পিএমইন্ডিয়া



ম ন্ত্রিসভায় আমার সাথি কর্নেল রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোর,শ্রী অনিল বেজলজি, রাহুল ভটনাগরজি, শ্রী নরেন্দ্র বসরা-জি, সুশীল কুমারজি, দেশ ওবিদেশে ভারতের নাম উজ্জ্বল করা সমস্ত খেলোয়াড়গণ ও তাঁদের গুরুগণ এবং ভবিষ্যতেদেশের নাম উজ্জ্বল করার সংকল্প নিয়ে মনে-প্রাণে যুক্ত হওয়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তথেকে আসা আমার যুব সাথিগণ, আমি আপনাদের সবাইকে অন্তর থেকে স্বাগত জানাই|
ভারতের প্রতিটি প্রান্তের অনূর্ধ্ব সতেরো ’ র উদীয়মান খেলোয়াড়গণ আজ আমাদের মধ্যেউপস্থিত| খেলো ইন্ডিয়া — কোনোকর্মসূচি নয়, এ এক অভিযান| ভারতের জনগণের স্বভাবের মধ্যেই খেলাধুলাকে কীভাবেগুরুত্ব দেওয়া যায়, মা-বাবাও যাতে ছেলেমেয়েদের জীবনে পেশার ক্ষেত্রে খেলাধুলারগুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারেন, বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের বিদ্যালয়ের বাস্তুতন্ত্রে,আমাদের শিক্ষার বাস্তুতন্ত্রে খেলাধুলাও যে জীবন বিকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক — এই মনোভাব কীভাবে দৃঢ় করা যায়, তার অভিযান|পাঁচ-সাতটি কাজের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ণয় করার ক্ষেত্রে খেলাধুলাও যাতেঅগ্রাধিকারের তালিকায় থাকে, তার উদ্যোগ|
কোনো কাজ শেষ করার পর চলো ‘ কিছুটা সময় বের করি, কিছু খেলে নেই ’— এই মানসিকতার বদলে ‘ খেলেভি, খিলে ভি ’ অর্থাত ‘ খেলবো আর এগিয়েও যাবো ’— এই সংকল্প নিয়ে আমরা কীভাবে সামনে এগিয়েযেতে পারি? এখানে যারা ভারতের নাম উজ্জ্বল করা আমাদের খেলোয়াড়গণ বসে আছেন, তারাএমনি এমনি খেলোয়াড় হয়ে যাননি| কেউ তাদের মধ্যে প্রতিভা দেখেছেন, কেউ সেই প্রতিভাকেচর্চার জন্য প্রচেষ্টা করেছেন| প্রথম দিকে মা-বাবা আটকানোর চেষ্টা করেছেন হয়তো|স্কুলেও হয়তো কখনও বলা হয়েছে —‘ আরেতুমি তো লেখাপড়ায় অনেক ভালো, তাহলে এই খেলাধুলায় সময় নষ্ট কেন করছো? ’ এ ধরনের অনেক বাধা এসেছে হয়ত| কিন্তু কেউনা কেউ তো ছিলেন যিনি সেই খেলোয়াড়কে হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, লক্ষ্যের দিকেএগিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে তৈরি করেছেন, আর সে নিজেও নিজেকে এতে সমর্পণ করে দিয়েছে|
আজ ভারতে প্রতিভার অভাব নেই| সোয়া-শো ’ কোটি মানুষের দেশ, ৬৫ শতাংশ মানুষ ৩৫ বছরেরকম বয়সী যুবঅংশের, তাদের নিয়ে কি ভারত খেলাধুলার দুনিয়ায় নিজের নাম উজ্জ্বল করতেপারে না? আমি বলছি যে, ভারতের আরও এগিয়ে যাওয়া উচিত| ভারতের এগিয়ে যাওয়ার অর্থশুধুমাত্র এই নয় যে, সৈন্য-শক্তির বৃদ্ধি হলেই ভারত এগিয়ে যাবে, আর্থিক মহাশক্তিহয়ে গেলে ভারত এগিয়ে যাবে| তা নয়| ভারত বিশ্বে উচ্চতম শিখরে তখনই পৌঁছাতে পারবে,যখন আমরা জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবো — অর্থাত যখন নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সারিতেও ভারতই বেশি থাকবে, চলচ্চিত্রেরদুনিয়ায় অস্কার পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রেও ভারতই বেশি থাকবে, বিশ্বের বিজ্ঞানীদেরনিয়ে আলোচনা হলে ভারতকেই বেশি দেখা যাবে, খেলাধুলার বিষয়েও ভারতই বেশি থাকবে|জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে যদি আমরা ভারতকে বিশ্বের শিখরে নিয়ে যাওয়ার সংকল্প নিয়ে চলি — তাহলে আজ নয়তো কাল এটা হবেই হবে| আর আমি এটাআত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছি এই কারণে যে, দেশের প্রতিভায় দেশের যুব প্রজন্মের ওপরআমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে|
‘ খেলো ইন্ডিয়া কর্মসূচি ’— নিয়ে আমি বলতে চাই যে, এটা শুধুমাত্র একপ্রতিযোগিতা হয়ে থাকবে, বিজয়ীরা পদক পেয়ে যাবেন — শুধু এটুকুই নয়| এক সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ব্যাপক কৌশলের সঙ্গে তৃণমূলস্তরে — তা সে পরিকাঠামোউন্নয়নের ক্ষেত্রে হোক, প্রশিক্ষণ ও তালিম দেওয়ার বিষয়েই হোক, মানবসম্পদ উন্নয়নেরকথাই হোক, খেলাধুলার নিয়ম উপর থেকে নিচে পর্যন্ত সব পর্যায়ে সমান রূপে পৌঁছে দেওয়াহোক, খেলার মাঠের তথ্য শেষ প্রান্ত পর্যন্ত সঠিক রেখে — প্রতিটি বিষয়ে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলাকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিকশিত করারপ্রয়াস আরম্ভ হয়েছে|
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে প্রতিভার অন্বেষণ| দেশের প্রতিটিপ্রান্ত থেকে প্রতিভার অন্বেষণ করা — আরএই প্রতিভা অনলাইনে পরীক্ষা নিয়ে খোঁজা যায় না| খেলাধুলার ক্ষেত্রে কতটুকু সুন্দরউত্তর কে দেয়, তা দিয়ে স্থির হয় না| খেলাধুলার ক্ষেত্রে প্রতিভা খেলার মাঠ থেকেইউঠে আসে, খেলার মাঠেই তা প্রতিষ্ঠা লাভ করে| আর সেজন্য বিদ্যালয় স্তরে প্রতিনিয়তখেলাধুলা চলতে থাকলে, সেগুলোর তথ্য সংরক্ষণ করলে, তার মাধ্যমে প্রতিভার অন্বেষণকরলে, সঠিকভাবে সেইসব প্রতিভাকে সুযোগ দিলে, সেইসব প্রতিভা যদি ভালো প্রশিক্ষণপেয়ে থাকে, তাহলে আমার বিশ্বাস যে, আমাদের যুব সমাজ প্রশিক্ষণের জন্য যতটুকু করতেহবে, যতটুকু যুক্ত হতে হবে, সংগ্রাম করতে হবে, তা করা থেকে পিছু হটবে না, আর তাহলেতার ফল আসবেই আসবে|
আর সেজন্য প্রতিভার অন্বেষণের পরবর্তী অংশ নিয়ে সরকার একগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে| দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নানা ধরনেরখেলাধুলার ক্ষেত্র থেকে এক হাজার ছেলেমেয়েকে বাছাই করা হবে| যারা অসাধারণ,সামর্থ্যবান, যাদের মধ্যে সহজাত গুণাবলী রয়েছে, খেলাধুলার জন্য যে সহিষ্ণুতারপ্রয়োজন হয় তা রয়েছে, সমস্ত রকম মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েছে, এরকম এক হাজারছেলেমেয়েকে প্রতি বছর পাঁচ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে|
প্রতি বছর এক হাজার করে ছেলেমেয়ে বাছাই হবে| পাঁচ বছরেআমাদের দেশে এমন পাঁচ হাজার ছেলেমেয়ে হবে, যাদের মধ্যে সহজাত গুণাবলী রয়েছে| সামনেএগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হবে, বিশ্বের সবচেয়ে ভালো কোচিং তারাপাবে, বিশ্বের যেখানেই উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে তারা যাওয়ার সুযোগযাতে পায়, তাতে তাদের মা-বাবা আর্থিক সমস্যার জন্য তাদেরকে আটকাবেন না| এমনটা হয়েথাকে| আর এখন দেখা যাচ্ছে দেশের গ্রাম থেকে, দ্বিতীয় পর্যায়ের শহরগুলো থেকেছেলেমেয়েরা এগিয়ে আসছে| এখন তাদের পরিবারের কাছে যদি প্রয়োজনীয় সুযোগ না থাকে,তাহলে কি ভারতের এক রত্ন সেখানেই আটকে থাকবে? সেজন্যই এই পাঁচ লক্ষ টাকার ব্যবস্থাহলে পরিবারেরও সহযোগিতা সে পাবে| তার জন্য কী ধরনের পুষ্টি প্রয়োজন, তার মানসিক দৃঢ়তারজন্য কী করতে হবে, এগুলো সমস্ত কিছু প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে কাজ দেবে|
আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আমরা করেছি| বর্তমানে কোনোখেলোয়াড় ভারতের নাম উজ্জ্বল করে এলে রাজ্যে রাজ্যে এক সুস্থ সুন্দর পরিবেশ তৈরিহয়| রাজ্যগুলো নানা ধরনের পুরস্কারের ঘোষণা করে, জনগণের মধ্য থেকেও পুরস্কারেরঘোষণা হয়| তাদের যারা কোচ থাকেন, শেষ পর্যন্ত যার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকে,তাঁদেরও স্বীকৃতি দেওয়া হয়|
এটাতো হওয়াই উচিত| কিন্তু ছোট বয়সে কোনো এক গুরু তাকেঅন্বেষণ করেছেন, শুরুর সময়ের চার-পাঁচ বছর সেই গুরু তাকে তৈরি করেছেন| পরবর্তীতে আরওঅনেক গুরু এসেছেন হয়ত, কিন্তু শুরুর সময়ের গুরুর জন্যই তার জীবনের গতি এই পথেএগিয়েছে| তাই আমরা স্থির করেছি যে, যেসব খেলোয়াড় নাম উজ্জ্বল করেন, তাদেরপুরস্কারের সঙ্গে তাদের কোচেরও যেমন পুরস্কার দেওয়া হয় — এখন থেকে সেইসব খেলোয়াড়দের গোটা জীবনভর যেসব গুরু তাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন,তারাও পুরস্কারের অধিকারী হবেন| এটা অনেক বড় বিষয়| খেলাধুলার জন্য যারা সমর্পিতমানুষ, তাঁরা টাকা-পয়সা অথবা খ্যাতির জন্য তা করেন না, তাঁদের ভেতরে এক আবেগ কাজকরে| আপনারাও দেখেছেন, যখন কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের কোনো খেলোয়াড়খেলেন, সংগ্রাম করেন, সম্পূর্ণরূপে মন-প্রাণ লাগিয়ে দেন, যখন তিনি বিজয়ী হয়েভারতের তেরঙ্গা পতাকা হাতে নেন, তখন তার শরীরের ভাষা সম্পূর্ণ বদলে যায়, সমস্তক্লান্তি দূর হয়ে যায়, কোথাও আঘাত পেলে বা রক্ত বের হলেও তা যেন ভুলেই গেছেন — হাতে তেরঙ্গা নিয়ে এমনভাবেই দৌড়ে যান| কোনোখেলোয়াড় বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে হাতে তেরঙ্গা নিয়ে দৌড়ে গেলে, গোটা হিন্দুস্তানেযেন শক্তি ও চেতনা প্রদান করে দেয়|
আরও একবার এই পরম্পরাকে আমরা প্রমাণ করব| আর ভারতেখেলাধুলা কোনো নতুন বিষয় তো নয়| আপনাদের মধ্যে যারাই মহেঞ্জোদরোর সংস্কৃতি ও এরপরম্পরা নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন — তারাইজানেন যে এটা হাজার হাজার বছরের পুরনো জীবন-পদ্ধতি| গুজরাটের ধৌলাবিরা এলাকায় পাঁচহাজার বছরের পুরনো স্থান প্রত্নতাত্ত্বিকরা খুঁজে বের করেছেন| আমি যখন প্রথমসেখানে দেখার জন্য গিয়েছি, সেখানকার গাইড আমাকে বলেছেন যে, পাঁচ হাজার বছর আগে এইধৌলাবিরায় হাজার হাজার মানুষের একসঙ্গে বসার সুযোগ রয়েছে, এমন বড় খেলার স্টেডিয়ামছিল| সেই ধংসাবশেষ আজও দেখা যায়|
একথা বলার অর্থ হচ্ছে যে, ভারতে খেলাধুলার পরম্পরা নতুননয়| আমাদেরকে নতুন ভাবে বৈশ্বিক পরিবেশে আধুনিক সমস্ত সুযোগের সঙ্গে, আধুনিকবাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে, আধুনিক নিয়মের সঙ্গে খেলাধুলার জগতে নিজেদেরকে সংস্থাপিতকরতে হবে, প্রতিষ্ঠিত করতে হবে|
আজকের এই অনুষ্ঠান ‘ খেলো ইন্ডিয়া ’— যেখানেদেশের নানা প্রান্ত থেকে অনূর্ধ্ব সতেরো বছরের ছেলেমেয়েরা এসেছে| খেলার মধ্য দিয়েইখেলোয়াড়সুলভ চেতনা নিজের ভেতরে সঞ্চারিত হয়ে যায়| এখানে জয়ী হতে এসেছি — এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারতের অনুভূতি নিয়ে যাবো|ভারতের বিবিধতাকে জারিত করে যাবো| ভাষা যদি নাও জানি, তবু নিজের কাছের মানুষেরঅনুভূতি আমাদের নতুন শক্তি নতুন তেজ প্রদান করবে|
এ ধরনের ভাবনা নিয়েই আমি সমস্ত খেলোয়াড়দের হৃদয় থেকেঅনেক অনেক শুভকামনা জানাই| আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি যখন এই খেলার সমাপ্তি ঘটবে, আপনারাযখন নিজেদের রাজ্যে ফিরে যাবেন, অনেক নতুন নতুন বিষয় শিখে যাবেন| অনেক অনেক নতুনবন্ধু হয়ে যাবে| ‘ একভারত ’ কে এইস্টেডিয়ামেই অনুভব করার সুযোগ পাবেন| নিজেকে কীভাবে অনেকের মধ্যে মানিয়ে নিতে হয়,তার সহজ সংস্কার নিয়ে যাবেন|
আমি সেইসব ছেলেমেয়েদের শুভকামনা জানাই, তাদের গুরুদের শুভকামনা জানাই,তাদের মা-বাবাকে অভিনন্দন জানাই, যারা তাঁদের ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার জগতে এগিয়েযেতে উত্সাহ দিয়েছেন| আর সেজন্য অনেক অনেক শুভকামনার সঙ্গে আমি প্রথম ‘ খেলো ইন্ডিয়া বিদ্যালয় ক্রীড়া ’ র শুভারম্ভের কথা ঘোষণা করছি|
ধন্যবাদ !
A.D.
Sports should occupy a central place in the lives of our youth. Sports is an important means of personality development: PM @narendramodi begins his speech at the start of Khelo India school games https://t.co/yIPKy8QcqD
— PMO India (@PMOIndia) January 31, 2018
In your busy schedules, devote time to games...give priority to playing. Today we have in our midst eminent sportspersons. I am sure they would have faced many obstacles but they did not give up and went on to distinguish themselves: PM @narendramodi https://t.co/yIPKy8QcqD
— PMO India (@PMOIndia) January 31, 2018
India does not lack sporting talent. We are a youthful nation and we can do even better in sports: PM @narendramodi https://t.co/yIPKy8QcqD
— PMO India (@PMOIndia) January 31, 2018
When we say India has to grow on the world stage, it does not only mean having a strong army & powerful economy. It includes people of India distinguishing themselves as scientists, artists, sportspersons. And, I am confident India will scale these heights. I trust our youth: PM
— PMO India (@PMOIndia) January 31, 2018
Khelo India is not only about winning medals. It is an effort to give strength to a mass movement for playing more. We want to focus on every aspect that would make sports more popular across the nation: PM @narendramodi https://t.co/yIPKy8QcqD
— PMO India (@PMOIndia) January 31, 2018
It is gladdening to see youngsters from rural India and smaller cities excelling as sportspersons. These are also youngsters who need support, which we want to provide: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) January 31, 2018
Those who love sports play for passion, not for monetary rewards. This is why athletes are special. When an Indian sportsperson wins and when he or she gets to hold the Tricolour, it is an extremely special feeling and it energises the entire nation: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) January 31, 2018