন। এতদিন পর্যন্ত বাড়ি বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থকে এক বছরের মধ্যেই অন্য বাড়ি কেনার জন্য ব্যবহার করলে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বাবদ ছাড় একটি বাড়ির ক্ষেত্রেই পাওয়া যেত। এখন দুটি বাড়ি পর্যন্ত ছুট পাওয়া যাবে। এখন আপনারা পুরনো বাংলো কিনে ফ্ল্যাট তৈরির প্রকল্প যাঁরা গড়ে তুলছেন, তাঁদের বোঝান আমার এই পরামর্শের জন্য কোনও কর লাগবে না।
বন্ধুগণ, দেশে দ্রুত উন্নয়নের ফলে যে নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণী গড়ে উঠছে, তাঁদের স্বপ্ন ও আকাঙ্খা অভূতপূর্ব উচ্চতা স্পর্শ করায় আপনাদের ব্যবসার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। এই স্বপ্নের সূত্রপাত হয় নিজের বাড়ি থেকে। সেজন্য আপনাদের ব্যবসা কিভাবে বাড়াবেন সেই দায়িত্ব এখন আপনাদের হাতে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমীক্ষার ফল অনুসারে ভারতের অধিকাংশ দরিদ্র মানুষ দ্রুতগতিতে দারিদ্র্যসীমা থেকে উপরে উঠে আসছেন। ফলে যে নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণী গড়ে উঠছে, তাঁদের প্রত্যাসাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁদের মানসিকতা বুঝে নিয়ে নিজেদের প্রকল্প গড়ে তুলুন। এক্ষেত্রে আমি আপনাদের নির্মার উদাহরণ দিতে চাই। নির্মার মালিক যখন সাইকেলে করে বাড়ি বাড়ি সস্তায় ডিটারজেন্ট পাউডার বিক্রি করতেন, তখন তাঁর লক্ষ্যই ছিল নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির কাছে পৌঁছনো। আর এভাবে তিনি বহুজাতিক কোম্পানিগুলির প্রতিস্পর্ধী হয়ে ওঠেন, তারপর বাকিটা ইতিহাস। আপনাদের সামনেও এখন সেই সুযোগ এসেছে। নব্য মধ্যবিত্তদের প্রত্যাশাকে বুঝুন আর সেভাবে ব্যবসার কৌশল নির্ধারণ করুন। আমি দৃঢ় নিশ্চিত যে, আপনারা ২ – ৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোম্পানি হলেও ১০ – ২০ বছর পর অনেক বড় বড় রথী-মহারথীদের টপকে যাবেন।
বন্ধুগণ, আপনাদের মধ্যে অনেকেই আবার দ্বিতীয় প্রজন্মের ডেভেলপার্স রয়েছেন, যাঁরা পরবর্তী প্রজন্মের প্রয়োজন এবং নতুন ভারতের নতুন পরিবর্তনকেও বুঝতে পারছেন। আপনাদের কাঁধেই দেশের রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রকে নতুন ভারতের আকাঙ্খা ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে পরিবর্তন করার দায়িত্ব রয়েছে।
বন্ধুগণ, কেন্দ্রীয় সরকার বিগত সাড়ে চার বছরে এই পরিবর্তনের অনুকূল আবহ গড়ে তুলছে। সহজে ব্যবসা করার সুযোগ গড়ে তোলার পাশাপাশি, কিছু ভুল পরম্পরাকে থামানোর প্রচেষ্টাও করা হয়েছে। আমি জানি যে, বিগত কয়েক দশকে রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রে যে সমস্যা সবচেয়ে গুরুতর হয়ে উঠেছিল, সেটি হ’ল ব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষের আস্থা কমে গিয়েছিল। সাড়ে চার বছর আগে এর এমন পরিস্থিতি ছিল যে, মধ্যবিত্ত মানুষেরা অর্থ বিনিয়োগের আগে ১০০ বার ভাবতেন। লক্ষ লক্ষ মানুষকে নিজের রক্তজল করা পয়সায় কেনা বাড়ির দখল নিতে আদালতের দ্বারস্থ হতে হ’ত।
বিগত সাড়ে চার বছরে আমরা এই আস্থার আবহ পুনরুদ্ধার করার জন্য যথাযথ প্রচেষ্টা করেছি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হ’ল বিমুদ্রাকরণ। যাঁরা দুর্নীতির মাধ্যমে লুন্ঠিত অর্থ রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করে ফুলেফেপে উঠছিল, বিমুদ্রাকরণ তাঁদের বাড়াভাতে ছাই ঢেলে দিয়েছে। এখন যাঁরা সততার মাধ্যমে অর্থ রোজগার করেন, তাঁরাই এক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারবেন।
আমি জানি যে, আপনাদের এই অভিজ্ঞতা এবং গুজরাটবাসী গৃহ নির্মাণকারীদের বিগত ১৩ বছরের অভিজ্ঞতা পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা থেকে ভিন্ন। আমি যখনই যে সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছি, আমার প্রত্যেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুরুর দিকে অনেক সমস্যা হয়েছে। কারণ, সেই সিদ্ধান্তগুলি সময়ের থেকে এগিয়ে ছিল। সেগুলি বুঝতে অনেকের সমস্যা হয়েছে। একবার গুজরাটের কৃষকরা আমার কাছে বিদ্যুতায়নের দাবি নিয়ে এসেছিলেন, আমি তাঁদের জিজ্ঞেস করি, আপনাদের আগে বিদ্যুৎ চাই না আগে সেচের জল চাই! তাঁরা বলেন, আগে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ চাই। সমস্ত রাজনৈতিক দল প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আমি তাঁদের আবার জিজ্ঞেস করি, ভেবে বলুন, আগে বিদ্যুৎ চাই না আগে সেচের জল চাই! আমি জানি, অনেক রাজনীতির লোকেরা বিদ্যুতের তার হাতে ধরিয়ে অনেকের সর্বনাশ করেছে, আমি আপনাদের সেচের জল পৌঁছে দিয়ে জীবিত রাখতে চাই। আপনারা বিশ্বাস করবেন না যে, আমার নিজের দলের লোকেরা প্রতিবাদে অনশনে বসেছিলেন, গ্রামে গ্রামে আমার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হচ্ছিল, আসলে তাঁরা ভয় পাচ্ছিলেন যে, কৃষকদের ক্ষোভ মোদীকে ডুবিয়ে দেবে আর এর সঙ্গে আমরাও ডুববো। কিন্তু আমি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম। প্রতি বিন্দুতে অধিক ফসল, ড্রিপ ইরিগেশনের মাধ্যমে কম জল ব্যবহার করে অধিক ফসল ফলানো অভিযানে অটল থেকে গুজরাটে কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নে লাগাতার ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সুনিশ্চিত করতে পেরেছিলাম। অনেক ঊষর ভূমিকে এভাবে পরিমিত সুজলা ও সুফলা করে তুলতে পেরেছিলাম। আর দেরীতে হলেও আমার কৃষক বন্ধুরা আমার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছিলেন আর সেই সাফল্য নিয়েই আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনও আমার সামনে নির্বাচন রয়েছে। তবুও যা ঠিক মনে করি, তা আপনাদের সামনে স্পষ্টভাবে বলার সাহস নিয়ে বলছি।
দেশের জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলছি। আমরা রিয়েল এস্টেট রেগুলেশন অ্যাক্ট বা রেরা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে গ্রাহক ও আপনাদের মধ্যে আস্থার সম্পর্ককে মজবুত ভিত্তি প্রদান করেছি। আপনারা গভীরভাবে চিন্তা করলে জনমানসে এর প্রভাব অনুভব করতে পারবেন। আমি চাই যে, আপনারা এই বিষয়গুলি নিয়ে কর্মশিবির করুন, আপনারা ঐক্যবদ্ধ হন।
আজ আপনারা বিশ্বের যে কোনও দেশে গিয়ে সেদেশের যে কোনও নাগরিকের সঙ্গে হাত মেলালেই টের পাবেন যে, ভারত সম্পর্কে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ধ্যান-ধারণার কত পরিবর্তন হয়েছে। আগে হাত মেলালে ভারতীয় শুনলে করমর্দন শিথিল হয়ে যেত। আর এখন ভারতীয় শুনলে বিদেশিরা হাত ছাড়তেই চান না। এখন বিশ্ববাসী আপনাদের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে আগ্রহ বোধ করছেন। এই পরিবর্তন কিভাবে এসেছে? সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া ও কর্মশৈলী থাকা উচিৎ। সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে সেই সিদ্ধান্তের পরিবেশগত প্রভাব এমনই হয় যে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশবাসীর সম্মান বাড়ে। ২০১৩ – ১৪ সালে দেশের খবরের কাগজ কিংবা টেলিভিশন চ্যানেলগুলিতে চর্চার বিষয় ছিল বিভিন্ন কেলেঙ্কারি। গুজরাটের বাইরে আমাকেও কেউ চিনতেন না বলে টিভিতে আমাকে প্রধানমন্ত্রী করা নিয়ে বিতর্ক চলতো। আমার বিদেশ নীতি নিয়ে কোনও অভিজ্ঞতা নেই, এটাও চর্চার বিষয় ছিল। আমাকে যখন সাংবাদিকরা এ নিয়ে প্রশ্ন করতেন, তখন আমি স্বীকার করে নিতাম যে, সত্যি আমার কোনও অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু আমার জীবনের মন্ত্র হ’ল, যা করব দেশের জন্য করব। এই শক্তি নিয়েই আমি সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর আপনারাও তার পরিণাম দেখতে পেয়েছেন। সেজন্য আমি বলতে চাই যে, আপনাদের ব্যবসার প্রেক্ষিতেও সরকারি সিদ্ধান্তগুলি সম্পর্কে আপনাদের মূল কর্মীদলকে প্রশিক্ষিত করে তুলতে হবে। তখনই বুঝতে পারবেন যে, সরকার কেন আইনে পরিবর্তন এনেছে। আমরা ভাবনা চিন্তা করেই কোনও বীজ বপন করি আর নিজেদের ইচ্ছে মতো অঙ্কুরোদগম ঘটিয়ে ইপ্সিত বৃক্ষকে মহীরূহে পরিণত করি।
রিয়েল এস্টেট রেগুলেটারি অথরিটি বা রেরা প্রসঙ্গে জক্সয় যখন কথা বলছিলেন, তখন আপনারা হাসছিলেন। আপনাদের হাসির মানে আমি অনুভব করেছি। কিন্তু আমি এটা বিশ্বাস করি যে, আপনাদের মনে নতুন অভিযানে যাওয়ার ইচ্ছাশক্তি রয়েছে, সেজন্য আপনাদের অভিনন্দন জানাই। আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ এখনও দ্বিধাগ্রস্ত থাকলেও অতিদ্রুত আপনারা দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজে লেগে যেতে পারবেন। আমি গত কাল নিয়ে বাঁচি না, আগামীকালের বিশ্বাস নিয়ে নতুন ইমারত গড়ে তোলার দর্শনে বিশ্বাস করি। রেরা ২৮টি রাজ্যে সূচিত করা হয়েছে। ২১টি রাজ্যে তো ট্রাইবুনালও কাজ করছে। আজ দেশে প্রায় ৩৫ হাজার রিয়েল এস্টেট প্রোজেক্ট এবং ২৭ হাজার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট এর মাধ্যমে নথিভুক্ত হয়েছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নতুন ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কি লাভ হবে? দেখুন আমি কোনও উপদেশ দিতে চাই না, বন্ধু হিসাবে বলছি। গৃহ নির্মাণ প্রকল্পগুলির সঙ্গে আপনাদের ভবিষ্যৎ যেমন যুক্ত রয়েছে, তেমনই কোটি কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্খা জড়িয়ে রয়েছে। আজকের দিনে আপনারাই সর্বাধিক মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছেন। রাজমিস্ত্রি থেকে শুরু করে সিমেন্ট উৎপাদক কর্মী কিংবা ইস্পাত উৎপাদক কর্মীরাও উপকৃত হচ্ছেন। আর ভালো আবাসন গড়ে উঠলে সেখানে উদ্যানকর্মী থেকে শুরু করে খবরের কাগজ বিক্রেতা, দুধ বিক্রেতা ও আরও অনেক পেশার মানুষের কর্মসংস্থান হয়।
আমি জক্সয়কে ছোটবেলা থেকেই চিনি বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, তাঁর নেতৃত্বে যে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে, তা সাফল্যের শিখর স্পর্শ করবে। আগে আমি আপনাদের মধ্যে যাঁরা হীরা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে অনেক কথা বলেছি। তখন আমি রাজনীতিতে ছিলাম না। অনেকেই অল্প বয়স থেকে হীরে কাটা, পালিশ করায় দক্ষতা অর্জন করে রপ্তানিকারক হয়ে উঠেছেন, কোম্পানির মালিক হয়েছেন, ৫ – ১০ হাজার কোটি টাকার হীরে রপ্তানি করেন। কিন্তু আপনাদের গরিমা বৃদ্ধি পাচ্ছে না কেন? এটা ২০ – ২৫ বছর আগের কথা। আমার কথা শুনে অনেকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে কাজ করে গেছেন। ফলে, আপনারা কতটা লেখাপড়া জানেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেনি। কিন্তু দেশে ও বিদেশে আপনাদের সম্মান ও আপনাদের কর্মকান্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। আসলে কত টাকা রোজগার করলেন, তারচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া উচিৎ আপনার পেশার গরিমা বৃদ্ধিতে। আপনাদেরকেও বলছি, কিভাবে বাড়ি নির্মাণ করছেন, তারচেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ আপনার পেশার গরিমা বৃদ্ধি। অনেক ভালো প্রকল্প, উন্নত নক্শা, উৎকৃষ্ট উপাদান ইত্যাদির মাধ্যমে আপনারা যদি একবার জনমানসে আস্থা গড়ে তুলতে পারেন, তা হলে দেখবেন, আকাশ কিভাবে আপনাদের সামনে অবনত হতে শুরু করেছে! এত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র, তার একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও স্বীকৃতি গড়ে ওঠা উচিৎ। পরিশ্রমী মানুষের জীবনকে গরিমাময় করে তোলে যে কোনও পিতা-মাতার কাছে অগ্রাধিকার থাকে সন্তানদের শিক্ষা, তারপর কর্মসংস্থান, তারপর বিবাহ। পাশাপাশি, তাঁরা একটি নিজস্ব গৃহের স্বপ্ন দেখতে থাকেন। আর এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য নিজেদের উপার্জনের সর্বস্ব আপনাদের হাতে তুলে দেন। সেখানে যখন কেউ ধোঁকা খান, তাঁদের সমগ্র ব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস ১০ গুণ বৃদ্ধি পায়। আপনারা যদি এই সমস্যাকে হৃদয়ঙ্গম করে নিজেদের পেশার গরিমা বৃদ্ধি করতে পারেন, তা হলেই দেখবেন অনেক বড় পরিবর্তন আসবে।
বন্ধুগণ, আগের তুলনায় কন্সট্রাকশন পারমিট সহ সমস্ত অনুমতি অনেক দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে। সেজন্য সহজে ব্যবসার তালিকায় ভারত সাড়ে চার বছরে ৬৭ ধাপ এগিয়ে গেছে। একদিন বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট আমাকে ফোন করে বলেছেন যে, ভারত বিশ্বের বড় দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়া অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে। এই পরিবর্তন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আর বিশ্ব ব্যাঙ্কের সম্পূর্ণ দলকে আমাদের দেশে পাঠিয়েছিলেন। আপনারা সকলে যদি ভারতের এই পরিবর্তিত গরিমার সুযোগ না নেন, তা হলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। আপনারা এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।
রিয়েল এস্টেট ব্যবসার ক্ষেত্রে ডেভেলপার্স এবং ক্রেতা উভয়ের জন্যই জিএসটি লাভদায়ক প্রতিপন্ন হয়েছে। আগে গৃহ নির্মাণ ক্ষেত্রে ১৫ – ১৮ শতাংশ কর দিতে হ’ত। আর কিছু গৃহ নির্মাণ সরঞ্জাম যেমন – রঙ, টাইল, টয়লেট, সাওয়ার, কেবল ও ওয়্যারের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশেরও বেশি কর দিতে হ’ত। কিন্তু জিএসটি চালু হওয়ার পর মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ক্ষেত্রে ৮ শতাংশ আর উচ্চবিত্তদের জন্য ১২ শতাংশ জিএসটি দিতে হয়। ব্যবসায়িক সম্পত্তির করও অনেক হ্রাস পেয়েছে। তেমনই উপরোক্ত গৃহ নির্মাণ সামগ্রীগুলির ক্ষেত্রে মাত্র ১৮ শতাংশ জিএসটি দিতে হচ্ছে। ইঁটের ক্ষেত্রে জিএসটি ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। আপনারা হাততালি দেবেন না জানি। আমি বলতে আসিনি, শুনতে এসেছি। কী চলছে তা জানতে এসেছি।
বন্ধুগণ, এবারের বাজেটে আমরা মধ্যবিত্তদের গৃহ নির্মাণে সাহায্য করার জন্য আয়করে ছাড় দিয়েছি। ১৯১৬’র নিয়মে ৮০ আইবিএ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। সুলভ গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের অধীন গৃহ নির্মাণের নির্ধারিত সময় ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করা হয়েছে। এ বছরের ৩১ মার্চ, ২০১৯ পর্যন্ত যাঁদের সম্পূর্ণ করার কথা ছিল, তাঁদের ৩১ মার্চ, ২০২০’র মধ্যে সম্পূর্ণ করার আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। বিক্রি না হওয়া আসবাবের সমস্যা মাথায় রেখে ‘ন্যাশনাল রেন্টাল ইনকাম’ বাবদ কর আগেমী দু’বছর নেওয়া হবে না। মধ্যবিত্তদের গৃহ নির্মাণের ক্ষেত্রে সাহায্য করার জন্য বিগত সাড়ে চার বছরে এ ধরণের অনেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বন্ধুগণ, রিয়েল এস্টেট এবং গৃহ নির্মাণ ক্ষেত্রে অর্থের যোগান বজায় রাখতে নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দু’বছর আগেই রিয়েল এস্টেট ও পরিকাঠামো বিনিয়োগ ট্রাস্টকে ঋণ বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ ধরণের ট্রাস্টগুলিকে ২০১৭ সাল থেকেই ডিভিডেন্ট ডিস্ট্রিবিউশন ট্যাক্সেও ছাড় দেওয়া হয়েছে। গৃহ নির্মাণে বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলির বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করার প্রক্রিয়াকে সহজ করতে গত বছর সেক্টারাল রেমিটেন্সকে নেওয়া হয়নি।
বন্ধুগণ, গৃহ নির্মাণ ক্ষেত্রে কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অসংঠিত ক্ষেত্রের। এই অসংগঠিত ক্ষেত্রের বন্ধুদের মধ্যে যাঁদের আয় মাসে ১৫ হাজার টাকার কম, তাঁদের ৬০ বছর বয়সের পর মাসে তিন হাজার টাকা পেনশন সুনিশ্চিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে এই শ্রমিক বন্ধুদের মাসে গড়ে ১০০ টাকা করে জমা করতে হবে, আর একই পরিমাণ টাকা কেন্দ্রীয় সরকারও তাঁদের পেনশন অ্যাকাউন্টে জমা করবে।
বন্ধুগণ, আপনাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ যে, আপনাদের ব্যবসাকে দেশের মধ্যবিত্ত মানুষদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অনুকূল করে তুলুন, তাঁদেরকে এই পেনশন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করুন এবং আপনাদের পক্ষ থেকেও কিছু অবদান রাখুন। এভাবেই আপনারা প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা এবং সুরক্ষা বিমা যোজনার মাধ্যমে মধ্যবিত্তদের পাশে দাঁড়াতে পারবেন। মধ্যবিত্তরা যাতে দেখেন, ৯০ পয়সা প্রতিদিন হিসাবেও বিমা রয়েছে এবং তাঁরা এর দ্বারা উপকৃত হচ্ছেন – এটা সুনিশ্চিত করুন। ইতিমধ্যেই এ ধরণের পরিবারের হাতে বিমা বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকা পৌঁছে গেছে। আপনাদের কর্মীরাও যাতে এই প্রকল্পের সুযোগ পান, সেটিকে সুনিশ্চিত করুন। যে সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে আপনারা কাজ করছেন, এই সামাজিক সুরক্ষা আপনাদের উদ্যোগকে নতুন প্রাণশক্তি যোগাবে, সম্প্রসারিত করবে। আমাকে বলা হয়েছে যে, আপনারা দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নিয়মিত অবদান রাখছেন। সেজন্য আমি আপনাদের হৃদয় থেকে অনেক অভিনন্দন জানাই।
বন্ধুগণ, আপনাদের মতো পরবর্তী প্রজন্মের নেতারাই নতুন ভারতের আসল কর্ণধার। আপনাদের নতুন ভাবনা এবং সামর্থের ওপর ভরসা করেই আমি অনেক কঠিন লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আপনাদের এই সামর্থ্য দেশকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে, গৃহ নির্মাণকে আরও সুলভ করে তুলবে। এই বিষয় নিয়ে আজকের কর্মসূচিতে অনেক আলাপ-আলোচনা হবে এবং নতুন নতুন ভাবনা সামনে আসবে। গৃহ নির্মাণ ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির অধিকতম ব্যবহার কিভাবে করা যায়, তা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। পরিবেশ দূষণমুক্ত শক্তি উৎপাদনে দক্ষতা, জল সংরক্ষণ, নির্মাণ উপকরণের পুনর্ব্যবহার এবং নির্মিত ভবনগুলিতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সুনিশ্চিত করা আপনাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিৎ। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে প্রায় ১২ লক্ষ গৃহ নির্মাণে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। এতে নির্মাণ খরচ হ্রাস পেয়েছে এবং কাজের গতি বেড়েছে। নির্মাণ ক্ষেত্রে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রযুক্তিগুলির সঙ্গে পরিচয় করানোর জন্য আগামী মাসে দিল্লিতে গ্লোবাল হাউসিং টেকনোলজি চ্যালেঞ্জ শীর্ষক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। আপনারা সকলে এই প্রতিস্পর্ধার অংশ হয়ে উঠতে পারেন।
বন্ধুগণ, নিজের বাড়ির স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা অনেক সাধারণ মানুষ আশা নিয়ে আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আপনারা তাঁদের এই আশা পূরণে সক্ষম হবেন, এই বিশ্বাস নিয়ে আপনাদের কিছু বলতে চাই। আমি একটু আগেই জক্সয়কে জিজ্ঞেস করছিলাম যে, আপনাদের নবীন গৃহ নির্মাতাদের মধ্যে কোনও প্রতিযোগিতা হয় কিনা! তিনি বললেন যে, হয় না, তবে এমনভাবে আমরা কখনও ভাবিনি! আমি ক্রেডাই সংস্থার কাছে আবেদন রাখব যে, নির্মাণ প্রযুক্তিতে উদ্ভাবন, উদ্ভাবনের জন্য প্রচেষ্টারত স্টার্ট আপ কোম্পানিগুলি নতুন পদ্ধতিতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়ে থাকলে, পরিবেশ সচেতনতার দিক থেকে কোনও নতুন উদ্ভাবনের ফলিত প্রয়োগের জন্য এবং বর্জ্যকে কিভাবে নির্মাণের ক্ষেত্রে পুনর্ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে কোনও সাফল্য যদি আপনারা দেখেন, সেক্ষেত্রে একটি অভিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলী তাঁদের পুরস্কৃত করতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, আমার আরেকটি পরামর্শ হয়তো আপনাদের ভালো লাগবে। আপনাদের মধ্যে অনেক মহিলা-চালিত সংস্থা রয়েছে, যার মধ্যে অল্প কয়েকজন রয়েছেন, যাঁরা নিজেরাই কোনও কোম্পানির মালিক। আর অন্যরা বিভিন্ন কোম্পানির মালিকদের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যা। আমি চাই যে, বিভিন্ন কোম্পানির মালিকদের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যারা, যাঁরা ব্যবসা করেন না, তাঁরা আলাদা করে সংগঠন তৈরি করুন। আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখন একটি পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছিলাম। আমি অনেক রেল লাইন পার্শ্ববর্তী বস্তিবাসীর জন্য গৃহ নির্মাণ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু একটি মানসিক সমস্যা অনুভব করছিলাম। আপনাদের হয়তো কমল হাসান অভিনীত একটি সিনেমার কথা মনে আছে, আমার নামটা মনে নেই। সেই সিনেমায় কমল হাসান এরকম রেলের লাইনের পার্শ্ববর্তী বস্তিতে থাকতেন, নির্দিষ্ট রেল গাড়ির শব্দে তাঁর ঘুম আসতো। পুনর্বাসনের পর রেলগাড়ির শব্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছিল। তখন সে রেলগাড়ির শব্দ টেপ করে এনে সেই আওয়াজ চালিয়ে ঘুমাতো। এই উদাহরণ এজন্য দিচ্ছি, নতুন বাড়িতে গিয়ে আমার বস্তিবাসী বন্ধুরা অনেকেই এরকম খাপ খাওয়াতে পারবেন না, এরকম অনুমান করে আমি উপকৃতদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি অসরকারি সংগঠনকে দায়িত্ব দিই। শৌচালয় ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলের কল ব্যবহার করা, ইলেক্ট্রিকের সুইচ ও মিটার সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান, জানালা খোল ও বন্ধ করা, পুরনো শাড়ি দিয়ে পর্দা লাগানোর তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণ এই বস্তিবাসীদের প্রত্যয় অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিল। তাঁরাও বাড়ি থেকে প্লাস্টিকের চেয়ার, শতরঞ্জি, পর্দা, রেডিও, টিভি – এসব নিয়ে এসে প্রশিক্ষণকে অনেক কার্যকরি করে তুলেছিলেন। আপনাদের মহিলা সংগঠন যদি এরকম অসরকারি সংস্থা গড়ে তুলে গৃহ নির্মাণ প্রকল্প দ্বারা উপকৃত মানুষদের এ ধরণের প্রশিক্ষণ দিতে পারেন, তা হলে তাঁরা আরও উন্নত নাগরিক হয়ে উঠবেন। আর আপনারাও তাঁদের এই পরিবর্তন দেখে, তাঁদের চোখে আপনাদের প্রতি সম্মান দেখে সাফল্যের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।
যাঁরাই নতুন কিছু, উদ্ভাবনধর্মী কিছু করতে পারবেন, তাঁরা মনের দিক থেকে নবীন থাকবেন। পরিবেশ থেকে কোনও কিছু গ্রহণের ক্ষমতা আমাদের মস্তিষ্ককে নবীন করে তোলে। আমি দ্রুত ছুটে ছুটে কাজ করতে ভালোবাসি। সেজন্য নবীন প্রজন্মের মানুষের সঙ্গে আমার রসায়নটা খুব ভালো হয়। আপনাদের ও আমার মাঝখানে কোনও বয়স কিংবা পদের দূরত্ব থাকে না। মনের মধ্যে সবসময়ে আপনাদের সঙ্গ মিলিত হওয়ার, কথাবার্তা বলার, আপনাদের নিয়ে ভাবনাচিন্তা করার এবং দেশের জন্য একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার প্রবল আগ্রহ আমার হৃদয় আলোকিত করে রাখে।
এই ভাবনা নিয়ে আরেকবার আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই। যে চিত্রশিল্পী আমার চেয়ে সুন্দর করে আমার ছবি অঙ্কণ করেছেন, তাঁকে আমার কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি জক্সয়কে বলেছি, তাঁর ঠিকানা দিতে আমি অবশ্যই সেই বন্ধুকে চিঠি লিখে ধন্যবাদ জানাতে চাইব।
আমি আরেকবার আপনাদের সকলকে শুভেচ্ছা জানাই। যা কিছু বলেছি, দেশের স্বার্থের কথা বলেছি। আপনাদের ভালো লাগলে গ্রহণ করবেন, না হলে ভুলে যাবেন।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
CG/SB/SB
देश का गरीब के घर का सपना पूरा हो, 2022 तक हर बेघर को अपना पक्का घर मिले, इस दिशा में तेज़ी से काम किया जा रहा है।
— PMO India (@PMOIndia) February 13, 2019
प्रधानमंत्री आवास योजना के तहत देश के गांव और शहरों में लगभग 1.5 करोड़ गरीबों के घर बनाए जा चुके हैं, जिसमें से लगभग 15 लाख घर शहरी गरीबों के बनाए जा चुके हैं: PM
जब किसी योजना से नाम का या स्वार्थ का भाव निकाल देते हैं तो नीति स्पष्ट हो जाती है
— PMO India (@PMOIndia) February 13, 2019
इसलिए करप्शन का, अपने-पराए का भाव भी निकाल दिया।
अब तकनीक का उपयोग कर लाभार्थियों का चयन होता है, किसी के कहने पर लिस्ट में नाम कटने या जोड़ने का काम जो होता था उसको बंद कर दिया है: PM
RERA के माध्यम से ग्राहक और आप सभी के बीच का भरोसा और मजबूत हुआ है।
— PMO India (@PMOIndia) February 13, 2019
आज RERA 28 राज्यों में नोटिफाई किया जा चुका है।
आज देशभर में करीब 35 हजार रियल एस्टेट प्रोजेक्ट्स और 27 हजार रियल एस्टेट एजेंट्स इससे रजिस्टर हो चुके हैं और लाखों नए फ्लैट्स का निर्माण किया जा रहा है: PM
इसी तरह कंस्ट्रक्शन परमिट सहित तमाम दूसरी परमिशन अब पहले की तुलना में तेज़ी से मिल रही हैं।
— PMO India (@PMOIndia) February 13, 2019
जिसका परिणाम ये हुआ कि ईज़ ऑफ डूइंग बिजनेस रैंकिंग में देश ने बड़ी छलांग बीते साढ़े 4 वर्षों में लगाई: PM
पहले कंस्ट्रक्शन सेक्टर पर 15-18% का टैक्स लगता था। जो सामान है, जैसे पेन्ट, टाइलें, टॉयलेट का सामान, केबल, वायर ऐसी तमाम चीजों पर 30% से ज्यादा टैक्स लगा करता था।
— PMO India (@PMOIndia) February 13, 2019
GST के बाद मध्यम वर्ग के घरों के लिए टैक्स कम हुआ है। इसी तरह कंस्ट्रक्शन मटीरियल पर भी GST को कम किया गया है: PM
पेन्ट, वायर, इलेक्ट्रिकल फिटिंग से जुड़ा सामान, सेनिटरीवेयर, प्लायवुड, टाइल जैसे अनेक सामान पर GST 28 प्रतिशत से घटाकर 18 प्रतिशत लाया गया है।
— PMO India (@PMOIndia) February 13, 2019
वहीं ईंटों पर GST 12 प्रतिशत से घटाकर 5 प्रतिशत किया गया है: PM