পিএমইন্ডিয়া
নয়াদিল্লি, ৩১ মার্চ ২০২৬
গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভুপেন্দ্র ভাই প্যাটেল, রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী শ্রী হর্ষ ভাই সাংভি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আমার সহকর্মী অশ্বিনী বৈষ্ণব জি, রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন মোধোওয়াদিয়া জি, কেনেস এবং আলফা ওমেগা সেমিকন্ডাক্টরের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং অন্যান্য অভ্যাগতবৃন্দ।
গত মাসের শেষ দিনে আমি সানন্দ-এ এসেছিলাম। এ মাসেরও শেষ দিনে আমি সানন্দ-এ। ২৮ ফেব্রুয়ারি মাইক্রনের প্ল্যান্টে উৎপাদন শুরু হয়েছিল এবং আজ ৩১ মার্চ কেনেস টেকনোলজি-র সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্টে উৎপাদন শুরু হল। এটা নিছক সমাপতন নয়, ভারতের সেমিকন্ডাক্টর পরিমণ্ডল কত দ্রুত বিকশিত হচ্ছে তার প্রমাণ। কেনেস টেকনোলজির নেতৃত্বকে আমার অনেক শুভেচ্ছা। অভিনন্দন জানাই রমেশ রঘুকে। অভিনন্দন জানাই গুজরাট সরকার এবং এই উৎপাদন কেন্দ্রের কর্মীদের।
বন্ধুরা,
আজ সকালেই আমি ‘ডিভাইন’ বিষয়ক একটি কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলাম, এখন রয়েছি ‘ডিজিটাল’ সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে।
বন্ধুরা,
ভারতের একটি সংস্থা সেমিকন্ডাক্টর চিপ উৎপাদনে যেভাবে আগ্রহ দেখিয়েছে, তাতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। তার ফলও মিলেছে হাতেনাতে। ভারতের নিজস্ব সংস্থা কেনেস সারা বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় জায়গা করে নিল। অসাধারণ একটি সূচনা- প্রতিটি ভারতীয়ের গর্বের মুহুর্ত। আগামীদিনে আরও অনেক ভারতীয় সংস্থা আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সারা বিশ্বকে একটি স্থিতিশীল সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খল উপহার দিতে চলেছে।
বন্ধুরা,
আজকের দিনটি প্রকৃত অর্থেই মেক ইন ইন্ডিয়া, মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড মন্ত্রকে প্রতিফলিত করে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের বাজারে ভারত সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহকারী হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করলো। বস্তুত আজ সানন্দ এবং সেমিকন উপত্যকার মধ্যে গড়ে উঠল একটি নতুন সেতু। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সংস্থার জন্য সানন্দ-এর এই উৎপাদন কেন্দ্র ইন্টেলিজেন্ট পাওয়ার মডিউল তৈরি করছে। আমি জানলাম যে, এখানে উৎপাদিত পণ্যের একটি বড় অংশের জন্য ইতিমধ্যেই রপ্তানির বরাত পাওয়া গেছে। সানন্দ-এর এই কেন্দ্রে উৎপাদিত মডিউল আমেরিকার বিভিন্ন সংস্থার হাতে যাবে এবং সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়বে সারা বিশ্বে। মেক ইন ইন্ডিয়া, মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড মন্ত্র ধ্বনিত হবে প্রতিটি প্রান্তে।
বন্ধুরা,
এখানে তৈরি ইন্টেলিজেন্ট পাওয়ার মডিউল ভারত এবং অন্যত্র বৈদ্যুতিক যান উৎপাদন ক্ষেত্র এবং ভারি শিল্পকে সহায়তা করবে। এই বিশ্ব অংশীদারিত্ব প্রত্যেকটি দেশের উন্নত ভবিষ্যতের ভিত নির্মাণ করবে।
বন্ধুরা,
একবিংশ শতাব্দীর এই দশকটি সারা বিশ্বের সামনেই একের পর এক চ্যালেঞ্জ এনে দিয়েছে। অতিমারীর পর এসেছে সংঘাতের পর্ব। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে বিশ্বের সরবরাহ শৃঙ্খলের। চিপ, বিরল খনিজ কিংবা জ্বালানি- সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মানব সভ্যতার সামনে এ এক বড় প্রশ্ন চিহ্ন। সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে মানব সভ্যতার যাত্রায়। কাজেই ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশের অগ্রগমন সারা বিশ্বের উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বন্ধুরা,
করোনা বিপর্যয়ের সময়ে আমরা স্থির করেছিলাম ভারতকে সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে স্বনির্ভর হয়ে উঠতে হবে। এই স্বনির্ভর হয়ে ওঠার সুফল কিন্তু একটি চিপ-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈদ্যুতিক যান, পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম উৎপাদন সহ বহু ক্ষেত্রেই অনেক দূর এগিয়ে যাবো। সেজন্যই ২০২১ সালে দেশে সেমিকন্ডাক্টর মিশনের সূচনা হয়। এই মিশন কেবলমাত্র একটি শিল্পনীতি নয়। তা হল ভারতের আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠার ঘোষণা। তার ফল এখন স্পষ্ট। এই মিশনের আওতায় ৬টি রাজ্যে মোট ১ লক্ষ ৬০,০০০ কোটি টাকার ১০টি প্রকল্প রূপায়িত হচ্ছে। কেনেস এবং মাইক্রনের প্রকল্পগুলিও তার মধ্যেই পড়ে। সেমিকন্ডাক্টর চিপ-এর ডিজাইন এবং উৎপাদনে স্বনির্ভর হয়ে ওঠার লক্ষ্যে ভারত ধ্রুব ৬৪-এর মতো নতুন মাইক্রো প্রসেসর তৈরি করেছে। ৫জি পরিকাঠামো, স্বয়ংচালিত বৈদ্যুতিন ও শিল্প ব্যবস্থাপনা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা নিজেদের একটি নির্ভরযোগ্য মঞ্চ গড়ে তুলেছি।
বন্ধুরা,
সেমিকন্ডাক্টর মিশনের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে ভারত এগিয়ে চলেছে এর পরবর্তী ধাপের দিকে। এ বছরের বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর মিশনের দ্বিতীয় পর্বের ঘোষণা হয়েছে। এই পর্বে মূল লক্ষ্য হল, ভারতে সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জাম তৈরি করা। এর পর আমাদের লক্ষ্য হবে, একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর পরিমণ্ডলের নির্মাণ। তেমনটা হলে আমরা দেশে ও বিদেশে সরবরাহ শৃঙ্খলে আরও বড় অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পারবো।
বন্ধুরা,
ভারত আজ শিল্পভিত্তিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলায় উদ্যোগী, যাতে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত দক্ষ কর্মীগোষ্ঠী তৈরি হয়ে ওঠে। খুব শীঘ্রই দেশে বছরে ৮৫,০০০-এরও বেশি ডিজাইন পেশাদার তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। এর পাশাপাশি প্রশিক্ষণের দিকটিতেও জোর দেওয়া হবে। বিষয়টিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্টার্টআপ কর্মসূচিও চালু রয়েছে। আজ দেশে প্রায় ৪০০টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টার্টআপের কাছে আধুনিক ডিজাইন প্রকৌশলের সুযোগ পৌঁছে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের সুবাদে ৫৫টিরও বেশি চিপ তৈরি হয়েছে ইতিমধ্যেই।
বন্ধুরা,
হিসেব অনুযায়ী এখন ভারতে সেমিকন্ডাক্টর বাজারে লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ কোটি টাকা। এই পরিমাণ বেড়ে ১০০ বিলিয়ন ডলার বা ৯ লক্ষ কোটি টাকা হয়ে যেতে পারে এ দশকের শেষ নাগাদ। এর থেকেই বোঝা যায় ভারতে এই ক্ষেত্রটির সম্ভাবনা কতটা। চাহিদা অনুযায়ী ভারতে আরও এবং আরও বেশি চিপ তৈরি করতে চাই আমরা। ভারতকে নিয়ে সারা বিশ্বে বিনিয়োগকারীরা খুবই আগ্রহী।
বন্ধুরা,
একটি শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর পরিমণ্ডল গড়ে তুললেই হবে না। তার সঙ্গে গড়ে তুলতে হবে কাঁচামালে নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল। প্যাক্স সিলিকায় সদস্য হিসেবে ভারতের অন্তর্ভুক্তি এ জন্যই। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অংশীদারদের সঙ্গে আমরা একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলবো।
বন্ধুরা,
ক্রিটিক্যাল মিনারেল্স ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার জন্য জাতীয় ক্রিটিক্যাল মিনারেল্স মিশনের সূচনা হয়েছে। এর আওতায় ক্রিটিক্যাল মিনারেল্স খনন এবং উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে। তার প্রক্রিয়াকরণেও ১,৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ বছরের বাজেটে ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং কেরালা- এই ৪টি উপকূলীয় রাজ্যকে সংযুক্ত করে একটি রেয়ার আর্থ করিডর গড়ে তোলার ঘোষণা হয়েছে। এর ফলে খনন, পরিশোধন এবং উৎপাদনের শক্তিশালী শৃঙ্খল গড়ে উঠবে। দেশে ক্রিটিক্যাল মিনারেল্সের পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য। এই কাজ ৩০-৪০ বছর আগে শুরু হলে ভালো হত। এখন তা মিশন মোডে হচ্ছে।
বন্ধুরা,
ভারত মনে করে যে একবিংশ শতক নিছক অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার সময় নয়। এই সময়টি ভবিষ্যতের প্রযুক্তি চালচিত্র নির্মাণের। সেজন্যই আমি এই দশককে ভারতের প্রযুক্তি দশক বলে থাকি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের সাফল্য সম্পর্কে আপনারা জানেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে ভারত সবার আগে। ভারতীয়রা প্রযুক্তি অন্বেষণ করেন। ডিজিটাল ইন্ডিয়া, ফিনটেক ক্ষেত্রের প্রসার প্রভৃতি সেই সাক্ষ্য দেয়। প্রযুক্তির প্রতি ভারতীয়দের আস্থা আমাদের চোখে স্পষ্ট। ভারতে যে এআই পরিমণ্ডল রয়েছে তাও আমাদের সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্র প্রসারিত হলে আরও পরিপুষ্ট হবে।
বন্ধুরা,
একবিংশ শতকের ভারত রূপান্তরের সাক্ষী নয়, পরিবর্তন যজ্ঞের নেতা হয়ে উঠতে চায়। আমাদের নীতি এবং সিদ্ধান্ত আগামী দশকগুলিতে প্রযুক্তি ও জ্বালানি নিরাপত্তার দৃঢ় ভিত্তি গড়ে দেবে। আজ ভারত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নজিরবিহীন বিনিয়োগ করছে। সংস্কারের কাজ চলছে দ্রুত। মহাকাশ ক্ষেত্রকে খুলে দেওয়া হয়েছে বেসরকারি সংস্থার সামনেও। ইন-স্পেসের মতো সংস্থা গড়ে উঠেছে। তার ফল মিলেছে হাতেনাতে। মহাকাশ ক্ষেত্রে দারুন কাজ করছে আমাদের বিভিন্ন স্টার্টআপ। অন্যদিকে পরমাণু ক্ষেত্রে আমরা ‘শান্তি’ বিল নিয়ে এসেছি। এর ফলে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ভাণ্ডারে পরমাণু শক্তির অংশভাগ অনেক বেড়ে যাবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যতের জন্য বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বন্ধুরা,
কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-কে ভারত কৌশলগত সম্পদ বলে বিবেচনা করে। সেক্ষেত্রে কাজ হচ্ছে মিশন মোডে। এর ফলে ভারতের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ উজ্জ্বলতর হবে। আসলে ভারতে আজ প্রযুক্তির বিকাশ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার দুটিই ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। এই বিষয়টি সারা বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের সামনে মস্ত বড় সুযোগ। ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস, ইজ অফ ম্যানুফ্যাকচারিং এবং ইজ ইন লজিস্টিক্স নিশ্চিত করতে আমরা ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগী।
বন্ধুরা,
আমি প্রত্যয়ী যে কেনেস-এর এই প্ল্যান্ট থেকে পণ্য হিসেবে যা উঠে আসবে, তা ভারতকে সারা বিশ্বের উৎপাদক কেন্দ্র করে তোলার কাজে গতি আনবে। আরও একবার আপনাদের সকলকে অনেক শুভেচ্ছা। অনেক ধন্যবাদ।
প্রধানমন্ত্রীর মূল ভাষণটি ছিল হিন্দিতে।
SC/AC/NS
The inauguration of the Kaynes Semicon facility strengthens India’s push towards self-reliance. It marks an landmark step in building a robust semiconductor ecosystem. https://t.co/hJOo5srmOS
— Narendra Modi (@narendramodi) March 31, 2026
India is strengthening its role as a reliable semiconductor supplier in the global market. pic.twitter.com/V1IADEH44j
— PMO India (@PMOIndia) March 31, 2026
In 2021, India launched the India Semiconductor Mission.
— PMO India (@PMOIndia) March 31, 2026
This mission is not just an industrial policy but a declaration of India's confidence. pic.twitter.com/EaaBCdtbkS
Time to shape the future tech landscape. pic.twitter.com/v8TUNf5Lnh
— PMO India (@PMOIndia) March 31, 2026
The technology initiatives India is taking in this decade will strengthen its leadership in the decades to come. pic.twitter.com/KO0jlSgrtb
— PMO India (@PMOIndia) March 31, 2026
21st century India is not merely a witness to change, but is moving forward with the resolve to lead that change. pic.twitter.com/XRXteknrZV
— PMO India (@PMOIndia) March 31, 2026