Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

গুজরাটের দহেজ-এ ঘোঘা-দহেজ রো রো ফেরি পরিষেবা উদ্বোধনের পর আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

গুজরাটের দহেজ-এ ঘোঘা-দহেজ রো রো ফেরি পরিষেবা উদ্বোধনের পর আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


বন্ধুগণ, আন্দোলিত ফসলের ক্ষেত দেখে কৃষকের যেমন অনুভূতি হয়; সুন্দর হাড়িকলসি কিংবা মাটির কলসি নির্মাণের পর কুমোরের যেমন অনুভূমি হয়, জমকালো কার্পেটবোনার পর তাঁতির যেমন অনুভূতি হয়; এই মুহূর্তে আমার মনে ঠিক তেমনই অনুভূতি হচ্ছে।এমন মনে হচ্ছে যেন কিছুক্ষণ আগে আমি ১২৫ কোটি দেশবাসীর ইচ্ছা ও আকাঙ্খা পূরণউদযাপন করে এখানে এসেছি।

ঘোঘা থেকে দহেজ জলপথে সমুদ্রের বুকে অতিবাহিত প্রতিটি মুহূর্তে আমি এটাইভাবছিলাম যে, এই সময় একটি নতুন ইতিহাস রচিত হচ্ছে, একটি নতুন ভবিষ্যতের দরজাখুলেছে। এই দরজা দিয়ে বেরিয়ে আমরা ‘নতুন ভারত’-এর মজবুত ভিত স্থাপন করব, তারপর সেইস্বপ্নও বাস্তবায়িত করব। সর্দার প্যাটেল থেকে শুরু করে ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকর –প্রত্যেকেই দেশের জনশক্তিকে যথাযথভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন। আজ আমরা তাঁদেরস্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি পরত অতিক্রম করেছি।

ঘোঘা-দহেজ রো রো ফেরি পরিষেবা সৌরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ গুজরাটে কোটি কোটিমানুষের জীবনকে শুধু সহজ করে তোলেনি, তাঁদেরকে পরস্পরের আরও নিকটে নিয়ে যাবে!

এই ফেরি পরিষেবার মাধ্যমে এই সমগ্র অঞ্চলের সামাজিক আর্থিক বিকাশের নতুনঅধ্যায়ের সূত্রপাত হ’ল। নবীন প্রজন্মের মানুষেরা এই ব্যবস্থায় অধিক লাভবান হবেন;অনেক নতুন কর্মসংস্থান হবে। সমুদ্র তটবর্তী জাহাজ পরিষেবা এবং সমুদ্র তটীয়পর্যটনের নতুন অধ্যায়ও এর সঙ্গে যুক্ত হবে।

বন্ধুগণ, ভবিষ্যতে এই ফেরি পরিষেবা কেবল ঘোঘা ও দহেজ-এর মধ্যে সীমাবদ্ধথাকবে না। আমরা এই ফেরি পরিষেবার মাধ্যমে ভবিষ্যতে হজিরা, পিপাবাও, জাফরাবাদ এবংদমন দ্বীপকে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি। কয়েক বছর পরই এই ফেরি পরিষেবাসুরাট থেকে হজিরা হয়ে মুম্বাই পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কাজ এগিয়ে চলেছে। কচ্ছ উপসাগরেওএ ধরনের প্রকল্প শুরু করার প্রাথমিক স্তরের কাজ শুরু হয়েছে। কচ্ছ-এর বায়ু বন্দর আরজামনগরের রোজিবন্দরের মাঝে এ রকম পরিষেবা চালু করার জন্য প্রি-ফিজিবিলিটি রিপোর্টইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই ফেরি পরিষেবা জনপ্রিয় হয়ে উঠলে নর্মদানদীর মাধ্যমে রাজ্যের অধিকাংশ শিল্প কেন্দ্রগুলির সঙ্গে এই পরিষেবাকে যুক্ত করাহবে। এই প্রচেষ্টার জন্য আমি রাজ্য সরকারকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি আরকেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

রাজ্য সরকারের এই প্রচেষ্টা দহেজ সহ গোটা দক্ষিণ গুজরাটের উন্নয়নেরসদ্বিচ্ছা এবং দৃঢ়সংকল্পের উদাহরণ স্বরূপ। ভরুচ সহ দক্ষিণ গুজরাটে শিল্পায়নের গতিত্বরান্বিত করতে আমরা দহেজ এবং হজীরার মতো কেন্দ্রগুলির উন্নয়নে বিশেষ জোর দিয়েছি।পেট্রোলিয়াম, রাসায়নিক এবং পেট্রোকেমিক্যালস্‌ বিনিয়োগ অঞ্চল স্থাপনের পাশাপাশিরেল নেটওয়ার্ক, সড়ক সংযোগের ক্ষেত্রেও এত কাজ হয়েছে, যা হয়তো আগে কেউ কল্পনাওকরেননি।

হজীরাতেও পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরগুলিতেদিল্লি-মুম্বাই ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর’-এর কাজ সম্পূর্ণ হলে এই অঞ্চলগুলি তারমাধ্যমেও লাভবান হবে। গুজরাটের ‘নৌ ও জাহাজ নির্মাণ শিল্প’-এ উন্নয়ন গোটা দেশেরজন্য একটি মডেল স্বরূপ। আমার বিশ্বাস যে, রো-রো ফেরি পরিষেবাও এখন অন্যান্যরাজ্যের জন্য একটি মডেল প্রকল্প রূপে পরিগণিত হবে।

বন্ধুগণ, আজও ভারতের পণ্য পরিবহণের ৫৫ শতাংশ হয় সড়ক পরিবহণের মাধ্যমে, ৩৫শতাংশ রেলের মাধ্যমে আর জলপথে মাত্র ৫-৬ শতাংশ। অথচ জলপথেই সবচাইতে সুলভে পণ্য পরিবহণসম্ভব। অন্যান্য দেশে জলপথেীবং তটবর্তী সমুদ্রপথে ৩০ শতাংশেরও বেশি পণ্য পরিবহণসম্ভব হয়। এটাই আমাদের বাস্তব, এটাই আমাদের চ্যালেঞ্জ আর আমরা এই পরিস্থিতি পরিবর্তনেরসংকল্প নিয়ে কাজ করে চলেছি।

আপনারা শুনে অবাক হবেন যে, দেশের অর্থ ব্যবস্থায় ‘লজিস্টিক’ বোঝা প্রায় ১৮শতাংশ। অর্থাৎ দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে পণ্য পরিবহণে অন্যান্য দেশেরতুলনায় আমাদের দেশে ১৮ শতাংশ অর্থ বেশি খরচ হয়। সেজন্য গরিব মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় অধিকাংশ জিনিসের দাম বেড়ে যায়। আমরা যদি জলপথে পণ্য পরিবহণের হার বৃদ্ধিকরে এই ‘কস্ট অফ লজিস্টিক’ প্রায় অর্ধেক করতে পারি, তা হলে আমাদের উৎপাদিত পণ্য,পরিবহণ ব্যবস্থা, অন্যান্য পরিষেবা এবং সামর্থ্য দেশের উন্নয়নে অনেক বেশি কার্যকরীভূমিকা পালন করবে।

বন্ধুগণ, আমাদের দেশে ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রতট আর ১৪ হাজার৫০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ জলপথ রয়েছে। অর্থাৎ, ভারতমাতা আমাদের প্রাকৃতিকভাবেই ২১হাজার কিলোমিটারের বেশি জলপথ দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু দশকের পর দশক ধরে আমরা এইজলপথের যথাযথ ব্যবহার করিনি।

আপনারা শুনে অবাক হবেন যে, দেশে প্রথমবারের মতো বন্দর নীতি প্রণয়ন হয়েছে১৯৯৫ সালে। দেশ স্বাধীন হয়েছে ১৯৪৭ সালে, আর বন্দর নীতি প্রণীত হ’ল ১৯৯৫ সালে, কতদেরী করে দিলেন! সেজন্য তার আগে কোনও দূরদৃষ্টি নিয়ে বন্দর উন্নয়নের কাজ হয়নি।সেজন্য দেশের কোটি কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

আপনাদের একটি উদাহরণ দিই – এক টন কয়লা পরিবহণে সড়কপথে যদি দেড় টাকা খরচ হয়,তা হলে সেই জিনিস রেল পরিবহণে ১ টাকা খরচ হবে আর একই জিনিস জলপথে নিয়ে গেলে খরচহবে ২০-২৫ পয়সা। ভাবতে পারেন, আপনাদের কত সাশ্রয় হবে! সময় তো বাঁচবেই পাশাপাশিদেশের অনেক পেট্রোল-ডিজেলের খরচও বাঁচবে। ট্রাফিক জ্যামে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লিটারতেল নষ্ট হয়। আপনারা শুনলে অবাক হবেন যে, আজও দেশে ৯০ শতাংশ কয়লা রেলের মাধ্যমেইএক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পাঠানো হয়। আমরা এই ব্যবস্থা পরিবর্তনের সংকল্পনিয়েছি এবং এর জন্য লাগাতার কাজ করে যাচ্ছি।

বন্ধুগণ, আমরা কোথাও বাড়ি কিনতে হলে আগে দেখি যে ঐ বাড়ি থেকে অন্যান্যঅঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা কেমন, রেল স্টেশন কত দূরে, বাসস্ট্যান্ড কত দূরে, নিয়মিতবাস পরিষেবা আছে কি না! নতুন ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রেও আমরা ওই অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে ভাবি, পণ্য পরিবহণের সমস্যার কথা মাথায় রাখি!

সেজন্য আমার প্রশ্ন, আমাদের শিল্প কেন্দ্রগুলিকে সমুদ্রতট থেকে দূরে কেনস্থাপন করা হবে? শিল্পের জন্য প্রয়োজন কাঁচামালের আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্যেররপ্তানিতে সমুদ্র বন্দরগুলির সঙ্গে যোগাযোগ নিবিড় করার জন্য সমুদ্রতটের কাছেইশিল্প কেন্দ্রগুলি স্থাপন করা উচিৎ। এতে ‘লজিস্টিক’ মূল্য হ্রাসের পাশাপাশি ব্যবসাঅনেক সহজ হবে।

দেশের মধ্যে যাসব জিনিসের প্রয়োজন সেসব জিনিস উৎপাদনের কারখানা দেশের যেকোনও স্থানে স্থাপন করা যেতে পারে, করা উচিতও। কিন্তু যেসব পণ্য আমরা রপ্তানি করারকথা মাথায় রেখে উৎপাদন করি সেগুলির কারখানা বন্দর সন্নিকটস্থ তটবর্তী এলাকাতে হলেইঅধিক লাভজনক হবে।

বন্ধুগণ, পরিবহণের ক্ষেত্রে বলা হয়, আপনি যদি আগামীকালের সমস্যার সমাধান আজকরেন, তা হলে আপনি অনেক দেরী করে ফেলেছেন। আপনারা ভাবুন, আপনাদের আশপাশের এলাকায়সড়কে রোজ ট্রাফিক জ্যাম হয় ভেবে যদি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়, তা হলে ফ্লাইওভারতৈরি হয়ে চালু হওয়ার আগেই আপনার এলাকায় গাড়ির সংখ্যা এত বেড়ে যায় যে ফ্লাইওভারেওট্রাফিক জ্যাম হতে শুরু করে। আর আমাদের দেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঠিক এটাই হয়। আরসেজন্য আমরা পরিবহণ ক্ষেত্রে দূরদৃষ্টি নিয়ে আগামীকালের নয়, ভবিষ্যতের প্রয়োজনেরকথা মাথায় রেখে কাজ করছি। আমাদের মন্ত্র হ’ল – ‘পি ফর পি’ পোর্ট ফর প্রস্পারিটি!আমাদের বন্দরগুলি হয়ে উঠুক সমৃদ্ধির প্রবেশ দ্বার। সাগরমালা প্রকল্প এমনই একটিদূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা এখন ২০৩৫ সাল পর্যন্ত যেরকমপ্রয়োজন হবে সেগুলি সমাধানের কথা ভেবে প্রায় ৪০০টিরও বেশি পরিযোজনায় অনেক অর্থবিনিয়োগ করা হচ্ছে।

এই আলাদা-আলাদা পরিযোজনায় ৮ লক্ষ কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগ করা হবে।

বন্ধুগণ, সমুদ্রের মাধ্যমে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে আমাদেরআরও আধুনিক সব বন্দর গড়ে তুলেছি। আমাদের অর্থনীতির ফুসফুস হয়ে উঠতে পারে এইবন্দরগুলি। বন্দরগুলি রুগ্ন হয়ে পড়লে, ক্ষমতা অনুসারে কাজ করতে না পারলে আমরা অনেকব্যবসায় সাফল্য পাব না।

বন্ধুগণ, আমরা দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। বিগত তিন বছরে মহাসড়কনির্মাণ, রেলপথ, জলপথ এবং আকাশপথে যাতায়াতের পরিকাঠামো উন্নয়নে অনেক কাজ করেছি। এরআগে এত কম সময়ে এত কাজ আর কোনওদিন হয়নি। তাছাড়া, নতুন বিমান পরিষেবা নীতি গড়ে তুলেক্ষেত্রীয় বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রেও সংস্কার আনা হয়েছে। ছোট ছোট বিমানবন্দরেরআধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। বিগত তিন বছরে বন্দর ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন এসেছে।এক্ষেত্রে সর্বাধিক ক্ষমতা সংযোজন হয়েছে বিগত তিন বছরেই।

বন্ধুগণ, সরকারের এই প্রচেষ্টার ফলে বিগত তিন বছরে বন্দর ক্ষেত্রে অনেক বড়পরিবর্তন এসেছে। গত দু-তিন বছরেই সবচাইতে বেশি ক্ষমতা সংযোজিত হয়েছে। যে বন্দর আরসরকারি কোম্পানিগুলি লোকসানে চলছে, সেগুলিরও পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। সরকার সমুদ্রতটবর্তী পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত দক্ষতা উন্নয়নেও জোর দিয়েছে। একটি অনুমান অনুসারেআগামীদিনে শুধু এই সাগরমালা প্রকল্পেই ভারতের এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।আমরা সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি যাতে সম্পূর্ণ পরিবহণ পরিকাঠামো আধুনিক এবংসংহতভাবে কাজ করতে পারে।

আজকাল আপনারা অনেক জায়গাতেই ট্রাফিক জ্যামের শিকার হন। এমনই আমাদেরবন্দরগুলিতেও জাহাজের জ্যাম হয়। বন্দরে জ্যাম হলে ‘লজিস্টিক কস্ট’ বৃদ্ধি পায়,‘ওয়েটিং টাইম’ বৃদ্ধি পায়। ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকলে আমরা যেমন কোনও সৃষ্টিশীলকাজ করতে পারি না, সমুদ্রে জাহাজ দাঁড়িয়ে থাকলে তেমনই গোটা অর্থনীতি থমকে দাঁড়ায়।সেজন্য বন্দরগুলির আধুনিকীকরণ অত্যন্ত আবশ্যক। সমস্ত বিপত্তি দূর করার পথ খুঁজেবের করতে হয়।

সাগরমালা প্রকল্পের আরেকটি দিক হ’ল নীল অর্থনীতি। আগে মানুষ বিনিয়োগ করাহবে। আগে মানুষ সামুদ্রিক অর্থনীতির কথা বলতেন। কিন্তু আমরা নীল অর্থনীতির কথাবলি। নীল অর্থনীতি মানে হ’ল অর্থনীতি এবং বাস্তু ব্যবস্থার মেলবন্ধন। নীল অর্থনীতিঅর্থনৈতিক গতিবিধির পাশাপাশি সমুদ্র সংশ্লিষ্ট বাস্তু ব্যবস্থার সংরক্ষণেও উৎসাহপ্রদান করে।

অষ্টাদশ শতাব্দী এবং উনবিংশ শতাব্দীর শিল্প বিপ্লব যেমন মাটির উপর হয়েছেএকবিংশ শতাব্দীর শিল্প বিপ্লব হবে সমুদ্রে, নীল বিপ্লবের মাধ্যমে।

বন্ধুগণ, আমাদের আজকের প্রয়োজন এবং চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করতে আমাদেরসামুদ্রিক শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। এই নীল অর্থনীতির ক্ষমতাসমূহেরঅত্যাধিক ব্যবহারই ‘নতুন ভারত’-এর মূল ভিত্তি হয়ে উঠবে।

খাদ্য সুরক্ষার জন্য নীল অর্থনীতি কার্যকরি হবে। যেমন আমাদের মৎস্যজীবীভাইবোনেরা যদি সমুদ্রগুটিকার চাষ করেন, এর মাধ্যমে তাঁদের আয়ে মূল্য সংযোজন ঘটবে,তাঁদের আয় দ্বিগুণ হতে পারে। তেমনই সমুদ্র থেকে খনিজ সম্পদ আহরণ, সমুদ্র পর্যটনইত্য্যাদি ‘নতুন ভারত’-এর নতুন নতুন আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে।

বন্ধুগণ, বর্তমান সরকার দেশে নতুন কর্মসংস্কৃতি বিকশিত করছে। এইকর্মসংস্কৃতিতে প্রত্যেককে জবাবদিহি করতে হবে, কর্মপদ্ধতি ও খরচের ক্ষেত্রেস্বচ্ছতা থাকতে হবে। এই নতুন কর্মসংস্কৃতি আমাদের প্রকল্পগুলি রূপায়ণের গতি বৃদ্ধিকরেছে। আজ দেশে দ্বিগুণ গতিতে সড়কপথ নির্মিত হচ্ছে, রেলপথ বিছানো হচ্ছে।

প্রকল্পগুলিকে যথসময়ে রূপায়িত করার জন্য আমরা ড্রোন থেকে শুরু করে কৃত্রিমউপগ্রহ যথোপযুক্ত প্রযুক্তির মাধ্যমে তদারকির ব্যবস্থা করেছি। এখন যে আপনারা দ্রুতপাসপোর্ট হাতে পেয়ে যান, সহজেই গ্যাস সিলিন্ডার পান, এখন আর আয়কর রিফান্ডের জন্যমাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় না, এইসব পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে এই কর্মসংস্কৃতিরপরিবর্তন। এই নতুন কর্মসংস্কৃতি গরিব এবং মধ্যবিত্তকে প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁদেরন্যায্য অধিকার প্রদান করছে।

গুজরাটে আপনারা আমাকে যা শিখিয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতা দিল্লিতে গিয়ে অনেক কাজেলাগছে। খুঁজে খুঁজে ফাইলগুলি বের করাচ্ছি, আর দশকের পর দশক ধরে থেমে থাকাপ্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত করাচ্ছি। আমরা একটি ব্যবস্থা করেছি – ‘প্রগতি’। এর মাধ্যমেইতিমধ্যেই মোট ৯ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের পরিযোজনাগুলির সমীক্ষা করিয়েছি।‘প্রগতি’ ব্যবস্থার মাধ্যমে সমীক্ষার পর তিন-চার দশক ধরে থেমে থাকা প্রকল্পগুলিরকাজ এখন দ্রুতগতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এই সরকার দেশে সৎ অর্থব্যবস্থা এবং সৎ সামাজিক অর্থ ব্যবস্থা স্থাপন করারপ্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বিমুদ্রাকরণ শুধু কালো টাকা সিন্দুক থেকে উদ্ধার করে ব্যাঙ্কেজমা করায়নি, সরকারের হাতে এমন সব প্রমাণ তুলে দিয়েছে, যেগুলির মাধ্যমে একঅভূতপূর্ব স্বচ্ছতা অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

এভাবেই জিএসটি’র মাধ্যমে দেশে একটি নতুন বাণিজ্য সংস্কৃতি গড়ে উঠছে। আমরাজানি যে, আগে একজন লরিচালককে তাঁর যাত্রাপথে একাধিক চেকপোস্টে চুঙ্গি দেওয়ার জন্যঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হ’ত। জিএসটি আসার পর সমস্ত চেকপোস্ট উঠে গেছে। যেলরি গন্তব্যে পৌঁছতে আগে ৫ দিন লাগতো, এখন লাগে বড় জোর তিন দিন! ফলে, পণ্যপরিবহণের খরচও হ্রাস পেয়েছে। আগে যে হাজার হাজার কোটি টাকা চেকপোস্টে জমা হ’ত,সেটাই ছিল দুর্নীতির প্রধান উৎস। এখন আপনারা বলুন, এতদিন যাঁরা ঠিকাদারির মাধ্যমেলুন্ঠন করেছেন, তাঁরা মোদীর উপর রাগ করবেন না? কিন্তু দেশের মানুষের হিতার্থে এসবপদক্ষেপ আমাদের নিতেই হ’ত। সাধারণ মানুষের লাভের কথা ভাবতে হবে কি হবে না – বলুন!এক এমন বাণিজ্য সংস্কৃতি যেখানে সমস্ত ব্যবসা সৎভাবে করা হবে, আর সততার মাধ্যমেইরোজগার সম্ভব হবে। আর আমার অভিজ্ঞতা বলে, অধিকাংশ ব্যবসায়ী চুরি করতে চান না।কিন্তু কিছু আইন-কানুন, আধিকারিক, রাজনৈতিক নেতা তাঁদের এমনভাবে অসততার দিকেধাক্কা মারতে থাকে যে তাঁরা এক রকম বাধ্য হয়েই অসসতার পথ অবলম্বন করে। আমরা এখনসেই ব্যবসায়ীদের সামনে সততার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।

আপনারা দেখুন, প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্তে জিএসটি’র সঙ্গে যুক্তব্যবসায়ীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জিএসটি চালু হওয়ার পর ২৭ লক্ষ নাগরিকঅপ্রত্যক্ষ কর-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

বন্ধুগণ, আমি জানি যে মূলধারায় ফিরে আসা কিছু ব্যবসায়ী ভয় পাচ্ছেন যে,সরকার তাঁদের পুরনো রেকর্ড খুঁজে বের করবে না তো?   তাঁদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই যে, যাঁরা সততারসঙ্গে দেশের উন্নয়নে সামিল হচ্ছেন, মূলধারায় ফিরেছেন, তাঁদের আশ্বস্ত করতে চাই যে,কোনও আধিকারিককে পুরনো হিসাব খুলে তাঁদের ঝামেলায় ফেলার অধিকার দেওয়া হবে না।

ভাই ও বোনেরা, সমস্ত সংস্কার আর অনেক সিদ্ধান্তের পর দেশে অর্থ ব্যবস্থাসঠিক লাইনে এসেছে। সম্প্রতি প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুসারে কয়লা, বিদ্যুৎ, ইস্পাত,প্রাকৃতিক গ্যাস – এই সবকিছুর উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাভারতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ লগ্নি করেছেন। ভারতের বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডার প্রায় ৩০হাজার কোটি ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ইতিমধ্যেই ৪০ হাজার কোটি ডলার পেরিয়ে গেছে।

অনেক অর্থনীতিবিদ সহমত যে, দেশের অর্থ ব্যবস্থার বুনিয়াদ যথেষ্ট মজবুত এবংশক্তিশালী। আমরা সংস্কার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর এইপ্রক্রিয়া লাগাতার জারি থাকবে। দেশের ফাইনাল সাসটেইনেবিলিটি-কেও বজায় রাখা হবে।বিনিয়োগ বৃদ্ধি আর আর্থিক উন্নয়নকে গতিপ্রদানের জন্য আমরা সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপনিতে থাকব।

বন্ধুগণ, এখন পরিবর্তনশীল ব্যবস্থাসমূহের সময়। সংকল্প থেকে সিদ্ধির সময়।আমাদের সবাইকে ‘নতুন ভারত’ নির্মাণের জন্য সংকল্প গ্রহণ করতে হবে, একে সিদ্ধ করতেহবে। আজ এখানে ঘোঘা-দহেজ ফেরি পরিষেবার মাধ্যমে ‘নতুন ভারত’-এর একটি নতুন মাধ্যমেরসূচনা হ’ল।

আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানিয়ে এই নতুন পরিষেবাগুলির ব্যবহারেঅভ্যস্ত হয়ে লাভবান হওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

ভারতমাতা কী জয়।

ভারতমাতা কী জয়।

ভারতমাতা কী জয়।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG /SB/ SB…