পিএমইন্ডিয়া
মঞ্চে উপস্থিত ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ওল্যাঁদ, ফ্রান্সের মন্ত্রিগণ, হরিয়ানার রাজ্যপাল ও মুখমন্ত্রী, শ্রী পীযূষ গোয়েল, ফ্রান্স থেকে আগত প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যায় আগত প্রিয় ভাই ও বোনেরা।
গত এক বছর ধরে সারা বিশ্বে বিশ্ব উষ্ণায়নের সংকট নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছিল। কিভাবে এই সংকট থেকে উদ্ধার সম্ভব? জলবায়ু পরিবর্তনকে কিভাবে মোকাবিলা করা যায়? বছরের শেষদিকে প্যারিসে আয়োজিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন নিয়ে সবাই আগ্রহী ছিলেন। প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে বিশ্বের সকল দেশের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করার উপায় এবং সেজন্য কী কী সংকল্প নিতে হবে স্থির করেছে।
প্যারিসে আয়োজিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে যে সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ভারত ও ফ্রান্স অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। প্রথমত, যে উন্নয়নশীল দেশগুলি এখনও উন্নয়নের উচ্চতা অতিক্রম করেনি, তাদের উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন হবে। জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে সেই উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে গেলে বিশ্ব উষ্ণায়নের সংকট আরও গভীর হবে। শক্তি উৎপাদন করতে গিয়ে মানবজাতির ভবিষ্যতই অন্ধকারে ডুবে যাবে। এই দ্বিধা থেকে মানবজাতিকে উদ্ধারের জন্য আমেরিকা, ফ্রান্স এবং ভারত একটি মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে আমাদের প্রযুক্তিবিদ এবং প্রকৌশলীরা, আমাদের বৈজ্ঞানিকরা পরিবেশ-বান্ধব সস্তা বিকল্প শক্তির উৎস খুঁজে বের করে। রাষ্ট্রপতি ওবামা, রাষ্ট্রপতি ওল্যাঁদ, রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব এবং শ্রী বিল গেট্স এই আবিষ্কারের প্রয়াসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দ্বিতীয় যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা আগামী দশকগুলিতে মানবজীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
বিশ্বে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংগঠন রয়েছে, ওপেক সংগঠন, জি-২০, জি-৪, সার্ক, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলি। ভারত প্রস্তাব রেখেছে, যে দেশগুলিতে বছরে ৩০০ দিনের বেশি সূর্যের আলো পাওয়া যায়, তাদের নিয়ে একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে তোলা হোক।
সূর্য, সৌরমণ্ডলে সবচেয়ে বড় শক্তির উৎস। সেই শক্তিকে আমরা বিশ্বের কল্যাণে কিভাবে ব্যবহার করতে পারি, তার পথ খুঁজে বের করতে হবে। বিশ্বের প্রায় ১২২টি দেশেবছরে ৩০০ দিনের বেশি সূর্যের আলো পাওয়া যায়, সেজন্য এই ১২২টি দেশকে নিয়ে একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে তোলার কথা ভাবা হয়েছে। এক্ষেত্রে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ওল্যাঁদ আমাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছেন। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করি, আর গত নভেম্বর মাসে প্যারিসে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনের সময় আন্তর্জাতিক সৌরসংঘ নামক এই সংস্থাটি গড়ে তোলা হয়।
ঐ সম্মেলনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এই আন্তর্জাতিক সৌরসংঘের সচিবালয় হবে ভারতে। আজ গুরগাঁও-এ আমরা সেই আন্তর্জাতিক সচিবালয়ের উদ্বোধন উপলক্ষে এসেছি। এই হরিয়ানা রাজ্যেই রয়েছে কুরুক্ষেত্র রণভূমি, যেখান থেকে গীতার বাণী মানবতার কল্যাণে প্রথমবার প্রচারিত হয়েছিল। আজ আমরা মানবতার কল্যাণে সৌরসংঘের আন্তর্জাতিক সচিবালয়ও এই রাজ্যেই স্থাপন করতে চলেছি।
খুব কম মানুষই বুঝতে পারবেন যে আজকের এই ঘটনা মানবসভ্যতার কল্যাণে কত গুরুত্বপূর্ণ। সহজ কথায় বলতে গেলে, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে যে হারে হিমবাহগুলি গলে যাচ্ছে, সমুদ্রের জলস্তর দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতেই ছোট ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলি ডুবে যাবে। তাছাড়া, সব দেশেরই সমুদ্রতটে বসবাসকারী মানুষজন ও নগর ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত এক বছরে আমার সঙ্গে এই ছোট ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলির অনেক নেতার কথা হয়েছে। আমি তাঁদের দুশ্চিন্তা এবং আশঙ্কার কথা ভালোভাবে বুঝতে পারি। ভারত’কে এই কর্তব্য পালন করতেই হবে।
আমাদের দেশে জীবনদানকে একটি বড় পূণ্য বলে মানা হয়। আজ আমি বলতে পারি, এই আন্তর্জাতিক সৌরসঙ্ঘের মাধ্যমে আমরা কোটি কোটি মানুষের প্রাণসঙ্কট দূর করতে চলেছি। বিশ্ব উষ্ণায়নের মোকাবিলা করার সবচেয়ে বড় উপায় হল এই সৌরশক্তি। আন্তর্জাতিক সৌরসঙ্ঘ আবিষ্কারের মাধ্যমে বেশি পরিমাণে সৌরশক্তি উৎপাদনের পথ খুঁজে বের করবে। পাশাপাশি, প্রচলিত পদ্ধতিতে যথাসম্ভব সৌরশক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে পরস্পরকে সাহায্য করার মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক সৌরশক্তি আদান-প্রদানের সুষম ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলবে।
এটা সত্যি যে আন্তর্জাতিক সৌরসঙ্ঘের প্রধান সচিবালয় ভারতের গুরগাঁও’তে স্থাপিত হচ্ছে কিন্তু এটি কোনও ভারতীয় প্রতিষ্ঠান নয়। আমেরিকায় যেমন রাষ্ট্রসংঘ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) রয়েছে, যা গোটা বিশ্বের প্রায় সকল রাষ্ট্রের মিলিত সম্পত্তি, সকল মানবের স্বার্থরক্ষার কাজ করে, এই আন্তর্জাতিক সৌরসংঘ তেমনই বিকল্পশক্তি উৎপাদন ক্ষেত্রে ভারত পরম্পরাগত প্রাকৃতিক পদ্ধতিগুলিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আমরা ১৭৫ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের পথে এগিয়ে চলেছি। আমাদের দেশে আগে মেগাওয়াটের বেশি কল্পনাই করা যেত না। কিন্তু এখন আমরা সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, পারমাণবিক শক্তি, বায়োমাস এবং জলবিদ্যুতশক্তির মিলিত উৎপাদনকে ১৭৫ গিগাওয়াটে পৌঁছে দেওয়ার পথে কাজ করে চলেছি। ইতিমধ্যেই ভারত ৫ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি সৌরশক্তি উৎপাদন করে ফেলতে পারছে। মানবজাতির কল্যাণে মানুষ ও তার প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এত কম সময়ে ভারত এই কাজ করেছে।
আমি ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ওল্যাঁদ-এর কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। গত এপ্রিল মাস থেকে আমরা দু’জনে এক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করা শুরু করেছি। তার পরিণাম গত বছর নভেম্বরে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে এই আন্তর্জাতিক সৌরসঙ্ঘ গড়ে তুলতে পেরেছি। আমরা দু’জনে মিলে এই সংগঠনের সূচনা করেছি এবং বিশ্বের সামনে এই ভাবনার গোড়াপত্তন করেছি।
এই সংগঠন প্রতিনিয়ত গবেষণা এবং আবিষ্কারের মাধ্যমে মানবজাতির এই সঙ্কটের মোকাবিলা করবে। আমরা এমন দেশের মানুষ, যাঁদের পূর্বপুরুষরা আমাদের পৃথিবীকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই আমরা শিখেছি যে, প্রত্যেক বৃক্ষেই পরমাত্মার বাস। সেজন্য আন্তর্জাতিক সৌরসংঘের প্রধান সচিবালয় আমাদের দেশেই স্থাপিত হতে যাচ্ছে। এই অন্তর্বর্তীকালীন সচিবালয়ের পাশাপাশি, আমরা আন্তর্জাতিক সৌরসংঘের জন্য একটি স্বতন্ত্র ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছি, যা ভবিষ্যতে স্থায়ী সচিবালয় হয়ে উঠবে।
এই আন্তর্জাতিক সৌরসঙ্ঘ-এর সচিবালয়ে আমরা দিল্লি থেকে সড়কপথে কিংবা হেলিকপ্টারেও আসতে পারতাম। কিন্তু আমরা দু’জনে মিলে ঠিক করেছি যে আমরা মেট্রোরেলে করেই যাব। বিশ্ব উষ্ণায়নকে প্রতিহত করতে আমাদের এই দিল্লি-গুরগাঁও যাত্রাও একটি প্রতীকী যাত্রা হয়ে উঠুক। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রয়াস সফল হবে। আগামীকাল আমরা প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করবো, তার পূর্বসন্ধ্যায় আমি দেশবাসীকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আপনাদের সকলকে এই শুভেচ্ছা জানাই, যাতে অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG/SB/SB
On board the Metro, headed to Gurgaon. pic.twitter.com/jwYm7Q2gnn
— PMO India (@PMOIndia) January 25, 2016
President @fhollande and PM @narendramodi on board the Delhi Metro. @Elysee pic.twitter.com/MdXCLQZcSn
— PMO India (@PMOIndia) January 25, 2016
For the last 1 year the world has been discussing global warming & how to mitigate it: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) January 25, 2016
For two weeks there were discussions on global warming in Paris. Leaders, experts came together & thought about the matter: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) January 25, 2016
2 landmark initiatives emerged in #COP21. India & France played key roles in those: PM @narendramodi at inauguration of ISA Secretariat
— PMO India (@PMOIndia) January 25, 2016
USA, France & India...these three nations took the initiative of innovation. Lets innovate & protect the environment: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) January 25, 2016
The other initiative, which will impact generations, is the solar alliance: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) January 25, 2016
India expressed keenness on solar alliance. President @fhollande was very helpful, did everything possible to bring all nations together: PM
— PMO India (@PMOIndia) January 25, 2016
This alliance ensures the world gets more energy and there is also a focus on innovation: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) January 25, 2016