পিএমইন্ডিয়া

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তো বগে – জি,
আসামের রাজ্যপাল প্রফেসর জগদীশ মু খীজি , মুখ্যমন্ত্রী শ্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল – জি,
পৃথিবীর নানা দেশ থেকে , বিশেষ করে আসিয়ান দেশগুলি থেকে আগত প্রতিনিধিগণ,
দেশের নানাপ্রান্ত থেকে আগত শিল্পপতি, ব্যবসায়ী এবংঅন্যান্য সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ,
আজ ি এই হোন-মিলোনত উপস্থিত আপোনা-লোক হোকোলোক মোই আন্তরিক হুভেসা জ্ঞাপন কোরিসোঁ । লোগোতে ওখোমোর হোমুহোরাইজো-লোই মোর গভীর শ্রোধা জ্ঞাপন কোরিসো ।
‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী শীর্ষ সম্মেলন ’-এ আমি আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাই ।
এই শীর্ষ সম্মেলনে আপনাদের সকলের উপস্থিতি এটা দেখায় যে,আসাম কিভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে । বিশেষ করে, প্রধান অতিথিরূপে প্রধানমন্ত্রী টোবগের উপস্থিতি ভারত এবং ভুটানেরঅটূট বন্ধুত্বের সাক্ষ্য দিচ্ছে ।
বন্ধুগণ,
আমরা একটি ‘অ্যাক্ট ইস্ট ’ নীতি প্রণয়ন করেছি আরউত্তর-পূর্ব ভারত রয়েছে তার হৃদয়ে । এই নীতি অনুযায়ী মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্যচুক্তি এবংভারতের পূর্বে অবস্থিত দেশগুলি বিশেষ করে আসিয়ান দেশগুলির সম্পর্ক বৃদ্ধির প্রয়োজনরয়েছে । এই শীর্ষসম্মেলনের ‘ট্যাগ লাইন ’ বা শিরোনাম এক্ষেত্রে যথাযথ এবং বড় বার্তা দেয় অ্যাডভান্টেজ আসাম :ইন্ডিয়া জ এক্সপ্রেসওয়ে টু আসিয়ান ’শিরোনাম নেহাতই একটি কথার কথা নয়, এটি ‘হলিস্টিক ভিশন ’ । সম্প্রতি আমাদের অংশীদারিত্বের২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে উদযাপন করছি আসিয়ান-ভারত শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে ।
আসিয়ান-ভারত অংশীদারিত্ব, ২৫ বছর পুরনো হতে পারে কিন্তুআমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক হাজার হাজার বছর পুরনো । ভারতের সৌভাগ্য যে, এ বছর নতুনদিল্লিতে আমাদের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের ১০টি আসিয়ান দেশের প্রধানরা সম্মানিতঅতিথি রূপে উপস্থিত ছিলেন ।
সম্প্রতি, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে বাংলাদেশ গুয়াহাটিতেএকটি কন্স্যুলেট খুলেছে । আমি খুশি যে, ভুটানের রাজকীয় সরকারও গতকাল গুয়াহাটিতে কনস্যুলেট খুলেছে ।
ভাই ও বোনেরা,
ভারতের উন্নয়ন যাত্রায় গতি তখনই আসবে, যখন দেশেরপূর্বোত্তরভাগে বসবাসকারী মানুষদের, এখানকার সমাজের, এই গোটা অঞ্চলের তীব্রগতিউন্নয়নে ভারসাম্য রাখা যাবে ।
আমার মতে, ইম্ফল থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত এবং কলকাতা থেকেপাটনা পর্যন্ত, পূর্ব ভারতকে ভারতের উন্নয়নের নতুন শক্তি কেন্দ্র হয়ে উঠতে হবে । এটাই আমাদের দর্শন, এটাইআমাদের অগ্রাধিকার ।
এই দর্শন নিয়ে এগিয়ে চলার পথে বিগত সাড়ে তিন বছরেকেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আর বিগত দেড় বছরে আসাম রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়াউদ্যোগসমূহের পরিণাম এখন আরও ভালোভাবে দেখা যাচ্ছে ।
আজ যত ব্যাপকভাবে এই আয়োজন হচ্ছে, তা কয়েক বছর আগেপর্যন্ত কেউ ভাবতেও পারতেন না । ‘দেশে কোনও পরিবর্তন হওয়া সম্ভব নয় ’! এই চিন্তাটি বদলে গেছে বলেই এসব করা সম্ভব হচ্ছে ।
বন্ধুগণ,
আজ দেশে দ্বিগুণ গতিতে সড়কপথ গড়ে উঠছে, দ্বিগুণ গতিতেরেলপথের পাশাপাশি দ্বিতীয় রেলপথ পাতার কাজ চলছে, দ্বিগুণ গতিতে রেলপথেবৈদ্যুতিকীকরণ হচ্ছে ।
ভাই ও বোনেরা,
আমরা সমস্ত প্রকল্পকে এমন লক্ষ্যে নিয়ে যাচ্ছি, যাতেগরিব, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জীবনে উৎকর্ষগত পরিবর্তন আনা যায়! আমরাপ্রকল্পগুলিকে প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে জুড়েছি, যাতে এগুলি সাধারণ মানুষের জীবনযাপনকেসহজ করে তোলে । আপনারাহয়তো জানেন, সরকার এবারের বাজেটে ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা ’ ঘোষণা করেছে । এই বিশ্বে এ ধরণের সর্ববৃহৎপ্রকল্প ।
বন্ধুগণ,
যে দারিদ্র্যের মধ্যে প্রতিপালিত হয়ে কষ্ট সহ্য করে বড়হয়েছে, যে সবসময় অনুভব করে যে গরিবের ঘরে সবচাইতে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে ওঠেচিকিৎসার খরচ । যখনই কেউকোনও কঠিন অসুখে পড়েন, তাঁর পরিবার দীর্ঘকাল আর্থিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না । গরিবদের এই সংকট, এইদুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমরা দেশের ১০ কোটিরও বেশি পরিবারকে ‘আয়ুষ্মান ভারত ’ প্রকল্পের সঙ্গেযুক্ত করছি । এইপ্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যেক গরিব পরিবারের সদস্যরা চিহ্নিত হাসপাতালগুলিতেবিনামূল্যে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা করতে পারবেন । এরফলে, দেশের প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কোটি মানুষ লাভবান হবেন ।
এই প্রকল্পের ফলে টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩ শ্রেণী র হাসপাতাল গড়েতোলার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে । এই প্রয়াস যুবসমাজেরজন্য নিশ্চিত রোজগারের পথ গড়ে তুলবে । ফলে, ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতেও বিনিয়োগের বড় সুযোগ গড়ে উঠবে । আমি রাজ্য সরকারগুলিকে অনুরোধজানাবো যে, নতুন নতুন হাসপাতাল নির্মাণের নীতি-নির্ধারণ করুন । ‘আয়ুষ্মান ভারত ’ ছাড়াও কেন্দ্রীয়সরকার আরও দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে গরিব মানুষের দুশ্চিন্তা লাঘব করছে । সেগুলি হ ’ল – ‘প্রধানমন্ত্রীসুরক্ষা বিমা যোজনা ’ এবং ‘জীবনজ্যোতি যোজনা ’ – যা ইতিমধ্যেইদেশের ১৮ কোটিরও বেশি গরিব মানুষকে সুরক্ষা কবচ প্রদান করেছে ।
এছাড়া ৩ হাজারেরও বেশি ঔষধি কেন্দ্রে ৮০০-রও বেশি ওষুধ ন্যায্য দামে বিক্রয়, স্টেন্টের দামে ৮৫ শতাংশপর্যন্ত ছাড়, হাঁটুর অস্থি প্রতিস্থাপনের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি অনেক পদক্ষেপনিয়ে সরকার মধ্যবিত্তদেরও অনেক স্বস্তি প্রদান করেছে ।
বন্ধুগণ,
আসিয়ান দেশসমূহ, বাংলাদেশ-ভুটান-নেপাল – আমরা সবাই একরকম কৃষিপ্রধান দেশ । কৃষকদের উন্নতি, এই গোটা অঞ্চলের উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে । সেজন্য আমাদের সরকার কৃষকদেরআয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে কাজ করছে ।
এই লক্ষ্য পূরণের জন্য সরকার কৃষকের চাষের খরচ কমানো আরউৎপাদিত ফসলের উচিৎ মূল্য পাওয়ার ব্যাপারটা সুনিশ্চি ত করতে কাজ করে যাচ্ছে । এ বছর সরকার কৃষি ও গ্রামীণক্ষেত্রে ১৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করবে । দু-দিন আগেই আমরা কৃষকদেরউৎপাদিত ফসলের উচিৎ মূল্য সুনিশ্চিত করতে একটি বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছি । এর মাধ্যমে তাঁদের ন্যূনতম ৫০শতাংশ অর্থাৎ দেড় গুণ মূল্য সুনিশ্চিত হবে ।
এছাড়া, সরকার ২২ হাজার গ্রামীণ হাটকে গ্রামীণ কৃষিবাজারে উন্নীত করে সেগুলিকে ‘ই-নাম ’ অর্থাৎ ‘ইলেক্ট্রনিক ন্যাশনাল এগ্রিকালচারমার্কেট ’ পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত করবে ।
ভাই ও বোনেরা,
কয়েক সপ্তাহ আগে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তনিয়েছি, আজ যখন উত্তর-পূর্ব ভারতে এসেছি, সেটা সম্পর্কে অবশ্যই বলতে চাই ।
বন্ধুগণ,
বৈজ্ঞানিকদের মতে, বাঁশ হ ’ল ঘাস শ্রেণীভুক্ত । কিন্তু বিগত প্রায় ৯০ বছর ধরে আইন প্রণয়নকারীরা একে বৃক্ষ শ্রেণীভুক্ত করেরেখেছিলেন । ফলস্বরূপ,এতদিন যেখানেই বাঁশের জন্ম হোক না কেন, তা কাটতে, পরিবহণ করতে পারমিট-এর প্রয়োজনছিল, অনুমতি নিতে হ ’ত ।
আমার মতে, এই আইনের ফলে পুরুষানুক্রমে সবচাইতে বেশিক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর-পূর্বের মানুষ । দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এত বছর কেটে গেছে, একের পর এক ক ’ত না সরকার ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু বাঁশের পরিভাষা শুধরেআইন প্রণয়নের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের লাভের মুখ দেখাতে পারলাম আমরাই ।
এখন আমরা প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে ‘ন্যাশনাল ব্যাম্ব ু মিশন ’কেপুনর্নির্মাণ করেছি । এর ফলে, উত্তর-পূর্ব ভারতের কৃষকরাই সর্বাধিক লাভবান হবেন ।
ভাই ও বোনেরা,
আমাদের দেশে কৃষির জন্য সহজেই ঋণ পাওয়া যেত, কিন্তুকৃষির সঙ্গে যুক্ত হাঁস-মুরগী পালন, মৎস্যচাষ, মৌ-পালন, পশুপালন ইত্যাদির জন্য ঋণপেতে কৃষ ক দের অনেকসমস্যা হ ’ত । এখন আমরা বিশেষ করে পশুপালন ওমৎস্যচাষকে অগ্রাধিকার দিয়ে ১০ হাজার কোটি টাকার দুটি পরিকাঠামো তহবিল গড়ে তোলারসিদ্ধান্ত নিয়েছি ।
সরকার কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ প্রাপ্তির পথমসৃণ করেছে । এই সরকারসুলভ গৃহ নির্মাণের ক্ষেত্রেও এমন সব নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সরকারকে দেশেরপ্রত্যেক গরিবকে নিজস্ব গৃহ প্রদানে সাহায্য করবে ।
প্রধানমন্ত্রীআবাস যোজনার মাধ্যমে বিগত তিন বছরে প্রায় ১ কোটি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে । এবারের বাজেটে আমরা ঘোষণা করেছি যে বর্তমান অর্থবর্ষে৫১ লক্ষ নতুন বাড়ি বানাবো ।
নিম্নমধ্যবিত্তএবং মধ্যবিত্তের প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখে সরকার এই শ্রেণীর সুদের হারে কিছুছাড়-ও দিয়েছে । এছাড়া ‘ রিয়েল এস্টেট রেগুলেশন অ্যান্ডডেভেলপমেন্ট অ্যাক্ট ’ -এর কারণেও এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এসেছে । আর মধ্যবিত্তের গৃহনির্মাণ সহজ হয়েছে । সুলভ গৃহনির্মাণের ক্ষেত্রে বিগত দিনে বিনিয়োগ অনেকবৃদ্ধি পেয়েছে । আমি এক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্যবিদেশীদেরও আহ্বান জানাই ।
ভাই ওবোনেরা,
একটি সরকারিপ্রকল্প কিভাবে দেশে শক্তি বিপ্লব এনে দিয়েছে, মধ্যবিত্তদের সাশ্রয়ের কারণ হয়েউঠেছে, তার উদাহরণ হল- উজালা যোজনা । আগেরসরকারের সময় যে এইলিডি বাল্ব ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন ৪০-৪৫ টাকায় পাওয়াযাচ্ছে । যে বাড়িতে ৫টি এলইডি বাল্ব লাগানোআছে তাদের প্রতি মাসের বিদ্যুতের বিলে আনুমানিক ৪০০-৫০০ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে । ইতিমধ্যেই ‘উজালা যোজনা ’ র মাধ্যমে দেশে ২৮ কোটি থেকেও বেশিএলইডি বাল্ব বিতরণ করা হয়েছে । এর ফলে দেশের মধ্যবিত্তের বিদ্যুতের বিলে বছরে প্রায় ১৫হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে । আসিয়ান দেশগুলিতেও এলইডি বাল্বের চাহিদা বাড়ছে ; এটা ভারতীয় রপ্তানীকারকদের জন্য ভাল সুযোগ ।
বন্ধুগণ,
লক্ষ্যস্হির করে কাজ করাই বর্তমানসরকারের কর্ম-সংস্কৃতি । আসামের মানুষ নিশ্চয়ই অনুভব করছেন আগের গতিতে কাজ হলে যে ঢোলা-সাদিয়াসেতু আমি উদ্বোধন করেছি- তা হয়তো আজও নির্মীয়মান থাকতো ।
আমরা সম্পূর্ণ শাসনতন্ত্রে কাজ করারপদ্ধতি পরিবর্তনের কাজ করেছি । এর ফলে আমরা শুধু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রকল্পগুলিবাস্তবায়িত করছি না, অনেক ক্ষেত্রে তা নির্দ্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন হচ্ছে । এভাবেই গরিব মহিলাদেরকাঠকয়লা উনুনের ধোঁয়া থেকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে উজ্জ্বলা যোজনাও আমরা নির্দিষ্টসময়ের আগে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছিলাম । আমাদের লক্ষ্য ছিল ২০১৯ সালের আগে ৫ কোটি গরিব মহিলাকে কয়লারউনুনের ধোঁয়া থেকে মুক্তি দেওয়া । ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ থেকেও বেশিমহিলা উপকৃত হয়েছেন । কিন্তু এবারে বাজেটে আমরা ঠিক করেছি যে উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে আমরা মোট৮ কোটি মহিলাকে বিনামূলে রান্নার গ্যাস সংযোগ করাবো ।
বন্ধুগণ,
২০১৪ সালের পূর্ববর্তী দশ বছরেআমাদের নবীন প্রজন্মের প্রত্যাশাকে যেভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে তা কখনো ভোলানোরচেষ্টা করলেও ভোলানো যাবে না ।
দেশের নবীন প্রজন্ম নিজের চেষ্টায়কিছু করতে চাইছিলেন । কিন্তু তাঁরা যখন ব্যাঙ্ক ঋণ চাইতে যেতেন তখন তাঁদের কাছে ব্যাঙ্কগ্যারান্টি চাইতো । আমরামুদ্রা যোজনার মাধ্যমে এই ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি দেওয়ার বাধ্যবাধকতার ইতি টেনেছি ।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা বিগত তিনবছরে তিন কোটি নতুন শিল্পোদ্যোগী পেয়েছি । তাঁরা স্বউদ্যোগী, নিজেরউপার্জন সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁরা অনেকের কর্মসংস্হানও করেছেন ।
এ বছর বাজেটে সরকার মুদ্রা যোজনারমাধ্যমে স্ব-রোজগারে জন্য ৩ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ প্রদানের লক্ষ্য রেখেছে ।
তাছাড়া সরকার স্ট্যান্ড-আপ ইন্ডিয়া,স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া, স্কিল-ইন্ডিয়া মিশনের মাধ্যমেও নবীনদের ক্ষমতায়ণের কাজ করছে, ‘ শ্রমএব জয়তে ’ -র সিদ্ধান্ত অনুসারে শ্রম আইনেপ্রতিনিয়ত সংস্কারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াগুলিকে সরল করার প্রচেষ্টা চলছে ।
আগে শ্রম আইন পালনের জন্য ব্যবসায়ী ওশিল্পপতিদের ৫০টির ও বেশি রেজিস্টার রাখতে হতো । এখন তাদের শুধুই ৫টিরেজিস্টার রাখলে কাজ চলে ।
শ্রম সুবিধা পোর্টালের মাধ্যমে আমরাঅধিকাংশ প্রক্রিয়াকে অন-লাইন করে দিয়েছি । এখনতো দেশে কেবল এক দিনের মধ্যে নতুন কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনকরা যায়, আগে তা করতে এক সপ্তাহ লেগে যেত ।
এই সকল সংস্কারের দ্বারা দেশের নবীনপ্রজন্ম, দেশের ছোট ছোট ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন ।
বন্ধুগণ,
ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং অতিক্ষুদ্রশিল্পকে অগ্রাধিকার প্রদান আমাদের শিল্পনীতির মেরুদন্ড । এবছরের বাজেটে আমরাক্ষুদ্র, মাঝারি এবং অতিক্ষুদ্র শিল্পকে আয়করের ক্ষেত্রে বিরাট ছাড় দিয়েছি । যে কোম্পানিগুলির বার্ষিকলেনদেন আড়াইশো কোটি টাকা বা তার কম তাদের আয়কর কমিয়ে ২৫ % করা হয়েছে । এর দ্বারা দেশে প্রায় ৯৯ % কোম্পানি লাভবান হবে । পণ্য ও পরিষেবা কর চালুকরার পর ব্যবসার ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং অতিক্ষুদ্র শিল্পগুলিরআর্থিক লাভ হয়েছে । এখনসরকার আগামি তিন বছর সমস্ত ক্ষেত্রে নতুন কর্মচারিদের জন্য ১২ % হারে অর্থ ইপিএফ-এ জমা দেবে ।
এবারের বাজেটে নতুন কর্মচারিদের আয়করআইন অনুযায়ী দেয় করের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৩০ % ছাড় দেওয়া হয়েছে ।
দেশ থেকে দুর্নীতি দূরীকরণ এবংব্যবস্হায় দক্ষতা ও স্বচ্ছতা আনতে আমরা দেশের সর্বত্র আয়করের ই-অ্যাসেসমেন্ট চালুকরছি । তাছাড়ামহিলা কর্মচারিদের ক্ষেত্রে প্রথম তিন বছরে দেয় ইপিএফ-এর বর্তমান হার ১২ % থেকে কমিয়ে ৮ % করা হয়েছে । সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটিরঅবধি ১২ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ২৬ সপ্তাহ করা হয়েছে । এছাড়া মহিলা কর্মী নিয়োগকেউ ৎ সাহিত করতে কর্মীদের জন্যকর্মক্ষেত্রে ক্রেশ-এর ব্যবস্হাও করা হচ্ছে । এই উদ্যোগগুলি নিঃসন্দেহে ‘ মেক ইন ইন্ডিয়া ’ -র প্রক্রিয়াকে সুদৃঢ়ভাবে সমর্থনকরে ।
বন্ধুগণ,
সরকারের এ ধরণের প্রকল্পগুলি গরিবদেরক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করে । গরিবরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুর্নীতি এবং অবৈধ সম্পত্তি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্হহন । আমাদেরসরকার এই টাকা এবং দুর্নীতি বিনাশ করার জন্য দায়বদ্ধ ।
বন্ধুগণ,
আজ এই মঞ্চ থেকে আমি দেশেরশিল্পপতিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে চাই যারা দেশের আর্থিক ঐক্য স্হাপনের জন্যগৃহীত পণ্য ও পরিষেবা করকে শুধু স্বীকারই করেননি আজ তারা এটাকে তাদের বাণিজ্যসংস্কৃতির অঙ্গ করে নিয়েছেন । আমাদের সরকার দেশে আর্থিক স্বচ্ছতা আনার জন্য আর একটি বড়পদক্ষেপ ‘ ইনসলভেন্সি এবংব্যাঙ্করাপ্টসি কোড ’ গ্রহণ করেছে ।
অনেক বছর ধরে ভারতে এ ধরনেরআর্ন্তজাতিক মানের কোড প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয়েছে । আমাদের সরকার সেইপ্রয়োজনীয়তারও সুরাহা করেছে ।
বন্ধুগণ,
এই কেন্দ্রীয় সরকার বিগত ৩ বছরেআর্থিক সংস্কারের মাধ্যমে এ রকম অনেক বাণিজ্য প্রক্রিয়াকে সরল করেছে । তারই ফল হিসেবে ভারত আজবাণিজ্য পরিচালনায় সরলীকরণের ক্ষেত্রে ৪২ ধাপ এগিয়ে বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে১০০তম স্হানে পৌঁছে গেছে ।
‘ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ’ এবং ‘ মুডিস ’ -এর মতো বিশ্বের আরও অনেক রেটিংসংস্হার সমীক্ষায় আরও অনেক ক্ষেত্রে ভারতের স্হান অনেক উন্নত হয়েছে ।
আমাদের সঠিক নীতির ফলে আমরামুদ্রাস্ফীতিকে ৫ % -এরনীচে রাখতে পেরেছি । এখনআমাদের বিনিময়যোগ্য বিদেশী মুদ্রা সংরক্ষিত আছে ৪১৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার । অটোমোবাইলস্, বস্ত্র,পর্যটন, বন্দর এবং সড়কপথে যাতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১০০ % বিদেশী বিনিয়োগ হতে পারে তাসুনিশ্চিত করার ফলে এখন ভারত প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম পছন্দেরঠিকানা হয়ে উঠেছে । ২০১৬-১৭সালে ভারত সর্বোচ্চ ৬০ বিলিয়ন ইউএস ডলার বিদেশী মুদ্রা অর্জন করেছে ।
আজ সারা পৃথিবী ভারতকে অর্থনৈতিকউন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি উদীয়মান শক্তি হিসেবে দেখছে । আমি খুশি যে আসামউত্তরপূর্বের রাজ্যগুলির মধ্যে সহজে ব্যবসা চালু করার ক্ষেত্রে প্রথম স্হান অধিকারকরেছে । আমিনিশ্চিত যে রাজ্য সরকারের বর্তমান নেতৃত্বের সময়কালে আসাম আরও উন্নতি করবে এবংদেশের শিল্প বিনিয়োগকারী রাজ্যগুলির মধ্যে সবচাইতে দ্রুত গতিতে উন্নতি করবে ।
বন্ধুগণ,
আজ আমরা পরিকাঠামো বিনিয়োগকেঅগ্রাধিকার দিয়েছি এবং আগামী বছর আমরা এ বাবদ প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবো । এ বছরের আমাদের লক্ষ্য হলজাতীয় মহাসড়কগুলির মোট দৈর্ঘ্য ৯ হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করা । আমরা ভারতমালা প্রকল্পেরমাধ্যমে ৩৫ হাজার কিলোমিটার সড়কপথ উন্নয়নের জন্য ৫.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা প্রদানকরেছে ।
এই২০১৮-১৯ সালে রেল ১.৪৮ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ।
আমাদেরলক্ষ্য হল আগামী বছরগুলিতে ৬০০টি বড় রেলস্টেশন পুনর্নিমাণ করা । এই সমস্ত বিনিয়োগেরসিদ্ধান্ত দেশের উন্নয়নে গতি আনবে এবং লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্হান ত্বরান্বিত করবে ।
বন্ধুগণ,
আজ আমি আরএকটি বিষয়েও কথা বলতে চাই । এই ভূমির মহান সুসন্তান ভূপেন হাজারিকা মাত্র ১৩ বছর বয়সেএকটি কবিতা লিখেছিলেন । তখন ইংরেজ আমল, এই অঞ্চল এবং গোটা দেশ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল । সেই সময় স্বর্গীয় ভূপেনহাজারিকাজি লিখেছিলেন
অগ্নিযুগোফিরিংগৌতি মই / নতুন অখম গৌঢ়িম / হরবৌহারার হর্বস্য /
পুনোরফিরাই আনীম, নতুন অখম গৌঢ়িম
অর্থা ৎ ‘ অঙ্গারের মতো ধু ধু জ্বলতে থাকা যুগেআমি একটি স্ফুলিঙ্গের মতো । আমি এক নতুন আসাম নির্মাণ করবো । যারা পীড়িত, বঞ্চিত, তাঁরাযা হারিয়েছেন তা পুনরুদ্ধার করবো । আমি এক নতুন আসাম গড়বো । ’
স্বাধীনতারআগে দেশের নানা অঞ্চলের এরকম লক্ষ কোটি বীর-বীরাঙ্গনাদের স্বপ্ন পূর্ণ করারদায়িত্ব এখন আমাদের সকলের কাঁধে ন্যস্ত । এই দায়িত্ব পূরণের জন্য আমরা সবাই ২০২২ সালের মধ্যে নতুনভারতের স্বপ্ন সাকার করার সংকল্প গ্রহণ করেছি ।
সংকল্পথেকে সিদ্ধির এই যাত্রাপথে উত্তরপূর্ব ভারতের জনগণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে তাদেরজন্য নানা প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে এবং সেগুলি বাস্তবায়িতও করা হচ্ছে ।
আমি মনেকরি যে উত্তরপূর্ব ভারতের ৮টি রাজ্য, এই অষ্টলক্ষ্মী দেশের উন্নয়নে নতুন ‘ গ্রোথ ইঞ্জিন ’ । এদের উন্নয়নের গতি বৃদ্ধিমানেই হলো দেশের উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি পাওয়া ।
সেজন্যআমাদের সরকার উত্তরপূর্ব ভারতে পরিবহণের মাধ্যমে রূপান্তরণ নীতি প্রণয়নে জোরদিয়েছে । পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগবৃদ্ধি করে গোটা অঞ্চলের চিত্র পরিবর্তনের কাজ হচ্ছে । বিগত ৩ বছরে শুধু রেলওয়েউন্নয়নের কাজেই প্রতি বছর গড়ে ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে । প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকাবিনিয়োগের মাধ্যমে উত্তরপূর্ব ভারতে নতুন রেললাইন পাতার কাজ করা হয়েছে । আগামীদিনে যখনআগরতলা-আখাউড়া রেললাইনের কাজ সম্পূর্ণ হবে, ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে রেলযোগাযোগ স্হাপিত হবে তার লাভ এই গোটা অঞ্চলের হবে । সরকার প্রায় ৩৩ হাজার কোটিটাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে উত্তরপূর্ব ভারতে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার জাতীয় সড়কনির্মাণের প্রকল্প মঞ্জুর করেছে ।
তাছাড়াসরকার আগামী ২-৩ বছরে ৯০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে উত্তরপূর্ব ভারতে সড়কও জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণ করবে ।
ভাই ওবোনেরা,
প্রধানমন্ত্রীগ্রামীণ সড়ক যোজনা অটল-জীর আমলে শুরু হয়েছিল । আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পরলক্ষ স্হির করেছিলাম যে এই প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালের মধ্যে শেষ করবো । কিন্তু ইতিমধ্যেই আমরা সেইলক্ষ্যপূরণের সময় হ্রাস করে ২০১৯-এ এগিয়ে এনেছি ।
শুধু তাইনয়, এই বাজেটে আমরা এটাও ঘোষনা করেছি যে প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনারমাধ্যমে শুধুই গ্রামকে সংযুক্ত করা হবে না, গ্রামের বড়ো স্কুল, হাসপাতাল এবং বড়োবাজারগুলিকেও যুক্ত করা হবে ।
শক্তিক্ষেত্রকে মজবুত করার জন্য আন্তঃরাজ্য পরিবহন এবং বিতরণ ব্যবস্হাকে শক্তিশালী করারপ্রকল্পে দশ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে ।
অতিসত্ত্বরই গুয়াহাটিতে বিশ্বমানের বিমানবন্দর টার্মিনাল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে । এই নব গঠিত আন্তর্জাতিকবিমানবন্দর আসিয়ান দেশগুলির সঙ্গে উত্তরপূর্ব ভারত বিশেষ করে আসামের যোগাযোগকে আরওসুদৃঢ় করবে ।
‘ উড়ান যোজনা ’ -র ক্ষেত্রেও সরকার উত্তরপূর্বভারতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে । ১৯টি প্রস্তাবিত বিমানবন্দর এবং হেলিপ্যাডের মধ্য ৫টি আসামেইরয়েছে, সেগুলিকে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরের সঙ্গে বিমানপথে যুক্ত করারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ।
কেন্দ্রীয়সরকার ১৬০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা পর্যকটকে ই-ভিসা পরিষেবা প্রদান করবে যা দেশের এইঅঞ্চলের পর্যটন উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ।
বন্ধুগণ,
কেন্দ্রীয়সরকার গুয়াহাটিতে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে নতুন এইমস্ হাসপাতালখোলার প্রকল্প মঞ্জুর করেছে ।
সরকারউত্তরপূর্ব ভারতকেও ন্যাশনাল গ্যাস গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ করছে । ‘গেল ’ দ্বারা৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গুয়াহাটি পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন স্হাপনের কাজ মঞ্জুরকরা হয়েছে ।
কেন্দ্রীয়সরকার সম্প্রতি ‘ বিশেষউত্তরপূর্ব পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ’ নামক নতুন প্রকল্প মঞ্জুর করেছে । এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারএই অঞ্চলের পরিকাঠামো সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলি সম্পাদনে ১০০ % বিনিয়োগ করবে ।
উত্তরপূর্ব ভারতে এই বিনিয়োগ বৃদ্ধিরমাধ্যমে এই অঞ্চলের পর্যটনশিল্প উন্নত হবে । এখানকার নবীন প্রজন্মের যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্হানের নতুন পথখুলবে ।
বন্ধুগণ,
আমি আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দসোনেওয়ালজিকে শুভেচ্ছা জানাই, তিনি অত্যন্ত কম সময়ে আসামে বাণিজ্যবান্ধব এবংউন্নয়নবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার কাজ করেছেন । দুর্নীতির বিরুদ্ধেও আসাম সরকার বেশকিছু কঠোর সিদ্ধান্তনিয়েছে ।
আসাম সরকার নতুন নতুন শিল্পস্হাপনেরজন্য, পর্যটন বৃদ্ধির জন্য কর ছাড়ও দিচ্ছে ।
নতুন তথ্যপ্রযুক্তি নীতি, নতুনস্টার্ট-আপ নীতি, নতুন ক্রীড়ানীতি, নতুন চিনি নীতি, নতুন সৌরশক্তিনীতি চালু হয়েছে ।
আমি এজন্য রাজ্য সরকারকে প্রশংসা করিযে তাঁরা গুয়াহাটিকে আসিয়ান দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যের উপযোগী ‘ বিজনেস হাব ’ -এ রূপান্তরিত করছেন ।
গুয়াহাটিকে স্মার্ট সিটি রূপেও গড়ে তোলাহচ্ছে ।
আমি আর একবার আসাম তথা উত্তরপূর্বভারতের জনগণকে এই বিশাল উ ৎ সব আয়োজন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাই । আসিয়ান এবং বাংলাদেশ-ভুটান-ইন্ডিয়া-নেপাল গোষ্ঠীভুক্তদেশগুলির আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদেরধন্যবাদ জানাই ।
আমি নিশ্চিত যে এই শীর্ষ সম্মেলনএকটি সূচনা মাত্র যা আপনাদের সঙ্গে হাজার হাজার বছরের প্রাচীন সম্পর্কের ইতিহাসেএকটি নতুন অধ্যায় সংযোজন করবে ।
আমি আর একবার উত্তরপূর্ব ভারত তথাআসামের জনগণকে এই বিশেষ আয়োজনের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই । ‘ আপুনা লোকক ’ বহুত বহুত ধন্যবাদ । আপনাদের সবাইকে অনেক অনেকধন্যবাদ
PG/S B / SB
We created the Act East Policy and the Northeast is at the heart of it. The Act East Policy requires increased people to people contact, trade ties and other relations with countries on India’s east, particularly ASEAN countries: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
The tagline of this Summit is very appropriate and gives a big Message. ‘Advantage Assam: India’s Express way to ASEAN’ is not just a Statement but it is a comprehensive Vision: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
भारत की ग्रोथ स्टोरी में और गति तभी आएगी जब देश के पूर्वोत्तर में रहने वाले लोगों का, इस पूरे क्षेत्र का संतुलित विकास भी तेज गति से हो: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
पिछले साढ़े तीन वर्ष में केंद्र सरकार की तरफ से और पिछले डेढ़ वर्ष में, असम सरकार की तरफ से किए गए प्रयासों का परिणाम दिखाई देने लगा है। आज जितने व्यापक पैमाने पर ये आयोजन हो रहा है, वो कुछ वर्ष पहले तक कोई सोच भी नहीं सकता था: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
“देश में कुछ बदल नहीं सकता” कि सोच बदल गई है। लोगों में हताशा की जगह अब हौसला और आशा है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
आज अगर देश में दोगुनी रफ्तार से सड़कें बन रही हैं, दोगुनी रफ्तार से रेल लाइन का दोहरीकरण हो रहा है, लगभग दोगुनी रफ्तार से रेल लाइन का बिजलीकरण हो रहा है: PM @narendramodi https://t.co/FrXpmvhBEB
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
सरकार ने बजट में ‘आयुष्मान भारत योजना’ का एलान किया है। अपनी तरह की दुनिया की ये सबसे बड़ी योजना है। साथियों, जो गरीबी में पला-बढ़ा है, जो गरीबी के कष्ट सहते हुए आगे बढ़ा है, उसे इस बात का हमेशा एहसास होता है कि गरीब के लिए सबसे बड़ी चिंता होती है - बीमारी का इलाज: PM
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
इस योजना के तहत, हर गरीब परिवार को चिह्नित अस्पतालों में साल में 5 लाख रुपए तक मुफ्त इलाज की सुविधा दी जाएगी। इस योजना से करीब-करीब देश के 45 से 50 करोड़ लोगों को फायदा होगा: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
आसियान देश हों, बांग्लादेश-भूटान-नेपाल हों, हम सभी एक तरह से कृषि प्रधान देश हैं। किसानों की उन्नति, इस पूरे क्षेत्र के विकास को नई ऊँचाई पर पहुंचा सकती है। इसलिए हमारी सरकार देश के किसानों की आय को दोगुना करने के लक्ष्य पर काम कर रही है: PM @narendramodi at @AdvantageAssam
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
कुछ हफ्तों पहले हमने एक और महत्वपूर्ण फैसला लिया है और आज मैं उत्तर-पूर्व में हूँ तो इस फैसले का जरूर जिक्र करना चाहता हूँ। साथियों, वैज्ञानिक तौर पर बांस, घास की श्रेणी में आता है। लेकिन करीब 90 साल पहले हमारे यहां कानून बनाने वालों ने इसे पेड़ का दर्जा दिया था: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
इसका नतीजा ये हुआ कि बांस चाहे कहीं भी उगे, उसे काटने के लिए, उसे ट्रांसपोर्ट करने के लिए, परमिट की जरूरत पड़ती थी, मंजूरी चाहिए होती थी। मुझे लगता है, पूरे देश में अगर किसी क्षेत्र के लोगों को सब से ज्यादा नुकसान इस कानून से हुआ तो उत्तर-पूर्व के लोगों का ही नुकसान हुआ: PM
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
अब हम लगभग 1300 करोड़ की लागत राशि से ‘National Bamboo mission’ को रीस्ट्रक्चर कर रहे हैं। उत्तर-पूर्व के लोगों को, खासकर यहां के किसानों को बजट के द्वारा एक और फायदा मिलने जा रहा है: PM @narendramodi pic.twitter.com/p9dIaW3HW5
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
सरकार ने affordable Housing के क्षेत्र में भी ऐसे-ऐसे नीतिगत निर्णय लिए हैं, सुधार किए हैं, जो देश के हर गरीब को घर देने के सरकार के लक्ष्य को पूरा करने में मदद करेंगे: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
प्रधानमंत्री आवास योजना के तहत पिछले तीन वर्ष में इस सरकार में लगभग एक करोड़ घर बनाए गए हैं। हमने अभी बजट में ऐलान किया है कि इस वर्ष के साथ-साथ अगले वर्ष भी 51 लाख नए घर बनाए जाएंगे: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
इस वर्ष के बजट में सरकार ने मुद्रा योजना के द्वारा लोगों को स्वरोजगार के लिए 3 लाख करोड़ रुपए कर्ज देने का लक्ष्य रखा है। इसके अलावा स्टैंड अप इंडिया, स्टार्ट अप इंडिया, स्किल इंडिया मिशन के माध्यम से भी युवाओं को सशक्त करने का काम ये सरकार कर रही है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
Development of MSME sector is a priority for us.
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
In this year’s budget we are giving a big relief to MSMEs by reducing rate of income tax to 25% on companies reporting a turnover of up to Rs. 250 crore. This will benefit almost 99% of companies: PM @narendramodi
The formalisation of businesses of MSMEs due to introduction of GST, will help MSMEs to access credit from financial sector. Now, Government will contribute 12% to EPF for new employees in all sectors for three years: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
सरकार की ऐसी योजनाएं गरीबों को सशक्त कर रही हैं। लेकिन उन्हें सबसे ज्यादा नुकसान अगर किसी चीज से होता है, तो वो है भ्रष्टाचार, कालाधन: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
The Union Government has taken up many path breaking economic reforms in last three years, which have simplified procedures for doing business: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
Assam is ranked first among the North Eastern States in the Ease of Doing Business report.
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018
With the present leadership of the State Government, Assam is going to further improve its current position to emerge as one of the most sought after states for investment: PM pic.twitter.com/sDyowcamDd
I congratulate CM @sarbanandsonwal for creating a business friendly and development friendly environment in Assam: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 3, 2018