Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

গুয়াহাটি,আসামে আয়োজিত  ‘ অ্যাডভান্টেজ আসাম গ্লোবাল ইনভেস্টার্স সামিট, ২০১৮ ’ -এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ  


ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং  তো বগে – জি,

আসামের রাজ্যপাল প্রফেসর জগদীশ মু খীজি , মুখ্যমন্ত্রী শ্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল – জি,

পৃথিবীর নানা দেশ থেকে ,  বিশেষ করে আসিয়ান দেশগুলি থেকে আগত প্রতিনিধিগণ,

দেশের নানাপ্রান্ত থেকে আগত শিল্পপতি, ব্যবসায়ী এবংঅন্যান্য সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ,

আজ ি  এই হোন-মিলোনত উপস্থিত আপোনা-লোক হোকোলোক  মোই  আন্তরিক হুভেসা জ্ঞাপন কোরিসোঁ ।  লোগোতে ওখোমোর হোমুহোরাইজো-লোই মোর গভীর শ্রোধা জ্ঞাপন কোরিসো ।

‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী শীর্ষ সম্মেলন ’-এ আমি আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাই  ।

এই শীর্ষ সম্মেলনে আপনাদের সকলের উপস্থিতি এটা দেখায় যে,আসাম কিভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে ।  বিশেষ করে, প্রধান অতিথিরূপে প্রধানমন্ত্রী টোবগের উপস্থিতি ভারত এবং ভুটানেরঅটূট বন্ধুত্বের সাক্ষ্য দিচ্ছে ।

বন্ধুগণ,

আমরা একটি  ‘অ্যাক্ট ইস্ট ’ নীতি প্রণয়ন করেছি আরউত্তর-পূর্ব ভারত রয়েছে তার হৃদয়ে  ।  এই নীতি অনুযায়ী মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্যচুক্তি এবংভারতের পূর্বে অবস্থিত দেশগুলি বিশেষ করে আসিয়ান দেশগুলির সম্পর্ক বৃদ্ধির প্রয়োজনরয়েছে ।  এই শীর্ষসম্মেলনের  ‘ট্যাগ লাইন ’ বা শিরোনাম এক্ষেত্রে যথাযথ এবং বড় বার্তা দেয় অ্যাডভান্টেজ আসাম  :ইন্ডিয়া  জ  এক্সপ্রেসওয়ে টু আসিয়ান ’শিরোনাম নেহাতই একটি কথার কথা নয়, এটি  ‘হলিস্টিক ভিশন ’ ।  সম্প্রতি আমাদের অংশীদারিত্বের২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে উদযাপন করছি আসিয়ান-ভারত শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে ।

আসিয়ান-ভারত অংশীদারিত্ব, ২৫ বছর পুরনো হতে পারে কিন্তুআমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক হাজার হাজার বছর পুরনো ।  ভারতের সৌভাগ্য যে, এ বছর নতুনদিল্লিতে আমাদের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের ১০টি আসিয়ান দেশের প্রধানরা সম্মানিতঅতিথি রূপে উপস্থিত ছিলেন ।

সম্প্রতি, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে বাংলাদেশ গুয়াহাটিতেএকটি কন্স্যুলেট খুলেছে ।  আমি খুশি যে, ভুটানের রাজকীয় সরকারও গতকাল গুয়াহাটিতে কনস্যুলেট খুলেছে ।

ভাই ও বোনেরা,

ভারতের উন্নয়ন যাত্রায় গতি তখনই আসবে, যখন দেশেরপূর্বোত্তরভাগে বসবাসকারী মানুষদের, এখানকার সমাজের, এই গোটা অঞ্চলের তীব্রগতিউন্নয়নে ভারসাম্য রাখা যাবে ।

আমার মতে, ইম্ফল থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত এবং কলকাতা থেকেপাটনা পর্যন্ত, পূর্ব ভারতকে ভারতের উন্নয়নের নতুন শক্তি কেন্দ্র হয়ে উঠতে হবে ।  এটাই আমাদের দর্শন, এটাইআমাদের অগ্রাধিকার ।

এই দর্শন নিয়ে এগিয়ে চলার পথে বিগত সাড়ে তিন বছরেকেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আর বিগত দেড় বছরে আসাম রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়াউদ্যোগসমূহের পরিণাম এখন আরও ভালোভাবে দেখা যাচ্ছে ।

আজ যত ব্যাপকভাবে এই আয়োজন হচ্ছে, তা কয়েক বছর আগেপর্যন্ত কেউ ভাবতেও পারতেন না ।   ‘দেশে   কোনও  পরিবর্তন হওয়া সম্ভব নয় ’! এই চিন্তাটি বদলে গেছে বলেই এসব করা সম্ভব হচ্ছে  ।

বন্ধুগণ,

আজ দেশে দ্বিগুণ গতিতে সড়কপথ গড়ে উঠছে, দ্বিগুণ গতিতেরেলপথের পাশাপাশি দ্বিতীয় রেলপথ পাতার কাজ চলছে, দ্বিগুণ গতিতে রেলপথেবৈদ্যুতিকীকরণ হচ্ছে ।

ভাই ও বোনেরা,

আমরা সমস্ত প্রকল্পকে এমন লক্ষ্যে নিয়ে যাচ্ছি, যাতেগরিব, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জীবনে উৎকর্ষগত পরিবর্তন আনা যায়! আমরাপ্রকল্পগুলিকে প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে জুড়েছি, যাতে এগুলি সাধারণ মানুষের জীবনযাপনকেসহজ করে তোলে ।  আপনারাহয়তো জানেন, সরকার এবারের বাজেটে  ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা ’ ঘোষণা করেছে  ।  এই বিশ্বে এ ধরণের সর্ববৃহৎপ্রকল্প ।

বন্ধুগণ,

যে দারিদ্র্যের মধ্যে প্রতিপালিত হয়ে কষ্ট সহ্য করে বড়হয়েছে, যে সবসময় অনুভব করে যে গরিবের ঘরে সবচাইতে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে ওঠেচিকিৎসার খরচ ।  যখনই কেউকোনও কঠিন অসুখে পড়েন, তাঁর পরিবার দীর্ঘকাল আর্থিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না ।  গরিবদের এই সংকট, এইদুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমরা দেশের ১০ কোটিরও বেশি পরিবারকে  ‘আয়ুষ্মান ভারত ’ প্রকল্পের সঙ্গেযুক্ত করছি  ।  এইপ্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যেক গরিব পরিবারের সদস্যরা চিহ্নিত হাসপাতালগুলিতেবিনামূল্যে ৫ লক্ষ টাকা  পর্যন্ত  চিকিৎসা করতে পারবেন ।  এরফলে, দেশের প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কোটি মানুষ লাভবান হবেন ।

এই প্রকল্পের ফলে টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩  শ্রেণী র হাসপাতাল  গড়েতোলার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে ।   এই প্রয়াস  যুবসমাজেরজন্য নিশ্চিত রোজগারের পথ গড়ে তুলবে ।  ফলে, ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতেও বিনিয়োগের বড় সুযোগ গড়ে উঠবে ।  আমি রাজ্য সরকারগুলিকে অনুরোধজানাবো যে, নতুন নতুন হাসপাতাল নির্মাণের নীতি-নির্ধারণ করুন ।   ‘আয়ুষ্মান ভারত ’ ছাড়াও কেন্দ্রীয়সরকার আরও দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে গরিব মানুষের দুশ্চিন্তা লাঘব করছে  ।  সেগুলি হ ’ল  –  ‘প্রধানমন্ত্রীসুরক্ষা বিমা যোজনা ’ এবং  ‘জীবনজ্যোতি যোজনা ’  – যা ইতিমধ্যেইদেশের ১৮ কোটিরও বেশি গরিব মানুষকে সুরক্ষা কবচ প্রদান করেছে  ।

এছাড়া ৩ হাজারেরও বেশি ঔষধি কেন্দ্রে ৮০০-রও বেশি  ওষুধ ন্যায্য দামে বিক্রয়, স্টেন্টের দামে ৮৫ শতাংশপর্যন্ত ছাড়, হাঁটুর অস্থি প্রতিস্থাপনের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি অনেক পদক্ষেপনিয়ে সরকার মধ্যবিত্তদেরও অনেক স্বস্তি প্রদান করেছে ।

বন্ধুগণ,

আসিয়ান দেশসমূহ, বাংলাদেশ-ভুটান-নেপাল  – আমরা সবাই একরকম কৃষিপ্রধান দেশ  ।  কৃষকদের উন্নতি, এই গোটা  অঞ্চলের উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে ।  সেজন্য আমাদের সরকার কৃষকদেরআয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে কাজ করছে ।

এই লক্ষ্য পূরণের জন্য সরকার কৃষকের চাষের খরচ কমানো আরউৎপাদিত ফসলের উচিৎ মূল্য পাওয়ার ব্যাপারটা সুনিশ্চি ত  করতে কাজ করে যাচ্ছে ।  এ বছর সরকার কৃষি ও গ্রামীণক্ষেত্রে ১৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করবে ।  দু-দিন আগেই আমরা কৃষকদেরউৎপাদিত ফসলের উচিৎ মূল্য সুনিশ্চিত করতে একটি বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছি ।  এর মাধ্যমে তাঁদের ন্যূনতম ৫০শতাংশ অর্থাৎ দেড় গুণ মূল্য সুনিশ্চিত হবে ।

এছাড়া, সরকার ২২ হাজার গ্রামীণ হাটকে গ্রামীণ কৃষিবাজারে উন্নীত করে সেগুলিকে  ‘ই-নাম ’ অর্থাৎ  ‘ইলেক্ট্রনিক ন্যাশনাল এগ্রিকালচারমার্কেট ’ পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত করবে  ।

ভাই ও বোনেরা,

কয়েক সপ্তাহ আগে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তনিয়েছি, আজ যখন উত্তর-পূর্ব ভারতে এসেছি, সেটা সম্পর্কে অবশ্যই বলতে চাই ।

বন্ধুগণ,

বৈজ্ঞানিকদের মতে, বাঁশ হ ’ল ঘাস শ্রেণীভুক্ত  ।  কিন্তু বিগত প্রায় ৯০ বছর ধরে আইন প্রণয়নকারীরা একে বৃক্ষ শ্রেণীভুক্ত করেরেখেছিলেন ।  ফলস্বরূপ,এতদিন যেখানেই বাঁশের জন্ম হোক না কেন, তা কাটতে, পরিবহণ করতে পারমিট-এর প্রয়োজনছিল, অনুমতি নিতে হ ’ত  ।

আমার মতে, এই আইনের ফলে পুরুষানুক্রমে সবচাইতে বেশিক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর-পূর্বের মানুষ ।  দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এত বছর কেটে গেছে, একের পর এক ক ’ত না সরকার ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু বাঁশের পরিভাষা শুধরেআইন প্রণয়নের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের লাভের মুখ দেখাতে পারলাম আমরাই  ।

এখন আমরা প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে  ‘ন্যাশনাল ব্যাম্ব  ু  মিশন ’কেপুনর্নির্মাণ করেছি  ।  এর ফলে, উত্তর-পূর্ব ভারতের কৃষকরাই সর্বাধিক লাভবান হবেন ।

ভাই ও বোনেরা,

আমাদের দেশে কৃষির জন্য সহজেই ঋণ পাওয়া যেত, কিন্তুকৃষির সঙ্গে যুক্ত হাঁস-মুরগী পালন, মৎস্যচাষ, মৌ-পালন, পশুপালন ইত্যাদির জন্য ঋণপেতে কৃষ ক দের অনেকসমস্যা হ ’ত  ।  এখন আমরা বিশেষ করে পশুপালন ওমৎস্যচাষকে অগ্রাধিকার দিয়ে ১০ হাজার কোটি টাকার দুটি পরিকাঠামো তহবিল গড়ে তোলারসিদ্ধান্ত নিয়েছি ।

সরকার কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ প্রাপ্তির পথমসৃণ করেছে ।  এই সরকারসুলভ গৃহ নির্মাণের ক্ষেত্রেও এমন সব নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সরকারকে দেশেরপ্রত্যেক গরিবকে নিজস্ব গৃহ প্রদানে সাহায্য করবে ।

প্রধানমন্ত্রীআবাস যোজনার মাধ্যমে বিগত তিন বছরে প্রায় ১ কোটি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে ।  এবারের বাজেটে আমরা ঘোষণা করেছি যে বর্তমান অর্থবর্ষে৫১ লক্ষ নতুন বাড়ি বানাবো ।

নিম্নমধ্যবিত্তএবং মধ্যবিত্তের প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখে সরকার এই শ্রেণীর সুদের হারে কিছুছাড়-ও দিয়েছে ।  এছাড়া  ‘ রিয়েল এস্টেট রেগুলেশন অ্যান্ডডেভেলপমেন্ট অ্যাক্ট ’ -এর কারণেও এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এসেছে ।  আর মধ্যবিত্তের গৃহনির্মাণ সহজ হয়েছে ।  সুলভ গৃহনির্মাণের ক্ষেত্রে বিগত দিনে বিনিয়োগ অনেকবৃদ্ধি পেয়েছে ।  আমি এক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্যবিদেশীদেরও আহ্বান জানাই ।

ভাই ওবোনেরা,

একটি সরকারিপ্রকল্প কিভাবে দেশে শক্তি বিপ্লব এনে দিয়েছে, মধ্যবিত্তদের সাশ্রয়ের কারণ হয়েউঠেছে, তার উদাহরণ হল- উজালা যোজনা ।  আগেরসরকারের সময় যে এইলিডি বাল্ব ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন ৪০-৪৫ টাকায় পাওয়াযাচ্ছে ।  যে বাড়িতে ৫টি এলইডি বাল্ব লাগানোআছে তাদের প্রতি মাসের বিদ্যুতের বিলে আনুমানিক ৪০০-৫০০ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে ।  ইতিমধ্যেই  ‘উজালা যোজনা  ’ র মাধ্যমে দেশে ২৮ কোটি থেকেও বেশিএলইডি বাল্ব বিতরণ করা হয়েছে ।  এর ফলে দেশের মধ্যবিত্তের বিদ্যুতের বিলে বছরে প্রায় ১৫হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে ।  আসিয়ান দেশগুলিতেও এলইডি বাল্বের চাহিদা বাড়ছে ;  এটা ভারতীয় রপ্তানীকারকদের জন্য ভাল সুযোগ ।

বন্ধুগণ,

লক্ষ্যস্হির করে কাজ করাই বর্তমানসরকারের কর্ম-সংস্কৃতি ।  আসামের মানুষ নিশ্চয়ই অনুভব করছেন আগের গতিতে কাজ হলে যে ঢোলা-সাদিয়াসেতু আমি উদ্বোধন করেছি- তা হয়তো আজও নির্মীয়মান থাকতো ।

আমরা সম্পূর্ণ শাসনতন্ত্রে কাজ করারপদ্ধতি পরিবর্তনের কাজ করেছি ।  এর ফলে আমরা শুধু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রকল্পগুলিবাস্তবায়িত করছি না, অনেক ক্ষেত্রে তা নির্দ্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন হচ্ছে ।  এভাবেই গরিব মহিলাদেরকাঠকয়লা উনুনের ধোঁয়া থেকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে উজ্জ্বলা যোজনাও আমরা নির্দিষ্টসময়ের আগে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছিলাম ।  আমাদের লক্ষ্য ছিল ২০১৯ সালের আগে ৫ কোটি গরিব মহিলাকে কয়লারউনুনের ধোঁয়া থেকে মুক্তি দেওয়া ।  ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ থেকেও বেশিমহিলা উপকৃত হয়েছেন ।  কিন্তু এবারে বাজেটে আমরা ঠিক করেছি যে উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে আমরা মোট৮ কোটি মহিলাকে বিনামূলে রান্নার গ্যাস সংযোগ করাবো ।

বন্ধুগণ,

২০১৪ সালের পূর্ববর্তী দশ বছরেআমাদের নবীন প্রজন্মের প্রত্যাশাকে যেভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে তা কখনো ভোলানোরচেষ্টা করলেও ভোলানো যাবে না ।

দেশের নবীন প্রজন্ম নিজের চেষ্টায়কিছু করতে চাইছিলেন ।  কিন্তু তাঁরা যখন ব্যাঙ্ক ঋণ চাইতে যেতেন তখন তাঁদের কাছে ব্যাঙ্কগ্যারান্টি চাইতো ।  আমরামুদ্রা যোজনার মাধ্যমে এই ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি দেওয়ার বাধ্যবাধকতার ইতি টেনেছি ।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা বিগত তিনবছরে তিন কোটি নতুন  শিল্পোদ্যোগী পেয়েছি ।  তাঁরা স্বউদ্যোগী, নিজেরউপার্জন সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁরা অনেকের কর্মসংস্হানও করেছেন ।

এ বছর বাজেটে সরকার মুদ্রা যোজনারমাধ্যমে স্ব-রোজগারে জন্য ৩ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ প্রদানের লক্ষ্য রেখেছে ।

তাছাড়া সরকার স্ট্যান্ড-আপ ইন্ডিয়া,স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া, স্কিল-ইন্ডিয়া মিশনের মাধ্যমেও নবীনদের ক্ষমতায়ণের কাজ করছে,  ‘ শ্রমএব জয়তে ’ -র সিদ্ধান্ত অনুসারে শ্রম আইনেপ্রতিনিয়ত সংস্কারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াগুলিকে সরল করার প্রচেষ্টা চলছে ।

আগে শ্রম আইন পালনের জন্য ব্যবসায়ী ওশিল্পপতিদের ৫০টির ও বেশি রেজিস্টার রাখতে হতো ।  এখন তাদের শুধুই ৫টিরেজিস্টার রাখলে কাজ চলে ।

শ্রম সুবিধা পোর্টালের মাধ্যমে আমরাঅধিকাংশ প্রক্রিয়াকে অন-লাইন করে দিয়েছি ।  এখনতো দেশে কেবল এক দিনের মধ্যে নতুন কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনকরা যায়, আগে তা করতে এক সপ্তাহ লেগে যেত ।

এই সকল সংস্কারের দ্বারা দেশের নবীনপ্রজন্ম, দেশের ছোট ছোট ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন ।

বন্ধুগণ,

ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং অতিক্ষুদ্রশিল্পকে অগ্রাধিকার প্রদান আমাদের শিল্পনীতির মেরুদন্ড ।  এবছরের বাজেটে আমরাক্ষুদ্র, মাঝারি এবং অতিক্ষুদ্র শিল্পকে আয়করের ক্ষেত্রে বিরাট ছাড় দিয়েছি ।  যে কোম্পানিগুলির বার্ষিকলেনদেন আড়াইশো কোটি টাকা বা তার কম তাদের আয়কর কমিয়ে ২৫ %  করা হয়েছে ।   এর দ্বারা দেশে প্রায় ৯৯ %  কোম্পানি লাভবান হবে ।  পণ্য ও পরিষেবা কর চালুকরার পর ব্যবসার ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং অতিক্ষুদ্র শিল্পগুলিরআর্থিক লাভ হয়েছে ।  এখনসরকার আগামি তিন বছর সমস্ত ক্ষেত্রে নতুন কর্মচারিদের জন্য ১২ %  হারে অর্থ ইপিএফ-এ জমা দেবে ।

এবারের বাজেটে নতুন কর্মচারিদের আয়করআইন অনুযায়ী দেয় করের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৩০ %  ছাড় দেওয়া হয়েছে ।

দেশ থেকে দুর্নীতি দূরীকরণ এবংব্যবস্হায় দক্ষতা ও স্বচ্ছতা আনতে আমরা দেশের সর্বত্র আয়করের ই-অ্যাসেসমেন্ট চালুকরছি ।  তাছাড়ামহিলা কর্মচারিদের ক্ষেত্রে প্রথম তিন বছরে দেয় ইপিএফ-এর বর্তমান হার ১২ %  থেকে কমিয়ে ৮ %  করা হয়েছে ।  সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটিরঅবধি ১২ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ২৬ সপ্তাহ করা হয়েছে ।  এছাড়া মহিলা কর্মী নিয়োগকেউ ৎ সাহিত করতে কর্মীদের জন্যকর্মক্ষেত্রে ক্রেশ-এর ব্যবস্হাও করা হচ্ছে ।  এই উদ্যোগগুলি নিঃসন্দেহে  ‘ মেক ইন ইন্ডিয়া ’ -র প্রক্রিয়াকে সুদৃঢ়ভাবে সমর্থনকরে ।

বন্ধুগণ,

সরকারের এ ধরণের প্রকল্পগুলি গরিবদেরক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করে ।  গরিবরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুর্নীতি এবং অবৈধ সম্পত্তি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্হহন ।  আমাদেরসরকার এই টাকা এবং দুর্নীতি বিনাশ করার জন্য দায়বদ্ধ ।

বন্ধুগণ,

আজ এই মঞ্চ থেকে আমি দেশেরশিল্পপতিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে চাই যারা দেশের আর্থিক ঐক্য স্হাপনের জন্যগৃহীত পণ্য ও পরিষেবা করকে শুধু স্বীকারই করেননি আজ তারা এটাকে তাদের বাণিজ্যসংস্কৃতির অঙ্গ করে নিয়েছেন ।  আমাদের সরকার দেশে আর্থিক স্বচ্ছতা আনার জন্য আর একটি বড়পদক্ষেপ  ‘ ইনসলভেন্সি এবংব্যাঙ্করাপ্টসি কোড ’ গ্রহণ করেছে ।

অনেক বছর ধরে ভারতে এ ধরনেরআর্ন্তজাতিক মানের কোড প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয়েছে ।  আমাদের সরকার সেইপ্রয়োজনীয়তারও সুরাহা করেছে ।

বন্ধুগণ,

এই কেন্দ্রীয় সরকার বিগত ৩ বছরেআর্থিক সংস্কারের মাধ্যমে এ রকম অনেক বাণিজ্য প্রক্রিয়াকে সরল করেছে ।  তারই ফল হিসেবে ভারত আজবাণিজ্য পরিচালনায় সরলীকরণের ক্ষেত্রে ৪২ ধাপ এগিয়ে বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে১০০তম স্হানে পৌঁছে গেছে ।

‘ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ’  এবং  ‘ মুডিস ’ -এর মতো বিশ্বের আরও অনেক রেটিংসংস্হার সমীক্ষায় আরও অনেক ক্ষেত্রে ভারতের স্হান অনেক উন্নত হয়েছে ।

আমাদের সঠিক নীতির ফলে আমরামুদ্রাস্ফীতিকে ৫ % -এরনীচে রাখতে পেরেছি ।  এখনআমাদের বিনিময়যোগ্য বিদেশী মুদ্রা সংরক্ষিত আছে ৪১৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার ।  অটোমোবাইলস্, বস্ত্র,পর্যটন, বন্দর এবং সড়কপথে যাতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১০০ %  বিদেশী বিনিয়োগ হতে পারে তাসুনিশ্চিত করার ফলে এখন ভারত প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম পছন্দেরঠিকানা হয়ে উঠেছে ।  ২০১৬-১৭সালে ভারত সর্বোচ্চ ৬০ বিলিয়ন ইউএস ডলার বিদেশী মুদ্রা অর্জন করেছে ।

আজ সারা পৃথিবী ভারতকে অর্থনৈতিকউন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি উদীয়মান শক্তি হিসেবে দেখছে ।  আমি খুশি যে আসামউত্তরপূর্বের রাজ্যগুলির মধ্যে সহজে ব্যবসা চালু করার ক্ষেত্রে প্রথম স্হান অধিকারকরেছে ।  আমিনিশ্চিত যে রাজ্য সরকারের বর্তমান নেতৃত্বের সময়কালে আসাম আরও উন্নতি করবে এবংদেশের শিল্প বিনিয়োগকারী রাজ্যগুলির মধ্যে সবচাইতে দ্রুত গতিতে উন্নতি করবে ।

বন্ধুগণ,

আজ আমরা পরিকাঠামো বিনিয়োগকেঅগ্রাধিকার দিয়েছি এবং আগামী বছর আমরা এ বাবদ প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবো ।  এ বছরের আমাদের লক্ষ্য হলজাতীয় মহাসড়কগুলির মোট দৈর্ঘ্য ৯ হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করা ।  আমরা ভারতমালা প্রকল্পেরমাধ্যমে ৩৫ হাজার কিলোমিটার সড়কপথ উন্নয়নের জন্য ৫.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা প্রদানকরেছে ।

এই২০১৮-১৯ সালে রেল ১.৪৮ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ।

আমাদেরলক্ষ্য হল আগামী বছরগুলিতে ৬০০টি বড় রেলস্টেশন পুনর্নিমাণ করা ।  এই সমস্ত বিনিয়োগেরসিদ্ধান্ত দেশের উন্নয়নে গতি আনবে এবং লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্হান ত্বরান্বিত করবে ।

বন্ধুগণ,

আজ আমি আরএকটি বিষয়েও কথা বলতে চাই ।  এই ভূমির মহান সুসন্তান ভূপেন হাজারিকা মাত্র ১৩ বছর বয়সেএকটি কবিতা লিখেছিলেন ।  তখন ইংরেজ আমল, এই অঞ্চল এবং গোটা দেশ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল ।  সেই সময় স্বর্গীয় ভূপেনহাজারিকাজি লিখেছিলেন

অগ্নিযুগোফিরিংগৌতি মই / নতুন অখম গৌঢ়িম / হরবৌহারার হর্বস্য /

পুনোরফিরাই আনীম, নতুন অখম গৌঢ়িম

অর্থা ৎ   ‘ অঙ্গারের মতো ধু ধু জ্বলতে থাকা যুগেআমি একটি স্ফুলিঙ্গের মতো ।  আমি এক নতুন আসাম নির্মাণ করবো ।  যারা পীড়িত, বঞ্চিত, তাঁরাযা হারিয়েছেন তা পুনরুদ্ধার করবো ।  আমি এক নতুন আসাম গড়বো । ’

স্বাধীনতারআগে দেশের নানা অঞ্চলের এরকম লক্ষ কোটি বীর-বীরাঙ্গনাদের স্বপ্ন পূর্ণ করারদায়িত্ব এখন আমাদের সকলের কাঁধে ন্যস্ত ।  এই দায়িত্ব পূরণের জন্য আমরা সবাই ২০২২ সালের মধ্যে নতুনভারতের স্বপ্ন সাকার করার সংকল্প গ্রহণ করেছি ।

সংকল্পথেকে সিদ্ধির এই যাত্রাপথে উত্তরপূর্ব ভারতের জনগণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে তাদেরজন্য নানা প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে এবং সেগুলি বাস্তবায়িতও করা হচ্ছে ।

আমি মনেকরি যে উত্তরপূর্ব ভারতের ৮টি রাজ্য, এই অষ্টলক্ষ্মী দেশের উন্নয়নে নতুন  ‘ গ্রোথ ইঞ্জিন ’ ।  এদের উন্নয়নের গতি বৃদ্ধিমানেই হলো দেশের উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি পাওয়া ।

সেজন্যআমাদের সরকার উত্তরপূর্ব ভারতে পরিবহণের মাধ্যমে রূপান্তরণ নীতি প্রণয়নে জোরদিয়েছে ।   পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগবৃদ্ধি করে গোটা অঞ্চলের চিত্র পরিবর্তনের কাজ হচ্ছে ।  বিগত ৩ বছরে শুধু রেলওয়েউন্নয়নের কাজেই প্রতি বছর গড়ে ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে ।  প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকাবিনিয়োগের মাধ্যমে উত্তরপূর্ব ভারতে নতুন রেললাইন পাতার কাজ করা হয়েছে ।  আগামীদিনে যখনআগরতলা-আখাউড়া রেললাইনের কাজ সম্পূর্ণ হবে, ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে রেলযোগাযোগ স্হাপিত হবে তার লাভ এই গোটা অঞ্চলের হবে ।  সরকার প্রায় ৩৩ হাজার কোটিটাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে উত্তরপূর্ব ভারতে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার জাতীয় সড়কনির্মাণের প্রকল্প মঞ্জুর করেছে ।

তাছাড়াসরকার আগামী ২-৩ বছরে ৯০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে উত্তরপূর্ব ভারতে সড়কও জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণ করবে ।

ভাই ওবোনেরা,

প্রধানমন্ত্রীগ্রামীণ সড়ক যোজনা অটল-জীর আমলে শুরু হয়েছিল ।  আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পরলক্ষ স্হির করেছিলাম যে এই প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালের মধ্যে শেষ করবো ।  কিন্তু ইতিমধ্যেই আমরা সেইলক্ষ্যপূরণের সময় হ্রাস করে ২০১৯-এ এগিয়ে এনেছি ।

শুধু তাইনয়, এই বাজেটে আমরা এটাও ঘোষনা করেছি যে প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনারমাধ্যমে শুধুই গ্রামকে সংযুক্ত করা হবে না, গ্রামের বড়ো স্কুল, হাসপাতাল এবং বড়োবাজারগুলিকেও যুক্ত করা হবে ।

শক্তিক্ষেত্রকে মজবুত করার জন্য আন্তঃরাজ্য পরিবহন এবং বিতরণ ব্যবস্হাকে শক্তিশালী করারপ্রকল্পে দশ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে ।

অতিসত্ত্বরই গুয়াহাটিতে বিশ্বমানের বিমানবন্দর টার্মিনাল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে ।  এই নব গঠিত আন্তর্জাতিকবিমানবন্দর আসিয়ান দেশগুলির সঙ্গে উত্তরপূর্ব ভারত বিশেষ করে আসামের যোগাযোগকে আরওসুদৃঢ় করবে ।

‘ উড়ান যোজনা ’ -র ক্ষেত্রেও সরকার উত্তরপূর্বভারতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ।  ১৯টি প্রস্তাবিত বিমানবন্দর এবং হেলিপ্যাডের মধ্য ৫টি আসামেইরয়েছে, সেগুলিকে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরের সঙ্গে বিমানপথে যুক্ত করারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ।

কেন্দ্রীয়সরকার ১৬০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা পর্যকটকে ই-ভিসা পরিষেবা প্রদান করবে যা দেশের এইঅঞ্চলের পর্যটন উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ।

বন্ধুগণ,

কেন্দ্রীয়সরকার গুয়াহাটিতে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে নতুন এইমস্ হাসপাতালখোলার প্রকল্প মঞ্জুর করেছে ।

সরকারউত্তরপূর্ব ভারতকেও ন্যাশনাল গ্যাস গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ করছে ।   ‘গেল ’ দ্বারা৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গুয়াহাটি পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন স্হাপনের কাজ মঞ্জুরকরা হয়েছে  ।

কেন্দ্রীয়সরকার সম্প্রতি  ‘ বিশেষউত্তরপূর্ব পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ’  নামক নতুন প্রকল্প মঞ্জুর করেছে ।  এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারএই অঞ্চলের পরিকাঠামো সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলি সম্পাদনে ১০০ %  বিনিয়োগ করবে ।

উত্তরপূর্ব ভারতে এই বিনিয়োগ বৃদ্ধিরমাধ্যমে এই অঞ্চলের পর্যটনশিল্প উন্নত হবে ।  এখানকার নবীন প্রজন্মের যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্হানের নতুন পথখুলবে ।

বন্ধুগণ,

আমি আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দসোনেওয়ালজিকে শুভেচ্ছা জানাই, তিনি অত্যন্ত কম সময়ে আসামে বাণিজ্যবান্ধব এবংউন্নয়নবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার কাজ করেছেন ।  দুর্নীতির বিরুদ্ধেও আসাম সরকার বেশকিছু কঠোর সিদ্ধান্তনিয়েছে ।

আসাম সরকার নতুন নতুন শিল্পস্হাপনেরজন্য, পর্যটন বৃদ্ধির জন্য কর ছাড়ও দিচ্ছে ।

নতুন তথ্যপ্রযুক্তি নীতি, নতুনস্টার্ট-আপ নীতি, নতুন ক্রীড়ানীতি, নতুন চিনি নীতি, নতুন সৌরশক্তিনীতি চালু হয়েছে ।

আমি এজন্য রাজ্য সরকারকে প্রশংসা করিযে তাঁরা গুয়াহাটিকে আসিয়ান দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যের উপযোগী  ‘ বিজনেস হাব ’ -এ রূপান্তরিত করছেন ।

গুয়াহাটিকে স্মার্ট সিটি রূপেও গড়ে তোলাহচ্ছে ।

আমি আর একবার আসাম তথা উত্তরপূর্বভারতের জনগণকে এই বিশাল উ ৎ সব আয়োজন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাই ।  আসিয়ান এবং বাংলাদেশ-ভুটান-ইন্ডিয়া-নেপাল গোষ্ঠীভুক্তদেশগুলির আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদেরধন্যবাদ জানাই ।

আমি নিশ্চিত যে এই শীর্ষ সম্মেলনএকটি সূচনা মাত্র যা আপনাদের সঙ্গে হাজার হাজার বছরের প্রাচীন সম্পর্কের ইতিহাসেএকটি নতুন অধ্যায় সংযোজন করবে ।

আমি আর একবার উত্তরপূর্ব ভারত তথাআসামের জনগণকে এই বিশেষ আয়োজনের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই ।   ‘ আপুনা লোকক ’  বহুত বহুত ধন্যবাদ ।  আপনাদের সবাইকে অনেক অনেকধন্যবাদ

PG/S B / SB